× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
80 percent of university students suffer from depression survey
google_news print-icon

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ

বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীদের-৮০-শতাংশই-হতাশায়-ভুগছেন-জরিপ
জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশেরই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এসেছে। প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই হতাশার মধ্যে দিয়ে কাটান বলে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে উঠে এসেছে। হতাশার বিভিন্ন উপসর্গ, যেমন: ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, কোনো কিছু উপভোগ না করা, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, আত্মহত্যার চিন্তা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ’ শীর্ষক সমীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করা এ জরিপে সারা দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

হতাশার উপসর্গ তুলনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের তুলনায় বেশি সময় হতাশার উপসর্গ নিজের মাঝে অনুভব করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বাকি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের মাঝে হতাশার উপসর্গ দেখা যায়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা হতাশার উপসর্গগুলো অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই ধরনের উপসর্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা

এদিকে, ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের হতাশার বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে জরিপে। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। বিভিন্ন কারণে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার কারণে হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, হল বা আবাসিক পরিবেশ নিয়ে ৯ শতাংশ, সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা বুলিংয়ের কারণে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উপর্যুক্ত সবগুলো কারণের জন্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা অন্যান্য কারণে হতাশায় ভুগছেন।

এদের মধ্যে সহপাঠী, সিনিয়র কিংবা শিক্ষকের দ্বারা ক্যাম্পাসে শারীরিক বা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ৩১ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী; যার মাঝে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহপাঠী বা সিনিয়র দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শিক্ষক কর্তৃক ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, স্টাফ কর্তৃক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্যদের দ্বারা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছন।

হয়রানির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর, মোটামুটি প্রভাব পড়েছে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর এবং কোনোরূপ প্রভাব পড়েনি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, মোটামুটি সন্তুষ্ট ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

নিজেকে প্রকাশ

জরিপের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা মন খুলে কথা বলার মত কোনো শিক্ষক পাননি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা খুব সহজে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ৪১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভাগের অন্যান্য সদস্যদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

হলের পরিবেশ

হলের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা পুরোপুরি অসন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কথা বলেছেন মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকিরা জানিয়েছেন তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট।

অসন্তুষ্টির কারণ হিসেবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকার পরিবেশকে দায়ী করেছেন। অনুন্নত খাবারকে দায়ী করেছেন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগার সংকট মনে করছেন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং সবগুলো কারণকেই দায়ী করছেন ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ১০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য কারণকে অসন্তুষ্টির জন্য দায়ী করছেন। ৭০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, হলের পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যারিয়ার ভাবনা

জরিপের তথ্যানুসারে, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে চান, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি চাকরি করতে চান।

বাকি শিক্ষার্থীরা এখনও কোনোরূপ ক্যারিয়ার ভাবনা ঠিক করেননি, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ।

আত্মহত্যার প্রবণতা

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তায় এসেছে, কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তা এসেছে ও উপকরণও জোগাড় করেছেন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কখনও মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা এসেছে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশায়, ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানের ফলে, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রেমঘটিত বিষয়ে, ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে, অন্যরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করার চিন্তা মাথায় এসেছে বলে জানিয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিপক্ষে মত দিয়েছেন। আর ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা এ সম্পর্কে জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দূরীকরণে সংগঠনটি বেশকিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

এগুলো হলো- ক্যাম্পাসে কাউন্সিলিং ইউনিটের ব্যবস্থা করা, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা, ক্যাম্পাসে কেউ যেন বুলিং এর শিকার না হয় তা মনিটরিং করা, নিরাপদ বাসস্থান ও উন্নতমানের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্মান ও আস্থার সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করানো; মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা; সেমিনার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা; মনোবিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের এসব সেশনে বিভিন্ন সমস্যা ও এগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং দেশের সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ), এডুকেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১৬ শতাংশ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫৪ জন (১৬ দশমিক ২ শতাংশ), তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৬৯ জন (২৩ দশমিক ৪ শতাংশ), চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪০ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ), মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪১ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ১৫ জন (এক শতাংশ)।

আরও পড়ুন:
কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫৪তম
এশিয়ার সেরা তিনশ’র তালিকায় নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The teachers federation will continue the agitation until the demands are met

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে রোববারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলন যেহেতু তারা চালাবেই চালাতে থাক- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক আখতার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এই কথা বলে থাকেন তাহলে তা একটু হতাশাব্যঞ্জক। আমরা তো ওনার ওপরই আস্থা রাখছিলাম যে উনি আমাদের বিষয়টি ভালো করে শুনবেন।’

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম।

ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘আজ (রোববার) আমাদের শিক্ষক ফেডারেশনের সভা ছিল। সেখানে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষক ফেডারেশনের এই সভা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।

এর আগে এসব দাবিতে শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্ক্রিম নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিলো। সেটি দূর হয়েছে। এটি আগামী বছর চালু হবে।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন
শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি শিক্ষক নেতারা। ফাইল ছবি

ফেডারেশনের রোববারের বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাওয়া ভালো জিনিস। কিন্তু যদি সেটি হয়ে থাকত তাহলে উনি (ওবায়দুল কাদের) যখন প্রেস ব্রিফিং করছিলেন সেখানে তো আমাদেরও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল।

‘আমরা কি ছিলাম সেখানে? ছিলাম না। আমরা বের হয়ে পরে কথা বলবো বলেছি। সব কথা কি আমাদের মুখ ফুটে বলতে হবে?’

তিনি বলেন, ‘তবে ওনারা আমাদের ডেকেছেন সেটাতে আমরা খুশি হয়েছি। আশা করি, আবারও আমাদের ডাকা হবে।’

এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আন্দোলন যেহেতু তারা চালাবেই চালাতে থাক। চালাতে চালাতে যখন ক্লান্ত হয়ে যাবে তখন বলব।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক আখতার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এই কথা বলে থাকেন তাহলে তা একটু হতাশাব্যঞ্জক। আমরা তো ওনার ওপরই আস্থা রাখছিলাম যে উনি আমাদের বিষয়টি ভালো করে শুনবেন।’

এদিকে বিগত দিনগুলোর মতো রোববারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

আরও পড়ুন:
কাদেরের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া নেই শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের
শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কাদেরের বৈঠক স্থগিত
কর্মবিরতি: শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বসছেন কাদের
সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে ঢাবিসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি

মন্তব্য

শিক্ষা
As soon as the students file the case the ultimatum aspect will be investigated Home Minister

শিক্ষার্থীরা মামলা তোলার যতই আল্টিমেটাম দিক তদন্ত চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীরা মামলা তোলার যতই আল্টিমেটাম দিক তদন্ত চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তদন্তের আগে বোঝা যাবে না তাদেরকে উসকানি দিচ্ছে কে। আন্দোলনে উস্কানিদাতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যা করছে তা না বুঝেই কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে।’

শিক্ষার্থীরা না বুঝেই কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা মামলা তোলার যতই আল্টিমেটাম দিক, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। মেরিট দেখেই মামলা করা হয়েছে।’

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্তের আগে বোঝা যাবে না তাদেরকে উসকানি দিচ্ছে কে। আন্দোলনে উস্কানিদাতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যা করছে তা না বুঝেই কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে।

‘কোটা আন্দোলনে উস্কানিদাতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে তদন্তের পর সেটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জানমালের অনিশ্চয়তা দেখা দিলে পুলিশ বসে থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর হবে না পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পাল্টা গুলি চালাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতি জেলায় হবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

মন্তব্য

শিক্ষা
Ultimatum of students asking for visible steps to implement their demands
কোটা সংস্কার আন্দোলন

দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা ব্যবস্থা যৌক্তিক সংস্কারের জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আগামী ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে তারা বলেছেন, এই সময়সীমার মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই সময়ের মাঝে শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার গণপদযাত্রা নিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্মারকলিপিতে আমাদের দাবি তুলে ধরে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমরা ২৪ ঘণ্টার একটি সুপারিশ করেছি। আমরা চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের অধিবেশন ডেকে আইন পাসে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক অথবা অন্তত অধিবেশন ডাকা হোক। অর্থাৎ আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করব। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে কী বক্তব্য বা পদক্ষেপ আসছে সেটা পর্যবেক্ষণ করে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

নাহিদ বলেন, ‘শাহবাগ থানায় আমাদের নামে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমরা গতকাল (শনিবার) বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। আজ আমরা সেই সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিচ্ছি। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মামলা প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে আমাদের কর্মসূচি কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।’

আন্দোলনের এই অন্যতম সমন্বয়ক বলেন, ‘১ জুলাই থেকে অবরোধ আর অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিক্ষোভ আর স্মারকলিপি দেয়ার মতো কর্মসূচি নিয়েছি। কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না।

‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আমরা নাকি বার বার দাবি পরিবর্তন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি শুরু থেকেই স্পষ্ট। আমরা প্রথম দিন থেকেই বলেছি, কোটা সংস্কারের এখতিয়ার সরকার এবং নির্বাহী বিভাগের। বরং সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তাই আমরা চেয়েছি আইন বিভাগ বা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইন পাস করা হোক যাতে জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি বা বক্তব্য কখনও স্ববিরোধী নয়। দাবি উপস্থাপনের যত দরজা আছে সব দরজায় যাচ্ছি। কিন্তু আমাদেরকে ফেরানো হচ্ছে। আর বলা হচ্ছে আমাদের দাবি স্ববিরোধী। সরকার যদি প্রথম দিনেই আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করত তাহলে আমাদেরকে এত জায়গায় যাওয়ার দরকার পড়ত না।’

এর আগে রোববার বেলা আড়াইটায় শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এক দফা দাবির স্মারকলিপি দিতে বঙ্গভবনে যান। তবে তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে তারা স্মারকলিপি জমা দেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ওনার সামরিক সচিব আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, অতি দ্রুত তিনি এই স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন।

‘সেখানে আমরা স্পষ্ট করে আমাদের এক দফা দাবি উল্লেখ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, অতিসত্বর আমাদের দাবি বাস্তবায়নে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গণপদযাত্রা করে শিক্ষার্থীরা এর আগে তিন দফায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে পৌঁছেন। দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বঙ্গভবন অভিমুখে তাদের পূর্বঘোষিত গণপদযাত্রা শুরু হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা টিএসসি, শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শিক্ষা ভবন মোড়ে এলে প্রথম দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তবে সেখানে কোনো ব্যারিকেড ছিল না। পুলিশ মানব ব্যারিকেড তৈরি করলে সেটি ভেঙে জিপিও মোড়ের দিকে এগিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

জিপিও মোড়ে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের আটকে দেয়। তাদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনুরোধ করা হয় আর সামনে না যাওয়ার জন্য। তাদের ১২ জন প্রতিনিধি প্রেরণের প্রস্তাব করে পুলিশ।

এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে বঙ্গভবনে শিক্ষার্থীদের ১২ জন প্রতিনিধি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন এবং বাকি শিক্ষার্থীরা জিপিও মোড়ে বসে পড়েন।

এদিকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট জিপিও মোড়ে অবস্থানের পর সেই মোড়ের ব্যারিকেডও ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যান। তবে পুলিশ ও যানজটের কারণে শিক্ষার্থীরা কয়েক ভাগ হয়ে যান।

কিছু শিক্ষার্থী গুলিস্তান মোড়ে চলে যান। আর কিছু শিক্ষার্থী মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে যান। মাঝখানে পড়ে যায় কিছু বাস। পরে স্টেডিয়ামের সামনের শিক্ষার্থীরা পাশের রাস্তা দিয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে এলে বাকি শিক্ষার্থীরা সেখানে থাকা পুলিশের মানব ব্যারিকেড ভেঙে ১০ থেকে ১২ ফুট এগুলে ফের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। পরে সেখানেই অবস্থান নেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফলে পদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
The demands of the teachers will be raised with the Prime Minister Who

শিক্ষকদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে: কাদের

শিক্ষকদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে: কাদের শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় আগামী বছর থেকে চালু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা কর্মবিরতির বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আশা করি সমাধান আসবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রেড ও স্কেল প্রদান নিয়ে আলোচনা হবে এবং তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় আগামী বছর থেকে চালু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা কর্মবিরতির বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আশা করি সমাধান আসবে।’

শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অপরদিকে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা জানিয়েছে, সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে তথ্যটি দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে স্কিমটি শুরু হবে..., এটা ভুল ছিল। পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে।

‘শিক্ষকদের সুপার গ্রেড প্রদানের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা ও লিখিত দাবিনামা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করব। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমরা আলাপ-আলোচনা করে নেব।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই যুক্ত হবেন ২০২৫ সালের ১ জুলাই। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জন শিক্ষক নেতা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি মিটেছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

শিক্ষকদের কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা সাংগঠনিকভাবে ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন৷ তবে শিক্ষকদের সব দাবি চট করে মানা যাবে না। সরকারেরও যুক্তি আছে। তাদের দাবি যুক্তিসংগত হলে বিবেচনা করা হবে।’

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ফেডারেশনে আলোচনা করে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলব।’

শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলে, শিক্ষক সমিতির সঙ্গে কথা বলে ও সভা করে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন:
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক কাদেরের
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
কোটার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: কাদের

মন্তব্য

শিক্ষা
Do not mislead young students External Affairs Minister

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বগুড়ায় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই কোটা বাতিল করেছিল, আদালত সেটি পুনর্বহাল করেছিল। সুতরাং কোটার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। বিষয়টি যারা বোঝেন না বা বুঝেও বুঝতে চান না এবং যাদেরকে বিএনপিসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে বলব, কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই কোটা বাতিল করেছিল, আদালত সেটি পুনর্বহাল করেছিল। সুতরাং কোটার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যারা বোঝেন না বা বুঝেও বুঝতে চান না এবং যাদেরকে বিএনপিসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে বলবো, কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

শনিবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরে পৌর এডওয়ার্ড পার্কের শহীদ টিটু মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্লাটিনাম রজতজয়ন্তী উদযাপন ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা ও প্রয়াতদের মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিশদ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কোটা সরকার পুনর্বহাল করেনি। সরকার বরং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেছিল। বাতিলের পর কোটাহীনভাবে সরকারি ও অন্যান্য চাকরিতে নিয়োগ হচ্ছে।

‘হাইকোর্ট রায় দিয়েছে কোটা পুনর্বহালের জন্য। সুপ্রিম কোর্ট সেটি স্থগিত করেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বা বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে।

‘এসব বুঝেও যারা জনভোগান্তি ঘটাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বলব- জনগণের ভোগান্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। আশা করবো শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনু এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এমপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এমপি প্রধান বক্তা এবং সাহাদারা মান্নান এমপি ও ডা. মোস্তফা আলম নান্নু এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারতের আপত্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদি গমনেচ্ছুদের প্রতারণা থেকে রক্ষায় যৌথ টাস্কফোর্স কাজ করবে
বিদেশের কারাগারে বন্দি ১১ হাজার ৪৫০ বাংলাদেশি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদির সঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আ.লীগ সবসময় চক্ষুশূল হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Kota protestors march towards Bangabhavan

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন।’

জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা ব্যবস্থা যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল রোববার গণভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চলছে। তার পাশাপাশি গণপদযাত্রার এই কর্মসূচি আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

‘সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। সেখানে তারা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন। আমরা চাই, আমাদের দাবির সঙ্গে আপনারা একাত্মতা পোষণ করে সাপ্রেশনের পরিবর্তে সলিউশনের পথ বেছে নেবেন।’

আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকারের সব গ্রেডের চাকরিতে আমরা মোট পাঁচ শতাংশ কোটাকে যৌক্তিক মনে করছি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোন কোন কোটা। সেই জায়গায় আমরা তিনটি কোটার কথা বলেছি। সেগুলো হলো- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা। কোনো পোষ্য কোটা আমরা চাই না। সুতরাং আমরা আবারও স্পষ্ট করছি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধী নই।

‘পুলিশের বক্তব্য সাংঘর্ষিক’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা বলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নাকি তাদের সাঁজোয়া যানের ক্ষতি করেছে। অথচ ওইদিন সন্ধ্যায় রমনা জোনের ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এখানে আমাদের সাঁজোয়া যান ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন এসেছিল তারা অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে- এই ধরনেরই একটি ঘটনা। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।’

এরপর আসিফ মাহমুদ সেই স্টেটমেন্টের অডিও সবাইকে শোনান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবি

মামলার বিষয়ে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে অজ্ঞাত আমাদের। এখানে অজ্ঞাতনামা দেয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেটি খুব স্পষ্ট।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। যদি মামলা দিতেই হয় তাহলে যেন আমাদের নামেই মামলা দেয়া হয়। ছাত্রসমাজকে এ ধরনের মামলা দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আর সেদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিভিন্ন ব্লকেড কর্মসূচিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

‘আন্দোলন দমনের চেষ্টা হলে বুমেরাং হবে’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সরকারের উচিত ছিল প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি করা এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কোটা সমস্যার সংকট নিরসন করা।

‘কিন্তু সরকার সেটি না করে এখন আন্দোলনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন এবং নানা শক্তির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দমনের একটি পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু এ ধরনের পরিকল্পনা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। তারপরও যদি সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

‘সরকার দায় এড়াতে আদালতকে ব্যবহার করছে’

নাহিদ ইমলাম বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমাদের আন্দোলনকে বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা কেন আদালতে যাচ্ছি না। এটি কিন্তু আমরা অনেকবার স্পষ্ট করেছি। সেটি হলো, আদালতে এখন যে বিষয়টি বিচারাধীন তা হলো নির্বাহী বিভাগের জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র।

‘কিন্তু সেই পরিপত্রের প্রেক্ষাপটে আমাদের আন্দোলনটি আর সেখানে নেই, আমাদের আন্দোলনটি সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণীসহ তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির কোটাও অন্তর্ভুক্ত। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বার বার দায় এড়ানোর জন্য আদালতকে ব্যবহার করছে। আদালতকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কালক্ষেপণের নাটক করছে। ১৮ সালের পরিপত্র নিয়ে কথা বলা আমাদের জন্য সাব-জুডিস হবে। কিন্তু সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা কখনোই সাব-জুডিস হবে না।’

‘ছাত্রলীগ আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে

আদালতের রায়ের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ছাত্রলীগের যে দাবি সে বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের জোয়ার কমেনি বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। আমাদের কোনো দাবিই তো পূরণ করা হয়নি, সেখানে কী কারণে শিক্ষার্থীরা ফিরে যাবে? শিক্ষার্থীরা এত বোকা নয় যে তাদের সামনে একটি মুলা ঝুলানো হবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুর দিকে এই ছাত্রলীগের কোন খোঁজখবর ছিল না। এখন যখন আন্দোলন সফলতার দিকে যাচ্ছে, তখন তারা এই আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে।’

‘শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরলেও আমরা ফিরব না’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের নিয়ে বলতে চাই, আপনারা যখন আপনাদের পেনশন স্কিমকে সামনে রেখে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তখন কিন্তু ছাত্ররা জোর করে ক্লাসে গিয়ে বসে থাকেনি। এখন সময় এসেছে আপনাদের প্রমাণ করার যে, যারা আপনাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, তাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনারা কতটুকু তাদের পাশে থাকবেন।

‘আপনাদের দাবি যদি পূরণ হয়েও যায় তারপরও আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার
মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

মন্তব্য

শিক্ষা
Attempts are being made to sideline the quota agitators Harun

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন রাজধানীর মিণ্টো রোডের কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে এবং ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করারও চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি আদালতের আদেশ না মানে, সড়ক অবরোধ করে এবং আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ সেটাই করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কোটার ব্যবস্থার প্রচলন শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই আছে। কোটার বিরোধিতা করে কিছু লোক ও কিছু শিক্ষার্থী রাস্তায় আন্দোলন করছে। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

‘সুপ্রিম কোর্ট সবার ভরসাস্থল। আদালতের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। কিন্তু কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না গিয়ে বিভিন্ন সড়কে বসে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অনেক জায়গায় গাড়িতে তারা হাত দিচ্ছে এবং একটি মামলাও রুজু হয়েছে।’

হারুন বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কিনা, ঘটনাটি অপরদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কিনা- এসব নিয়ে ডিবির টিম ও পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা না মেনে আন্দোলনের নামে সড়কে নেমে অবরোধ করে গাড়িতে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, তবে আমরা ধরে নিতে পারি অনুপ্রবেশকারীরাই এসব কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

p
উপরে