দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিতর্কহীন করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন অক্টোবর মাসের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন তাদের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনি অসঙ্গতি দূর করে একটি অভিন্ন ও কঠোর আইনি কাঠামো দাঁড় করাতেই ইসির এই মহাপরিকল্পনা।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের খসড়া সংশোধনী প্রায় প্রস্তুত। এটি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য দ্রুতই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং জাতীয় সংসদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি: এই সংস্কার প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত দিক হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সংজ্ঞায় নতুনত্ব আনা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত করা যায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে এই সুযোগ বা সংজ্ঞা সব আইনে সমানভাবে স্পষ্ট নয়।
নির্বাচন কমিশন এবার সব ধরনের স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা রোধ, কেন্দ্র দখল এবং নির্বাচনী অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে একই ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দাগী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের জন্য বন্ধ হচ্ছে দুয়ার: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুস্থ ধারা বজায় রাখতে প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করছে ইসি। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিটভুক্ত কোনো আসামি স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। এবার তৃণমূলের নেতৃত্বকেও এই কলঙ্কমুক্ত রাখার উদ্দেশে নিয়মটি সব স্থানীয় সরকার আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহী বা গুরুতর মামলার ফেরারি (পলাতক) আসামিদেরও নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করার কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে।
ঋণখেলাপি ও জামিনদারদের ওপর কঠোর নজরদারি: আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে ইসি এবার আরও এক ধাপ এগিয়েছে। শুধু সরাসরি ঋণখেলাপিরাই নয়, বরং ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপিদের গ্যারান্টার বা জামিনদারদেরও আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর ফলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে বা অন্য কারও ঋণের জামিনদার হয়ে খেলাপির দায় নিয়ে কেউ জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এতে করে সৎ এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছ ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত করবে।
হলফনামায় অসত্য তথ্যে প্রার্থিতা বাতিলের খাঁড়া: বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাঙ্গণে অন্যতম একটি বড় সংস্কার ছিল হলফনামার তথ্যের সত্যতা যাচাই। প্রার্থীরা অনেক সময় তাদের সম্পদ, মামলা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিতেন, যা পরে প্রমাণিত হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতো।
নির্বাচন কমিশন এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে সরাসরি প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করতে চায়। প্রস্তাবিত আইন পাস হলে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপনের বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল বা বিজয়ী হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
এর পাশাপাশি প্রার্থীদের ওপর যারা সরাসরি নির্ভরশীল (যেমন: সন্তান বা স্ত্রী), তাদের সম্পদের তথ্য বা ডিপেন্ডেন্ট সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রেও সব আইনে একটি অভিন্ন নিয়ম বা ইউনিফর্মিটি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও লাভজনক পদের জটিলতা নিরসন: স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সরকারের কোনো লাভজনক পদে (Office of Profit) বহাল থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতার বিষয়ে কিছু আইনি ধোঁয়াশা ছিল। কোনো কোনো আইনে এটি স্পষ্ট থাকলেও অন্যটিতে ছিল শিথিলতা।
ইসি কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং লাভজনক পদে থাকার কারণে অযোগ্যতার বিষয়টি সব স্থানীয় আইনের ক্ষেত্রে সমানভাবে স্পষ্ট ও কার্যকর করা হবে। সরকারি বা আধা-সরকারি কোনো লাভজনক পদে থেকে কেউ প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
অভিন্ন নির্বাচনী সময়সীমা ও পর্যবেক্ষক নীতি: বর্তমানে বাংলাদেশে একেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা একেক রকম। যেমন, সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এক নিয়ম, ইউনিয়ন বা উপজেলার ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম। এই ভিন্নতার কারণে নির্বাচন কমিশনকে বছরজুড়ে দফায় দফায় নির্বাচনী সূচি তৈরি করতে হয়, যা প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে বেশ ব্যয়বহুল।
এই জটিলতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সীমা একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে বা কাছাকাছি সময়ে দেশের বড় অংশের স্থানীয় নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
একই সাথে, সব স্তরের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সমতা আনা হচ্ছে। কোনো কোনো নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো সহজ হলেও অন্যগুলোতে জটিলতা থাকত। এখন থেকে পর্যবেক্ষকদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং আচরণবিধি সব নির্বাচনের জন্য একই হবে।
নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের স্পষ্টীকরণ: আইনে ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ’ কথাটি উল্লেখ থাকলেও অনেক সময় কোন অপরাধগুলো এর আওতায় পড়বে, তা নিয়ে আদালতে বা আইনি ব্যাখ্যায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতো। নতুন খসড়ায় নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের সংজ্ঞা ও পরিধিকে আরও সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট করা হচ্ছে, যাতে চরিত্রগতভাবে বিতর্কিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা আইনি ফাঁকফোকর গলে নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারেন।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা মূলত আইনগুলোর মধ্যে একটি ইউনিফর্মটি বা সমতা আনার চেষ্টা করছি। কোনো আইনে কোনো বাহিনী আছে, কোনোটিতে নেই—এমনটা হওয়া উচিত নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ডেফিনেশনে আমরা সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট হলে জাতীয় সংসদের মতো এখানেও তারা অযোগ্য হবেন। হলফনামা ও নির্ভরশীলদের তথ্যের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বজায় থাকবে। আমাদের এই পর্যবেক্ষণ ও খসড়া সরকারের দৃষ্টিগোচরে নেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী আইন পাস হলে তা কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের সবচেয়ে তৃণমূলের স্তম্ভ। সেখানে যদি ঋণখেলাপি, মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি বা অসত্য তথ্য প্রদানকারীরা স্থান পেয়ে যান, তবে পুরো শাসনব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচন কমিশনের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।
আসন্ন অক্টোবর মাসের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংস্কারগুলো যদি সত্যি কার্যকর করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে একটি নতুন এবং স্বচ্ছ অধ্যায়ের সূচনা করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন।
যারা মনোনয়ন পেলেন-
সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।
রুহুল কবির রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে।
এর আগে গত শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। তাদেরকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে শেরপুর-৩ আসন থেকে বিজয়ী মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী রেজাউল করিম বাদশাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে গত ৯ এপ্রিল সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে নতুন তফশিলে গত ৯ এপ্রিল সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ চলছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ; একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র এবং ৭৫১টি ভোট কক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬৯টি।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছেন বলে জানান জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ।
জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের প্রার্থীরা সকালে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে শহরের শিববাটি হাসনা জাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা।
এর আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল শহরের জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর রেজাউল করিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, এটি উন্নয়নের নির্বাচন। উন্নয়নের স্বার্থে আমি ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আসনটি শূন্য হওয়ায় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ২ হাজার ৬৫৫ জন কর্মকর্তা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও ১০ প্লাটুন র্যাব। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ডগ স্কোয়াডও রয়েছে।
মোট ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন। ২১টি পৌর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি এবং বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি। এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী বুথ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়েও বিজিবি সদস্যরা মাঠে টহলে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আখতার আহমেদ বলেন, “লোকাল গভমেন্ট ইলেকশনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা— সে ব্যাপার কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘না’।”
বিভিন্ন সময় ইভিএম নিয়ে যেই প্রশ্ন উঠেছিল যেমন ইভিএম-এ কারচুপি করা যায় সেটি কি আপনারা কোনও তদন্ত করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে বলেছি যে জাতীয় নির্বাচনে এটা ব্যবহার হয়নি এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আমাদের এখনও পর্যন্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘না’। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশন একটা বিষয়ে তদন্ত করছে। অডিট ডিপার্টমেন্টে থেকে একটা করা হয়েছে। আপনারা জানেন যে জাতীয় পর্যায়ের তিনটি নির্বাচন নিয়ে যে পর্যালোচনা চলছে। যে জিনিসগুলো পর্যালোচনার ভেতরে আছে— সে বিষয়ে আমার কথা বলাটা বোধহয় সমীচীন হবে না।”
এই ‘মরা হাতি’ (ইভিএম) আর কতদিন টানবেন? কোনো টাইমলাইন আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “আপাতত আমার কাছে টাইমলাইন নেই। টাইমলাইন দিতে পারলে তো আমি সবচাইতে খুশিই হতাম। আমি যদি বলতাম আগামী এতদিনের ভেতরে এটা হবে তাহলে তো আমার জন্য সবচাইতে ভালো হতো। এখন আমি অফ দ্য পকেট কিছু বলতে পারবো না। ইভিএম-এর পেছনে আমাদের যে সংরক্ষণ ব্যয় তার অ্যাকাউন্টিংটা করা নেই।”
আপনারা কেন ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে আসছেন, আপনারা কি মনে করেন যে ইভিএম কোনও ত্রুটি আছে— এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “তিনটি তদন্ত কমিশনের অবজারভেশন আসছে, তারপরে আমরা দেখবো। অতীতেও বলেছি যে, জাতীয় নির্বাচনের সময় যে জিনিসের প্রতি সবার অনাস্থা সেটা নিয়ে কেন আমরা চর্চা করবো।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ লক্ষ্যে আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে স্থগিত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে নির্বাচনের আগের ৫ দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরবর্তী ২ দিন অর্থাৎ আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টহল পরিচালনাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।
বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টরের তত্ত্বাবধানে এবং ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য শেরপুর জেলার শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন শুরু করছেন।
শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনি এলাকায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছেন।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল এ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য