তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত

তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত

নীল রানাউতের তৈরি অভিনব কস্টিউম আর মডেলিংয়ের ছবিগুলো এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় ইনস্টাগ্রামে।

ঘরে পাওয়া সব ধরনের অব্যবহৃত কাপড় ও জিনিসপত্র নীল রানাউত পোশাক তৈরিতে কাজে লাগাতেন। মা ও দাদির প্যাটিকোট, ব্লাউজ থেকে শুরু করে রেলস্টেশনে ফেরি করে তার বাবার ছোলা বিক্রির কাজে ব্যবহৃত সিলভারের ছোট বাটিও কাজে লাগাতেন তিনি। এ ছাড়া কলাপাতা, ফুল, মানুষের কৃত্রিম চুলসহ আরও হরেক রকমের জিনিস তিনি লাগিয়েছেন রকমারি ও সৃজনশীল পোশাক তৈরির কাজে।

বলিউড কাঁপানো অভিনেত্রীদের পোশাকের আদলে কস্টিউম বানিয়ে নেন ত্রিপুরার ছেলে নীল রানাউত। সেই কস্টিউম পরে তাদের মতো করে মেকআপ নিয়ে তাদের স্টাইলে ছবি তুলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতেন তিনি।

তার অভিনব কস্টিউম আর মডেলিংয়ের ছবিগুলো এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় ইনস্টাগ্রামে।

গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া নীলের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন তার স্বপ্নের তারকা কঙ্গনা রানাউত নিজেও।

পারিবারিক নাম সর্বজিৎ সরকার হলেও তার পরিচিতি ছাপিয়ে গেছে নীল রানাউত নামেই।

সুপরিচিতি পাওয়া নাম নীল রানাউতের কারণ তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাৎকারে।

নীল তার প্রিয় রং। আবার নীল তার পোষা প্রাণীর নাম। দুই মিলিয়ে তিনি নিয়েছেন নীল নামটি। আর নামের রানাউত অংশটি তিনি নিয়েছেন তার প্রিয় তারকা কঙ্গনা রানাউতের নাম থেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটিক আর ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় নীল রানাউতের সৃজনশীলতা মুগ্ধ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও দিল্লির জনপ্রিয় মডেল কুশা কাপিলাকে।

কাপিলার বিভিন্ন পরামর্শে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় নীলের।

কাপিলার মাধ্যমে নীলের যোগাযোগ হয় দিল্লির প্রভাবশালী ফ্যাশন ডিজাইনার আবু জানি সন্দ্বীপ কসলার সঙ্গে। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি নীলকে।

তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত

ফুল, কলাপাতা, মানুষের কৃত্রিম চুলসহ আরও হরেক রকমের জিনিস কাজে লাগিয়ে রকমারি ও সৃজনশীল পোশাক তৈরি করে মডেল হয়েছেন নীল রানাউত। ছবি: সংগৃহীত

সন্দ্বীপ কসলার তৈরি পোশাকে র‍্যাম্প মডেলও বনে যান তিনি।

এক প্রতিক্রিয়ার নীল বলেন, ‘প্রথমে ভীষণ কষ্ট হয়েছিল হাই-হিল পরে হাঁটতে। দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলে থেকে টানা অনুশীলন করে পরে আয়ত্ত করে নিয়েছিলাম হাই-হিল পরে হাঁটার। হাজারো দর্শকের সামনে র‍্যাম্পে হাঁটা শুরু করতে গিয়ে ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। কাপিলার কথায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলাম আর জীবনের প্রথম যুদ্ধজয়ের অভিজ্ঞতা নিলাম করতালির মধ্য দিয়ে।’

তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত

গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া নীল রানাউতের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন তার স্বপ্নের অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত নিজেও। ছবি: সংগৃহীত

শুরুর গ্লানি

নীলের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন কেউই পছন্দ করতেন না তার এমন সৃষ্টিশীল কাজকে। সবার অমতে যাত্রা শুরু করতে হয় তাকে।

ঘরে পাওয়া সব ধরনের অব্যবহৃত কাপড় ও জিনিসপত্র তিনি পোশাক তৈরিতে কাজে লাগাতেন। মা ও দাদির প্যাটিকোট, ব্লাউজ থেকে শুরু করে রেলস্টেশনে ফেরি করে তার বাবার ছোলা বিক্রির কাজে ব্যবহৃত সিলভারের ছোট বাটিও কাজে লাগাতেন তিনি।

এ ছাড়া কলাপাতা, ফুল, মানুষের কৃত্রিম চুলসহ আরও হরেক রকমের জিনিস তিনি লাগিয়েছেন রকমারি ও সৃজনশীল পোশাক তৈরির কাজে।

তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত
বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি ও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী কিম কার্দাশিয়ানের রূপে নীল রানাউত। ছবি: সংগৃহীত

নিজের আত্মতৃপ্তিও ভাগাভাগি করেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। দিল্লিতে সেই জমকালো ফ্যাশন শোতে অংশ নেয়া, নামীদামি ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা আর বড় বড় হোটেলে থাকার পর এখন আর তাকে নিজের কাজের জন্য পারিবারিক বাধার শিকার হতে হয় না।

নিজের পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নীলকে তার কাজের জন্য গুরুত্ব দিতে এখন আর ভুল করেন না।

আরও পড়ুন:
তারকাদের জমজমাট ফ্যাশন শো

শেয়ার করুন

মন্তব্য