করোনায় চিড়েচ্যাপ্টা সৌদি প্রবাসীরা

করোনায় চিড়েচ্যাপ্টা সৌদি প্রবাসীরা

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার আবাসিক হোটেলসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে কেউ ছুটিতে দেশে রয়েছেন। কিছু সংখ্যক কাজ করলেও বেতন নেই।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ২২ লাখের বেশি বাংলাদেশি। এদের অধিকাংশই শ্রমিক শ্রেণির। আর এই শ্রেণির ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে করোনাভাইরাস মহামারীর।

কারণ করোনাকালীন আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক কোম্পানি জনবল ছাঁটাই করছে। আবার অনেকে ছুটিতে দেশে গিয়ে সময়মতো ফিরতে না পারায় তাদের চাকরি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা।

কুমিল্লার দুইভাই রফিকুল ও কালো মিয়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সেলুনে কাজ করতেন। গত জানুয়ারিতে কালো মিয়া দুই মাসের ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পড়েন। আর লকডাউনের প্রথম ধাপেই বন্ধ হয়ে যায় রফিকুলের কর্মস্থল সেলুনটি।

ছয় মাস পর রফিকুলের সেলুন চালু হলেও কালো মিয়ার সৌদি ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা। এতোদিন ধার-দেনা করে পেট বাঁচালেও কালো মিয়ার আকামা নবায়ন করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে উচ্চমূল্যে টিকিট কিনে ভাইকে সৌদি ফেরত আনার চিন্তায় এখন ঘুম হারাম রফিকুলের।

চাঁদপুরের আব্দুস সালাম ১১ বছর ধরে কাজ করছিলেন রিয়াদের একটি বিনোদন কেন্দ্রে। ভালোই চলছিল কর্মজীবন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সবকিছু পাল্টে গেছে। বন্ধ হয়ে যায় বিনোদন কেন্দ্রটি। কর্মহীন হয়ে পড়েন সালাম। তারপর প্রায় পাঁচ মাস বেকার তিনি।

আইনের কঠোরতা ও নানা বিধিনিষেধের কারণে অন্য কোনো কাজও করতে পারছে না সালাম। আগের আয় থেকে যে সামান্য অর্থ জমা ছিল, তা-ও শেষ। ধার-দেনা করে এখন দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন।

সব মিলে দেশে ফেরত আসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই সালামের সামনে। কিন্তু দেশে এসেইবা কী করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না তার।

শুধু কালো আর রফিকুল নয়- এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আটকে পড়া ও সৌদিতে চাকরি হারিয়ে বহু প্রবাসী রয়েছেন মহাসংকটে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের বাইরে থাকা এসব প্রবাসী আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার আবাসিক হোটেলগুলোসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করতেন। তাদের মধ্যে কেউ ছুটিতে দেশে রয়েছেন। কিছু সংখ্যক কাজ করলেও বেতন পাচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি মানবেতর জীবন যাপন করছেন কথিত ফ্রি ভিসার কর্মীরা। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

মোস্তফা নামের এক প্রবাসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি এসেছি আজ ৯ মাস। কাজ নেই, খাবার নেই, টাকা নেই। এমনকি থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই।’

ইস্রাফিল আলম নামের আরেক প্রবাসী বলেন, ‌‘আমাদের এ পর্যন্ত ১০টি ক্যাম্পে নেয়া হয়েছে। কোথাও কাজে নিচ্ছে না। আমরা এখানে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে টিকে আছি। কবে কাজ পাবো তাও জানি না।’

সৌদি প্রবাসীদের বড় অংশ নিয়মিত দেশে টাকা পাঠান। যারা প্রতি মাসের বেতন হাতে পেয়ে বা অন্যান্য আয় থেকে নিজের খরচটা রেখে বাকি টাকা দেশে পাঠিয়ে দেন, তারাও পড়েছেন বিপাকে। হাতে টাকা না থাকায় তারা এখন নিজের খরচ চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

সৌদিতে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কাজে যুক্ত খাইরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, কঠিন এই সময়ে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকেই। প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান কাজে প্রমাণ করতে হবে। দেশে আটকেপড়াদের সুশৃংখলভাবে সৌদিতে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি সৌদিতে থাকা বেকার বাংলাদেশিদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

এ প্রসঙ্গে শনিবার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ কাউন্সেলর মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‌‘করোনা ও বিভিন্ন সেক্টরকে সৌদিকরণের ফলে অনেক বাংলাদেশি কর্মহীন হয়েছেন। যে সমস্ত বাংলাদেশি এখানে দীর্ঘদিন কাজ করে ফাইনাল এক্সিটে দেশে ফিরে যাচ্ছেন তারা যাতে তাদের সার্ভিস বেনিফিটসহ যাবতীয় পাওনা কোম্পানি থেকে নিয়ে যেতে পারেন সেজন্য দূতাবাসের শ্রম উইং কাজ করছে।’

মেহেদী হাসান বলেন, ‌‘কর্মহীনদের কাজের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন কোম্পানিতে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যারা বিভিন্ন কারণে এখানে আনডকুমেন্টেড হয়ে গেছেন, তারা যাতে কোনো ধরনের জেল-জরিমানা ছাড়া দেশে ফিরতে পারেন, সেজন্য সৌদি সরকারের বিশেষ প্রত্যাবাসন কর্মসূচির কাজ অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে আটকেপড়াদের সৌদিতে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে। করোনার সময়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অভাবী প্রবাসীদের বাংলাদেশ সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।।

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সংগীত-চিত্র উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সংগীত-চিত্র উদ্বোধন

কলকাতার স্বনামধন্য গীতিকার শুভদ্বীপ চক্রবর্তীর কথায় এবং কলকাতার জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক চিরন্তন ব্যানার্জির সুরে সংগীত-চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এইচডি বাংলা ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যৌথ উদ্যোগে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এইচডি বাংলা ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গববন্ধুকে নিয়ে নির্মিত সংগীত-চিত্র ‘ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উদ্বোধন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুর রাজ্জাক।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী এতে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসের মাটিতে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সংগীত-চিত্রটি বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে এক নতুন ভিন্নধর্মী অনন্য উপহার ও শ্রদ্ধাঞ্জলি।

‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই সংগীত-চিত্রটি সম্পন্ন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সংগীত-চিত্রের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি আমরা অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

‘ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু’র অন্যতম উদ্যোক্তা এইচডি বাংলার কর্ণধার সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কঠোর পরিশ্রম এবং যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও সংগঠনের বিভিন্ন শাখাগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার ফসল জাতির পিতাকে নিয়ে আজকের এই সংগীত-চিত্রের পূর্ণ রূপ।’

স্বাগত বক্তব্যের পর পরই কলকাতার স্বনামধন্য গীতিকার শুভদ্বীপ চক্রবর্তীর কথায় এবং কলকাতার জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক চিরন্তন ব্যানার্জির সুরে নির্মিত সংগীত-চিত্রটি পরিবেশন করা হয়।

বাংলাদেশ, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কণ্ঠ তারকাদের অংশগ্রহণে সংগীত-চিত্রটি দেখে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই অসাধারণ গানটি দেখে আমি সত্যি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। এই গানের যেই সুর যেকোনো মানুষের মনকে আলোড়িত করবে। গানের কথায় বলা হয়েছে, ‘‘প্রাণের বন্ধু, মানের বন্ধু, বঙ্গবন্ধু তুমি।’’ সত্যি অসাধারণ, এই কথা আমার মনকে ছুঁয়ে গেছে।’

এই ভিডিওটি নির্মাণ করায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও এইচডি বাংলাকে অশেষ ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এবং অন্য বক্তারা সংগীত-চিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি হৃদয়গ্রাহী অনন্য উপহার।’

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কনসুলেট নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল ডা. সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, বাংলাদেশ কনসুলেট লস এঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল তারেক মোহাম্মদ, বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত বাংলা একাডেমীর উপপরিচালক ও বঙ্গবন্ধু গবেষক ড. আমিনুর রহমান সুলতান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ফরাসত আলীসহ অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী সংযুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।

শেয়ার করুন

‌চিন্তা ও চাকার ‌‘‌সুবর্ণযাত্রা’ ‌৫০ দেশে

‌চিন্তা ও চাকার ‌‘‌সুবর্ণযাত্রা’ ‌৫০ দেশে

বিশ্বের ৫০টি দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর বার্তা পৌঁছে দেয়ার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই অভিযাত্রার সমাপ্তি টানা হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী স্মরণীয় করে রাখতে সড়কপথে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তত ৫০ দেশের মানচিত্র স্পর্শ করবে প্রবাসীদের একটি অভিযাত্রী দল। এ যাত্রাকে তারা বলছে ‘সুবর্ণযাত্রা’।

২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের নর্থ ক্যাপ থেকে এই যাত্রা শুরু হচ্ছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন চিন্তা ও চাকা।

বিশ্বের ৫০টি দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর বার্তা পৌঁছে দেয়ার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই অভিযাত্রার সমাপ্তি টানা হবে।

চিন্তা ও চাকা নরডিক অঞ্চলের প্রবাসীদের নিবন্ধিত সংগঠন।

এর মুখপাত্র মতিউর রহমান জানান, ইউরোপ ও এশিয়ায় অন্তত ২০০ স্বেচ্ছাসেবী এই আয়োজন বাস্তবায়নে কাজ করছে।

‘আমাদের যাত্রা শুরু হবে নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ের নর্থ ক্যাপ থেকে। শোভাযাত্রাটি দক্ষিণ বরাবর বাংলাদেশমুখে যাত্রাপথে এশিয়া এবং ইউরোপের প্রায় ৫০টি দেশ অতিক্রম করবে।

‘আমাদের বিশ্বাস এই শোভাযাত্রা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে এই ৫০টি দেশের স্থানীয় জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজ দেশের ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াস থাকবে।’

মতিউর জানান, তারা বিশ্ববাসীর কাছে জলবাযু পরিবর্তনের বিরূপ পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরতে চান।

নানা কর্মসূচিতে সাজানো হয়েছে তিন মাসব্যাপী আনুমানিক ৪০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথযাত্রা।

যাত্রার প্রতিটি বিরতিতে থাকবে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশন, স্থানীয় ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ উপস্থাপন। শিশুদের অংশগ্রহণে কেক কাটার আয়োজনও থাকবে এই কর্মসূচিতে।

চিন্তা ও চাকা জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, তারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী শিশুদের কাছে তুলে ধরতে চায়।

অভিযাত্রা শেষে ১৭ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে আয়োজন করা হবে বিজয়ের অনুষ্ঠান।

সংগঠনটি জানিয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর দেশের সব জেলাকে এক সুতোয় বাঁধতে চান শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। এতে যুক্ত হবেন জেলার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

সুবর্ণযাত্রার বিস্তারিত আপডেট পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে। এ ছাড়া ফেসবুক পাতায়ও করা যাবে অনুসরণ।

শেয়ার করুন

সৌদিতে হোটেল বুকিং দিতে পারবে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট

সৌদিতে হোটেল বুকিং দিতে পারবে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এর ফলে সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের সমস্যা দূর হলো। বৃহস্পতিবার থেকেই এ সুযোগ নিতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন সমস্যা সমাধানে সৌদি এয়ারলাইন্সের আর্থিক ও সফটওয়্যার চ্যানেলের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সটির তালিকাভুক্ত তিনশর বেশি স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টকে সে দেশে হোটেল বুকিংয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এর ফলে সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের সমস্যা দূর হলো। বৃহস্পতিবার থেকেই এ সুযোগ নিতে পারবেন বাংলাদেশিরা।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২০ মে থেকে যেসব প্রবাসী হোটেল বুকিং সমস্যার কারণে ফ্লাইট মিস করেছেন তাদেরও বিনা ফিতে পুনরায় টিকিট ইস্যু করতে সম্মত হয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স।

টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, তথা রি-ইস্যু রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ সোনারগাঁও হোটেলের সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্ট থেকেও করা যাবে।

এছাড়া এখন থেকে যারা সৌদি আরব থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের আপ-ডাউন টিকিট ক্রয় করে দেশে আসবেন, তারা টিকিট রি-কনফার্ম বা তারিখ পরিবর্তনের জন্য ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহরে অবস্থিত তালিকাভুক্ত ট্রাভেল এজেন্ট থেকে করতে পারবেন। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সৌদি এয়ারলাইন্স অফিসে আসার প্রয়োজনীয়তা কমে গেল।

হোটেল বুকিংয়ের জন্য ট্রাভেল এজেন্টগুলো সর্বোচ্চ দুই হাজার এবং টিকিট রি-ইস্যুর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচশত টাকা ফি নির্ধারণ করেছে।

করোনার বিস্তার রোধে সৌদি সরকার গত ১৭ মে ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করে, যা ২০ মে কার্যকর হয়।

সে অনুযায়ী যেসব বিদেশি কর্মী নিজ দেশে দুই ডোজ করোনার টিকা গ্রহণ করেননি বা সৌদি আরবে থাকাকালীন এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেননি তাদেরকে সৌদি আরব যেতে হলে নির্দিষ্ট হোটেলগুলোয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এতে ছুটিতে দেশে আসা সৌদি প্রবাসীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি নানা কারণে তারা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য হোটেল বুকিং করতে পারছিলেন না, বিশেষ করে পুরো টাকা একবারে শোধ করার শর্তের কারণে।

প্রবাসী কর্মীদের বেশিরভাগেরই ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড না থাকায়ও কোনোভাবেই তারা হোটেল বুকিং করতে পারছিলেন না।

প্রবাসীদের এ সমস্যা সমাধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও হোটেল বুকিং করতে পারছিলেন না তারা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসীদের সব সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে।

টিমটি সৌদি এয়ারলাইন্স এবং আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্সিস বাংলাদেশ) এর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে এ সমস্যার সমাধান করতে সম্মত হয়েছে।

শেয়ার করুন

‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী

‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী

দিনব্যাপী আয়োজিত জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন বন্ধুদের সপরিবারে ফুল দিয়ে বরণ, যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন এবং মধ্যাহ্নভোজ।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি উত্তীর্ণদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে।

‘ইউকে ৯৪’ ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া পার্কে আয়োজিত হয় ইউকে ৯৪-এর দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত শতাধিক বন্ধুর পরিবার অংশ নেয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন বন্ধুদের সপরিবারে ফুল দিয়ে বরণ, যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন এবং মধ্যাহ্নভোজ।

গান, কবিতা ও আড্ডায় ভরপুর এই আয়োজনে বন্ধুরা নিজেদের স্কুলের স্মৃতিচারণও করেন।

অনুষ্ঠানের বাড়তি আকর্ষণ ছিল, যুক্তরাজ্যের বাঙালি পাড়ার সুপরিচিত মুখ পেশাদার আলোকচিত্রী ও ৯৪ সহপাঠী নাহিদ জায়গিরদারের ক্যামেরায় ছবি তোলার সুযোগ।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সুজন, বিপ্লব, মুশতাক, তানিয়া, নাসরিন, মামুন, যাবেদ, কবির, সুয়েয, সুমি,কামাল, হাশমি, দিনু, ফায়জুল, ফরিদুল, আব্দুর, নাগিফ, নিপা, বুলবুল, জুবায়ের, বাপ্পি, মুনমুন, নাজ, শাহিন, জামিল, রাজিব, অপু, রুহি, মনিরা, হাসান, জাহিরুল, তনয়, রুহেল, সাজু, ইস্তিয়াক, হিরা, গনি, আলি, সাইফ, পারভেজ, রুমেল, রাইহান, জাহিদ, শাফিকুল, শানুর, মাহিন, দেলোয়ার, আশ্রাফ, জিয়া, দলন, তানজিরা, ফারহানা, মাকবুল, জালাল, জুম্মনসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

ইকামার মেয়াদ বাড়াল সৌদি

ইকামার মেয়াদ বাড়াল সৌদি

সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের অফিসে প্রবাসীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও এ সুবিধা পাবেন। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুখবর দিল সৌদি সরকার। করোনার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও যারা সৌদি আরব যেতে পারছেন না, তাদের জন্য ইকামার (রেসিডেন্সি পারমিট) মেয়াদ আগামী ২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে দেশটি।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বিনা মূল্যে ইকামা বৃদ্ধির এ ঘোষণা সোমবার দেন বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও এ সুবিধা পাবেন। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

বাদশা সালমানের নির্দেশনায় এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় বিনা মূল্যে ইকামা ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করে।

দেশের নাগরিক ও বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রশমনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই সংবাদমাধ্যম।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশি নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে দেশটির সরকার।

এতে বলা হচ্ছে, দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড চিকিৎসাসংক্রান্ত ইনস্যুরেন্স করতে হবে। এই ইনস্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইকামার মেয়াদ বাড়াল সৌদি

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে। দেশটিতে যেতে চাওয়া যাত্রীদের ভ্রমণের প্রথম ও সপ্তম দিন পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থাও এয়ারলাইনসকে করতে হবে বলে শর্ত দেয়া হয়েছে।

ফ্লাইটের যাত্রীদের তালিকাও এয়ারলাইনসকে যাত্রার চার দিন আগে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব। নতুন এই শর্ত কার্যকর হয়েছে ২০ মে। এ অবস্থায় ২৯ মে পর্যন্ত দেশটির সব গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান।

সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের ফলে বিপাকে পড়েছেন ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসী কর্মীরা। টিকিট কেটেও দেশটিতে যেতে পারছেন না তারা। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হোটেল বুকিং দেয়ার পর জানতে পেরেছেন নির্দিষ্ট একটি অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং না দিলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এদের অনেকেরই ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের যাওয়াও অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ইকামার মেয়াদ বাড়াল সৌদি

বিমান ছাড়া ঢাকা থেকে দেশটির বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও নাস এয়ার। কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত না করতে পারায় টিকিট কেটে যেতে পারেননি অনেক যাত্রী।

যে দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে, এর শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বিভিন্ন শহরে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৪০০ কোটি ৫১ লাখ ডলারের রেমিটেন্স। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৪৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

শুধু কাজের জন্য নয়, এর বাইরে হজ ও ওমরাহ করতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সৌদি আরবে যান। ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হলে ভোগান্তি বাড়ে যাত্রীদের।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছিল সৌদি আরব। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফ্লাইট না থাকায় ছুটিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়েছিল। পরে অবশ্য সরকারের মধ্যস্থতায় সমস্যার সমাধান হয়।

শেয়ার করুন

টিকা ছাড়া সৌদি গেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন

টিকা ছাড়া সৌদি গেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন

সৌদিতে টিকা না নিয়ে প্রবেশ করলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, টিকা ছাড়া সৌদি আরবে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যেতে হবে এবং সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

টিকা না নিয়ে আগামী ২০ মের পর থেকে সৌদি আরবে গেলে নিজ খরচে সাত দিন হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব দেশের নাগরিকদের এখনও সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেসব দেশ থেকে করোনার টিকা ছাড়া আর সরাসরি প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। টিকা ছাড়া সৌদি আরবে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যেতে হবে এবং সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

২০ মে থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশিরাও এই নিয়মের আওতায় পড়বেন।

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে এই নির্দেশনা সব এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ও নির্ধারিত হোটেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এটি করলে এয়ারলাইনসগুলো টিকিটের দামের সঙ্গে হোটেলে অবস্থানের চার্জও নিয়ে নেবে।

এ ছাড়া বিমানে চড়ার আগে প্রত্যেক যাত্রীর কোভিড নেগেটিভ সনদ (ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে) বাধ্যতামূলক রাখতে হবে।

সৌদিতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ হবে সাত দিন। সপ্তম দিনে নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেই কেবল মিলবে মুক্তি। তা ছাড়া আবারও থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে।

অবশ্য সবার জন্য কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেনি সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এসবের আওতায় থাকবেন সৌদি নাগরিক, তাদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী-পুত্র, কন্যা ও গৃহকর্মীরা।

টিকাগ্রহীতাদের সঙ্গে থাকা টিকা নেননি এমন গৃহকর্মীও থাকবেন এই তালিকায়।

কূটনীতিক, কূটনৈতিক ভিসাধারী, তাদের পরিবার, রাষ্ট্রীয় অতিথি, বিমান ও জাহাজের ক্রু, আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে নিযুক্ত ট্রাকচালক ও তাদের সহকারীরা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনুমোদিত কোনো ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

সৌদির পাবলিক হেলথ অথরিটি জানিয়েছে, সে দেশে প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে কেউ টিকা নিলে তাকেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের প্রথম ও সপ্তম দিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

শেয়ার করুন

মেরিনারের সামনে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ   

মেরিনারের সামনে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ   

কোরিয়ান, ফিলিপিনো, ইন্ডিয়ান ক্রুদের সঙ্গে লেখকসহ ৪ বাংলাদেশি।

যদিও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোনো দেশ বা জাতিকে যাচাই করা যায় না, কিন্তু সামান্য হলেও একজনের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে জাহাজের ক্রুরা বাকিদের যাচাই করার চেষ্টা করেন

মেরিনারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থাকে নিজের দেশ, নিজের দেশের মানুষ সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানুষের মাঝে একটি ভালো ধারণা তৈরি করা। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, একটি বড় দায়িত্ব এবং একইসঙ্গে দেশ ও দেশের বাকি মেরিনারদের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ।

যখন আমি জাহাজের ২১ জন ফিলিপিনো, ইন্ডিয়ান, রাশিয়ান, কোরিয়ান বা টার্কিশ ক্রুদের মাঝে একা বাংলাদেশি তখন আমার আচরণ, ম্যানার, কার্টেসি অনুযায়ী বাংলাদেশ আর বাংলাদেশিদের ব্যাপারে বাকিরা একটা ধারণা পান।

আমি কীভাবে চলি, কীভাবে খাই, কীভাবে কথা বলি, কীভাবে কাজ করি সবকিছুই সবাই লক্ষ্য করেন এবং আমার ভিত্তিতেই বাকি বাংলাদেশিদের বিচার করেন। তার মানে, আমার একার ওপর পুরো বাংলাদেশ আর বাংলাদেশিদের ইমেজ নির্ভর করছে, অন্তত ছবির এই ২১ জনের কাছে।

যদিও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোনো দেশ বা জাতিকে যাচাই করা যায় না, কিন্তু সামান্য হলেও একজনের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে জাহাজের ক্রুরা বাকিদের যাচাই করার চেষ্টা করেন।

ধরুন, আমি যদি অভদ্র বা রগচটা আচরণ করি তাহলে বাকিরা হয়ত ভেবে নেবেন বাংলাদেশি মানেই অভদ্র আর রগচটা। একইভাবে আমি আন্তরিক আর ভদ্র হলে সবাই সে ধারণাই পাবে আমাদের সম্পর্কে। কয়েক লিটার দুধ নষ্ট করতে যেমন এক ফোঁটা লেবুর রসই যথেষ্ট তেমনি একজন ব্যক্তিই যথেষ্ট পুরো দেশ এবং জাতির নাম ডোবানোর জন্য।

বোঝানোর সুবিধার্থে দুটি বাস্তব উদাহরণ দেই। এই কয়েক বছর আগে একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি মালয়েশিয়ান এক মেয়েকে ছুরি মেরে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ শুধু সেই একজনের জন্য মালয়েশিয়াতে থাকা সমস্ত বাংলাদেশিকে বের করে দেয়ার জোর দাবি করেছিল!

মাত্র একজনের জন্য মালয়েশিয়ার পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি কতটা লজ্জিত আর অপদস্ত হয়েছে সেটা সহজেই অনুমেয়। অপরদিকে, সিঙ্গাপুরে লাখ ডলার কুড়িয়ে পেয়ে পুলিশকে ফেরত দিয়ে সততার অনন্য নজীর স্থাপনকারী একজন মাত্র বাংলাদেশিই কিন্তু আমাদের সমস্ত বাংলাদেশ-বাংলাদেশিদের গর্বিত করে।

মেরিনারদের নিয়েও এ রকম দুটি ঘটনা বলি। প্রায় এক যুগ আগে বিদেশি কোম্পানির জাহাজে এক বাংলাদেশি তার সিনিয়র অফিসারকে মারার জন্য তাড়া করেছিল বলে রিপোর্ট করা হয়! ফলে সেই কোম্পানি চিরতরে বাংলাদেশিদের নেয়া বন্ধ করে দেয়।

একইভাবে জাহাজে করে তথাকথিত উন্নত দেশে পালিয়ে গিয়ে বাকি হাজার হাজার জাহাজির ভালো কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ বন্ধ করার জন্য মাত্র একজন বাংলাদেশি জাহাজিই যথেষ্ট।

অপরদিকে, কয়েক বছর আগে চায়নার একটা বড় শিপিং কোম্পানি একজন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে আরও বাংলাদেশি জুনিয়র অফিসার নিতে আগ্রহী হয়েছে, নিয়োগ দিয়েছে। মাত্র একজন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেনের চমৎকার আচরণ আর দক্ষতার জন্য আরও ১০ জন বেকার জুনিয়রের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। অর্থাৎ আমার-আপনার মতো মাত্র একজন নগণ্য জাহাজি বাকি জাহাজিদের পথ যেমন সুগম করতে পারেন, তেমনি দুর্গমও করতে পারেন।

দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশি মেরিনাররা বছরে মিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েও সরকারিভাবে তেমন কোনো বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পান না। নিজেদের দেশে আমরা মূল্যহীন, শিকড়হীন। অথচ দেশের বাইরে বা ভিনদেশিদের সামনে দেশের জন্য, দেশের বাকি জাহাজিদের জন্য ‘একজন আমি’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাজে এসে যখন বিদেশিদের কাছে একজন বাংলাদেশি সম্পর্কে কোনো ভালো কথা বা তার ভালো অভিজ্ঞতার কথা শুনি তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই অচেনা, অজানা বাংলাদেশির প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে ওঠে, শ্রদ্ধা জন্মে।

আবার এর বিপরীতে বাংলাদেশিদের নিয়ে কেউ খারাপ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেও লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে, অস্বস্তি লাগে। আমাদের মনে রাখা উচিত, জাহাজে একজন জাহাজির মাত্র ৬/৯ মাসে তৈরি করা ইমেজ কিন্তু শুধু ৬/৯ মাস, আর এই ২০-২৫ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সেই ইমেজ ২০-২৫ জনের মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে হয়ত অন্য কোনো বাংলাদেশি জাহাজি বা তাদের স্বজাতির কারো কাছে।

তাই আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে প্রত্যেকের এমন একটা ইমেজ তৈরি করা উচিত যেন পরবর্তীতে কোনো বাংলাদেশি জাহাজি কোনো ভিনদেশির কাছে আমার-আপনার গল্প শুনে গর্বিত হন, লজ্জিত বা নীচু না হন। এই কথাগুলো প্রবাসী সমস্ত বাংলাদেশিদের জন্যও সমান প্রযোজ্য।

লেখক: এক্স ক্যাডেট (বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ৪৭তম ব্যাচ)

শেয়ার করুন