সৈকতে হাজারো মানুষ

কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সৈকতে হাজারো মানুষ

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ।

প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে সমুদ্রসৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

লকডাউনের কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি ফটকগুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। সৈকতমুখী মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। বাধা দেয়া হচ্ছে সৈকতে নামতে।

প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে অবশ্য খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে না দিলেও অন্যান্য স্থানে নজরদারি কম থাকায় ঠিকই সমুদ্রে নামছেন অনেকে।

সৈকতে হাজারো মানুষ
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, দরিয়া নগর, ইনানী, পটুয়ারটেকসহ বেশ কিছু স্থানে প্রশাসনের নজরদারি কম দেখা গেছে। এসব জায়গায় দলে দলে সমুদ্রে নেমেছেন দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের লোকজন আসলে তারা উঠে গেছেন, তবে পরক্ষণেই আবার নেমেছেন জলে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পর্যটক বলেন, ‘ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে বেড়াচ্ছি।’

আরেক পর্যটক বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও কান্না করছে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসলাম।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, সব স্থান কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সৈকতে নামতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, সৈকতমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও দর্শনার্থীদের ঘরে ফেরাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সৈকতে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে পর্যটকদের আসা ঠেকাতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরবাসীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে পহেলা এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ কমলেই পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করা হবে।

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

একসময় বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো। আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাত না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়।

সন্তানের কাছে বটবৃক্ষ সমতুল্য বাবা। তার ছায়ায় স্বস্তির ঘুম দিতে পারে সন্তান। বাবার বিশালতা বোঝাতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে। কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।’

বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। বাবার তুলনা তিনি নিজেই।

উল্লিখিত দিকটিকে স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পালিত হয় বাবা দিবস।

বাবা দিবসের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এটা পালন করা শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল, এটা বোঝাতেই দিবসটি পালন করা হতে থাকে।

ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়।

আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর মাথায়ও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না।

ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে। সেই পুরোহিত মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন।

তখন তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার।

ডড তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থাৎ ১৯ জুন, ১৯১০ সাল থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

একসময় বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো।

আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাত না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল।

ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসে ছুটির জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়।

১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন।

অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসে ছুটির ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

সেকেলে রেসিং কার ‘বুগাতি টাইপ ৫৯’

সেকেলে রেসিং কার ‘বুগাতি টাইপ ৫৯’

এবার বুগাতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সুযোগ করে দিতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আধা বেলা প্রদর্শনীটি দেখতে খরচ করতে হবে ৩০ পাউন্ড। আর দিনব্যাপী দেকতে খরচ করতে হবে ৮০ পাউন্ড।

রেসিং কার বা গাড়ির কথা মনে হলেই মনে ভেসে ওঠে শাঁ শাঁ করে চোখের সামনে দিয়ে অসংখ্য গাড়ি অতিক্রম করার দৃশ্য। সেসব গাড়িও হাল আমলের, একেবারে অত্যাধুনিক।

বিশ্বে রেসিং গাড়ির বিবর্তন এক দিনে হয়নি। একটা সময় এই গাড়িগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। যতোটা সম্ভব ছোট ও সুদর্শন করার চেষ্টা করা হতো। এখনও রেসিং কারগুলো ছোটই। তবে প্রযুক্তিতে সেগুলো এগিয়ে বহুগুণ।

সেকেলে তেমনই একটি রেসিং কার ‘বুগাতি টাইপ ৫৯’ মডেল। গাড়িটি সে সময় অর্থাৎ ১৯৩৩ সালের দিকে বিশ্বের রেসারদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে। কেননা সে সময় এমন আধুনিক গাড়ি তেমন আর ছিলও না।

অসাধারণ ডিজাইনের বুগাতির গাড়িটি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে যুক্তরাজ্যের হাম্পটন কোর্ট প্যালেস চত্বরে।

আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ‘কনকর্স অফ এলিগ্যান্স’ নামের ওই প্রদর্শনী। বিশ্বের শীর্ষ তিনটি প্রদর্শনীর একটি এই কনসর্ন অফ এলিগ্যান্স।

সেকেলে রেসিং কার ‘বুগাতি টাইপ ৫৯’
বুগাতি টাইপ ৫৯ মডেলের রেসিং কার থাকবে প্রদর্শনীতে

বুগাতির মোটরস্পোর্টস গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও সে সময়ের রেসিং কারগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বুগাতি টাইপ ৫৯।

গাড়িটির ডিজাইন করা হয় দুই সিট রেখে। সিটগুলো সামনে-পেছনে হিসেবে, সেখানে গিয়ারবক্সের পাশের সিটটিতে বসতে পারেন চালক।

পিছনের দিকের ডিজাইনটা দেকলে হঠাৎ করেই লেজের মতো মনে হতে পারে। আর সেখানেই রাখা হয়েছে গাড়ির তেলের ট্যাংকার। চালক যেখানে বসবেন তার সামনের দিকে রয়েছে ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি আট সিলিন্ডারের।

সেকেলে রেসিং কার ‘বুগাতি টাইপ ৫৯’
সে সময়ে বুগাতির এই রেসিং কারটি ছিল অন্যতম আকর্ষণীয়

অসাধারণ ডিজাইনের গাড়িটি ১৯৩০ এর দশকে অনেকটা প্রতাপ ছড়িয়েছে বড় বড় রেসিং প্রতিযোগিতায়।

এবার বুগাতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সুযোগ করে দিতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আধা বেলা প্রদর্শনীটি দেখতে খরচ করতে হবে ৩০ পাউন্ড। আর দিনব্যাপী দেকতে খরচ করতে হবে ৮০ পাউন্ড।

আয়োজনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিশেষ স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদে বুধবার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব স্থান বিশেষভাবে সংরক্ষণে বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক স্থানে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। ওইসব স্থান ঘটনার তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্মৃতিস্বরূপ সংরক্ষণ করা হবে। তাহলে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।’

ঢাকার মিন্টু রোড ও আব্দুল গণি রোডের ভবনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল, বিধায় সেগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে ‘বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জ’ উদ্বোধন

জাতিসংঘে ‘বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জ’ উদ্বোধন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে লাউঞ্জটি স্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লাউঞ্জটিতে বিভিন্ন বই, ছবি, প্রামাণ্যচিত্র ও গ্রাফিক্যাল ডিসপ্লের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

স্থানীয় সময় সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে লাউঞ্জটি স্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লাউঞ্জটিতে বিভিন্ন বই, ছবি, প্রামাণ্যচিত্র ও গ্রাফিক্যাল ডিসপ্লের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ, বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি জাতির পিতার যে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস ছিল, বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জের এই সংগ্রহ যেন তা-ই ফুটিয়ে তুলেছে।’

তিনি লাউঞ্জটিতে জাতির পিতার ওপর আরও বই ও প্রদর্শনী সামগ্রী দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, ‘গত বছর লাউঞ্জটির স্থাপনের কাজ শেষ হলেও কোভিড-১৯জনিত কারণে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। এটি অত্যন্ত আনন্দের যে অবশেষে আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লাউঞ্জটি উদ্বোধনের জন্য পেয়েছি।

‘আমার বিশ্বাস, লাউঞ্জটি মিশনে আগত সুধীজনদের বিশ্বশান্তির প্রতি জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।’

মিশনে আসা জাতিসংঘ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠকের জন্য লাউঞ্জটি ব্যবহার হবে। এর ফলে তারা জাতির পিতার জীবনাদর্শ সমন্ধে বড় পরিসরে ধারণা লাভের সুযোগ পাবেন।

জাতিসংঘে ‘বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জ’ উদ্বোধন

জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। সেই থেকে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বর্তমানে ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহসভাপতি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এজেন্ডাগুলো শেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে গঠিত আন্তরাষ্ট্রীয় কনসালটেশনের ফ্যাসিলেটেটর এবং পঞ্চম জাতিসংঘ এলডিসি কনফারেন্সের প্রস্তুতি কমিটির সহসভাপতি বাংলাদেশ।

এদিকে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

আলোচনাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পরিবহনে বাংলাদেশ বিমানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য খারেকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল খারে।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ে জাতিসংঘের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কৌশল বাস্তবায়নে নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ শান্তিরক্ষী মোতায়েনে বাংলাদেশের যে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রয়েছে তার প্রশংসা করেন খারে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে নিউইয়র্ক অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি এলডিসিবিষয়ক একটি যৌথ থিমেটিক সভায় অংশ নেবেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘ সদরদপ্তর ও অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অবস্থা’ ও ‘স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই উত্তরণ এবং পুনরায় ফিরে আসা রোধে সক্ষমতা বিনির্মাণ’ শীর্ষক দুটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক

চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও লালাখাল পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। এবার ঈদের ছুটিতেও এ সব স্থানে পর্যটকরা জড়ো হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। ভিড় দেখা গেছে নগরের আশপাশের চা বাগানগুলোতেও।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোয় যাতায়াত নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না পর্যটকরা। ঈদের পরদিন শনিবার থেকে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করেছেন তারা। পথে পথে চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না তাদের।

নানা কৌশলে এ সব দৃষ্টিনন্দন স্থানে যাচ্ছেন স্থানীয় পর্যটকরা, মানছেন না স্বাস্থ্যবিধিও। সোমবারও সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও লালাখাল পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। এবার ঈদের ছুটিতেও এ সব স্থানে পর্যটকরা জড়ো হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। ভিড় দেখা গেছে নগরের আশপাশের চা বাগানগুলোতেও।

পুলিশ বলছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করা পর্যটকদের প্রায় সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। চেকপোস্ট বসানো হলেও তারা নানা অজুহাতে ও বিভিন্ন বিকল্প সড়ক দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রে চলে যাচ্ছেন।

সোমবার দুপুরে নানা বয়সী পর্যটকদের ভিড় দেখা যায় পাহাড় আর পাথুরে নদীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরে। বেশিরভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। নদীতে সাঁতার কাটছিলেন অনেকে।

চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক


এখানে বেড়াতে আসা সিলেট নগরের ব্যবসায়ী সৈয়দ কাওছার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছরই ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বছরের এই ঈদের সময়েই একটু সময় পাই। তাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একটু ঘুরতে এসেছি। তা ছাড়া ঘরে থাকতে থাকতে বাচ্চারাও হাঁপিয়ে উঠেছিল।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এসেছি। সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি আমরা।’

সোমবার বিকেলে সিলেট নগর লাগোয়া লাক্কাতুরা চা বাগানেও দেখা যায় কয়েকশ’ দর্শনার্থী।

পর্যটক সমাগমের কারণে এই চা বাগানের পার্শ্ববর্তী সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সড়কে নানা পণ্যের বাজার বসে গেছে।

সড়কে ফুচকা বিক্রি করছিলেন রমিজ উদ্দিন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত এক মাস এখানে কেউ আসেনি। তবে ঈদের দিন বিকেল থেকেই প্রচুর মানুষ আসছে। ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।’

চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক

চা বাগানে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাহাত ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরতে বেরিয়েছি। ঈদের সময়ে প্রতি বছরই আমরা দূরে কোথাও ঘুরতে চাই। দুই বছর ধরে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাড়ির পাশের চা বাগানে এসেছি।’

এর আগে রোববার বিকেলে প্রকৃতিকন্যা হিসেবে পরিচিত গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়।

সিলেট নগর থেকে জাফলং যেতে হয় সিলেট-তামাবিল সড়ক দিয়ে। এই সড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর, গোয়ানঘাট উপজেলার নলজুরি, গুচ্ছগ্রাম, বঙ্গবীর পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়েছে জৈন্তুপুর থানা ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।

পুলিশের এই কড়াকড়ি পেরিয়েই জাফলং ঘুরতে যান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাজিব আহমদ। কীভাবে গেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করেছিলাম। চেকপোস্টের পুলিশকে সেটা দেখানোর পর আর আটকায়নি।’

পর্যটন পুলিশের জাফলং সাব জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে গোয়াইনঘাটে বেড়াতে আসা পর্যটকদের যানবাহন আটকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক


তিনি বলেন, ‘লকডাউন চলাকালে কোনো ক্রমেই পর্যটকদের প্রবেশ করতে না দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে অনেকেই আমাদের ফাঁকি দিয়ে ও নানা অজুহাতে পর্যটন স্পটগুলোতে চলে যাচ্ছেন।’

গত ৩১ মার্চ পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে এ সব এলাকায় পর্যটক সমাগম একেবারেই বন্ধ ছিল। তবে ঈদের পরদিন থেকেই ভিড় জমান পর্যটকরা।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, পর্যটকরা যাতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রে যেতে না পারেন সে জন্য পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের পাশাপাশি পর্যটকদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করে আসছিলাম। ঈদের ছুটিতে হঠাৎ করে শনিবার থেকে স্থানীয় পর্যটকরা ভোলাগঞ্জে ভিড় জমাচ্ছেন। আমরা তাদের নিরুৎসাহিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

ঈদ আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে

ঈদ আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে

নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, সার্কিট হাউজ মাঠ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও গাছগাছালি ঘেরা সড়কের আশপাশে মানুষের ঢল দেখা গেছে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে এসেছে। আবার অনেকে মাস্ক পড়লেও তা ছিল থুতনির নিচে, আর স্বাস্থ্যবিধি ছিল একেবারেই উপেক্ষিত।

ময়মনসিংহে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে প্রশাসন শুরু থেকেই জনসাধারণকে বিভিন্নভাবে সচেতন করছে। ঈদ উপলক্ষে বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীদের পার্কে যেতে নিরুৎসাহিত করছে পুলিশ।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে বিনোদনকেন্দ্রগুলোর আশপাশে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। করোনাকে ভুলে গিয়ে ঈদ আনন্দে মেতেছে ছেলে বুড়োসহ নানা বয়সী মানুষ।

ঈদ আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে


শনিবার দুপুরের পর থেকেই নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, সার্কিট হাউজ মাঠ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও গাছগাছালি ঘেরা সড়কের আশপাশে মানুষের ঢল দেখা গেছে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে এসেছে। আবার অনেকে মাস্ক পড়লেও তা ছিল থুতনির নিচে, আর স্বাস্থ্যবিধি ছিল একেবারেই উপেক্ষিত।

মেহেদী হাসান, শাহারিয়ার নাদিম ও আবুল কালাম আজাদ নামে তিন বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে হাটতে আসেন। ফেরার সময় কথা হয় তাদের সঙ্গে।

তারা বলেন, ‘আমরা তিনজনই আলাদাভাবে ফার্মেসি ও নতুন বাসা তৈরির ডিজাইনের কাজ করি। ময়মনসিংহে থাকলেও রোজার মাসে কাজের ব্যস্ততার কারণে তিন বন্ধুর একসঙ্গে ঘোরা হয়নি। তাই ভাবছি এদিকে একটু ঘুরে আসি। এসে দেখি লোকজনের উপচে পড়া ভিড়। তাই এখনই চলে যাব।’

সার্কিট হাউজ মাঠে পরিবার নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় কথা হয় একরাম তালুকদার নামে মধ্যবয়সী এক লোকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পিচ্চি নাতি-নাতনি বায়না ধরছে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে। তাই এখানে এসেছি।


ঈদ আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে

‘তবে এত লোকজন আসবে জানলে বাসা থেকে বের হতাম না। কারণ আমরা প্রায় বৃদ্ধ হয়ে গেছি। ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।’

অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে লোকজনের ঢল নেমেছে কিনা দেখতে বিকেলে যাওয়া হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। সেখানে দেখা যায় করোনাভাইরাসের জন্য শত শত মানুষ প্রবেশ করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে যে যার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ বসে আড্ডায় মেতে উঠেছেন।

ঈদ আনন্দ বাঁধ ভেঙেছে


এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলোর দুপাশে সারি সারি গাছ যে কাউকে আকৃষ্ট করে। সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকায় হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে দর্শনার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলে যেতে বলেছি। কিন্তু লোকজন তবুও যেতে চায় না। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে নদের পাড় ও সার্কিট হাউস মাঠে সবাই জড়ো হয়েছে।

‘যেহেতু ঈদ তাই আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি এবং আগামী দিন থেকে দল বেধে ঘোরাঘুরি করতে না আসার জন্য নিরুৎসাহিত করছি।

আরও পড়ুন:
বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা
তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
সৈকতের সৌন্দর্য বাঁচাবে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ
কক্সবাজারে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পিকআপ মালিক সমিতির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন, দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন