১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু ও ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লুর সঙ্গে করোনাভাইরাসজনিত রোগে (কোভিড-১৯) মৃত্যুর হার নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। এসব পোস্টে কেউ কেউ দাবি করেছেন, বিশেষজ্ঞরা কোভিডে মৃত্যুর হারকে অতিরঞ্জিত করেছেন।
এমন কিছু পোস্টের সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টে একটি দাবি হলো, সংক্রমণের প্রথম বছরে সোয়াইন ফ্লুর চেয়ে কোভিডে আক্রান্ত কম ছিল পাঁচ কোটি ৬০ লাখ। ইউএসএ টুডে এ দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে।
অন্য দুটি দাবি হলো, প্রথম দফা সংক্রমণের চেয়ে দ্বিতীয় দফায় বেশি প্রাণঘাতী ছিল স্প্যানিশ ফ্লু। কিন্তু এ দাবিটিও ইউএসএ টুডের যাচাইয়ে ভুল প্রমাণিত হয়।
উল্লিখিত দাবিটি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে একটি মিম। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে পোস্ট হওয়া মিমটি ৫০ হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে।
ওই পোস্টদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছ ইউএসএ টুডে। সংবাদমাধ্যমটির জিজ্ঞাসার জবাবে পোস্টকারী আরও কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছেন, স্বাধীনভাবে যেগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে না।
জনপ্রিয় মিমটিতে অভিযোগ করা হয়, স্প্যানিশ ফ্লু ও মৌসুমি ফ্লুর সঙ্গে কোভিড-১৯-এর তুলনা করতে গিয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মিমটা শুরু হয় '১% কত বড়?' লেখা বাক্য দিয়ে।
পরবর্তী বাক্যগুলোতে প্রতিটি মহামারী ও মৌসুমি ফ্লুর পরিসংখ্যান দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্বের জনসংখ্যার বিপরীতে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হারের তুলনাও ছিল তাতে।
মিমে বলা হয়, স্প্যানিশ ফ্লুতে পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। সে সময় বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৯৫ কোটি। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, সে সময় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫.২৬ শতাংশের মৃত্যু হয় সংক্রমণে। এ পরিসংখ্যানের পর বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে বলা হয়, 'বিশেষজ্ঞগণ: বেদনাদায়ক ঘটনা!'
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, মিমে উল্লেখ করা মৃত্যুর সংখ্যা সঠিক। তবে গ্লোবাল চেঞ্জ ডাটা ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৫ কোটি নয়; ছিল ১৮০ কোটি।
সিডিসি প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেসে ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, স্প্যানিশ ফ্লুতে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ছিল ২.৫ শতাংশ, যেটা মিমে উল্লেখিত হারের অর্ধেকেরও কম। ওই নিবন্ধ অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফ্লু দুই বছর (১৯১৮ সালের বসন্ত থেকে ১৯২০ সালের বসন্ত পর্যন্ত) স্থায়ী হয়েছিল।
কোভিড-১৯ কি স্প্যানিশ ফ্লুর চেয়ে বেশি মারাত্মক
মিমে বলা হয়, ২০১৮ সালে বিশ্বে ৭৫০ কোটির মতো মানুষের মধ্যে সাড়ে ছয় লাখ বা ০.০০৯ শতাংশের মৃত্যু হয় মৌসুমি ফ্লুতে। মিম অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা ওই বছরকে 'টিপিক্যাল ইয়ার' বা গতানুগতিক বছর আখ্যা দিয়েছেন।
মিমের এই অংশটি সঠিক। প্রতি বছর বিশ্বে ৩০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ মৌসুমি ফ্লুতে আক্রান্ত হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, এতে মৃত্যু হয় গড়ে দুই লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ছয় লাখ মানুষের।
ডব্লিউএইচওর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফ্যাক্টচেক সাইট ফুল ফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌসুমি ফ্লুতে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার এক শতাংশের কম।
মিমে কোনো তারিখ উল্লেখ না করে বলা হয়, বিশ্বে ৭৭০ কোটি মানুষের মধ্যে কমপক্ষে চার লাখ ৮৮ হাজার ৭২৯ জনের মৃত্যু হয় কোভিডে। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের বরাত দিয়ে ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৮ জুনেই কোভিডে মৃত্যু পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে।
২৮ জুলাই পোস্ট হওয়া মিমটির শেষের দিকে বলা হয়, 'বিশ্বের ১ শতাংশ জনসংখ্যা ধরলে এখন মৃত্যু হতো সাত কোটি ৭০ লাখ। এখন কথা হলো, ৫.২৬ শতাংশ যদি বেদনাদায়ক ও .০০৯ শতাংশ বড় কোনো বিষয় না হয়, তাহলে আমরা কি এমন জিনিস করতে যাচ্ছি!'
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য আগস্টে কোভিডে মৃত্যু হয় সাত লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের।
কোভিড-১৯ কি স্প্যানিশ ফ্লু বা মৌসুমি ফ্লুর চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্প্যানিশ ফ্লুর সঙ্গে কোভিডে মৃত্যুর তুলনা করা হয়। এতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে কোভিড-১৯-এর প্রথম সংক্রমণের দুই মাসের মৃত্যুর সঙ্গে স্প্যানিশ ফ্লুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুই মাসের তুলনামূলক আলোচনা করা হয়।
গবেষকরা দেখান, স্প্যানিশ ফ্লুর পুরোপুরি সংক্রমণের সময় প্রতি লাখে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হলেও এখনো এটি কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনাযোগ্য।
স্প্যানিশ ফ্লু ও কোভিডে শুরুর দিককার মৃত্যুর হার দিয়ে গবেষকরা পার্থক্যটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তারা দেখিয়েছেন, ১৯১৮ সালে ফ্লুতে মৃত্যুর চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন নাজুক স্বাস্থ্যবিধি, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে। বিপরীতে তুলনামূলক উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার পৃথিবীতেও কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুর পর্যায়ে মৃত্যুর হার স্প্যানিশ ফ্লুর সর্বোচ্চ পর্যায়ের মৃত্যুর হারের তুলনায় 'উল্লেখযোগ্য হারে বেশি'।
ইউএসএ টুডের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে চলতি বছরের ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত দুই মাসে কোভিডে প্রতি লাখে গড়ে মৃত্যু হয়েছে ২০২ জন করে মানুষের। সে তুলনায় স্প্যানিশ ফ্লুর সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় একই অঞ্চলে ১৯১৮ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে গড়ে মৃত্যু হয় ২৮৭ জন করে আক্রান্তের।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান অনেক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একই সময়ে নিউ ইয়র্কে ফ্লুতে প্রতি লাখে মৃত্যু ছিল ৫০ জন। অথচ কোভিডে সেটা বেড়ে চার গুণ (২০০) হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, কোভিড-১৯ মৌসুমি ফ্লুর চেয়ে বেশি মারাত্মক হবে। মৌসুমি ফ্লু নিয়ন্ত্রণের জন্য জন্য টিকা আছে। কিন্তু কোভিডের কোনো টিকা এখনো সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়নি।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩.১ শতাংশ। দেশটিতে প্রায় দশমিক ০৫ শতাংশ মৃত্যু হার ছিল বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। সে সময় মৃত্যুর হারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে ছিল শুধু পেরু, স্পেন, চিলি ও ব্রাজিল।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, মৌসুমি ফ্লুতে বার্ষিক মৃত্যুর হার প্রায় শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ বা ১২ হাজার থেকে ৬১ হাজার। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে সার্বিক মৃত্যু হার শূন্য দশমিক ০০৬৫ শতাংশ। এ শতাংশ নিরূপণ করা হয় আক্রান্ত সব ব্যক্তির বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে।
গ্লোবাল চেইঞ্জ ডাটা ল্যাবের মতে, লক্ষণ নেই এমন মাধ্যম থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত কোভিডে বিশ্বে নিশ্চিত আক্রান্তের বিপরীতে নিশ্চিত মৃত্যুর হার ৩.৫ শতাংশ।
সিডিসির নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয় এক লাখ ৫১ হাজার ৭০০ জন থেকে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিল ১২ হাজার ৪৬৯। অন্যদিকে করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এ ভাইরাসে মৃত্যু হয় এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষের।
ইউএসএ টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আক্রান্তের প্রায় পাঁচ মাস পর সোয়াইন ফ্লুর ভ্যাকসিন আসে। অথচ দেশটিতে প্রথম আক্রান্তের অষ্টম মাসেও কোভিডের কোনো টিকার সফল প্রয়োগ সম্ভব হয়নি।
গ্লোবাল চেইঞ্জ ডাটা ল্যাবের ভাষ্য, কোভিডে মৃত্যুর সঠিক বিশ্লেষণের জন্য আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর সম্ভাবনা বা সংক্রমণে মৃত্যুর হারকে বিবেচনায় নেয়া উচিত। সঠিকভাবে হিসাব করতে হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মোট সংখ্যা জানতে হবে। রোগের গতি-প্রকৃতি বোঝাসহ বেশ কিছু বিষয় মোট আক্রান্তের সংখ্যা নিরূপণে গবেষকদের ঝামেলায় ফেলেছে।
ইউএসএ টুডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেসবুকে পোস্ট করা মিমে শুধু সংখ্যা দিয়ে স্প্যানিশ ফ্লু ও মৌসুমি ফ্লুর মৃত্যুর সঙ্গে কোভিডে মৃত্যুর তুলনা করা হয়েছে। এ তুলনা যথার্থ নয়। মৌসুমি ফ্লুর চেয়ে বেশি দ্রুত হারে ছড়ায় করোনাভাইরাস। এটি মৌসুমি ফ্লুর চেয়ে বেশি সংক্রামক।
মিমের দাবি ও ইউএসএ টুডের মূল্যায়ন
ইউএসএ টুডের গবেষণা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা মিমে স্প্যানিশ ফ্লুতে মৃত্যুর হার বেশি ছিল বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা আংশিক মিথ্যা। ১৯১৮ সালের ফ্লু ও মৌসুমি ফ্লুর মৃত্যুর হার নিয়ে যেসব পরিসংখ্যান শুরুতে দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগ ছিল সত্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য ও গবেষণা অনুযায়ী, কোভিড-১৯ উল্লিখিত দুটি রোগের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির গবেষণা মতে, বিশ্বে জনসংখ্যার বিপরীতে কোভিডে মৃত্যুর হার কোনো এক সময়ের জন্য সঠিক হলেও এ সংখ্যাটা ভাইরাসে মৃত্যুর হারের প্রতিফলন নয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মৃত্যুর হার প্রায় শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ। সর্বশেষ ডাটা অনুযায়ী, মৃত্যুর এ সংখ্যাটা বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং মৌসুমি ফ্লুতে বার্ষিক মৃত্যুর হারের চেয়েও বেশি।
ফাইল ছবি
হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল আটটা তেকে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫১ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৯২ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৪৩।
প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় ওই শিশু মারা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার (১৩ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দুর্লভ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন নাগলিঙ্গমগাছ রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ উপলক্ষে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেল ও বন বিভাগ সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। নাগলিঙ্গমগাছের পাশাপাশি বৈলাম, গর্জনসহ আরও তিনটি গাছের চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মালুমঘাট এলাকায় সংরক্ষিত বনে একটি জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে চারা রোপণের জন্য ২ হাজার গর্ত করা হয়েছে।
রোপণের জন্য বন বিভাগ আট প্রজাতির ২ হাজার চারাগাছ প্রস্তুত করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে গর্জন, ঢাকি জাম, তেলসুর, দারমেরা, সিভিট, নিম, চম্পা ও ছাতিম। এ ছাড়া আরও ১২ প্রজাতির বনের উপযোগী চারাগাছ রাখা হয়েছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নাগলিঙ্গমগাছের চারা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৈলাম, গর্জনসহ মোট তিন প্রজাতির চারাও রাখা হয়েছে। আরও একটি সুন্দর গাছের চারা আনা হচ্ছে।’
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী-মাছুয়াখালী খাল খনন উদ্বোধন ও সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, এরপর সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন।
এরপর বেলা ১টায় জুলাই আন্দোলনে পেকুয়া উপজেলার সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বেলা দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। সেখান থেকে পেকুয়ায় গিয়ে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ফিরে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সর্বশেষ রাত ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
ছবি: সংগৃহীত
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন কয়েকশ রোগী। সেবা দেওয়ার বিধান না থাকায় এসব রোগীকে ছয় হাসপাতালকে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় এ হাসপাতাল থেকে রেফার্ডকৃত রোগীদের তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য ছয় হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ছয় হাসপাতালের তালিকায় রয়েছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।
এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি—নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে।’
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, এবারের পুরো বাজেট জনবান্ধব দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার। এই বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে যে, বাজেটটি কতটুকু সুসম্পন্ন করা যায় তার ওপর।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাবমার্সেবল পাম্প, ক্রীড়া সামগ্রী, দুস্থ মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় পুতুল আরও বলেন, ‘খুবই বাজে একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাজেটটি দিতে হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সরকার। তবে সেগুলো কোনো বড় প্রজেক্টের জন্য নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। যেমন স্কুল-কলেজে বাচ্চাদের পড়াশোনাতে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্যান্সার রোগীদের আগে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হতো, এখন এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এই বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের বিরুদ্ধচারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে জামায়াতের অবজারভেশন থাকতে পারে। বিষয়গুলো তারা সরকারকে জানাতে পারেন। চলতি বাজেট জনকল্যাণমুখী হয়েছে কি না সেটা কাজে গেলে বোঝা যাবে। এই ভঙ্গুর অবস্থায় যেই বাজেটটি দেয়া হয়েছে, এটা বেস্ট বাজেট। বলা যায় কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার মতো করে কাজগুলো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে মূল্যস্ফীতি না ঘটে। প্রত্যেকটি টাকা যাতে মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য পৌঁছায় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।’
এরপর প্রতিমন্ত্রী পুতুল নাটোরের লালপুরে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পুরুষ না থাকা কোন বাসা-বাড়িতে টার্গেট করা হতো। এরপর গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে যে কোন ভারী বস্তু দিয়ে মহিলাদের মাথায় আঘাত করা। এরপর চুরি করা হতো। রক্তপাতের ভয়ে একটিই আঘাত করা হতো। তারপরও হতাহতের ঘটনা ঘটত।
সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের বরাদ দিয়ে গায়ের লোম শিহরিত হওয়ার মতো অবস্থার বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর আগে বুধবার (১০ জুন) ভোরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গোলাম মোরশেদ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার পাতহাট গ্রামে হইবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন- গত ৬ মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরিসহ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলার ধামইরহাট থানার নানাইচ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকে হাসান আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে ঢুকে মাথায় টিউবওয়েল এর হাতল (হ্যান্ডেল) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আঘাতের ফলে উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
একই দিনে অপরাধী আরো পৃথক দুই বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমদের মাথায় মারত্মকভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় একই থানার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মেরে গুরুতর আঘাত করে। এরপর এলাকায় একই রাতে আরো তিন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভোদোকে টিউবওয়েল এর হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। সিরিয়ালভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি বা আতংক সৃষ্টি হয়।
গত ৭ মে জেলার বদলগাছী থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতে দেয়াল টপকিয়ে তিন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাক প্রতিবন্ধি বৃষ্টি (২০) কে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
সবশেষ গত ৪ জুন জেলার পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রোজি আক্তার (৩৭) এবং অপর একটি বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুন (২২)কে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।
জেলার ৩টি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোন তথ্য ছিল না।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, পরে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে। গোলাম মোরশেদ পেশাদার সাইকো সিরিয়াল কিলার। সে একাই এসব অপরাধ করে এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে তথ্য উদঘাটন করা কঠিন ছিল। পরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন,সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমানসহ পুলিশের অন কর্মকর্তারা।
মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন থানায় অনুরুপ ৫টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ঘটনায় একজন নারী মারা গেছে। জয়পুরহাট জেলায় অনুরুপ একটি ঘটনায় দুই জন নারী গুরুত্বরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন নারী মারা যায়।
মন্তব্য