অনুদানের সিনেমা অন্তত ২০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি বাধ্যতামূলক

অনুদানের সিনেমা অন্তত ২০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি বাধ্যতামূলক

অনুদানের সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে অনুদানের ছবি হলে মুক্তি পেত না। আমরা এখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছি। গত বছর ১০টা হলে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল, এ বছর থেকে ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছি।’

চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান প্রক্রিয়ায় অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সিনেমার সংখ্যা।

চলচ্চিত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য আগে প্রতিবছর আমাদের বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সেটিকে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।’

এখন অনুদানের চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর ১০টা সিনেমায় অনুদান দেয়া হতো। আমরা গত বছর ১৬টি সিনেমা অনুদান দিয়েছি।’

অনুদানের সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে অনুদানের ছবি হলে মুক্তি পেত না। আমরা এখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছি। গত বছর ১০টা হলে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল, এ বছর থেকে ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছি।’

মন্ত্রী আরও জানান, অনুদানের ছবিতে শুধু আর্ট ফিল্ম নয়, এখন বাণিজ্যিক ছবির সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সচিবালয়ে রোববার দুপুরে পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব এ কথা জানান।

এ সময় চলচ্চিত্র নির্মাণে ঋণ দিতে এবং নতুন মুখের সন্ধানে করার জন্য চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) থোক বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান পরিচালক সমিতি।

দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখব।’

এ ছাড়া রুগণ্‌ চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও সংস্কারে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি বলেন ‘এই তহবিল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেউ হল নির্মাণ বা সংস্কার করতে চাইলে ৫ শতাংশ সুদে এবং বাকি জেলাগুলোতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে। এটি ১০ বছর মেয়াদি ঋণ।’

পাঁচ-ছয় বছর অপেক্ষার পর জেলা তথ্য ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন জেলায় তথ্য ভবন নির্মিত হবে। তথ্য ভবনের সঙ্গে সেখানে একটি সিনেমা হল বা হল নির্মিত হবে। হল আউটসোর্সিং করে সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’

বিদেশি শিল্পী, কলাকুশলী দিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি শিল্পীপ্রতি ২ লাখ টাকা সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। আর যে টেলিভিশন চ্যানেল সেই বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচার করবে, তাদেরকেও এককালীন ২০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। আমরা নীতিমালায় সংযোজন করেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমি একেবারে বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে আমাদের শিল্পী, শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে। সে জন্য এটি করা হয়েছে।’

বিদেশ থেকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির মডেল দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে এ দেশে চালানো হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কি তবে আনস্মার্ট? ভালো, স্মার্ট অনেক সুন্দর অভিনয় করে এমন অনেক ছেলেমেয়ে আমাদের দেশ আছেন। তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য