সোনমের জন্য মার খেয়েছিলেন অর্জুন

বলিউডের তারকা ভাইবোন অর্জুন কাপুর ও সোনম কাপুর। ছবি: সংগৃহীত

সোনমের জন্য মার খেয়েছিলেন অর্জুন

অর্জুন জানালেন, তারা দুই ভাইবোন একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় একবার স্কুলের সিনিয়র ক্লাসের ছেলেরা সোনমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় অর্জুনের। এমনকি স্কুল থেকেও কিছুদিনের জন্য বহিস্কারও করা হয়েছিল তাকে!

সম্পর্কে চাচাতো ভাই বোন হলেও অর্জুন ও সোনম কাপুরের বন্ধনের কথা বলিউডে সর্বজনবিদিত। প্রায় পিঠাপিঠি বয়সী তারা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জন্ম এই দুই তারকা ভাই-বোনের। বড় সোনম কাপুর।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন তাদের ছোটবেলার মজার এক গল্প শোনালেন।

জানালেন, তারা দুই ভাইবোন একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় একবার স্কুলের বড় ক্লাসের ছেলেরা সোনমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাদের হাতে মারও খেয়েছিলেন অর্জুন। এমনকি স্কুল থেকেও কিছুদিনের জন্য বহিস্কারও করা হয়েছিল তাকে!

অর্জুন বলেন, ‘ছোট থেকে আমি আর সোনম এক স্কুলেই পড়াশোনা করেছি। তখন একটু উপরের ক্লাসে পড়ি আমরা। আমরা দুজনেই স্কুলে বাস্কেটবল খেলতাম। আমি তখন বেশ মোটাসোটা চেহারার হলেও শান্ত ছিলাম। আজও আমি হুটহাট করে রেগে যাই না।

‘হঠাৎ একদিন কাঁদো কাঁদো মুখে সোনম এসে জানালো উপরের ক্লাসের ছেলেরা নাকি তার হাত থেকে বাস্কেটবল কেড়ে নিয়েছে ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এসব শুনে আমার মাথাটা তখন হঠাৎ করে গরম হয়ে গেল। সোনমকে জিজ্ঞেস করাতে সে দেখিয়ে দিল কোন ছেলেটি তার সঙ্গে এই ব্যবহার করেছে। ব্যাস, তারপরে আগেপিছে না দেখে আমি ওই ছেলেটির কাছে গিয়ে চিৎকার করে গালিগালাজ দেয়া শুরু করলাম।’

সোনমের জন্য মার খেয়েছিলেন অর্জুন
বলিউডের তারকা ভাইবোন অর্জুন কাপুর ও সোনম কাপুর। ছবি: সংগৃহীত

এরপর হাসতে হাসতে অর্জুন বলেন, ‘প্রথম কয়েক মুহূর্ত আমার মুখে ওইসব গালিগালাজ শুনে স্রেফ হাঁ হয়ে গিয়েছিল ছেলেটি। তারপর বেধড়ক মারতে শুরু করলো আমায়। ওরকম ঘুঁষি খেয়ে আমার চোখে কালশিটে দাগ পড়ে গিয়েছিল। এরপর স্কুল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল আমাকে। কারণ ঝামেলার শুরু করেছিলাম আমিই। যাতা রকমের গালাগালি দিয়েছিলাম।’

সোনমের জন্য মার খেয়েছিলেন অর্জুন
বলিউডের তারকা ভাইবোন অর্জুন কাপুর ও সোনম কাপুর। ছবি: সংগৃহীত

‘এর কিছুদিন পর সোনম কাছ থেকে জানতে পারি ওই ছেলেটি জাতীয় পর্যায়ে বক্সিং খেলোয়াড়। শুনে তো তখন আমি স্রেফ হাঁ। বুঝেছিলাম ভুল জায়গায় পাকামো করে ফেলেছি।’

অর্জুন আরও বলেন, ‘এরপর সবকিছু মিটলে আমি সোনমকে বলে দিয়েছিলাম এবার থেকে স্কুলে নিজের ঝামেলা নিজে মেটাবি। খবরদার আমাকে ডাকবি না। এসবের পাল্লায় আমি আর পড়তে চাই না।’

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কানের ‘ডিসিশন মেকার’ দেশের তারেক আহমেদ

কানের ‘ডিসিশন মেকার’ দেশের তারেক আহমেদ

তারেক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

তারেক বলেন, ‘এবার কান ফোকাস করেছে সাউথ এশিয়াকে। তাই তারা আমাকে নির্বাচন করেছে। এখানে আমার কাজ মূলত যারা তথ্যচিত্রের জন্য প্রজেক্ট জমা দেবেন তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র আসর কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ডিসিশন মেকার’ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র কর্মী তারেক আহমেদ। তিনি মূলত কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের চলচ্চিত্র বাজারে যে তথ্যচিত্রগুলো জমা পরবে সেখানে ‘ডিসিশন মেকার’ হিসেবে কাজ করবেন।

কানে এমন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বাংলাদেশ থেকে তারকে মাহমুদই প্রথম পেয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তারেক মাহমুদ নিজেই।

তিনি বলেন, ‘এবার কান ফোকাস করেছে সাউথ এশিয়াকে। তাই তারা আমাকে নির্বাচন করেছে। এখানে আমার কাজ মূলত যারা তথ্যচিত্রের জন্য প্রজেক্ট জমা দেবেন তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া। এই কাজগুলো আমি অনলাইনে করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে আরও একটি কাজ করা যাবে, সেটি হলো, কানে পার্টির মতো নানা আয়োজন থাকে। সেখানে চলচ্চিত্র ও টিভির অনেক মানুষ থাকেন। সেখানে আমাদের দেশের সিনেমা বা টিভি মিডিয়ায় কীভাবে ভ্যালু অ্যাড করা যায়, তা নিয়েও কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাবে। এটা কিন্তু ডিসিশন মেকারের বাইরের কাজ।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠান নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। ঢাকা ডকল্যাবের পক্ষ থেকে তিনি জানান, ঢাকা ডকল্যাবের পরিচালক তারেক আহমেদ বিশ্বের অন্যতম প্রধান মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে 'ডিসিশন মেকার' হিসাবে মনোনীত হয়েছেন।

এটি বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জন্য সুখবর।

তারেক আহমেদ স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মী ও আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের সাবেক পরিচালক।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

চুরি করে গ্রেপ্তার ক্রাইম সিরিজের দুই অভিনেত্রী

চুরি করে গ্রেপ্তার ক্রাইম সিরিজের দুই অভিনেত্রী

পুলিশের অনুমান, অপরাধমূলক ধারাবাহিকে কাজ অবচেতনে তাদের মনে ছায়া ফেলেছিল। তার থেকেই হয়তো এই অপরাধ।

চুরির অভিযোগে ভারতের জনপ্রিয় ক্রাইম সিরিজ ‘ক্রাইম পেট্রোল’ ও ‘সাবধান ইন্ডিয়া’র দুই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।

ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি সুরভী শ্রীবাস্তব ও মহসিনা শেখ নামে ওই দুই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। মুম্বাইয়ের রয়্যাল পামস সোসাইটিতে ওই অভিনেত্রীদের সঙ্গে থাকা এক পেইং গেস্ট অভিযোগটি করেন।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) চৈতন্য দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত দুই অভিনেত্রী অনেক দিন ধরেই মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা রয়্যাল পামস সোসাইটিতে থাকছিলেন। আচমকাই সেখানকার আরেক বাসিন্দার লক্ষাধিক টাকা চুরি যায়।

এ নিয়ে সুরভী ও মহসিনার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী নারী।

পুলিশ জানায়, দুই অভিনেত্রীকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন অপরাধের কথা স্বীকার করেন তারা। চুরির টাকা কোথায় রেখেছেন, সেই জায়গাও দেখিয়ে দেন।

তবে কী কারণে তারা এ ধরনের অপরাধ করলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানাননি দুই অভিনেত্রী।

পুলিশের অনুমান, অপরাধমূলক ধারাবাহিকে কাজ অবচেতনে তাদের মনে ছায়া ফেলেছিল। তার থেকেই হয়তো এই অপরাধ।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

পরীমনির জ্বর, শ্বাসকষ্ট

পরীমনির জ্বর, শ্বাসকষ্ট

ছবি: পরীমনির ফেসবুক থেকে নেয়া

পরীমনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে গতকাল রাতে কথা হয়েছে। তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তার শ্বাসকষ্টেরও সমস্যা আছে। উদ্বিগ্ন হয়ে গেলে তার এ সমস্যা বেড়ে যায়।’

হঠাৎ আলোচনায় চলে আসা নায়িকা পরীমনি জ্বরে আক্রান্ত। ১৫ জুন পরীমনি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে (ডিবি) কথা বলতে যাওয়ার দিন থেকেই জ্বর জ্বর ভাব ছিল তার। বৃহস্পতিবার থেকে পুরোপুরি জ্বরে আক্রান্ত তিনি।

পরীমনির ঘনিষ্ঠ সূত্র নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে গতকাল রাতে কথা হয়েছে। তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তার শ্বাসকষ্টেরও সমস্যা আছে। উদ্বিগ্ন হয়ে গেলে তার এ সমস্যা বেড়ে যায়।’

বনানীতে পরীমনির বাসার নিচে শুক্রবারও ছিল সংবাদমাধ্যমের আনাগোনা। সুযোগ পেলে পরীমনির সঙ্গে কথা বলতে চান তারা।

পরীমনির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গেও তার কথাবার্তা হচ্ছে না। নিউজবাংলাকে চয়নিকা বলেন, ‘আমার শুটিং ছিল। গতকাল শেষ করেছি। আমারও ঠাণ্ডা লেগেছে।’

পরীমনির জ্বর, শ্বাসকষ্ট
প্রীতিলতা সিনেমায় পরীমনির লুক। ছবি: সংগৃহীত

এই নির্মাতা জানান, ডিবিতে কথা বলতে যাওয়ার দিনই পরীমনির জ্বর ছিল।

বিশ্ব সুন্দরির পর চয়নিকার অন্তরালে নামের একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করার কথা পরীমনির। নিউজবাংলাকে চয়নিকা জানিয়েছিলেন, সব ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষে ওয়েব সিরিজটির শুটিং শুরু করতে চান তিনি।

পরিকল্পনাটি আগের মতোই আছে কি না জানতে চাইলে চয়নিকা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটি পেছাতে পারে। কারণ, পরীর নিরাপত্তার একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু পরীমনি কাজ করতে চান। শুটিংয়ে দ্রুতই ফিরতে চান।’

পরীমনির জ্বর, শ্বাসকষ্ট
দুবাইতে পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তোলার পর পরীমনিকে নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত বুধবার পরীমনির বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

সেদিন রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি। সেখানে জানান, তিনি অল কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন সত্যি, কিন্তু অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটানটি।

পরীমনির জ্বর, শ্বাসকষ্ট
গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগের পর গণমাধ্যমের সামনে পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনা অন্য দিকে ঘোরানোর জন্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে।’

এরপর থেকেই আর সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসছেন না ঢাকাই সিনেমার হালের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’

অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: নিউজবাংলা

‘যখন আমি চূড়ান্ত, তখনও জানি না যে গল্প কী, চরিত্র কেমন। যখন আমি স্ক্রিপ্টটা পেলাম, চরিত্রটা পড়লাম, আমি অনেকটা চমকে গিয়েছিলাম। কারণ, এমন চরিত্র আমি আশা করিনি। একদমই করিনি।’

আষাঢ় মাসের বৃষ্টি বৃষ্টি ভাবটা বেশ উপভোগ্য। সূর্যের তীব্রতা নেই, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা একটা পরিবেশ সবখানে।

সেদিন বুধবার (১৬ জুন), গেন্ডারিয়ার একটি শুটিং লোকেশনে আমরা। বাড়িটিকে কেউ বলেন ‘দারোগা বাড়ি’, কেউ বলেন ‘আন্টির বাড়ি’। তিনতলা একটি বাসা। আমরা দাঁড়িয়েছিলাম দোতলার বারান্দায়।

বারান্দার সামনে একটা মাঠের মতো খোলা জায়গা। বৃষ্টির পানি জমে আছে, তবুও খেলছে বাচ্চারা। তার পরেই আবার চিকন পাকা রাস্তা। আর তার পরেই নদী। সেখানে বড় বড় জাহাজ ভেড়ানো। বারান্দা থেকে সব স্পষ্টই দেখা যায়।

রোদ নেই, গরম নেই, অনেক মানুষ ভিড় করেছে সেখানে। তবে আমরা এমন প্রকৃতি দেখতে যাইনি সেখানে। আমাদের উদ্দেশ্য অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের সাক্ষাৎকার নেয়া। বিষয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান -এ কাজ করার গল্প শোনা। এতে সাবিলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

সন্ধ্যা ৬টা তখন, কিন্তু শুটিং স্পটে ছিলেন না ফারিণ। আউটডোরে গেছেন। ফিরলেন যখন তখন আর মিষ্টি আলো ছিল না। বলা যায়, আঁধার করেই ফিরলেন তিনি। আর ফিরেই শুরু করলেন কথা বলা।

যেভাবে যুক্ত হওয়া

ডিসেম্বরের কোনো এক শুক্রবার। আমি আমার ফ্যামিলির সঙ্গে ডিনার করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে ফারুকী ভাইয়ের একজন সহকারী আমাকে ফোন করেন।

ফোনে আমাকে বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু বললেন, ভালো একটা প্রজেক্ট আছে। তুমি আগ্রহী হলে ভাইয়া তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়।

প্রাইমারি আলাপে ফারুকী ভাই জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার বয়স তো কম। কিন্তু পর্দায় কি তোমাকে ২৫ থেকে ২৭ বছরের নারীর চরিত্রে দেখাতে পারব?

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আমার কাছে বিভিন্ন ধরনের ছবি চাইলেন। বিশেষ করে একটু ম্যাচিউর লুকের।

আমি পাঠালাম। তারপর ফারুকী ভাই বললেন যে, তোমাকে যদি বলি ওয়েট গেইন করতে, তুমি কি গেইন করতে পারবে?

আমি বললাম, হ্যাঁ, সমস্যা নাই। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, ওয়েট গেইন করতে কত দিন সময় লাগবে?

মজার বিষয় হলো, আমার ওয়েট বাড়াতে এবং ওয়েট কমাতে বেশি সময় লাগে না। আমি জানালাম যে, এক মাস সময় দিলেই আমি ওয়েট গেইন করতে পারব। মানে ৫-৬ কেজি বাড়িয়ে ফেলতে পারব।

এসব কথা হওয়ার পর এক মাস কোনো কথা নেই। এর মধ্যে আমি ওয়েট গেইন শুরু করে দিয়েছে।

আমি কিন্তু জানি না, এই কাজটা হবে কি না, হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না। তারপরও ওয়েট গেইনটা শুরু করে দিয়েছি। মনে করলাম, দেখি কী হয়।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে একটি টিভিসি করেছিলাম। তখন আমি খুব শুকনা ছিলাম। সেখানে ফারুকী ভাই বলেছিলেন যে, তোমাকে নিয়ে একটা চরিত্র ভেবেছিলাম, কিন্তু তুমি যে শুকনা, এমন হলে হবে না।

তারপর আসলে তিশা আপুর প্রবল আগ্রহে ফারুকী ভাই আমার সঙ্গে কথা বলে। কারণ তিশা আপুর মনে হয়েছিল যে ক্যারেক্টারটা আমি করতে পারব।

জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ফারুকী ভাই আমাকে বাসায় আসতে বলে কথা বলার জন্য। আমি তখন চট্টগ্রামে শুটিংয়ে ছিলাম। আমি সকালের ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছাই এবং দুপুরে ফারুকী ভাইয়ের বাসায় যাই।

আমাকে দেখে তিনি বলেন, ওয়াও, তোমাকে আগের চেয়ে অন্যরকম লাগছে।’ আমি ওয়েট গেইন করছি শুনে তিনি আরও ইমপ্রেসড হন এবং স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়।

পরদিন আমি আবার যাই। ওই দিন আমার খুব ছোট একটা অডিশন হয়। আমি জানি না তিনি কী খুঁজে পেলেন। আমাকে বললেন সময় ফাঁকা রাখতে; এক মাস পর জানাচ্ছি।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে তাসনিয়া ফারিণ ছবি: সংগৃহীত

এক মাস আমি এই ‘জানাচ্ছি’র মধ্যে ছিলাম। কী যে একটা অবস্থা। আমি প্রায়ই নক করতাম ফারুকী ভাইয়ের সহকারীদের।

এটা জানুয়ারির কথা বলছি। তার পরেই ফেব্রুয়ারি মাস। ভ্যালেন্টাইনের কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। প্রচুর কাজের অফার আসছে আমার কাছে। কিন্তু আমি টাইম দিতে পারছি না। এদিকে আমি নিশ্চিতও না যে, আমি ফারুকী ভাইয়ের কাজটি করছি কি না।

শেষের পাঁচ দিন আরও অনেক উদ্বিগ্নতায় কেটেছে। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সেই চরিত্রের নাম সাবিলা। চরিত্রটির জন্য দুজনকে সিলেক্ট করা হয়। যার মধ্যে আমি ও অন্যজন।

মনে আছে, আমি থাকছি কি না জানতে সকালে ফোন করতে বলেছিল। সকালে ফোন করলাম। বলে রাতে ফোন করতে। রাতে ফোন করলাম, কিন্তু তখনও বলছে না। পরে আমাকে জানাল যে, হ্যাঁ, তুমি থাকছ। অনেক সময় লেগেছে এই প্রজেক্টে ঢুকতে।

গল্প ও চরিত্র

মজার ব্যাপার হচ্ছে, যখন আমি চূড়ান্ত, তখনও জানি না যে গল্প কী, চরিত্র কেমন। আমাকে শুধু দুই-একটা ধারণা দেয়া হয়েছিল। যেমন বলা হয়েছিল, বাবা থাকবে।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

ফারুকী ভাই যখন আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন আমার ফ্যামিলি নিয়ে অনেক কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন।

যখন আমি স্ক্রিপ্টটা পেলাম, চরিত্রটা পড়লাম, আমি অনেকটা চমকে গিয়েছিলাম। কারণ, এমন চরিত্র আমি আশা করিনি। একদমই করিনি।

স্ক্রিপ্ট পড়ার পর ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য দুই-তিন দিন সময় নিয়েছিলাম। সাধারণত কি হয়, কোনো চরিত্র পড়ার সময় সেই চরিত্রে নিজেকে ভাবি। কিন্তু সাবিলা চরিত্রটি পড়ার সময় নিজেকে আর সেই চরিত্রে বসিয়ে এগোতে পাড়ছিলাম না। এটা আমি কীভাবে করব।

সাবিলা

আমার জীবন ও সাবিলার জীবন অনেকটা ট্রেন লাইনের মতো। অল্প কিছু বিষয় ছাড়া কখনোই মেলানো সম্ভব না। আমাকে নিজেকে সাবিলাতে কনভার্ট হতে হয়েছে। আমি একা পারতাম না। আমি খুব আপসেট হয়ে গিয়েছিলাম যে চরিত্রটা আমি করতে পারব না। ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবে। কিন্তু ভাইয়া পরে আমাকে বললেন যে, তুমি চিন্তা করো না, তুমি শুধু ক্যারেক্টারটাকে ফিল করো, বাকিটা আমি দেখছি।

ট্রেলার

সাবিলাকে যে হলুদ রঙের ফিতাটি গলায় ঝুলিয়ে রাখতে দেখা যায়, সেটি তার অফিসের আইডি কার্ড। কিন্তু সেটা কী ধরনের অফিস সেটা বলার অনুমতি নেই।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

তবে ছোট ছোট করে যদি বলি যে, সাবিলা একজন শ্রমজীবী নারী। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার বাবা আছে, স্বামী আছে। সে একটা অফিসে কাজ করে। তার কলিগরা তাকে নিয়ে কথা বলছে। ট্রেলারে এগুলো দেখানো হয়েছে।

আমি বলব সাবিলার মতো অনেক মেয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ঢাকায় হয়তো আরও বেশি রয়েছে। সাবিলা তাদেরই একজন।

লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান

লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েব সিরিজের কঙ্কালটা তৈরি হয়েছে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক নানাভাবে এখানে দেখানো হয়েছে। অনেকগুলো দিকের মধ্যে বৈষম্য বা হ্যারেসমেন্ট একটা বিষয়। তবে অবশ্যই অন্য বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই ওয়েব সিরিজে।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

কাজের অভিজ্ঞতা

আমার কখনও মনে হয়নি আমি একজন খ্যাতিমান পরিচালকের সঙ্গে কাজ করছি। আমার মনে হয়েছে শিল্পী-পরিচালক-ইউনিটের মধ্যে একটা দারুণ সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, একটা চরিত্র অন্যভাবে অ্যাপ্রোচ করার উপায়টা আমি তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জেনেছি। ফারুকী ভাই সব সময় গুরুত্ব দেন চরিত্র অনুযায়ী অভিনয়শিল্পীর ভেতরের পরিবর্তন।

ব্যক্তিজীবনে খুব সাদামাটা থাকতে পছন্দ করি আমি। ওয়েব সিরিজে যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি সেটাও সাদামাটা। পরিচালকের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন এ ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্যই করেছে বলা যায়।

প্রাপ্তি

আমি কাজটি করে আনন্দ পেয়েছি। কাজটি যে দেখবে, সে একবার হলেও গল্প ও আমার চরিত্র নিয়ে চিন্তা করবে; মনে করবে যেন এটা আমাদেরই গল্প। আমার সবচেয়ে বেশি পাওয়া হবে যদি দর্শকের মনে থেকে যায় কাজটি। তাই কে কী আলোচনা করল, কোথায় কী ফেম পেলাম সেটা আমার মধ্যে কাজ করে না।

‘মনে হয়েছিল ফারুকী ভাই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন’
লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে তাসনিয়া ফারিণ। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমা

নাটক তো করছিই। ওয়েব সিরিজ যেমন হুট করে হলো, সিনেমাও তেমন হুট করে হয়ে যাবে। যদি সব ব্যাটে-বলে মিলে যায় তাহলে তো অবশ্যই সিনেমা করব।

আগামী

সিরিজের কারণে ভ্যালেন্টাইন ও রোজার ঈদে কাজ করা হয়নি। তারপর তো আবার লকডাউন। অনেক দিন কাজ করা হয়নি। এখন কোরবানি ঈদের জন্য কাজ করছি। একটু বেছেই কাজ করছি। কারণ, সিরিজের বিষয়টি মাথায় আছে। কেউ যেন এটা না বলতে পারে যে, ওকে তো সিরিজে দেখলাম কিন্তু এখন এটা কী সস্তা ধরনের নাটক করছে। সেই প্রেসারটা একটু আছে। তার জন্য অভিনয়ে আরও নজর দিচ্ছি।

আমি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যেখানে অভিনয়ের সুযোগ আছে, সেখানেই আমি আছি।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

গান গেয়ে পরীমনির পাশে হিরো আলম

গান গেয়ে পরীমনির পাশে হিরো আলম

এবার পরীমনির পাশে এসে দাঁড়ালেন হিরো আলম। তবে কোনো মন্তব্য দিয়ে নয়, গানে গানে পরীমনির জন্য ন্যায়বিচার চাইলেন এ অভিনেতা-গায়ক।

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি ৯ জুন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার পরদিন থেকেই বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে পরীমনির পাশে দাঁড়িয়েছেন তারকা শিল্পীরা।

এবার পরীমনির পাশে এসে দাঁড়ালেন হিরো আলম। তবে কোনো মন্তব্য দিয়ে নয়, গানে গানে পরীমনির জন্য ন্যায়বিচার চাইলেন এ অভিনেতা-গায়ক।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষার গানটি প্রকাশ পেয়েছে হিরো আলমের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে; বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে।

শিল্পী হয়ে শিল্পীর প্রতি অসম্মান সইব না/শিল্পী হয়ে শিল্পীর অপমান সইব না/উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর পরীমনি- এমন কথার গানের গীতিকার, সুরকার ও সংগীতায়োজক মম রহমান। গানটিতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে রাত ১২টার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু দিন হলো গানও গাইছেন হিরো আলম। পাঁচ দিন আগে তিনি সিলেটের লোকগান 'নয়া দামান' কাভার করেছেন। এর একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন হিরো আলম।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

৩২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার বায়োপিকে সালমান

৩২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার বায়োপিকে সালমান

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পরিচালক রাজকুমার গুপ্তার এই সিনেমায় সালমানকে দেখা যাবে ‘ব্ল্যাক টাইগার’ খ্যাত ভারতীয় গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিকের ভূমিকায়। যিনি ভারতের সেরা গুপ্তচর হিসেবে গণ্য হন।

আশির দশকের প্রায় শেষ দিক, ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া বিবি হো তো এইসি সিনেমার রেখার দেবর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান।

এরপর থেকে বলিউডে কেটে গেছে ৩২ বছর। এই সময়ের মধ্যে কমেডি, অ্যাকশন, রোমান্টিকসহ নানা ধরনের সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।

তার ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময়ে এই ধরনের বহু হিট সিনেমা থাকলেও নেই কোনো বায়োপিকে অভিনয়ের রেকর্ড।

তবে সেই রেকর্ড এবার ভাঙতে চলেছেন বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত এই অভিনেতা।

ভারতীয় ইতিহাসের অবিশ্বাস্য এক সত্য ঘটনা উপর ভিত্তি করে নির্মিত হতে যাচ্ছে অ্যাকশন ও থ্রিলারধর্মী এই সিনেমাটি।

ভারতীয় এক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পরিচালক রাজকুমার গুপ্তার এই সিনেমায় সালমানকে দেখা যাবে ‘ব্ল্যাক টাইগার’ খ্যাত ভারতীয় গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিকের ভূমিকায়। যিনি ভারতের সেরা গুপ্তচর হিসেবে গণ্য হন।

সেই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পরিচালক রাজকুমার গুপ্তা গত ৫ বছর ধরে তার জীবন নিয়ে গবেষণা করছেন।

অবশেষে তিনি এমন চিত্রনাট্য তৈরি করতে পেরেছেন যা রবীন্দ্র কৌশিকের অর্জন ও উত্তরাধিকারের বিচার করে।

৩২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার বায়োপিকে সালমান
ভারতীয় গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিক। ছবি: সংগৃহীত

সালমানকে নাকি এই চিত্রনাট্যও শুনিয়েছেন পরিচালক। ইতিমধ্যে সিনেমাটি করার জন্য সম্মতি জানিয়েছেন টাইগার।

গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রবীন্দ্র কৌশিক ১৯৭৪ সালে নবী আহমেদ শাকির নামে ছদ্মবেশে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন।

এরপর করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রী নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পাকস্তানি আর্মির মেজর পদে প্রমোশন পান।

৩২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার বায়োপিকে সালমান
ভারতীয় গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিক। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু ১৯৮৩ সালে তার ধরা পরে যান রবীন্দ্র কৌশিক। এরপর গ্রেপ্তার হন। পরে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়।

যদিও পরে সেই রায় পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। সবশেষ ২০০১ সালে পাকিস্তানের এক জেলে মৃত্যু হয় ভারতীয় এই গুপ্তচরের।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন

‘প্রদর্শনযোগ্য নয়’ সাজ্জাদের সিনেমা ‘সাহস’

‘প্রদর্শনযোগ্য নয়’ সাজ্জাদের সিনেমা ‘সাহস’

সাহস সিনেমার একটি দৃশ্য (বাঁয়ে) ও পরিচালক সাজ্জাদ খান। ছবি: সংগৃহীত

সেন্সর বোর্ডের সচিব মমিনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ। সিনেমাটিকে প্রদর্শনের যোগ্য নয় বলে প্রযোজককে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি চাইলে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া তার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার নাই।’

সাজ্জাদ খান প্রযোজিত ও পরিচালিত সিনেমা সাহস ‘প্রদর্শনযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে সিনেমার প্রযোজককে চিঠি দিয়েছে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। বৃহস্পতিবার সকালে প্রযোজক-পরিচালক সাজ্জাদ খান চিঠিটি হাতে পেয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সাজ্জাদ।

চিঠিতে কি বলা হয়েছে জানতে চাইলে সাজ্জাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিঠিতে বলা হয়েছে গালাগালি, কিশোর গ্যাঙ, পুলিশের ব্যবহার ঠিক মতো হয়নি।’

নিজের মতামত জানিয়ে সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি সিনেমায় কিশোর গ্যাঙের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি টেকনিক্যালি পুলিশের পোশাক দেখায়নি, সাধারণ পোশাক দেখিয়েছি। তারপরও কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুঝতে পারছি না।

‘আমার সিনেমায় একটি জায়গা ছাড়া কোনো রক্তপাত নেই; অশ্লিল দৃশ্য বা ধর্ষণের দৃশ্য নেই। তারা গালাগালির কথা উল্লেখ করেছেন। ঠিক আছে, গালি কোনো দৃশ্যে কেটে দিতে বললে, সেটি আমরা করতে পারি। কিন্তু তারা কোনো কর্তন না দিয়ে সরাসরি সিনেমাটি প্রদর্শনের যোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন।’

সাজ্জাদ জানান, তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বিষয়টি নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। তবে তিনি তার পরিচিতদের সিনেমাটি দেখাবেন। কোথায় সমস্যা সেটা বোঝার চেষ্টা করবেন।

সেন্সর বোর্ডের সদস্য প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু এবং অরুণা বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খসরু ফোন ধরেননি আর অরুণার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

‘প্রদর্শনযোগ্য নয়’ সাজ্জাদের সিনেমা ‘সাহস’
‘সাহস’ সিনেমার দৃশ্যে অর্ষা ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ছবি: সংগৃহীত

বোর্ডের আরেক সদস্য পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমাদের বাইরে কথা বলার নিয়ম নেই। সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

সেন্সর বোর্ডের সচিব মো. মমিনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ। সিনেমাটিকে প্রদর্শনের যোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের পর্যবেক্ষণ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমার প্রযোজক যদি মনে করেন যে তার সিনেমার সব কিছু ঠিক আছে, তাহলে এখন তিনি আপিল করতে পারবেন। এছাড়া তার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার নাই তার। আপিল বোর্ড যদি মনে করেন যে সেন্সর বোর্ড ভুল করেছে, তাহলে সিনেমাটি নিশ্চয়ই সেন্সর পাবে।’

সচিব জানান, আপিল করতে চাইলে তথ্য সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে। তথ্য সচিব একটি সভা ডাকবেন, যার সভাপতিত্ব করবেন কেবিনেট সচিব। সেখান থেকে আসবে সিদ্ধান্ত।

গত বছরের নভেম্বরে বাগেরহাটে শুরু হয় সাহস নামের সিনেমার শুটিং। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার অর্ষা। তার সঙ্গে আছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।

এতে অভিনয় করেন বাগেরহাটের স্থানীয় থিয়েটার গ্রুপ থিয়েটার রেপার্টরি বাগেরহাটের তরুণ শিল্পীরাও।

আরও পড়ুন:
হৃত্বিকের সিরিজ থেকে সরে গেলেন মনোজ বাজপেয়ী

শেয়ার করুন