× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
The pass rate in Comilla is 7534 percent girls ahead
google_news print-icon

কুমিল্লায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, এগিয়ে মেয়েরা

কুমিল্লায়-পাসের-হার-৭৫-দশমিক-৩৪-শতাংশ-এগিয়ে-মেয়েরা
কুমিল্লা বোর্ডে শতভাগ পাস করা সোনার বাংলা কলেজে রোববার এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করে এক লাখ ১০ হাজার ৬৫৫ জন। সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৭০ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৫ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত দুই বছরের তুলনায় এবারের পাসে হার কম। ঘোষিত ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে আছে মেয়েরা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জামান রোববার বিকেল ৩টায় এ তথ্য জানান।

ফলাফল শিটের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করে এক লাখ ১০ হাজার ৬৫৫ জন। সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৭০ জন, যা মোট ফলের ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এবারের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৫ জন, যা মোট ফলের ছয় দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ২৪ জন। এ ছাড়া ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ ছিল ১৪ হাজার ১৬২ জন।

এ বছর ৪৬ হাজার ৯৮৫ জন ছেলে ও ৬৩ হাজার ৬৭০ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ১৭৭ জন ছেলে ও ৪৯ হাজার ১৯৩ জন মেয়ে পাস করেছে। জিপি-৫ পেয়েছে দুই হাজার ১৩২ জন ছেলে ও তিন হাজার ৫২৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থী।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
49 candidates per seat started on Saturday in Chabi

চবিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু শনিবার, আসনপ্রতি প্রার্থী ৪৯

চবিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু শনিবার, আসনপ্রতি প্রার্থী ৪৯
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ইউনিট ও দুটি উপ-ইউনিটে চার হাজার ৯২৬টি আসনের জন্য চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী। এবার নিজ ক্যাম্পাস ছাড়াও ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে চবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২ মার্চ শনিবার। এবার চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একযোগে চবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও নজরদারি।

এদিকে ভর্তি ফরম বিক্রির টাকা কোন খাতে ব্যয় হয় প্রশাসন থেকে এর যথাযথ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করলেও সম্মানী (ভাতা) না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৪৯ জন ভর্তিচ্ছু। চারটি ইউনিট ও দুটি উপ-ইউনিটে চার হাজার ৯২৬টি আসনের জন্য চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী।

আইসিটি সেল সূত্রে জানা যায়, ‘এ’ ইউনিটে ১ হাজার ২১৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৯৯ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছুর সংখ্যা ৮২ জন।

‘বি’ ইউনিটে ১ হাজার ২২১টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৬৫ হাজার ২৬৭টি।

এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বেন ৫৪ জন।

‘সি’ ইউনিটে ৬৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০০ জন শিক্ষার্থী। এই ইউনিটে প্রতি আসনে ভর্তির জন্য লড়বেন ২৭ জন।

‘ডি’ ইউনিটে ৯৫৮টি আসনের বিপরীতে ৫৭ হাজার ৮০৪ জন আবেদন করেছেন। সম্মিলিত এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ৬০ জন লড়বেন।

দুটি উপ-ইউনিটের মধ্যে ‘বি-১’ ইউনিটে ১২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১ হাজার ৬৬৯টি। এই উপ-ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়ছেন ১৩ জন।

আর ‘ডি-১’ উপ-ইউনিটে ৩০টি আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৯৯৪ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। অর্থাৎ এই উপ-ইউনিটে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

সম্মানী ছাড়াই দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের

ভর্তি ফরম বিক্রির টাকা কোন খাতে ব্যয় হয় প্রশাসন থেকে এর যথাযথ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করলেও সম্মানী (ভাতা) না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চবি শিক্ষক সমিতি।

বুধবার রাতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হকের সই করা এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির এক সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সংসদে প্রশ্ন ওঠায় চবি শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ভর্তি পরীক্ষা হবে ঢাকা-রাজশাহীতেও

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবার নিজ ক্যাম্পাস ছাড়াও ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিভাগের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিভাগের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস।

সি ইউনিটে পরীক্ষা নতুন নিয়মে

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এবার বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যান্যবার ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও এবার সব বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২০টি, বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২৫৬টি ও মানবিক বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২টি আসন বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৪০, বিশ্লেষণ দক্ষতায় ৩০ ও সমস্যা সমাধান (প্রবলেম সলভিং) অংশে ৩০ নম্বর থাকবে।

পরীক্ষার সময়সূচি

শনিবার ২ মার্চ ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে ভর্তিযুদ্ধ। ৮ মার্চ ‘বি’ ইউনিট, ৯ মার্চ ‘সি’ ইউনিট এবং ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা।

এছাড়া ‘বি-১’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩ মার্চ ও ‘ডি-১’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৪ মার্চ, ‘বি-১’ উপ-ইউনিটের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১২, ১৩ ও ১৪ মার্চ এবং ‘ডি-১’ উপ-ইউনিটের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি

ভর্তি পরীক্ষা বরাবরের মতোই ১২০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০০ নম্বর লিখিত পরীক্ষা (বহু নির্বাচনি) এবং বাকি ২০ নম্বর এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ থেকে যুক্ত হবে। বহু নির্বাচনী পদ্ধতির এই ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।

বিশেষ শাটল ট্রেন

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে এই বিশেষ শাটল সার্ভিস চলবে।

নগরীর বটতলী রেলস্টেশন থেকে যথাক্রমে সকাল ৬টা, সাড়ে ৬টা, ৮টা ১৫ মিনিট, ৮টা ৪০ মিনিট, বেলা ২টা ৫০ মিনিট, ৩টা ৫০ মিনিট ও রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এই বিশেষ শাটল ট্রেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে যথাক্রমে সকাল ৭টা ৫ মিনিট, ৭টা ৩৫ মিনিট, দুপুর ১টা, দুপুর দেড়টা, বিকেল ৪টা, ৫টা, সাড়ে ৫টা ও রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর বটতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ট্রেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সুসম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত শতাধিক সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শাটল ট্রেন চলবে।’

আরও পড়ুন:
ভর্তি পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ শিক্ষকরা জানেন না
চবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ: কঠোর ব্যবস্থা নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত চবি শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত
চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ থামছেই না, এবার পুলিশসহ আহত ১৩
ফের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চবি, আহত ৭

মন্তব্য

শিক্ষা
Books that are selling well at book fairs

মেলায় যেসব বই ভালো বিক্রি হচ্ছে

মেলায় যেসব বই ভালো বিক্রি হচ্ছে
বইমেলায় নবীন ও তরুণ জনপ্রিয় লেখকদের বই বিক্রির শীর্ষে থাকলেও হারিয়ে যাননি কিংবদন্তি লেখকরা। তরুণ জনপ্রিয় লেখকের ভীড়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে তাদের বইও।

নতুন করে দুইদিন সময় না বাড়ানো হলে বৃহস্পতিবারই হতো অমর একুশে বইমেলার শেষদিন। তবে সময় বাড়ানোয় আরও দুদিন চলবে বইমেলা। ইতোমধ্যে সব বই মেলায় চলে এসেছে। ফলে শেষ সময়ে এসে পাঠকরা সহজেই খুঁজে নিতে পারছেন তাদের পছন্দের বই।

বইমেলায় নবীন ও তরুণ জনপ্রিয় লেখকদের বই বিক্রির শীর্ষে থাকলেও হারিয়ে যাননি কিংবদন্তি লেখকরা। তরুণ জনপ্রিয় লেখকের ভীড়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে তাদের বইও।

এবারের বইমেলায় কোন বইগুলো সবচেয়ে ভালো বিক্রি হয়েছে- জানতে চাইলে প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, “সর্বোচ্চ বিক্রিত তিনটি বইয়ের নাম বলতে বললে যে তিনটি বইয়ের নাম আসবে, সেগুলো হলো- আনিসুল হক স্যারের ‘কখনো আমার মাকে’, আসিফ নজরুল স্যারের ‘আমি আবু বকর বলছি’, আনু মোহাম্মদ স্যারের ‘অর্থশাস্ত্র’ বইটি।

“এছাড়া আরও দুইটি বইয়ের নাম বলা যাবে, মহিউদ্দিন আহমেদ স্যারের ‘প্লাবনভূমির মহাকাব্য পলাশী থেকে পাকিস্তান’ এবং জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী স্যারের ‘দুই জেনারেলের হত্যাকাণ্ড’।”

তিনি জানান, ‘দুই জেনারেলের হত্যাকাণ্ড’৭/৮ দিন আগে বইমেলায় এসেছে। এরই মধ্যে তিনবার স্টক আউটও হয়ে গেছে।

অন্বেষা প্রকাশনীর কর্মী আবদুল্লাহ বলেন, “ড. আমিনুল ইসলাম স্যারের ‘১০১ ইনট্রোডাকশন টু বাংলাদেশ’, ইসমত আর প্রিয়ার ‘আমার শুধু মানুষ হারায়’, সুজন দেবনাথের ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’, আরিফুর রহমানের ‘সাউদার্ন ভ্যালি ওয়ে’ আর জুনায়েদ ইসলামের ‘ক্রিমসন অ্যান্ড দ্য রেড ডোর’ সবচেয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

মিজান পাবলিশার্সের বিক্রয়কর্মী ইমন বলেন, “নিমাই ভট্টাচার্যের ‘মেমসাহেব’, ফারজানা ছবির ‘জলছবি’ আর অভিনেত্রী রওনক বিশাখা শ্যামলীর ‘তুমি নয়নতারা’ বইগুলো সবচেয়ে ভালো বিক্রি হয়েছে।”

‘তুমি নয়নতারা’ বইয়ের স্টক শেষ হয়ে যাওয়া এবং মেলা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে হওয়াতে প্রকাশনী নতুন কোনো মুদ্রণে যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

অন্যপ্রকাশ প্রকাশনীর পরিচালক সিরাজুল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সবচেয়ে বিক্রিত বইগুলোর নির্দিষ্ট নাম না বলি। তবে উপন্যাসের কাটতি বেশি। আর কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের বই তো আছেই। এছাড়া সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়মসহ আরও যেসব লেখক ফেসবুকে পজিটিভ লেখালেখি করেন, তাদের বই ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স-এর বিক্রয় প্রতিনিধি শারাফাত লস্কর বলেন, “অরুণ কুমার বিশ্বাসের ‘ব্রাউন পেপার’, দন্ত্যস রওশনের ‘নির্বাচিত কিশোর উপন্যাস’‘, মশিউর রহমান শান্তর ‘ঘোর’, ড. মোহাম্মদ আমীন স্যারের ‘যতিচিহ্নের গতি-প্রকৃতি’, সাগরিকা নাসরিনের ‘আধখানা বসতি তাহার’ এবং আবদুল গাফফার রনির ‘প্যারাডক্স’ বইগুলো আমাদের প্রকাশনী থেকে ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

মাওলা ব্রাদার্সের মারিহা বিনতে আলী বলেন, “আমাদের প্রকাশনীর সব বই ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে আহমদ ছফার ‘যদ্যপি আমার গুরু’, ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’, উপন্যাসসমগ্র, শাহাদুজ্জামানের ‘ক্রাচের কর্ণেল’ ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

ঐতিহ্য প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, “আফতাব হোসেনের ‘বখতিয়ার’, ইফতেখার আমিনের অনুবাদ বই ‘ট্রাভেলস অব ইবনে বতুতা’, সাব্বির জাদিদের ‘আজাদির সন্তান’, মহিউদ্দিন আহমদের ‘চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ’ আর ‘তেহাত্তরের নির্বাচন’ বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই রাখার দাবি

আগামী বছর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে বইমেলা হবে না মর্মে একটি গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

বলা হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তৈরির অংশ হিসেবে কিছু প্রকল্পের কাজ মার্চ মাস থেকেই শুরু করতে চাইছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে পূর্বাচলে নিয়ে যাওয়া হবে বইমেলা।

যদিও মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে প্রকাশকদের দাবি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ থেকে বইমেলা যেন না সরানো হয়। সরানো হলে বইমেলা না হওয়ারই নামান্তর সেটি।

এ বিষয়ে অন্বেষা প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী ফাতিমা বুলবুল বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির অংশ। এর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ পুরো এলাকা জড়িয়ে আছে।

‘শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সবাই বইমেলায় আসে। এখানে বইমেলা হওয়ায় আলাদা একটি আবহ অনুভূত হয়। তাই বইমেলার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প কোনো জায়গা থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বইমেলায় অন্যত্র সরিয়ে নিলে মেলার প্রাণটাই থাকবে না। তার চেয়ে বইমেলা না হওয়াই ভালো। বইমেলাকে তো আর বাণিজ্যমেলার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।’

বইমেলায় কবি সামাদের ‘সিলেক্টে‌ড পোয়ে‌মস’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে দে‌শব‌রেণ‌্য কবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের নতুন বই ‌‘সিলেক্টেড পো‌য়েমস’-এর তৃতীয় সংস্করণ। এবারের মেলায় অনন্য এ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অন্যন্যা প্রকাশনী। উপমহা‌দে‌শের প্রখ‌্যাত চিত্রশিল্পী যো‌গেন চৌধুরীর চিত্রকর্ম অবলম্ব‌নে বইয়ের প্রচ্ছদ অংকন করেছেন খ্যাতিমান শিল্পী ধ্রুব এষ।

দ্বিভাষিক এই কাব‌্য সংকলন‌টি ইং‌রে‌জি ভার্সন নতুন ক‌রে সম্পাদনা ক‌রে‌ছেন যুক্তরা‌ষ্ট্রের বিখ‌্যাত দুই ক‌বি জে‌মি প্রক্টর শু এবং সাইমন জে অর্টিজ। আগের সংস্করণের স‌ঙ্গে তি‌রিশ‌টি নতুন অনুবাদ যুক্ত করা হ‌য়ে‌ছে বর্তমান সংস্কর‌ণে।

কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক সামাদ ২০২৪ সালে একুশে পদক, ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ সামাদ ২০১৭ সাল থেকে পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

২৯তম দিনে ১২৭টি নতুন বই

বইমেলার ২৯তম দিনে নতুন বই এসেছে ১২৭টি।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন, পুঁথিগবেষক জালাল খান ইউসুফী, কথাসাহিত্যিক মাহমুদুন নবী রনি এবং কবি রনি রেজা।

শুক্রবারের কর্মসূচি

শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার ৩০তম দিন। মেলা শুরু হবে সকাল এগারোটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
বইমেলায় ‍দৃষ্টিহীনদের বাতিঘর স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা
জমে উঠেছে শেষ সময়ের বইমেলা
বইমেলা ২ দিন বাড়ল
ক্যাটালগ দেখে ‘পছন্দের’ বই সংগ্রহে বইপ্রেমীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
Madrasa teacher detained again on the charge of Balatkar

ফের বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

ফের বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক আটক বলাৎকারে অভিযুক্ত দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আলহেরা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুই বছর আগেও এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তিনি এই অপকর্ম করতেন বলে সেসময় অভিযোগ পাওয়া যায়।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আলহেরা মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশে মাদ্রাসার ভুক্তভোগী ৬ ছাত্রকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ গোড় গ্ৰামের বাসিন্দা। আলহেরা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আবাসিক ও অনাবসিক- দুই ব্যবস্থাতেই পাঠদান করে আলহেরা মাদ্রাসা। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ পায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা পুলিশকে না জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় অবস্থান নিলে বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার খবরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে রাত ৮টার দিকে মাদ্রাসায় জড়ো হন তারা।

পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বিবেচনায় ৯৯৯ ফোন করে সহযোগিতা চায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দুই বছর আগেও এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তিনি এই অপকর্ম করতেন বলে সেসময় অভিযোগ পাওয়া যায়।

আলহেরা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই প্রধান বলেন, ‘৭/৮ বছর ধরে এখানে শিক্ষকতা করছেন মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার এক অভিভাবক তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনলে, ওইদিনই তাকে জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে বরখাস্ত করা হয়।’

দেবীগঞ্জ থানার ওসি সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীকে বলাৎকার: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
মাদারীপুরে মাদ্রাসার ৪ ছাত্রকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
মাদ্রাসার ছাত্রকে ‘আছাড় মেরে’ মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলার অভিযোগ
পালাতে গিয়ে পাঁচতলার কার্ণিশে আটকা, অতঃপর…

মন্তব্য

শিক্ষা
Garo children received books in their mother tongue

মাতৃভাষায় বই পেল গারো শিশুরা

মাতৃভাষায় বই পেল গারো শিশুরা মাতৃভাষায় বই পেয়ে খুশি গারো শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কেবল তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্তই মাতৃভাষায় পড়তে পারবে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা।

দেশের ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য বই বিতরণ করে আসছে সরকার। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কেবল তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্তই মাতৃভাষায় পড়তে পারবে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা।

এতদিন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, আচিক ও সাদ্রি- এই পাঁচটি ভাষায় বই বিতরণ হলেও প্রথমবারের মতো এবার গারো শিক্ষার্থীদের জন্য আচিক ভাষায় পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। মাতৃভাষায় পাঠ্যবই পেয়ে আনন্দিত সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গারো শিশুরা।

বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত আচিক ভাষার পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মধ্যনগরে ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙালভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঙালভিটা মিশন প্রাইমারি স্কুল, কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাইটাকোনা মিশন প্রাইমারি স্কুল ও ইছামারী মিশন প্রাইমারি স্কুল- এই পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত গারো শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৪ জন গারো শিক্ষার্থীর মধ্যে আচিক ভাষার পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

মাতৃভাষায় বই পেল গারো শিশুরা

কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তূর্ণা মানকিন বলেন, ‘আজকে শিক্ষার্থীদের মাঝে আচিক ভাষায় প্রণীত বই বিতরণ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। মনে নতুন আলোর সঞ্চার হলো। আমরা আমাদের অর্থাৎ গারো আদিবাসীর অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার একটা উপায় পেয়েছি।’

এতে আচিক ভাষার শুদ্ধ ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধারণা লাভ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

বাঙালভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়ূস দাজেল বলেন, ‘আমি নিজেও একজন গারো। দেরিতে হলেও এই প্রথম শিশুদের হাতে মাতৃভাষায় সরকারি পাঠ্যবই তুলে দিতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।’

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় গারোদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীর গারো শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আমার নিজ খরচে জেলা শহর থেকে এসব বই এনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেছি।’

আরও পড়ুন:
পাঠ্যবইয়ে ‘শরীফার গল্প’ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে সংশোধন হবে
মৌলভীবাজারে মণিপুরী গারো ও খাসিয়াদের উৎসব, চলছে প্রস্তুতি
পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি দেখভালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটি
পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদের দায় স্বীকার জাফর ইকবাল ও হাসিনা খানের
পাঠ্য বইয়ে একের পর এক ভুল

মন্তব্য

শিক্ষা
The teacher cut the girls hair for not wearing hijab

হিজাব না পরায় ছাত্রীদের চুল কেটে দিলেন শিক্ষিকা

হিজাব না পরায় ছাত্রীদের চুল কেটে দিলেন শিক্ষিকা প্রতীকী ছবি
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি, হিজাব না পরার জন্য শিক্ষিকা কাঁচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। হয়ত তিনি শিক্ষার্থীদের সামান্য চুলও কেটেছেন।’

মুন্সীগঞ্জের হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ রুনিয়া সরকার নামে এক জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকা ছয় শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেলে সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর আবদুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ রাত ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে এ খবর নিশ্চিত করেন।

ইউএনও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা রাত ৯টার দিকে জানতে পারি। ঘটনা শুনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ওই শিক্ষক এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, আমরা তাদেরও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জন্য রিপোর্ট করব।’

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি, হিজাব না পরার জন্য শিক্ষিকা কাঁচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। হয়ত তিনি শিক্ষার্থীদের সামান্য চুলও কেটেছেন। আমি আসলে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। ঘটনাটি বিকেলে ঘটেছে এবং স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় আমি সময়মতো ঘটনাটি জানতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তারপরও আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শাসন করায় ছাত্র-অভিভাবকদের হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ৫
শিক্ষাসফরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপান, ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লায় এক শিক্ষকের ভালোবাসায় সিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
5 were injured including the headmaster in the attack of students and parents due to discipline

শাসন করায় ছাত্র-অভিভাবকদের হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ৫

শাসন করায় ছাত্র-অভিভাবকদের হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ৫ হামলায় আহত প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ছবি: নিউজবাংলা
জানা গেছে, দশম শ্রেণীর ছাত্র পিতাশ হালদার স্কুল ড্রেস না পরে বিদ্যালয়ে এলে প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেন। এর জের ধরে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্র ও তার অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক বিকাশ বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিদ্যালয়টির আরও চার শিক্ষক-কর্মচারীকে মারধর করা হয়।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ছাত্রকে শাসন করায় বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস নামে এক শিক্ষককে মারধর করেছে ওই ছাত্র ও তার অভিভাবকরা। এ সময় হামলাকারীদের থামাতে গিয়ে অপর এক শিক্ষক ও ৩ কর্মচারী আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস হিজলবাড়ি বিনয় কৃষ্ণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, দশম শ্রেণীর ছাত্র পিতাশ হালদার স্কুল ড্রেস না পরে বিদ্যালয়ে এলে প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে পিতাশ হালদার বিদ্যালয় ত্যাগ করে বাড়িতে চলে যায়। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ছাত্র পিতাশ ও তার অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক বিকাশ বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকেও মারধর করে।

গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ শিক্ষক উত্তম অধিকারী, ল্যাব অপারেটর সুদেপ অধিকারী, কর্মচারী জয় সেন ও বুলেট দত্তকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ছাত্র ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

বিদ্যালয়টির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক স্বপন রায় বলেন, ‘একজন প্রধান শিক্ষক ছাত্রকে শাসন করায় এভাবে মারধরের শিকার হলেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

এ বিষয়ে ছাত্র পিতাশ হালদারের পিতা পঙ্কশ হালদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত। পিতাশের পিতা হিসেবে আমি সব শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ আহত অন্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোটালীপাড়া থানার ওসি মুহাম্মদ ফিরোজ আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য

শিক্ষা
Book lovers collect their favorite books by looking at the catalogue

ক্যাটালগ দেখে ‘পছন্দের’ বই সংগ্রহে বইপ্রেমীরা

ক্যাটালগ দেখে ‘পছন্দের’ বই সংগ্রহে বইপ্রেমীরা ছবি: নিউজবাংলা
মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী আজকের দিনের পর আর মাত্র তিন দিন আছে প্রাণের মেলার সময়। তিন দিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপী চলা বইয়ের এ উৎসব। তবে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দিন বইয়ের মেলা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। তবে সেই দুই দিন সময় না বাড়ানো হলে আপাতত দৃষ্টিতে বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারিই শেষ হচ্ছে।

তাই মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারও শেষ দিকে বেড়েছে বই বিক্রি। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, সাহিত্যপ্রেমীরা মেলার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তালিকা সংগ্রহ করে শেষ দিকে এসে বই কেনা শুরু করেন। এরই মধ্যে মেলা থেকে তাদের ব্যাগ ভর্তি করে বই কিনতে দেখা গেছে।

বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন নিজের পছন্দ করা বইয়ের তালিকা ধরে ধরে। মেলায় প্রকাশনী স্টলগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই তালিকা ধরে বই কিনতে আসছেন মেলায়। এক প্রকাশনী থেকে বই সংগ্রহ শেষে ছুটছেন অন্য প্রকাশনীতে। তাদের অনেকেই পছন্দের তালিকার বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই দেখেশুনে বই কিনতে দেখা গেছে।

মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে ক্যাটালগ দেখে এতদিন নতুন বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারা। মেলা শেষপর্যায়ে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই চলে এসেছে। ফলে এখন আর শুধু দেখা নয়, এবার তারা পছন্দের বইগুলো কেনা শুরু করেছেন তারা।

আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, পার্ল, ইউসিবিএল, কথাপ্রকাশ, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও দেখা গেছে তালিকা ধরে ধরে পাঠ করা বই কিনছেন।

আজ বইমেলায় ছিল ছুটির দিন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি এ ছুটির দিনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে বইয়ের বেচাকেনাও হয়েছে বেশ। এতে একদিকে প্রকাশকদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি পাঠকদের কাছে নিজের বইটি তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট লেখকরাও।

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা আদিবা জাহান নওমি বলেন, ‘এবারের বইমেলায় শুরুর দিকে একবার এসে ঘুরে গেছি। তখন প্রকাশনীগুলো থেকে তাদের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলাম। বাসা থেকে এবার পছন্দ করা বইগুলোর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। এখন ক্যাটালগ থেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনেছি। বেশ কিছু বই কেনা বাকি রয়েছে। শেষ দিন হয়ত আবার আসা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর ঐশী বলেন, বইমেলা তো হলের পাশেই যখন ইচ্ছে হয় যাওয়া যায়। তবে মেলার শুরুর দিকে দুয়েকটি বই কিনছিলাম। আর এখন পছন্দের তালিকা থেকে বই কিনতে এসেছি। মেলা থেকে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি বই কিনবেন বলেও জানান তিনি।

বইমেলা থেকে বড় মেয়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই বইটি কিনেছেন ঢাকা জজ কোর্টের সাংবাদিক হীরক পাশা। তিনি জানান, নিজের পছন্দের বিষয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বেশ কিছু বই কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে আবরার ও ছোট মেয়ে আরিফা কিনেছে যথাক্রমে ধর্মীয় বই, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প ও ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, মেলার শেষ দিকে প্রচুর পাঠক এখন তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বই ক্রয়ের দিক থেকে পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে।

বেচাকেনার হালচাল নিয়ে মৃদুল প্রকাশনীর প্রকাশক এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন মেলার অন্তিম সময় চলছে। বলা চলে বই বিক্রির মোক্ষম সময় এখনই। আমরা পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই বিক্রি করছি। পরিবারের সবাই এমনকি বইপ্রেমীরা বুক লিস্ট ধরে ধরে এখন বই কিনছেন।

বইয়ের চাকচিক্য ও অধিক মূল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজের মূল্য তো অত্যধিক। তা ছাড়া কাগজের ওপর শুল্কও কমানো হচ্ছে না। বই লেখা, ছাপানো, মুদ্রণ খরচ কিন্তু কম নয়। আর চাকচিক্যের যে বিষয়টি বলছেন সেটি আসলে বই বিক্রির একটি পন্থাও বটে। কাগজ মানসম্মত না হলে অনেক পাঠক বই কিনতেও চায় না।

বইমেলার ২৬তম দিন সোমবার মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিনে নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় এদিন মানুষের ঢল নামে। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ: আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল ও কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান ও আনিস মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি ইউসুফ রেজা, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান এবং কথাসাহিত্যিক মোস্তফা তারিকুল আহসান।

বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫টায় সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব পুরোহিত, তারেক রেজা, জাহিদ সোহাগ, আফরোজা সোমা, আহমেদ শিপলু, রাদ আহমদ এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন ফারহান ইশরাক ও খালিদ মারুফ।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, শামীম রেজা, রহিম শাহ, নভেরা হোসেন এবং ইমরান পরশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ম ম জুয়েল, আরিফ হাসান, আলম আরা জুঁই, খোদেজা বেগম। এ ছাড়া ছিল জয়দুল হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’, মুশতাক আহমেদ লিটনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং শাহিনুর আল-আমীনের পরিচালনায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি বন্ধন’-এর পরিবেশনা।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪

২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস: বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলো ফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট), বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে।

আগামীকালকের বইমেলা

বইমেলার ২৭তম দিন মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সেলিম আল দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুৎফর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রশীদ হারুন ও জাহিদ রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।

আরও পড়ুন:
প্রাণের বইমেলায় বিদায়ের সুর

মন্তব্য

p
উপরে