× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বিনোদন
I am a very private person Mehzabin
hear-news
player
print-icon

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন

আমি-খুবই-প্রাইভেট-একটা-পারসন-মেহজাবীন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি যদি আমার প্রাইভেট লাইফ পাবলিক করি, তাহলে আমার কাজের কথার পাশাপাশি প্রাইভেট লাইফ নিয়েও উত্তর দিতে হবে। সবার বাড়তি কৌতূহল, সেটার প্রয়োজন নেই। আমি দর্শকের কাছে শিল্পী হিসেবে কাজ করি। সেটা নিয়ে কথা বলব।’

উইকিপিডিয়া বলছে, ২০০৯ সাল থেকে অভিনয় শুরু করেছেন মেহজাবীন। তবে মেহজাবীন নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তার কাজ শুরুর সাল ২০১০। সেই হিসাবে অভিনয়জীবনের এক যুগ পূর্তির দোরগোড়ায় মেহজাবীন।

শুধু তা-ই নয়, মেহজাবীন কতটা জনপ্রিয়, তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায় তার অভিনীত নাটকের ভিউ দেখে।

মেহজাবীনের ৩৩টি নাটক স্পর্শ করেছে কোটি ভিউয়ের মাইলফলক। আর ১০০টি নাটকের প্রতিটি ৫০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে ইউটিউবে।

অভিনেত্রীর এমন আনন্দের সময় নিউজবাংলা কথা বলেছে মেহজাবীনের সঙ্গে।

  • আর কিছুদিন পরেই আপনার ক্যারিয়ায়ের বয়স হবে এক যুগ। প্রথম থেকে দেখলে মনে হয় আপনার ক্যারিয়ার গ্রাফটায় জড়িয়ে আছে শুধু উত্থানের গল্প।

প্রত্যেক মানুষ চায় সে যেন এগিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই আমি চেষ্টা করেছি যেন প্রতিবছর দর্শকদের ভালো কাজ উপহার দিতে পারি, ভালো প্রোডাকশন বা ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে পারি।

একটা নরমাল মানুষের যেমন ইচ্ছা থাকে, সব সময় ভালো কাজ করব এবং ভাবিয়ে দিয়ে যাব দর্শকদের; আমার সেই চেষ্টাই ছিল।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • আপনিও কি এটাই মনে করেন যে ক্যারিয়ারের কোথাও আপনি থামেননি, আটকাননি বা পিছিয়ে যাননি।

যদি ক্যারিয়ারের জায়গা থেকে বলি, তাহলে বলতে হবে, প্রতিবছর ভালোই করেছি, ভালো ভালো কাজ করতে পেরেছি।

কাজের জায়গা থেকে বলব, আমি অনেকটা সফল, অনেক লাকিও বলতে পারেন। দিন দিন আসলে দর্শক বেড়েছে, দর্শক আরও ভালোবাসা দিয়েছে আমাকে। সেই জায়গা থেকে বলব যে, ক্যারিয়ারটা এ রকম একটা গ্রাফে এগিয়েছে।

  • এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমালোচনা শিল্পীকে সমৃদ্ধ করার কথা শোনা গেলেও আপনার কাজ নিয়ে তেমন সমালোচনা দেখা যায় না। এটা কি আপনাকে কখনও ভাবিয়েছে? কেন সমালোচনা হচ্ছে না? আপনি কি এতটাই পারফেক্ট?

আমার জায়গা থেকে আমি বেশ সমালোচনা পেয়েছি, দেখেছি। এখন তো ডিজিটাল মাধ্যমে অনেকে অনেক কথাই লিখছেন। আমি যদি আমার পেজের কথাই ধরি, সেখানে তো অনেক দর্শক আমাকে অনেক ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, আপু, এবার অনেকগুলো রোমান্টিক নাটক হয়েছে, এবার একটু অন্য রকম নাটক করেন।

আপু, আপনাকে কখনও দেখা যায়নি এমন চরিত্রে কাজ করেন বা আপনার এবারের এই কাজটা ভালো লাগে নাই, এ বিষয়ে নজর দেবেন।

আমি তো আমার জায়গা থেকে অনেক ফিডব্যাক পেয়েছি। সেখানে সব সময় ভালো পেয়েছি তা কিন্তু না, অবশ্যই ভালোর সংখ্যাটা বেশি। সবার সব কাজ ভালো হয় না, তা না হলে সে মানুষ হতো না।

কী ধরনের ফিডব্যাক আসছে, সেটা নিয়ে সব সময় আমার নজর থাকে এবং সেখান থেকে কিছু নেয়ার চেষ্টা করি। বিষয়টা আমলে নিই। নিজের সঙ্গে নিজে বোঝার চেষ্টা করি এবং সে অনুযায়ী কাজও করার চেষ্টা করেছি ও করি।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • আমরা লোকমুখে শুনে থাকি আমাদের দেশের স্টাররা সমালোচনা নিতে পারেন না। আপনি তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

সমালোচনা নিতে পারি না- এ কথা যদি সত্যি হতো, তাহলে আমার ক্যারিয়ারের গ্রাফটা সামনের দিয়ে আগাত না। এটা আমি মনে করি।

যেহেতু আমি নিজেকে শুধরিয়েছি, আজকে থেকে ৮ বছর আগের কাজ যদি আপনি দেখেন, তাহলে সেখানে আকাশ-পাতাল তফাত দেখবেন।

এই তফাতটা কেন এসেছে এবং কীভাবে এসেছে? অবশ্যই তখন আমি দর্শকের কাছ থেকে ভালো রেসপন্স পাইনি। আমার একসেন্ট নিয়ে এবং অভিনয় নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। আমি অভিনয় করতে পারি না- এমন অনেক কথা হয়েছে তখন।

এ ধরনের মন্তব্য যখন এসেছে, তখন বিষয়গুলো আমলে নিয়েছি এবং নিজেকে কীভাবে বেটার করা যায়, সেটা চেষ্টা করেছি। কতটুকু পেরেছি সেটা দর্শক বলবে। আমার চেষ্টা সব সময় ছিল, আছে।

আমরা সমালোচনা নিতে পারি না- এটা আমার একেবারেই মনে হয় না। কারণ আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করি, তারা সব সময়ই আলোচনা করি যে, এবারের কাজগুলো ভালো হয়েছে, এ রকম কাজ করা দরকার বা এবারের কাজ ভালো হয়নি।

দর্শকরা যেটা পছন্দ করছেন না, সেটা ভালো করার চেষ্টা শুধু আমি না, আমরা যারা কাজ করছি সবাই করি।

  • এক যুগ হতে যাচ্ছে আপনি অভিনয় করছেন। যদি নাটকে অভিনয় করাটাকে একটা গণ্ডিতে অভিনয় করা বলি, তাহলে কি আপনার কখনও মনে হয়েছে এই গণ্ডিটা পেরিয়ে যাওয়া দরকার।

একেবারেই না। আমি যে জায়গায় এসে এত ভালোবাসা পেয়েছি, সেখানে শেষ পর্যন্ত কাজ করতে চাই। এখন আমার বয়স ও ক্যারিয়ারের বয়স অনেক কম। আগামীতে আমার আরও ভালো কাজ করার সুযোগ আছে।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • এগিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা অনেক রকম হতে পারে। তবে আমি বলতে চাচ্ছি, নাটকে তো অনেক অভিনয় হলো, সিনেমা, ওটিটি বা সীমানা পেরিয়ে নিজেকে মেলে ধরা- এই অর্থে গণ্ডি পেরিয়ে যেতে চাননি আপনি?

এ ধরনের অফার আসে নাই তা না। ওটিটিতে কাজ করার প্রস্তাব প্রতিনিয়তই আসছে। সিনেমার অফার অনেক এসেছে। সীমানা পার করেও অন্য দেশ থেকে আমি অফার পেয়েছি। সেটার ডিটেইল বলতে চাই না। কারণ সেগুলো অন্য কেউ করেছে এবং সেগুলো ভালোও হয়েছে।

না করার কারণ হলো, আমি কোনো কাজ করলে সেটা সবচেয়ে ভালো করে করতে চাই। কোনো কাজ যদি আমার কমফোর্টের বাইরে থাকে, সে কাজটা আমি করতে চাই না। প্রত্যেকের সব কাজ করতে হবে, সেটা আমি মনে করি না।

  • আপনি কি এমন বলতে চাচ্ছেন যে, নাটকে আপনি চা বিক্রেতা, রাস্তার শিল্পী, চাঁপাবাজ, গরিব ঘরের বউ, ট্রাফিক পুলিশ, স্বাস্থ্যবান মেয়ে, দাঁত উঁচু মেয়ে, মানসিক রোগীর মতো চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করছেন। নিজেকে আরও বেশি প্রমাণ করতে আপনার অন্য কোনো মাধ্যমে কাজ করার প্রয়োজন নেই।

এটাই যে আমার শেষ, তা কিন্তু না। আমি হয়তো আরও সুযোগ পাব, আরও অনেক কিছু করতে পারব, সেটার জন্য আমাকে সময় দিতে হবে বা আমার ক্যারিয়ারের বয়সটাও হতে হবে।

  • মেহজাবীন, এমন কি হচ্ছে যে আপনি চমকে যাওয়া বা মুগ্ধ হওয়া ভুলে যাচ্ছেন। চরিত্র বা গল্প শুনে আপনি আর শিহরিত হচ্ছেন না।

শিহরিত হয়ে যাওয়ার মতো গল্প বা চমকে ওঠার মতো গল্প আমাদের বছরে বা দুই বছরে বা তিন বছরে একটা-দুইটাই পাওয়া যায়। এটাই আমাদের এখানকার সিনারিও।

এ জন্যই কয়েক বছর পরপর আমাদের এখানে বড় করে একটা কিছু হিট হয় এবং তারপর একটা সময় যায় যখন তেমন কিছু হিট হচ্ছে না, আবার নতুন করে কিছু একটা বের হয়ে আসে।

আমার সৌভাগ্য এমন কিছু কাজ আমি করতে পেরেছি, যেটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়েছে এবং কিছু কাজ আছে সেগুলো মানুষ পছন্দ করেনি।

আমরা দেখি বিদেশি কাজ আর সেটা তুলনা করতে চাই আমাদের কাজের সঙ্গে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। খরচ করার সুযোগ থাকে না বলে স্ক্রিপ্ট রাইটার থেকে শুরু করে পরিচালক সবাই তাদের চিন্তা থেকে সরে আসেন।

আমরা দেখছি কনটেন্টের চরিত্র মহাকাশে চলে গেছে আর আমরা নাটকে দেখছি দুটি রুমের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এর কারণ বাজেটস্বল্পতা।

আপনি যদি বলেন আমার মুগ্ধতা কমছে কি না, আমি বলব অবশ্যই কমছে, কারণ আমি হয়তো প্রতি রাতে নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট দেখছি কিন্তু কাজ করছি পার্কের মধ্যে দাঁড়িয়ে। তো আমার মুগ্ধতা বেশি থাকবে কী করে।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • এখন আপনার চ্যালেঞ্জ কী?

আমি আরও বড় স্কেলের কাজ করতে চাই। সেটা সিনেমা, ওটিটি বা নাটকে হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের কাজ করতে চাইলে সময় লাগবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো সিনেমা নিয়ে ভাবা যাবে। অনেকে এখন অনেক বড় কাজ স্ক্রিপ্ট করে রেখেছে, সেগুলো করতে পারবে।

  • সিনেমা নিয়ে আপনার কোনো অ্যালার্জি তো নেই?

একদম না। এ ধরনের কোনো কথা আমার মুখ থেকে কখনোই বের হয়নি। অনেকে এটা ধারণা করেন বা ধারণায় বলেন। যেহেতু অনেক বছর ধরে শুধু নাটক করছি, এ জন্য হয়তো অনেকে এটা ধরে নিয়েছে।

আমি ভালো চরিত্র করার জন্য পাগল। সেটা যেই মাধ্যমে হোক না কেন।

  • ফিরে দেখেন কখনও জীবন?

আমি তো খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আমি যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি প্রতিটি সিদ্ধান্তে অনেক স্যাটিসফাইড। আমি মনে করি, আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

২০১০ সালেই আমি ফিল্মের অফার পেয়েছিলাম। যদি সেই ফিল্মটা করতাম এবং সেটা যদি ভালো না হতো, তাহলে হয়তো ফ্লপ সিনেমার অভিনেত্রী হয়ে থেকে যেতাম।

আমি আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে এমন অনেক নাটকেই অভিনয় করেছি, যেগুলো কোনো ফিডব্যাক আনেনি, আমার সমালোচনা হয়েছে। আমি সেগুলো পজিটিভলি নিয়ে নিজের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • নাটকে অভিনয় না করলে আপনি কী করবেন?

প্রথমত, এমনটা আমি কখনও ভাবিনি। আমি ছোট ছোট করে হয়তো কাজ করতে পারব। ফিউচারে কী হবে সেটা জানি না। অভিনয়টাই করতে চাই।

আর অভিনয়টা যদি না করতে পারি, তাহলে সিচুয়েশন বলে দেবে কী করা যাবে। শিল্পীদের একসময় পরিচালক হওয়ার সুযোগ থাকে, আমি জানি না কখনও পরিচালক হব কি না। আমি ইনটেরিয়র করতে পারি খুব ভালো। তো এমন অনেক কিছুই করার সুযোগ থাকবে আশা করি।

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি আপনাকে অনেকে মেহু বলে ডাকে। নামটা কেমন লাগে? এটা কি ভক্তের দেয়া?

এটা ভালোবাসার নাম। আমার ভক্তরা আমাকে এই নামে ভালোবেসে ডেকেছেন। এটা বড় একটা পাওয়া।

আমরা তখনই একজনকে ছোট নামে ডাকি, যখন সে খুব আপন হয়ে যায়। তারা যে আমাকে আপন করে নিয়ে এই নাম দিয়েছেন, এটা আমার অনেক ভালো লাগার জায়গা। তবে প্রথম দিকে একটু অবাক হয়েছিলাম।

জাস্ট দুই দিন আগে আমি একটি স্টোরে গিয়েছিলাম কেনাকাটার জন্য। সেখানে কেউ একজন ফোনে কাউকে মেহু বলে ডেকেছে। সেটা শুনে আমি ফিরে তাকিয়েছি, ভেবেছি আমাকে ডাকল নাকি। এটা এখন আমার মধ্যে মিশে গেছে।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • জীবনের নানা ধাপ হয়তো থাকে। সংসার করার কথা কিছু ভাবেন কি না?

এখনও আমি একটি সংসারই করছি বলব। কারণ, সংসার তো শুধু স্বামীর সংসার, তেমনটা আমি মনে করি না। আমার বাবা-মায়ের সংসারটাও আমার সংসার।

ভবিষ্যতে যখন আমার বিয়ে হবে, তখন আমি দুটো সংসার করব, আমি এটা মনে করি। প্রত্যেক মানুষকেই এটার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সময়-সুযোগ ও সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা যখন হবে, তখন নিশ্চয়ই আমিও এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাব।

  • আপনাকে নিয়ে একটা গুঞ্জনই শোনা যায়। এটা নিয়ে আপনার পরিষ্কার কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। সম্পর্কে জড়ানো খারাপ কিছু না। তেমন কিছু হলে সেটা প্রকাশ করাটাই তো স্বাভাবিক।

এ ব্যাপারে বলতে চাই, গুঞ্জনটা আসলে আমি তৈরি করিনি। এর সঠিক উত্তরটা আমি দিতে পারব না।

আমি আমার প্রাইভেট জীবনটাকে প্রাইভেট রাখতে খুব পছন্দ করি। আমার ফ্রেন্ড সার্কেলটাও খুব ছোট। মিডিয়া ফ্রেন্ডও আমার তেমন নেই। সেটাকে আমি ছোটই রাখতে চাই।

আপনি কখনোই আমাকে দেখবেন না, অমুক জায়গায় তমুক জায়গায় বা অমুক পার্টিতে বা কোথাও আমাকে দেখা যায় না। আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন।

আমি যদি আমার প্রাইভেট লাইফ পাবলিক করি, তাহলে আমার কাজের কথার পাশাপাশি প্রাইভেট লাইফ নিয়েও উত্তর দিতে হবে। সবার বাড়তি কৌতূহল, সেটার প্রয়োজন নেই। আমি দর্শকের কাছে শিল্পী হিসেবে কাজ করি। আমি ভালো কাজ করতে পারছি কি পারছি না, সেটা নিয়ে কথা বলব। আমার ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে, সেটা নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। এটাই আমার ধরন।

আমি খুবই প্রাইভেট একটা পারসন: মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • আপনার অভিনীত ৩৩টি নাটক স্পর্শ করেছে কোটি ভিউয়ের মাইলফলক। আর ১০০টি নাটকের প্রতিটি ৫০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে ইউটিউবে। কেমন লাগছে।

আমি কি জানতাম এমন হবে। সবই দর্শকের ভালোবাসা। এই বিষয়গুলো আমার দর্শকরা আমাকে জানান বা ফেসবুকে পোস্ট করে বলে আমার চোখে পড়ে।

নিজে কয়টা নাটক করেছি, সেটার কোনো হিসাব নেই। গতকালই জানতে পারলাম কোটি আর ৫০ লাখ ভিউয়ের বিষয়টি।

দর্শকরা যে এই হিসাবটা রাখছেন, তারা এটার লিস্ট করেছেন, সেটা ফেসবুকে দিচ্ছেন, নানা জায়গায় পোস্ট করছেন। তারা যে এই সময়টা দিচ্ছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিনোদন
Black smoke coming back

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশ কিছু যানবাহনে সিএনজি বাদ দিয়ে ডিজেলে চালানোর প্রবণতাকে বায়ুদূষণের জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা
দুই দশক পর রাজধানীতে আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে সেই কালো ধোঁয়া। কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশকিছু যানবাহনের সিএনজি ছেড়ে ডিজেলে ফেরার প্রবণতাকে এ জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, তাদের কাছে কালো ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র নেই, তাই যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

চলতি শতকের শুরুতে রাজধানীবাসীকে বায়ুদূষণ থেকে বাঁচাতে সড়ক থেকে টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনের সব যানবাহন তুলে দিয়ে চালু করা হয় ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন বাহন। পাশাপাশি বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে পেট্রল-ডিজেলের পরিবর্তে শুরু হয় কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজির ব্যবহার। এতে নগরীর বায়ুদূষণ পরিস্থিতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আসে।

২০০০ সালের আগের ঢাকার বাতাস ছিল গাড়ির কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। নাক-কান জ্বালা করা কিংবা শ্বাসজনিত নানা রোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। জ্বালানি হিসেবে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসে।

দুই দশক পর রাজধানীতে আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে সেই কালো ধোঁয়া। কয়েক বছর ধরে বাস, ট্রাকসহ বেশকিছু যানবাহনের সিএনজি ছেড়ে ডিজেলে ফেরার প্রবণতাকে এ জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি হিসেবে সিএনজি ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ কমে আসে। তবে এতে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ুষ্কালও একই সঙ্গে কমে যায়। পাশাপাশি ডিজেল এবং সিএনজির দামে পার্থক্যও অনেক কম। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবে যেগুলো বড় পরিবহন হিসেবে পরিচিত, যেমন: বাস বা ট্রাক, এ বাহনগুলোতে ডিজেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

ফিরে আসছে কালো ধোঁয়া

জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়ামের পরিবর্তে সিএনজি ব্যবহার করলে কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

তেলচালিত এসব বাহন ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এগুলো বাতাসে ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সড়কে চলাচল করা বাস, ট্রাক, পিকআপ বা সরকারি মালিকানাধীন গাড়িগুলোই কালো ধোঁয়ার প্রধান উৎস।

২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর টু-স্ট্রোক বেবি ট্যাক্সিসহ পুরাতন যানবাহন বন্ধের পর এক দিনে ঢাকার বায়ুতে দূষণের মাত্রা কমে যায় প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ২০১৩ সাল থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে। গত নয় বছরে সেই দূষণ বাড়তে বাড়তে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্তত ৪০ ভাগের জন্য দায়ী এই কালো ধোঁয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বায়ুদূষণের একটি বিরাট অংশ যানবাহন থেকে আসে। আমরা যে তিনটি মেজর সোর্স ধরি বায়ুদূষণের তার মধ্যে কালো ধোঁয়া, একটি ব্রিক ফিল্ড এবং কনস্ট্রাকশন। গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে যেটা আসে এটা প্রায় ৪০ শতাংশ।’

কালো ধোঁয়া কী এবং কেন বের হয়?

গাড়ির ইঞ্জিন মূলত জ্বালানি তেল পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে যেটি দিয়ে গাড়িটি চলে। কালো ধোঁয়া হলো এই জ্বালানির না পোড়া অংশ। সাধারণত গাড়ি পুরাতন হয়ে গেলে এবং এটিকে ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে এই কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘কালো ধোঁয়া মূলত দুই কারণে বের হয়। গাড়ি যত পুরাতন হতে থাকে এর কর্মক্ষমতাও কমতে থাকে। গাড়িতে যে তেল ব্যবহার করা হয় সেটা থেকে তার এনার্জি তৈরি হয়। কিন্তু গাড়ির কর্মক্ষমতা কমে গেলে এই তেলটা কমপ্লিট বার্ন হয় না বা কনভার্সন হয় না। যখনই এটা হয় না, তখনই তার একটি অংশ একজস্টের সাথে বের হয়ে আসে। এটাকে বলে ইনকমপ্লিট কনভার্সন।

‘গাড়ির একটি রেগুলার মেইনটেন্যান্স প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি হলে নিয়মিত প্রতি ৩ হাজার কিলোমিটার চলার পর মোবিল পরিবর্তন করা। এটা করা হয় না। এ কারণে গাড়ির যে লুব্রিকেটিং ফাংশন, এটা ঠিকভাবে কাজ করে না। সেখান থেকে পলিউশন হয়।’

অনেক সময় তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের গুণগত মান ঠিক না থাকলেও কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে। অধ্যাপক সালাম বলেন, ‘আবার যে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, সেটাও অনেক সময় ভালো মানের থাকে না। এটাও দূষণের কারণ। মুলত এই তিন কারনে কালো ধোয়াটা তৈরি হয়।

‘কালো ধোঁয়ার একটি বড় অংশ হলো টক্সিক কার্বন। এটা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং মানুষের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এতে থাকে অনেকগুলো ক্ষতিকর উপাদান যেমন হাইড্রো কার্বন, কাবন মনোঅক্সাইড এবং জ্বালানি তেলের আনবার্ন্ট কিছু অংশ। এগুলো প্রত্যেকটাই খুব ক্ষতিকর।’

কালো ধোঁয়ার ক্ষতি রোধে বেশ কয়েকটি পরামর্শও দেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন যেটা করতে হবে, গাড়ির জ্বালানিটি কোয়ালিটি ধরে রাখতে হবে এবং গাড়ি নিয়মিত মেইনটেন্যান্স করতে হবে। মূলত পুরাতন গাড়িই এর জন্য দায়ী।

‘আমাদের এখানে নিয়ম আছে যে ২০ বছরের পুরাতন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। এখন এটা ঠিক মতো মেইনটেইন করা হয় কিনা জানি না। পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।’

কালো ধোঁয়া যে ক্ষতি

আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও কালো ধোঁয়া মুলত মানুষের ফুসফুস ক্যান্সারের একটি বড় কারণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্বের একটি বড় কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কালো ধোঁয়া মানেই হলো কার্বন মনোঅক্সাইড, ডাই-অক্সাইড এবং ধাতব পদার্থ– মূলত সিসা। এগুলো মানুষের শরীরে গেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় এবং এক ধরনের প্রদাহ তৈরি করে। এর ফলে আমাদের শ্বাসতন্ত্রীয় রোগগুলো বেড়ে যায়।

‘এর মধ্যে হাঁপানি কাশি ও কারও কারও অ্যাজমাটিক সমস্যাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এটি গ্রহণে আমাদের ফুসফুসে ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। কার্বন মনোক্সাইড শরীরে শোষিত হয়ে আমাদের লিভার ও কিডনিতে জটিলতা তৈরি করে এবং নারী পুরুষের বন্ধ্যাত্ব তৈরি করতে পারে। বায়ু দূষণের একটি বড় উপাদান এই কালো ধোঁয়া। শিশুদের জন্য এর প্রভাব মারাত্মক। এটি আমাদের বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ এফেক্ট বাড়িয়ে দেয়। এর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ে, জলবায়ূ পরিবর্তনে প্রভাব রাখে।’

দায় এড়াচ্ছেন পরিবহন মালিক ও ট্রাফিক বিভাগ

কালো ধোঁয়ার ক্ষতি জানার পরেও এটি ছড়ানোর দায় নিতে চায় না পরিবহন মালিকরা। তাদের দাবি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিতই সদস্যদের তাগাদা দেয়া হয়।

পরিবহন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সতর্কতার কথা সব সময় বলা হয়। এটা তো মালিকের বিষয় না। পাম্পের তেলের সমস্যার কারণে অনেক সময় কালো ধোঁয়া হয়।

‘কালো ধোঁয়া পেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়। বাসে কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ম্যাক্সিমাম গাড়ি তো খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে না। কয়েকটি গাড়ি দিয়ে তো সবগুলোকে মূল্যায়ন করা যায় না। আমরা সব সময় বলি গাড়ি ঠিক রাখার জন্য। যারা করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেক। আমরা সব সময়ই বলে থাকি।’

দেশের মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হলে তা জরিমানাসহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অবশ্য খালি চোখে কালো ধোঁয়ার সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্রের অপেক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক বিভাগ। তাদের দাবি, কালো ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় চাইলেও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো যানকে জরিমানার আওতায় আনা যাচ্ছে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে অ্যাকশন নিতে হলে আমাদের ধোঁয়া পরিমাপক যন্ত্র লাগবে, সেটা আমাদের দেশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ধোঁয়ার নির্ণয়ক মান নির্ধারণ করে দেয়া আছে, কিন্তু আমরা তো খালি চোখে সেটা মাপতে পারব না।

‘তাই দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আমরা এই ব্যাপারে একেবারেই নিরুপায়। তবে ধোঁয়া ডিটেকটরের জন্য ট্রাফিক বিভাগ ইতোমধ্যেই সরকারের কাছে আবেদন করে রেখেছে। এটা পেলেই আমরা কালো ধোঁয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করতে পারব।’

২০২১ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি।

আরও পড়ুন:
বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত
আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী বর্নিকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
অল্প বৃষ্টিতেই স্কুলের মাঠে জমে হাঁটু পানি
পদ্মা সেতু খুলছে ২৫ জুন

মন্তব্য

বিনোদন
After two years the Hajj camp in Ashkona is in full swing

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে রোববার দুপুরে রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
৩১ মে থেকে হজযাত্রা শুরু হবে। তাই ঢাকার হজক্যাম্পে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি। রোববার দুপুরে হজ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ রং করছেন দেয়ালে। কেউবা বাথরুম ঠিক করছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় দেয়ালে প্লাস্টার করতে।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর হজযাত্রা বন্ধ ছিল। তাই কোনো ব্যস্ততা ছিল না রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজযাত্রায়।

আর কয়েক দিন পরই শুরু হবে হজ ফ্লাইট। তাই ধুয়ে-মুছে সাফসুতরো করার কাজ চলছে হজক্যাম্পে।

রোববার দুপুরে হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ রং করছেন দেয়ালে। কেউবা বাথরুম ঠিক করছেন। কয়েকজনকে দেখা যায় দেয়ালে প্লাস্টার করতে।

সেখানে কাজ করা শ্রমিক আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১২ থেকে ১৪ দিন ধরে এখানে সব ধরনের স্যানিটারির কাজ করছি। এই কাজ করছেন ৬০ জনের বেশি শ্রমিক। দুই দলে ভাগ হয়ে কাজ করছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে আমাদের। ক্যাম্পের ভেতরে সব রুম, বাথরুম থেকে শুরু করে পুরা হজক্যাম্প পরিপাটি করা হচ্ছে।’

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্প। ছবি: নিউজবাংলা

হজযাত্রীদের সেবা দিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ৫৩২ কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর সৌদি আরবের বাইরের কেউ হজ করার সুযোগ পাননি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সৌদি সরকার এবার সারা বিশ্বের ১০ লাখ মানুষকে হজ পালনের অনুমতি দিচ্ছে।

এবার সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজটি হলো ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। আর সর্বনিম্নটি হলো ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা।

প্রথম হজ ফ্লাইট ৩১ মে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা। শুরুর ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব ও হজ অফিস ঢাকার পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজযাত্রী বেসরকারিভাবে এবং ৪ হাজার সরকারিভাবে হজে যাচ্ছেন। আমাদের সময় যেহেতু অল্প, তাই অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে পাশে রেখেই কাজগুলো আমাদের করতে হচ্ছে। আশা করছি সময়মতো সব কিছু আমরা শেষ করতে পারব। এরই মধ্যে নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যাও প্রায় সব পেয়ে গেছি।’

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে যাবেন। এর আগের কয়েক দিনে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ যাত্রীরা যাবেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘হজক্যাম্পকে আগের থেকে অনেক পরিপাটি করা হয়েছে। আমাদের মসজিদে এসি ছিল না। ডরমেটরিতে এসি ছিল না। গরমের কথা বিবেচনা করে আমরা চিন্তা করছি এসি না থাকলে সম্মানিত হজযাত্রীরা কষ্ট পাবেন। এ জন্য আমরা সব ব্যবস্থা করেছি।

দুই বছর পর রং চড়ছে আশকোনার হজক্যাম্পে

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর হজযাত্রা বন্ধ থাকার পর এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন হজযাত্রায়। তাই রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। হজক্যাম্পের ভেতরে ধোয়া-মোছার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রীরা শুধু এখানে বোডিং কার্ড নিতেন এবং ইমিগ্রেশন হতো। এখন সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীরাও এখানে আসবেন। এখানে চেকিং হবে। তারা বোর্ডিং কার্ড নেবেন এবং ইমিগ্রেশন হবে। সে জন্য এখানে যা যা করা দরকার, স্থাপনা করা দরকার সব করেছি। চট্টগ্রাম ও সিলেট বাদে আমাদের এখান থেকে যত যাত্রী ফ্লাই করবেন, সবাইকে আমরা ইনস্টিটিউটের আওতায় আনতে পারব। তিনটি এয়ারলাইনসেই এখান থেকে হজযাত্রীদের চেকিং, ইমিগ্রেশন হবে।’

হজযাত্রীরা ঢাকার হজক্যাম্পে কবে থেকে আসা শুরু করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৩১ মে ফ্লাইট শুরু হওয়ায় ঢাকার বাইরের যাত্রীদের তিন দিন আগে আসার জন্য আমরা অনুরোধ করব। ঢাকার হাজিদের আমরা বলে থাকি ফ্লাইট ছাড়ার সাত-আট ঘণ্টা আগে এলেই চলবে। আশা করছি হজযাত্রীরা ২৮ মে বিকেলে অথবা ২৯ মে সকাল থেকে আসা শুরু করবেন। তাদের থাকার জন্য সকল ধরণের প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের এখানে দুটা ক্যান্টিন আছে। সেখানে তারা নিজ ব্যবস্থাপনায় খাবেন।’

এবার হজ হতে পারে ৮ জুলাই (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৫৭ হাজার হজযাত্রীর অর্ধেক পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি অর্ধেক বহন করবে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও ফ্লাই নাস।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান এ বছর ৭৫টি ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩১ হাজার যাত্রী বহন করবে। যাত্রী পরিবহনে বিগত বছরগুলোর মতোই বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
হজযাত্রীদের প্যাকেজ নির্বাচনের সময় বাড়ল
হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল
দরপত্রে ‘কারসাজি করে’ ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহজ
হজযাত্রীদের স্বার্থে শনিবার ব্যাংক খোলা
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত

মন্তব্য

বিনোদন
Officers in that department do not want promotion

যে দপ্তরে কর্মকর্তারা পদোন্নতি চান না

যে দপ্তরে কর্মকর্তারা পদোন্নতি চান না
শিক্ষা ক্যাডারের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। কেউ কেউ পদোন্নতি পেলেও ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) নিয়ে নিচের পদে বহাল থেকে চাকরি করছেন।

এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বের করাই তাদের কাজ। অথচ সেই সংস্থাতেই চর্চা হচ্ছে নানা অনিয়ম, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগও। সংস্থাটি হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, শিক্ষা ক্যাডারের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এই অধিদপ্তরে। এদের কেউ কেউ পদোন্নতি পেলেও ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) নিয়ে নিচের পদে বহাল থেকে চাকরি করছেন। কেউ কেউ আবার চাকরি জীবনের বেশির ভাগ সময় ইতোমধ্যে পারও করে দিয়েছেন এই দপ্তরে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এসবের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের প্রতি তিন বছর পর পর বদলি করতে হবে। অর্থাৎ একই দপ্তরে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। বিষয়টি নির্দিষ্ট করে সরকার প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। এ ছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালায়ও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে এক দপ্তর বা সংস্থা থেকে অন্য দপ্তর বা সংস্থায় সরাসরি বদলি না করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। এই মধ্যবর্তী সময়ে তিন বছরের শিক্ষকতা করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এ সরকারের বদলিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করেই চলছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

২০১৫ সালের ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর সই করা ‘মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মচারীদের বদলি’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘একই পদে তিন বছরের অধিককাল যাবৎ নিয়োজিত কর্মচারীকে বাস্তব অবস্থাভেদে অন্যত্র বদলি করতে হবে।’

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি বা পদায়ন নীতিমালা-২০২০-এও বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ২০২০ সালের ২ জুন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দের সই করা নীতিমালায় বলা হয়েছে: ‘কোনো কর্মকর্তা দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থায় একাধিক্রমে তিন বছরের বেশি কর্মরত থাকতে পারবেন না।’

নীতিমালায় আরও উল্লেখ রয়েছে ‘কোনো কর্মকর্তাকে একটি দপ্তর/ অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্প থেকে বদলি করে অন্য কোনো দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থা/প্রকল্পে সরাসরি বদলি করা যাবে না। মধ্যবর্তী সময়ে তাকে কোনো কলেজে ন্যূনতম তিন বছর শিক্ষকতা করতে হবে।’

এসবের চর্চা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে হয় না বললেই চলে। শিক্ষাসংশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ দপ্তরের কর্মকর্তারা চলছেন অনেকটা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো। তাদের যেন কেউ কিছু করতে পারবে না। খোঁজ নিয়েও তাই দেখা গেছে। বিধিমালা লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে থেকে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

দীর্ঘ সময় আছেন যারা

শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার ২৯ কর্মকর্তা কর্মরত আছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা পরিদপ্তরে। আর অধ্যাপক পদমর্যাদার আছেন একজন, যিনি এ দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১০ কর্মকর্তা ন্যূনতম ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন এ দপ্তরে। এদের মধ্যে কেউ কেউ চাকরি জীবনের অর্ধেক সময় এরই মধ্যে পার করে ফেলেছেন।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিপুল চন্দ্র সরকার। যদিও তার মূল পদ উপপরিচালক। ২১তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা ২০১১ সালে শিক্ষা পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন এ দপ্তরে। এরপর মাঝখানে খুবই স্বল্প সময়ের বিরতি দিয়ে ফিরে এসেছেন আলোচিত এ দপ্তরে। প্রায় ১১ বছর ঘুরেফিরে এ দপ্তরেই রয়েছেন এ কর্মকর্তা। এ সময়ের মধ্যে পরিচালকের পদ শূন্য থাকায় তিনি কিছুদিন এ দায়িত্বও পালন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইএ-র এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি মাত্র ১৬ দিন পটুয়াখালী সরকারি কলেজে চাকরি করেন। এরপর আবার ফিরে আসেন ডিআইএতে।’

ডিআইএ-র এ কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে দখল করে আছেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শীর্ষ যুগ্ম পরিচালকের পদ। কারণ পদটি অধ্যাপক পদমর্যাদার। এ বিষয়ে অডিট আপত্তিও দিয়েছিল বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক অফিসের অডিট দল।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিসিএস শিক্ষক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা। তারা বলেন, ‘ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক পদটি অধ্যাপক পদমর্যাদার। অথচ সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার বিপুল চন্দ্র সরকার এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে কি যোগ্য অধ্যাপক নেই যাকে এখানে পদায়ন দেয়া যায়?’

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক টুটুল কুমার নাগ সহকারী পরিদর্শক হিসেবে এ দপ্তরে যোগদান করেন ২০১২ সালে। এরপর ঘুরেফিরে আবার এসেছেন এ দপ্তরেই। দুই দফায় পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন উপপরিচালক। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর।

ড. এনামুল হক সহকারী পরিদর্শক পদে ডিআইএতে যোগদান করেন ২০০৮ সালে। এরপর তিনি দুই দফা থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন। এখন দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষা পরিদর্শক হিসেবে। সবশেষ পদোন্নতি পাওয়ার পর এ কর্মকর্তাকে ‘ইনসিটু পদায়ন’ (আগের পদে পুনর্বহাল) দেয়া হয়। গত ১২ মে এ শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে যশোরের ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে ডিআইএ কার্যালয়ে যায় দুদক।

মো. আলমগীর হাসান ডিআইএতে যোগদান করেন ২০১৮ সালে। কর্মরত আছেন শিক্ষা পরিদর্শক পদে। এরপর থেকে তিনি আছেন এ দপ্তরেই।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ২০১২ সালে, একই পদে প্রলয় দাস, মুহাম্মদ মনিরুল আলম ২০১৬ সালে, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ২০১৫ সালে ডিআইএতে যোগ দেন। আর মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম ও মুকিব মিয়া ২০১৮ সালে যোগ দেন। এর পর থেকে তারা ঘুরেফিরে ডিআইএ-তেই আছেন।

বিষয়টি নিয়ে এসব কর্মকর্তাদের অন্তত ছয় জনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। প্রসঙ্গটি তুলতেই কেউ কেউ মুঠোফোন কেটে দেন, কিংবা পরে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কেউ সাড়া দেননি। এ ছাড়া বাকিদের মধ্যে কেউ আছেন বিদেশে, কেউ ছুটিতে। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কী মধু ডিআইএতে?

বিসিএস শিক্ষা সমিতির একাধিক নেতা জানান, আর্থিক সুবিধা বিবেচনা করলে শিক্ষা প্রশাসনের সবচেয়ে লোভনীয় কর্মস্থল ডিআইএ। এখানে পদায়ন ‘বাগিয়ে নিতে পারলে’ বৈধ ও অবৈধ নানা পন্থায় কা২ড়ি কাঁড়ি অর্থ কামানোর সুযোগ থাকে। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বা তদন্তে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সরকারিভাবে যেমন ভ্রমণভাতা পান, তেমনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকেও নানাভাবে অবৈধ সুবিধা আদায় করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, ডিআইএর কয়েক কর্মকর্তা নিরীক্ষার নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিদর্শনকৃত প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আদায় করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তারা এখানে (ডিআইএ) দায়িত্ব পালন করায় এ দপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এখানে মধু (অর্থ) আছে বলেই তো এরা বছরের পর বছর এখানে চাকরি করছেন।’

সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ডিআইএ'র এক শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্তও গড়িয়েছে। অভিযোগটি এখন দুদকের তদন্তাধীন।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হলো এ মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি আমি অবশ্যই খোঁজ নেব।’

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ্ মো. আজমতগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বদলি করার এখতিয়ার হলো মন্ত্রণালয়ের। এর বাইরে আমার কোনো মন্তব্য নেই।'

নিরীক্ষার নামে পরিদর্শনকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরণের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি, পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাবেক আমলারা কী বলছেন

একই কর্মকর্তারা ঘুরেফিরে একই দপ্তরে দীর্ঘ সময় থাকা এবং বারবার ফিরে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক আমলারা। তারা বলছেন, এটা রীতিমতো সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কীসের জোরে তারা এত দিন একই দপ্তরের নিয়োজিত রয়েছেন? কেনই বা তাদের বদলি করা হচ্ছে না। কী এমন মধু আছে এ দপ্তরে?

জানতে চাইলে সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনিই খোঁজ নিন, কেন তারা একই দপ্তরে এত দিন আছে? ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তা এত বছর একই দপ্তরে থাকবে কেন? এখানে কী মধু আছে? মনে রাখতে হবে বেশি দিন এক জায়গায় থাকলে অনৈতিক অনেক কিছু হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাসচিব থাকাকালে ডিআইএ-এর দুষ্টচক্রের বৃত্ত ভাঙার জন্য পিয়ার ইন্সপেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখনকার সিস্টেমে ৩০ বছর লাগবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্সপেকশন করতে।’

বিষয়টি পরিষ্কার করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পিয়ার ইন্সপেকশনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাশ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে অডিট করবেন, সেই প্রতিবেদন আসবে ডিআইএ-তে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। কে কোন প্রতিষ্ঠান অডিট করবেন তাও কম্পিউটারের মাধ্যমে সংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। ডিআইএ কর্মকর্তারা মাঠে পরিদর্শনে যেতে পারবেন না। তারা শুধু প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ করবেন। শুধু ওই প্রতিবেদনের বিশেষ প্রয়োজনে তারা ইন্সপেকশনে যাবেন। তারা (ডিআইএ কর্মকর্তারা) খালি টাকাপয়সা নিয়ে ইন্সপেকশন করে। এদের নানা বদনাম আছে।’

দীর্ঘদিন একই দপ্তরে কর্মরত থাকাকে অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অনিয়ম এবং সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। তাদের বদলি করা উচিত। সব সরকারি কর্মচারীর জন্য একই বিধান। তাদের (শিক্ষা ক্যাডার) ক্ষেত্রে কেন আলাদা হবে। যদি তার বা তাদের পরিবর্তে কাজ করার মতো কেউ না থাকে তাহলে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশে নিশ্চয়ই এ ধরনের কাজ (অডিট পরিচালনা) করার মতো অনেক লোক আছে।’

তদন্ত চায় টিআইবি

একই দপ্তরে একই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চাকরি করলে ‘যোগসাজশ ও অনিয়ম’-এর সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন ‘বছরের পর বছর একই দপ্তরে থাকা- অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। কেন তারা দীর্ঘদিন একই দপ্তরে কর্মরত আছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে। কেননা একই ব্যক্তি যদি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থাকেন তাহলে যোগসাজশ ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ জন্য আমরা মনে করি এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্তর্নিহিত কোনো কারণ আছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।

‘যাদের কাজ জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তারা যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। এ জন্য বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) কাছে দাবি জানাচ্ছি’, বলেন ইফতেখারুজ্জামান।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার
শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দাবি
প্রাথমিকে স্কুলেই গান শেখানোর উদ্যোগ

মন্তব্য

বিনোদন
What to do if you are scared of monkeypox

মাঙ্কিপক্স কতটা ভয়ের, আক্রান্ত হলে কী করবেন

মাঙ্কিপক্স কতটা ভয়ের, আক্রান্ত হলে কী করবেন কঙ্গোয় মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত এক যুবকের ফুসকুড়ির নমুনা নিচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রা বেশ কম। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোভিড-১৯ মহামারির আতঙ্ক পুরোপুরি না কাটতেই মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০ মে দেয়া বিবৃতি অনুসারে, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সন্দেহভাজন আরও ৫০ রোগী পর্যবেক্ষণে আছেন। মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে মাঙ্কিপক্স কোনো নতুন রোগ নয়। ভাইরাসজনিত রোগটির প্রাদুর্ভাব পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। এবার ইউরোপ ও আমেরিকাতেও বেশ কয়েকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে ভাইরাস ছড়ানোর গতি বেড়েছে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, ‘আমরা গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রবেশ করছি, এর সঙ্গে গণজমায়েত, উৎসব ও পার্টির সংখ্যা বাড়ছে। এতে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে আমি উদ্বিগ্ন।’

এর আগে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতেও কঠোর লকডাউন ও গণজমায়েত নিয়ন্ত্রণের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিল ডব্লিউএইচও। তবে তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্বের প্রতিটি দেশই পরে সেই পথ থেকে সরে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খোলা এলাকার পরিবর্তে আবদ্ধ পরিবেশেই করোনা ভাইরাসের কার্যকারিতা ও বিস্তার বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সের বিস্তারের ধরন পর্যালোচনায় বোঝা যায় বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা বলতে গেলে নেই। তবে মাত্র বছর দুয়েক আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণেই রোগটি নিয়ে বাড়তি ভীতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রাও বেশ কম। কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোন ভাইরাস দায়ী

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিরল রোগ মাঙ্কিপক্সের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। এটি পক্সভিরিডাই পরিবারের অর্থোপক্সভাইরাস গণের অন্তর্গত। এই অর্থোপক্সভাইরাস গণের মধ্যেই রয়েছে ভ্যারিওলা ভাইরাস, যা গুটিবসন্তের জন্য দায়ী। আবার এই গণের অন্তর্ভুক্ত ভ্যাক্সিনিয়া ভাইরাস গুটিবসন্তের টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই মাঙ্কিপক্সের ক্ষেত্রে গুটিবসন্তের মতো উপসর্গ দেখা যায়।

আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা।

অবশ্য মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ার এক যুগ আগে ১৯৫৮ সালে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। সেবার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় গবেষণার জন্য আটকে রাখা বানরের দেহে গুটিবসন্তের মতো রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি গুটিবসন্তের ভাইরাসের চেয়ে কিছুটা আলাদা। আর এর পরই ভাইরাসটির নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় মানুষের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্তের কিছুদিনের মধ্যে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকান আরও অনেক দেশ যেমন ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোত ডে ভোয়া, গ্যাবন, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো এবং সিয়েরা লিওনে মাঙ্কিপক্সের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বেশির ভাগ সংক্রমণের ঘটনা অবশ্য ঘটেছিল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়।

ছয় দশকেরও বেশি আগে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হলেও এর প্রাকৃতিক পোষক সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন। কেউ কেউ ধারণা করেন, আফ্রিকান ইঁদুর বা বানরজাতীয় প্রাণী ভাইরাসটির পোষক হতে পারে। আর সেসব প্রাণী থেকেই মাঙ্কিপক্স মাঝেমধ্যে মানুষে সংক্রমিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু প্রাণীকে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের পোষক হিসেবে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে দুই প্রজাতির কাঠবিড়ালি (রোপ স্কুইরেল ও ট্রি স্কুইরেল), গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুর, ডর্মিস এবং বানর।

সংক্রমণ

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়। এ ছাড়া মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও এই রোগের অস্তিত্ব রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোয় ভ্রমণ ও আমদানি করা প্রাণীর মাধ্যমে বিশ্বের আরও কিছু দেশে বিভিন্ন সময়ে মাঙ্কিপক্সের অল্পবিস্তর সংক্রমণ দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। টেক্সাসে ঘানা থেকে আমদানি করা পশুর একটি চালান থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গত বছরের নভেম্বর ও জুলাইয়েও মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকার ১১টি দেশে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬-৯৭ সালে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় বেশ বড় একটি প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার ছিল বেশ কম। ২০১৭ সালে নাইজেরিয়ায় ৫০০-র বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। সেখানে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। নাইজেরিয়া থেকে ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরেও মাঙ্কিপক্সের বিস্তার ঘটেছিল।

মাঙ্কিপক্সের ভাইরাসের সঙ্গে গুটিবসন্তের ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় গুটিবসন্তের টিকা দুটি ক্ষেত্রেই সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূলের ঘোষণা দেয়ার পর বিভিন্ন দেশে এই টিকাদান বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সুযোগে মাঙ্কিপক্স জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় অর্থোপক্স ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত কোনো প্রাণীকে স্পর্শ করলে বা সেটি কামড় দিলে অথবা ওই প্রাণীর রক্ত, শরীরের তরল, ফোসকা স্পর্শ করলে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

সংক্রমিত প্রাণীর মাংস ভালোভাবে রান্না না করে খেলেও মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া সংক্রামিত প্রাণীর চামড়া বা পশম স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না এনএইচএস।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, মাঙ্কিপক্সের কারণে ফুসকুড়িতে আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক, বিছানা বা তোয়ালে স্পর্শ করা যাবে না। এ ছাড়া মাঙ্কিপক্সজনিত ফোসকা বা চলটা স্পর্শ না করার পাশাপাশি ফুসকুড়ি থাকা ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দীর্ঘক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির মুখোমুখি অবস্থান করলে তার হাঁচি-কাশির ড্রপলেট বা অণুকণার মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তিও ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন। এ কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে মা থেকে ভ্রূণে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। জন্মের সময় এবং পরে মায়ের সান্নিধ্যে থাকা সন্তানও ঝুঁকির বাইরে নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজনের ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা।

ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বা দূষিত পদার্থ স্পর্শের মতো ঘনিষ্ঠ সংযোগের (সংক্রমিত ত্বকের ক্ষত, নিঃশ্বাসের ড্রপলেট বা শরীরের তরল স্পর্শ) মাধ্যমে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড হেম্যানও সতর্ক করে বলছেন, ‘এখন যা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে তা হলো এটি (মাঙ্কিপক্স ভাইরাস) যৌন ক্রিয়াকলাপ বা যৌনাঙ্গের মাধ্যমে কিছু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যৌনতার মাধ্যমে সংক্রমণের কারণেই সারা বিশ্বে ভাইরাসটির ছড়ানোর মাত্রা বেড়ে গেছে।’

তবে মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ধারণাটি সুপরিচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ঝুঁকির এই দিকটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

লক্ষণ উপসর্গ

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছে, মাঙ্কিপক্সের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে। এরপর রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের এক-দুই সপ্তাহের আগে বাহ্যিক কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

মাঙ্কিপক্স ত্বকে গুটিবসন্তের মতো ক্ষত তৈরি করে, তবে লক্ষণগুলো সাধারণত গুটিবসন্তের তুলনায় মৃদু। আক্রান্তরা প্রাথমিকভাবে সাধারণ জ্বর ও মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। কারও কারও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। লক্ষণ প্রকাশের ১ থেকে ১০ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তা পুঁজ ভরা ফোসকায় পরিণত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটের তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সংক্রমণ থেকে উপসর্গের সূত্রপাত পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান) সাধারণত ৬ থেকে ১৩ দিন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৫ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ভাইরাস আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত) জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি (লিম্ফ নোডের ফোলা), পিঠ ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। জলবসন্ত, গুটিবসন্ত বা হামের ক্ষেত্রে এ ধরনের সব লক্ষণ থাকলেও লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি দেখা যায় না।

জ্বরের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়। কাঁধের চেয়ে মুখ ও হাতের দিকে ফুসকুড়ি থাকে বেশি। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ৯৫ শতাংশের মুখমণ্ডলে ফুসকুড়ি বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া হাতের তালু, পায়ের তলা, মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লি, যৌনাঙ্গ, এমনকি চোখের কর্নিয়াও আক্রান্ত হয়।

এই ফুসকুড়ি ধীরে ধীরে স্বচ্ছ তরলে পূর্ণ হয়, যা পরে পুঁজ তৈরি করে। সর্বশেষে চলটা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। মাঙ্কিপক্সে শরীরে কয়েক হাজার পর্যন্ত ফুসকুড়ি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ত্বকের বড় অংশের চামড়া উঠে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষত সারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মাঙ্কিপক্স সাধারণত আপনাআপনি সেরে যায়। রোগের লক্ষণের স্থায়িত্ব দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত। ক্ষতের মাত্রা কতটা হবে, তা রোগীর স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

মাঙ্কিপক্স সেরে যাওয়ার পরও অনেকে ত্বকের অন্য সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, সেপসিস, এনসেফালাইটিস এবং কর্নিয়ার জটিলতায় ভুগতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ৩ থেকে ৬ শতাংশ। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, এই হার ১ শতাংশের নিচে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের সেলুলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বলছেন, ‘যুক্তরাজ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ভাইরাসের যে ধরনটি ছড়িয়েছে তাতে মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশ। আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চলের আরেকটি ধরন রয়েছে যেটি প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে, তবে যুক্তরাজ্যে সেটি দেখা যায়নি।’

চিকিৎসা

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের দুই-চার সপ্তাহের মধ্যে জটিলতাগুলো এমনিতেই সেরে যায়। এ সময়ে রোগীকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি করে তরল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসার ওপরও জোর দিচ্ছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ জন্য তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভব হলে গুটিবসন্তের টিকা নিয়েছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঙ্কিপক্স আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।

বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর মাংস, রক্ত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পশুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে সেদ্ধ করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ২৯ রোগী, ঢাকা বিভাগেই ২৬
মাঙ্কিপক্স: দেশের সব বন্দরে সতর্কতা
১১ দেশে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ৮০
মাঙ্কিপক্স নিয়ে যে বিষয়গুলো জানা দরকার
মাঙ্কিপক্স নিয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি বৈঠক

মন্তব্য

বিনোদন
The goal is to conduct the first Hajj flight of the season again

লক্ষ্য এবারও মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা

লক্ষ্য এবারও মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা ২০১৫ সালে মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফাইল ছবি
এবার হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের নিয়ে হাজির হওয়া প্রথম ফ্লাইট হতে চায় বাংলাদেশ। সে লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর কথা জানাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিমান বলছে, হজ ফ্লাইট শুরু করতে তাদের সব প্রস্তুতি নেয়া আছে।

শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও সময় যত গড়াচ্ছে নির্ধারিত দিনে হজ ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তত কাটছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চলতি বছরের হজ সূচিতে অনুমোদন দিয়েছে সৌদি সরকার।

প্রায় দুই বছর পর এবার বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজব্রত পালনের সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা। এবার হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের নিয়ে হাজির হওয়া প্রথম ফ্লাইট হতে চায় বাংলাদেশ। সে লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর কথা জানাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিমান বলছে, হজ ফ্লাইট শুরু করতে তাদের সব প্রস্তুতি নেয়া আছে।

২০১৫ সালে মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ বছরও একই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর সারা বিশ্বের ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর সৌদি আরবের বাইরের কেউ হজ করার সুযোগ পাননি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সৌদি সরকার এবার সারা বিশ্বের ১০ লাখ মানুষকে হজ পালনের অনুমতি দিচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৫৭ হাজার মুসল্লি হজব্রত পালনে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৪ হাজার মুসল্লি। বাকিরা যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হজ ফ্লাইটের জন্য যে সিডিউল দেয়া হয়েছিল, তা সৌদি সরকার অনুমোদন করেছে। আমরা আশা করি, ৩১ মে প্রথম ফ্লাইট শুরু করতে পারব। আমার ২০১৫ সালের কথা স্পষ্ট মনে আছে। বাংলাদেশের বিমানের মৌসুমের প্রথম ফ্লাইটটি যখন সৌদিতে গেল এবং এটাই ছিল সে বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট।

‘আমরা চেষ্টা করব এবারও প্রথম ফ্লাইটটি করতে পারি কি না। আমাদের প্রথম ফ্লাইট যেটা যাবে, তা যদি প্রথম হয়, তবে সেটাকে সৌভাগ্য বলেই মনে করি। ২০১৫ সালে হয়েছিল। এবার হবে কি না জানি না, তবে আমরা চেষ্টা করছি। এবার সব যাত্রী যাতে ডেডিকেটেড ফ্লাইটে যেতে পারে, আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বলছে, এরই মধ্যে ৩১ মে ফ্লাইট শুরু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ৩১ মের জন্য প্রস্তুত আছি। তারপরও যেভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে যে, গ্যাপ দিয়ে মনে হয় বাকিগুলো করতে পারবে, আমরা সেভাবেই ঠিক রেখেছি। আমাদের দিক থেকে প্রস্তুত আছি।

‘আমরা যেভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে ফ্লাইট চেয়েছি বা বলেছি, সেভাবেই অনুমোদন পাওয়া গেছে। আমরা অনুমোদিত সিডিউল পেয়েছি, আমরা আমাদের দিক থেকে প্রস্তুত আছি।’

মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মাথায় রেখেই এগোচ্ছি। এখন সব দিক থেকে যদি সম্ভব হয়। ওনাদের দিক থেকে যদি সব শেষ করে হজযাত্রী দিতে পারেন, তাহলে আমরা চেষ্টা করছি।’

এবার সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজটি হলো ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। সর্বনিম্নটি হলো ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে জনপ্রতি ন্যূনতম খরচ ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা নির্ধারণ করেছে হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (হাব)।

এবার হজ হতে পারে ৮ জুলাই (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৫৭ হাজার হজযাত্রীর অর্ধেক করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি অর্ধেক বহন করবে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও ফ্লাই নাস।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান এ বছর ৭৫টি ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩১ হাজার যাত্রী বহন করবে। যাত্রী পরিবহনে বিগত বছরগুলোর মতোই বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল
দরপত্রে ‘কারসাজি করে’ ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহজ
হজযাত্রীদের স্বার্থে শনিবার ব্যাংক খোলা
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত
ডেডিকেটেড ফ্লাইট ছাড়া ঢাকায় ইমিগ্রেশন হবে না: হাব

মন্তব্য

বিনোদন
Who shot dead journalist Shirin?

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে? যে স্থানে গুলিবিদ্ধ হন শিরিন আবু আকলেহ সেখানে পোর্ট্রেট রেখে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ছবি: এএফপি
শিরিন হত্যার পর ধারণ করা একটি ভিডিওর প্রাথমিক ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গোলাগুলি প্রায় ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরে শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা ওই এলাকায় আইডিএফ ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল জাজিরায় কাজ করা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর জেনিন থেকে রিপোর্ট করার সময় ১১ মে সকালে মাথায় গুলির আঘাতে নিহত হন। তিনি সে সময় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) একটি অভিযান কভার করছিলেন। ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার মাঝে এটি ছিল জেনিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পরিচালিত কয়েকটি অভিযানের অন্যতম। আইডিএফের কয়েকটি অভিযানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সাংবাদিক শিরিন হত্যার পরের ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিশৃঙ্খল মুহূর্তগুলো দেখা যায় ভিডিওতে। দেখা গেছে, অন্যরা তার মরদেহের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

ভিডিও থেকে প্রমাণিত, শিরিনের মাথায় গুলি লেগেছিল।

ভিডিওতে যেমনটা দেখা গেছে, সে সময় শিরিন আরেকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ছিলেন। তার পরনে পরিষ্কার অক্ষরে ‘প্রেস’ লেখা নীল রঙের ভেস্ট ও মাথায় হেলমেট ছিল।

শিরিন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেন, ‘সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তার মারা যাওয়ার ‘সম্ভাবনা আছে’। তবে পরে এক সংবাদ সম্মলনে ইসরায়েলের ডিফেন্স মিনিস্টার বেনি গান্টজ বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে, আবার দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের পক্ষের গুলিতেও তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আল জাজিরা এ ঘটনায় সরাসরি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, শিরিন কাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সেটা ‘পরিষ্কার’ নয়।

ভিডিও, অডিও বিশ্লেষণ করে পুরো বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করেছে নেদারল্যান্ডসের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাইট বেলিংক্যাট। তাদের প্রতিবেদন অবলম্বনে লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

শিরিন হত্যার সময় তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের দাবি, আইডিএফ সৈন্যরা কোনো সতর্ক বার্তা ছাড়াই তাদের ওপর গুলি চালায়। সাংবাদিকদের বিশ্বাস, তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

এ হত্যায় আইডিএফ নিজেদের সৈনিকের দায় স্বীকার করে নিলেও, ১৩ মে তারা যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে শিরিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উন্মুক্ত সোর্সের ছবি ও ভিডিওতে দেখে কার গুলিতে শিরিন নিহত হয়েছেন পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এগুলো থেকে বোঝা সম্ভব, ঘটনা কী ঘটেছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তুলনা করা যেতে পারে।

আইডিএফের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সৈন্য ও শিরিনের মাঝখানে অন্য যোদ্ধা থাকতে পারে। এতে আরও বলা হয়, একজন ইসরায়েলি সৈন্যের বুলেট অসাবধানতাবশত তাকে আঘাত করে। তবে আইডিএফ ও সাংবাদিকদের মাঝে ওই রাস্তায় অন্য কোনো সশস্ত্র ব্যক্তির অস্তিত্ব ভিডিও ফুটেজে নেই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমস্ত প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকরা সরু ওই রাস্তায় এমন কোনো যোদ্ধাকে দেখেননি বা দেখলেও সেটা বলেননি। তাদের বক্তব্য তাই ইসরায়েলি সৈন্যদের থেকে আলাদা।

আইডিএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দুকধারীরা আইডিএফ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ওইভাবে শিরিন আঘাত পেতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকধারীরা একটি গলিপথ থেকে আইডিএফ সৈন্যদের দিকে দ্রুত গুলি ছুড়ছে।

শিরিনের মৃত্যুর পর মুহূর্তে যখন এক ব্যক্তি তার মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, সে সময় যে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে তা উদ্দেশ্যহীন নয়, বরং তা ধীরগতির ও ইচ্ছাকৃত। এ থেকে বোঝা যায়, একঝাঁক গুলি না করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গুলি করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওগুলোতে চিত্রিত বন্দুকধারীদের অবস্থান আইডিএফ সৈন্যদের তুলনায় শিরিনের কাছ থেকে অনেক দূরে। অথবা তারা অবস্থান শিরিনকে দেখার বা লক্ষ্য করার মতো অবস্থানে নেই।

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ ও ভিডিও আর সেই সঙ্গে বেলিংক্যাটের করা একটি অডিও বিশ্লেষণও সাক্ষীর সাক্ষ্যের দিকগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়।

শিরিনের মৃত্যুর প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আইডিএফ বাহিনী এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা ১৯০ থেকে ২৫০ মিটার দক্ষিণে প্রসারিত। ওই অবস্থান থেকে শিরিনকে গুলি করা হয়েছিল। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ টুইটারে পোস্ট করা অন্য একটি ভিডিওর অডিও বিশ্লেষণ থেকে অনুমান করা যায়, শিরিনের মৃত্যুর পর তার সহকর্মীদের দিকে ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূর থেকে গুলি করা হয়েছিল। একই ফুটেজেও দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গুলিগুলো দক্ষিণে শুরু হয়েছে যখন পূর্বোক্ত ব্যক্তি শিরিনের দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

শিরিনকে যে স্থানে গুলি করা হয়েছিল তার দক্ষিণে আইডিএফ সৈন্যদের আবির্ভাবের সঠিক সময় ফেসবুক ভিডিওটি থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও ক্যামেরা অপারেটরদের ধারণ করা ফুটেজ থেকে মেটাডেটা বা আইডিএফের ভিডিও এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা তৈরি করতে পারে। এটি শিরিনের মৃত্যুর সময় সৈন্যদের অবস্থানের সম্ভাবনাকে আরও নির্দিষ্ট করতে সক্ষম হবে।

ঘটনাস্থল

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিরিনের সহকর্মীরা একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে জেনিনে গুলি চালানোর পরের ঘটনাগুলো দেখা যায়।

শহরের পশ্চিমে বালাত আল শুহাদা রাস্তায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নিচের স্ক্রিনশটটি শিরিনের শুটিংয়ের পর নেয়া একটি ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে। এটি টুইটারে আল জাজিরার একজন প্রযোজক শেয়ার করেন। এটি ড্যাশবোর্ড ও ছাদে অবস্থিত ক্যামেরা থেকে রাস্তার চিত্র সংগ্রহ করা ক্রাউড সোর্সিং সাইট ম্যাপিলারির এক ব্যবহারকারীর ২০২০ সালের ওই স্থানের তোলা একটি ছবির সঙ্গে মিলে যায়।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
আল জাজিরার এক প্রযোজক শিরিন হত্যাকান্ডের স্থানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ছবি: স্ক্রিনশট

হত্যার সময়

একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, শিরিন পড়ে আছেন। সেগুলোর ছায়ার দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে বের করা সম্ভব এ হত্যাকাণ্ড কখন ঘটেছে।

বেলিংক্যাট গোলাগুলির প্রথম যে ভিডিওটি পেয়েছে সেটি টেলিগ্রামে শেয়ার করা হয় স্থানীয় সময় সকাল ৬.৩৬ মিনিটে। শিরিনের সঙ্গে থাকা আরেক সাংবাদিক আলি আল-সামুদি, যিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পুরো সময় লাইভ স্ট্রিম করেন। তার লাইভ স্ট্রিম শুরু হয় সকাল ৬.৩৩ মিনিটে।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
ভিডিওর স্ক্রিনশটে ছায়ার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে হত্যাকান্ডের সময় নির্ণয় সম্ভব। ছবি: বেলিংক্যাট

এই ভিডিওতে ছায়ার দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে সেই সময় নির্ণয় করা সম্ভব। ওপরে উল্লেখিত ভিডিও যেটি আল জাজিরার প্রযোজক শেয়ার করেছেন সেখানে ক্যামেরা বালাত আল শুহাদা সড়ক বরাবর পশ্চিম দিকে মুখ করা। এরপর ক্যামেরা ঘোরানো হয় দক্ষিণ দিকে যেখানে আবু আকলেহর মরদেহ পড়ে ছিল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানুষজন ও রোড সাইনের ছায়া পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিকে পড়েছে।

জেনিনে সকালের সংঘর্ষ

ওইদিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয় সকাল ৬টা নাগাদ। টেলিগ্রামে ৫.৫৯ মিনিটে শেয়ার করা একটি ভিডিও শিরিন মারা যাওয়ার স্থানের প্রায় ১২০ মিটার পূর্বদিকে রেকর্ড করা হয়। সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং দূরের বিল্ডিংয়ের ওপর সাদা ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

শিরিনের মৃত্যুর পর, কয়েকজন ইসরায়েলি ভাষ্যকার জেনিনে অদেখা লক্ষ্যবস্তুতে সশস্ত্র লোকজন গুলি চালাচ্ছেন এমন বেশ কয়েকটি ভিডিওর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্য একটি ভিডিওতে (‘ভিডিও টু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) দেখা যায়, একটি গলিপথে একজন লোক রাইফেল দিয়ে গুলি করছেন৷ ইসরায়েলি মিডিয়া রিপোর্ট ও আইডিএফ জানিয়েছে, অভিযানের সকালে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। যিনি গুলি করার অংশটি ভিডিও করেছেন তিনি অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের দলের অংশ। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী শুরুতে বলেন, এই ভিডিওতে যে গুলি চালানো হয়েছে তাতেই শিরিন নিহত হয়েছেন। তবে, ফুটেজ বিশ্লেষণে এ ধরনের দাবি সঠিক বলে মনে হয়নি।

ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বিটিসেলেম, ভিডিও টু ধারণের জায়গায় গিয়েছিল। তারা একটি ভিডিও করে যেখানে ওই জায়গাটি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ওই ভিডিওর মাধ্যমে বেলিংক্যাট ভিডিও টুর জিওলোকেশন নিশ্চিত হয়েছে। শিরিন যেখানে নিহত হন সেখান থেকে ওই লোকেশন ২৭০ মিটার দূরে।

বিটিসেলেমের ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সশস্ত্র লোকটি যে গলিতে গুলি চালাচ্ছিল সেটির শেষে একটি প্রাচীর রয়েছে। শিরিন যেখানে নিহত হয়েছেন সেটি এ জায়গা নয়। অর্থাৎ, ভিডিও টু-তে গুলি করতে থাকা ব্যক্তিটির গুলি চালিয়ে শিরিনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। যদিও সোশ্যাল মিডিয়াতে এর উল্টোটা চাউর হয়েছে।

১১ মে সকালে জেনিনে অভিযানের সময় রেকর্ড করা ভিডিও টুর সমর্থনে বেশ কিছু তথ্য আছে। প্রথমত, বেলিংক্যাট প্রথমে ভিডিও পায় ১১ মে সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে টেলিগ্রামে। এই ভিডিওর ফ্রেমের একাধিক রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানের পর তা থেকে ওই সময়ের আগে কোনো ফল পাওয়া যায়নি৷

দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি রাজনীতিক ও মিডিয়ার দাবিতে যে ভিডিওটি রেকর্ড করা হয় সেখানে বিটিসেলেমের টিম গিয়েছিল। ওই ভিডিওর বন্দুকধারী শিরিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে পারে এমনটা দাবি ছিল ইসরায়েলের। সবশেষে, আইডিএফের বডি ক্যামের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সৈন্যরা একটি সমান্তরাল গলিপথে নেমে যাচ্ছে, যেখানে ভিডিও টুর বন্দুকধারী তার অস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ছিল।

‘সকালে জেনিনে আইডিএফ সৈন্যদের সকালের কার্যক্রম’ শীর্ষক আইডিএফ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সৈন্যরা বিটিসেলেমের ভিডিওতে যে গলি দেখা গেছে সে রকম একটা গলিপথ দিয়ে যাচ্ছে। এই দুই ভিডিওর তুলনা করলে দেখা যায়, ভিডিও টুর সশস্ত্র ব্যক্তিরা ও আইডিএফ সৈন্যরা সমান্তরাল গলিপথে অবস্থান করছিল। শিরিন যখন নিহত হন তখন ওই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল।

আইডিএফের বডিক্যাম ভিডিওর শেষে দেখা গেছে সৈন্যরা একটি রাস্তায় দৌড়ে বেরিয়ে আসে। সেখানে তখন পাঁচটি সাঁজোয়া যান অপেক্ষা করছিল। আইডিএফের এই অবস্থানটি ছিল, যেখানে শিরিনকে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখান থেকে একই রাস্তার দক্ষিণে। কনভয়ের সামনের গাড়িটি শিরিনকে গুলি করার স্থান থেকে প্রায় ১৯০ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল। আর পেছনের গাড়ির দূরত্ব ছিল ২৫০ মিটার।

ফেসবুকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একই আইডিএফ গাড়ির কনভয় যাচ্ছে ও একই স্থানে এসে থামছে, যে স্থানটি আইডিএফের বডি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে। আপলোডের সময়টি আইডিএফ সৈন্যরা কখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে তার একটি উচ্চসীমা বেঁধে দেয়। অন্য কথায়, ভিডিওটি অবশ্যই ৬টা ৪০ মিনিটের আগে রেকর্ড হয়েছে। কারণ ওই সময় সেটি ফেসবুকে আপলোড করা হয়।

ভিডিওটি বাড়ির ভেতর থেকে রেকর্ড করা হয়েছে বলে যে ব্যক্তি এটি রেকর্ড করেছেন তার নিরাপত্তার স্বার্থে বেলিংক্যাট এটির সঙ্গে কোনো লিঙ্ক রাখেনি।

বডিক্যাম ভিডিওর শেষে আইডিএফের অবস্থান একজন ক্যামেরা ক্রু প্রায় ১০০ মিটার উত্তরে ছয়টি ভিডিওর একটি সিরিজে রেকর্ড করেন। তার অবস্থান ছিল আইডিএফের অবস্থান এবং শিরিনকে গুলি করা স্থানের মধ্যে। এই ভিডিওগুলো টেলিগ্রামে পোস্ট করা হয়।

আইডিএফ বডি ক্যামেরার ফুটেজ ও টেলিগ্রাম ভিডিওগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, শিরিনকে যেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় সে জায়গার প্রায় ২০০ মিটার নিচে রাস্তার একটি অংশ আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভিডিও থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, তার পাশের রাস্তাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছিল। এমন কোনো ফুটেজ বা ছবি পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা সম্ভব আইডিএফ সৈন্য ও শিরিনের মধ্যে কোনো ফিলিস্তিনি যোদ্ধা অবস্থান করছিল।

তবে আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে (‘ভিডিও থ্রি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) কাছাকাছি রাস্তার কোণে একদল ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে৷ তাদের গোলাগুলি করতে দেখা যাচ্ছে। আইডিএফ সাঁজোয়া কনভয়ের দক্ষিণে আনুমানিক এক ব্লক দূরত্বে ভিডিওটির নেয়া হয়েছে (ম্যাপিলারিতে যা দেখা যাচ্ছে)।

ভিডিওতে স্বল্প বিরতি দিয়ে পরপর গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ভিডিও টু, ভিডিও থ্রি ও আইডিএফ বডি ক্যাম ভিডিও একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে জেনিনে ওইদিন সকালে ভিডিওতে ধারণ করা দুটি পক্ষের অবস্থানের একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

ভিডিও থ্রি ঠিক কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে সেটা বের করা সম্ভব হয়নি।

তবে লক্ষণীয় বিষয়, যে ভিডিওটি আল জাজিরার এক সাংবাদিক পোস্ট করেছেন যেখানে শিরিনের সহকর্মীকে গোলাগুলির মুখে পড়তে দেখা যাচ্ছে; সেখানে শটগুলো লক্ষ্য করে ও ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে বলে মনে হয়। উদ্দেশ্যহীন ও একাধারে গুলি ছোড়া হয়নি। গুলি ছোড়ার এই প্যাটার্নটি ক্রসফায়ারের নয়, বরং সাংবাদিকদের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে করার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। ভিডিও থ্রির ব্যক্তিদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে আইডিএফ কনভয়ের দক্ষিণে ও শিরিনের অবস্থান থেকে বেশ খানিকটা দূরে।

এ ছাড়া বেলিংক্যাটের করা একটি অডিও বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, শিরিনের মৃত্যুর পরপর তার অবস্থানের দিকে গুলি চালানো হয়েছিল ভিডিও থ্রি-তে সশস্ত্র লোকদের অবস্থানের কাছ থেকে।

বুলেটের গতি ও শব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক রবার্ট সি. মারের সঙ্গে কথা বলেছে বেলিংক্যাট। মার অডিও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ও আইডিএফ ও অন্য অস্ত্রধারীদের অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে শুটার ও শিরিনের কাছে থাকা ক্যামেরাধারীর দূরত্ব নির্ণয়ের জন্য তাকে অনুরোধ করে বেলিংক্যাট। ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, শিরিন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও দক্ষিণ দিক থেকে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ হতে থাকে।

বেলিংক্যাটকে করা ই-মেইলে মার লেখেন, ‘ভিডিওতে থাকা অডিও শুনে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো, ১ মিনিট ৫৬.২৫ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ১৯.৫৩৮ সেকেন্ডে দুইবার গুলির শব্দ পাওয়া যায়। দুটি শব্দের ক্ষেত্রেই শুরুতে একটি শক্তিশালী ক্র্যাক সাউন্ড ও ৩০০ মিলিসেকেন্ড (.৩ সেকেন্ড) পর একটা দুর্বল শব্দ পাওয়া যায়।

‘আমার মতে, শুরুর শব্দটা কোনো সুপারসনিক বুলেটের শক ওয়েভ ক্যামেরার মাইক অতিক্রম করার সময়ের শব্দ। পরের শব্দটা বন্দুকের নলের বিস্ফোরণের।’

ঘটনার সময় আইডিএফ বা ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অধিকাংশ অস্ত্রগুলোকে উপরোক্ত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে। সেগুলো এম ফোর বা সিআর ফিফটিন সিরিজের ৫.৫৬ মিলিমিটার রাইফেল। যেগুলো ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ছিল ২৯২ থেকে ৩৬৮ মিমি। ২০১০ সালে সুইডেনের ন্যাটো ওয়েপনস অ্যান্ড সেনসরস ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি প্রেজেন্টেশনে ৫.৫৬ মিমি গুলির ক্ষেত্রে নলের গতি ও ব্যারেলের দৈর্ঘ্যের একটি তুলনা প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, ন্যাটোর ব্যবহৃত গুলি এসএস ওয়ানওনাইন ৫.৫৬ মিমি ব্যবহার করলে বুলেটের গতি দাঁড়াবে প্রতি সেকেন্ডে ৮২০ থেকে ৮৬৬ মিটার। এ থেকে বোঝা যায়, ওপরের ভিডিওতে ক্যামেরা থেকে রাইফেল ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরত্বে ছিল।

মার এই হিসেবের সঙ্গে সাবধানতা ও সতর্কতার একটি নোট যোগ করেন। তিনি লেখেন, ‘দূরত্বের অনুমান বাতাসের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, যেহেতু এটি শব্দের গতিকে প্রভাবিত করে।’

বুলেটের ক্যালিবার বিশ্লেষণ করা প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে শিরিনকে যে বুলেটটি হত্যা করে সেটি ছিল ৫.৫৬ মিমি।

মার উল্লেখ করেছেন, বুলেটের অনুমিত গতিতে সামান্য পার্থক্যের ফলে গণনায় পরিবর্তন হতে পারে। তিনি যোগ করেন, ‘সম্ভবত বড় প্রশ্ন হল বুলেটের গতি সম্পর্কে আমার অনুমান। যদি বুলেটটি ধীর সুপারসনিক গতিতে ছোটে তবে দূরত্বের অনুমান দীর্ঘ হবে। আর যদি বুলেটটি দ্রুত সুপারসনিক গতিতে ছোটে, তবে দূরত্বের অনুমান কম হবে।’

দৃষ্টিরেখা

ওই অঞ্চলের ছবি থেকে আরও কিছু ক্লু পাওয়া যায়। যা থেকে ধারণা করা সম্ভব শিরিন ও অন্য সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ওই শুটার কোথায় অবস্থান করছিল।

জেনিন ক্যাম্প টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা একটি ছবি তোলা হয়েছে যেখানে শিরিন নিহত হয়েছেন। এটি অনেকগুলো ছবির একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা তার মৃত্যুর স্থানে ফুল দিচ্ছেন। ক্যামেরাটি সরাসরি দক্ষিণ দিকে মুখ করা, যা আইডিএফ কনভয় এবং সশস্ত্র লোকদের অবস্থান থেকে দৃষ্টি রেখা কী হতে পারে সেটার একটা আনুমানিক ধারনা দেয়।

আইডিএফের কনভয় ও ভিডিও টু এবং ভিডিও থ্রিতে সশস্ত্র লোকদের অবস্থান থেকে উত্তরে দৃষ্টিসীমা/রেখা একটি কবরস্থানের প্রাচীর দ্বারা আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কবরস্থান ও এর প্রাচীরের কারণে রাস্তাটি একক একটি সরু লেনের রাস্তায় পরিণত হয়।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থান থেকে উত্তরে দৃষ্টিসীমা রেখা একটি কবরস্থানের প্রাচীরে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ছবি: বেলিংক্যাট

এই প্রাচীরটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবির পাশাপাশি ওইদিনের ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান।

কবরস্থানের প্রাচীরই শুধু রাস্তার উত্তরে দেখার ক্ষেত্রে বাধা দেয়। সারা সকাল জুড়ে, রাস্তার পশ্চিম দিকে গাড়ি পার্ক করা ছিল, যা আইডিএফ কনভয়ের রাস্তার স্তরের অবস্থান থেকে উত্তরে গুলি করা ও ভিডিও টু এবং ভিডিও থ্রিতে সশস্ত্র লোকদের গুলি করাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

টেলিগ্রামে শেয়ার করা আরেকটি ছবিতে কবরস্থানের প্রাচীর ও হলুদ গাড়ির কারণে দৃষ্টিসীমার বাধা স্পষ্ট। ছবিটি রাস্তার দক্ষিণ দিকে একটি পাহাড় থেকে তোলা হয়েছে। যেখান থেকে শিরিন নিহত হওয়ার অবস্থান উত্তরে।

ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আইডিএফ অবস্থান থেকে আবু আকলেহকে যেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখানে দৃষ্টিসীমা সংকীর্ণ।

এটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তি যিনি শিরিনকে সাহায্য করতে গেছেন, তার আচরণ থেকে বোঝা যায়, তাদের দিকে তখনও দক্ষিণ থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে। যেমনটা ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওর ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডে শিরিনকে তোলার চেষ্টার সময় ওই ব্যক্তি রাস্তার কেন্দ্রের দিকে পূর্ব দিকে সরে আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন। উভয় সময় আমরা একটি করে গুলির শব্দ শুনতে পাই, যা লোকটির যথেষ্ট কাছাকাছি। যার ফলে তিনি রাস্তার পশ্চিম দিকের একটি দেয়ালের সঙ্গে নিজেকে চেপে আড়াল হতে বাধ্য করে। ওপরের ছবিতে দেখা হলুদ গাড়ি ও নিচের ছবিতে গাছটি দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড়ালে তার আড়াল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আইডিএফ অবস্থানের সামান্য পশ্চিমে একটি উঁচু ভবন থাকায় শুটার একটি উঁচু অবস্থান থেকে গুলি চালাতে পারে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি শিরিন ও তার সহকর্মীরা গাছের আড়াল থেকে ও প্রাচীর থেকে দূরে সরে গেলে তা দেখার একটি অবস্থান তৈরি করে।

ওপেন সোর্সের সারসংক্ষেপ

বর্তমানে ওপেন সোর্স ভিডিওগুলো থেকে শিরিনকে হত্যা করার নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা তাকে গুলি করার বিশদ বিবরণ পাওয়া সম্ভব নয়। তবে, একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য আইডিএফ সৈন্যদের দিকে ইঙ্গিত করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া ভিডিওগুলো তাদের দাবিকে নাকচ করার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি তাদের সমর্থন করে বলে মনে হয়।

ওপেন সোর্স ভিডিওতে দেখা যায়, আইডিএফ সৈন্যরা ও সশস্ত্র গোষ্ঠী রাস্তায় লড়াই করার সময় শিরিন রাস্তায় পড়ে ছিলেন। সে সময় আইডিএফের একটি স্পষ্ট গতিপথ ছিল ও যেখানে তাকে গুলি করা হয় তারা সেটার কাছে অবস্থান করছিল। এটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য আরও বাধাগ্রস্ত ও দূরবর্তী অবস্থান।

বডিক্যাম ফুটেজে দেখা আইডিএফ সাঁজোয়া যানবাহনের নেতৃস্থানীয় যানটি শিরিনকে গুলি করার স্থান থেকে প্রায় ১৯০ মিটার দূরে অবস্থান করছিল। ভিডিও থ্রিতে রাস্তায় গুলি চালাতে দেখা গেছে যে সশস্ত্র দলটিকে তারা ছিল প্রায় ৩০০ মিটার দূরে।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
নীল বৃত্তের স্থানে আবু আকলেহ গুলিবিদ্ধ হন। কমলা বৃত্তের স্থান থেকে টেলেগ্রাম ভিডিও নেয়া হয় আর সবুজ রঙের অঞ্চলে আইডিএফ সৈন্যরা অবস্থান করছিল। ছবি: বেলিংক্যাট

শিরিন হত্যার পর ধারণ করা একটি ভিডিওর প্রাথমিক ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গোলাগুলি প্রায় ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরে শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা ওই এলাকায় আইডিএফ ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অনুমান আইডিএফের অবস্থান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানের চেয়ে সাংবাদিক হত্যার স্থানের মধ্যে আনুমানিক দূরত্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

৫১ বছর বয়সী শিরিন আবু আকলেহকে ১৩ মে পূর্ব জেরুজালেমের মাউন্ট জায়ন প্রোটেস্ট্যান্ট কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য

বিনোদন
Talbahana Joy writer of Chhatra League conference

ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে ‘টালবাহানা’ জয়-লেখকের

ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে ‘টালবাহানা’ জয়-লেখকের আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য
ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন চান না; তাদের পদ আঁকড়ে থাকতে চান। মেয়াদ পার হয়েছে প্রায় দুই বছর। তারপরও সম্মেলন দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় শীর্ষ পর্যায় থেকে সম্মেলনের নির্দেশ এলেও তারা নানা অজুহাত, টালবাহানা ও কলাকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে সম্মেলন করতে না হয়।’

অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে দ্রুত সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেননি সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। উল্টো তারা এ নির্দেশনা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি করছেন।

ছাত্রলীগের সম্মেলনপ্রত্যাশীরা এমনটাই অভিযোগ করছেন। তাদের দাবি, সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে টালবাহানা করছেন। সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের অনাগ্রহ রয়েছে।

সম্মেলনপ্রত্যাশীরা তারিখ ঘোষণার দাবি নিয়ে ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের কাছে যান। এ নিয়ে দুই পক্ষে উচ্চবাচ্চের একপর্যায়ে দুই নেতা তাদের জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের তারিখ জানাবেন। তারিখ পাওয়ার পর তারা সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করবেন।

সম্মেলনপ্রত্যাশীদের ভাষ্য, ওবায়দুল কাদের তার নির্দেশনায় এমন কিছু বলেননি।

সম্মেলনের নির্দেশ পাওয়ার কথা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা।

তারা জানান, সম্মেলনের তারিখ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে তাদের। সম্মেলনের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করে দপ্তরে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই আবেদন সাপেক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি তার দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে এ তিনটি সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করবেন। কেননা প্রতিটি সংগঠনের সম্মেলনেই তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার দাবি রয়েছে নেতা-কর্মীদের।

মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কোন সময়ের মধ্যে সম্মেলন করতে পারব, সে বিষয়টি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দপ্তরে তারিখ চেয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সে আলোকে ১২ মে আমরা নিজেরা বৈঠক করে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সম্মেলন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সংক্রান্ত আবেদন আমরা দপ্তরে জমা দেব।’

যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারও এ প্রতিবেদককে একই ধরনের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আগস্টের পর যেকোনো দিন সম্মেলন চেয়ে একটি আবেদন আওয়ামী লীগের দপ্তরে জমা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে গত কয়েক দিন জয় ও লেখকের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসলে কালক্ষেপণ করছেন। তারা সম্মেলন চান না; তাদের পদ আঁকড়ে থাকতে চান।

‘কমিটির মেয়াদ পার হয়েছে প্রায় দুই বছর। অনেকের বয়স শেষ হয়ে গেছে। আরও অনেকের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। তারপরও সম্মেলন দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় যখন শীর্ষ পর্যায় থেকে সম্মেলনের নির্দেশ এসেছে, তখন তারা নানা অজুহাত, টালবাহানা ও কলাকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে সম্মেলন করতে না হয়।’

আরেক সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার আলোকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আল নাহিয়ান ও লেখককে আওয়ামী লীগের দপ্তরে যোগাযোগ করে সুবিধাজনক সময় জানাতে বলা হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে তারা কিছু জানাননি।

‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য আমাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেননি। ওবায়দুল কাদের সাহেব সম্মেলন নিয়ে মনগড়া কথা বলেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ মে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ এবং দুই সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওই সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দুই-এক দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারিখ নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জয় ও লেখক এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। এমনকি তারা আওয়ামী লীগের দপ্তরেও যোগাযোগ করেননি।

মধুর ক্যান্টিনে ১৪ মে সম্মেলনপ্রত্যাশীরা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চান। সম্মেলন কবে হবে, কী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের জবাবে জয় ও লেখক জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন সম্মেলন করার নির্দেশনা দেবেন, তখনই করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করার জন্য সময় চাইবেন।

সম্মেলনপ্রত্যাশীরা ওই দিন সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাদের জানিয়ে দেন, জয় ও লেখককে সম্মেলনের তারিখের জন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের সবশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবিসহ নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান এই দুই নেতা।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। এরপর থেকে প্রায় তিন বছর ধরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

দায়িত্ব দেয়ার সময় বলা হয়েছিল, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দুই নেতা রেজওয়ানুল ও রাব্বানীর অবশিষ্ট মেয়াদে (১০ মাস) দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু সেই কমিটি প্রায় তিন বছর গড়িয়েছে। এর মাঝে একাধিকবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের দাবিতে সরব হয়েছেন, কিন্তু বারবার কালক্ষেপণ করতে থাকেন জয় ও লেখক। অবশেষে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকেই সম্মেলনের নির্দেশ আসে।

আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নির্দেশনার পরও ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টালবাহানা করছেন বলে নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেন ছাত্র সংগঠনটির উপপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেনও।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
পরীক্ষার হলে লাইভ করা সেই ছাত্রলীগ নেতা আবারও সরব
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

মন্তব্য

p
উপরে