ঈদ উদযাপন কয়েকশ গ্রামে

ঈদ উদযাপন কয়েকশ গ্রামে

মাদারীপুরের ২০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছে। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালের ছয়টি উপজেলার কিছু গ্রামে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। এসব গ্রামে বসবাসরত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ ও আহমাদিয়া জামাত অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে কোরবানির ঈদ হবে বুধবার। কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একদিন আগেই মঙ্গলবার দেশের বেশকিছু জেলার কয়েকশ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।

নারায়ণগঞ্জ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঈদুল আজহার নামাজ ও পশু কোরবানিসহ ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার লামাপাড়া এলাকায় হযরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করে করেন জাহাগিরিয়া তরিকার অনুসারীরা।

ঢাকার কেরাণীগঞ্জ, ডেমরা, সাভার, গাজীপুরের টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন।

বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে দূর থেকে মুসল্লিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছতে না পারায় ঈদের জামাত দেরিতে শুরু হয়।

এই ঈদ জামাতে ইমাম মুফতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জানান, জাহাগিরিয়া তরিকার অনুসারীরা প্রতি বছর সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে এই মাদ্রাসা মসজিদে দুই ঈদের নামাজ উদযাপন করে থাকেন।

বরিশাল

জেলার ছয়টি উপজেলার কিছু গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।

এসব গ্রামে বসবাসরত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ ও আহমাদিয়া জামাত অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে।

বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, সদর উপজেলা ও মহানগরীর এই অনুসারীরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদিন আগে কোরবানির ঈদ উদযাপন করছে।

বরিশালের ৬ উপজেলার ১০ হাজারের অধিক মানুষ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঈদের জামাতে অংশ নেয়।

নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, সিকদার বাড়ি, হরিনাফুলিয়াসহ সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

তাজকাঠি এলাকার হাজী বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি আমীর হোসেন মিঠু জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চাঁদপুর

চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।

হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদগাঁ মাঠে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ উদযাপন কয়েকশ গ্রামে

জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তিসহ জেলার পাঁচ উপজেলার ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি পালিত হয়ে আসছে গ্রামগুলোতে। সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইছহাক এই রীতি প্রচলন করেন।

সাদ্রা দরবারের পীর শাইখ মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘সৌদিতে সোমবার হজ হয়েছে। তাই আজ আমরা ঈদ করছি। আমাদের এখানে সব মসজিদে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা সংক্রমনরোধে স্বাস্থবিধি মেনে ঈদের নামাজ পড়া হয়েছে।’

মাদারীপুর

জেলার ২০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কোরবানির ঈদ উদযাপন করছে।

তবে করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার এলাকার তিনটি বড় জামাতসহ মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একাধিক সুরেশ্বর ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলাদেশে সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদানরা সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে।

ঈদের বড় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তাল্লুক বাড়ি জামে মসজিদে। সেখানে ইমামতি করেন এলাকার মুরব্বি আবুল হাসেম মাস্টার।

ঈদ উদযাপন কয়েকশ গ্রামে

সুরেশ্বর পীরের ভক্ত তাল্লুক গ্রামের আলী আহম্মদ ফকির বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের সবকিছুই সৌদি আরবের মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাই সুরেশ্বরী অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন ও ঈদ পালন করেন। সে হিসেবে ঈদ উদযাপন করছি।’

মৌলভীবাজার

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল-আজহার নামায পড়েছেন জেলার শতাধিক পরিবারের মুসল্লি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।

শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসায় সকাল ৭টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাযে ইমামতি করেন আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি)।

এ ছাড়া, জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গলেও পৃথক পৃথক ঈদের নামায হয়েছে।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ৭টি স্থানে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সদর উপজেলার ভাড়ুখালী বাজারে সকাল ৮টায় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্বের সকল মুসলমাদের সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত। আমরাও সেটা করছি।’

এ ছাড়া, সদর উপজেলার বাউখোলা, তালার ইসলামকাটি ও শ্যামনগরের কাশিমারীসহ ৭ জায়গায় কোরবানি ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রংপুর

রংপুরে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টার দিকে রংপুর মডেল মসজিদে। একই মসজিদে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদুল হাসান মৃধা।

তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টায় কোর্ট মসজিদে, সকাল ৮টায় মাওলানা কেরামতিয়া মসজিদে ও সকাল ৯টায় একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর জেলার প্রায় ছয় হাজার মসজিদে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সুবিধামতো সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হবে।

ঈদ উদযাপন কয়েকশ গ্রামে

এছাড়াও জেলার ৫ হাজার ৯০টি মসজিদে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের নামাজের সময় সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মসজিদগুলো জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা, মসজিদের সামনে মাস্ক পরিধান, কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, মসজিদের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখার জন্য স্থানীয় মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ জানানো হয়।

রংপুর নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে নগরীতে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

লক্ষ্মীপুর

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে মঙ্গলবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ও নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ঈদগাহ ময়দানসহ বিভিন্নস্থানে ছোট বড় ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা রুহুল আমিন।

এসব গ্রামের প্রায় শত শত মুসল্লি ঈদগাঁ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে পশু কোরবানি দেন তারা।

মাওলানা ইসহাক (রাঃ) অনুসারীরা জানান, এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। এসব গ্রামের মুসল্লি গত ৪০ বছর যাবত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ পালনে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
ফেরিঘাটে জনস্রোত, পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো যান
কোরবানিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশ
দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল
একদিকে গাড়ির সারি, আরেক দিকে ফাঁকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য