সোমেশ্বরীতীরে বসে শিল্পীরা আঁকলেন ‘সোনার বাংলা’

নেত্রকোণার গারো পাহাড় ও সোমেশ্বরী নদীর তীরে বসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ জন শিল্পী ছবি আঁকলেন ‘সোনার বাংলা’। ছবি: নিউজবাংলা

সোমেশ্বরীতীরে বসে শিল্পীরা আঁকলেন ‘সোনার বাংলা’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে রঙের ক্যানভাসে ধরে রাখতে শিল্পীরা রংতুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন সোনার বাংলা। করোনার এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকলা একাডেমি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে শিল্পীরা নিজেদের ছবি আঁকার পাশাপাশি ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ছবি এঁকেছেন।

নেত্রকোণার গারো পাহাড় ও সোমেশ্বরী নদীর তীরে বসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ জন শিল্পী ছবি আঁকলেন। রংতুলিতে তারা ফুটিয়ে তুলেছেন ‘সোনার বাংলা’।

জেলার দুর্গাপুরে গারো পাহাড় পাদদেশে পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী নদীর কোলে

ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ বিশ্ববিদ্যালয় (ইউডা) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শিল্পীরা ২৯ মার্চ সকাল থেকে শুরু ৩০ মার্চ রাত পর্যন্ত এ ছবি একেঁছেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে রঙের ক্যানভাসে ধরে রাখতে শিল্পীরা রংতুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন সোনার বাংলা। করোনার এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকলা একাডেমি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে শিল্পীরা নিজেদের ছবি আঁকার পাশাপাশি ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ছবি এঁকেছেন।

ছবিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার চিরায়ত রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিল্পীরা বলছেন, সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার ছবি আঁকতে পেরে তারা গর্বিত, আনন্দিত।

শিল্পী অরুপ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা ৫০ জন শিল্পী ছবি একেঁছি। এই সময় নির্ধারণের কারণ হচ্ছে স্বাধীনতার মাস। সেই সঙ্গে সুবর্ণজয়ন্তী। এই জল, কাদা, মাটি, প্রকৃতির অনুভূতি আঁকতে পেরে ভাগ্যবান আমরা।’

আরেক শিল্পী প্রদীপ্ত বালা। তিনি পাহাড়িকন্যা সোমেশ্বরীর জলঘেঁষে বসে ছবি আঁকছিলেন আপন মনে। এ সময় তিনি বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রকৃতিকে অবজারভ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার নদী, পাহাড়, প্রকৃতিকে ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ এক অনন্য ফিলিংস।

‘ইট পাথরের শহুরে জীবনের পাশে এই জল, কাদা জীবনকে রাঙিয়ে তুলেছে। এখানের এই রং সাথে বয়ে নিয়ে যাব জীবনের সুন্দরের জন্যে।’

তার পাশে বসেই ছবি আঁকছিলেন আদনান হাবিব। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেশের প্রতি ভালোবাসা, প্রকৃতির নদী, পাহাড়, মাটি, মানুষ ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’

শিল্পী লাইজু আক্তার বলেন, ‘আমরা শিল্পী হিসেবে নবীন। এখনও শিক্ষার্থী। তবু প্রাণের সবটুকু দিয়ে আঁকার চেষ্টা করছি।’

ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ সোহানী ইসলাম বলেন, ‘দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতেই এই ছবি আঁকা। আর এই ছবি বাংলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবে। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা নদীর সঙ্গে থেকে দেশকে ভালোবেসে ফিল করে সোনার বাংলাদেশের ছবি আঁকছে।

‘এই সোমেশ্বরী নদী, মাটি এটাই আমাদের দেশ। দেশকে ক্যানভাসে তুলে ধরেছে। এই যে চর্চাটা এটা আমাদের অনেক আশাবাদী করে।’

ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আহমেদ বিকাশ বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সবাই স্বপ্ন দেখি আমাদের এ দেশ সোনার বাংলাদেশ। আমরা সোনার বাংলাদেশের পথেই হাঁটছি। এই কারণেই আমাদের প্রত্যেকের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ববোধ রয়েছে।

শুধু সরকার না আমরা প্রত্যেকেই সোনার বাংলা গড়ায় ভূমিকা রাখতে পারি। দেশপ্রেমের জায়গাটিতে আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করতে পারি। স্বাধীনতার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে ৫০ জন ছবি এঁকেছে তারা বুকে ধারণ করে নিয়ে গেছে সোনার বাংলাকে। দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হয়েছে। তারাই ছড়িয়ে দেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওড়াকান্দিতে ভক্তের ঢল, নিষ্ক্রিয় প্রশাসন

ওড়াকান্দিতে ভক্তের ঢল, নিষ্ক্রিয় প্রশাসন

ঠাকুরবাড়ির আরেক সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘যেহেতু এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না, সে কারণে ভক্তদের ঠাকুরবাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু শত অনুরোধ উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্ত এখানে এসেছে, স্নান উৎসব ও পূজা করছে।’

করোনা মহামারির কারণে এবার গোপালগঞ্জে বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা প্রশাসন বন্ধ ঘোষণা করলেও সেখানে জড়ো হয়েছেন হাজারও ভক্ত।

কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে শুক্রবার সূর্য ওঠার আগেই স্নানোৎসবে যোগ দিতে দলে দলে এসেছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২৭ মার্চ ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি ঘুরে যাওয়ার পর থেকে স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার আশায় ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

তবে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এই উৎসব বন্ধের ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রথীন্দ্র নাথ রায়।

ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি শচীপতি ঠাকুর বলেন, ‘করোনাভাইরাস ঠেকাতে এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু মতুয়া ভক্তদের আবেগকে আটকানো যায়নি। তারা বাধা উপেক্ষা করে ঠাকুরবাড়িতে হাজির হয়েছে।’

ঠাকুরবাড়ির আরেক সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও যথারীতি শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘যেহেতু এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না, সে কারণে ভক্তদের ঠাকুরবাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু শত অনুরোধ উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্ত এখানে এসেছে, স্নান উৎসব ও পূজা করছে।’

তিনি জানান, ভক্তদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা ও স্নান উৎসব করতে বলা হয়েছে। তবে তা মানা হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।

gopalganj

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারও মুখেই নেই মাস্ক, নেই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা। সবাই উৎসবে মাতোয়ারা।

সেখানে দেখা যায়নি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকেও।

মতুয়া হলো হিন্দুদের একটি সম্প্রদায়, যারা উনিশ শতকের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুর ও তার পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত মতবাদের অনুসারী। হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম ওড়াকান্দির পাশের সাফলিডাঙ্গা গ্রামে। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সঙ্গে বিবাদের জেরে তিনি ওড়াকান্দি এসে বসতি গড়েন। সেই বাড়িই এখন ‘ঠাকুরবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত, যা উপমহাদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ মতুয়ার কাছে এক পুণ্যভূমি।

নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর ও তার ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুর।

হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষেই এই ঠাকুরবাড়িতে আয়োজন হয় স্নানোৎসবের।

তাতে অংশ নিতে দেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মতুয়ারা ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে আসেন। তাদের হাতে থাকে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান। ডঙ্কা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলুধ্বনি দিতে দিতে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দেন তারা।

তাদের বিশ্বাস, এখানকার পুকুরে স্নান করার মধ্য দিয়ে তাদের বিগত দিনের পাপ মোচন হবে। এখানে পূজা করে তারা ভালো ভবিষ্যৎ ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

গত বছরও এ সময়ে করোনার প্রথম ধাপের সংক্রমণ ঠেকাতে এই উৎসব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তারপরও সেখানে লক্ষাধিক ভক্ত জড়ো হন।

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় পুরাকীর্তির আলোকচিত্র প্রদর্শনী

কুমিল্লায় পুরাকীর্তির আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লায় প্রত্মস্থল সমূহের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ছবি: নিউজবাংলা

আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে নবাব ফয়জুন্নেসার বাড়ি, সতেররত্ন মন্দির, চণ্ডীমুড়া মন্দির, ইটাখোলা মুড়া, রুপবান মুড়া, রানির কুটি ও শচীন দেব বর্মণের বাড়ির ছবি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার প্রত্নস্থলগুলোর আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে। কোটবাড়ি শালবন বৌদ্ধবিহারের গেটের সামনে গত বৃহস্পতিবার ছয় দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

প্রদর্শনীতে শালবন বৌদ্ধবিহার ছাড়াও কুমিল্লায় সংরক্ষিত আরও ৩২টি পুরাকীর্তির ছবি স্থান পেয়েছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে নবাব ফয়জুন্নেসার বাড়ি, সতেররত্ন মন্দির, চণ্ডীমুড়া মন্দির, ইটাখোলা মুড়া, রুপবান মুড়া, রানির কুটি ও শচীন দেব বর্মণের বাড়ির ছবি।

প্রদর্শনীতে আসা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফ জামান বলেন, ‘এ ধরনের প্রদর্শনী ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ বাড়াবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোর্শেদ রায়হান বলেন, পুরাকীর্তির আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দুইভাবে এগুলো প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে গবেষণা জার্নালে। আরেকটি হচ্ছে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর মাধ্যমে। উন্মুক্ত প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের জানার আগ্রহকে বিস্তৃত করবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা কুমিল্লা। পুরাকীর্তির আলোকচিত্র তারই প্রমাণ। জেলাটিতে প্রত্ন ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

শেয়ার করুন

ব‌রিশা‌লে দোল উৎসব উদযাপন

ব‌রিশা‌লে দোল উৎসব উদযাপন

বরিশালে উদযাপিত হয়েছে দোল উৎসবের। ছবি: নিউজবাংলা

সকা‌লে ম‌ন্দি‌রে পূজার মাধ্যমে দোল উৎস‌বের আনুষ্ঠা‌নিকতা শুরু হয়। নগরীর শীতলাখোলা এলাকায় আ‌য়োজন করা হয় ডি‌জে পা‌র্টির। সেখা‌নে অসংখ্য নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ ক‌রে বাহা‌রি রঙের খেলায়।

ব‌রিশাল নগরীর বি‌ভিন্ন ম‌ন্দির ও পাড়া-মহল্লায় উদযাপিত হলো দোল উৎসব।

শিশু থে‌কে বয়স্ক সবাই রোববার সকাল থে‌কেই মে‌তে ও‌ঠেন রং খেলায়। আরিবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বরিশালের আকাশ।

সকা‌লে ম‌ন্দি‌রে পূজার মাধ্যমে দোল উৎস‌বের আনুষ্ঠা‌নিকতা শুরু হয়।

নগরীর শীতলাখোলা এলাকায় আ‌য়োজন করা হয় ডি‌জে পা‌র্টির। সেখা‌নে অসংখ্য নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ ক‌রে বাহা‌রি রঙের খেলায়।

শীতলাখোলা এলাকায় দোল উৎস‌বে অংশগ্রহণকারী স্বাগতা দাস ব‌লেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী‌দের অবতার শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখী রাঁধা দেবী এই দোলপূর্ণিমার দি‌নে রং খেলায় মে‌তে‌ছি‌লেন। এই দি‌নে আমরা প্রতিবছর দোল উৎসব পালন ক‌রি।’

দুর্জয় দাস না‌মে আ‌রেকজন বলেন, ‘এখা‌নে রং খেলতে অ‌নেক লোক এ‌সে‌ছে। আমিও বন্ধু‌দের নি‌য়ে রং খেল‌তে এ‌সে‌ছি।’

এ‌দি‌কে নগরীর শ্রীশ্রী শংকর মঠ, রাধাকৃষ্ণ ম‌ন্দির, রামকৃষ্ণ মিশ‌ন, সরকা‌রি ব্রজ‌মোহন ক‌লেজসহ বি‌ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দোল উৎসব উদযাপিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার

নিউজবাংলার শনিবার সন্ধ্যার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এই আনন্দ আয়োজনে শনিবার রাজধানীর বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম অ্যাভেনিউয়ে নিউজবাংলা কার্যালয়ে এসেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদক, প্রতিবেদক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এই আনন্দ আয়োজনে শনিবার রাজধানীর বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম অ্যাভেনিউয়ে নিউজবাংলা কার্যালয়ে এসেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদক, প্রতিবেদক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ।

তাদের উপস্থিতিতে নিউজবাংলার বার্তা কক্ষ পায় ভিন্ন মাত্রা। সন্ধ্যার পর থেকে অতিথি আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নিউজবাংলা।

এ দিনের সান্ধ্য আয়োজনে যোগ দেন টিভি টুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার, দৈনিক আজকের পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সেলিম খান, একুশে টেলিভিশনের পরিকল্পনা সম্পাদক সাইফ ইসলাম দিলাল, রাজনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

আনন্দ আয়োজনে নিউজবাংলার কর্মীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত, বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শারমিন রিনভী, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ কার্জন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ এবং যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসীন-উল-হাকিম ও আলমগীর স্বপন, কান্ট্রি এডিটর আসিফ আহসানুল।

নিউজবাংলার শনিবার সন্ধ্যার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান নিউজবাংলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, প্রকাশক শাহনুল হাসান খান ও সম্পাদক স্বদেশ রায়।

ব্যস্ততার মধ্যেও যারা নিউজবাংলার এই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিউজবাংলা কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন

‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও’

‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও’

কালের বিবর্তনে গ্রামীণ অন্যান্য ঐতিহ্যের মতো মাছ ধরা উৎসবও বিলুপ্তপ্রায়। ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নাটোরের গুরুদাসপুরে হয়ে গেল পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব।

দূর থেকে শোনা যাচ্ছে, থেমে থেমে সমস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে ‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও’- এমন স্লোগান। কাছে গিয়ে দেখা গেল, গ্রামের ছেলে-বুড়ো মিলে দলবেঁধে পলো দিয়ে মাছ ধরছে।

নাটোরের গুরুদাসপুরে এই চিত্র দেখা গেল রোববার। গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সেখানে হয়ে গেল পলো (বাঁশের তৈরি মাছ ধরার উপকরণ) দিয়ে মাছ ধরা উৎসব।

রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার আত্রাই নদের কালাকান্দর মহাশ্মশান থেকে শুরু হয়ে চাঁচকৈড় ত্রি-মোহনা (আত্রাই, নন্দকুঁজা ও গুমানী নদীর মোহনা) পর্যন্ত মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা।

একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল দলবেঁধে মাছ ধরা। গ্রামের নানান বয়সী মানুষ দিনক্ষণ ঠিক করে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতেন।

কালের বিবর্তনে গ্রামীণ অন্যান্য ঐতিহ্যের মতো মাছ ধরা উৎসবটাও বিলুপ্তপ্রায়।

সেটি ধরে রাখতে গুরুদাসপুরের পাশাপাশি জেলার চলনবিল, হালতিবিল, নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদী, কুড়িল বিলসহ ছোটখাটো খালবিলে মাছ ধরা উৎসব পালন করে গ্রামবাসী।

এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক মাছশিকারি অংশ নেন। আর সেই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।

‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও’
চলছে পলো দিয়ে মাছ ধরা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় লোকজন জানান, দিনক্ষণ ও মাছ ধরার এলাকা ঠিক করে পলো নিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরতে যান শিকারিরা। প্রতিটি দলে একজনের নেতৃত্বে অন্যরা মাছ ধরেন।

প্রতিবছর শুকনো মৌশুমে খালবিল ও নদীর পানি কোমরসম পৌঁছালে এই পলো উৎসব শুরু হয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে উৎসব চলে।

উৎসবে অংশ নিতে আসা কাছিকাটা গ্রামের সজিব হোসেন বলেন, ‘পলো দিয়ে মাছ ধরতে একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে। কলেজ বন্ধ তাই বড়দের সঙ্গে মাছ ধরতে এসেছি। বোয়াল, শোল, মৃগেল, কাতলাসহ মিঠাপানির বিভিন্ন মাছ পাওয়া গেছে।’

‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও’

মাছ ধরার একটি দলের নেতা ছকির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক বছর শুকন্যা মওসুমে দলবাইধ্যে মাছ ধরতি আসি। আনন্দ উৎসবে মাইত্যা উঠি। প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর ধইরে এই উৎসব পালন কইরে আসিচ্ছি। সেই সাথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লালনপালন করিচ্ছি।’

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তমাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের চমৎকার একটি গ্রামীণ ঐতিহ্য হলো এই মাছ ধরা উৎসব। দলবেঁধে মাছ ধরাটা গ্রামবাংলার সহজাত সম্প্রীতিকে ধারণ করে।’

নাটোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইয়ের লেখক খালিদ বিন-জালাল জানান, এই অঞ্চলের মাছ ধরা উৎসব প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বছর আগে থেকে চলছে।

‘আগে রাজাদের দিঘিতে মাছ ধরা হতো। সবাই তাতে অংশ নিতে পারত না। কালক্রমে সাধারণ মানুষজন সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা নদী বা দহে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতে লাগে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এখনও দলবেঁধে মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।’

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তনকে সমস্যা মনে করে ৫০ শতাংশ তরুণ

জলবায়ু পরিবর্তনকে সমস্যা মনে করে ৫০ শতাংশ তরুণ

বিওয়াইএলসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অংশ নেয়া তরুণদের মধ্যে কেউই মনে করেন না যে, পায়ে হেঁটে চলাচল করা বা বাইসাইকেল চালানো জলবায়ু পরিবর্তন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। 

দেশের ৯৭ শতাংশ তরুণ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন। সচেতন হলেও ৫০ শতাংশ তরুণ জলবায়ু পরিবর্তনকে সমস্যা মনে করে।

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার- বিওয়াইএলসি ও সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ- সিইউএস পরিচালিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে বিওয়াইএলসি ‘যুব ও জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে একটি জরিপ করে। জরিপে বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ১৮-৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার তরুণ-তরুণী অংশ নেয়।

গ্লোবাল ইয়ুথ ক্লাইমেট সামিটের দ্বিতীয় দিনে প্যানেলে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। যেখানে আলোচকদের মধ্যে ডাচ রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওই, এফসিডিও উন্নয়ন পরিচালক জুডিথ হারবার্টসন, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও বিসিএএস পরিচালক আতিক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ তরুণ পরিবেশ সুরক্ষার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তরুণরা কী কী উদ্যোগ নিতে পারেন এমন মতামত চাওয়া হলে তাদের বেশির ভাগই জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে অংশ নেয়া, সচেতনতা প্রচার চালানো এবং পরিবেশ সংগঠনে যোগ দিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন।

অংশ নেয়া তরুণদের মধ্যে কেউই মনে করেন না যে, পায়ে হেঁটে চলাচল করা বা বাইসাইকেল চালানো জলবায়ু পরিবর্তন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের আরও জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করতে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ তরুণের মতে, তারা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রকল্পে অংশ নিয়ে কীভাবে এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা যায় তা শিখতে পারে। ৭৩ শতাংশ মনে করে, তারা বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

৪৭ শতাংশ বলেছেন তারা যথাযথ পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন এবং ১৪ শতাংশ মতামত ব্যক্ত করেছেন মাংস খাওয়া কমিয়ে আনার ব্যাপারে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি উপস্থিত তরুণদের একটি বৈশ্বিক যুব জলবায়ু অঙ্গীকারে সম্মত করানো হয়। যা যুবকদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত করে। দুই দিনের এই ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে ৮০টির বেশি দেশের ৬০০ তরুণ-তরুণী অংশ নেয়।

বাংলাদেশ, গিনি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, লেবানন, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে এবং সোমালিয়া থেকে ১২ জন ইয়ুথ ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত করা হয়। সামিটে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।

সম্মেলন শেষে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তাদের পরিকল্পিত প্রজেক্টকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রত্যেক বিজয়ীকে পুরষ্কার হিসেবে সম্পূর্ণ স্কলারশিপে বিওয়াইএলসি’র লিডারশিপ কোর্স করার সুযোগ ও তাদের জলবায়ু পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য ১০০০ ডলার দেয়া হয়।

সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জলবায়ু চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানান। তাদের নেতৃত্বে পৃথিবী সুন্দর হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

বলেন, ‘তরুণদের সঙ্গে নিয়ে এই অগ্রণী বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি বিওয়াইএলসির প্রশংসা করি। নিঃসন্দেহে জলবায়ু সংকট নিয়ে তরুণদের আওয়াজ তুলে ধরতে উন্নয়নশীল এবং উন্নত উভয় ধরনের দেশকেই এক কাতারে নিয়ে আসতে হবে।’

শেয়ার করুন