আমার বাসায় যারা থাকেন তাদের জন্যই কোরবানি দিই: মিম

player
আমার বাসায় যারা থাকেন তাদের জন্যই কোরবানি দিই: মিম

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি ঈদে শামিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘আমার বাসায় যারা থাকেন আসলে তাদের জন্য কোরবানি দেয়া হয়। এ নিয়ে অবশ্য আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি, কাদের জন্য কোরবানি দেয়া হচ্ছে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় প্রতিবছরই কোরবানি দেন। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। একটি খাসি কোরবানি দিচ্ছেন তিনি।

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান এই অভিনেত্রী।

কোরবানি ঈদে শামিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘আমার বাসায় যারা থাকেন আসলে তাদের জন্য কোরবানি দেয়া হয়। এ নিয়ে অবশ্য আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি, কাদের জন্য কোরবানি দেয়া হচ্ছে।’

কোরবানি নিয়ে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এই অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ঈদ মোবারক। দিনরাত আমার পরিবারের জন্য যে মানুষগুলো পরিশ্রম করে তাদের হাসিমুখ দেখতে পাওয়াটা এই পবিত্র দিনটিকে অর্থবহ করে তোলে।’

ঈদের দিনে পরিকল্পনা জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘কোরবানি ঈদে সাধারণত বাসাতেই থাকতে হয়। তেমন কোথাও যাওয়া হয় না। এবার যেমন দুই-তিনটা ফেসবুক পেজে বাসায় বসেই লাইভ আছে, ওগুলো করব। ওগুলো করতে করতেই সময় চলে যাবে।’

ঈদের দিনে না হলেও পরের দিন বা তার পরের দিন আশপাশে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানালেন অভিনেত্রী।

মিম জানালেন, এই ঈদে তার একটি সিনেমা আসার কথা ছিল। তাই টেলিভিশনে তেমন কোনো কাজে যুক্ত হননি।

তিনি বলেন, ‘এই ঈদে আমার পরান সিনেমাটি আসার কথা ছিল, যে কারণে আমি তেমন কোনো কাজই করিনি। শুরু থেকেই জানতাম এই সিনেমাটা আসবে কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে করোনা-লকডাউন সব মিলিয়ে এমন একটা অবস্থা হলো যে পরিবর্তন করতে হলো।’

এই মুহূর্তে মিম যুক্ত আছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত নির্মাতা দীপংকর দীপনের নতুন সিনেমা অন্তর্জাল -এর সঙ্গে।

নতুন কাজ নিয়ে জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘আমার নতুন সিনেমা অন্তর্জাল। লকডাউনের আগেই এই সিনেমার শুটিংয়ের ডেট ছিল। কিন্তু সব ডেট বাতিল হয় লকডাউনের কারণে। লকডাউন খুললে সেসবের শুটিং শুরু হবে।’

এ ছাড়া কয়েকটা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের কাজ আছে মিমের হাতে। লকডাউন খুললে সেগুলোর শুটিং শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

আমার বাসায় যারা থাকেন তাদের জন্যই কোরবানি দিই: মিম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: সংগৃহীত

ভক্ত-অনুরাগীদের উদ্দেশে মিম বলেন, ‘সবাই তো সব কিছু জানে, শুধু একটা কথা বলতে চাই, সবাই যেন নিরাপদে থাকি। ঈদ অবশ্যই উদযাপন করবে কিন্তু সেটা যেন সেইফলি মেইনটেইন করে। সবাই যেন বাসাতেই থাকে। কয়েকটা দিন আমরা যদি সবাই মিলে কষ্ট করি তাহলে খুব শিগগিরই মানে চারদিকে যে অবস্থা তা ঠিক হবে।’

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি

সিকদার রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই বাগান বাড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগান বাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রাম। এই গ্রামেই অন্তত ৩০ একর জমির ওপর ২০০৯ সালে একটি বাগান বাড়ি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

পুকুরের মধ্যে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চার তলা ভবন, হরিণের খামার, দুটি পুকুরের সংযোগ স্থলে সেতু আর নানা প্রজাতির গালপালা দিয়ে সাজানো হয় বাগান বাড়িটি।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগান বাড়ি বানাতে গিয়েই একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট। কিন্তু উচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করছে ওই প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগী সুমিত্রার দাবি, ওই বাগান বাড়ির মধ্যেই তাদের ৪১ শতাংশ জমি; ছিল বাড়িও। ২০১৮ সালে ওই বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সুমিত্রা ও তার স্বজনদের। নির্মাণ করা হয় সীমানা প্রাচীর আর বিশাল ফটক।

সুমিত্রার বাবা অমূল্য চরন দে ওই জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বিআরএস জরিপে সুমিত্রার ভাই রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে’র নামে ওই জমির মালিকানা হয়। দুটি টিনের ঘরে পরিবারটি বসবাস করত।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি
সুমিত্রাদের টিনের ঘর

২০০৯ সালে রতন কুমার দে ও ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ঝর্না রানী দে তিন শিশু কন্যা রেখে মারা যান। এরপর সুমিত্রা ও তার ভাই জগদীশ দে ওই শিশুদের লালনপালনের দায়িত্ব নেন।

ভিটেমাটি হারানোর পর নানা রোগ-শোক ভর করে জগদীশের শরীরেও। ২০২০ সালে তিনিও মারা যান।

সংসারে উপর্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ায় ভাইয়ের তিন কিশোরী কন্যা নিয়ে বিপাকে পরেন সুমিত্রা। আশ্রয় নেন পাশের ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্না ঘরে।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি
উচ্ছেদের বর্ণনা দেন সুমিত্রা

সেই দিনের স্মৃতি মনে করে সুমিত্রা বলেন, ‘আমি পাট লইতাছিলাম। পাট লওয়া শ্যাষ কইরা তিনটা সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ি গেলে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নাই। সিকদারের ছেলেরা দাঁড়াইয়া থাইক্যা বাউন্ডারি দিসে। কইছিলাম, ঘরে খাওন-দাওন, কাপড়-চোপড় আছে, এগুলি আনতে দেন। কিন্তু দেয় নাই। পরনের ময়লা কাপড় লইয়া, তিনডা মাইয়ারে লইয়া মাথা গোঁজার লিগ্যা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই। কিন্তু সিকদারগো ভয়ে কেউই আমাগো রাখতে সাহস পায় না। পরে এই বাড়ির রান্দোন ঘরে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এই শোকে আমার ভাইডাও মইরা গেলো। একটা মাইয়া যেই বেতন পায় হেইয়া দিয়াই কোনোরকম চলি।’

সুমিত্রা জানান, নিজের বাড়ির ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

রতন দে’র মেয়ে রুপা রানী দে বলেন, ‘সিকদারের ছেলেরা বাড়ি আসলেই গোলাগুলি করতো, আরও অনেক কাজ করতো। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকতাম। মা-বাবা নাই, কাকাও মারা গেছে এখন শুধু পিসিই বেঁচে আছেন। জমি আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে করতে তার শরীরও ভালো নেই।’

রুপা জানান, মহিলা অধিদপ্তরের একটা প্রজেক্টে কাজ করে তিনি ৮ হাজার টাকা বেতন পান। তা দিয়ে ঘর ভাড়া, তিন বোনের পড়ার খরচ, পোশাক, খাওয়া কোনোটাই পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী এনামুল হক শামীম তাদের একবার দেখতে গিয়েছিলেন। ভিটে-মাটি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

এদিকে, সিকদার রিয়েল স্টেটের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমিত্রারা এখানে বসবাস করতেন। এখনও তাদের দুটি ঘর আছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা চলে গেছেন। তাদের যদি কোনো কাগজপত্র থাকে এবং সেটা যদি তারা দেখাতে পারেন তাহলে যেভাবে মিমাংসা করতে চান সেভাবেই মিমাংসা করা হবে।’

জমির মালিকানা জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন মোল্লা নথিপত্র দেখে জানান, দাবি করা জমিটির মালিক হচ্ছেন অমূল্য চন্দ্র দে’র দুই ছেলে রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে। ভাইদের এই জমির খাজনা বাংলা ১৪২৫ সন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন সুমিত্রা রানি দে।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে এসব খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এ তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণখাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণখাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণ কাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া, ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত, পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকেরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

মা-বাবা হলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক

মা-বাবা হলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক

মা-বাবা হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাস। ছবি: সংগ্রহীত

সন্তানের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তারকা দম্পতি। সেই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, আপাতত তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়তি কৌতূহল দেখানো যেন বন্ধ করেন সবাই।

বিচ্ছেদ নিয়ে কত কথাই না হলো কিছুদিন আগে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর নিকের বিচ্ছেদের জল্পনায় পাকাপাকি দাড়ি টানলেন দম্পতি। নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে খুশির খবর দিলেন ‘নিকিয়াঙ্কা’।

মা-বাবা হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাস। শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ইনস্টাগ্রামে মা হওয়ার কথা জানান অভিনেত্রী।

জানিয়েছেন, সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান এসেছে নিকিয়াঙ্কার কোলে। সারোগেসি হলো অন্যের গর্ভে সন্তান বড় করা এবং জন্ম দেয়া। অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা-নিকের সন্তান অন্য কোনো নারীর গর্ভে বড় হয়েছে এবং জন্ম দিয়েছে।

সন্তানের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তারকা দম্পতি। একই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, আপাতত তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়তি কৌতূহল দেখানো যেন বন্ধ করেন সবাই।

প্রিয়াঙ্কার নামের পাশ থেকে জোনাস পদবি তুলে দিতেই জল্পনায় মেতে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ছড়িয়েছিল নিক-প্রিয়াঙ্কার বিচ্ছেদের গুঞ্জনও। তার মধ্যেই মাতৃত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি।

গত বছর বিয়ের তিন বছর উদযাপন করেছেন তারকা দম্পতি। নিকের চেয়ে ১০ বছরের বড় প্রিয়াঙ্কা; প্রণয় থেকে পরিণয়, প্রতি ক্ষেত্রেই ছিল সমালোচনা। সব কিছু ছাপিয়ে নিকিয়াঙ্কা যেন আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বয়স নিছকই সংখ্যামাত্র। চাইলে যে কোনো বয়সেই সুখটা উপভোগ করা যায়।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

হয়ে গেল পরী-রাজের হলুদ, বিয়ে আজ

হয়ে গেল পরী-রাজের হলুদ, বিয়ে আজ

হলুদ শাড়িতে পরীমনি এবং সাদা-হলুদ পায়জামা-পাঞ্জাবিতে সেজেছেন শরিফুল ইসলাম রাজ। ছবি: নিউজবাংলা

পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এখন আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে। তখন (১৭ অক্টোবর) তো কোনো আয়োজন করা হয়নি। তাই কাছের মানুষ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আয়োজন।’ এরই মধ্যে হলুদের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শুক্রবার রাতে হলুদ সন্ধ্যা হয়ে গেল অভিনয়শিল্পী দম্পতি পরীমনি ও শরিফুল ইসলাম রাজের। শনিবার হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম।

পাঠক, হয়তো ভাবছেন, এখন আবার হলুদ-বিয়ে কিসের! সবাইকে চমকে দিয়ে সম্প্রতি মা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরীমনি। বাবার নামে বলেছেন শরিফুল ইসলাম রাজের নাম। রাজও জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে হয়েছে ১৭ অক্টোবর। তাহলে এখন আবার কিসের হলুদ-বিয়ে!

গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এখন আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে। তখন (১৭ অক্টোবর) তো কোনো আয়োজন করা হয়নি। তাই কাছের মানুষ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আয়োজন।’

এরই মধ্যে হলুদের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। হলুদ শাড়িতে পরীমনি এবং সাদা-হলুদ পায়জামা-পাঞ্জাবিতে সেজেছিলেন রাজ। হলুদ ফুলে সাজানো হয়েছিল ঘরের দেয়াল।

আয়োজনে আমন্ত্রিত ছিলেন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী, রেদওয়ান রনি। কিছু অপরিচিত মুখও দেখা গেছে ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়া ছবিতে। ধারণা করা হচ্ছে তারাই হয়তো পরিবারের সদস্য। এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে চাননি সেলিম।

তিনি বলেছেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে পরী-রাজের পরিবারের সদস্যদের দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছে।’

সেলিমের পরিচালনায় গুণিন ওয়েব ফিল্মে প্রথমবার এক সঙ্গে কাজ করেন রাজ-পরী। পরী শিগগিরই মা নামের একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে করা হচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সরকারি প্রহরীকে নিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিরোধী সমর্থকদের দমন নিপীড়নের জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

দখল করে যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, সে জমির কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে এর মালিকানা দাবি করছেন মজিবর রহমান নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য। জমি দখলের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে দুওসুও ইউনিয়নের সমির উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তার পাশের ওই জমিতে দেখা যায়, ইউনিয়নে কর্মরত ৯ জন প্রহরী পাহারা বসিয়ে একটি ভবন নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন চেয়ারম্যান সোহেল।

কথা হয় উপস্থিত প্রহরী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। ভবন নির্মাণের স্থানে পাহারা দেয়ায় কারণ জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যানের আদেশের একটি কাগজ দেখান।

তিনি বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমরা এই ভবন নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করছি। ইউনিয়নের সব প্রহরীকে এখানে থাকার আদেশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কেউ বাধা দিতে আসলে আমাদেরকে প্রতিহত করার নির্দেশনা দেয়া আছে।’

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত কাগজে লেখা রয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৮৪, দাগ নম্বর ৮৭৮৮, ১৩ শতক জমির মধ্যে ২ শতক জমিতে ঘর নির্মাণের কাজে ইউনিয়নের সব গ্রাম পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্যে বলা হলো।

ইউনিয়নের সব প্রহরী এনে এভাবে ব্যক্তিগত কাজ করার ব্যাপারটি বেআইনি বলে মনে করেন দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি এবার ইউপি নির্বাচনে সোহেলের বিরোধী প্রার্থী আনারস মার্কার মোকলেসুরের নির্বাচন করেছিলাম। তখন থেকেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত। নির্বাচনে জেতার পরেই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এখন শপথ গ্রহণের পরপরই আমার জমি দখলে ব্যস্ত হয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান।’

মজিবরের অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘জমিটা আমি নিজের জন্যে দখল করছি না। আমার ভাগনি জামাই সৈয়দ আলী এই জমির মালিক। এক পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মজিবরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নোটিশ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, আমাকে নাকি চেয়ারম্যান হিসেবে মানেন না। তাই সৈয়দ আলীর হক বুঝিয়ে দিতে আমি তাকে জমি দখল করে দিচ্ছি।’

এদিকে চেয়াম্যানের পাঠানো কোন নোটিশ পাননি বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য ও জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান।

ইউনিয়ন পরিষদ ও পুরো এলাকা ফাঁকা করে প্রহরীদের ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘আমি মনে করেছি সেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই পাহারা বসানো হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জমির মালিক দাবিদার চেয়ারম্যান সোহেলের ভাগনি জামাই সৈয়দ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কিন্তু মজিবর রহমান আমার জমিতেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছিলেন না। চেয়ারম্যান আমার আত্মীয়। সেই সঙ্গে আমি তার ইউনিয়নের একজন নাগরিক। তাই আমি তার কাছে সাহায্য চেয়েছি।’

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজেএমএ মহাসচিব এম বারিক খান বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে পাট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবছর উচ্চসাঁট পাটের প্রতি মণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নির্বাহী বোর্ডের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও পাট আইনে এভাবে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।

তবে পাট আইনে বলা আছে, ‘সরকার, আদেশ দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণির পাট বা পাটজাত পণ্যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে, এবং সব এলাকা বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। এবং এই আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কম বা সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে কোন ব্যক্তি পাট বা পাটজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব এম বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় পাটকলগুলো ব্যবহার করে। কিন্ত বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আর কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য এবছর উচ্চাসাঁট কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। আশা করি এ দামেই এ বছর পাট কেনা সম্ভব হবে।’

এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ খাতের অসাধু মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে। এতে উৎপাদিত পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চার থেকে পাঁচ কোটি কৃষক, শ্রমিকের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরও চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে অর্ধবিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই উল্লম্ফনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু ছিল পাট খাত।

২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ (১.১৬ বিলিয়ন) ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে রপ্তানি তালিকায় চামড়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল এই খাত।

সেই সুদিন ফুরিয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে। অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এদিকে, লোকসানের চাপে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয় সরকার। সে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো পাটকল এখন উৎপাদনে নেই; সরকারিভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য এখন আর রপ্তানি হয় না।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৮ দিন পর মিলল মরদেহ

নিখোঁজের ৮ দিন পর মিলল মরদেহ

ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

৮ দিন আগে দুলাভাইয়ের ভ্যান নিয়ে বের হন মহসীন। তারপর থেকে তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার একটি ক্ষেতে পাওয়া যায় তার মরদেহ। দুলাভাইয়ের ধারণা, ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য মহসীনকে হত্যা করা হয়েছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরের একটি ক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি উপজেলার আতুড়া গ্ৰামের মহসিন আলীর বলে শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। তারা জানান, মহসিন ৮ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

উপজেলার মহিষবাথান মোড়ে একটি হলুদের ক্ষেতে শুক্রবার রাতে পাওয়া যায় মরদেহটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, ওই ক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে রাত ৯টার দিকে সেটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন মহসিনের স্বজনরা।

মহসীনের ভগ্নিপতি ভ্যানচালক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ জানুয়ারি দুপুরে মহসীনের ফোনে একটা কল আসে। তাকে আমার চার্জার ভ্যানটি নিয়ে যেতে বলা হয়... কিছুক্ষণ পর আমার ভ্যান নিয়ে সে বের হয়।

‘সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সে বলে সে পত্নীতলা থানার নজিপুর বাজারে আছে। পরে রাত ৯ টার দিকে তাকে কল দেই। ফোন তখন থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন থানায় আমরা একটি জিডি করেছিলাম। আজকে ক্ষেতে যে লাশ পাওয়া গেছে সেটির শরীর, গঠন ও পোশাক দেখে তা মহসীনের বলে আমরা নিশ্চিত করেছি।’

মইনুলের ধারণা, মহসীনকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাই করা হয়েছে।

মহাদেবপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের বেশকিছু চিহ্ন আছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। মহসীনের পরিবার মামলা করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পারপলে কে বেশি চোখ টানছে?
শাড়িটা আমার জন্যই বানানো: মিম
ফুটবল খেলেছি কিনা সেটা হলেই জানা যাবে: মিম
মিমের বছর শুরু ‘হোয়াট দ্য ফ্রাই’ দিয়ে

শেয়ার করুন