× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Human chain in protest against tree cutting in closed Jabi campus
google_news print-icon

বন্ধ জাবি ক্যাম্পাসে গাছ কাটার মচ্ছব, প্রতিবাদ

বন্ধ-জাবি-ক্যাম্পাসে-গাছ-কাটার-মচ্ছব-প্রতিবাদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার সকালে দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এক্সটেনশন ও নতুন প্রশাসনিক ভবনের পাশে কাটা হয় দুই শতাধিক গাছ। এই দুই ভবন নির্মাণে আরও চার শতাধিক গাছ কাটা হবে বলে জানা গেছে।

গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩০ মে থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। আর বন্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভবন নির্মাণের জন্য চলছে গাছ কাটার মচ্ছব। কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবন সংলগ্ন গাছ কাটার স্থানে রোববার এই মানববন্ধন করা হয়।

রোববার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এক্সটেনশন ও নতুন প্রশাসনিক ভবনের পাশে কাটা হয় দুই শতাধিক গাছ। এই দুই ভবন নির্মাণে আরও চার শতাধিক গাছ কাটা হবে বলে জানা গেছে।

শিক্ষকরা সর্বসম্মতিক্রমে কলা অনুষদের পাশেই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিলেও তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের পাশে ভবন নির্মাণের জন্য দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর ঠিক পাশেই অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় লেক।

বন্ধ জাবি ক্যাম্পাসে গাছ কাটার মচ্ছব, প্রতিবাদ

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার উল্লেখ করে তাদের ব্যর্থতার বর্ণনা ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ছাড়াই গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘ছুটি হলেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছ কাটার সংস্কৃতি বহু দিনের পুরনো। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শিক্ষার্থীরা হলে না থাকায় সেটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে গাছ কাটার উৎসবে মেতেছে কর্তৃপক্ষ।

‘আজ গাছ কাটার সময় চারুকলা বিভাগ নিজেদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভবন নির্মাণে আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের একটাই দাবি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করা হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবন প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে ভবন নির্মাণ চাই না। আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে ন‌ই। কিন্তু আমরা চাই উন্নয়ন হোক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে।’

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, চারুকলা অনুষদের ভবন নির্মাণের জন্য সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের এক্সটেনশন অংশে দাঁড়িয়ে ছিলেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের সহায়তায় ও উপস্থিতিতে আন্দোলনের মুখে বন্ধ থাকা চারুকলা অনুষদের ভবন নির্মাণের জন্য শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক খো. লুৎফল এলাহী বলেন, ‘এভাবে ছুটির মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। কলা ও মানবিক অনুষদে আমাদের চাওয়া ছিল ভবনটি বর্তমান ভবন সংলগ্ন স্থানে করার। এতে ভবন কিছুটা ছোট হলেও পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির তেমন ক্ষতি হতো না। কিন্তু তারা সেদিকে কর্ণপাত না করে লেকের পাশে যে স্থান নির্ধারণ করেছে তাতে তৃতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের পথকে উন্মোচন করল।’

এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদ ভবনের প্রকল্প পরিচালক ও চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এম ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নির্ধারিত জায়গাতেই ভবন নির্মাণ করছি। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কিছুই আমরা করছি না।

‘এছাড়া যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে ততটা গাছ আমরা নিজেরাই রোপণ করে পরিচর্যা করব। সব অংশীজনের সুপারিশকে গ্রহণ করে এবং তাদের নিয়ে আমরা একটা টিম তৈরি করব যাতে তারা আমাদের অগ্রগতি লক্ষ্য রাখতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
প্রক্টর প্রভোস্টকে অব্যাহতির আশ্বাসে জাবিতে অবরোধ স্থগিত
প্রক্টর-প্রভোস্টের অব্যাহতিসহ পাঁচ দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধ
জাবির দুই হলের মাঝের রাস্তা খোলার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ
জাবিতে দেয়াল ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই হলের সংঘর্ষ
জাবিতে ছাত্রদলের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Ultimatum of students asking for visible steps to implement their demands
কোটা সংস্কার আন্দোলন

দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা ব্যবস্থা যৌক্তিক সংস্কারের জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আগামী ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে তারা বলেছেন, এই সময়সীমার মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই সময়ের মাঝে শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার গণপদযাত্রা নিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্মারকলিপিতে আমাদের দাবি তুলে ধরে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমরা ২৪ ঘণ্টার একটি সুপারিশ করেছি। আমরা চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের অধিবেশন ডেকে আইন পাসে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক অথবা অন্তত অধিবেশন ডাকা হোক। অর্থাৎ আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করব। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে কী বক্তব্য বা পদক্ষেপ আসছে সেটা পর্যবেক্ষণ করে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

নাহিদ বলেন, ‘শাহবাগ থানায় আমাদের নামে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমরা গতকাল (শনিবার) বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। আজ আমরা সেই সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিচ্ছি। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মামলা প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে আমাদের কর্মসূচি কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।’

আন্দোলনের এই অন্যতম সমন্বয়ক বলেন, ‘১ জুলাই থেকে অবরোধ আর অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিক্ষোভ আর স্মারকলিপি দেয়ার মতো কর্মসূচি নিয়েছি। কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না।

‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আমরা নাকি বার বার দাবি পরিবর্তন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি শুরু থেকেই স্পষ্ট। আমরা প্রথম দিন থেকেই বলেছি, কোটা সংস্কারের এখতিয়ার সরকার এবং নির্বাহী বিভাগের। বরং সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তাই আমরা চেয়েছি আইন বিভাগ বা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইন পাস করা হোক যাতে জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি বা বক্তব্য কখনও স্ববিরোধী নয়। দাবি উপস্থাপনের যত দরজা আছে সব দরজায় যাচ্ছি। কিন্তু আমাদেরকে ফেরানো হচ্ছে। আর বলা হচ্ছে আমাদের দাবি স্ববিরোধী। সরকার যদি প্রথম দিনেই আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করত তাহলে আমাদেরকে এত জায়গায় যাওয়ার দরকার পড়ত না।’

এর আগে রোববার বেলা আড়াইটায় শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এক দফা দাবির স্মারকলিপি দিতে বঙ্গভবনে যান। তবে তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে তারা স্মারকলিপি জমা দেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ওনার সামরিক সচিব আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, অতি দ্রুত তিনি এই স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন।

‘সেখানে আমরা স্পষ্ট করে আমাদের এক দফা দাবি উল্লেখ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, অতিসত্বর আমাদের দাবি বাস্তবায়নে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গণপদযাত্রা করে শিক্ষার্থীরা এর আগে তিন দফায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে পৌঁছেন। দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বঙ্গভবন অভিমুখে তাদের পূর্বঘোষিত গণপদযাত্রা শুরু হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা টিএসসি, শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শিক্ষা ভবন মোড়ে এলে প্রথম দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তবে সেখানে কোনো ব্যারিকেড ছিল না। পুলিশ মানব ব্যারিকেড তৈরি করলে সেটি ভেঙে জিপিও মোড়ের দিকে এগিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

জিপিও মোড়ে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের আটকে দেয়। তাদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনুরোধ করা হয় আর সামনে না যাওয়ার জন্য। তাদের ১২ জন প্রতিনিধি প্রেরণের প্রস্তাব করে পুলিশ।

এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে বঙ্গভবনে শিক্ষার্থীদের ১২ জন প্রতিনিধি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন এবং বাকি শিক্ষার্থীরা জিপিও মোড়ে বসে পড়েন।

এদিকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট জিপিও মোড়ে অবস্থানের পর সেই মোড়ের ব্যারিকেডও ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যান। তবে পুলিশ ও যানজটের কারণে শিক্ষার্থীরা কয়েক ভাগ হয়ে যান।

কিছু শিক্ষার্থী গুলিস্তান মোড়ে চলে যান। আর কিছু শিক্ষার্থী মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে যান। মাঝখানে পড়ে যায় কিছু বাস। পরে স্টেডিয়ামের সামনের শিক্ষার্থীরা পাশের রাস্তা দিয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে এলে বাকি শিক্ষার্থীরা সেখানে থাকা পুলিশের মানব ব্যারিকেড ভেঙে ১০ থেকে ১২ ফুট এগুলে ফের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। পরে সেখানেই অবস্থান নেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফলে পদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
Admission of 169 students of Vikarunnisa remains cancelled
লিভ টু আপিল খারিজ

ভর্তি বাতিলই থাকছে ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর

ভর্তি বাতিলই থাকছে ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটক। ফাইল ছবি
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল রইল।’

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা দুটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল রইল।

‘হাইকোর্টের রায় অনুসারে ১৬৯ শিক্ষার্থীর শূন্য আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এখন শিক্ষার্থী ভর্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনগত কোনো বাধা রইল না।’

বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তিকৃত প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল থাকবে বলে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের ২৯ পৃষ্ঠার দেয়া রায় গত ২৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

রায়ে বলা হয়, ‘নির্দিষ্ট বয়সসীমার পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থীদের (আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের) ফিল্টার করার জন্য সফটওয়্যারে কোনো প্রোগ্রাম স্থাপন করা হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের ২ ডিসেম্বর অযোগ্য ১৬৯ শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এবং নিষ্পাপ শিশুরা কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অদক্ষতা ও অপকর্মের বিষয়বস্তু না হতে হয়।’

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিকারুননিসার পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করবে। অনুসন্ধান কমিটি আরও ভালো ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করার এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করার পরামর্শ দেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

‘এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের সচিবকে ৩ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি করতে হবে। বাকি দুই সদস্যের মধ্যে একজন শিক্ষা বোর্ড থেকে, অপরজন আইটি এক্সপার্ট বুয়েট থেকে যুক্ত করতে হবে।’

রায়ের অনুলিপি শিক্ষা সচিব, বুয়েটের উপাচার্য এবং শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ভিকারুননিসায় ভর্তি নিয়ে বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগ এনে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু দুই শিক্ষার্থীর মা গত ১৪ জানুয়ারি রিট করেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। তার ধারাবাহিকতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর একটি স্মারক হাইকোর্টে উপস্থাপন করে।

মাউশির ওই আদেশ অনুযায়ী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা অনুসরণ করেনি। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার প্রক্রিয়া ছিল বিধিবহির্ভূত। ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন ও ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে শিগগিরই মাউশিকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়।

এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৬৯ জনের ভর্তি বাতিল করে। ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের পর এখন অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শূন্য আসনে ভর্তি নিতে গত ৬ মার্চ নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাতিলকৃত শিক্ষার্থীর অভিভাবক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত ২০ মার্চ হাইকোর্টে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে। এ সময় পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল ও অপেক্ষমাণদের ভর্তির ওপর স্থিতাবস্থা দেয়া হয়।

এরই মধ্যে ভর্তি বাতিল হওয়া ১২০ শিক্ষার্থীর পক্ষে আরেকটি রিট করা হয়। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৫ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেয়। এরপর পৃথক রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে গত ২১ মে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

২৯ পৃষ্ঠায় দেয়া এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশের পর লিভ টু আপিল করা হয়েছিল, যার শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত আজ খারিজ করে আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানির মামলায় ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার
ঝুঁকিপূর্ণ গুলশান শপিং সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয়ার আদেশ বহাল
৪ সপ্তাহ সুপ্রিম কোর্টে লড়তে পারবেন না দুই আইনজীবী
ঢাকা-৪ আসনে বিজয়ী আওলাদ হোসেনকে শপথ পড়ানোর নির্দেশ
শামীম-শাম্মীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিলের শুনানি ২ জানুয়ারি

মন্তব্য

শিক্ষা
Kota protestors march towards Bangabhavan

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন।’

জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা ব্যবস্থা যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল রোববার গণভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চলছে। তার পাশাপাশি গণপদযাত্রার এই কর্মসূচি আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

‘সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। সেখানে তারা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন। আমরা চাই, আমাদের দাবির সঙ্গে আপনারা একাত্মতা পোষণ করে সাপ্রেশনের পরিবর্তে সলিউশনের পথ বেছে নেবেন।’

আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকারের সব গ্রেডের চাকরিতে আমরা মোট পাঁচ শতাংশ কোটাকে যৌক্তিক মনে করছি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোন কোন কোটা। সেই জায়গায় আমরা তিনটি কোটার কথা বলেছি। সেগুলো হলো- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা। কোনো পোষ্য কোটা আমরা চাই না। সুতরাং আমরা আবারও স্পষ্ট করছি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধী নই।

‘পুলিশের বক্তব্য সাংঘর্ষিক’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা বলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নাকি তাদের সাঁজোয়া যানের ক্ষতি করেছে। অথচ ওইদিন সন্ধ্যায় রমনা জোনের ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এখানে আমাদের সাঁজোয়া যান ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন এসেছিল তারা অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে- এই ধরনেরই একটি ঘটনা। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।’

এরপর আসিফ মাহমুদ সেই স্টেটমেন্টের অডিও সবাইকে শোনান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবি

মামলার বিষয়ে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে অজ্ঞাত আমাদের। এখানে অজ্ঞাতনামা দেয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেটি খুব স্পষ্ট।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। যদি মামলা দিতেই হয় তাহলে যেন আমাদের নামেই মামলা দেয়া হয়। ছাত্রসমাজকে এ ধরনের মামলা দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আর সেদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিভিন্ন ব্লকেড কর্মসূচিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

‘আন্দোলন দমনের চেষ্টা হলে বুমেরাং হবে’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সরকারের উচিত ছিল প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি করা এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কোটা সমস্যার সংকট নিরসন করা।

‘কিন্তু সরকার সেটি না করে এখন আন্দোলনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন এবং নানা শক্তির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দমনের একটি পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু এ ধরনের পরিকল্পনা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। তারপরও যদি সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

‘সরকার দায় এড়াতে আদালতকে ব্যবহার করছে’

নাহিদ ইমলাম বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমাদের আন্দোলনকে বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা কেন আদালতে যাচ্ছি না। এটি কিন্তু আমরা অনেকবার স্পষ্ট করেছি। সেটি হলো, আদালতে এখন যে বিষয়টি বিচারাধীন তা হলো নির্বাহী বিভাগের জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র।

‘কিন্তু সেই পরিপত্রের প্রেক্ষাপটে আমাদের আন্দোলনটি আর সেখানে নেই, আমাদের আন্দোলনটি সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণীসহ তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির কোটাও অন্তর্ভুক্ত। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বার বার দায় এড়ানোর জন্য আদালতকে ব্যবহার করছে। আদালতকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কালক্ষেপণের নাটক করছে। ১৮ সালের পরিপত্র নিয়ে কথা বলা আমাদের জন্য সাব-জুডিস হবে। কিন্তু সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা কখনোই সাব-জুডিস হবে না।’

‘ছাত্রলীগ আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে

আদালতের রায়ের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ছাত্রলীগের যে দাবি সে বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের জোয়ার কমেনি বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। আমাদের কোনো দাবিই তো পূরণ করা হয়নি, সেখানে কী কারণে শিক্ষার্থীরা ফিরে যাবে? শিক্ষার্থীরা এত বোকা নয় যে তাদের সামনে একটি মুলা ঝুলানো হবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুর দিকে এই ছাত্রলীগের কোন খোঁজখবর ছিল না। এখন যখন আন্দোলন সফলতার দিকে যাচ্ছে, তখন তারা এই আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে।’

‘শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরলেও আমরা ফিরব না’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের নিয়ে বলতে চাই, আপনারা যখন আপনাদের পেনশন স্কিমকে সামনে রেখে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তখন কিন্তু ছাত্ররা জোর করে ক্লাসে গিয়ে বসে থাকেনি। এখন সময় এসেছে আপনাদের প্রমাণ করার যে, যারা আপনাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, তাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনারা কতটুকু তাদের পাশে থাকবেন।

‘আপনাদের দাবি যদি পূরণ হয়েও যায় তারপরও আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার
মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

মন্তব্য

শিক্ষা
Kubi students protest against police attack
কোটা সংস্কার আন্দোলন

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচার দাবি করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই হামলার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিলটি আনসার ক্যাম্পে পৌঁছলে শিক্ষার্থীরা সেখানে একযোগে জাতীয় সংগীত গান এবং পুলিশি হামলার শিকারদের উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। নীরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা আনসার ক্যাম্প মোড়কে ‘ছাত্র আন্দোলন চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবারের হামলায় জড়িতদের বিচার চান এবং সেদিনের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গোলচত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবা বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় সাংবাদিকসহ অনেকে আহত হন। পরবর্তীতে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা৷

আরও পড়ুন:
সারা দেশে শুক্রবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ
জবি গেটের তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা
সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
Students blocked the railway track in Rajshahi
কোটা সংস্কার আন্দোলন

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। রাবি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী কলেজ ও রুয়েট মিলে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

সরকারি সব চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন।

কর্মসূচিতে রাবি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী কলেজ ও রুয়েট মিলে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এই রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন রাবি শিক্ষার্থীরা। সে অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের ফলে ওই সময়ের জন্য রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

রেললাইন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার খবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, চট্টগ্রামে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের এক দফা এক দাবি। সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

‘এই ৫ শতাংশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ২ শতাংশ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো নাতি-নাতনি সুযোগ পাবে না।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী বারিউল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের একটা সমন্বয় কমিটি ছিলো, সেটা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ‘আমাদের দাবি, ৫ শতাংশের উপরে কোটা বহাল থাকা যাবে না। এবং এটা সংসদের নির্বাহী বিভাগের আইন পাস করার মাধ্যমে করতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো সমঝোতা আমরা মেনে নেব না।’

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘সারাদেশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। এখন আমাদের এক দফা এক দাবি, বৈষম্যমূলক সব কোটা যৌক্তিকতার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির জন্য কোনো কোটা রাখা যাবে না, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার
মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট
সারা দেশে শুক্রবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
After the stay of the students in Shahbagh the new program is announced
কোটা সংস্কার আন্দোলন

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে জমায়েত থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগের অবস্থান থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী শনিবার মাঠের কোনো আন্দোলন নেই। এদিন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ও ৬৪ জেলায় অনলাইন-অফলাইনে প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারা।

সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামীকাল শনিবার কোনো মাঠের কর্মসূচি রাখেননি। তবে এদিন তারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ও ৬৪ জেলায় অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে শুক্রবার প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আর রোববার মাঠের কর্মসূচি থাকবে কিনা তা শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এই সমন্বয়ক।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর ঘুরে টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেন। রাস্তা অবরোধ করে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই এলাকা ও আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা এ সময় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কুবি/চবিতে/শেকৃবি হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক আবু সাইদ বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাই-বন্ধুদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ সেখানে হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই। এর প্রতিবাদেই আজকে আমরা ঢাবিসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করছি।’

আরও পড়ুন:
জবি গেটের তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা
সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা
সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারবে
আদালতের বিষয় আদালতে সমাধান হোক

মন্তব্য

শিক্ষা
Blocking the highway by lighting candles traffic jams of Kubi students

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট মহাসড়কে মোমবাতি জ্বালিয়ে অবরোধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা পেরিয়ে বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তির শিকার হন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে চলমান ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের অনেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন কুবি শিক্ষার্থীরা।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের বাধা পেরিয়ে বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূল ফটক অতিক্রম করে আনসার ক্যাম্পের সামনে এলে পুলিশ ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার জন্য বলে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা কথা না মেনে মহাসড়কের দিকে এগুতে চাইলে প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। পরবর্তীতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে সাংবাদিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই কতজন আহত হয়েছে। আমিও শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই আছি। তবে তিনজনকে হাসপাতালে নিতে দেখেছি।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাফি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের প্রতিপক্ষ নই। বিষয় হচ্ছে তারা যদি দেশের কোনো ব্যস্ততম রাস্তা বেআইনিভাবে আটকে রাখে সেক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব সেটিকে ক্লিন রাখা। আমরা শুধুই আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।’

প্রসঙ্গত, এর আগে একই দাবিতে ৪, ৭, ৮ ও ১০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারবে
আদালতের বিষয় আদালতে সমাধান হোক
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইবি শিক্ষার্থীরা
পুলিশি বাধা ডিঙিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

মন্তব্য

p
উপরে