‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস। স্থান: হেক্সা ডাইন, বনানী

‘এখন এসে আমার মনে হয়, জীবনের ৩৪ বছর মনে হয় শুধু ভুল করেছি। সবার মনের মতো হতে চেয়েছি। সবার ইচ্ছার মূল দিতে গিয়ে দেখেছি, কিছুই পূরণ করতে পারিনি। তাই এখন আর অন্যের মনের মতো নয়, নিজের মনের মতো হওয়ার চেষ্টা করছি।’

ভালোলাগার অন্যরকম আবেদন আর সৌন্দর্য নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন মুসকান জুবেরি। সেখানে উপস্থিত সবার নজর তখন তার দিকেই; যেন মুসকানের ইশারার অপেক্ষায় সবাই।

এ শুধু কল্পনার বর্ণনা। কারণ, মুসকান জুবেরিকে উপন্যাসে পড়ে পাঠকের মনে এর চেয়েও বেশি সৌন্দর্য জমে আছে।

চরিত্রটি পর্দায় দেখতে দর্শকরা যে উদগ্রীব হয়ে আছেন, তা বলাই বাহুল্য। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন।

পাঠকের মনে আঁকা মুসকানকে বাঁধন পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

পাঠক-দর্শকদের আকাঙ্ক্ষা কিছুটা পূরণ করতে নিউজবাংলা মুখোমুখি হয়েছিল বাঁধনের। তিনি কথা বলেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ওয়েব সিরিজে তার চরিত্র নিয়ে। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন কলকাতার সৃজিত মুখার্জি।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিরিজটি নিয়ে তো অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু সব কথাই যেন ঘুরে ফিরে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে মুসকান জুবেরিকে নিয়ে। এই চরিত্রটিকে বাঁধন কীভাবে দেখেছেন? তার কাছে চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য কী?

মুসকান জুবেরিকে নিয়ে বাঁধনের প্রথম পর্যালোচনা হচ্ছে, ‘তিনি এমন একজন মানুষ, যে কেউ তার প্রেমে পড়বে।’

আর বাঁধন? তিনি কেমন? নিজেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাঁধন বলেন, ‘মুসকানের প্রেমে পড়া যেমন কঠিন, বাঁধনের প্রেমে পড়াও তেমন কঠিন।’

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
সাক্ষাৎকারে আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

চরিত্রটিকে এত দুর্দান্ত করে গড়ে তোলার জন্য ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিনকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাঁধন। একই সঙ্গে সবাইকে উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধও করেছেন।

ওয়েব সিরিজটি শুরুর আগে মুসকান চরিত্রে অন্য অভিনেত্রীর নাম শোনা গেছে। আরও অনেক পরীক্ষিত ও প্রমাণিত শিল্পীকে এই চরিত্রে নিতে পারত প্রযোজক সংস্থা হইচই। শেষ পর্যন্ত বাঁধনকেই কেন কাস্ট করা হলো সেটাই এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে আছে?

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বাঁধন বললেন, ‘এই উত্তরটা সৃজিত মুখার্জিই ভালো দিতে পারবেন।’

মুসকান জুবেরি চরিত্রের জন্য বাঁধনের সঙ্গে সৃজিতের কথা হয় গত বছর করোনা মহামারি শুরুর প্রথম দিকে। উপন্যাসটি তিনি পড়েন এবং খুব বিস্মিত হন। চরিত্রটি নিয়ে নিজে আত্মবিশ্বাসী হতে পারছিলেন না বাঁধন।

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

তিনি বলেন, ‘কনফিডেন্ট হব কীভাবে? আমি কখনও এত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ চরিত্রে কাজই করিনি। আর অভিনয়কে আমি কখনই সিরিয়াস কাজ হিসেবে দেখিনি।’

তাহলে ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ সিরিজে কেন অভিনয় করেছেন?

বাঁধন বলেন, ‘আমি যে কাজটি করতে পারব, এটা সৃজিত বিশ্বাস করেছেন। ইউনিটের অনেকেই মনে করত যে আমি হয়তো কাজটা ঠিকঠাক করতে পারব না। আমি সেই কথায় সায় দিয়েছি। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে পেরেছি।’

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সহশিল্পীদের কাছ থেকে অভিনয়ের জন্য অনেকবার বাহবা পেয়েছেন বাঁধন। সেসব কথা আগ বাড়িয়ে বলতে চান না তিনি। তবুও অনেকবার জানতে চাওয়ার পর বললেন, ‘রাহুল বোস আমার কাজের অনেক প্রসংশা করেছেন।’

মুসকান জুবেরি হওয়ার জন্য বা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বাঁধনের চেষ্টা ছিল রাতদিন।

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বাঁধন বলেন, ‘আমাকে একটি ছবির রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছিল যে, এমন একটি ছবি তুলে তাদের পাঠাতে। আমি সেটা করলাম। তারা আমাকে সংলাপ বলে বলে পাঠাতেন। আমি তার কাউন্টার সংলাপ রেকর্ড করে পাঠাতাম। সংলাপের সঙ্গে এক্সপ্রেশন ভিডিও করে সৃজিতকে পাঠিয়েছি। এভাবে আমি ধারণ করেছি মুসকান জুবেরিকে।’

বাঁধনের এত পরিশ্রমের ফল কেমন হবে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়েও আলাদা করে ভাবছেন আলোচিত এই অভিনেত্রী।

‘মুসকানের মতো বাঁধনের প্রেমে পড়াও কঠিন’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বাঁধন বলেন, ‘আমি কিন্তু এমন করে ভাবছি না যে, সব ভালো কাজ আমার একাই করতে হবে। হ্যাঁ, আমি ভালো কাজই করতে চাই। কিন্তু নিজেকে প্রেসার দিয়ে নয়। তবে এটা ঠিক যে, পরবর্তী কাজ আমি কোনটা করব সেটা নিয়ে আমার সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

‘এখন এসে আমার মনে হয়, জীবনের ৩৪ বছর মনে হয় শুধু ভুলই করেছি। সবার মনের মতো হতে চেয়েছি। সবার ইচ্ছার মূল্য দিতে গিয়ে দেখেছি, কিছুই পূরণ করতে পারিনি। তাই এখন আর অন্যের মনের মতো নয়, নিজের মনের মতো হওয়ার চেষ্টা করছি।’

সব মিল বাঁধন এখন এমন জীবন চান, যা তিনি নিজের মতো করে যাপন করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিমের কাছে ‘এক্স কোচ’ শাহরুখের চাওয়া

টিমের কাছে ‘এক্স কোচ’ শাহরুখের চাওয়া

এক্স কোচ ও আসল কোচের শুভেচ্ছা বিনিময়। ছবি: সংগৃহীত

টিম বাসে দলের সঙ্গে সেলফি টুইট করে পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে ভারতীয় কোচ জানিয়েছেন, তার বাড়ি ফিরতে আরও একটু দেরি হবে। সেই টুইটের প্রেক্ষিতেই শাহরুখ একটি টুইট করেছেন।

ভারতের নারী হকি দলকে নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছিল সিনেমা চাক দে ইন্ডিয়া। সিনেমায় দলের কোচ কবির খানের চরিত্রে অভিনয় করেন শাহরুখ খান।

সিনেমার নারী হকি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতীয় নারী হকি টিম। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ভারতের নারী হকি দল এখনও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

তবে সম্প্রতি আন্দের খবর দিয়েছে দলটি। অলিম্পিকে সোমবার অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ভারতের নারী হদি দল। তাদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে মুগ্ধ শাহরুখ খান।

রানি রামপালের দলকে টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এক্স কোচ কবির খান, অর্থাৎ শাহরুখ খান। আসল কোচ শোয়ার্ড মারিনকে উদ্দেশ্য করে টুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলিউড কিং খান।

টিম বাসে দলের সঙ্গে সেলফি টুইট করে পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে ভারতীয় কোচ জানিয়েছেন, তার বাড়ি ফিরতে আরও একটু দেরি হবে। সেই টুইটের প্রেক্ষিতেই শাহরুখ একটি টুইট করেছেন।

মারিনকে শাহরুখ লিখেছেন, ‘দেরি করে ফিরলেও সমস্যা নেই। শুধু ফেরার সময় সোনা নিয়ে এসো কয়েক কোটি পরিবারের জন্য।’

মজার বিষয় হলো শাহরুখ টুইটটির শেষে লিখেছেন, ‘ফ্রম: এক্স-কোচ কবীর খান’, অর্থাৎ তিনি টুইটটি করেছেন ‘প্রাক্তন কোচ কবীর খান’ হিসেবে।

শাহরুখের টুইটটির কিছু পরেই পাল্টা টুইট করেছেন মারিন, অর্থাৎ ভারতীয় নারী হকি দলের বর্তমান কোচ।

তিনি লিখেছেন, ‘সমর্থন আর ভালবাসার জন্য ধন্যবাদ। আমরা আবার নিজেদের উজাড় করে দেব।’

ডাচ কোচ মারিন টুইট শেষ করেছেন ‘ফ্রম: দ্য রিয়েল কোচ’ লিখে, অর্থাৎ আসল কোচের কাছ থেকে।

শেয়ার করুন

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?

গ্রেপ্তার মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। ছবি: সংগৃহীত

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না পাওয়ায় গ্রেপ্তারের পর পিয়াসার বিলাসী জীবন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ বলছে, বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন পিয়াসা ও তার সঙ্গীরা।

মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও কয়েকটি ছাড়া আর কোনো বিজ্ঞাপন চিত্রে দেখা মেলেনি মাদকসহ গ্রেপ্তার ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে। এমনকি কোনো টিভি নাটক বা সিনেমাতেও দেখা যায়নি তাকে।

পিয়াসা কখনও নিজেকে বেসরকারি টেলিভিশনের পরিচালক, কখনওবা রিসোর্টের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সেই পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না পাওয়ায় গ্রেপ্তারের পর পিয়াসার বিলাসী জীবন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বারিধারার যে ফ্ল্যাটটিতে তিনি থাকতেন, সেটি দেখলেও তার বিলাসী জীবন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। রোববার রাত ১১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের সময় ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ ও সিসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের অভিযানের সময় ওই বাসায় দেখা যায়, ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই বিশাল একটি বসার ঘর। এতে যে আসবাব রয়েছে সেগুলোও অনেক দামি।

পুলিশ বলছে, বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন পিয়াসা ও তার সঙ্গীরা।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
সোমবার পিয়াসাকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

শোবিজে পিয়াসাকে প্রথম দেখা যায় ২০০৮ সালে, টিভি রিয়েলিটি শো সুপার হিরো-হিরোইনের প্রতিযোগী হিসেবে। বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এবং মার্কেট একসেস গ্রুপ যৌথভাবে এই রিয়েলিটি শোর আয়োজন করেছিল।

এটি প্রচারও হতো এনটিভির পর্দায়। ওই সময় প্রতিযোগিতায় পরীক্ষার অংশ হিসেবে ছোট ছোট কিছু কাহিনি চিত্রে তাকে দেখা যায়।

ইউটিউবে থাকা একটি ভিডিওতে দেখা যায় ‘প্রেম ও যুদ্ধ’ নামের একটি প্রোডাকশনে মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় আসিফ ইমরোজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পিয়াসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিভির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০০৮ সালে হওয়া সুপার হিরো-হিরোইনের আয়োজনে পিয়াসা হয়েছিলেন তৃতীয় অর্থাৎ সেকেন্ড রানারআপ। শোতে নানা রকম পরীক্ষা দিতে হতো। সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাকে কখনও নাচ করতে হয়েছে, কখনও অভিনয় করতে হয়েছে।

‘সেগুলো এনটিভিতে প্রচার হতো, কিন্তু সেটি টেলিভিশনের কোনো প্রোডাকশন না। পরবর্তীতে এনটিভি তাকে নিয়ে কোনো কাজ করেনি।’

ওই রিয়েলিটি শোতে পিয়াসাকে নিয়ে কাজ করা নির্মাতা মোহাম্মদ হোসেন জেমীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান জানান, পিয়াসা কোনো সিনেমাতে পরবর্তীতে অভিনয় করেননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুপার হিরো-হিরোইনের অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে পরিচালকদের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু পিয়াসাকে নিয়ে কাজ করা হয়নি। পরে তিনি কোনো সিনেমাতে অভিনয়ও করেননি।

‘আমার সঙ্গে তার দুই-একবার কথা হয়েছিল, কিন্তু সিনেমার কাজ আর আগায়নি। কারণ সে সময় তিনি সোহানা টিভি বা এই নামের মতো কোনো এক প্রতিষ্ঠানের পদে বসেছিলেন।’

পিয়াসাকে অবশ্য পরবর্তীতে ওয়ালটন ফ্রিজের কয়েকটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। এটি ছাড়া আর কোনো বিজ্ঞাপনে তিনি অংশ নিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।

পিয়াসা একসময় এশিয়ান টেলিভিশনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। তবে তিনি কবে দায়িত্ব পালন করেছেন বা কত দিন এ দায়িত্বে ছিলেন তা জানাতে রাজি হয়নি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

এশিয়ান টিভির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা এশিয়ান টিভির এমডি মিজান সাহেবের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি কখনও এশিয়ান টিভির পরিচালক হিসেবে কাজ করেননি।’

বনানীতে ২০১৭ সালের আলোচিত ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় পিয়াসা আলোচনায় আসলে তখন নিজেকে এশিয়ান টিভির সাবেক পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
পিয়াসা ও তার সহযোগী মৌ

এ ছাড়া পিয়াসা একটি ফেসবুক পোস্টে নিজেকে কক্সবাজারের বিলাসবহুল রিসোর্ট হোয়াইট স্যান্ড রিসোর্টের পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন।

রিসোর্টের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, এতে সবশেষ পোস্ট করা হয়েছে ২০১৮ সালে। সেখান থেকে পাওয়া ওয়েবসাইট ঘেঁটে যোগাযোগের কয়েকটি নম্বর পাওয়া গেলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

রিসোর্টের পেজে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকেও সেই রিসোর্টের একজন পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিচালক পদ নিয়ে কিছুই জানি না।’

তিনি অস্বীকার করলেও রিসোর্টের ফেসবুক পেজে ২০১৮ সালের মার্চের একটি পোস্টে ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেখা যায়।

রেইন ট্রি ধর্ষণে আলোচনায় পিয়াসা

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা সারা দেশেই বেশ আলোচিত হয়। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী পিয়াসাও সে সময় গণমাধ্যমের আলোচনায় আসেন।

সাফাত আহমেদ ছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। ওই ঘটনার দুই বছর পর সাবেক শ্বশুরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাতের চেষ্টা, নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ আনেন পিয়াসা।

২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর বিচারক তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে একটি মামলাও করেন তিনি। এতে আপন রিয়েল স্টেটের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিয়ের পর শ্বশুরের গুলশান-২-এর বাসায় থাকতেন পিয়াসা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দিলদার আহমেদ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন পিয়াসাকে।

এ ছাড়া সাফাতকে তালাক দেয়ার জন্য পিয়াসাকে মানসিকভাবে চাপ দিতেন বলে দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

পিয়াসা আরও অভিযোগ করেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য গোপনে খাবারের মধ্যে ওষুধ মেশানোর চেষ্টা করা হয়।

মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায়ও পিয়াসার নাম

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের পর তা নিয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়।

ওই ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার একটি মামলাও করেন। এ মামলার এজাহারেও আসে কথিত মডেল পিয়াসার নাম।

সবশেষ গ্রেপ্তার পিয়াসা

রাজধানীতে রোববার পৃথক অভিযানে আটক মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং তার সহযোগী মরিয়ম আক্তার মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এবং মৌয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলা করে।

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত ১১টার দিকে বারিধারার নিজ বাসা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮ লিটার মদ, সিসা লাউঞ্জের সরঞ্জাম ও সিম্বা ব্র্যান্ডের চারটি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক হন মডেল মৌ

রাত ১২টার দিকে আরেক অভিযানে মোহাম্মদপুর বাবর রোড এলাকা থেকে মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তার বাসা জব্দ করা হয় ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২ লিটার মদ।

এ মামলায় সোমবার বিকেলে পিয়াসা ও মৌকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত।

শেয়ার করুন

মৌসুমীকে নিয়ে কবরে যেতে চান সানী

মৌসুমীকে নিয়ে কবরে যেতে চান সানী

মৌসুমী-ওমর সানীর দাম্পত্য জীবনের ২৬ বছর পূর্তী। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৪ সালে দিলীপ বিশ্বাসের দোলা চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেন মৌসুমী-সানী। ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির ফারদিন এহসান স্বাধীন নামের এক ছেলে ও ফাইজা নামে এক মেয়ে আছে।

দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জুটি মৌসুমী-ওমর সানী। রিল-রিয়েল, দুই জীবনেই পার্টনার তারা। পর্দায় যেভাবে সভার পছন্দের তারা, পর্দার বাইরের জীবনেও সকলের ভালোবাসার ও শ্রদ্ধার তারা।

সোমবার এই জুটির দাম্পত্য জীবনের ২৬ বছর পূর্ণ হলো। সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পাচ্ছেন তারা।

বিশেষ এ আনন্দের দিনটি কেক কেটে উদযাপন করেছেন মৌসুমী-সানী। এই দিনে সানীর প্রত্যাশা, সে ও মৌসুমী যেন কবর পর্যন্ত একসঙ্গে যেতে পারেন।

সানী ফেসবুকে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ২৬ বছর পার করলাম। আপনাদের দোয়াতে আল্লাহর হুকুমে, পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, ফিল্ম ক্লাব, শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্রবান্ধব সবাইকে নিয়ে যেন থাকতে পারি। তার চেয়ে বড় আমাদের ভক্ত, আপনাদের দোয়াতে বাকি জীবন কবর পর্যন্ত যেতে পারি, দোয়া করবেন।’

১৯৯২ সালে নূর হোসেন বলাইয়ের এই নিয়ে সংসার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সানীর চলচ্চিত্রে অভিষেক। অন্যদিকে মৌসুমীর সিনেমায় অভিষেক ১৯৯৩ সালে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা কেয়ামত থেকে কেয়ামত

মৌসুমীকে নিয়ে কবরে যেতে চান সানী
আনন্দের দিনটি কেক কেটে উদযাপন করেছেন মৌসুমী-সানী। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৪ সালে দিলীপ বিশ্বাসের দোলা চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেন মৌসুমী-সানী।

১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির ফারদিন এহসান স্বাধীন নামের এক ছেলে ও ফাইজা নামে এক মেয়ে আছে।

শেয়ার করুন

স্বামীর পর্নোকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শিল্পা

স্বামীর পর্নোকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শিল্পা

শিল্পা শেঠি ও তার স্বামী রাজ কুন্দা। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে শিল্পা লেখেন, ‘২৯ বছর ধরে পরিশ্রম করে এই জায়গায় এসেছি। মানুষ আমার ওপরে ভরসা রেখেছেন। তাদের আমি হতাশ করব না।’

সোমবার দুপুরে টুইটারে বিবৃতি দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি। তার স্বামী রাজ কুন্দ্রা পর্নোগ্রাফি নির্মাণ ও পরিবেশনের অভিযোগে আছেন বিচারিক হেফাজতে।

রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই মুম্বাই অপরাধ দমন শাখা এবং সংবাদমাধ্যমের নজরে শিল্পা। তিনি কী করছেন, কী বলছেন, আগে কী বলেছিলেন, পর্নো বানানোয় তার ভূমিকা কতটুকু- এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন অভিনেত্রী।

শুধু তাই নয়, নেটিজেনদের ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ, কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে শিল্পাকে। তারই প্রতিবাদ জানাতে সংবাদমাধ্যম এবং নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

শিল্পা লিখেছেন, ‘হ্যাঁ! গত কয়েক দিন খুব কঠিন ছিল আমার জন্য। তার ওপরে ভুয়া অভিযোগ, ভুয়া রটনা এবং অন্যায্য আক্রমণ সহ্য করে যাচ্ছি। শুধু আমি নই, আমার পরিবারও বিদ্রূপের শিকার হচ্ছে।’

এর পরেই তিনি বড় বড় অক্ষরে লিখেছেন, ‘আমি এখনও কোনো বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলিনি। বলবও না।’

শিল্পা জানান, যেহেতু পর্নো নির্মাণ ও পরিবেশনের মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই এ‌ই বিষয়ে তিনি চুপ থাকবেন।

স্বামীর পর্নোকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শিল্পা
বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করে তিনি লেখেন, ‘তার মন্তব্য বলে যেন কোনো খবর প্রচার না করা হয়।’

ভারতের বিচার ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে শিল্পা লেখেন, ‘এই মামলায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা।’

নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে শিল্পা লেখেন, ‘২৯ বছর ধরে পরিশ্রম করে এই জায়গায় এসেছি। মানুষ আমার ওপরে ভরসা রেখেছেন। তাদের আমি হতাশ করব না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের হেনস্তার শিকার হওয়াটা মেনে নেব না।’

দুই সন্তানের মা হিসেবে তিনি সকলকে অনুরোধ জানান, যতদিন পর্যন্ত এই মামলা বিচারাধীন, ততদিন তার সন্তানদের জন্য পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরে যেন প্রবেশ না করা হয়।

বিবৃতির শেষে তিনি লিখেন, ‘সত্যমেব জয়তে’ অর্থাৎ ‘সত্যের জয় হবে’।

শেয়ার করুন

দেশে কবে দেখা যাবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

দেশে কবে দেখা যাবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

সহপ্রযোজক রাজিব মহাজন বলেন, ‘যদি মহামারির অবস্থা ভালোর দিকে যায় এবং হলগুলো খুলে দেয়া হয় তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে দেশে মুক্তির চেষ্টা করব। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির আগে সিনেমা হলে রেহানা মরিয়ম নূর প্রদর্শনের।’

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগ অঁ সতেঁ রিগা-য় জায়গা করে নেয় দেশের সিনেমা রেহানা মরিয়ম নূর

সিনেমাটি ৭ জুলাই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সিনেমাটি দেখে দর্শকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান পরিচালক আবদুল্লাহ মোহম্মদ সাদ, অভিনেত্রী বাঁধনসহ সিনেমাটির সংশ্লিষ্টদের।

কান থেকে খ্যাতি অর্জন তো হলো, কিন্তু দেশের দর্শকরা সিনেমাটি দেখার সুযোগ কবে পাবেন?

এ ব্যাপারে জানতে নিউজবাংলা যোগাযোগ করে সিনেমার সহপ্রযোজক রাজিব মহাজনের সঙ্গে-

রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমাটি কি সেন্সরে জমা দেয়া হয়েছে? না দেয়া হয়ে থাকলে, কবে জমা দেয়া হবে?

সেন্সরে জমা দেয়ার জন্য আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি এবং আশা করছি এই মাসের (আগস্ট মাস) মধ্যে সেন্সরের জন্য জমা দেব।

দেশে কবে দেখা যাবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’
অভিনেত্রী বাঁধন ও পরিচালক আবদুল্লাহ মোহম্মদ সাদ। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বা ফেস্টিভ্যাল ফরম্যাট এবং দেশে মুক্তির ফরম্যাট বা দৈর্ঘ্যের কোনো পরিবর্তন হবে কি?

উত্তর: আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বা ফেস্টিভ্যাল ফরম্যাট থেকে দেশে মুক্তির ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা এখন পর্যন্ত একটি ফরম্যাটেই সব জায়গায় জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দেশে কবে দেখা যাবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’
কানের লাল গালিচায় রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কুশলীরা। ছবি: সংগৃহীত

করোনার কারণে সিনেমা হল খোলা পেতে অনেক সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিনেমাটি ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

আমাদের টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমাদের ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তির চিন্তা করেছি। সে অনুযায়ী সব ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দেশে কবে দেখা যাবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’
’রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

সব বিবেচনায় সিনেমাটি কবে নাগাদ দেশের দর্শকরা দেখতে পাবেন?

আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশে করোনার সার্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে কখন রেহানা মরিয়ম নূর মুক্তি পাবে বা দর্শকরা দেখতে পাবেন। যদি মহামারির অবস্থা ভালোর দিকে যায় এবং হলগুলো খুলে দেয়া হয় তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে দেশে মুক্তির চেষ্টা করব।

তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির আগে সিনেমা হলে রেহানা মরিয়ম নূর প্রদর্শনের।

শেয়ার করুন

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে

মডেল পিয়াসাকে সোমবার আদালতে তোলা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারা এলাকা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্রান্ডের ৮ লিটার মদ ও সিম্বা ব্রান্ডের ৪ টি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারা ও মোহাম্মদপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা, মদ ও বিভিন্ন মাদকসহ গ্রেপ্তার মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ তাদের গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদেরকে সংশিষ্ট থানায় করা মামলায় রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুইজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারা এলাকা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্রান্ডের ৮ লিটার মদ ও সিম্বা ব্রান্ডের ৪ টি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়।

এ সংক্রান্তে গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে
মৌকেও সোমবার আদালতে তোলা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রোববার রাতেই ১২টার দিকে অপর এক অভিযানে মোহাম্মদপুর বাবর রোড এলাকা থেকে মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ব্রান্ডের ১২ লিটার মদ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

শেয়ার করুন

উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন মডেল পিয়াসা ও মৌ

উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন মডেল পিয়াসা ও মৌ

পুলিশের অভিযানে আটক ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা (বামে) ও মরিয়ম আক্তার মৌ।

অভিযানের সময় দুইজনের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে আটকের সময় পিয়াসা ও মৌ দাবি করেন, তাদের ফাঁসানো হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

রাজধানীতে আলাদা অভিযান চালিয়ে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, দুই মডেল সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে।

পিয়াসাকে তার বারিধারার বাসা থেকে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আটক করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মাদপুরের বাবর রোডে মৌয়ের বাসায়।

অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে আটকের সময় পিয়াসা ও মৌ দাবি করেন, তাদের ফাঁসানো হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযান শেষে শনিবার রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুরে মৌয়ের বাড়ির নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘তারা দুইজন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

‘দুই জনের বাসায় বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাওয়া যায়। পিয়াসার বাড়িতে সিসা সেবনের সরঞ্জাম ছিল।’


ডিসি হারুন বলেন, ‘আটক দুইজন দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা।

‘বাসায় এলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরে সেসব ভিডিও এবং ছবি পরিবারকে পাঠাবেন বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।’

তিনি বলেন, ‘বাসায় মাদক পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হবে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকায় আলাদা মামলা হবে। এসব মামলায় আমরা তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব।’


উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন মডেল পিয়াসা ও মৌ
মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক হন মডেল মৌ


২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ওই ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পিয়াসা।

প্রথমে মামলা করতে ওই ছাত্রীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু পরে পিয়াসার বিরুদ্ধেই মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেন একজন। সেই ঘটনার ৪ বছর পর ফের আলোচনায় মডেল পিয়াসা।

শেয়ার করুন