ভিডিও কলেই তাদের ঈদ আনন্দ

ভিডিও কলেই তাদের ঈদ আনন্দ

ভিডিও ফোনকলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন নিরাপত্তাকর্মী আজিজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রাফিক পুলিশ টিপু সুলতান বলেন, ‘চাকরি করলে তো দায়িত্ব পালন করতেই হবে। এটাই আমার পেশা। ঈদের ছুটিতে আমার অনেক কলিগ (সহকর্মী) বাড়িতে গিয়েছেন। আমি হয়তো যাইতে পারিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের পেশায় তো একসঙ্গে সবার ছুটি সম্ভব না।’

ট্রাফিক পুলিশ টিপু সুলতান। প্রতিদিনের মতো ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করছেন পুরানা পল্টন মোড়ে। ঈদের দিন সকাল বেলা। সড়কে তখনও যানবাহন বাড়েনি। ফাঁকা সড়ক। এই সুযোগে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ভিডিও কলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন তিনি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভিডিও কলে পরিবারকে ভার্চুয়ালি সঙ্গ দেয়া ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

দুই সন্তানের বাবা টিপু সুলতান বলেন, ‘চাকরি করলে তো দায়িত্ব পালন করতেই হবে। এটাই আমার পেশা। ঈদের ছুটিতে আমার অনেক কলিগ (সহকর্মী) বাড়িতে গিয়েছেন। আমি হয়তো যাইতে পারিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের পেশায় তো একসঙ্গে সকলের ছুটি সম্ভব না।

‘আত্মীয়স্বজন যারা আছেন তাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করছি, ভিডিও কলে সন্তানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কাজের মধ্যেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন আজিজুল ইসলাম। ঈদের নামাজ শেষ করে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শুরু করেছেন পেশাগত দায়িত্ব পালন। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ঈদের দিন হয়তো এভাবে কেটে যাবে তার।

ফরিদপুরে থাকা পরিবার স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ফাঁকেই মোবাইলে ভিডিও কলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন আজিজুল।

ভিডিও কলেই তাদের ঈদ আনন্দ
জরুরি সেবার সদস্য হিসেবে ঈদে ছুটি পাননি অনেক পুলিশ সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা

সাত বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক বলেন, ‘চাকরি জীবনের অনেক ঈদ বাড়ির বাইরে করেছি। এখন আর তেমনটা কষ্ট হয় না। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট লাগত। তবে তারপরও পরিবারের সঙ্গে ঈদের দিন কাটাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু চাকরি করতে হলে তো সব চাহিদা পূরণ হয় না। দায়িত্ব পালনের মাঝেই আনন্দ খুঁজে পাই।’

গণমাধ্যমকর্মী তানজীর মেহেদী বলেন, ‘খারাপ তো লাগেই। চট্টগ্রামে বাড়িতে বাবা-মা আছে, বোনেরা আছে। ওদের সঙ্গে ঈদ করতে পারছি না। কিন্তু আমরা সংবাদ না দিলে মানুষ জানবে কী করে দেশে কী হচ্ছে। সংবাদ সংগ্রহের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে ফিরি।’

পরিচ্ছন্নকর্মী কাশেম আলি বলেন, ‘পরিবারের লগে ঈদ করতে পারছি না যেমন সত্য কথা তেমন সত্য কথা এই ঈদে ইনকামও অইব বেশি। ঈদের দিন কাজ করলে বেশি টাকা পাউন যাইব। এর বাইরে মাংসও পামু। পরে আনন্দ করা যাবে।’

ধর্মীয়সহ বিভিন্ন জাতীয় উৎসব আনন্দে অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও সেবামূলক অনেক পেশার লোকদেরই দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স, গণমাধ্যমকর্মী, ফায়ার সার্ভিসকর্মী, নিরাপত্তাপ্রহরী ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে জেলা প্রশাসকের শ্রদ্ধা

শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে জেলা প্রশাসকের শ্রদ্ধা

শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে জেলা যুব উন্নয়ন অফিসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।

গোপালগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।

শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।

এরপর জেলা যুব উন্নয়ন অফিসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইলিয়াছুর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় আলোচনা সভা হবে।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

আড্ডাহীনতার সময়ে বন্ধুত্ব

আড্ডাহীনতার সময়ে বন্ধুত্ব

টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। ছবি: সংগৃহীত

করোনার কারণে বছর দেড়েক ধরে মেলামেশা, আড্ডা বন্ধ। চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ জীবনে অনলাইনেই চলছে বেশির ভাগ যোগাযোগ। এ রকম দিনে বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোয় তৈরি হচ্ছে নতুন বিন্যাস।

সাইফুল আলমের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হয়েছে বেশি দিন হয়নি, চার বছর। মাসে তিন থেকে চারবার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া হতো। চাকরির কারণে মাঝে মাঝে সময় মেলাতে পারতেন না। তবু ওই দুই-তিন দিন তার কাছে বাকি দিনের রসদ ছিল।

গত বছর করোনা আসার পর থেকে সাইফুলের জীবনের অনেক কিছুই বদলে গেছে। বন্ধুদের সঙ্গে মুক্ত আড্ডা একেবারে বন্ধ।

করোনার প্রভাবে সবাই জীবনের ছন্দ ভিন্ন তালে মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে আড্ডা দেয়া না হলেও অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে ওঠেন সাইফুল। মেসেঞ্জারে একটা গ্রুপ খুলে নিয়েছেন। এরপর সেখানে যোগ করেন আরও বন্ধুদের। এখন মাঝে মাঝে ভিডিও কলে সবার সঙ্গে কথা হয়।

তবে মুখোমুখি আড্ডা বা সত্যিকার ঘোরাঘুরির যে মজা সেটি ভীষণভাবে অনুভব করেন সাইফুল।

গত বছর করোনার শুরুতে হুট করে বন্ধ হয়ে যায় সবকিছু। দফায় দফায় লকডাউন আর বিধিনিষেধের বেড়াজালে আটকে পড়ে গোটা দেশ। অনেক কিছু স্বাভাবিক হলেও স্বাভাবিক হয়নি মানুষের উন্মুক্ত চলাফেরা। হারিয়ে গেছে অনেক কিছু। বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গত দেড় বছরের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মানুষের মনোজগতে। সামাজিক যোগাযোগনির্ভর হয়েছে সম্পর্কগুলো। আগের মতো আড্ডা আর দেখা হওয়ার বাইরেই গড়ে উঠেছে সম্পর্কগুলো।

বন্ধুত্বের ধরন যেমনই হোক না কেন, প্রতিবছর পালন হচ্ছে বন্ধু দিবস। ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাইকে অফিশিয়াল ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ ডে ঘোষণা করা হয়। তবে ভারত, বাংলাদেশসহ কিছু দেশ আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করে।

ফ্রেন্ডশিপ ডে ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘জয়েস হল’ ১৯১৯ সালে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে সবাইকে কার্ড পাঠাতেন। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন।

আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাই অফিশিয়াল ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ ডে ঘোষিত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বন্ধু তৈরির যে সময়, সেটি হারিয়ে ফেলতে বসেছে একটি প্রজন্ম। স্কুলে আলাদা জায়গায় আড্ডা, বিকেলে খেলার মাঠে অথবা একটু বেশি বয়সে কোনো কফিশপ বা চায়ের দোকানের যে গল্পগুলো তৈরি হয়, তা এখন আর নেই। আড্ডা ছাড়াই চলছে বন্ধুত্ব।

তবে আড্ডা না হলেও এখন বন্ধু হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যথেষ্ট। আগের মতো দেখা করা বা গল্প করা এখন সীমাবদ্ধ হয়েছে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে। যেটি নিয়ে এই প্রজন্মের আফসোস থাকলেও বিকল্প কিছু পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম অফিসের কাজেই ব্যস্ত থাকেন। তবে শুক্রবার ও শনিবার ছুটি থাকার কারণে সময় পেলেই ছুটে যেতেন তার ক্যাম্পাসে।

আড্ডা দেয়ার সেই সময়গুলো খুব মিস করেন জানিয়ে তৌহিদুল বলেন, ‘রাতে মাঝে মাঝেই এখন অনলাইনে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলি। তবে চায়ের দোকানে বসে গল্প করা, একটু হাঁটাহাঁটি করে ছবি তোলা এইগুলো আর হয় না।’

তৌহিদুলের মতো একই রকম অনুভূতি বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা শেখ মো. ফেরদৌস আরাফাতের।

তারা দুজনই সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরিজীবনে যোগ দিয়েছেন।

আরাফাত বলেন, ‘এবার ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি। ঢাকায় খুব নিঃসঙ্গ সময় কাটিয়েছি। অনলাইনে আপনি কতটুকুই বা সময় কাটাতে পারেন। খুব ইচ্ছা হয় ছুটে বেরিয়ে পড়ি। বন্ধুদের সাথে খুনসুটি করি। করোনা একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সমাজে। এখন সবকিছুই যেন স্ক্রিনে বন্দি হয়ে আছে।’

আরাফাত আর তৌহিদুল জীবনের একটা সময় বন্ধুদের নিয়ে সময় পার করলেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এই সময়টা যেন থমকে আছে। শুরুতে অনলাইনে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ হলেও এখন আর সেটিও হচ্ছে না। সারা দিন অনলাইনে ক্লাস ও কোচিংয়ের কারণে সেই সময় আর হয়ে ওঠে না। স্কুল বা কলেজে আড্ডা দেয়ার জায়গাগুলো স্মৃতি থেকে যেন মুছে যাচ্ছে সবার।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রাচীর কাছেও তাই বন্ধু এখন খুব অপরিচিত একটা বিষয়। সারা দিন অনলাইন ক্লাস আর কোচিংয়ের কারণে কারো সঙ্গে অনলাইনেও কথা হয় না প্রাচীর। চার দেয়ালে তার বন্ধু এখন বোন ও ভাই।

বিভিন্ন সময়ে গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক হয় দুই থেকে তিনজনের সঙ্গে। ভালো বন্ধুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচজন থাকে। একজন মানুষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারে ২০ন জনের সঙ্গে। তবে একজন মানুষ একবারে ১৫০ জনের বেশি মানুষের কথা মনে রাখতে পারেন না।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক চিকিৎসক হেলাল উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনকার অনলাইনভিত্তিক সম্পর্কের ভালো ও মন্দ দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে।

আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক কোনো কোনো ক্ষেত্রে হ্রাস পাচ্ছে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের নতুন করে পরিচিত করতে পারছি। আগে অনেকেই অনলাইনে কথা বলতে পারতেন না। তারা এখন সেই জায়গাটা তৈরি করতে পারছেন।’

এই অধ্যাপক অনলাইন সামাজিকায়নের বিষয়টিকে ভালো বলেই অভিহিত করেছেন। এখন যে জীবনধারা, সেখানে অনলাইনভিত্তিক জীবনধারা অনেক কিছুই সহজ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

অলিম্পিকসের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সানা

অলিম্পিকসের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সানা

রিকার্ভ ইভেন্টে রোমান সানা। ফাইল ছবি

ব্রিটেনের প্রতিযোগী টম হলকে ৭-৩ সেটে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের আর্চার সানা।

ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টের প্রথম বা এলিমিনেশন রাউন্ড জিতে নিয়েছেন রোমান সানা।

ব্রিটেনের প্রতিযোগী টম হলকে ৭-৩ সেটে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের এই আর্চার।

প্রথম সেট ২৮-২৮ পয়েন্টে সমতায় শেষ হওয়ার পর হলের বিপক্ষে ছন্দে ফেরেন সানা।

ব্যাক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়ে সানার চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে ছিলেন হল। র‍্যাঙ্কিং রাউন্ডে সানা হন ২৫তম আর হলের অবস্থান ছিল ৮৭।

পরের দুই সেট ২৭-২৫ ও ২৭-২৬ পয়েন্টে জিতে লিড নিয়ে নেন সানা। চতুর্থ সেটে ২৭-২৫ পয়েন্টে জিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন হল।

তবে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে পঞ্চম ও শেষ সেট ২৯-২৭ পয়েন্টে জিতে ৭-৩ সেটে ম্যাচ নিজের করে নেন সানা।

আজ ১১টা ১০ মিনিটে নিজের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সানার নামার কথা থাকলেও, রাউন্ড শুরু হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাসের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশের সেরা আর্চার। ডুয়েনাসের র‍্যাঙ্কিং ১৬।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

শাটডাউনে ব্যাঙের বিয়ে

শাটডাউনে ব্যাঙের বিয়ে

বিয়েতে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় নিরামিষ খিচুড়ি দিয়ে। ফুল বিনিময় শেষ নবদম্পতিকে বাক্সে নিয়ে নেচে-গেয়ে গ্রাম ঘোরেন অতিথিরা। পুরোহিত ও আয়োজকরা জানান, পুরো আয়োজনই চলে শাস্ত্রমতে।

রাত প্রায় ৯টা। মন্দিরে জড়ো ৬০ থেকে ৭০ জন অতিথি। উপলক্ষ বিয়ে।

কিছুক্ষণ পরই বাক্সে চড়ে হাজির বর-কনে। দুজনের গায়েই মোড়ানো মেরুন ও বেগুনি রঙের কাপড়। ক্ষুদ্রাকার বর-কনেকে দেখতে অতিথিরা রীতিমতো উঁকিঝুঁকি মারছেন।

অতিথি ছাড়াও মজার এই বিয়ে দেখতে শাটডাউনের মধ্যেই মন্দিরে জড়ো হন উৎসুক অসংখ্য গ্রামবাসী। এ তো কোনো সাধারণ বিয়ে নয়, একজোড়া ব্যাঙের বিয়ে।

বর্ষার আকাশ মেঘে ঢাকতে এই বিয়ের আয়োজন রোববার রাতে, দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী এলাকার হিরা বাগান মন্দিরে। এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্যাঙযুগলের বিয়ে দিয়েছেন।

আয়োজকেরা জানালেন, বৃষ্টির মৌসুমেও দিনাজপুরে চলছে অনাবৃষ্টি। আমন রোপনের এই সময় বৃষ্টির অভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

সনাতম ধর্মের এই অনুসারীদের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে অনাবৃষ্টি ঘুচবে।

বর ব্যাঙের পক্ষে ছিলেন চন্দনা রাণী মহন্ত ও কনে ব্যাঙপক্ষে ছিলেন চন্দনা রাণী সরকার। আর বিয়ে দেয়ার আচার পালনের নেতৃত্ব দিয়েছেন পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী।

শাটডাউনে ব্যাঙের বিয়ে

নিউজবাংলাকে তপন বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এমন আয়োজন। এটা আমাদের লোকাচার। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে করে বৃষ্টি হয় এবং করোনার এই গ্রাস থেকে সবাই মুক্ত হই।’

বিয়েতে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় নিরামিষ খিচুড়ি দিয়ে। ফুল বিনিময় শেষ নবদম্পতিকে বাক্সে নিয়ে নেচে-গেয়ে ঘোরা হয় পুরো গ্রাম।

এই বিয়ে খরচাপাতি দিয়েছেন অতিথিরাই। তারা নিউজবাংলাকে জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন আছে এলাকায়। আর সেই লোকাচার মেনেই সবাই মিলে টাকা তুলে এই বিয়ের আয়োজন।

শাটডাউনের মধ্যে এমন সমাগম ঠিক হলো কিনা, এমন প্রশ্নে সবাই বললেন, এই মুহূর্তে বৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি।

ব্যাঙের বিয়েতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ড. মাসুদুল হক।

তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির কাজ করতে গিয়ে বইপত্রে এমন আয়োজনের বিষয়ে আমরা জেনেছি।ঐতিহ্যবাহী যে জনমণ্ডল রয়েছে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও আদিবাসী সমাজ, তারা আবহাওয়া-প্রতিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে থাকে।’

শাটডাউনে ব্যাঙের বিয়ে

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর রহমান জানান, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৫৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আর এবার ২৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

‘ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের কাছে বই পৌঁছাবে’

‘ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের কাছে বই পৌঁছাবে’

নেত্রকোণায় মোহনগঞ্জের আদর্শনগরে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোতেও প্রতিনিয়ত বই প্রকাশ, বিপণন ও সংরক্ষণ হচ্ছে। তাই ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে লাইব্রেরিমুখী হতে হবে। ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের কাছে বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও লাইব্রেরিমুখী হওয়া দরকার।’

‘ইন্টারনেটের অবাধ বিস্তার আছে বলে লাইব্রেরির আবেদন শেষ হয়ে যাবে না। তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে আরও বেশি কাজ করছে। আমি নিজেও ইন্টারেনেটের সুবিধাভোগী।’ কথাগুলো বলছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।

নেত্রকোণায় মোহনগঞ্জের আদর্শনগরে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ‘আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের’ ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোববার যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আরও বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোতেও প্রতিনিয়ত বই প্রকাশ, বিপণন ও সংরক্ষণ হচ্ছে। তাই ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে লাইব্রেরিমুখী হতে হবে। ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের কাছে বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও লাইব্রেরিমুখী হওয়া দরকার।’

মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান বলেন, ‘বাবা আখলাকুল হোসাইন আহমেদের স্বপ্ন ছিল এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি তা করে যেতে পারেননি। তাই আমি এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মোহনগঞ্জে এ মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেছি।’

শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ জীবন কৃষ্ণ সরকার জানান, লাইব্রেরিটিতে পাঁচ হাজার বই রাখার ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক ১ হাজার ২০০ বই আছে।

একজন লাইব্রেরিয়ান সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইব্রেরির পুরো কার্যক্রম যেন পরিচালনা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিষয়ভিত্তিক কর্নার থেকে বই সংগ্রহ করে সুসজ্জিত পরিবেশে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব থাকার সময় এলাকাবাসীকে নিয়ে হাওরাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে ডিঙ্গাপোতা হাওরপাড়ে এই মহাবিদ্যালয়টি স্থাপন করেন সাজ্জাদুল হাসান। বর্তমানে আবাসিক শিক্ষালয়টিতে ৬১৭ শিক্ষার্থী পড়ছে।

মহাবিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফর হাসান, কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুশফিকুর রহমান।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

ঈদ আনন্দে মুখর হাতিরঝিল

ঈদ আনন্দে মুখর হাতিরঝিল

ঈদের দিন বিকেলে হাতিরঝিল এলাকায় ছিল রাজধানীবাসীর ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীতে কোরবানির ব্যস্ততা শেষে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে অনেকে হাতিরঝিলে আসলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই ছিলেন উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব মানেননি কেউ। মাস্ক থাকলেও তা যেন ছিল অনেকটা লোক দেখানো।

করোনা মহামারিতে এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই রঙ হারিয়েছে। শাটডাউনের খড়গে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও ভাটার টান।

এমন অবস্থায় রাজধানীতে ঈদুল আজহার প্রথমার্ধ কাটে ব্যস্ততায়। কোরবানির পশু জবাই, মাংস কাটা, বিলি করা এবং রান্নায় দুপুর গড়িয়ে যায় নগরবাসীর।

কর্মব্যস্ত এমন দিনের শেষে মানুষ খোঁজে একটু স্বস্তি, নিতে চায় প্রাণভরে নিঃশ্বাস। তাই সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই হাতিরঝিলে ঈদ আনন্দ করতে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।

পুরান ঢাকার ওয়ারি থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছিলেন দুই বন্ধু পাভেল ও রিয়াজ। কোরবানির মাংস কাটাকাটির পর বিকেলে খোলা আকাশের নিচে নিজেদের মতো দিচ্ছিলেন আড্ডা।

রিয়াজ বলেন, ‘সারা দিন তো ঘরেই ছিলাম। তাই একটু বের হইছি। বাড়ি থেকে বের হলেই হাতিরঝিল। বাইক নিয়া একটু মজা কইরা চালান যায়।

‘তবে বেশি দূরে যাওয়া হয় না; লকডাউন তো। তাই একটু এইখানে এসে আড্ডা দিতাছি।’

মা-বাবার সঙ্গে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী সাদমান। তিনি বলেন, ‘হাতিরঝিল হচ্ছে ঢাকা শহরের মধ্যে খুব সুন্দর জায়গা। আর আমার বাসা যেহেতু বাড্ডা, কাছাকাছি হওয়ায় প্রায়ই আমরা সবাই এইখানে ঘুরতে আসি।’

বিকেল হতেই মানুষের উপস্থিতি যে বাড়বে এটা জানতেন বেলুন বিক্রেতা রুবেল। তাই শিশুদের জন্য রঙিন বেলুন নিয়ে হাতিরঝিলে আসেন তিনি। লকডাউনের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন রুবেলের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাই ঈদে বিক্রিটা একটু বাড়িয়ে নিতে চান তিনি।

রুবেল বলেন, ‘মামা আমাগো দেহনের কেউ নাই। আল্লায় দ্যাহে না। হারা দিন চাইর শ টেকা বেচছি। আজইকা কোরবানির ঈদ, হের লাইগা বেচাকেনা নাই। ঈদেরতে পরের দিন বেচাকিনা ভালো হইব।’

কোরবানির ব্যস্ততা শেষে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে অনেকে এখানে আসলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই ছিলেন উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব মানেননি কেউ। মাস্ক থাকলেও তা যেন ছিল অনেকটা লোক দেখানো।

শুধু হাতিরঝিল নয়, ঈদ আনন্দে বিকেলে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর অন্য উদ্যানগুলোও। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু করে ঢাকার উত্তরা, মিরপুর, বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা, বারিধারাতে বিকেলের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে জনসমাগম।

আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন

এখনও ঢাকা ছাড়ার ধুম, আসছে কম

এখনও ঢাকা ছাড়ার ধুম, আসছে কম

গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

দিনাজপুরগামী যাত্রী ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ইজিবাইক চালিয়ে খাই। দুদিন পর পর লকডাউন দেয় সরকার। আমরা বাঁচব কেমনে? গরীব মানুষ। কেউ সাহায্যও করে না। ঢাকায় না খেয়ে থাকার থেকে বাড়ি গিয়ে কিছু একটা করে বাঁচতে পারব।’

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশ আবার দুই সপ্তাহের লকডাউনে যাচ্ছে শুক্রবার। সেদিক থেকে রাজধানী থেকে যারা বাড়ি গিয়ে ঈদ করেছেন তাদের কর্মস্থল বা গন্তব্যে ফেরার বাড়তি তাগিদ থাকলেও বাস টার্মিনালগুলো ও সদরঘাটে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ঢাকায় ফেরার যাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম। বরং এখনও চলছে ঢাকা ছাড়ার ধুম।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গাবতলী ব্রিজের গোড়ায় পর্বত সিনেমা হলের বিপরীত পাশে মানুষের ঢল দেখা যায়। তাদের সবাই নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন। গাবতলী বাস টার্মিনালে এসব যাত্রীর বেশির ভাগই উত্তর বঙ্গগামী।

নিম্ন আয়ের এসব মানুষ বলছেন, আবার লকডাউন শুরু হচ্ছে। তাই উপার্জনের উপায় না দেখে বিপদে পড়ার শঙ্কা থেকে ঢাকা ছেড়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন তারা।

ইদ্রিস আলী। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থাকতেন পরিবার নিয়ে। ইজিবাইক চালিয়ে উপার্জন করতেন। তবে লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে হবে বিধায় তিনি গ্রামে চলে যাচ্ছেন।

নিউজবাংলাকে ইদ্রিস বলেন, ‘ইজিবাইক চালিয়ে খাই। দুই দিন পর পর লকডাউন দেয় সরকার। আমরা বাঁচব কেমনে? গরীব মানুষ। কেউ সাহায্যও করে না। ঢাকায় না খেয়ে থাকার থেকে বাড়ি গিয়ে কিছু একটা করে বাঁচতে পারব।’

ইজিবাইক কী করেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইজিবাইক খুলে পার্ট পার্ট করে নিয়ে যাচ্ছি। বাড়ি গিয়ে ইজিবাইক চালাব। ঢাকা শহরে আর আসব না। করোনা আমাদের একদম মেরে ফেলল।’

এখনও ঢাকা ছাড়ার ধুম, আসছে কম

এসব যাত্রীর সঙ্গে কোরবানির পশু বিক্রি করতে আসা অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। ঈদ উপলক্ষে যারা মাংস কাটাকুটির কাজ করতে এসেছিলেন তারাও ফিরছেন।

বগুড়ার যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গরু নিয়ে আসছিলাম ঢাকায়। গরু বিক্রি করে ঈদের দিন কসাইয়ে কাজ করেছি। এখন বাড়ি যাচ্ছি। ভাবছিলাম দুইদিন আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াব। লকডাউনের জন্য এখন বাড়ি যেতে পারলে বাঁচি।’

যাত্রী পরিবহনে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই সিটে একজন যাত্রী পরিবহনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বাস আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। অনেকের মুখে নেই মাস্কও। করোনাভাইরাসের বিষয়টিই মাথায় নেই তাদের।

ঈদের বিকেল থেকে গাবতলী টার্মিনালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মানুষের চাপ আবার বেড়েছে বলে জানালেন সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ বসির উদ্দিন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন বিকেল থেকেই মানুষের ঢাকা ছাড়া আবার বেড়েছে। এদের বেশির ভাগ উত্তরবঙ্গের মানুষ। সাধারণত দিনমজুর ও নিন্ম আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব মানুষের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, লকডাউনে আটকা পড়ার ভয়ে তারা বাড়ি যাচ্ছেন।’

ঢাকায় মানুষের প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ভালই ঢুকছে। তবে গতকাল বিকেল থেকে আজকে সকাল পর্যন্ত মানুষের ঢাকা ছাড়ার সংখ্যা বেশি।’

একই চিত্র দেখা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। সকাল ১০টা পর্যন্ত দেখা যায়, সেসব লঞ্চ ঢাকায় ভিড়ছে সেগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা খুব কম। আর ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে যাত্রীর ঠেলাঠেলি।

এখনও ঢাকা ছাড়ার ধুম, আসছে কম

পটুয়াখালীগামী আব্দুস সুবহান বলেন, ‘ভাবছিলাম শাটডাউন পেছাবে। কয়েকদিন কাজ করে বাড়ি ফিরব। কিন্তু শুনলাম শুক্রবার থেকেই শাটডাউন দেবে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ঢাকায় আর ফেরার চিন্তা নেই। এই অবস্থা থাকলে না খেয়ে মরব।’

গত ১ জুলাই থেকে টানা দুই সপ্তাহ শাটডাউনের পর কোরবানি ঈদ ও পশুর হাট আর ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা বিবেচনায় ১৫ জুলাই থেকে তা শিথিল করে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে তখনই জানিয়ে দেয়া হয়, ২৩ তারিখ ভোর থেকে আবার ১৪ দিনের শাটডাউন দেয়া হবে।

ফলে যারা বাড়ি গিয়ে ঈদ আনন্দ উদযাপন করছেন তাদের কর্মস্থল বা নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে আসতে হবে শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে।

.
আরও পড়ুন:
‘উচ্ছ্বাস যেন উদাসীন করে না তোলে’
আইজিপি নামাজ আদায় করলেন রাজারবাগে
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’

শেয়ার করুন