20201002104319.jpg
ট্রাম্পের করোনা পজিটিভের তথ্য ভুয়া দাবি

ট্রাম্পের করোনা পজিটিভের তথ্য ভুয়া দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সকালে এক টুইটবার্তায় তাঁর নিজের ও স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার   বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে নানা রকম প্রতিক্রিয়া জানায় বিভিন্ন মহল।

২ অক্টোবর লেখক ও সাবেক অ্যাটর্নি রিচার্ড গ্রিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ট্রাম্পের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট ভুয়া হতে পারে। এর আগে ২০১৬ সালে গ্রিন হাফিংটন পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ট্রাম্প কি মানসিকভাবে অসুস্থ?’

তার এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়।

গ্রিনের মতে, ট্রাম্পের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘোষণা বিশ্বাস না করার তিনটি কারণ আছে।

-২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের পর ট্রাম্প তার দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ হারাতে যাচ্ছিলেন। কোভিড-১৯-এর খবর শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের বিষয় থেকে জনগণের নজরকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

-ভুয়া অসুস্থতার মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ট্রাম্প তার সাহস প্রমাণ করতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোকে অনুকরণ করতে পারেন।

-ট্রাম্পের মুখের কোনো কথা বা তার টুইটার থাম্বকে বিশ্বাস করেন না গ্রিন।

গ্রিন অবশ্য তার ফেসবুক পোস্টে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা পজিটিভের  ব্যাপারে কিছু বলেননি।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ফ্যাক্ট চেকারের জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার এই মেয়াদে ২০ হাজার মিথ্যা অথবা বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ট্রাম্পের করোনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা হোপ হিকসের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসার পরই ট্রাম্প দম্পতিরও একই ফল আসে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, তিনি ও ফার্স্ট লেডি হোপের সাথে অনেক সময় কাটিয়েছেন।

২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কসহ গত সপ্তাহে হিকস ট্রাম্পের সাথে অনেক জায়গায় গিয়েছেন। বিতর্কে ট্রাম্পের সমর্থকরা কেউই মাস্ক পরেননি।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে শুধু হিকসই করোনা আক্রান্ত নন। বুধবার দ্য রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার রোনা ম্যাকড্যানিয়েলেরও করোনা পজিটিভ এসেছে। এক সপ্তাহ আগেই ম্যাকড্যানিয়েল ট্রাম্পের সাথে সময় কাটিয়েছেন।

এ মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্টের নিজ ও পরিবারের বিভিন্ন কাজে জড়িত কিছু কর্মী আক্রান্ত হন।

শুক্রবার গ্রিন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি ভিডিও রিটুইট করেন। ভিডিওটি প্রেসিডেন্ট বলসনারো কীভাবে তার করোনা থেকে লাভবান হয়েছেন, সে বিষয়ে।

গ্রিন ইউএসএ টুডে কে বলেন, 'তিনি যত মানুষের সংস্পর্শে গেছেন তাতে প্রেসিডেন্টের করোনার রেজাল্ট সঠিক হতে পারে। কিন্তু আমরা তা সঠিকভাবে কখনই জানতে পারবো না।'

গ্রিনের দাবি ও ইউএসএ টুডের মূল্যায়ন

পর্যালোচনার পর ইউএসএ টুডে এই দাবি ভুল প্রমাণ করেছে। গ্রিন মনে করেন, ট্রাম্প তার করোনা হওয়া ব্যবহার করে আমেরিকার ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জেতার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই তিনি শুধু তার ধারণার কথা বলেছেন। 

শেয়ার করুন