‘মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোই পরীমনির অপরাধ’

‘মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোই পরীমনির অপরাধ’

রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘পরীমনির জন্য ন্যায় বিচার চাই’ শীর্ষক নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বিচার শুরুই আগেই অভিযুক্তের মতো প্রতিনিয়তই পরীমনিকে দোষারোপ, তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। লেখক ও গবেষক শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, পরীমনি বাড়িতে মদ খাবেন না বিষ খাবেন এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার পরীমনি কাউকে দেননি।

লেখক ও গবেষক শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, পরীমনি কোন ড্রাগ লিডার নন। পরীমনি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারতো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। এগুলোই ছিল তার অপরাধ। বাংলাদেশের সমাজে একটা মেয়ের এতো শক্ত মেরুদণ্ড থাকাটা আসলেই অপরাধ।

রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘পরীমনির জন্য ন্যায় বিচার চাই’ শীর্ষক এক নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। বিক্ষুব্ধ নাগরিকের ব্যানারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, পরীমনি বাড়িতে মদ খাবেন না বিষ খাবেন এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার পরীমনি কাউকে দেননি।

সমাবেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি সরকারে থাকাকালীন সময়ে একজন মানুষের মুক্তির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করতে হচ্ছে এটার থেকে দুঃখজনক ও বিব্রতকর কোনো ঘটনা সমাজে হতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, অপরাধের সংজ্ঞায় ফেলে সন্দেহজনকভাবে পরীমনির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, হয়তো কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্তের মতো প্রতিনিয়তই তাকে দোষারোপ, তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

একইভাবে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, ‘পরীমনি চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, কথায় কথায় রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে এটির যৌক্তিকতা আমাদের সামনে এখনো পরিষ্কার হয়নি।

‘আমি মনে করি, যে লুটেরা গোষ্ঠী পরীমনির মতো মানুষ তৈরি করেছে তাদের সম্পর্কেও সন্ধান চালানো উচিত। আমরা যদি তাদের সন্ধান না করি তাহলে আরও অনেক পরীমনি তৈরি হবে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, অবিলম্বে যেনো পরীমনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় সেটি চলমান বিচারের মাধ্যমে করা প্রয়োজন।’

সমাবেশে ভিডিও বার্তা পাঠান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, পরীমনি অপরাধ করেছে কী করেনি এটি আদালত সিদ্ধান্ত নিবে। আদালতের রায়ের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং তার সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দেয়া সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। আমরা নারী ক্ষমতায়নের বিষ্ময়কর অগ্রগতি সাধনের কথা বললেও সমাজে নারীদের উপর অপমান চলছে।

পরীমনির রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেন শাহরিয়ার কবীর। তিনি বলেন, পরীমনিকে কেনো বারবার এভাবে রিমান্ডে যেতে হবে! কেনো উচ্চ আদালত পুলিশের বিরুদ্ধে সুয়োমুটো জারি করবে না। একবার রিমান্ড যথেষ্ট। এরজন্য তো এতোবার রিমান্ডের দরকার হয় না।

সংবাদ কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই, সংবাদে নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনারা আরেকটু সংযত এবং সভ্য আচরণ করেন। নারীর প্রতি কোন অবমাননা আমরা সমাজে বরদাশত করবো না।

অন্য এক ভিডিও বার্তায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, কারাগারে বন্দি পরীমনি আর শিকলে বন্দি আমাদের বিবেক। পরীমনির ব্যক্তিগত জীবনকে যেভাবে সবার সামনে পাবলিক করে ফেলা হচ্ছে, এ ধরনের কোনো অধিকার রাষ্ট্র বা তার কোন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাখে না। এটি গুরুতর অন্যায়।

সমাবেশের উদ্যোক্তা রবিন আহসান বলেন, পরীমনিকে গ্রেপ্তারে মাধ্যমে তারা নারী অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে আমাদের নারী শিল্পীদের প্রতি আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি তালেবানি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আর সরকার সচেতনভাবে এটিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা পরীমনির পক্ষে একটা আইনজীবী প্যানেল তৈরি করে দিব, যে প্যানেল পরীমনির পক্ষে নাগরিক হিসেবে লড়বে। এই লড়াই সংগ্রামে আমরা থাকবো। সবাইকে আমাদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানাই।

যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফিল্ম এন্ড মিডিয়া সোসাইটির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মানবাধিকার কর্মী অপরাজিতা সঙ্গীতা, খুশি কবীর, লেখক শতাব্দী ভব, কবি নুসরাত শারমিন, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা কামালসহ অনেকে।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়েছেন।

৪ আগস্ট চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই অভিযানে তার বাসা থেকে বিপুল মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানায় বাহিনীটি।

মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ৫ আগস্ট পরীমনির নামে বনানী থানায় মামলা হয়। সে মামলায় প্রথম দফায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নায়িকাকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন বিচারক।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার পরীমনিকে আদালতে তোলা হয়।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন।’

সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ছড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বলে মনে করছেন এসব নেতা।

ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবে সাংবাদিকদের মনে গভীর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসিউর রহমান বলেন, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনোদিন এরকম ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি।

‘নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।’

বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন মসিউর রহমান। বলেন, ‘কারণ, গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারেনা।’

বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্যও জানতে চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মশিউর রহমান বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউর দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা কারো কাম্য নয়।’

সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমাজকে পাশে চেয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি ধামকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে কারণে ব্যাংক হিসেব তলব করে তার কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকে বা জঙ্গি অর্থায়নে সাস্পেক্ট করা হয়…তবে আমাদের এমন কোনো অভিযোগের কারণ নেই। আমি সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তথ্যমন্ত্রী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলনে এসেছিলেন। ওনাকে জিজ্ঞেসা করেছি। উনিও বলছেন উনি কিছুই জানেন না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিকে উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা বিস্মিত যে এভাবেও কোনো চিঠি হয়। তারা ১২ তারিখে চিঠি জারি করেছে। আমরা জেনেছি গণমাধ্যমে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএনপিপন্থি) বিএফইজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএনপিপন্থি) ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার

হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার

হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি রেজওয়ান রফিকী। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল রিজওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। তার নামে নাশকতার মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি রিজওয়ান রফিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বলেন, হেফাজতের সাম্প্রতিক নাশকতার মামলার আসামি রিজওয়ান রফিকী। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন হেফাজত নেতা রিজওয়ান রফিকী। সে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবে পরিচিত বক্তা রিজওয়ান রফিকী। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে হেফাজতের সাবেক আমির শাহ আহমদ শফীসহ কয়েকজনের স্মরণে যে আলোচনা সভা হওয়ার কথা, তার আয়োজকদের একজন ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর মানবন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরে দুর্নীতি ও অনিয়মকারীদের বিচারের দাবিতে মানবন্দন হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর ব্যানারে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ তোলেন, এই প্রকল্পে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন। এ ছাড়া, ঘর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীও

উপহারের ঘর নিয়ে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি নই। গরিবকে ঘর করে দেব, সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে?’

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে ভূমিহীনরা খুশি হয়েছিল। প্রয়োজনের তুলনায় ঘরের সংখ্যা অপ্রতুল হলেও কয়েক জেলায় এই ঘর ভূমিহীনদের মাঝে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে তারা এখন সে ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। জীবন রক্ষার আশ্রয়স্থল এখন জীবননাশের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বরাদ্দের হিংসভাগ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন হাতুরি-শাবল দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ভেঙেছেন। আমরা দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্ত সকলের পরিচয় জাতির কাছে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়।

০১. প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।

০২. স্থানীয় সরকার নির্দলীয় হতে হবে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করতে হবে।

০৩. প্রত্যেক জেলার খাসজমি বণ্টন কমিটিতে ভূমিহীনদের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।

০৪. প্রত্যেক জেলায় কল-কারখানা গড়ে তুলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৫. জাতপাতের নামে শ্রেণি বৈষম্য দূর করে মেহনতি জনতাকে বিভক্তিকরণ নীতি বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল আমীন, কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুল রহমান লুৎফর, সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ভূঁইয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক খালেদুজ্জামান পারভেজ বুলবুলসহ বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রংমিস্ত্রি বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওভার ব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে ছুরিকাঘাতে এক রংমিস্ত্রির নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রংমিস্ত্রির নাম বাঁধন। তবে কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

৩২ বছর বয়সী বাঁধনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

ওই পথচারী জানান, বাঁধন রঙের কাজ করতেন। পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় থাকতেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফরহাদের মরদেহের সামনে স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মন্তাজ আলী ফরহাদ নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী ফরহাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার জয়নগর গ্রামে। তিনি লালবাগের শহীদ নগর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
কারওয়ান বাজার মোড়ের ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ফরহাদের রিকশা। ছবি: রাফসান জানি/নিউজবাংলা

ফরহাদের ফুপা খোকন মিয়া বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালে এসে মরদেহ শনাক্ত করি।’

তিনি জানান, ফরহাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসজুড়ে বাসা ভাড়ার অসংখ্য লিফলেট দেখা গেলেও বাসা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

৭ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু একটি যুতসই বাসা খুঁজে পাওয়া এখন তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ।

ছেলেদের কোনো হল না থাকায় এবং মেয়েদের একমাত্র হলটি চালু না হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন বিপদে। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ক্যাম্পাসের আশপাশে হন্যে হয়ে বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ঢাকার মেস ছেড়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণত প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পর পুরান ঢাকায় বাসা ভাড়ার একটা চাপ পড়ে। তবে এবার সব বর্ষের শিক্ষার্থী হন্যে হয়ে বাসা খোঁজায় সেই চাপ কয়েক গুন বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেশি টাকা ভাড়া দাবি করছেন বাড়িওয়ালারাও। এ ছাড়া মানসম্মত বাসা, পড়ার পরিবেশ আছে এমন বাসা খুঁজে পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাসা খুঁজে বেড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘করোনার সময় বাসা ছেড়েছিলাম। ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস খুললে এসে বাসা নেব। কিন্তু এখন এসে কোনো বাসায়ই সিট পাচ্ছি না। সব পূরণ হয়ে গেছে। বাসা খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত। সামনে আবার পরীক্ষা!’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে ঢাকায় আসায় বাড়িওয়ালারা আগের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছে। জামানতও বেশি দাবি করছে৷ করোনায় আমাদের আর্থিক অবস্থাও খারাপ। তাই কোনো কিছুই হিসাবে মিলছেনা।’

গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা বলেন, ‘মেয়েদের বাসা খুঁজে পাওয়া অনেকটাই মুশকিল হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়েও হলটি খুলে দিচ্ছে না। হল খুলে দিলে আমাদের আবাসন সঙ্কট অনেকটাই কেটে যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তিথি। পরীক্ষার রুটিন পেয়ে গাইবান্ধা থেকে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন। টানা পাঁচ দিন পুরান ঢাকার অলি গলি ঘুরেও কোনো বাসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফার্মগেটের একটি মেসে সিট নিয়েছেন।

তামজিদ ইমরান অর্নব নামে এক জবি শিক্ষার্থী মনে করেন, ছাত্রী হল চালু হলে ৮০-১০০টি বাসা ফাঁকা হয়ে যাবে। তখন বাসার চাহিদা কমে গেলে বাজেট অনুযায়ী ভাল একটা বাসা পেতে সুবিধা হবে ছেলেদের।

বাসা খুঁজে হয়রান শিক্ষার্থীরা বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনলাইনেও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপে অনেকেই সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ক্যাম্পাস খুলবে এই আশায় বাসা ছাড়েনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মিমি। তাই করোনার সময় বাড়িতে থেকেও প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া মাসে মাসে ভাড়া পরিশোধ করেও ফিরে এসে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টর স্যারের সাথে আগামীকাল বসবো। আমরা আলোচনা করে দেখি বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আর এডভান্সের ব্যাপারটার সমাধান করা যায় কিনা। এর আগেও প্রক্টর স্যার এমন সমস্যার সমাধান করেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করবো যেন ভাড়াটা পূর্বে যেরকম ছিলো সেইরকমই রাখে। আর অ্যাডভান্স শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেন বেশি না নেয়।’

এ ছাড়াও বাসাভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানাতে বলেন তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের যেনো মেস বাসা খুঁজতে সমস্যা না হয়, সেজন্য পরীক্ষার আগে চার সপ্তাহ সময় দেয়া হবে। সে অনুযায়ীই গত ৭ সেপ্টেম্বর আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
এবার জজ কোর্টে পরীমনির জামিন আবেদন
হেলেনার পাশে পরীমনি
আমি অসুস্থ হয়ে মরে যাব: পরীমনি
কথা বলার দরকার নাই, জামিন করান: পরীমনি
আদালতে পরীমনি, হবে না জামিন শুনানি

শেয়ার করুন