× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

ইভেন্ট
Ashura is being observed according to the hygiene rules
hear-news
player
print-icon

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন হচ্ছে আশুরা

স্বাস্থ্যবিধি-মেনে-পালন-হচ্ছে-আশুরা
প্রতীকী ছবি
করোনার কারণে এবার পবিত্র মহররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে। গত ৬ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

কারবালার শোকাবহ পবিত্র আশুরা আজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি পালন হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে কারবালা পালনে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

করোনার কারণে এবার পবিত্র মহররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে।

এ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগে আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র মহররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে। তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে আবশ্যক সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালন হবে।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে যান। ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন তারা।

এ ঘটনা স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় আশুরা পালন করে থাকে।

আরও পড়ুন:
আশুরার ছুটি পুনর্নির্ধারণ
আশুরায় তাজিয়া মিছিল-শোভাযাত্রা বন্ধ
পবিত্র আশুরা ২০ আগস্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

ইভেন্ট
Fish stocks threatened by the spread of Chinese seine nets

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ ধরার জন্য চায়না দুয়ারি জাল ফেলছেন এক জেলে। ছবি: নিউজবাংলা
শুধু মাছ নয়, জলজ প্রাণী শামুক, ঝিনুক, সাপ, ব্যাঙসহ প্রায় সবই আটকা পড়ে চায়না দুয়ারি নামে এক নতুন ধরনের জালে। যখন ডাঙায় শুকাতে দেয়া হয়, তখন জালের লেগে থাকা মাছ খেতে এসে আটকা পড়ে পাখিরাও। সহজে বহনযোগ্য ও বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ করা যায় বলে এই জাল দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মাছ আহরণ করতে দক্ষিণাঞ্চলীয় খুলনা জেলার জেলেরা নতুন এক ধরনের জাল ব্যবহার করছেন, যা চায়না দুয়ারি বা ট্রেন জাল নামে পরিচিত। এই জালের প্রতি গিটের ফাঁসের দূরত্ব এক সেন্টিমিটারেরও কম। এতে একবার প্রবেশ করলে মাছের ডিম থেকে পোনা কিছুই বের হতে পারে না।

শুধু মাছ নয়, জলজ প্রাণী শামুক, ঝিনুক, সাপ, ব্যাঙসহ প্রায় সবই আটকা পড়ে এ জালে। যখন ডাঙায় শুকাতে দেওয়া হয়, তখন জালের লেগে থাকা মাছ খেতে এসে আটকা পড়ে পাখিরাও।

সহজে বহনযোগ্য, জাল ফেলতে কষ্ট কম ও বেশি পরিমাণে মাছ একই সঙ্গে আহরণ করা যায় বলে এ জাল দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বতর্মানে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিল, বাসুয়াখালি বিল, ডুমুরিয়া উপজেলার ডাকাতিয়া বিল ও শিবসা, পশুর, ভদ্রা, ভৈরব, শিবসা, কাজীবাছা, কপোতাক্ষ নদসহ প্রায় সব নদী ও খালে এই জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামর জেলে মোজাফ্ফার বলেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করি। আগে মাছ ধরার জন্য খেওলা জাল ব্যবহার করতাম। সারা রাত বিলে জাল খেওয়াতে বেশ কষ্ট হত। তবে গত বছর থেকে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করছি।’

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

তিনি বলেন, ‘এই জাল বিকেলে বিলে ফেলে সকালে ওঠানো হয়। রাতে আর কষ্ট করা লাগে না। আগে খেওলা জাল নিয়ে সারা রাত কষ্ট করে ৫০০ টাকার মাছও পেতাম না। এখন চায়না দুয়ারি জালে ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মাছ পাই।’

২০ ফুট লম্বা পাঁচটি চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে মোজাফ্ফারের। তিন দাবি করেন, অন্তত ৫ শতাধিক জেলে ২ হাজারেরও বেশি চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করেন।

একই উপজেলার জেলে আফতাব মোল্লা বলেন, ‘ভুতিয়ার বিলের পাশাপাশি আমরা আঠারো বেকি নদীতেও চায়না দুয়ারি জাল পেতে রাখি। একবার জাল পেতে রাখলে টানা পনের দিন আর ওঠানো লাগে না। শুধু প্রতিদিন একবার মাছ সেকে নিয়ে আসতে হয়। পনের দিন পর একবার রৌদে শুকাতে হয়। না হলে শেওলায় জালের ফাঁস বন্ধ করে দেয়।’

চায়না দুয়ারি জাল দিনের পর দিন পানিতে রেখে দেয়া যায়। এই জালের সুতা প্লাষ্টিকের তৈরি হওয়ায় সহজে নষ্ট হয় না। জেলেদের ধারণা, এই জাল চায়না থেকে আমদানি করা হয় এবং মাছ প্রবেশ করার জন্য একাধিক দুয়ার থাকায় নাম হয়েছে চায়না দুয়ারি। আবার অনেকটা লম্বা হওয়ায় অনেকে একে ট্রেন জালও বলে থাকেন।

বাংলাদেশে প্রচালিত কোনো মৎস্য আইন ও বিধিমালায় সারাসরি চায়না দুয়ারি জাল নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালায় সাড়ে চার সেন্টিমাটার বা তার থেকে কম দৈর্ঘ্যের ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, ‘জালের গিটের দৈর্ঘের আইন মোতাবেক এই জালটি আমাদের দেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি যে কোনো জাল মাছের জন্য হুমকি। ছোট ছোট মাছগুলি টিকিয়ে রাখা জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া বড় মাছের পোনা যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে মা মাছের সংকট তৈরি হবে। তখন মাছের উৎপাদনও হ্রাস পেতে শুরু করবে।’

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার আনিসুল হক বলেন, ‘এই জাল শুধু মৎস্য ভাণ্ডার ধ্বংস করছে না, এটা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এটা দীর্ঘদিন নষ্ট হয় না। অনেক সময় এই জাল জেলেরা নদী বা বিলে ফেলে দেন, তখন জালের মধ্যে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। তা ছাড়া অনেক মাছ জালের সাথে ঘর্ষণের ফলে ফাংগাস বা ব্যাক্টেরিয়াল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়। পরিত্যক্ত এসব জাল যুগের পর যুগ পরিবেশের ক্ষতি করতে থাকে।’

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

খুলনা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুসারে, জেলার মোট ৩৪টি নদী খাল ও ১৩টি বিল থেকে জেলারা মাছ আহরণ করেন।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘নতুন করে এই জালের ব্যবহার শুরু হয়েছে। মাছ রক্ষায় আমরা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি।’

তিন বলেন, ‘নদী-খালের তুলনায় বিলগুলিতে এই জাল বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব এলাকা আমরা চিহ্নিত করে বেশি অভিযান চলাচ্ছি। জাল পেলে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

২. খুলনার তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামের এক বাড়িতে চায়না দুয়ারি জাল রোদে শুকানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
জাল টাকাসহ প্রতারক গ্রেপ্তার
জালিয়াতির খ্প্পরে নওগাঁর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
বাসি মাংসে রং মিশিয়ে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা
বড়শি দিয়ে ৯২ কেজির বাগাড় শিকার
‘পটকা মাছ খেয়ে’ প্রাণ গেল মা-ছেলের

মন্তব্য

ইভেন্ট
Reverse danger after digging the canal

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

খাল খননের পর উল্টো বিপদ
বরগুনা জেলা সদরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাড়ানি খাল খননের পর স্রোতে উভয় পাড়ে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বরগুনা-পৌর শহরের একাংশসহ বরগুনা-বাঁশবুনিয়া-গুলবুনিয়া সড়কটিও হুমকির মুখে।

বরগুনা পৌর শহর থেকে বুড়ির চর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া পর্যন্ত খনন করা ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ভাড়ানি খাল’ এখন শহর ও উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বরগুনা জেলা সদরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি খননের পর স্রোতে উভয় পাড়ে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বরগুনা-পৌর শহরের একাংশসহ বরগুনা-বাঁশবুনিয়া-গুলবুনিয়া সড়কটিও হুমকির মুখে। এ ছাড়া ৯ কিলোমিটারে খালে নির্মাণ করা মোট ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে শহরের দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ রাখা হয়েছে যান চলাচল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরগুনা প্রেসক্লাবে বরগুনা পৌরশহরের খাকদোন ও ভাড়ানি খালের দুই পাড় সংরক্ষণ, উপকূল সুরক্ষায় বেরিবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাকদোন নদী ও ভাড়ানি খালের দুপাড় উঁচু করে বাঁধ ও গাইডওয়াল নির্মাণ, বনায়ন, শহরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে কালভার্ট ও স্লুইসগেটগুলো সংস্কার, নদী খনন এবং শহরের পর্যটন স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করার বিষয় আলোচনা করা হয়। এতে পাউবোর বরিশাল বিভাগীয় তত্ত্বাববধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বরগুনা পৌরসভার মেয়র কামরুল আহসান মহারাজসহ সচেনত নাগরিকরা ভাড়ানি খালের ভাঙন নিয়ে আলোচনা ও প্রতিকারে গাইড ওয়ালসহ সুরক্ষা ব্লক স্থাপনের দাবি জানান।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

এ সময় আলোচনায় বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানির হোসেন কামাল বলেন, ‘জোয়ার-ভাটার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিতভাবে খালটি খনন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবিধার জন্য খনন করা হলেও এখন সেই খননই উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের বসতিসহ স্থাপনা, উভয় পাড়ের সড়ক ও ১১টি সেতুর জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। দ্রুত উভয় পাড়ে সুরক্ষা ব্লক স্থাপন না করলে সড়ক, সেতু ও পাড়ের বসতিসহ অনেক স্থাপনা খালের পেটে চলে যাবে।’

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ভাড়ানি খালটি পুনরুদ্ধারে পরিবেশবাদী বেশ কয়েকটি সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা উচ্চ আদালতে রিট করার পর খাল দখলমুক্ত করতে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটি খননের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গরীবে নেওয়াজ ও পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল মামুন এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে চার কিলোমিটার খননের কাজ পায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খালটি খননের কাজ শেষ হয়।

খালটিতে এখন অবাধে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ শুরু হওয়ায় মাত্র তিন মাসের মধ্যে উভয় পাড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। আষাঢ়-শ্রাবনের বৃষ্টি ও জোয়ারের তোড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে বরগুনা শহরের দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বন্ধ করে দেয়া হয় যানবাহন চলাচল।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

খাল খননের ফলে সেতুর পিলারের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে মাটি ভেসে গিয়ে একইভাবে শহরের মাছবাজার থেকে শুরু করে গুলবুনিয়া পর্যন্ত মোট ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া খালের পশ্চিম পাড়ের বরগুনা-চালিতালী সড়কের পৌর শহরের মাদ্রাসা সড়ক থেকে শুরু করে খাদ্যগুদাম হয়ে জেলা স্কুল ও বাঁশবুনিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের একাংশ ভেঙে খালে পড়েছে। একইভাবে পূর্বপাশের শহীদস্মৃতি সড়ক হয়ে মাইঠা, লবণগোলা থেকে গুলবুনিয়া পর্যন্ত ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে খালের পাড়ের বেশ কিছু স্থাপনা।

বরগুনা পৌরশহর সংলগ্ন বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা জুনাইদ জুয়েল বলেন, ‘অনেক আন্দোলনের পর খালটি দখলমুক্ত করার পর অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়। ফলে এখন ভাঙনের শিকার হচ্ছে সড়ক, স্থাপনা, সেতু। খালটি খননের সময় মাছবাজার থেকে বাঁশবুনিয়া পর্যন্ত সুরক্ষা ব্লক স্থাপন করা হলে শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি উভয় পাড় সুরক্ষিত থাকত। তবে পাউবো চাইলে এ প্রকল্প এখনও হাতে নিতে পারে।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহবায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি, খাল দখলমুক্ত হয়েছে এবং খননের কাজও শেষ। কিন্ত এখন খাল কেটে কুমির আনার অবস্থা হয়েছে। উপকার হয়েছে, কিন্ত যে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা থেকে সুরক্ষা দিতে পাউবোকে ভূমিকা রাখতে হবে। দ্রুত খালের উভয় পাড়ে সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করে ব্লক স্থাপন না করলে হুমকির মুখে পড়বে সড়ক, সেতু ও এলাকার বাসিন্দাদের বসতি। খালটির উভয় পাড়ে এখন সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করলে এটি মানুষের ঘোরাফেরা ও বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে।’

বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘ইতোমধ্যে পৌর শহরের দুটি ব্রিজ ঝুঁকিতে থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। আমি বিষয়টি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করেছি। ওনারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পাউবোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তত।’

পাউবো বরিশাল বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ করা যায় না। বরগুনায় পাঁচটি প্রকল্পে অনুমোদন চাওয়া হলেও দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। খাকদন নদী ও ভাড়ানি খালের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করে প্রস্তাব করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
খাল খননের মাটিতে চাপা পড়ছে বসতি

মন্তব্য

ইভেন্ট
The health risk of used paper is not serious

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ ফুটপাতে বসা ছোলা মুড়ির দোকানে ব্যবহৃত কাগজে খাবার দিচ্ছেন বিক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা
‘খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এ ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া পুরনো কাগজে রোগসৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে। খবরের কাগজ ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর ঠোঙায় বা উক্ত কাগজে মোড়ানো খাদ্য নিয়মিত খেলে, মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনিরোগসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হতে পারে।’

খোলা খাবার কেনাবেচার ক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিক একটি চিত্র। তবে এ যে স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর, সে বিষয়ে কারও যেন কোনো খেয়ালই নেই।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঝাল মুড়ি বিক্রি করছে এক দোকানে। বেচাকেনা হচ্ছে দেদারসে। কোনো ক্রেতা মুড়ি নিচ্ছেন প্লেটে, কেউ বা কাগজের মোড়কে। সেই মোড়ক তৈরি হয়েছে মূলত বইয়ের পাতা ব্যবহার করে।

সেই বইয়ের কাগজে এমন সব রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের পেটে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার মানুষের হাত থেকেও জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে, সেটি বই পড়ার সময় আবার মোড়ক বানানোর সময়ও। কিন্তু না ক্রেতা, না বিক্রেতা, কারও মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে এতটুকু ভাবান্তর দেখা গেল না।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা মাসুম মিয়া আসলে জানেনই না যে, এই কাগজ থেকে রোগ ছড়াতে পারে।

পাশেই খাজা বিক্রি করছিলেন এক নারী। তারও ধারণা ছিল না ব্যবহৃত কাগজে খাদ্য বিক্রির বিপদ সম্পর্কে। বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, ‘এই কাগজে যে ক্ষতি অয় তা তো জানতামই না।’

এখন তো জানলেন, তাহলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এহন থেইকা প্লেটে দিমু।’

ওনার কাছ থেকেই খাজা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন আনিস রহমান। তিনি বলেন, ‘জানি এগুলো ক্ষতিকর। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এভাবেই নেই। বাচ্চারা পছন্দ করে। তবে এরপর সতর্ক হব।’

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
ব্যবহৃত কাগজে খাবার দিচ্ছেন এক দোকানদার। ছবি: নিউজবাংলা

মোড়ে মোড়ে ঝালমুড়ি, ফুচকা, জিলাপি, পরোটা, পুড়ি, সিঙ্গারা বা এই ধরনের খাবার পরিবেশন বা পরিবহনে যে মোড়কগুলো ব্যবহার করা হয়, তার সবগুলোই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে পলিথিনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যবহৃত কাগজের মোড়ক নিয়ে কারও মধ্যে ভাবান্তর নেই।

পরোটা পরিবহনের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রধানত খবরের কাগজ কেটে তা দিয়ে খাদ্যপণ্যটি মুড়িয়ে দেন। অনেক সময়ই দেখা যায় গরম পরোটায় কাগজের অক্ষর লেপ্টে গেছে।

এই বিষয়টি জানিয়ে যে কয় জন খাবার বিক্রেতার সঙ্গে নিউজবাংলা কথা বলেছে, তাদের সবাই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এভাবে খাবার দেয়া না যায়, তাহলে তারা আসলে কী করবেন।

তেজগাঁওয়েরই একটি খাবার হোটেলে কাগজে মুড়িয়ে মোগলাই পরোটা বিক্রি করছিলেন রায়হান। তিনিও বলেন, ‘এভাবেই বিক্রি করব। আর তো কিছু করার নাই।’

বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থার ভূমিকাও একেবারেই দায়সারা গোছের। প্রায় এক দশক আগে করা আইনে এভাবে খাবার মোড়কজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করা হলেও এর প্রচারেও নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

তবে সম্প্রতি পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভোক্তা এবং বিক্রেতাদেরকে সাবধান করা হয়েছে। এই ব্যবহৃত কাগজের রং ও রাসায়নিক মানবস্বাস্থ্যের কী কী ক্ষতি করতে পারে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি কয়জন মানুষের হাতে পৌঁছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
হোটেলে তৈরি হচ্ছে খাবার, পরিবেশন করা হচ্ছে ব্যবহৃত কাগজে। ছবি: নিউজবাংলা

কী ক্ষতি

পুরনো কাগজ প্রধানত কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। এরপর তা যায় মোড়ক তৈরির কারখানায়। সেখান থেকে তা আবার আসে বাজারে। এরপর কেজি বা শ হিসেবে তা কিনে নিয়ে আসা হয়। এই তৈরি ও পরিবহনের সময় এগুলোতে জীবাণুতে সংক্রমণ হতে পারে। এগুলো প্রিন্ট করার সময় যেসব রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর বিপত্তি তো আছেই।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এনামুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন এই কাগজ প্রস্তুত হয়, এতে ক্লোরাইড, ডলোমাইড, হাইড্রোফ্লোরিস এসিড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম সালফেট থাকে। আবার এগুলোতে যখন ছাপার জন্য কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে যে উপাদান যেমন ক্যাডমিয়াম, কপার, জিংক, রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া পুরনো কাগজে রোগসৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে।’

তিনি বলেন, 'গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। আবার এই কাগজগুলো যেসব জায়গা থেকে আসে সেখানেও জমে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু। তাই এগুলো পরিহার করা জরুরি।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এ ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া পুরনো কাগজে রোগসৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে। খবরের কাগজ ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর ঠোঙায় বা উক্ত কাগজে মোড়ানো খাদ্য নিয়মিত খেলে, মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনিরোগসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হতে পারে।’

করণীয় কী

এই প্রশ্নটাই আসলে সবচেয়ে জটিল, যার সঠিক এবং সহজ কোনো জবাব পাওয়া কঠিন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পথ খাবার ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদেরকে খাদ্য স্পর্শক প্রবিধানমালা, ২০১৯ অনুসরণ করে পরিস্কার ও নিরাপদ ফুডগ্রেড পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে সেই বিধিমালায় স্পষ্ট করে কোন কোন পাত্র ব্যবহার করা উচিত, তার বর্ণনা নেই। মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কী করতে হবে, সেটিও এমন ভাষায় বর্ণনা করা, যার পাঠোদ্ধার করা সাধারণের পক্ষে কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদুল জাহিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব কাগজ ব্যবহার হয়, তা নোংরা জায়গা থেকে আসে। এতে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে থাকে।’

তাহলে বিক্রেতারা কী ব্যবহার করবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ফ্রেশ (অব্যবহৃত) পেপার দিয়ে ব্যাগ তৈরি করা যায়, বা ফয়েল পেপার ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার বা রি ইউজেবল ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।’

এসব খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে ছোট ম্যালামাইন বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে পাত্রগুলো ব্যবহারের পরেই ধুয়ে ফেলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সাজা কঠোর

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পথ খাবার ব্যবসায়ীসহ অনেক খাদ্য ব্যবসায়ী খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর মাধ্যমে ঝালমুড়ি, ফুচকা, সমুচা, রোল, সিঙ্গারা, পেঁয়াজু, জিলাপি, পরোটা ইত্যাদি পরিবেশন করছেন, যা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিসান মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই আইন অমান্য করলে ৩৩ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন এক বছর, সর্বোচ্চ তিন বছর, ন্যূনতম তিন লাখ টাকা ও অনুর্ধ্ব ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।’

দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে সাজা তিন বছর, জরিমানা ১২ লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে আইনে।

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেই বিজ্ঞপ্তি

আইন প্রয়োগের উদাহরণ নেই

আইনটি করা হয়েছে ২০১৩ সালে। এর প্রয়োগের দৃষ্টান্ত নেই।

নয় বছর পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়াটা সংস্থাটির অবহেলার প্রমাণ কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

নিউজবাংলা কর্তৃপক্ষের তিন জন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কথা বলেননি কেউ।

প্রথমে যোগাযোগ করা হয় সদস্য (খাদ্য ভোগ ও ভোক্তা অধিকার) রোজউল করিমের সঙ্গে। বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই বলতেই তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি সম্পৃক্ত না। এটা অন্যজন দেখে।’

সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে ও আইন ও নীতি শাখার সদস্য শাহনওয়াজ দিলরুবা খানকে ফোন দিলে তারা দুই জনই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
এশিয়ার সেরা স্ট্রিট ফুডের তালিকায় ‘ফুচকা’
চবিতে ‘সেরা খাদক’ নূর
মুড়ি নিয়ে কেউ কিছু জানে না
কালাই রুটির কদর বাড়ছে রাজধানীতে

মন্তব্য

ইভেন্ট
The cry of the newborn came from the shoe box in the mosque

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে।’

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মসজিদের জুতার বাক্স থেকে জীবিত নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শহরের ওসমানী রোডের বায়তুন নূর জামে মসজিদ থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ এসব নিশ্চিত করেছেন।

বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন সোহেল আহমেদ জানান, সোমবার তিনি এশার আযান দিতে মসজিদ যান। বারান্দায় ঢুকতেই শিশুর কান্নার আওয়াজ পান। খুঁজে দেখেন জুতা রাখার বাক্সে নবজাতক কান্না করছে। তিনি তখনই ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজনকে জানালে তারা নবীগঞ্জ থানায় কল করেন।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ গিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

থানার ওসি ডালিম আহমেদ বলেন, ‘নবজাতকটি সুস্থ আছে। আপাতত তাকে পৌর এলাকার আনমনু গ্রামের এক নারীর কাছে রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুধ, তোয়ালে ও তেলসহ নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে। এছাড়াও নবজাতকের আসল পরিচয় জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
যমজ নবজাতকের মৃত্যু: ধাত্রীই চালাতেন সেই ক্লিনিক
‘অপরিণত হওয়ায়’ সেই যমজ নবজাতকের মৃত্যু
‘বিলের জন্য অক্সিজেন খুলে নেয়ায়’ যমজ নবজাতকের মৃত্যু
গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ায় নার্স বেশে নবজাতক চুরি
মাঝনদীতে সন্তান প্রসব, লঞ্চে আজীবন ভাড়া ফ্রি

মন্তব্য

ইভেন্ট
Two prisoners died in Dhaka Medical in 12 hours

১২ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিক্যালে দুই কারাবন্দির মৃত্যু

১২ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিক্যালে দুই কারাবন্দির মৃত্যু
কারারক্ষী মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে কারাগারে ৫০ বছর বয়সী শফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কারাবন্দির মৃত্যু হলো।

সোমবার রাত ৮টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে কারাগারে ৫০ বছর বয়সী শফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় গিয়াস উদ্দিন খান নামে এক কারাবন্দির মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে ৮০ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিনকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কারাগারে অসুস্থ, ঢাকা মেডিক্যালে মৃত্যু

মন্তব্য

ইভেন্ট
Withdrawal of the case footballer Ankhis land is intact

মামলা প্রত্যাহার, ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক

মামলা প্রত্যাহার, ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক মা-বাবার সঙ্গে ফুটবলার আঁখি। ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার জানান, বাদী পক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া ওই জমি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৮ শতাংশ জমির ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে মামলার বাদী হাজী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার জানান, বাদী পক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া ওই জমি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ফুটবলার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন।

‘সম্প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমি তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা করেন। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ফুটবলে অবদান এবং দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা করেন।

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রচারের পর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ নতুন জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ৪ জুন আঁখির পরিবারের কাছে ওই জমির দলিল হস্তান্তর করেন।

এদিকে সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেয়া সেই জমির দখল নিয়ে হাজী মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা করেন। মামলায় আঁখিসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়।

বুধবার রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা আঁখির গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বাবার সঙ্গে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে সিরাজগঞ্জসহ দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ ঘটনার পাঁচদিন পর স্ব-ইচ্ছায় বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মন্তব্য

ইভেন্ট
The victory of the womens football team is a victory against radicalism

‘নারী ফুটবল দলের জয় মৌলবাদ-কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে বিজয়’

‘নারী ফুটবল দলের জয় মৌলবাদ-কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে বিজয়’
গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীদের অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। অথচ একটা মহল নারীদের সব অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নারীর ভূমিকা নিয়ে কত প্রশ্ন তাদের! সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নারী ফুটবল দল। তারা দেখিয়েছে কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়কে অর্জন করতে হয়। আমাদের এই ফুটবল দলে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটেছে। আমরা এই সমন্বয়ের বাংলাদেশ চেয়েছি।’

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলের এই বিজয়কে মৌলবাদের বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে দেখছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের এই বিজয়কে শুধু ফুটবলের একটি প্রতিযোগিতার বিজয় মনে করি না। আমারা এটাকে মনে করি, কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে, নারীর অধিকারের বিরুদ্ধে, সমাজকে পিছিয়ে নেয়ার যে মধ্যযুগীয় চক্রান্ত আজও আমাদের দেশে বিদ্যমান, যারা নারীদের অন্তঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমাদের নারীদের সংগ্রামের বিজয়।’

সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাফ জয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিতে ‘বিজয়ী বাংলার অদম্য নারীদের সংবর্ধনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে দশ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীদের অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। অথচ একটা মহল নারীদের সব অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নারীর ভূমিকা নিয়ে কত প্রশ্ন তাদের! সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নারী ফুটবল দল। তারা দেখিয়েছে কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়কে অর্জন করতে হয়। আমাদের এই ফুটবল দলে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটেছে। আমরা এই সমন্বয়ের বাংলাদেশ চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ আছে। কিন্তু আমরা দেখছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বঞ্চিত। আমরা জানি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থের খুব বেশি জোগান নেই। তারপরও যা আছে সেটুকু যদি নারী পুরুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে বণ্টন করা হয় তাহলে সংগত হবে।

‘আমরা নারী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন পুরুষ ফুটবলারদের সমান করার দাবি জানাই। আমরা দেখতে চাই না, আমাদের নারী ফুটবলাররা লোকাল বাসে চড়ে তাদের থাকার জায়গা নেই। জাতির জন্য যারা সম্মান বয়ে আনে তাদেরকে দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করবে এটি আমাদেরর প্রত্যাশা।’

তার আগে নারী ফুটবল দলের ২৩ সদস্য শহীদ মিনারে পৌঁছালে ‘জয় নারী, জয় তারুণ্য’, ‘জয় মানুষ, জয় বাংলা’ শ্লোগানে তাদেরকে অভ্যার্থনা জানানো হয়। এরপর নারী ফুটবল দলের সদস্যরা শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্ট সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়৷ পরে নারী ফুটবল সদস্য, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

এ সময় আবৃত্তি, নাচ আর গানের তালে তালে তাদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণ করা হয়। এরপর মানপত্র পাঠ শেষে ফুটবলারদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

পরে আসাদুজ্জামান নূর এবং গোলাম কুদ্দুস সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে আইএফআইসির সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকার চেক দেন বাফুফেকে।

আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ার বলেন, ‘তোমরা আজকে যখন বিজয়ী হয়ে দেশে ফিরে এসেছো এখন দেশের সব আলো তোমাদের দিকে। কিন্তু দিন শেষে যখন তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে তখন একটা বাস্তব জীবন তোমার কাছে আসবে। সেই বাস্তব জীবনে অর্থের প্রয়োজন হয়, জীবিকার প্রয়োজন হয়।

‘সেই সময় যদি তোমরা কোন দিন মনে করো যে আইএফআইস ব্যাংক তোমাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিকভাবে উপকার করতে পারে এবং তোমরা যদি আমাদের কাছে আসো তখন আমি কৃতার্থবোধ করব।’

অনুভূতি প্রকাশ করে নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘দিন শেষে যখন প্রাপ্তি পাওয়া যায় তখন অনেক ভালো লাগে। জয়ের পর থেকেই মনে হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়ক্ষণ। আমার মনে হয় বাংলাদেশেরযে সাফল্য তার সবচেয়ে বড় পাওয়া আজকে আমাদের এখানে সংবর্ধনা গ্রহণ।

‘দিনশেষে যখন এমন সফলতা আসে এবং দেশের মানুষ হাসে তখন আমাদেরই ভালো লাগে। জয়ের পর থেকে দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। এভাবে আপনারা পাশে থেকে সাপোর্ট দিয়ে গেলে আমরা আরও ভালো মূহূর্ত আপনাদেরকে উপহার দিতে পারব।’

হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, ‘আমি সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটকে ধন্যবাদ জানাই, আমাদের এমন মুহূর্ত উপহার দেয়ার জন্য। আমাদের মেয়েরা এই এটি মনে রাখবে এবং বাফুফের সহযোগিতায় আগামী দুই-চার বছরে আরও বড় সফলতা এনে দেবে।’

বালাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কমিটি ফর ওইমেন্স এর চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কীরণ বলেন, ‘আমাদের এই পথচলা স্মুথ ছিল না। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি, কিন্তু পিছু পা হইনি, কারণ নারীরাও পারে।’

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা করি এই মেয়েদের জন্য। আমাদের অনেকের কাছে শুনতে হয়, মেয়েরা কেন দশ-বারো হাজার টাকা বেতন পায়। আমরা মেয়েদেরকে কীভাবে ছেলেদের সমান ৫০ হাজার, ১ লাখ টাকা বেতন দেয়া যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। আজকে এই সহযোগিতা আমাদেরকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।’

সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় সকল বাধা অতিক্রম করে তারা আজকে এখানে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তিনি প্রাথমিকে যে খেলা শুরু করেছে সেখান থেকে অনেক মেয়ে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন তোমাদের বিজয় দেখে আমরা চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারিনি। কেননা আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দেখার পর বহুদিন এমন জয়ের জন্য অপেক্ষা করেছি। আমরা সত্যিই গর্বিত। তোমরা অনেক প্রশংসা, সংবর্ধনা পাচ্ছ। এটি যেন অহংকারে পরিণত না হয়, সেটি যেন শক্তিতে, সাধনায় প্রতিফলিত হয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, মামুনর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, রামেন্দ্র মজুমদার প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
রূপনাদের গড়ে তুলছেন, কৃতিত্ব নিতে আগ্রহ নেই
সাফজয়ীদের চুরির ক্ষতিপূরণ দিল বাফুফে
সাফজয়ীদের সংবর্ধনা, কোটি টাকা দেবে সেনাবাহিনী
ট্রফি উঁচিয়ে নিজ শহরে সাবিনা
খেলোয়াড়দের বাড়ির ছাদ তৈরির আহ্বান শিরিনের

মন্তব্য

p
উপরে