পরীমনিকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানালেন তসলিমা

পরীমনিকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানালেন তসলিমা

পরীমনি (বাঁয়ে) ও তসলিমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত

তসলিমা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সিনেমা আমি দেখি না। পরীমনির নামও আগে শুনিনি। তবে তাকে আমি দূর থেকে আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাচ্ছি। এই স্ট্রাগল করা কিছু মেয়েই একেকটা মাইলফলক।’

দেশের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পরীমনিকে উদ্দেশ করে ভারতের দিল্লি থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি অভিনেত্রী পরীমনি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে। অবশ্য এই মামলায় এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নাসির উদ্দিন।

এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরীমনির বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে বলে মনে করেন নির্বাসিত তসলিমা।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘ফেসবুকে শিং মাছের মতো দেখছি প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে বাংলাদেশের নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে কুৎসিত সব গালাগালি।

‘কোনো মেয়ের বিরুদ্ধে যখন লোকেরা ক্ষেপে ওঠে, তাকে দশদিক থেকে হামলা করতে থাকে, এমন উন্মত্ত হয়ে ওঠে যেন নাগালে পেলে তাকে ছিঁড়ে ফেলবে, ছুড়ে ফেলবে, পুড়িয়ে ফেলবে, পুঁতে ফেলবে, ধর্ষণ করবে, খুন করবে, কুচিকুচি করে কেটে কোথাও ভাসিয়ে দেবে, তখন আমার ধারণা হয় মেয়েটি নিশ্চয়ই খুব ভালো মেয়ে, সৎ মেয়ে, সাহসী মেয়ে, সোজা কথার মেয়ে। আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এটাই বলে।

পরীমনিকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানালেন তসলিমা
অভিনেত্রী পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশের সিনেমা আমি দেখি না। পরীমনির নামও আগে শুনিনি। তবে তাকে আমি দূর থেকে আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাচ্ছি। সব মেয়ে স্ট্রাগল করে না, কিছু মেয়ে করে। কিছু মেয়ে স্ট্রাগল করে সব মেয়ের জন্য যুগে যুগে বেটার পরিস্থিতি আনে। এই স্ট্রাগল করা কিছু মেয়েই একেকটা মাইলফলক।’

তসলিমার স্ট্যাটাসটি নিজের ভেরিয়ায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন পরীমনি।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পূজার চারদিন পর ‘গলুই’তে উঠছেন শাকিব

পূজার চারদিন পর ‘গলুই’তে উঠছেন শাকিব

পূজা চেরি ও শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান ও হালের আলোচিত নায়িকা পূজা চেরি। এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন শাকিব-পূজা।

সরকারি অনুদানের সিনেমা গলুই। খোরশেদ আলম খসরু প্রযোজিত সিনেমাটি পরিচালনা করছেন এস এ হক অলিক। রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে সিনেমার শুটিং।

বৃহস্পতিবার থেকে টাঙ্গাইলে শুরু হচ্ছে সিনেমার দৃশ্যধারণ। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক এস এ হক অলিক।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে (বৃহস্পতিবার) টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়িতে শুরু হচ্ছে গলুই সিনেমার দৃশ্যধারণ।’

সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান ও হালের আলোচিত নায়িকা পূজা চেরি। এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন শাকিব-পূজা।

সিনেমার শুটিংয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলেও শাকিব-পূজা শুটিংয়ে যাবেন আরও কিছু পরে। পরিচালক জানান, পূজা চেরি ২৪ এ ও শাকিব খান শুটিংয়ে অংশ নেবেন ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে।

নৌকার গলুই থেকেই সিনেমার নামকরণ করা হয়েছে গলুই। গলুই যেহেতু নৌকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এ গলুইয়ের সঙ্গে জীবন,সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্রকে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে চিত্রনাট্য।

গলুই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর সিনেমার গানে ফিরেছেন হাবিব ওয়াহিদ। তার সুর, সংগীত ও কণ্ঠে দুটি গান থাকছে সিনেমায়। যার একটি লিখেছেন এস এ হক অলিক ও আরেকটি লিখেছেন সোহেল আরমান।

হাবিবের সঙ্গে গান দুটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী জারিন।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

সালমানের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রাখেন সঙ্গীতা

সালমানের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রাখেন সঙ্গীতা

বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও তার পুরনো বান্ধবী অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানি। ছবি: সংগৃহীত

জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে প্রায় এক দশকের প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সালমান-সঙ্গীতা। শুধু তাই নয় ১৯৯৪ সালে নাকি তাদের বিয়ের কথাও পাকাপাকি হয়েছিল। ছাপানো হয়েছিল বিয়ের কার্ডও। কিন্তু সেই বিয়ে আর হয়নি। অবশ্য কী কারণে সেই বিয়ে হয়নি, তা আর জানা যায়নি।  

বলিউডের মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর সালমান খানের প্রেমিকাদের তালিকা একেবারে ছোট নয়। সেখানে রয়েছেন, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই, ক্যাটরিনা কাইফ, ইউলিয়া ভান্তুরসহ আরও অনেকে।

কিন্তু সালমানের এই তালিকার শুরুর দিকে যার নাম, তিনি সঙ্গীতা বিজলানি।

জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে প্রায় এক দশকের প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সালমান-সঙ্গীতা। শুধু তাই নয় ১৯৯৪ সালে নাকি তাদের বিয়ের কথাও পাকাপাকি হয়েছিল। ছাপানো হয়েছিল বিয়ের কার্ডও। কিন্তু সেই বিয়ে আর হয়নি। অবশ্য কী কারণে সেই বিয়ে হয়নি, তা আর জানা যায়নি।

১৯৯৬ সালে সঙ্গীতা বিয়ে করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে। ২০১০ সালে সেই সংসার ভেঙে যায় সঙ্গীতার।

১৯৮০ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া’ খেতাবজয়ী সঙ্গীতা দীর্ঘ অনেক বছর হলো অভিনয়ে নেই। কিন্তু পুরনো বন্ধু সালমান খানের সঙ্গে তার এখনও নিয়মিত যোগাযোগ আছে ৷

সালমানের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রাখেন সঙ্গীতা
বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও সঙ্গীতা বিজলানি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঙ্গীতা জানিয়েছেন সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে৷

বয়সে সালমানের ৬ বছরের বড় সঙ্গীতা জানিয়েছেন, সালমান আর তিনি কত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সঙ্গে এও জানান, যাদের সঙ্গে একবার তার আলাপ হয়েছে, তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখেন ৷

সঙ্গীতার কথায়, ‘বন্ধুত্ব যখন হয়েছে তখন সেটা সারা জীবন মেনে চলব।’

সালমানের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রাখেন সঙ্গীতা
বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও সঙ্গীতা বিজলানি। ছবি: সংগৃহীত

সেই সাক্ষাৎকারে সামাজিক মাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সঙ্গীতা। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য অনেক হারানো বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি তার মডেলিং জীবন শুরু করার সময়ের কিছু বন্ধুর সঙ্গেও নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে তার। ৷

সঙ্গীতাকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া নির্ভয় সিনেমায় ৷

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

জায়েদের অভিযোগে ব্যবস্থা নিচ্ছে সাইবার ক্রাইম

জায়েদের অভিযোগে ব্যবস্থা নিচ্ছে সাইবার ক্রাইম

চিত্রনায়ক ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির জায়েদ খান। ছবি: সংগৃহীত

নিউজবাংলাকে জায়েদ বলেন, ‘বেশকিছুদিন ধরেই আমার নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল। আমি নাকি খারাপ প্রস্তাব দিয়েছি। এখন বলেন, যদি কাউকে খারাপ প্রস্তাব দেই তাহলে তো তার প্রমাণ থাকতে হবে। শুধু মুখে বলে দিলেই কি হলো।’

চিত্রনায়ক ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান তার নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে।

ইউটিউব চ্যানেল এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন জায়েদ। তদন্তে পুলিশ তার সত্যতা পেয়েছে এবং অভিযুক্তদের বুধবার ডিবি হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।

বুধবার বিকালে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান জায়েদ খান। তিনি জানান, দিন ১৫ আগে এ অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে জায়েদ বলেন, ‘বেশকিছুদিন ধরেই আমার নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল। আমি নাকি খারাপ প্রস্তাব দিয়েছি। এখন বলেন, যদি কাউকে খারাপ প্রস্তাব দেই তাহলে তো তার প্রমাণ থাকতে হবে। শুধু মুখে বলে দিলেই কি হলো। আবার যারা সদস্যপদ নিয়ে কথা বলছেন, তাদের সদস্যপদ তো আমি বাতিল করিনি, এটা করেছে কমিটি। আমার নামে মিথ্যা প্রচার সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) স্পেশাল ক্রাইম ও সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জায়েদ খান একটি জিডি করেছিলেন। সেটির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। ইউটিউবে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানিকর গুজব ও তথ্য দিয়ে ভিডিও বানিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।’

সেগুলোর কয়েকটি শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ইউটিউব চ্যানেলের এডমিনদের এক এক করে ডাকা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে যাতে আর কারও বিরুদ্ধে এমন আপত্তিকর প্রচারণা না করে সে বিষয়েও তাদের সতর্ক করা হয়েছে।’

তাদের এসব ইউটিউব চ্যানেল থেকে আপত্তিকর কনটেন্ট ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছে ডিবি।

জায়েদ জানান, অভিযুক্তরা যদি ঠিক উত্তর না দিতে পারে তাহলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করবেন।

ইউটিউব চ্যানেল এমটি ওয়ার্ল্ড, দেশ বাংলা এবং ব্যাক্তি সাদিয়া, রাইমা ইসলাম শিমুর নামে অভিযোগ করেন জায়েদ।

মিথ্যা কথা ছড়ানোর মাধ্যমে তারা শুধু জায়েদ খানকেই নয় বরং শিল্পী সমাজকে সাধারণ মানুষের কাছে কলুষিত করছে বলে মনে করেন জায়েদ।

এর আগে ২০১৮ সালে জামাল পাটোয়ারির নামের একজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছিলেন জায়েদ খান। গত বছরের আগস্টে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই মামলায় জামাল পাটোয়ারি জামিনে আছেন বলে জানান জায়েদ খান।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প

নীল মুকুট সিনেমার পোস্টার ও পরিচালক কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

‘এখন যে লাঠিচার্জ করে আর যে লাঠির বাড়ি খায়, দুজনই একই শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আমরা যারা লাঠির বাড়ি খাই, তারা অলিক একটা কিছু ভেবে লাঠিচার্জকারীদের শত্রু বানিয়ে ফেলি।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আগস্ট মাসে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা নীল মুকুট। সিনেমাটির মাধ্যমে চিত্রের নতুন ভাষায় কথা বলতে চেয়েছেন পরিচালক কামার আহমাদ সাইমন।

সিনেমাটি দেখার পর এর নির্মাণপদ্ধতি ও পরিকল্পনা নিয়ে জানার ইচ্ছা হয়েছে অনেকের। অনেক দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিনেমাটির বিষয়বস্তু নিয়ে।

এমন কিছু বিষয় নিয়ে পরিচালক কামার আহমাদ সাইমনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

  • কামার আহমাদ সাইমন। আপনার নামে তিনটি শব্দ। আপনার কাছের মানুষরা কোন শব্দটি বেছে নেন আপনাকে ডাকার ক্ষেত্রে। আমরাও আপনাকে সেই নামে সম্বোধন করতে চাই। আপনার কাছের হওয়ার খায়েশ আছে আমাদের।

দশ-বারো বছর স্কুলের যে জীবনটা যায়, যেখানে আমার নাম কামার এবং কামার নামেই সেখানে সবাই আমাকে ডাকে। কামার একটি আরবি শব্দ এবং এটা নিয়ে অনেক সময় আজেবাজে কথা শুনতে হয়েছে। ছোটবেলায় বন্ধুরা যখন কামার বলে ক্ষ্যাপাত তখন খুব মন খারাপ হতো।

পরে বুয়েটে গিয়ে সাইমন নামটা আমি বেশি ব্যবহার করেছি। বুয়েট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর একটা অন্য চিন্তায় কামার নামটি আবার ব্যাক করে। তখন আমি আবার কামার নামটি বলা শুরু করি।

যখন দেখলাম ছবি বানাতে যাচ্ছি, তখন দিনরাত যে অমানুষিক পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যাই, তখন নিজেকে কামারবাড়ির সেই হাঁপর চালানো মানুষটার সঙ্গে মিল খুঁজে পাই। আমাদের চলচ্চিত্রযাত্রাটা অনেকটা সে রকমই।

কামারশালায় সিনেমা যাপন বলে একটি ব্লগ লেখা শুরু করি এবং কামার নামটাকে রি-ডিসকভার করা শুরু করি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হব যদি কেউ আমাকে কামার নামে ডাকে।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

  • আপনার সিনেমার প্রসঙ্গে আসি। আপনার পরিচালিত সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমার নাম নীল মুকুট। নীল রঙের মুকুটটাই কেন পরাতে চাইলেন আপনি?

আমি সিনেমায় যে বর্গকে নিয়ে কাজ করেছি, তাদের পোশাকের মধ্যে নীল রঙের প্রাধান্য রয়েছে। তারা যে মিশনে গিয়েছে, সেখানেও একটি নীলের ব্যাপার আছে। এ দুটি বিষয় হলো আক্ষরিক অর্থে সিনেমার নামকরণ নীল মুকুট করার কারণ।

কিন্তু যদি একটু ভেতরের দিকে তাকাই। নীলের মধ্যে ব্যথার একটা প্রকাশ আছে, কবিতায় এই বিষয়টি প্রকট, ওই জায়গা থেকে আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল নীল মুকুটটা বেশি অ্যাপ্রোপিয়েট।

মুকুটটা যে আপনি পরলেন সেটা আনন্দে পরলেন, না বেদনায় পরলেন সেটার একটা ব্যাপার আছে। যে পাওয়ারের জন্য মুকুটটা পরা হলো, সেটা কি তিনি কনজিউম করলেন, এমন একটি প্রশ্ন আমার সিনেমার মধ্যেও আছে।

আমার কাছে মনে হয়েছে সিনেমাটি একটু বেদনাতুর, একটু নীলচে, সেখান থেকেই সিনেমার এমন নামকরণ।

  • পোস্টারে দেখেছি নীল মুকুট সিনেমাটিকে বলা হচ্ছে ডকু-ড্রামা।

না, পোস্টারে কোথাও মনে হয় এমন লেখা নাই। প্রেসে অনেক জায়গায় নীল মুকুটকে ডকু-ড্রামা বলা হয়েছে।

  • আপনি নীল মুকুটকে কী বলতে চান?

আমি এটাকে সিনেমা বলতে চাই। নীল মুকুট যেহেতু রানিং সিনেমা, এর অনেকগুলো মিথ আছে। সেগুলো আমি এখনও ভেঙে দিতে চাই না।

সিনেমা বানাতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে সিনেমার প্রয়োজনে যেখানে আমার ফিকশন লাগবে সেখানে ফিকশন, যেখানে ড্রামা লাগবে সেখানে ড্রামাটাইজ করব, যেখানে আমার ডকুমেন্ট্রি লাগবে, সেখানে আমি ডকুমেন্ট্রি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করব।

  • প্রচলিত ধারণায় সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই তার একটি স্ক্রিপ্ট লাগবে। নীল মুকুটের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ছিল কি না?

প্রচলিত অর্থে সিনেমার যে সিন বাই সিন সাজানো, সংলাপ সেসব আমার শুনতে কি পাও, নীল মুকুট বা যে সিনেমাটি আসছে অন্যদিন বলে, সেখানে এমন স্ক্রিপ্ট নাই।

একই সঙ্গে উল্টোটাও বলি, কোনোটাই কাগজের বাইরে নয়। অনেক অনেক প্ল্যানিং, সেগুলো লেখা এবং শুট করার সময় আমরা চাচ্ছি যে এখানে এই আলোচনা থাকবে, এখানে চরিত্রগুলো এমন করবে।

মজাটা কিন্তু সেখানেই, যেখানে দর্শকের দেখে মনে হবে আমি কিছু করি নাই কিন্তু আমি মূলত অনেক কিছু করেছি। সাজানো তো সেটাই সুন্দর, যেটা দেখে আপনাকে সুন্দর লাগবে কিন্তু মনে হবে না যে আপনি সেজেছেন।

  • যদি ধারণা করে বলি, যে ঘটনা যেভাবে গেছে ক্যামেরা বা পরিচালক সেইভাবেই এগিয়ে গেছেন। সেখানে পরিচালকের আসলে কী করার ছিল?

যেটা ঘটছে সেটাই যদি আমি ক্যামেরায় ধরি, তাহলে তো আমার কোনো কাজ নাই।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
শুটিং এর সময় কামার ও তার ইউনিট। ছবি: সংগৃহীত

  • এটা আমাদের বিস্ময় বলতে পারেন যে, কামার কি আসলে ঘটনার পেছনে দৌড়াল, নাকি ঘটনা তৈরি করে তার পেছনে দৌড়াল?

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডেফিনেটলি আমি ঘটনার পেছনে দৌড়াইছি। যেমন সিনেমায় একটি ছাগলের সিকোয়েন্স আছে, সেটা শুট করতে আমি ছাগলের পেছন পেছন দৌড়াইছি।

এমন অনেক ব্যাপার আছে যা যেভাবে এসেছে আমি সেভাবে নিয়েছি। বলতে পারেন জীবনের রস চুরি করেছি। আর অনেক কিছু প্ল্যান করে নেয়া কিন্তু সেগুলো আমি বলতে পারব না কারণ সেই মিথটা আমি ভাঙতে চাই না।

  • নীল মুকুট সিনেমায় সচেতনভাবে আপনার কিছু ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল কি?

হ্যাঁ, একটা বিষয় তো সাংঘাতিকভাবে ছিল। এই পোশাক পরা মানুষগুলো সম্পর্কে সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমার যে পারসপেকটিভ, যেখান থেকে আমি একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম।

এই গল্পটা অনেক জায়গায় বলেছি। আমি বিমানে হঠাৎ করে কান্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম। সেটা ট্র্যাক করে দেখলাম যে একজন ইউনিফর্ম পরা মানুষ কাঁদছেন। ওই দৃশ্যটা দেখে আমার সিনেমাটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত।

আমার মনে হয় সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা যে, আমি ভেবে নিয়েছিলাম ইউনিফর্ম পরা একজন সে তো মানুষ না। সে কেন কাঁদবে বরং আমি তাকে দেখে কাঁদব। এই যে একটা ভুল ধারণা, সেটা আমাকে ভীষণভাবে ধাক্কা দিয়েছে।

ধরেন শাহবাগে যে পুলিশ আমাকে লাঠিচার্জ করে সে তো আসলে বাড়ি যাওয়ার জন্য অস্থির থাকে। সে তার পরিবারের কাছে যেতে চায়। পারে না, কারণ তাকে ওই কাজটি করতে বলা হয়েছে। যিনি বলেছেন, তিনি আবার তার ওপরের কারও কাছ থেকে সে কাজের নির্দেশ পেয়েছেন।

এখন যে লাঠিচার্জ করে আর যে লাঠির বাড়ি খায়, দুজনেই একই শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আমরা যারা লাঠির বাড়ি খাই, তারা অলিক একটা কিছু ভেবে লাঠিচার্জকারীদের শত্রু বানিয়ে ফেলি।

কিন্তু তারা যে আমাদের মতোই, তাদের পরিবার আছে, হাসি-কান্না আছে, আমি সচেতনভাবে সেটাই দেখাতে চেয়েছি।

  • সে ক্ষেত্রে দেশের বাইরে যাওয়ার সুবিধা কী?

ঢাকা শহরে গত বিশ বছরে আমরা যারা বেড়ে উঠেছি, তারা তো এই বাস্তবতা মেনেই বড় হয়েছি যে চাইলেও পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না আপনি। এটা নির্মম বাস্তবতা। আমি কালকে যদি আরেকটি কাজের কথা বলি, পুলিশ সেই সুযোগ আমাকে চাইলেও দিতে পারবে না।

বাইরে যাওয়াটা আসলে একটা সুযোগ। কৌশলগতভাবে আমি সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। এসব অনুমতি পেতে অনেক কাঠ-খর পোড়াতে হইছে।

বাইরে যাওয়ার কারণে আরেক সুবিধা হইছে। সেটা হলো, আমি যে বিষয়টা তুলে ধরতে চাচ্ছিলাম, দূরত্বের কারণে সে পরিস্থিতিটা তৈরি করছে।

  • ইউনিফর্ম পরা মানুষগুলো বিদেশে গিয়েছে। সেখানে তাদের দক্ষতা বা চৌকস ভাবটাও তুলে আনার কোনো সুযোগ ছিল কি?

কোনো সিনেমা কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কোনো চিত্র দেয়ার জন্য তৈরি হয় না। যদি সেটা করা হয় তাহলে সেটা প্রপাগান্ডা সিনেমা। যদি আমি পূর্ণ চিত্র দেই তাহলে মনে হবে যে আমি পেইড। আমার সেটা উদ্দেশ্য ছিল না এবং আমি পেইডও নই। আমার ভিন্ন একটা অবজেকটিভ ছিল, সেটি আমি পূরণ করার চেষ্টা করেছি।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নবীন পরিচালকদের সঙ্গে কামার আহমাদ সাইমন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমা দেখলে নিজেকেই যেন ছোট মনে হয়। আবার ছোট স্ক্রিনে কিছু দেখলে বড় বিষয়কেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। নীল মুকুটের ক্ষেত্রে এমন কিছু মিস হলো কি না দর্শকদের?

ঠিকই বলেছেন। থিয়েটারে বসে নীল মুকুট দেখলে আপনার ওপর যে আসরটা হবে সেটা তো ওটিটি দিয়ে সম্ভব না। এ ছাড়া এই কনটেন্টে ৫ দশমিক ১ সিস্টেমে সাউন্ড মিক্স করা। এটার তো কোনো কাজেই লাগল না। ওটিটিতে একটা স্টেরিও সাউন্ড হয়তো আপনারা পেয়েছেন।

  • ওটিটির কারণে নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা এসেছে।

এটা ঠিক। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক জায়গায় সিনেমাটি নিয়ে লাইভে যুক্ত হতে হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে চলচ্চিত্র সংসদ রয়েছে, সেই দর্শকরা আমাকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ওটিটির জন্য আরেকটি সুবিধা হয়েছে। যেহেতু সিনেমায় কোনো স্টার কাস্ট নেই, তাই নীল মুকুট চালানোর জন্য বেশি একটা হল পাওয়া যেত না। কিন্তু ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার কারণে অনেকে সিনেমাটি দেখতে পেয়েছেন।

  • চলচ্চিত্রের এমন ভাষায় বেশি সিনেমা আশা করছি না কিন্তু অল্প সিনেমাও দেখা যায় না। এভাবে ভাবা যাচ্ছে না, এটাই কি শুধু কারণ?

আমার চলচ্চিত্রযাত্রা খুব বেশি দিনের না, দশ-এগার বছরের একটা যাত্রা। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন আমি এই প্রশ্ন নিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। আমার জনপদের সিনেমা কেমন হবে বা আমার সময়ের সিনেমার ইমেজটা কেমন হবে। এটা বলতে আমার দ্বিধা নেই যে আমার চলচ্চিত্র প্রস্তুতিতে আমি সম্পূর্ণভাবে ঋণী আমার সাহিত্যের কাছে।

ধরেন আমি যদি সৈয়দ ওয়ালীউল্লার লাল সালু পড়ি বা অদ্বৈতমল্ল বর্মনের তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটা পড়ি বা আমি যদি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটা পড়ি তাহলে যে ইমেজগুলো পাই, যে ম্যাটেরিয়াল পাই, সিনেমায় এই ইমেজগুলোর সাংঘাতিক সংকট ছিল এবং আছে এখনও।

আমাদের গল্পের শূন্যতার একটা মৌলিক কারণ হচ্ছে, আমার যেটা মনে হয়, গত দুই দশক ধরে যারা সিনেমার চর্চার মধ্যে এসেছেন, তাদের সবার ওপর ইরানিয়ান, কোরিয়ান বা লাতিন সিনেমার প্রভাব রয়েছে। সেটা আমার ওপরও আছে।

কিন্তু তারা আমার কাছে মনে হয়েছে যে একটা রি-প্রোডাকশনের দিকে চলে গেছেন। এমন হয়তো হয়েছে যে আমি অরেকটি ইরানিয়ান, কোরিয়ান বা লাতিন সিনেমা বানাব। কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরেকটা বাংলাদেশি সিনেমা বানানো।

নীল মুকুট: ইউনিফর্মের ভেতরে থাকা পারিবারিক মানুষের গল্প
শুনতে কি পাও সিনেমা নির্মাণের পর কামার। ছবি: সংগৃহীত

  • নীল মুকুট দেখার পর অনেকেই আপনার কাজ খুঁজছেন হয়তো। নতুন কাজ কবে দেখতে পাবেন দর্শকরা?

আমার দুটি সিনেমার কাজ শেষ। একটি শিকলবাহা, আরেকটি অন্যদিন। এর মধ্যে অন্যদিনশুনতে কি পাও সিনেমাটি পরপর শুরু করি। অনেকের হয়তো এখন মনে নেই অন্যদিনের কথা।

শুনতে কি পাও, অন্যদিন এবং আরও কিছু জীবন এই তিনটি মিলে ট্রিলজির প্ল্যান ছিল এবং আমার পরিকল্পনা ছিল স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরে তৃতীয় সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার। সে অনুযায়ী আমি অন্যদিনের শুটিং শেষ করে ফেলেছিলাম ২০১৬-১৭ সালের দিকেই কিন্তু একটু বিচিত্র ঘটনার কারণে প্রায় পুরো শুটিংটা করার পরেও আমার রেখে দিতে হয়েছে। আশা করছি আগামীতে সিনেমাটি দর্শকরা দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

শুধু বাংলাদেশিদের জন্য পোলিশ চলচ্চিত্র উৎসব

শুধু বাংলাদেশিদের জন্য পোলিশ চলচ্চিত্র উৎসব

বাংলাদেশিদের জন্য পোলিশ চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার সন্ধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ দিনের এ উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে। অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মজেকিনোতে বিনা মূল্যে পোল্যান্ডের চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীরা।

‘বৈচিত্র্যের আশ্বাসে নন্দিত পদযাত্রা’ স্লোগানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বোদ্ধাদের জন্য শুরু হচ্ছে ‘পোলিশ চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২১’।

ফিচার, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্রসহ সমসাময়িক আলোচিত পোল্যান্ডের ১০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন হবে এ উৎসবে।

পোলিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় উৎসবের আয়োজন করেছে ওসপিএরাম ফাউন্ডেশন ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া।

আয়োজকদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাঁচ দিনের উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায়। অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মজেকিনোতে বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন শুধু বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীরা।

এর পাশাপাশি থাকছে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের তত্ত্বাবধানে পোল্যান্ডের চলচ্চিত্রবিষয়ক মাস্টারক্লাস, লেকচার সেশন ও সিনে-টকে অংশ নেয়ার সুযোগ।

অ্যাকাডেমিক সেশনে থাকছে পোল্যান্ডের নারী চিত্রগ্রাহক উইরোনিকা ব্লিলিস্কার মাস্টারক্লাস। সেই সঙ্গে থাকছে ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রতাত্ত্বিক, লেখক ও শিক্ষক অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের লেকচার।

একাডেমিক সেশনগুলোতে বিনা মূল্যে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে যে কেউ যুক্ত হতে পারবেন।

ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার পক্ষ থেকে চলচ্চিত্রকার অনার্য মুর্শিদ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আইএফএমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে উৎসবের উদ্বোধন হবে।

উদ্বোধনী ঘোষণায় থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার নির্বাহী পরিচালক বিবেশ রায়, পোল্যান্ডের ভিস্টুলা পোলিশ ফেস্টিভ্যালের সমস্বয়কারী রোকসানা পিট্রুকজেন্স, জনসংযোগ কর্মকর্তা মারলেনা ওকহোনসাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার চেয়ারপারসন, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক মির্জা আবদুল খালেক।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ চলচ্চিত্র উৎসব।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনদের মামলার প্রতিবেদন পেছাল

নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনদের মামলার প্রতিবেদন পেছাল

ব্যারিস্টার সুমন, মেহজাবিন ও নিশো। ছবি: সংগৃহীত

মামলা দুটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১১ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকীর আদালত মামলা দুটি গ্রহণ করে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

নাটক এবং টেলিভিশনের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা এবং শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে করা দুই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়েছে আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন বুধবার মামলা দুটির প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ রেখেছেন আগামী ১ নভেম্বর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত।

মামলা দুটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১১ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকীর আদালত মামলা দুটি গ্রহণ করে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বশির আল হোসাইন নামের এক প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী মামলা দুটির আবেদন করেন।

একটি মামলা দায়ের করা হয় ‘ঘটনা সত্য’ নামের একটি নাটক নিয়ে, যা চ্যানেল আইয়ের ঈদুল আজহার আয়োজনে ২৩ জুলাই প্রচার করা হয়েছিল।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে-চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, নাটকের চিত্রনাট্যকার মঈনুল সানু, পরিচালক রুবেল হাসান, অভিনেতা আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরীকে।

অপর মামলা করা হয়েছে চ্যানেল আইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এর ১১ জুলাইয়ের পর্ব নিয়ে, যেখানে একজন আলোচকের কথায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘নেতিবাচক ধারণা’র প্রকাশ ঘটেছে বলে অভিযোগ।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রযাজক রাজু আলিম, উপস্থাপক সোমা ইমলাম এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনকে।

মামলা দুটির বাদী বশির আল হোসাইন, সকল সাক্ষী এবং আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম সিদ্দিকী সবাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

নাটকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘ঘটনা সত্য’ নাটকে দেখানো সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের বাবা মা ও পরিবারকে ‘ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’

আর দ্বিতীয় মামলায় বাদীর অভিযোগ ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের খেলা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের একটি মন্তব্য নিয়ে।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, ওই টকশোতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেটারে প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা আমি এখন আর্জেন্টিনার ছেলে এবং ব্রাজিলের ছেলে নিয়া লাফাচ্ছি। লাফানো ঠিক আছে। আমরা অনেক ছোটবেলা থেকে ম্যারাডোনার ভক্ত, কিন্তু নিজের ছেলেটারে এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব?’

দেশের ফুটবল খেলার মানের অবনতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ব্যর্থতা ও অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে ‘প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা’ এবং ‘এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা দেয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।

মামলার অভিযোগে তিনি বলেছেন, এ ধরনের নেতিবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন

আলিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার

আলিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার

বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট (বাঁয়ে) ও কঙ্গনা রানাউত। ছবি: সংগৃহীত

‘কন্যাদান নয়, কন্যামান বলতে শিখুন’- এই সংলাপের মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের চিরাচরিত রীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ আলিয়ার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি এক নামী পোশাকের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে ‘কন্যাদান নয়, কন্যামান বলতে শিখুন’- এমন এক বার্তা শোনা যায় বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের মুখে।

যে বিজ্ঞাপনের কারণে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আছেন আলিয়া।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, আসলে এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বেশির ভাগ নেটিজেনদের রোষের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী।

শুধু তাই নয়, ‘হিন্দুবিরোধী’র তকমাও দেয়া হয়েছে আলিয়াকে। এবার সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন বলিউডের ‘কন্ট্রোভার্সি কুইন’ কঙ্গনা রানাউত। আলিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণের পাশাপাশি ওই পোশাকের ব্র্যান্ডকেও কথা শুনিয়েছেন তিনি।

আলিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার
বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গনার মন্তব্য, ‘সরল, সাদাসিধে খদ্দেরদের ভোলাতে ধর্মকে হাতিয়ার করবেন না।’

নিজের ইনস্টাগ্রামে এমন মন্তব্য করে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়েছেন কঙ্গনা। সেই পোস্টে কন্যা দানের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী।

কঙ্গনার ভাষ্য, হিন্দুত্ব ভীষণ স্পর্শকাতর এবং বৈজ্ঞানিক। আমাদের বৈবাহিক রীতিতে একজন নারী তার নিজের রক্তের সম্পর্ক, গোত্র ছেড়ে অন্য পরিবারে প্রবেশ করে। যার জন্য শুধু পিতা না, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হয় তাকে। যাদের রক্ত সেই নারীর শরীরে বইছে। আর মেয়ের নতুন জীবনের যাত্রার জন্য পিতাও তাকে অনুমতি দেন।

পাশাপাশি এ ধরনের বিজ্ঞাপনকে বয়কট করে তাদের চুপ করিয়ে দেয়ার বার্তাও দিয়েছেন কঙ্গনা।

যে বিজ্ঞাপন নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা, সেখানে আলিয়া ভাটের সংলাপ ছিল- ‘সবাই বলে মেয়েরা পরের ধন, কিন্তু সে না কোনো ধন কিংবা না অন্য কারও! আসলে কন্যা কোনো দানের বস্তু নয়। তাই কন্যাদান নয়, বলতে শিখুন কন্যামান।’

আলিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার
বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। ছবি: সংগৃহীত

এই সংলাপের মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের চিরাচরিত রীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ আলিয়ার বিরুদ্ধে। নেটিজেনরা বলছেন, হিন্দু ধর্মকে অসম্মান করেছেন আলিয়া।

সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নাম উল্লেখ না করে আলিয়া ভাটের উদ্দেশে কঙ্গনার মন্তব্য, ধন শব্দটা আদতে নোংরা নয়। এই শব্দ বহুল প্রচলিত। নোংরা আসলে তোমার মন। কন্যা ধন কিংবা পরের ধন বলা মানে এই নয় যে, তুমি তোমার মেয়েকে বিক্রি করছ। তাই হিন্দু ধর্মবিরোধী প্রচার বন্ধ করো।

আরও পড়ুন:
‘শরবতের মতো ব্লু লেবেল খেয়েছিলেন পরীমনি’
মানব পাচার মামলায় অমি কারাগারে
বোট ক্লাবে সেই রাতে ‘সবাই ছিলেন মাতাল’
পরীমনির মামলা: নাসির কারামুক্ত
মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে: পরীমনি

শেয়ার করুন