অমানুষ মোশারফ করিম!

অমানুষ সিনেমার সেটে মোশারফ করিম

অমানুষ মোশারফ করিম!

অমানুষ সিনেমায় একজন মানব অঙ্গ পাচারকারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশারফ করিম। মাঝে মাঝে যৌনপল্লিতেও তাকে দেখা যাবে। তবে তার এইসব কাজের পেছনের গল্প দর্শকরা সিনেমার এক পর্যায় গিয়ে জানতে পারবে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আরটিভি প্লাসের জন্য সিনেমা অমানুষ-এর কাজ চলছে। শুটিং মিটিয়ে সিনেমাটি এখন রয়েছে পোস্ট প্রোডাকশন পর্যায়ে।

সঞ্জয় সমদ্দারের পরিচালনায় অমানুষ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশারফ করিম ও তানজিন তিশা।

সিনেমায় গল্পের প্রয়োজনে রয়েছে একটি গান, সঙ্গে নাচ। গানটির নাম রাঁধা। এই গানে মোশারফ করিমকেও অংশ নিতে দেখা যাবে।

রাঁধা গানটি গেয়েছেন অদিতি রহমান।

পরিচালক সঞ্জয় বলেন, ‘সিনেমার প্রয়োজনে এমন একটা গান রাখা হয়েছে। সিনেমার কিছু গল্প এই গানের মধ্য দিয়ে দেখানো হবে। আইটেম সং বলতে আমরা যা বুঝি, এটা তেমন না।’

অমানুষ সিনেমার গানের দৃশ্যধারণ

পরিচালক সঞ্জয় জানান, অমানুষ সিনেমায় একজন মানব অঙ্গ পাচারকারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশারফ করিম। মাঝে মাঝে যৌনপল্লিতেও তাকে দেখা যাবে। তবে তার এইসব কাজের পেছনের গল্প দর্শকরা সিনেমার এক পর্যায় গিয়ে জানতে পারবে।

তানজিন তিশা ও মোশারফ করিম স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন।

সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে সে বিষয়ে পরিচালক অবগত নন। সিনেমাটি পুরোপুরি জমা দেয়ার পরেই জানা যাবে এর মুক্তির তারিখ।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দর্শক চাইলে অনেক কিছুই বন্ধ হবে: মেহজাবীন

দর্শক চাইলে অনেক কিছুই বন্ধ হবে: মেহজাবীন

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মেহজাবিন বলেন, ‘সবার কাছে অনুরোধ থাকবে যে, নারীকেন্দ্রিক কাজগুলোকে যেন একই ভাবে মূল্যায়ন করা হয়।এ পরিবর্তনটা আনার জন্য দর্শকের অনেক বড় ভূমিকা আছে।’

টেলিভিশন বা ইউটিউব নাটক বলতেই ভেসে ওঠে মেহজাবিন চৌধুরীর বুদ্ধিদীপ্ত মিষ্টি মুখ। নারী দিবসে মেহজাবিন নিজের ভাবনা জানিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

নারী দিবসে বরাবরই টেলিভিশন নাটক বা বিজ্ঞাপনে আমরা নির্যাতিত, নিপীড়িত নারীদের গল্পই দেখি? নারীদের সফলতার গল্প কেন উদযাপন করি না?

আমার মনে হয় এর পেছনে দুটো কারণ। দর্শকের দিক থেকে চিন্তা করতে গেলে, তারা সবসময় অনুপ্রেরণার গল্প চায়। যেখানে তারা দেখতে চায় চোখের সামনে কীভাবে একটা মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যে মানুষটা সাফল্য পেয়ে গেছে, তার সফলতার পেছনের গল্পের চেয়ে এ জিনিসটা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

আপনি যে সফল নারীদের কথা বলছেন তাদেরও একটা সংগ্রাম আছে। এ লড়াইটা কম বেশি সব নারীর ক্ষেত্রে একই রকম। আমরা তাদেরকেই উৎসাহী করতে চাই, যারা মনে করে না যে তারা প্রতিবাদ করতে পারবে বা তাদের সেই ক্ষমতা আছে।

ধরুন একজন শ্রমিক, তার সঙ্গে যখন অন্যায় হয়, সে প্রতিবাদ করার আগে অনেক কিছু ভাবে। তার সমাজ, পরিবার, আশেপাশের মানুষদের কথাও সে নারী শ্রমিককে ভাবতে হয়। এ ধরনের মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকে।

কারণ কোনো ধনী নারীর প্রতি সমাজ এতটা আক্রমণাত্মক নয়, যতটা একজন নিম্ন বা মধ্যবিত্ত নারীর প্রতি। আর সবসময় দেখা যায় তাদেরকেই নির্যাতন করা হয় বা হ্যারেস করা হয়, যাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা কম। আমরা আসলে নাটক, টিভিসি বা সিনেমার মাধ্যমে এমন নারীদেরই উৎসাহিত করার চেষ্টা করি, যাদের আশেপাশে সুযোগ-সুবিধা ও সাহসের জায়গাটা কম থাকে। তাদেরকেই ইন্সপায়ার করাটা সব থেকে জরুরি।

কিন্তু তাদের প্রতিবাদ করার যতটুকু অধিকার আছে, অন্যায়ের শিকার হওয়া একজন স্বাবলম্বী নারীরও প্রতিবাদের ততটুকুই অধিকার আছে। কিন্তু সফল নারীদের প্রতিবাদের ফলে তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে সাহায্য আসতে পারে, যেটা একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের জন্য নাও হতে পারে।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র এক দিন এ ধরনের গল্প বলে কি আসলেই মানুষকে অনুপ্রাণিত করা সম্ভব?

এর থেকে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না যে, ২০২১ সালে এসেও নাটক, সিনেমা, ওভিসি বা টিভিসি বানিয়ে মানুষকে নারীর মর্যাদা, নারীর ভূমিকা মনে করিয়ে দিতে হয়। কারণ প্রতিনিয়ত একজন নারী সে গৃহিণী হোক, শিক্ষক হোক, ডাক্তার হোক, ওয়ার্কিং উইমেন হোক, শ্রমিক হোক, যাই হোক না কেন, তাদের সবারই সংগ্রাম আছে।

অনেকেই মনে করে যে, হাউজমেকারের কোনো স্ট্রাগল নাই কারণ তার জন্য সব কিছু রেডি হয়ে চলে আসছে। কিন্তু একটা বাসা সামলানো যে অনেক বড় একটা দায়িত্ব এটা অনেকেই বোঝে না। এটা নিয়ে যে এখনও সচেতনতা তৈরি করতে হচ্ছে এটা দুঃখজনক। আমাদের সমাজ ও মানসিকতা এখনও এতটুকু উন্নত না। এজন্য এই বিশেষ দিনগুলোতে আমরা তাদের আরও একবার মনে করিয়ে দেই।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এ কথা অনেকেই বলেন যে, নারীরাই নারীদের সফলতায় বাধা। এ কথাটা মিডিয়াতে কতটুকু সত্যি বা ভুল?

আমি শুধু মিডিয়ার কথা আলাদা করে বলব না। দেখা যায় অনেক পরিবারে শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে মেয়েদের এমনভাবে বড় করা হয় যে, তারা সবসময় ভয় পেয়ে থাকবে, নিজের একটা কাজ করার আগে অনেক বার ভাববে, তাদেরকে সবাই একটু অন্যভাবে দেখবে, সচেতন হয়ে চলবে বা আত্মত্যাগী হয়ে চলতে হবে- এই শিক্ষাগুলো বাসা থেকেই শুরু হয়।

আমরা আমাদের মায়েদের কাছ থেকেই অনেক কিছু শিখি। আমাদের বাসায় যদি এ ধরনের শিক্ষার পরিবর্তন না হয় তাহলে দেখা যাবে প্রথম বাধাটা পরিবার থেকেই আসছে।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পরিবার থেকে যা শেখানো হয় তা আমাদের জীবনে পরবর্তীতে প্রতিফলিত হয়। তাই আমাদের সংস্কৃতিতে যদি আমরা এই পরিবর্তনটা আনতে পারি, তাহলে দেখা যাবে কাজের ক্ষেত্রে বা অন্য যেকোনো জায়গায় আমরা সহনশীল হব ও সাহায্যের মানসিকতা তৈরি হবে। কাউকে হেয় করে দেখব না।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

নাটক, সিনেমা বা বিজ্ঞাপনে পুরুষরা নিজেদের ইচ্ছা মতো নারীদের উপস্থাপন করে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

বিশ্বব্যাপী এ সমস্যাটা আছে। নারীদের শো-পিস হিসেবে দেখানো হয়। প্রয়োজন না থাকলেও আইটেম সং রাখা হয় দর্শক আকর্ষণের জন্য। আমার মনে হয় এ জিনিসটা সেদিন বন্ধ হবে, যেদিন আমাদের দর্শক এগুলোকে দেখতে চাইবে না। দর্শকের রুচির ওপর আসলে অনেক কিছু নির্ভর করে।

আপনি যখন দেখবেন এমন একটা আইটেম সং আছে যেটা পরিবার নিয়ে দেখার মতো না, কিন্তু দর্শকের কাছে সেটার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি, তখন প্রযোজক বা পরিচালক বা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাথায় একটা জিনিসই খেলবে- এটা তো হিট। কিন্তু জিনিসটা যে নেগেটিভ, এটা আমাদের বুঝতে হবে। দর্শকদেরকেই বলতে হবে এটা আমরা চাই না।

একজন প্রযোজক, পরিচালকের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি দর্শকেরও দায়িত্ব আছে। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কতটুকু তারা দেখতে চায় বা চায় না, কতটুকু দেখতে চাওয়া উচিত বা না হলেও চলে, এটা দর্শকরাই ঠিক করবে।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

একজন অভিনেত্রী হিসেবে এ পরিবর্তনের ধারায় নিজেকে সামিল করতে আপনি কী করেন বা করতে চান?

করতে চাই অনেক কিছু। প্রতিটা মানুষই যখন একটা জায়গায় পৌঁছায় এবং সে পজিটিভ কিছু করতে চায়, তার কাছে অনেক সুযোগ থাকে। আমি বা অন্য অভিনেত্রীদের কথা যদি বলি, তারা নিজেদের জায়গা থেকে সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস তৈরি করে যাচ্ছে। সেটা বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা বা ফেসবুকের স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই হোক না কেন। আমি বলব না যে দিন বদলাচ্ছে না। অবশ্যই বদলাচ্ছে, কিন্তু খুবই ধীর গতিতে।

মেহজাবিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সবার কাছে অনুরোধ থাকবে যে, নারীকেন্দ্রিক কাজগুলোকে যেন একই ভাবে মূল্যায়ন করা হয়। দর্শকের কাছে অনুরোধ থাকবে, নারীকেন্দ্রিক কনটেন্টগুলো দেখুন। এ পরিবর্তনটা আনার জন্য দর্শকের অনেক বড় ভূমিকা আছে। আমি আশা করি তারা এ ভূমিকা পালন করবেন।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

নায়ক শাহীন আলম মারা গেছেন

নায়ক শাহীন আলম মারা গেছেন

চিত্রনায়ক শাহীন আলম

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান নিউজবাংলাকে জানান, ৫৮ বছর বয়সী শাহীন আলমের দুটি কিডনিতেই সমস্যা ছিল। আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ অভিনেতার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে দুপুরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

চিত্রনায়ক শাহীন আলম আর নেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান নিউজবাংলাকে জানান, ৫৮ বছর বয়সী শাহীন আলমের দুটি কিডনিতেই সমস্যা ছিল। আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ অভিনেতার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে দুপুরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। ডায়ালাইসিস চলার সময় মারা যান তিনি।

জায়েদ খান জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর তার জানাজা ও দাফন সম্পর্কে জানা যাবে।

শাহীন আলমের অভিনয় জীবনের শুরু মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে। পরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘মায়ের কান্না’।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে রাগ-অনুরাগ, দাগী সন্তান, আলিফ লায়লা, স্বপ্নের নায়ক, আঞ্জুমান, অজানা শত্রু, দেশদ্রোহী, আমার মা, শক্তির লড়াই, দলপতি, ঢাকাইয়া মাস্তান, বাবা, ঘাটের মাঝি, এক পলকে, তেজী ও চাঁদাবাজ।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

কনট্রাক্টে তিন নারীই ‘হট কেক’

কনট্রাক্টে তিন নারীই ‘হট কেক’

মম, মিথিলা ও আয়েশা। ছবি: সংগৃহীত

মিথিলার চরিত্রটি মমর খুব পছন্দ। অন্যদিকে কনট্রাক্টে সব চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মিথিলা বলেন, ‘এই প্রথমবার আমি পলিটিশিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার খুবই ভালো লেগেছে।’

নারী দিবসে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসেছিলেন ওয়েব সিরিজ কনট্রাক্ট-এর তিন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, জাকিয়া বারী মম ও আয়েশা খান।

‘অনেক অজানা কথা’ শিরোনামে এই আড্ডার সঞ্চালনা করেন মিথিলা। লাইভ আড্ডাটি এই তিনি অভিনেত্রী কনট্রাক্ট সিরিজে তাদের চরিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।

কনট্রাক্টে মম তার চরিত্র নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। চরিত্রে নতুন কিছু ছিল বলে জানালেন এই অভিনেত্রী। আর সে জন্যই এ চরিত্রে কাজ করে মজাও পেয়েছেন মম।

মম বলেন, ‘তা না হলে কাজই করতাম না। এই চ্যালেঞ্জটা নির্মাতারা আমাকে দিয়েছেন।’

উপস্থাপনার মাঝেই মিথিলা কথা বলেন তার চরিত্র নিয়ে। তবে বিস্তারিত না। যে চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন সেটি তার খুবই প্রিয় বলে জানান মিথিলা।

মিথিলার চরিত্রটি মমরও খুব পছন্দ, সেটাও অকপটে জানিয়েছেন মম।

কনট্রাক্টে সব চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মিথিলা বলেন, ‘এই প্রথমবার আমি পলিটিশিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার খুবই ভালো লেগেছে।’

কনট্রাক্ট ওয়েব সিরিজে মম, মিথিলা ও আয়েশার লুক। ছবি: সংগৃহীত

কনট্রাক্টে কাজ করার মজার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন আয়েশা খান। হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি সব সময় করছি, খাচ্ছি, যাচ্ছি, এভাবে কথা বলতে অভ্যস্ত। যখন আমাকে স্ক্রিপ্ট দেয়া হয়, সেখানেও শব্দগুলো সেভাবে লেখা ছিল। সেটি দেখে আমি তো খুব খুশি। ভাবলাম তেমন কষ্ট করতে হবে না, শুধু ক্যারেক্টারাইজেশন করলেই হবে।

‘পরে একটা একটা করে অর্ডার আসতে থাকল। করছি, খাচ্ছি, যাচ্ছি শব্দগুলো হয়ে গেল করতেছি, খাইতেছি, যাইতেছি, এই রকম। শুট শুরু হওয়ার আগে আমাকে নিয়ে বসা হতো, একেকটা ডায়লগ পড়ে পড়ে শোনাতে হতো।’

সিরিজে উমা চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আয়েশাকে, সে কথা জানালেন আড্ডায়।

জি-ফাইভের মতো একটা গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পাড়ছি, এটা আমাদের নারী শিল্পীদের জন্য বড় একটা সুযোগ, বললেন মিথিলা।

তবে মমর মতে, পুরুষ বা নারী ব্যাপার না, একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর যে কারও জন্যই এই প্ল্যাটফর্ম বড় ব্যাপার।

মমর অভিমান, বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে পুরুষতান্ত্রিক চরিত্র বেশি দেখা যায়। সে জন্য নারীদের আলাদা করে ভাবতে হয়। নারীদের প্রাধান্য দিয়ে চরিত্র যদি আরও বেশি হতো, তাহলে বড় প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আরও বেশি পাওয়া যেত।

মমর সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত মিথিলাও। তার মতে নারীদের গল্পগুলো বেশি বলা হয় না। তবে পুরো জায়গাটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে আয়েশার কাছে এইসবের একটু অন্য রকম ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, ‘কনট্রাক্টের প্রত্যেকটা চরিত্র সমান।’ তার সঙ্গে একমত মিথিলা আর মম।

সেদিক থেকে কনট্রাক্টে সব চরিত্রই প্রধান চরিত্র, বলেন মিথিলা। এখানে কোনো নারীর কোনো টিপিক্যাল চরিত্র ছিল না। মিথিলার এ কথা ধরে হাসতে হাসতে মম বলেন, ‘কনট্রাক্টে নারীরা তো হট কেক’।

সবশেষে মম আর আয়েশার কাছে নারী দিবসের প্ল্যান জানতে চান মিথিলা। মমর উত্তর সোজাসাপ্টা, প্রত্যেক দিনই তার কাছে নারী দিবস। আর আয়েশা এদিনও ব্যস্ত থাকতে চান শুটিংয়ে।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

সম্মান দিলেই সম্মান পাওয়া যায়: নওশাবা

সম্মান দিলেই সম্মান পাওয়া যায়: নওশাবা

বিভিন্ন পেশার নারী ভুমিকায় নওশাবা আহমেদ। ছবি: শাকিব ইশতেহাম মাহবুব

নওশাবা বলেন, ‘আমি অভিনেত্রী হয়ে যদি একজন গার্মেন্টকর্মীকে, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বা যত রকমের পেশায় নারীরা আছেন তাদের সম্মানটা দিই তাহলে আমার শিশুও বড় হয়ে সব পেশাকে সম্মানটা করতে শিখবে।’

‘না, এগুলো কোনো নাটকের চরিত্র না। নারী দিবসে বিভিন্ন পেশার নারীদের সম্মান জানাতেই এই ফটোশুটটা করেছি।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মডেল, অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী নওশাবা আহমেদ।

৮ মার্চ নারী দিবসে নারীদের সম্মান জানাতেই বিভিন্ন পেশার নারীদের চরিত্র নিয়ে ফটোশুট করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে নওশাবা বলেন, ‘আমরা যদি নারীর পেশাকে সম্মান জানাতে পারি, তাহলেই কিন্তু সেই সম্মানটা ফেরত পাব।

‘আমি অভিনেত্রী হয়ে যদি একজন গার্মেন্ট কর্মীকে, একজন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে বা যত রকমের পেশায় নারীরা আছেন, তাদের সম্মানটা দিই তাহলে আমার শিশুও বড় হয়ে সব পেশাকে সম্মানটা করতে শিখবে।’

নওশাবা যে সাতটি পেশায় নিজেকে সাজিয়েছেন, সেই সাতটি পেশা হলো অভিনেত্রী, গার্মেন্টকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পুলিশ, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও গৃহিণী।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সঙ্গে অভিনেত্রী নওশাবা। ছবি: সংগৃহীত

এই ফটোশুটে নওশাবার সঙ্গে যাদের দেখা গেছে, তারা প্রত্যেকেই সেই পেশায় নিয়োজিত। আসল লোকেশনে প্রকৃত মানুষদের সঙ্গে এই ছবিগুলো তুলেছেন শাকিব ইশতেহাম মাহবুব।

অভিনেত্রী, সাংবাদিক ও চিকিৎসক চরিত্রে ছবি তুলেছেন নওশাবা। ছবি: শাকিব ইশতেহাম মাহবুব

নওশাবা আরও বলেন, ‘আমি এখানে সাতটি পেশাকে সামনে রেখে ফটোশুট করেছি। তার মানে এই নয় যে, অন্য পেশার নারীদের সংগ্রাম নেই, সব পেশার নারীদের নিজ নিজ লড়াই আছে।’

পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে নওশাবা। ছবি: সংগৃহীত

এই ফটোশুটের কারণ জানিয়ে নওশাবা বলেন, ‘আমরা নারী হয়ে যদি নারীদের পাশে দাঁড়াই তখনই কিন্তু পেশা নিয়ে ট্যাবুটা ভাঙবে। সেই জায়গা থেকেই কাজটা করা।’

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

নিউ ইয়র্কে প্রিয়াঙ্কার রেস্তোরাঁ ‘সোনা’

নিউ ইয়র্কে প্রিয়াঙ্কার রেস্তোরাঁ ‘সোনা’

কিছুদিন আগে শুরু করেছেন প্রসাধণ সামগ্রীর ব্র্যান্ড ‘অ্যানোমালি’। শনিবার ঘোষণা দিলেন নতুন রেস্তোরাঁ ‘সোনা’র।

বলিউড-হলিউড অভিনেতা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পরিচয়ের তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশপাশি তিনি পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী বনে গেছেন।

কিছুদিন আগে শুরু করেছেন প্রসাধণ সামগ্রীর ব্র্যান্ড ‘অ্যানোমালি’। শনিবার ঘোষণা দিলেন নতুন রেস্তোরাঁ ‘সোনা’র।

প্রিয়াঙ্কার রেস্তোরাঁ দেয়ার পরিকল্পনা বছর দেড়েক আগে। কাজ শুরু উপলক্ষে ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে পূজা অনুষ্ঠানও করে প্রিয়াঙ্কা ও তার পরিবার।

সেই অনুষ্ঠানের ছবি প্রিয়াঙ্কা প্রকাশ করেন গত শনিবার। ইনস্টাগ্রামে ছবির ক্যাপশনে প্রিয়াঙ্কা লেখেন, ‘নিউ ইয়র্ক শহরে আপনাদের কাছে একটি নতুন রেস্টুরেন্ট সোনা নিয়ে আসছি আমি। যেখানে ভারতীয় খাবারের জন্য সবটুকু ভালোবাসা আমি ঢেলে দিয়েছি। ভারতের সেই সব স্বাদ যেগুলোর সঙ্গে আমার ছোটবেলা কেটেছে সেগুলো নিয়ে আসছে সোনা।’

‘সোনা’ ভোজনরসিকদের জন্য চালু হচ্ছে মার্চের শেষে। নিউইয়র্কের অভিজাত এলাকা ৩৬ ইস্ট টোয়েন্টিথ স্ট্রিটে অবস্থিত এই রেঁস্তোরার হেড শেফ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় শেফ হরি নায়ক।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

নারী পরিচালকদের ভিন্ন দৃষ্টি

নারী পরিচালকদের ভিন্ন দৃষ্টি

পরিবর্তন নিয়ে আসা পাঁচ নারী নির্মাতা: (বাঁ থেকে) মিরা নায়ের, সোফিয়া কোপোলা, মার্গারেথ ভন ট্রোট্টা, সেলিন সিয়াম্মা ও ক্লোয়ি জাও

ভারতীয় নারী পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরা নায়ের। তিনি পরিচিত তার ডকুমেন্টারি ও আলোচিত সামাজিক বিষয়ের ওপর নির্মিত সিনেমাগুলোর জন্য। আর ফ্রান্সের নারীবাদী পরিচালক সেলিন সিয়াম্মার সিনেমায় উঠে আসে নারীদের লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের বিভিন্ন দিক।

বিশ্ব নারী দিবসের এ বছরের থিম হলো চ্যালেঞ্জকে বেছে নেয়া। বিশ্বের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেই পরিবর্তন আসবে এ চিন্তাকে তুলে ধরতেই এমন স্লোগানে উদযাপন হচ্ছে নারী দিবস।

পরিবর্তনের এ নতুন ধারাকে উদযাপন করতে সিনেমা জগতে পরিবর্তন নিয়ে আসা নারী পরিচালকদের নিয়ে আজকের এ প্রতিবেদন।

চায়না থেকে পরিচালক ক্লোয়ি জাও, যিনি সম্প্রতি তার সিনেমা নোম্যাডল্যান্ডের জন্য জিতেছেন গোল্ডেন গ্লোবের সেরা পরিচালকের পুরস্কার। ভারতের পরিচালক মিরা নায়ের, যার সর্বশেষ কাজ ছিল নেটফ্লিক্স সিরিজ অ্যা সুটেবল বয়। ফ্রান্সের সেলিন সিয়াম্মা সিনেমা নির্মাণ করেন একজন নারীবাদীর চোখ দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের সোফিয়া কোপোলা প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে জিতে নেন গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার। আর জার্মানির মার্গারেথ ভন ট্রোট্টাকে বলা হয় জার্মানির নিউ জার্মান সিনেমা মুভমেন্ট নেতৃত্বকারী পরিচালক।

ক্লোয়ি জাও



৩৮ বছর বয়সী চাইনিজ পরিচালক ক্লোয়ি জাও ২০২১ সালের গোল্ডেন গ্লোবের আসরে নোম্যাডল্যান্ড (২০২০) সিনেমা দিয়ে জিতে নিয়েছেন সেরা পরিচালক মোশন পিকচারের পুরস্কার। মহা মন্দায় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলা এক নারীর গল্প বলে নোম্যাডল্যান্ড

ক্লোয়ির প্রথম সিনেমা সংগস মাই ব্রাদার টোট মি (২০১৫) প্রথম প্রদর্শিত হয় সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সিনেমাটি তাকে এনে দেয় আমেরিকান ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা পরিচালকের পুরস্কার।

নাগরিকত্ব চাইনিজ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিপেনডেন্ট সিনেমা দিয়েই তাকে পরিচয় দেয়া হয়। তার অন্য সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে দ্য রাইডার (২০১৭) ও দ্য ইটারনালস (২০২১)।

মিরা নায়ের



ভারতীয় নারী পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরা নায়ের। তিনি পরিচিত তার ডকুমেন্টারি ও আলোচিত সামাজিক বিষয়ের ওপর নির্মিত সিনেমাগুলোর জন্য।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সাবেক ছাত্রী আগ্রহী হন ডকুমেন্টারি নির্মাণে। তার প্রথম ডকুমেন্টারির নাম জামে মসজিদ স্ট্রিট জার্নাল (১৯৭৯)। এতে মুসলমানদের জীবন চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

চিলড্রেন অফ অ্যা ডিজাইয়ার্ড সেক্স (১৯৮৭) ডকুমেন্টারিতে তিনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী শিশুদের জন্মকে কীভাবে দেখা হয় তা দেখিয়েছেন।

১৯৮৮ সালে তিনি নির্মাণ করেন তার প্রথম সিনেমা সালাম বোম্বে। এ সিনেমায় তিনি ১১ বছরের এক শিশুর জীবন দেখিয়েছেন, যে রাস্তায় বাস করে। তার মাধ্যমে মুম্বাইয়ের শহর জীবন তুলে ধরেছেন।

মিরা নায়েরের উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর হচ্ছে মিসিসিপি মাসালা (১৯৯১), দ্য নেমসেক (২০০৬), কুইন অফ কাতোয়ে (২০১৬) ও নেটফ্লিক্স সিরিজ অ্যা সুটেবল বয় (২০২০)।

সেলিন সিয়াম্মা

ফ্রান্সের নারীবাদী পরিচালক সেলিন সিয়াম্মার সিনেমা বলার ধরন নারীকেন্দ্রীক। চিরায়িত মেইল গেইজ বা সিনেমায় পুরুষের চাহিদা অনুযায়ী নারীদের যেভাবে দেখানো হয়, তার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সিনেমা নির্মাণ করেন। সেলিন সিয়াম্মার সিনেমায় উঠে আসে নারীদের লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের বিভিন্ন দিক।

সিয়াম্মার প্রথম সিনেমা ওয়াটার লিলিস প্রদর্শিত হয় ২০০৭ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আসরে।

২০০৯ সালে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রপলিন ফ্রান্সের সরকারি সমকামীভীতির বিরুদ্ধে তৈরি ক্যাম্পেইনের অংশ।

২০১১ সালে তিনি মাত্র ২০ দিনে টমবয় সিনেমা নির্মাণ করেন, যা ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। এ সিনেমার গল্প একজন ট্রান্সজেন্ডার শিশুকে ঘিরে, যাকে ছেলে হিসেবে সমাজে পরিচয় দেয়া হয়। কিন্তু নিজের আসল পরিচয় নিয়ে সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে।

সিয়াম্মার আরও একটি অন্যতম চলচ্চিত্র হলো পোট্রেট অফ অ্যা লেডি অন ফায়ার (২০১৯)। সিনেমাটি ২০১৯ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শন হয় এবং কুয়ের পাম ও বেস্ট স্ক্রিনপ্লে বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয়।

সোফিয়া কোপোলা

যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালক সোফিয়া কোপোলার সিনেমায় যাত্রা তার বাবার ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলার হাত ধরেই হয়। সোফিয়া প্রথম সিনেমায় আসেন অভিনেত্রী হিসেবে। বাবার পরিচালিত বিখ্যাত ‘গডফাদার ট্রিলজি’তে তাকে প্রথম দেখা যায়। অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসিত হলেও পরিচালনায় মন দেন তিনি।

সোফিয়ার প্রথম পরিচালিত সিনেমা (১৯৯৯) দ্য ভার্জিন সুইসাইডস। ২০০৩ সালের লস্ট ইন ট্রান্সলেশন তাকে এনে দেয় সেরা অরিজিনাল স্ক্রিন প্লে বিভাগে অস্কার পুরস্কার। একই সিনেমার জন্য তিনি অস্কারের সেরা পরিচালক বিভাগে তৃতীয় নারী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন।

২০১০ সামওয়ের সিনেমা তাকে এনে দেয় গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার। একজন প্রথম আমেরিকান নারী ও চতুর্থ আমেরিকান হিসেবে তিনি এ পুরস্কার জিতে নেন।

২০১৭ সালে তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় নারী পরিচালক, যিনি সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেন দ্য বেগুইল্ড সিনেমার জন্য।

মার্গারেথ ভন ট্রোট্টা



ইনগমার বার্গম্যানের ষাট ও সত্তরের দশকের সিনেমাগুলোর সঙ্গে যে পরিচালকের সিনেমার তুলনা করা হয়, তিনি জার্মানের মার্গারেথ ভন ট্রোট্টা। নিউ জার্মান সিনেমা মুভমেন্টের নেতৃত্বকারী হিসেবেও পরিচয় দেয়া হয় ট্রোট্টাকে।

নারীবাদী এ পরিচালকের সিনেমাগুলোর প্রধান বিষয় হলো নারী ও নারীকেন্দ্রীক সম্পর্ক। যেমন মা, বোন, বান্ধবীদের গল্প। এসব গল্প আবর্তিত হতো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।

ট্রোট্টার প্রথম পরিচালিত সিনেমা হলো ১৯৭৮ সালের দ্য সেকেন্ড অ্যাওয়েকনিং অফ ক্রিস্টা ক্লাগেস। এর আগে তিনি পরিচালক ভলকার শ্লনড্রফের সঙ্গে মিলে সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

তার সিনেমায় নারী কেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয় যেমন- গর্ভপাত, গর্ভনিরোধ, কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি উঠে এসেছে স্পষ্টভাবে। তিনি মোট ২৬টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। পরিচালনার পাশাপাশি তিনি একজন অভিনেত্রীও।

সিস্টার্স, অর দ্য ব্যালেন্স অফ হ্যাপিনেস, ম্যারিয়ান অ্যান্ড জুলিয়ান, থ্রি সিস্টার্স তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা। ২০১৮ সালে তিনি নির্মাণ করেন ডকুমেন্টারি সার্চিং ফর ইনগমার বার্গম্যান

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণের শিকার নারীর লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না’

‘ধর্ষণের শিকার নারীর লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না’

রুবাইয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

রুবাইয়াত: আমার কাছে একা এগিয়ে যাওয়া কখনই উন্নয়ন মনে হয় না। আমি একা অস্কার পেলে কোনো লাভ হবে না। আমার পরে যদি আরও ১০০ নারী নির্মাতা বা নারী চলচ্চিত্র কর্মী উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন তাহলেই আমাদের উন্নয়ন সম্ভব। তার জন্যই আমার কিছু পরিকল্পনা আছে।

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নারীর অবস্থান, মানসিকতা, লড়াই ও মুক্তির কথা যে কয়জন নারী গল্পকার ও পরিচালক বলতে চেয়েছেন, তাদের মধ্যে রুবাইয়াত হোসেন অন্যতম।

নারীর ভালোবাসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির নারীর মানসিকতা, সংগ্রাম ও মুক্তির কথা তিনি গল্পের মাধ্যমে জানাতে চেয়েছেন। আর সেই চাওয়া থেকে তৈরি হয়েছে মেহের, রয়া ও শিমুর মতো চরিত্র। এই চরিত্রগুলো দিয়েই রুবাইয়াত দেখিয়েছেন নারীর প্রতি সমাজের নানান অসংগতি এমনকি নারীর নিজের সঙ্গে নিজের দ্বন্দ্ব ।

এই অসংগতি নির্মূল করতে ক্যামেরা নিয়ে নামেননি রুবাইয়াত। তিনি শুধু দেখাতে চান সমস্যাগুলো কোথায়। নারীর জন্য একটা ভালো পরিবশ তৈরির স্বপ্ন দেখেন এই পরিচালক।

সংক্ষেপে রুবাইয়াতের তিনটি সিনেমার ধরন

মেহেরজান (২০১১)- বিপরীত অবস্থানে থেকেও একজন নারীর ভালোবাসার গল্প। বাঙালি মেহের চরিত্রের সঙ্গে একজন পাকিস্তানি সৈন্যের প্রেম, মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখানোর অভিযোগে সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ করা হয়।

আন্ডার কনস্ট্রাকশন (২০১৫)- শহুরে জীবনে এক আধুনিক নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম নিয়ে সিনেমা।

মেড ইন বাংলাদেশ (২০১৯)- নারী পোশাকশ্রমিকদের সংগ্রাম ও মুক্তির গল্প।

সিনেমার ধরন থেকেই বোঝা যায় নারী হয়ে নারী জীবনের বিভিন্ন ভাগ নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন এবং তা দিয়ে বানিয়েছেন সিনেমা।

এখন রুবাইয়াত আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। করোনার কারণে সেখানে আটকে গেছেন। তিনি চাইছেন ভ্যাকসিন নিয়ে দেশে ফিরতে। সেখান থেকে নারী ও চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।


রুবাইয়াত, আশা করছি ভালো আছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আপনি অনেকটা এগিয়ে গেছেন। আপনার সিনেমা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে দেখানো হচ্ছে। বাইরের প্রযোজকরা আপনার সিনেমায় প্রযোজনা করছে। কিন্তু আপনি ছাড়া অন্য কোনো নারী পরিচালকের সঙ্গে এমনটা হচ্ছে না। একা এগিয়ে যাওয়াকেই কি উন্নয়ন বলবেন?

না, আমার কাছে একা এগিয়ে যাওয়া কখনই উন্নয়ন মনে হয় না। আমি একা অস্কার পেলে কোনো লাভ হবে না। আমার পরে যদি আরও একশ নারী নির্মাতা বা নারী চলচ্চিত্র কর্মী উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন তাহলেই আমাদের উন্নয়ন সম্ভব। তার জন্যই আমার কিছু পরিকল্পনা আছে।

সেটা কেমন?

তার সবকিছু এখনই বলতে চাই না। তবে ‘সুলতানাস ড্রিম- ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নিয়ে একটু কথা বলতে চাই। এটা একটা প্রতিযোগিতা। এখানে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ছিল নারীদের প্রতি যৌন সহিংসতা ও তার প্রতিবাদ।

আমি বিস্মিত হয়েছি যে, কত কত প্রস্তাব এখানে জমা পড়েছে। আজ নারী দিবসেই আমরা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করব। ফিকশন, ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন কিংবা নিরীক্ষামূলক ক্যাটাগরিতে ৫ থেকে ৮ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তারা অনুদান পাবে।

আয়োজনের সহ–আয়োজক হিসেবে থাকছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খনা টকিজ। পরিবেশকের দায়িত্বে আছে গ্যেটে ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ।


নতুন সেই নির্মাতাদের সমস্যা বা ভাবনার সঙ্গে একই বয়সে আপনার সমস্যা বা ভাবনার কোনো পার্থক্য পাচ্ছেন?

এটা এখনও বলতে পারছি না। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলাপ হয়নি। সিনেমার বিষয়বস্তু, নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হবে তখন ভালো করে বিষয়গুলো বুঝতে পারব।

আপনি সবসময় কাজের মধ্যেই থাকেন। সিনেমার ভাবনা ছাড়াও নানা বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা আপনার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণের অনেক ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণের শিকার নারীদের সঙ্গে অনেকসময় এমন আচরণ করা হচ্ছে যে, এটা তাদেরই ভুল। বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কোনো সিনেমা করার পরিকল্পনা আছে কি?

না, এমন কোনো বিষয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ভাবনা এই মুহূর্তে নাই। বিষয়টা নিয়ে বলতে চাই, যখন কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হন বা খুন হন, তখন কি আমরা বলি যে, যিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন তার দোষ বা যিনি খুন হয়েছেন সেটা তার দোষ? না, আমরা বলি না। কিন্তু ধর্ষণের শিকার নারীর ক্ষেত্রে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এমন। এটা খুব দুঃখজনক।

তা ছাড়া আমি যুক্তরাষ্ট্রে একজন প্রযোজকের সঙ্গে কিছু পরিকল্পনা করছি। আমরা কিছু শর্টফিল্ম বা কনটেন্ট বানাব। এই কাজগুলোতে একটু ব্যস্ত।

এখন কিন্তু সিনেমার চেয়ে আমার অন্য আরেকটা ভাবনা বেশি কাজ করছে। আমি যতটুকু করতে পারছি, করছি। কিন্তু আমার দেশের নারীরা, যারা সিনেমা বা সিনেমা সংশ্লিষ্ট কাজ করতে চায়, তাদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম করতে চাই। এটা এখন আমার ভাবনার পঞ্চাশ ভাগ নিয়ে নিয়েছে। সেটা নিয়েও ভাবছি, কাজ করছি। আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে সবাইকে জানাব।


অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার ফলে নারীরা আরও অগ্রসর হতে পারছে। কিন্তু নারীর জন্য সিনেমা সংশ্লিষ্ট কাজ অর্থের বিচারে কতটা ভালো?

নারী বা পুরুষ- কারও জন্যই সিনেমা পেশা ভালো না। বিশেষ করে যারা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আমি নিজেই অনেকদিন পর পর সিনেমা বানাই। আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন, তারা নিশ্চয়ই আরও কাজ করতে চান। কিন্তু আমি তো সেভাবে কাজ করতে পারি না বা চাইও না।

আমি এখন গল্প এবং নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার কথাও ভাবছি।

এই যে সিনেমা বানাচ্ছেন, ভাবছেন বা ভাবাচ্ছেন। এতে করে নারীর জন্য ভালো কোনো পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করেন?

সিনেমা দেখে দর্শকরা কীভাবে এর আবেদন গ্রহণ করেন সেটা দর্শক ভালো বলতে পারবেন। আমি বা আমার ইউনিট এবং আমার অভিনয়শিল্পীদের কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসে বলে আমার মনে হয়। আমরা যখন আমার সিনেমার বিষয়, সংলাপ নিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করি, তখন মানসিকভাবে আমাদের একটা পরিবেশ তৈরি হয় বলে আমার ধারণা।


আপনার সিনেমার কোন নারী চরিত্রকে আপনার বেশি শক্তিশালী বা উতরে যাওয়ার মতো মনে হয়?

আমার কাছে মনে হয়েছে মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমায় শিমু চরিত্রটি অনেক সংগ্রামী এবং জয়ী। কারণ এত সমস্যার মধ্যেও তারা গার্মেন্টে ইউনিয়ন করে, নিজের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে, বঞ্চিত হয়, আবার আদায়ও করে নেয়।

সেই তুলনায় আন্ডার কনস্ট্রাকশনের রয়া চরিত্রটি কিন্তু তার অবস্থান থেকে উঠতে পারে না। একই জায়গায় পড়ে থাকে। অথচ অর্থনৈতিকভাবে রয়া অনেক ভালো অবস্থানে আছে।

শ্রমিকদের নিয়ে মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী হয়েছিল ফ্রান্সে। সবাই সিনেমাটি দেখে বলেছিল, সব দেশে সিনেমাটি দেখানো প্রয়োজন।

এটাই হলো সিনেমার শক্তি।

আরও পড়ুন:
‘হলের আয়ে বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়া জোটেনা’
চিত্রগ্রাহক অনিমেষ রাহাত আর নেই
সেন্সরে ঝুলে গেল মায়ার জঞ্জালের ঢাকা প্রিমিয়ার

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg