জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

অভিনেত্রী জয়া আহসানের বিভিন্ন চরিত্রের ছবি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

“সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার আগে আয়োজকদের খবর দিয়ে পাঠিয়েছিলেন এটা বলতে যে, ‘জয়ার সাথে তো দেখা হলো না, ওর সাথে দেখা করে যেতে চাই’।”

দর্শক-ভক্তরা চেনেন ব্যাচেলরের শায়লাকে, ডুবসাঁতারের রেণুকা, গেরিলার বিলকিস বানু কিংবা দেবীর রানুকে। রাজকাহিনীর রুবিনা বা কণ্ঠ-এর রমিলা, ক্রিসক্রসের মিসেস সেন বা পদ্মাকেও চেনেন কোটি দর্শক।

চরিত্রগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন এবং অভিজ্ঞতা-ব্যক্তিত্ব দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জয়া আহসান।

সিনেমা, ফ্যাশন, ফটোশুট ছাড়াও জয়ার দৈনন্দিন কাজের কথা তিনি নিজেই জানান ফেসবুক পেজে। প্রযোজনা, রান্না, ছাদ বাগান, কৃষিচর্চা, সমাজসেবা, প্রাণীসেবা- সব নিয়েই আলোচনায় থাকেন তার ভক্ত, দর্শকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করে, সাক্ষাৎকার পড়ে জয়া সম্পর্কে অনেক কিছুই হয়তো জানা যায়। তারপরও হাজারও কথা জানার বাকি রয়ে যায় তার সম্পর্কে।

বিশ্বসুন্দরী খ্যাত কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা রুম্মান রশীদ খান কিছু গল্প শুনিয়েছেন জয়া আহসান সম্পর্কে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘তিন বছর আগে কলকাতায় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম, আয়োজনের সবচাইতে সম্মানজনক পুরস্কার ‘আজীবন সম্মাননা’ জয়া আহসানের হাত থেকে প্রদান করার জন্য আয়োজকরা তাকে অননুয়-বিনয় করছিলেন।’

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

তিনি আরও লেখেন, “সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার আগে আয়োজকদের খবর দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, ‘জয়ার সাথে তো দেখা হলো না, ওর সাথে দেখা করে যেতে চাই’।”

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

শিল্পী নচিকেতার কথা উল্লেখ করে রুম্মান লেখেন, ‘মিলনায়তনে প্রবেশের আগে জয়া আহসানের সাথে ফ্রেমবন্দি হওয়ার অনুরোধ করতে দেখেছিলাম প্রিয় শিল্পী নচিকেতাকে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কারপ্রাপ্তির পর ধাবায় গিয়ে যখন কবজি ডুবিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন জয়া আহসান, তখন দেখেছিলাম পুরো কলকাতাবাসী কতটা তাকে সম্মান করেন, ভালোবাসেন।’

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী স্মৃতিচারণা করে লিখেছেন, ‘‘মনে আছে, দিনটি ছিল ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর।

আমার ১০০ তম নাটকের শুটিং। নাটকের প্রয়োজনে ব্যাকগ্রাউন্ডে আমার চারজন সেলিব্রেটির ভয়েজ লাগবে।

আমি একজন সেরা অভিনয়শিল্পীকে অনুরোধ করলাম। কিন্তু তিনি বললেন, এটা তো আপনি যে কাউকে দিয়ে করাতে পারেন, আমি না করলেও চলে!

ওই মুহূর্তে আমার জয়ার কথা মনে হলো। আমি তখন মহাখালী ব্রিজের ওপর ছিলাম।

কল করে বলতেই জয়া আমাকে বলল, চয়নদি, আমি খুব খুশি যে তোমার ১০০ তে আমি একটু হলেও থাকতে পারছি। তুমি কোথায়? বলো আমি আসতে পারি, তুমিও পারো।

জয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, স্ক্রিপ্ট পাঠাই তুমি পড়ে দেখ! জয়া বলল, চয়নদি, তুমি কী বলো! এখানে তোমার আবেগ আমার কাছে বেশি ইম্পরট্যান্ট। ধুর!”

পরিচালক রাশিদ পলাশ জয়া আহসানকে ‘পৃথিবীর বুকে আপনি এক টুকরো লাল সবুজ’ বলে সম্মান জানিয়েছেন।

অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া তো জয়াকে তার আইডল মনে করেন।

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

জুলাইয়ের প্রথম দিন অনেকেই জয়া আহসানের সঙ্গে তার স্মৃতি, জয়াকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা শেয়ার করেন বা করতে চান। কারণ ১ জুলাই তার জন্মদিন।

দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ধাপে ধাপে।

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

২০০৪ সাল, জয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমার নাম ব্যাচেলর। চলতি বছর মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত অলাতচক্র। মাঝে কেটেছে ১৭ বছর। সময়টা যেমন কম না, জয়ার অর্জনও কম না।

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

দেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন জয়া। চারবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সিনেমা নিয়ে কিছু করতে চান বলে হয়েছেন প্রযোজক।

জয়ার জন্মদিন ও কিছু না বলা গল্প

বাংলাদেশের প্রথম কোনো অভিনয়শিল্পী হিসেবে পেয়েছেন ভারতীয় ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস; তাও দুইবার। জি সিনে অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন দেশের প্রথম অভিনয়শিল্পী হিসেবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তো তাকে ‘দ্য বক্স অফিস কুইন’ খেতাবও দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
করুণ ছবি দেখে অবশ জয়ার মন
রোদেলা গায়ে একটু গোলাপিতে সব সম্ভব
নিজ প্রেমে মুগ্ধ জয়া
‘চাইলে হতে পারতে আমার বাগানের মেজেন্ডা বাগানবিলাস’
মর্মান্তিক ভিডিওটি দেখে ভাষা হারিয়েছেন জয়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য