শরীরচর্চা আর পিৎজার দ্বন্দ্বে ভুগছেন সুস্মিতার মেয়ে

সুস্মিতা সেন ও তার মেয়ে রেনে সেন। ছবি: সিংগৃহীত

শরীরচর্চা আর পিৎজার দ্বন্দ্বে ভুগছেন সুস্মিতার মেয়ে

ছবিতে দেখা যায় একটি কাঁধ খোলা কালো টপ ও কালো হাফ প্যান্টে এক্কেবারে সাদামাটা সুস্মিতার কন্যা। চোখে চশমা, মাথায় উঁচু করে খোঁপা করা চুল। এই লুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটি সেলফি তুলেছেন ২০ বছর বয়সী রেনে।

সাবেক মিস ইউনিভার্স বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন যে ব্যাপক ফিটনেস ফ্রিক সে কথা সবারই জানা।

তারই মতো হয়েছে মেয়ে রেনে সেনও। মায়ের মতো শরীরচর্চা নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকেন রেনে।

মাঝেমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সেসব ছবিও পোস্ট করেন তিনি। তবে ফিটনেস ঠিক রাখবেন না পিৎজা খাবেন তা নিয়ে বেশ দোটানায় ভুগছেন রেনে।

সম্প্রতি নিজের মেদহীন ঝরঝরে চেহারার একটি ছবিও পোস্ট করেছেন রেনে।

ছবিতে দেখা যায় একটি কাঁধ খোলা কালো টপ ও কালো হাফ প্যান্টে এক্কেবারে সাদামাটা সুস্মিতার কন্যা। চোখে চশমা, মাথায় উঁচু করে খোঁপা করা চুল। এই লুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটি সেলফি তুলেছেন ২০ বছর বয়সী রেনে।

সেই ছবির ক্যাপশনে শরীরচর্চার ও পিৎজার দুটি ইমো দিয়ে লিখেছেন এই দুইয়ের দ্বন্দে ভুগছি।

মায়ের মতোই ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয় রেনে। ইতিমধ্যেই তার এই পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ রিয়্যাক্ট করেছেন। তবে ছবিতে কমেন্ট অপশন বন্ধ রেখেছেন তিনি।

শরীরচর্চা আর পিৎজার দ্বন্দ্বে ভুগছেন সুস্মিতার মেয়ে
সুস্মিতার মেয়ে রেনে সেন। ছবি: রেনের ইনস্টাগ্রাম থেকে সংগৃহীত

কয়েক দিন আগেই ইনস্টাগ্রামে প্রশ্নোত্তর পর্বে মজেছিলেন রেনে। অনেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না।

রেনেও জানিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত মনের মানুষ খুঁজে পাননি তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তাদের নিয়ে টিভি ফিচার ফিল্ম

তাদের নিয়ে টিভি ফিচার ফিল্ম

সাহসিকা টিভি ফিচার ফিল্মের অভিনয়শিল্পীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

তানিম রহমান অংশু’র পরিচালনায় এতে পুলিশ অফিসার নাদিয়ার চরিত্রে তারিন ও ব্যারিস্টার ফরিদের চরিত্রে অভিনয় করেছে আশীষ খন্দকার। এছাড়াও আসামি পক্ষের আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় রয়েছেন মিথিলা।

কলেজ পড়ুয়া ফারিয়ার প্রথম প্রেম মাহাদি। কিশোর বয়সেই প্রথম প্রেমিকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন ফারিয়া। মুছে যায় ফারিয়ার প্রেম কিন্তু থেকে যায় গ্লানি।

পরিবারের কাছ থেকে তাকে শুনতে হয় হাজারও তিরস্কার। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চায় পরিবারের মানুষগুলো।

অন্যদিকে মাহাদির পক্ষ থেকেও আসলো হুমকি। কিন্তু হুমকি পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়নি ফারিয়া। এই ঘটনার বিচার চাইতে এগিয়ে এলো সাহসী ফারিয়া।

আদালতের চলতে থাকলো ন্যায়-অন্যায়ের আঘাত, পাল্টা আঘাত। মাহাদির বিরুদ্ধে ফারিয়ার ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে?

এমন টানটান উত্তেজনার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে টিভি ফিচার ফিল্ম সাহসিকা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

এতে ফারিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করছে তানজিন তিশা আর মাহাদির চরিত্রে মনোজ প্রামাণিক।

তাদের নিয়ে টিভি ফিচার ফিল্ম
সাহসিকা টিভি ফিচার ফিল্মের শুটিং সময়ের ছবি। ছবি: সংগৃহীত

তানিম রহমান অংশু’র পরিচালনায় এতে পুলিশ অফিসার নাদিয়ার চরিত্রে তারিন ও ব্যারিস্টার ফরিদের চরিত্রে অভিনয় করেছে আশীষ খন্দকার।

এছাড়াও আসামি পক্ষের আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় রয়েছেন মিথিলা। সাহসিকার চিত্রনাট্য করেছেন আহমেদ খান হীরক ও নাসিমুল হাসান।

এফডিসি’র নয় নম্বর ফ্লোরে আদালতের সেটে চলচ্চিত্রটির প্রথম ধাপের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপের শুটিং বিভিন্ন আউটডোর লোকেশনে হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আলফা আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল।

কোরবানির ঈদে দীপ্ত টিভিতে প্রিমিয়ার হবে টিভি ফিচার ফিল্ম সাহসিকা

শেয়ার করুন

ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’

ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’

‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ সিরিজে অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন।

আগামী ৯ জুলাই জি ফাইভ গ্লোবালে সিরিজটি মুক্তি পাবে জানিয়ে ফারুকী লেখেন, ইউএসএ, ইউকে, মধ্যপ্রাচ্য, ও বিশ্বের অনেক দেশের বন্ধুরা সাবস্ক্রাইব করে দেখতে পারেন এবং আমার প্রিয় বাংলাদেশের দর্শকরা এটি বিনামূল্যে দেখতে পারবেন!’

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

কিন্তু সিরিজটির নাম, অভিনয়শিল্পী বা কোন প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে, তার কোনোকিছুই প্রকাশ করেননি তিনি।

অবশেষে এই ওয়েব সিরিজটি নিয়ে এক সঙ্গে সব জানিয়ে দিলেন এই নির্মাতা

আগামী ৯ জুলাই মুক্তি পাবে ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’।

এটি মুক্তি পাবে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে। সোমবার বিকেলে জি ফাইভের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়ে এটির ট্রেলার।

ট্রেলারটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও শেয়ার করেছেন ফারুকী।

সেই সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শকের জন্য একটি সুখবর দিয়েছেন তিনি। এই সিরিজটি বিনামূল্যে দেখতে পারবেন তারা।

ট্রেলারটি শেয়ার করে ফারুকী লেখেন, ‘আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান- এর ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে।’

আগামী ৯ জুলাই জি ফাইভ গ্লোবালে সিরিজটি মুক্তি পাবে জানিয়ে তিনি লেখেন, ইউএসএ, ইউকে, মধ্যপ্রাচ্য, ও বিশ্বের অনেক দেশের বন্ধুরা সাবস্ক্রাইব করে দেখতে পারেন এবং আমার প্রিয় বাংলাদেশের দর্শকরা এটি বিনামূল্যে দেখতে পারবেন!’

ওয়েব সিরিজটির প্রযোজক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ফারুকীর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

এই ওয়েব সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন পার্থ বড়ুয়া, আফজাল হোসেন, মামুনুর রশীদ, ইরেশ যাকের, তাসনিয়া ফারিন, মারিয়া নূর, হাসান মাসুদসহ একঝাঁক তারকা।

শেয়ার করুন

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

সাভারের বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

 ঢাকা বোট ক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীমনি ওই দিন ক্লাবে এসেছিলেন, এটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেখানে অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে কি না এটা তারা ঘটনার সময় বুঝতে পারেননি।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এটির এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (অ্যাডমিন) বখতিয়ার আহমেদ খান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত, তিনি এই ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের ক্লাবে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছেন।

‘পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য না। তিনি কোনো সদস্যের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ওই দিন পরীমনি এসেছিলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা বলতে পারছি না। এখানে একটা লাইসেন্সড বার রয়েছে। সদস্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বারের ভিতরে কোনো সিসি ক্যামেরা রাখা হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব সদস্য বারে প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণত যাদের ড্রিঙ্কিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা প্রবেশ করেন। হয়তো দু-একজন অতিথিও সেখানে প্রবেশ করেন।

‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।

‘তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে আমরা বুঝতে পারলাম, এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। তবে তা ক্লাবের নির্দিষ্ট সময়ের পর বা রাত ১১টার পর ঘটেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করছে, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ঘটনা ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে যায় না।

শেয়ার করুন

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন ৫৩ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।

পরীমনির ওই পেজের ফলোয়ার ৯১ লাখের বেশি। তার আলোচিত ওই পোস্টে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন ক্ষোভ, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে এর মধ্যে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট পড়েছে ৫৩ হাজারের বেশি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য।

একজন নারী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাস করার এ ধরনের মানসিকতা নিয়েও আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সমাজ ও মনোবিশ্লেষকেরা বলছেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা নারীর পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টকে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন ব্যবহার উসকে দিচ্ছে মানসিক বিকৃতিকে।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন আশরাফ হোসেন নিপু। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশেষ কারণেই দিয়েছি। যেহেতু বিশেষ কারণ তাই এটি সিক্রেট। বলব না।’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পরীমনির পোস্ট

তার মন্তব্যটি প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে জানানো হলে নিপু জানান, এতে তার কোনো পরোয়া নেই। বরং প্রতিবেদনে যেন তার ছবি দিয়ে দেয়া হয়। এমনকি নিউজের লিংকও পাঠানোর অনুরোধ করেন নিপু।

আরিফুল ইসলাম অভি নামে একজন বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ নাই, ইচ্ছা হয়েছে তাই হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছি। সাংবাদিকদের ডেকে এনে যে ভাবটা করতেছিল সেটা হাস্যকর লাগছে।’

পরীমনির পোস্টে সাংবাদিক কাহহার সামি হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। এর যুক্তি দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু সাংবাদিক তার (পরীমনি) মনের মতো নিউজ না করায় এমন অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর তাই তার এমন অসহায়ত্বের অবস্থা দেখে হাসি পেল। হয়তো এটা তার জন্য শিক্ষা। তবে আমি চাই অপরাধীর বিচার হোক।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অন্তত ২০ জনকে মেসেঞ্জারে টেক্সট করা হলেও তারা উত্তর দেননি। অনেকে আবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে কারণ জানার পর তাকে ব্লক করে দেন।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অনেকেই বলছেন, তারা কোনো ভুল করেননি

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া কয়েকজন অবশ্য বলছেন, তারা ভুল করেছেন। এমন একজন আশাকুল ইসলাম তানজিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এটা ভাবতেই পারি নাই যে সিরিয়াস ইস্যু। পড়ে দেখি এটা সিরিয়াস। তখন হা হা রিঅ্যাক্ট তুলে নিয়েছি।’

ওয়াজেদ আলী নামের একজন বলেন, ‘আমি প্রথমে বুঝিনি এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। ভেবেছি হয়তো কোনো সিনেমা বা এমন কিছু। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেনে আমি হা হা রিঅ্যাক্ট সরিয়ে নিয়েছি।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া আফসানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি না বুঝেই দিয়েছি আর এর জন্য আমি লজ্জিত। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে আর একটা মাধ্যমে পড়ে যখন বুঝেছি, তখন আমি তা রিমুভ করে দিয়েছি।’

একজন মানুষ তার ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাসের মনস্তত্ত্ব জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সমাজ ও মনোবিশ্লেষকদের সঙ্গে।

‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর সমন্বয়ক জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন এই গ্রুপের সংখ্যাটাই বেশি। আগে সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না। আমরা দেখেছি এমন অনেকে ছিলেন, যারা নেতিবাচক ধারণা রাখলেও সেটা প্রকাশ করতে চাইতেন না। এর কারণ ছিল, তারা ভাবতেন যে আমি সাপোর্ট পাব কি না। তবে এখন সেটি বেড়ে গিয়েছে।’

জিনাত বলেন, ‘হা হা রিঅ্যাক্টের এত সংখ্যা দেখে অন্যরাও ভেবে নিয়েছেন তারা একা না। বরং পরীমনির সঙ্গে যারা এখন আছেন তারাই সমস্যায় পড়বেন কি না সেটি দেখার বিষয়। এর মানে, যারা ইতিবাচক তাদের সংখ্যা কমে গিয়েছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘কিছু মানুষ মনেই করতে থাকে এসব মেয়ে (অভিনয়শিল্পে জড়িতরা) এমন বা নারীর প্রতি এসব ঘটনা বানোয়াট। নারীরা খারাপ দেখেই এমন হয়, এটাও অনেকে মনে করেন। তারা বিনোদন দেখে, কিন্তু এটাকে যে একটা সম্মানজনক জায়গা হিসেবে দেখা বা পরীমনি যে সম্মানজনক জায়গায় আছেন- তিনিও যে ভালনারেবল হতে পারেন, এটা তারা ভাবে না।

‘নারীকে যেভাবে পুরুষ দেখতে চায়, ঠিক সেটির এক পা এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু তাকে কটাক্ষ করা হয়। আজ পরীমনি নায়িকা বলে তাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আবার এই যে মুনিয়া কেন এত টাকার ফ্ল্যাটে থাকবে সেটি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। কিন্তু এগুলো তো আলাদা বিষয়। এখানে যে অপরাধটা হয়েছে সেটির বিচার চাইতে হবে, করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক মনে করেন, অনেকে না জেনে বা তথ্যগত ভুল ধারণার কারণেও এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে সব ক্ষেত্রে জেন্ডার ইস্যুটা বড় নয়। আমিও এমন শিকার হয়েছি। এখানে সত্য যে জিনিস সেটা দেখার বিষয় রয়েছে।

‘এখন অনেকেই না বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখান। ঘটনার পেছনে আসলে কী সেটা জানা থাকে না। এখন ফেসবুক, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ঘটনা। সেখানে কে দোষী আর কে দোষী না, সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে। এটা আগে বন্ধ করা দরকার।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ধরেন আমার বিরুদ্ধে একটা সংবাদ হয়েছে। সেটি ছড়িয়ে পড়ছে। পরে যখন সেটা প্রমাণ হয় না বা বিস্তারিত আসে তখন আর কতজন এটা পড়ে?’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহফুজা খানমের মতে, এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পেছনে বড় কারণ মূল্যবোধের পরিবর্তন।

মাহফুজা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষের যে সহানুভূতি হয় সেটাকে আমরা ভ্যালুজ বলে থাকি। এটা মানুষের জীবনে অনেক দিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এটি পাস হয়। তবে আস্তে আস্তে এর পরিবর্তন হতে থাকে।

‘আমি যদি ৫০ বছর আগে আমাদের যে ভ্যালুজের সঙ্গে রিসেন্ট ভ্যালুজের কম্পেয়ার করি, তাহলে একটা পরিবর্তন দেখতে পাব। এই পরিবর্তনটা খুব আস্তে আস্তে হয়। এটি সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। তেমন এটিও চেঞ্জ হচ্ছে। যে ভ্যালুজগুলোকে আমরা বেশি প্রাধান্য দিতাম সেটি এখন চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।’

বর্তমান প্রজন্মে দুটি ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এখন মা-বাবা দুজনেই চাকরি করছেন। ব্যস্ততা বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের সময় দিতে পারছেন না। এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে এমন হচ্ছে। যার কারণে ভ্যালুজটা এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনে প্রবাহিত হচ্ছে না।’

মাহাফুজা খানম উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা স্টাডি করেছি। সেখানে দেখেছি যারা ইসলামিক ওয়েতে কাপড় পরেন বা সেগুলো লালন করেন, তাদের সেই ভ্যালুজ বেশি হয় কি না। তবে আমি কিন্তু তা পাইনি। তারা ওই বিষয়টি লালন করেন মানেই যে ওই ভ্যালুজ ধারণ করবেন তা নয়।’

শেয়ার করুন

পরিকল্পনা অমির: এজাহারে পরীমনি

পরিকল্পনা অমির: এজাহারে পরীমনি

অমি ও নাসির ইউ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

এজাহারে পরীমনি জানান, তাকে কস্টিউম ডিজাইনার অমি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরীমনিকে বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘অমি ও অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের সহায়তায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলা অভিনেত্রী পরীমনি দাবি করেছেন, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছয়জন। এর মধ্যে বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী অমি, যিনি তুহিন নামেও পরিচিত।

এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে নাসির ইউ মাহমুদকে। তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

পরীমনির লিখিত এজাহার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রূপনগর থানা থেকে ঢাকা জেলার সাভার থানা পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। সেখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা রেকর্ড করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি ও ঢাকা জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

মামলার এজাহারের একটি কপি এসেছে নিউজবাংলার হাতে। এতে পরীমনি জানান, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, অমি ও বনিসহ দুটি গাড়িতে উত্তরার দিকে যান।

‘পথিমধ্যে অমি বলে বেড়িবাঁধে ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তার ২ মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে গাড়ি দাঁড় করাই।

কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। তখন অমি ভেতরে যায় এবং অমি অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো।’

এজাহারে পরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমার ছোট বোন বনির প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে আমরা ঢাকা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট হতে বের হতেই ১নং বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদেরকে ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ ১নং আসামি মদ্যপান করার জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে ১নং আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।

‘১নং আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ১নং আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১নং আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে। আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিতে গেলে আমার ব্যবহৃত ফোনটি টান মেরে ফেলে দেয়। পুনরায় ফোনটি উঠিয়ে কল দিতে চাইলে আবারও ফোনটি টেনে ফেলে দেয়।’

পরিকল্পনা অমির: এজাহারে পরীমনি

রোববার রাতে বনানীর নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরার সময় একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারে পরী আরও বলেন, ২নং আসামি (অমি) সহ অজ্ঞাতনামা চারজন আসামি ১নং আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব। প্রকাশ থাকে যে, ২নং আসামি অমি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে আমার বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায় এবং ২নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জন আসামির সহায়তায় ১নং আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

‘আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। রাত অনুমান ৩টায় আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় আমার সঙ্গীদের সঙ্গে ফিরে আসি। উল্লেখ্য যে, আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।’

শেয়ার করুন

পরীমনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সংসদে তুললেন এমপি হারুন

পরীমনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সংসদে তুললেন এমপি হারুন

ছবি পরীমনির ফেসবুক থেকে নেয়া

জাতীয় সংসদে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ‘কী উদ্বেগজনক ঘটনা! আজ সকালে আসার পথে পত্রিকায় দেখলাম পরীমনি, কী ভয়ানক ঘটনা! সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সে এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। তার ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ তোলা পরীমনি এখন মৃত্যুর পথযাত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

জাতীয় সংসদে সোমবার ‘আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৯’ সংশোধনী প্রস্তাব ও ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল ২০২১’ -এর আলোচনা করতে গিয়ে পরীমনি ইস্যুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হারুন বলেন, ‘কী উদ্বেগজনক ঘটনা! আজ সকালে আসার পথে পত্রিকায় দেখলাম পরীমনি, কী ভয়ানক ঘটনা! সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সে এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। তাকে ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরী জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছিলেন লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান।

সাংবাদিকদের পরী জানান, ঘটনার পর থেকে দ্বারে দ্বারে ‍ঘুরেও কোথাও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি নিজের জীবন নিয়েও আশঙ্কার কথা জানান এই অভিনেত্রী।

পরীর সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে পুলিশ। সোমবার সকালেই বনানীতে এই অভিনেত্রীর বাসার সামনে পাঁচ সদস্যের পুলিশের প্রহরা বসানো হয়েছে।

দেশে অপরাধীদের দমনে আইনের প্রকৃত প্রয়োগ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন হারুন। বলেন, ‘কয়দিন আগে দেখলাম মুনিয়া, যাকে বনানী-গুলশানে ব্যভিচারের কেন্দ্র করা হয়েছিল। তার সঙ্গে যারা জড়িত, আইন কি নেই! আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করছে। আজ অন্য কেউ হলে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে দেয়া হতো। আইনের আওতায় নিয়ে আসা হতো। তারা নিঃসন্দেহে মাফিয়া। আপনারা (আইন) তৈরি করছেন, সংশোধন করছেন। তার আগে সিদ্ধান্ত নিন আইন জনগনের কল্যাণে প্রয়োগ করবেন।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সংসদে আইন উত্থাপন করছি। আইন পাসও হচ্ছে। আইন করে লাভটা কী হচ্ছে, আইনের যদি প্রয়োগ না থাকে। আমরা যে উদ্দেশ্যে আইন করছি, তা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আইন করে লাভটা কী হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইন পাস করাটাও বৃথা।’

পরীমনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সংসদে তুললেন এমপি হারুন
সংসদে পরীমনি ইস্যুতে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ

সংসদে বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা দুর্নীতির বিষয়ও তুলে ধরেন হারুন। বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তাহলে আমি কি ধরে নেব, গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে গণমাধ্যমে যে দুর্নীতির খবর হয়েছে, তা অসত্য।

‘অর্থমন্ত্রী বললেন, অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কারা, তাদের নাম দিন। তাহলে রাষ্ট্রের কাজ কী? আমাকে কেন নাম দিতে হবে? যারা অর্থপাচার করছে, তাদের জন্য তো আইন আছে। যারা অর্থপাচার করছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনের প্রয়োগ করুন।’

শেয়ার করুন

পরীমনির পোস্টে আইজিপির নাম কেন, স্পষ্ট নয় পুলিশ

পরীমনির পোস্টে আইজিপির নাম কেন, স্পষ্ট নয় পুলিশ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি

একটি বিষয় পরিষ্কার না, আইজিপি মহোদয়কে তিনি (পরীমনি) কেন মেনশন করলেন তার পোস্টে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে আইজিপি মহোদয়কে যোগাযোগ করেননি: এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা

চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনি তার ফেসবুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে যে পোস্ট করেছেন, তাতে পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের নাম কেন এলো সেটা বুঝতে পারছে না বাহিনীটি।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরীমনি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যকোনোভাবে আইজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

বেনজীর আহমেদ সব সময় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল জানিয়ে তিনি বলেন, পরীমনিকেও যথাযথ আইনি সহযোগিতা দেয়া হবে।

রোববার রাতে পরীমনি তার ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করে পোস্ট দেয়ার পর তোলপাড় হয়ে যায়।

সেই পোস্টে এই নায়িকা কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে পারেননি এবং পরিচিতজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি- এমন কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।

এর মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে ‘বেনজীর’-এর নামও উল্লেখ করেন পরীমনি। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা।’

ঘণ্টা দুয়েক পর গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে গত বুধবার রাতের সেই নির্যাতনের যে বর্ণনা পরীমনি দেন, তাতেও তিনি বেনজীর আহমেদের কথা উল্লেখ করেন। তবে তার নিজের মুখ নয়, প্রসঙ্গটি এসেছে সন্দেহভাজন নাসির ইউ মাহমুদের বরাত দিয়ে।

পরীমনি জানান, নাসির একপর্যায়ে তাকে বলেন, ‘তোকে কে বাঁচাবে? বেনজীর?’

এই কথা বলে নাসির তার ফোন ছুড়ে দেন পরীমনির কাছে। বলেন, ‘নে তাকে ফোন দে।’

নাসির ইউ মাহমুদ যে বোট ক্লাবের সদস্য, সেটির চেয়ারম্যান আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তবে এই ক্লাবের অন্য কারও দায় আইজিপির ওপর আসার কোনো কারণ নেই।

পরীমনি এও অভিযোগ করেন যে, বনানী থানায় গিয়ে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। থানা তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেনি ‘স্যার’ না থাকায়।

তখন পরীমনি তাকে হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করলে এভারকেয়ার হাসপাতালের ফটকে তাকে ফেলে রেখে যায় পুলিশ।

পুলিশের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার না, আইজিপি মহোদয়কে তিনি (পরীমনি) কেন মেনশন করলেন তার পোস্টে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে আইজিপি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।’

সোহেল রানা বলেন, ‘আইজিপি মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে নারী ও শিশুর প্রতি যেকোনো নির্যাতনের বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে ফিল্ড ইউনিটগুলোকে নারী ও শিশুসহ যেকোনো মানুষের ওপর নির্যাতনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

পরীমনি অভিযোগ সামনে আনার পর পুলিশ কী করেছে, তাও জানান বাহিনীটির কর্মকর্তা। বলেন, ‘গতকালই এ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। রাতেই তার (পরীমনি) বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তার কথা বিশদে শুনেছে। তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়েছে। তার এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ বা পুলিশের পক্ষ থেকে যে সাপোর্টগুলো রয়েছে, সেটি নিশ্চিতভাবে দেব।’

এরই মধ্যে পরীমনির অভিযোগ এজাহার হিসেবে থানায় জমা পড়েছে। প্রথমে অভিযোগটি দেয়া হয়েছিল রাজধানীর রূপনগর থানায়। পরে সেখান থেকে ঘটনাস্থল যে থানার আওতাধীন, সেই সাভার থানায় পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন