দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার লক্ষ্যে ও বৈশ্বিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ২টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ২টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি স্কুল বা অনুষদের অধীনে ১৪টি ডিপার্টমেন্টে ৪০টি প্রোগ্রাম চালু আছে। শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জব ওরিয়েন্টেড ও প্রফেশনাল বিভাগ চালু আছে সেগুলো হচ্ছে- বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন, ইইই, সিএসই, আইন, ম্যাথ, ফিজিক্স, এডুকেশন, বাংলা, ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডি ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় নিজেদের চৌকস প্রমাণ করতে পারে সেজন্য শুরু থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৯টি সমাবর্তন শেষ করেছে। এ ইউনিভার্সিটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচিতি:
উত্তরা ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. এম. আজিজুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। বিশ্ব ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারভিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ৩০ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস অ্যাম্বাসির ইউএসএইডে ইকোনোমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. এম আজিজুর রহমান উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সুলেখক ও সমাজসেবী প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা হচ্ছেন এ ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ও এমএড এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভিশন ও মিশন
এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে গবেষণায় বেশি জোর দিচ্ছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ ইউনিভার্সিটির ভিশন বা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আদর্শ নাগরিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিকরণ।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি জীবনঘনিষ্ঠ ও নৈতিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই আদর্শ নাগরিক সৃষ্টি হয় না। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কেও দীক্ষা দেওয়া হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস
উত্তরা ইউনিভার্সিটির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সকল নিয়মনীতি মেনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তরা মডেল টাউনের থার্ড ফেইজ সংলগ্ন, প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়েছে। ৯ তলা ভবনের এ ক্যাম্পাস দেখে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের গঠনশৈলী এতটাই আধুনিক, সবদিক থেকেই আলো-বাতাস ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন ও উৎসব চলতে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস! চারপাশে সবুজে ঘেরা আর ক্যাম্পসের পাশ ঘিরে তুরাগ নদী বহমান। মূল ভবন দক্ষিণামুখী হওয়াতে প্রতিনিয়ত দখিনা বাতাস প্রবহমান এই ক্যাম্পাসে। লাল কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা আর শুভ্র কাশফুলের দোলাসহ বিভিন্ন ঋতুর প্রকৃতি এখানে দৃশ্যমান!
যাতায়াত ব্যবস্থা
আধুনিক রাজধানী ঢাকার উত্তরায় সুবিশাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এমনকি আশপাশে জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। আর মেট্রোরেল স্টেশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব সন্নিকটে হওয়ায় যাতায়াতব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় না অভিভাবককে।
শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন
বর্তমানে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১৪টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজেও ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব পলিসি রিসার্স স্থাপন করেছে। শুরু থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সামনে রেখেই এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ গুণগতমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি
শুরু থেকেই এই ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে গ্রন্থাগার। দৈনিক সংবাদপত্র ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের জন্য গ্রন্থাগারে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ২৫টি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় নিয়মিত। গ্রন্থাগারে রয়েছে লক্ষাধিক বই এবং জার্নাল-ম্যাগাজিন আছে প্রায় ১০ হাজার। এ ছাড়া গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের সহায়ক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন, ই-রিসোর্সের বিশাল সম্ভার, বিশ্বকোষ, অভিধান, হ্যান্ডবুক, ম্যানুয়েল ও এনজিও প্রকাশনা। ব্যবহারকারীরা ই-বুক, ই-জার্নাল ও ই-ম্যাগাজিন পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন। গ্রন্থাগারে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগসহ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ। গ্রুপ স্ট্যাডি করার জন্য রয়েছে একাধিক বিশেষ কক্ষ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেও যেকোনো বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কল নম্বর, কি-ওয়ার্ড ও প্রকাশক অনুযায়ী খুঁজতে পারেন ই-লাইব্রেরির সুবাদে। গ্রন্থাগারে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা ও প্রকাশনা
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাকাল্টিদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতি অনুষদ থেকে জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদ থেকে নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে বিজনেস রিভিউ, আইন বিভাগ থেকে ল’ জার্নাল নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক অনুষদে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে, যেখানে গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রজেক্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরামণ্ডলী বিদেশে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল গঠন, মানসম্মত গবেষণার জন্য ইনসেনটিভ প্রদান ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশে সহায়তা করে। উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানের জন্যই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না বরং ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে।
এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তাই উত্তরা ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শ্যায়ার ইউনিভার্সিটি ও অরচেস্টার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কর্তৃপক্ষ কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, আসাম ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরই উত্তরা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমেরিকা, জাপান ও ভারতসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রয়েছে এমওইউ ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ।
সম্মাননা ও সাফল্য
মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে এ ইউনিভার্সিটি সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘দা বিজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ (হংকং), এডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২, (দিল্লি), এশিয়াস বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, সিঙ্গাপুর, ২০১৩, এশিয়ান সিইএফ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ (মুম্বাই), ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ ও ২০১৫ (আইন বিভাগ) অন্যতম।
সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে ক্লাব এবং ফোরাম
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও বাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউইউতে ১২টি ক্লাব ও ১৪টি বিভাগের প্রায় ১৪টি বিভাগীয় ফোরাম রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম বছরজুড়েই জাতীয়পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, চৈত্রসংক্রান্তি, শিক্ষামেলা ও পাঠচক্রসহ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে পালিত হয় এখানে। উচ্চশিক্ষার নিরন্তন পরিবেশ থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে। অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নেই কোনো দ্বন্দ্ব, নেই ক্লাস বন্ধ হওয়ার চিন্তা, নেই সেশন জটের ভয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছর তিনবার অর্থাৎ স্প্রিং, ফল ও সামার সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত স্কলারশিপ।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী, নারী, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপ।
দক্ষ মানবসম্পদ ও গ্র্যাজুয়েটদের সফলতা
সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম এই বেসরকারি বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় উপযুক্ত করে তুলছে। ফলে এখানে থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইন পেশা, ব্যাংক খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সফটওয়্যার ফার্ম, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ জগতে তারা দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক উপস্থিতি। অনেকে আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতা পেশায়ও তারা অবদান রাখছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান ও পেশাগত সাফল্যই প্রমাণ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়- এটি একটি দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণের কারখানা।
উচ্চপর্যায়ে কৃতিত্ব
উত্তরা ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের ছাত্ররা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অংশগ্রহণ করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার প্রথম, তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কৃতী ছাত্রী মাহফুজা খাতুন শীলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে জোড়া স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিনিতা সুপ্রিয়া মিজান ত্রপী ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৬-তে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শরীফ তেল ও গ্যাসবিহীন একটি মোটরযান উদ্ভাবন করেছেন, যা সোলার এনার্জিতে মাত্র ১০ টাকা খরচে সারা দিন চালানো যায়। প্রায় সব অনুষদ এবং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে এক আনন্দঘন পরিবেশে পৌঁছে দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি সুদক্ষ প্রশাসন এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন
শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ক্যাফে ও উন্নতমানের ক্যান্টিন। সকাল-সন্ধ্যা সুস্বাদু খাবার মেলে সহজেই। ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার এবং ক্লাসের ফাঁকে চা-কফিতে সতেজতা খুঁজে নেয়। উন্নতমানের খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বল্পমূল্যের কারণে ক্যাফেটোরিয়াটি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, পাঠচর্চা কিংবা হালকা বিশ্রাম- সব কিছুতেই ক্যাফেটোরিয়ার ভূমিকা অনন্য।
বক্তব্য
মো. আদনান রহমান, পিএইচডি
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, স্কুল অব বিজনেস
ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ইমেজ তার সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তরা ইউনিভার্সিটি চালু করেছে নতুন মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও আধুনিক প্রচারণা কৌশল। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, আজকের শিক্ষার্থীরা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, পরিবেশ, অ্যালামনাই সাফল্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এসবই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডের উপাদান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পায়। এভাবেই আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারব। আমরা ইউটিউব, ফেসবুক এবং লিংকডইন-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে।
উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতে আরও ডেটাচালিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দিকে এগোচ্ছে। আমরা এআই ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে কাজ করছি। সঠিক ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার্থী আকর্ষণই করে না বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।
ড. শাহ আহমেদ
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ
ডিরেক্টর, অফিস অব স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স
উত্তরা ইউনিভার্সিটি
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমানের পড়ালেখার জন্য আমরা বিশ্বমানের সিলেবাস তৈরি করেছি। ইউজিসির নিয়ম মেনে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির সিলেবাস ও বিশ্বের টপ ইউনিভার্সিটির সিলেবাসকে সমন্বয় করে এমন একটা উন্নতমানের সিলেবাস তৈরি করেছি যাতে আমাদের ছাত্ররা এই সিলেবাসের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে চাকরি পেতে পারে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলগুলো গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এতে চাকরির বাজারে অন্যদের থেকে তারা বেশি এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যে শিক্ষাসেবা প্রদান করে থাকে, সে তুলনায় ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় অত্যন্ত কমই মনে হয়। প্রচুর ল্যাব আছে, লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বই, কো-কারিকুলার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের ক্লাসরুম, লজিস্টিক্স সাপোর্ট, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়াসহ সব সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। আমাদের উত্তরা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রথমসারির ইউনিভার্সিটির মধ্যে অন্যতম।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট গবেষণা ফান্ড আছে। সে ফান্ড নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন ফিল্ডে রিসার্স করেন। নতুন নতুন নলেজ, নতুন নতুন থিওরি আবিষ্কার করেন। তবে ফ্যাকাল্টিকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পরে প্রজেক্ট এক্সেপ্ট হওয়ার পরে সেই ফান্ডটা দিয়ে থাকে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিসার্স ফান্ড পেতে হয়।
শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অদ্বিতীয়। এ ইউনিভার্সিটির চারদিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা, শহরের কোলাহল মুক্ত, নির্ভেজাল পরিবেশে সুন্দর অবকাঠামোতে গড়ে উঠেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ঢাকা ও এর আশপাশে জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সেবা চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক ভাষাগত বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নতুন একটি বৈশ্বিক অবস্থানপত্র প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে অবস্থানপত্রে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই অবস্থানপত্রে শিক্ষায় ভাষানীতি ও ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে সংস্থাটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষার পরিবর্তিত ও বহুমাত্রিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষার্থীরা বহুভাষিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ভাষায় পাঠদান করা হয়, তা তাদের বাসার কথ্য ভাষা থেকে ভিন্ন হয়। শিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইংরেজির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও সব দেশের জন্য একই ভাষানীতি কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
বরং প্রতিটি দেশের ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রমাণভিত্তিক ও প্রেক্ষাপটনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতে, শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের ভাষা কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের।
অবস্থানপত্রটির কেন্দ্রীয় ধারণা হলো ‘ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা’। এ ধরনের ব্যবস্থায় ভাষাকে শেখার একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে দেখা হয় এবং সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সমন্বিত করা হয় । নীতিনির্ধারণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষাসামগ্রী, মূল্যায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ—শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভাষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এই অবস্থাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে যে, কোন ভাষায় পাঠদান করা হবে, সেটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য সহায়ক পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে। অর্থাৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা শেখার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে কতটা সক্ষম, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব দেশে পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়, সেখানে ইংরেজি বিষয়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা, পাঠ্যক্রম অনুধাবনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এবং একই সঙ্গে তাদের পরিচিত ভাষার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষণপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, সহজলভ্য শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের ভাষা বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
এই অবস্থানপত্র তৈরিতে বিস্তৃত পরিসরে একটি বৈশ্বিক লিটারেচার রিভিউ পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এতে বিভিন্ন দেশে ইংরেজি শেখানো এবং ইংরেজির মাধ্যমে পাঠদানের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের শেখার ফল অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা, শিক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভাষানীতির সামঞ্জস্যের ওপর। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইংরেজিমাধ্যমে পাঠদান শুরু করলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ইতিবাচক শিক্ষণ ফলাফল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি ও স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মাইকেল কনোলি বলেন, “শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষা। শিক্ষা ব্যবস্থা যখন শিক্ষার্থীদের ভাষাগত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তখন শ্রেণিকক্ষ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং শেখার পরিবেশ উন্নত হয়। আমাদের এই অবস্থানপত্রে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেন ভাষানীতি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে বরং সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”
নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষা সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন নীতি ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহায়তা করাই ব্রিটিশ কাউন্সিলের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ফল আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সবার জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হবে। নতুন এই অবস্থানপত্র ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা পর্যালোচনা শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাষা বিষয়ক আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষতানির্ভর পন্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল হিসেবে কাজ করবে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে ‘ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১৮ মে ২০২৬) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবীনদের উচ্চশিক্ষার যাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়।
এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্প্রিং ২০২৫, সামার ২০২৫ এবং স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারের সিইএন-৮৪-এ, সিইএন-৮৫-এ এবং সিইএন-৮৬-এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস-সাবের। তিনি নবীনদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর এই মুহূর্তকে উদযাপন করেন।
নবীনদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস-সাবের তাঁর বক্তব্যে বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী হতে হবে। একই সাথে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেকে পেশাগত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, নৈতিকতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়ই একজন প্রকৌশলীকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক বি সি বসাক এবং এমিরেটাস অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় আচার্য্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সম্পর্কে ধারণা দেন। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় গবেষণা ও কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীরা বিভাগের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। তাত্ত্বিক আলোচনার পর আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক সুন্দর সেতুবন্ধন তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিকল্পিত উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও লক্ষ্য স্থির করার প্রেরণা লক্ষ্য করা গেছে। শেষে বিভাগের পক্ষ থেকে সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ই মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন মোতাবেক তিনি যোগদান করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
রোববার (১৭ মে) দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোর ডীন, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ রেজিস্ট্রারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাথে মিটিংয়ে তিনি সকলের সহযোগিতায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশনের মাধ্যমে ডুয়েটকে সামগ্রিকভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডুয়েট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর সিন্ডিকেট সদস্য, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরি ও’কনর প্রসেস সেফটি সেন্টারে ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্নের পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি বিদেশি পিয়ার রিভিউড জার্নালে তাঁর ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি ৯০টিরও বেশি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আরগোনোমিক্স অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টরস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও এনভায়রনমেন্ট সংশ্ল্ষ্টি বিষয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সমৃদ্ধ। গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট (আইইওএম) সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল থেকে ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডসহ শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রবন্ধের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে সম্মাননা অর্জন করেন।
তিনি আইইওএম সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের জীবন সদস্য, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) জীবন সদস্য, অ্যাশরেই বাংলাদেশ শাখা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং স্ত্রী অধ্যাপক ড. সালমা আখতার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যার জনক।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (১৫) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উপাচার্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন কারণে সেই মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আমি চেষ্টা করব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
শিক্ষাজীবনে একাডেমিক ফলাফলে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পাঁচজন, ২০২০ সালে পাঁচজন এবং ২০২১ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর (একাডেমিক শাখা) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের সোনিয়া আক্তার, ইংরেজি বিভাগের নূর-ই-জাহান তাহিন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মোছা. তাসলিমা আক্তার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের তাশফিয়া সালাম এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আক্তার।
২০২০ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—রসায়ন বিভাগের মাহিমা সুলতানা সরকার, বাংলা বিভাগের তাইয়াবুন নাহার, অর্থনীতি বিভাগের হেলাল উদ্দীন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের মোছা. মুক্তা আক্তার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফারজানা আক্তার।
এছাড়া ২০২১ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের তানজিনা আক্তার, বাংলা বিভাগের নাজনীন সুলতানা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবিকুন্নাহার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের নাহিদা আক্তার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের আমেনা আক্তার এবং আইন বিভাগের নিশি আক্তার।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘পূর্বেই আবেদন করা ছিল, এতদিনে ফাইনাল হয়েছে। এখন তিন বছর দেওয়া হচ্ছে। আরো তিনটি বছরের ফলাফল তৈরি রয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত-২০১০) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করলে এর আগেও দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) কলেজ অব নার্সিং এক বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) উত্তরার আইইউবিএটি অডিটোরিয়ামে এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচায়’—এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আয়োজনটি সাজানো হয়।
দিবসটি উদযাপনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালি পরবর্তী মূল অধিবেশনে ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অডিটোরিয়ামে পরিচালিত সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ নার্সদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নার্সদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নার্সরা কেবল সেবাই দেন না, বরং একটি জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে কাজ করেন। বিশেষ করে নার্সদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইইউবিএটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার এবং কলেজ অব নার্সিং-এর সহযোগী অধ্যাপক সান্দ্রা রুমি মধু। বক্তারা নার্সিং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাঁরা মনে করেন, মানসম্মত নার্সিং শিক্ষার মাধ্যমে আইইউবিএটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল জোগান দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নার্সিং পেশার মানবিক দিকগুলো নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অত্যন্ত কার্যকর। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আইইউবিএটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে তারা বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য