কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ

কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ

কোলাকুলি বারণ থাকায় বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ শেষে ফিস্ট বাম করছেন দুই ভাই আতিকুল ইসলাম-রাইয়ান খান। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্রতিবছর দুই ঈদে আমরা নামাজ পড়ে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করি, মুসাফা করি। আত্মীয়স্বজনের বাসায় যাই। আর এখন কোনো রকম নামাজ পড়ে দ্রুত বাসায় চলে যেতে হয়।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত তিন ঈদের মতো সামাজিক দূরত্ব মেনে এবারও উদযাপিত হয়েছে ঈদুল আজাহার নামাজ। বারণ থাকায় নামাজ আদায় শেষে ছিল না কোলাকুলি বা হাত মেলানো। সাদামাটা এক উদযাপন।

বুধবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাতেই দেখা গেছে, মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে।

কোলাকুলি না করতে, হাত না মেলাতে এবং মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে মসজিদের মাইকে বারবার সতর্ক করে দেয়া হচ্ছিল।

নামাজ শেষ করেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন মুসল্লিরা। চিরচেনা সেই কোলাকুলি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে একে অপরকে আবদ্ধ করার দৃশ্য খুব একটা দেখা যায়নি।

সকাল ৭টা থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত শুরু হয়। এরপর এক ঘণ্টা পর পর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় আরও চারটি জামাত।

উত্তর গোড়ান এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে এসেছে ১০ বছর বয়সী আতিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিল তার দুই বছরের ছোট চাচাতো ভাই রাইয়ান খান। নামাজ শেষে দুই ভাই মুষ্টিবদ্ধ হাতের সঙ্গে হাত মিলিয়েই কোলাকুলির আনন্দ উপভোগ করে।

পুরান ঢাকার বাসিন্দ হাজী আব্দুল আলীম বলেন, ‘নামাজ শেষে কোলাকুলি না করে এমন করে বাসায় আর কত বছর ফিরতে হবে কে জানে। গত বছর করোনার পর থেকে মনখুলে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করতে পারছি না। এই যেন দম বন্ধ অবস্থা। আল্লাহ আমাদের যাতে মুক্ত করে দেয় নামাজ পড়ে এই দোয়াই করেছি।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর দুই ঈদে আমরা নামাজ পড়ে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করি, মুসাফা করি। আত্মীয় স্বজনের বাসায় যাই। আর এখন কোনো রকম নামাজ পড়ে দ্রুত বাসায় চলে যেতে হয়।’

মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। মাস্ক পরে সিরিয়াল ধরে নামাজের জন্য বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হয়েছে মুসল্লিদের।

কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ

গত বছরের মার্চ মাস থেকে মহামারি করোনায় পাল্টে গেছে ঈদের পর কোলাকুলি ও হাত মিলানোর ধর্মীয় রীতি। পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। করোনার আতঙ্ক নিয়েই চলছে জীবন।

করোনায় যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের বাড়িতে আনন্দের পরিবর্তে বইছে কষ্টের ধারা। প্রতিনিয়ত করোনা শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে ঈদ এলেও আনন্দ নেই অনেকের।

বন্ধ রয়েছে সব ধরনের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদ আনন্দ যেন ঘরেই বন্দি।

কোরানামুক্তি চেয়ে দেশের সব ঈদ জামাতেই বিশেষ দোয়া করা হয়।

কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ

বায়তুল মোকররমে সকাল ৭টায় প্রথম জামাত শেষে ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ, করোনা মহামরি থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষকে হেফাজত করুন। যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা দান করুন।’

এক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় জামাত শেষে ইমাম মাওলানা মুহিবুল্লাহহিল বাকী বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিন। করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন। আমাদের মুক্তি দিন। আমাদের দেশকে হেফাজত করুন।’

কোলাকুলিহীন আরও এক ঈদ

সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত শেষে ঈমাম মাওলানা মোহাম্মদ এহসানুল হক জিলানি মোনাজাতে বলেন, ‘করোনার মতো কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দিন। বিশ্ববাসীকে করোনামুক্ত করুন।’

এর এক ঘণ্টা পর চতুর্থ জামাত শেষে মোনাজাতে ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কাশেম বলেন, ‘প্রাণঘাতী এই মহামারি থেকে মুক্তি পাক গোটা বিশ্ব। আমরা যেন আগের মতো সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারি। ঈদ শেষে একসঙ্গে কোলাকুলি ও করমর্দন করতে পারি। আল্লাহ এই মহামারিতে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সুস্থ করে দিন।’

আরও পড়ুন:
‘করোনা মহামারি উঠিয়ে নিন’
ঈদের দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার যানজট
করোনা জয়ের প্রত্যয় তথ্যমন্ত্রীর
ভারত-পাকিস্তানেও ঈদ আজ
করোনার আঁধার কেটে ঝলমলে হবে বিশ্ব

শেয়ার করুন

মন্তব্য