দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

প্রতীকী ছবি।

বিবিএসের জরিপ বলছে, দেশে বিধবার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন। এ হার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১০ সাল থেকে জাতিসংঘে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। বুধবার দিবসটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি নেই। 

দেশে গত চার বছরে বিধবার হার বেড়েছে ০.৮ ভাগ। এর ফলে বর্তমানে মোট নারী জনগোষ্ঠীর ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ, ২০১৯ বলছে, বয়সী নারীরাই বিধবা হচ্ছেন বেশি।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুসারে, দেশে নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৭ লাখ। বিবিএস-এর ‘দি রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৯’ শীর্ষক এই জরিপ বলছে, এই নারীদের ৬৩ দশমিক ৮ ভাগ বিবাহিত। অর্থাৎ দেশে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার নারী বিবাহিত। যাদের ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। যার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন।

এই জরিপ আরও বলছে, দেশে এ পরিমাণ বিধবা নারীর মধ্যে মাত্র ০.৪ ভাগের বয়স হচ্ছে ২০-২৪ বছরের মধ্যে। বিধবা নারীর ০.৭ ভাগের বয়স ২৫-২৯ বছর বয়সী। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সী বিধবার সংখ্যা মোট বিধবার ১ দশমিক ৩ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী বিধবা ৩ দশমিক ১ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী বিধবা নারী হার ৬ ভাগ।

আর ১০ দশমিক ৪ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৪৫-৪৯ এর মধ্যে। ১৯.১ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৫০-৪৫ বছরের মধ্যে। ২৭ দশমিক ৮ ভাগ বিধবা নারী ৫৫-৫৯ বছর বয়সী। ৬০-৬৪ বছর বয়সী বিধবা নারী রয়েছেন, যাদের সংখ্যা মোট বিধবার ৪২ দশমিক ৪ ভাগ এবং ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ নারী বিধবা রয়েছেন যাদের বয়স ৬৫ তদুর্ধ্ব। অর্থাৎ নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধবা হওয়ার হারও বাড়ছে।

তবে দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদও ঘটছে। ২০১৯ সালের জরিপেও তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর সংখ্যা মোট বিবাহিত নারীর ১ দশমিক ৩ ভাগ। এ ক্ষেত্রে বয়সভেদে এই বিচ্ছেদের পরিমাণও কমবেশি হচ্ছে। জরিপ বলছে, ২০-২৪ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার সংখ্যা ১ দশমিক ৪ ভাগ। এটা ২৫-২৯ বয়সীদের ক্ষেত্র ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩০-৩৪ বয়সীদের ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী ১ দশমিক ৮ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৯ ভাগ, ৪৫-৪৯ বয়সী ২ দশমিক ২ ভাগ, ৫০-৫৪ বছর বয়সী ২ দশমিক ৩ ভাগ, ৫৫-৫৯ বয়সী ২ দশমিক ০ ভাগ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৭ ভাগ এবং ৬৫ তদুর্ধ্বো বয়সীদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ ভাগ।

একাধিক জরিপের প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের জরিপে যেখানে এই হার ছিল মোট নারীর ৮ দশমিক ৭ ভাগ, সেখানে ২০১৯ এ তা ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দেশে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর অবস্থান ২০১৬ সালের মতো ২০১৯ সালের জরিপেও ১ দশমিক ৩ ভাগ অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৩ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। দেশে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন হয় না। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেয়া হয়নি। ফলে দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক কোনো কর্মসূচি নেই।

আবার কোনো সংস্থা বা সংগঠন থেকে দিবসটি পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপনও করা হয়নি। এমনকি বেসরকারিভাবেও দেশে দিবসটি পালনের তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি দেখা যায় না।

তবে সারা বিশ্বের বিধবাদের সম্মান-মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষা ও নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশন’-এর প্রস্তাবনার আলোকে জাতিসংঘে পাস হওয়া সাপেক্ষে ২০১০ সাল থেকে এই দিবসটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ বিধবা নারী রয়েছেন। এর সঙ্গে করোনা মহামারির কারণে আনুমানিক আরও ১ লাখের বেশি নারীকে বিধবা হতে হয়েছে। জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এসব বিধবার প্রায় সবারই অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এই দিবসটিকে সামনে রেখে প্রত্যেক দেশের সরকারকে করোনা পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রত্যাশী বিধবাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে বিধবা নারীদের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। জাতিসংঘে এ দিবস গৃহিত হওয়ারও দশ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা চালু করেছে।

শুরুতে ৩ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলার প্রত্যেককে মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা দেয়া শুরু হলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে এই ভাতাভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার।

একই সঙ্গে ভাতার হার মাসে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার পর সর্বশেষ ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ হিসাবে দেশে মোট বিধবার ৩৮ দশমিক ৮৯ ভাগ সরকারি ভাতার সুবিধায় এসেছে।

তবে বিধবাদের এই ভাতার হার আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, বর্তমানে বিধবারা মাসে যে ভাতা পান, তা দিয়ে একজন দরিদ্র মানুষ ৫ দিন খেতে পারেন। তাই তাদের ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি সব দুস্থ বিধবাকে ভাতার আওতায় আনার পরামর্শ তার।

আরও পড়ুন:
সাবেক স্বামীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বিধবা ভাতার আবেদন
মধ্যরাতে নারীর ঘরে ইউপি সদস্য, সকালে বিয়ে

শেয়ার করুন

মন্তব্য