× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
The General Secretary of the Teachers Association called Kubi Vice Chancellor a dustbin for the argument about qualifications
google_news print-icon

কুবিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, উপাচার্যকে ‘ডাস্টবিন’ বললেন শিক্ষক সমিতির সম্পাদক

কুবিতে-নিয়োগ-পরীক্ষা-স্থগিত-উপাচার্যকে-ডাস্টবিন-বললেন-শিক্ষক-সমিতির-সম্পাদক
বুধবার দুপুরের দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে বাগবিতণ্ডায় জড়ান কুবি শিক্ষক সমিতির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
কুবি শিক্ষক সমিতির বাধার প্রেক্ষিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর উপাচার্যের সঙ্গে তর্কে জড়ান সমিতির নেতারা। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এক পর্যায়ে উপাচার্যকে ‘ডাস্টবিন’ সম্বোধন করে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বাধার প্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সমিতির নেতারা। এক পর্যায়ে উপাচার্যকে ‘ডাস্টবিন’ সম্বোধন করে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর প্রথমে শিক্ষক সমিতির নেতারা উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে নানা বিষয়ে তর্ক করতে থাকেন। এসময় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘আপনি পদত্যাগ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেন।’

এই কথার জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘আপনার কথায় পদত্যাগ! হু আর ইউ টু আস্ক মি টু রিজাইন?’

বাগবিতণ্ডা চলাকালে উপাচার্যের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তার নামে প্রকাশিত আর্টিকেল তিনি টাকা দিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।

তার দাবি, উপাচার্যের নিজের কোনো ভালো মানের আর্টিকেল নেই, অথচ শিক্ষকদের ওপর ভালো আর্টিকেলের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন।

জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘আমার ৩৯টি আর্টিকেল রয়েছে। আর যে সময় আমি আর্টিকেল প্রকাশ করেছি, সেসময় বিদেশি জার্নালে বাংলাদেশি কারও আর্টিকেল গ্রহণ করত না।’

তিনি বলেন, ‘যারা অযোগ্য, তারা প্রমোশন পাবে না। ভালো জার্নালে একটি আর্টিকেল লেখার যোগ্যতা যাদের নেই, তারা কীভাবে প্রমোশন পাবে?

‘কোনো অযোগ্য শিক্ষককে আমি নিয়োগ দেই না, প্রমোশনও দেই না। পত্রপত্রিকায় অযোগ্য শিক্ষকদের লিস্ট দিলে দেখতে পাবেন কারা অযোগ্য। আমি তাদের প্রমোশন দেই না।’

এক পর্যায়ে শিক্ষক সমিতির নেতারা প্রশ্ন তোলেন, ‘কোনো ভালো জার্নালে আপনার একটি ভালো মানের প্রকাশনা নেই। তাহলে আপনি কীভাবে অধ্যাপক হলেন?’

জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘আমি ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে প্রমোশন পেয়েছি। আমাকে যিনি নিয়োগ দিয়েছেন উনি আমার বিষয়টি অ্যাসেস (যাচাই) করেই দিয়েছেন। আমিও যাকে দেব তারটাও অ্যাসেস করেই দেব।’

বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী রানাকে জিগ্যেস করেন, ‘উনি টিচারদের অপমান করে কেন? স্টপ হিম। স্টপ দিস ডাস্টবিন। দিস ডাস্টবিন, জাস্ট স্টপ হিম। দিস ইজ কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি।’

তখন উপাচার্য অধ্যাপক মঈন জিগ্যেস করেন, ‘আপনি কি বললেন? আই উইল টেক ইউ ইন দ‍্য রাইট প্লেস।’

প্রত্যুত্তরে মেহেদী হাসান বলেন, ‘আই এম নট টকিং টু ইউ। আই এম টকিং টু হিম (প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী)।’

এ সময় উপাচার্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাস না নেয়ার অভিযোগ তুললে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘আপনি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এভাবে মিথ্যাচার করতে পারেন না। আমরা ক্লাস না নিলে ক্লাস কে নেয়? আপনি তো ক্লাস নেন না।

‘আমরা যদি ক্লাস না নেই, তাহলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট কমিয়ে এত এগিয়ে যাচ্ছে কীভাবে? র‍্যাংকিংয়ে উন্নয়ন হচ্ছে কীভাবে?’

কুবিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, উপাচার্যকে ‘ডাস্টবিন’ বললেন শিক্ষক সমিতির সম্পাদক

নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

এর আগে, সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক সমিতির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সিলগালাহীন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, বিশেষজ্ঞের অনুপস্থিতি, কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে আনয়ন, ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের অনুপস্থিতি ইত্যাদি অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষায় বাধা দেন। পরে পরীক্ষা পিছিয়ে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল দশটায় শুরু হবার কথা থাকলেও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় সাড়ে দশটায়। তার আগে (সকাল দশটার দিকে) শিক্ষক সমিতির সদস্যরা উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করে এই পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেন।

এরপর সাড়ে দশটায় উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে চলা পরীক্ষার হলে গেলে সেখানে শিক্ষক সমিতির সদস্যরাও প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিয়োগ পরীক্ষা ‘অবৈধ’ ও ‘প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে’ অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুষদের ডিন ও বিভাগটির বিভাগীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে এই পরীক্ষা কোনোভাবে বৈধ নয় বলেও অভিযোগ করেন।

পরীক্ষা বোর্ড কমিটির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান। তারা ছাড়াও দুজন বহিরাগত পরীক্ষকের (এক্সটারনাল) মধ্যে একজন উপস্থিত ছিলেন। কমিটির দুই সদস্য, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারও অনুপস্থিত ছিলেন।

নিয়োগ পরীক্ষায় বাধা দেয়ার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে বাধা নয়, আমরা অবৈধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চেয়েছি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও নীতিমালাবিরোধী। আজকের এই পরীক্ষার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ৷

‘কোনো প্রকার খাম ছাড়াই খোলা প্রশ্ন একজন কমিটির বাইরের লোককে দিয়ে পরীক্ষার হলে নিয়ে আনা হয়েছে।’

নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত না থাকা প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। যেহেতু শিক্ষক সমিতি সাধারণ শিক্ষকদেরই প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন, তাই শিক্ষক সমিতির যে সেন্টিমেন্ট, তার সঙ্গে অন্যান্য সকল সাধারণ শিক্ষকের মতো আমিও একমত। সেজন্য বোর্ডে যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘যদি বিদ্যমান সংকটগুলোর সমাধান করা হয়, তবেই আমি বোর্ডে যাব। আর যতদিন এইসব সমস্যার সমাধান না হবে, আমি বোর্ডে যাব না।’

এই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনকে ফোন করলে তিনি তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন সাংবাদিকদের জানান, ‘শিক্ষক সমিতি প্রশ্নফাঁসের যে অভিযোগ এনেছে, তা পুরোপুরি মিথ্যে ও বানোয়াট।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
DU lecturers are not promoted without 70 marks in training

‘প্রশিক্ষণে ৭০% নম্বর ছাড়া ঢাবি প্রভাষকদের পদোন্নতি নয়’

‘প্রশিক্ষণে ৭০% নম্বর ছাড়া ঢাবি প্রভাষকদের পদোন্নতি নয়’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আ স ম মাসুদ কামাল। ছবি: নিউজবাংলা
উপাচার্য বলেন, যারা আজ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছো, মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ো। কারণ এ দেশের মানুষের টাকায় তোমাদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। একবারই যেন প্রশিক্ষণ শেষ হয়। দ্বিতীয় বার যেন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন শিক্ষকদের প্রভাষক থেকে পরবর্তী পদোন্নতির জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং বাধ্যতামূলক ৭০ শতাংশ নম্বর না পেলে পদোন্নতি দেয়া হবে না। বছরে দুইবার এই প্রশিক্ষণ হবে বলে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রথম বারের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৪দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কমিটি (কিউএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ স ম মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-এর উদ্যোগে শুক্রবার সকালে কুমিল্লা বার্ডের ময়নামতি অডিটরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নবীন শিক্ষকদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, যারা আজ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছো, মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ো। কারণ এ দেশের মানুষের টাকায় তোমাদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। একবারই যেন প্রশিক্ষণ শেষ হয়। দ্বিতীয় বার যেন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য(সংস্কৃতি) প্রফেসর ড.শীতেষ চন্দ্র বাচার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা বার্ডের মহাপরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ সহ অনেকে।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. শবিতা রেজওয়ান রহমান। মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রফেসর ড. হাসিনা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

১৪দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি ডিপার্টমেন্ট থেকে ৫৮ নবীন শিক্ষক অংশ নেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
Four activists of Shabi Chhatra League were expelled from the hall due to the clash

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ফাইল ছবি
তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট স্থপতি কৌশিক সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছে। নিজ নিজ হলের পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো হলেও প্রবেশ করতে পারবে না।

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ও রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাতুল ইসলাম সিফাত, একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র মো. মাহফুজুল আলম, শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল হাসান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবসিক ছাত্র ও বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাকিবুর রহমান।

তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রভোস্ট কৌশিক সাহা বলেন, ‘গত ১৩ মে অন্য হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের ভর্তি হওয়া ছাত্রদেরকে হল থেকে নামিয়ে দিতে চেয়েছিল। এর জেরে হলে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ওইদিন প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনার আমরা প্রাথমিক তদন্ত করি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাকিমকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, শাহপরাণ হলে গত ১৩ মে আনুমানিক রাত ১১টায় কতিপয় শিক্ষার্থীর মধ্যে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ৪ শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

শাহপারণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ মে মধ্যরাতে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের দলীয় তিন কর্মীকে হল থেকে নামিয়ে দিতে যান শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী। তবে শাখাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের অনুসারীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটলে প্রক্টরিয়াল ও প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
MP Anars killing is not a two state issue Foreign Minister

এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাবির সিনেট ভবনে এক সংবাদকর্মী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুতরাং এটি তো দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়।’

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে বুধবার দুপুরে প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কলকাতার নিউটাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেন থেকে বুধবার সকালে এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

এর আগে গত রোববার আনারের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি সংবাদমাধ্যমকে জানান তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবদুর রউফ।

ঢাবির সিনেট ভবনে এক সংবাদকর্মী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কি না।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুতরাং এটি তো দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়।’

এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আনোয়ার সাহেবের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক, মর্মান্তিক এবং অনভিপ্রেত। যেই ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, কলকাতা পুলিশ সেখানে ঢুকেছে, কিন্তু তারা কোনো লাশ পায়নি, তবে হত্যাকাণ্ডের হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘কলকাতা পুলিশও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এটি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সেটি নিয়ে বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মিশনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজ রাখছি। মিশন কলকাতা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যোগাযোগ রাখছে। বিষয়টা তো তদন্তাধীন। তাই এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যচে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুরোটা না দেখে আমি এটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না। প্রথম আমাকে পুরোটা দেখতে হবে। এরপর মন্তব্য করা যাবে।’

সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘উনার (জেনারেল আজিজ) ওপর যে আইনের মাধ্যমে বা যে কারণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, সেটি তো দুর্নীতির কারণে। এটি পারসোনাল দায়, ইনস্টিটিউশনাল কোনো বিষয় নয়।’

আরও পড়ুন:
বাবা হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান আনারকন্যা
কলকাতার বাসায় এমপি আনারকে পরিকল্পিত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতে গিয়ে নিখোঁজ এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে ‘পেইড বাই বিএনপি’ কেউ আছে: হাছান মাহমুদ
আজিজ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা ভিসা নী‌তির অধীনে নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Kubi students are afraid of session jam

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ কুবি, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ কুবি, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা কুবি ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, ‘শেষ বর্ষে এসে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এতে করে মানসিক চাপের সঙ্গ ক্যারিয়ার নিয়েও আছি দুশ্চিন্তা বাড়ছে।’ 

টানা তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা।

গত ৩০ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

তিন সপ্তাহ পর নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, ‘শেষ বর্ষে এসে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এতে করে মানসিক চাপের সঙ্গ ক্যারিয়ার নিয়েও আছি দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমাদের জীবন থেকে যে সময়টুকু চলে যাচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ফিরে পাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন সময় মতো শেষ করতে না পারলে আমরা বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারব না। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষাগুলো দ্রুত নিয়ে নেয়া হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে ৭ দফা দাবিতে পরপর ৩ বার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় কুবি শিক্ষক সমিতি। পরে গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষক সমিতি।

পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয় কুবি প্রশাসন, তবে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া ও শিক্ষকদের মারধরের ঘটনার বিচার দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসন থেকে দুইটি ভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন শিক্ষক সমিতি। ফলে খুব সহসাই ক্যাম্পাস খুলছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত আটটি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। এ ছাড়াও অন্তত সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তাবিত রুটিন প্রকাশ স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘আমাদের মাস্টার্স শেষ সেমিস্টার চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়। দুটি পরীক্ষা হয়েছে আর বাকি দুটি পরীক্ষা কবে হবে তা আমরা জানি না। চাকরির বাজারে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাবেল রানা জানান, গত ৬ মে তাদের অষ্টম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারেননি তারা।

তিনি বলেন, ‘এমনিতে করোনার কারণে আমাদের এক বছরেরও বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। এখন যদি এভাবে আরও সময় অপচয় হতে থাকে, তাহলে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতেই আমাদের বয়স হয়ে যাবে ২৭-২৮।’

এ বিষয় জানতে চাইলে কুবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষকরা আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে দাঁড়িয়ে আছেন। শিক্ষার্থীরাও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার জন্য একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা শুনছেন না।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে আমরা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হলেও পুষিয়ে দেব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা নিরসনে দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আশা করি শিগগিরই ক্যাম্পাস খুলে যাবে। আর খোলার পরে কতদিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল তার ওপর ভিত্তি করে আমরা রিকভারি প্ল্যান করব।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের সঙ্গে মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
পাহাড় কেটে কুবি প্রক্টরের রেস্তোরাঁ!
বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ৫ দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের
কুবির কেন্দ্রে এক টেবিলে ১৮ ভর্তিচ্ছু
বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কাস চলছে: ‍কুবি ছাত্রী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা 

মন্তব্য

শিক্ষা
That Avantika is the third job in the academic examination

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা। ফাইল ছবি
আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা এলএলবির (স্নাতক) ফলাফলে সর্বমোট সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬৫ পেয়েছেন। বিভাগের ব্যাচে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী আম্মান পেয়েছেন ৩.০৯।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অষ্টম সেমিস্টারে ৩.৭৩ পেয়েছেন অবন্তিকা। এর মধ্যে স্পেশাল পেনাল ল’ কোর্সে ৩.৭৫; ল’ অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরে ৩.৫০; কনভিয়েন্সিং, ড্রাফটিং অ্যান্ড ট্রায়াল অ্যাডভোকেসি ট্রেনিংয়ে ৩.৫০; লিগ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং কোর্সে ৩.৭৫; লিবারেশন মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোর্সে ৪.০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেয়েছেন তিনি।

বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

এর আগে ১৬ মার্চ শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে আটক করে পুলিশ। ৮ মে হাইকোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শিক্ষক দ্বীন ইসলাম।

এদিকে নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ছাত্রী কাজী ফারজানা মীমের পরীক্ষা রোববার নেয়া শুরু হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন জানান, রোববার থেকে ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে। ২৩ ও ২৭ তারিখ আরও দুটো পরীক্ষা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবন্তিকার আত্মহনন: জামিন পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম
স্বপ্নজয়ে প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেনি ওরা

মন্তব্য

শিক্ষা
Kubi students want permanent expulsion of Swapneel

স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার চান কুবি শিক্ষার্থীরা

স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার চান কুবি শিক্ষার্থীরা দাবি না মানা পর্যন্ত রোববার সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। দাবিগুলো উপাচার্য স্যারকে জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:) কে নিয়ে কটূক্তি ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার দায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২০-২১ সেশনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্বপ্নীল মুখার্জিকে স্থায়ী বহিষ্কার ও প্রশাসন কর্তৃক মামলা দায়ের এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

দাবি না মানা পর্যন্ত রোববার সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেন তারা। কর্মসূচিতে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বপ্নীল মুখার্জির বহিষ্কার ও মামলার দাবি জানান।

বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল বলেন, ‘আমরা আমাদের পদার্থবিজ্ঞান পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে আমরা আর আমাদের বিভাগে দেখতে চাই না। হয়তো আমরা থাকব, নাহলে স্বপ্নীল থাকবে।

‘আমাদের দাবি হচ্ছে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘স্বপ্নীল এতবড় একটা ঘৃণ্য কাজ করা সত্ত্বেও প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। স্বপ্নীলের বহিষ্কার এবং আইনি কোনো পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার, প্রশাসন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে প্রক্টরের কাছে যান।

এ বিষয়ে প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। দাবিগুলো উপাচার্য স্যারকে জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

গত ১৬ মে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত স্বপ্নীলকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
কুবি উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করে সম্মানী নেয়ার অভিযোগ
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে উপস্থিত ৮৭%
উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে কুবি শিক্ষকদের অবস্থান দ্বিতীয় দিনে
পাহাড় কেটে কুবি প্রক্টরের রেস্তোরাঁ!

মন্তব্য

শিক্ষা
Daily demand of eggs in Sylhet is 29 lakhs production is only 4 lakhs

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াপসা আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ভিসি প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা। ছবি: নিউজবাংলা
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ২৫ লাখ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিদিন হাঁস ও মুরগির ডিমের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ। চাহিদার বিপরীতে সিলেটে মাত্র ৪ লাখ ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে অন্তত ২৫ লাখ ডিম বাইরে থেকে এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

শনিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াপসা বিবি) বিভাগীয় কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি। এতে অন্য কোনো এলার্জেন্স নেই। দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

তারা বলেন, সিলেট অঞ্চলে কর্মক্ষম যুব সমাজকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের পোল্ট্রি শিল্পে নিয়োজিত করতে পারলে এ অঞ্চলে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পোল্ট্রি শিল্পেও কৃষির মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তে আবাসিক বিল প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা বাড়াতে হবে।

সিলেট কৃষি বিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা।

অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় চিফি এপিডেমিউলজিস্ট ডা. আছির উদ্দিন, ওয়াস্টার পোল্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহী, অধ্যাপক ড. এম রাশেদ হাসনাত।

কর্মশালায় জানানো হয়, সিলেট জেলায় সোনালী জাতের মুরগির চাহিদা রয়েছে এক লাখ। অথচ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ হচ্ছে ১০ হাজারের মতো। কর্মশালায় বায়ু নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষী পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত ডিমের দামের বৈষম্য কমানোর তাগিদ দেয়া হয়।

সিলেটে হাওরাঞ্চলে হাঁস পালনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায় বলেও সুপারিশ করেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
আলুর হিমাগারে ছিল ২১ লাখ ডিম, ২৪ হাজার কেজি মিষ্টি
এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স কয়েক শ গুণ বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ সিলেট নগরবাসী
উজানের ঢল আর বৃষ্টিতে গ্রীষ্মেই সিলেটে বন্যার পদধ্বনি

মন্তব্য

p
উপরে