× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Two students expelled for ragging incident in Habiprabi warning to 21 people
google_news print-icon

হাবিপ্রবিতে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দুই ছাত্র বহিষ্কার, ২৩ জনকে সতর্কবার্তা

হাবিপ্রবিতে-র‌্যাগিংয়ের-ঘটনায়-দুই-ছাত্র-বহিষ্কার-২৩-জনকে-সতর্কবার্তা-
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
হাবিপ্রবির প্রক্টর মামুনুর রশিদ বলেন, ‘র‌্যাগিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অপসংস্কৃতির সঙ্গে যারা যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ছাত্রকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এক সেমিস্টার করে বহিষ্কার ও আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ২৩ ছাত্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

হাবিপ্রবির আলাদা দুটি বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ বিষয়টি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কার হওয়া দুই ছাত্র হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের ছাত্র রাকিবুল হুদা তাজমুল ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সতর্কবার্তা পাওয়া ছাত্ররা হলেন কৃষি অনুষদের একই ব্যাচের দুই ছাত্র এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২২ ব্যাচের ২১ ছাত্র।

হাবিপ্রবির একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন অনুপম ছাত্রাবাসে র‌্যাগিং হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল টিম। ঘটনাস্থলে কৃষি অনুষদের ২৩ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পান তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি র‌্যাগিং প্রতিরোধ মূল কমিটির সভায় উত্থাপিত হলে ২২ ব্যাচের ওই দুই ছাত্র র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকায় শাস্তির সুপারিশ করে কমিটি। সেই সঙ্গে আরও দুই ছাত্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে প্রশাসন।

অপর আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ড. এম এ ওয়াজেদ ভবনের পঞ্চম তলায় ৫৪৩ নম্বর রুমে ২৩ ব্যাচের সংঘঠিত র‌্যাগিংয়ের ঘটনার বিশদভাবে পর্যালোচনা পূর্বক অভিযোগ সর্বসম্মতিক্রমে প্রমাণিত হওয়ায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং প্রতিরোধ ও প্রতিকার নীতিমালা-২০২১ এর ০৬ ধারা অনুযায়ী মূল কমিটি শাস্তির সুপারিশ করে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং প্রতিরোধ ও প্রতিকার নীতিমালা-২০২১ এর ০৬ ধারা অনুযায়ী মূল কমিটি শাস্তির সুপারিশ করায় ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২২ ব্যাচের ২১ ছাত্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর মামুনুর রশিদ বলেন, ‘র‌্যাগিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অপসংস্কৃতির সঙ্গে যারা যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
১০ দাবি মানার আশ্বাসে হাবিপ্রবির উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে সরলেন শিক্ষার্থীরা   
হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪০   
খাদ্যাভাবে বিপাকে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
ঋণের চক্রবৃদ্ধির জালে হাবিপ্রবির ৪ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী
হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ: তদন্তে কমিটি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The attempt to demolish the 200 year old school building and construct a multi storey building

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযাগ

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযাগ ভবনটি ১৮৪৮ সালে নির্মান করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধীনস্থ একটি স্কুলের প্রায় পৌনে দুই শ বছরের পুরোনো ভবনের একটি অংশ ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

জবির পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দীর্ঘসময় ধরে এ বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১৮৪৮ সালে নির্মিত পুরোনো ঐতিহাসিক ভবনটি ভাঙায় এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযাগ

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভবনটি প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পুরোনো ভবনটির পশ্চিম পাশের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জবি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে তোলা হয়েছে বহুতল ভবনটি। এতে একদিকে যেমন বেদখল গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়েছে ঐতিহাসিক এই ভবনটিও। একটি অংশ ভেঙে ফেলায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুতল ভবনটি নির্মাণ করেছেন দুলাল নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ স্কুলের জায়গা দখল করলেও তা নিজের জমি বলে দাবি করেছেন তিনি। এই কাজে তাকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা মানা হয়নি। নেয়া হয়নি রাজউকের অনুমতিও। মানা হয়নি ভবন নির্মাণের নিয়মকানুনও। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। পুরোনো দেয়ালের ওপরেই ইটের গাঁথুনি তোলা হয়েছে দ্বিতল এই ভবনের দেয়াল। দ্রুত সময়ে তুলে ফেলা হয়েছে বহুতল ভবন। কাজ হয়েছে রাতের অন্ধকারে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেনি পোগোজ স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষও।

অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলটির একটি চক্র মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দখলদারদের এই বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেছে।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এতদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চলেছে। অথচ স্কুলের কেউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। শুরুর দিকে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যেত। এখানে বড় আকারের আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারা কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে।’

এদিকে পুরোনো ভবনটির একটি অংশ ভেঙে ফেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা শারমিন বৃষ্টি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দখলদাররা বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেলছে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা জানে না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা দুলাল নামের ওই ব্যক্তিকে বারবার বলার পরেও তিনি আমাদের কথা শোনেননি। দাবি করেছেন এটা তার নিজের জমি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।’

দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও এতদিন কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ভুল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত না জানানো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবীর চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনার পর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কেন তারা আমাদের আগে জানায়নি সেটিও জানতে চেয়েছি। এখন এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শতবর্ষী পুরোনো একটি ঐতিহাসিক ভবন তারা ভেঙেছে এর জন্যও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক
জবির প্রক্টরিয়াল বডিতে নতুন দুই মুখ
জবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর
ইউজিসির ইনোভেশন শোকেসিংয়ে চ্যাম্পিয়ন জবি
বইমেলায় জবি প্রকাশিত তিন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপাচার্যের

মন্তব্য

শিক্ষা
Allegation of attempted murder of EB student for sitting in bus

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’ তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার সময় বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাহেদ।

অভিযুক্তরা হলেন- উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রতন রায় ও রিহাব রেদোওয়ান। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া শহরে যাওয়ার জন্য দুপুর তিনটার বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী। তিনি একটা সিটে বসা ছিলেন, যার পাশের সিটে বসা ছিলেন অভিযুক্ত রতন রায়।

কিছুক্ষণ পরে রতন নিচে গিয়ে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে পুনারায় সিটে বসতে আসেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে পাশের সিটে সরে যেতে বললে তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রতন আবু জাহেদের গলা টিপে ধরেন এবং তাকে সহযোগিতা করা রিহাব চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেন। তখন ভুক্তভোগী চিল্লাপাল্লা শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেন তারা।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’

তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

তিনি বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি তার গলা টিপে বা চোখ আঙ্গুল দেয়া হতো, তাহলে সেগুলোর চিহ্ন থাকার কথা।

‘আমি দুই প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষরিত এক পাল্টা অভিযোগপত্র দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের কর্মী, সেটা বড় কথা নয়, বরং সর্বপ্রথম আমি শিক্ষার্থী। আমি কেন ছাত্রলীগের আশ্রয় কোনোকিছু করতে যাবো? এসবের কোনো ভিত্তি নেই।’

অভিযোগ অস্বীকার করেন অপর অভিযুক্ত রিহাব রেদোওয়ানও। তিনি বলেন, ‘মূলত বাসের পেছনের সিটে দুইটি মেয়ে বসা ছিল। সে (ভুক্তভোগী) দুজনের মাঝখানে বসা ছিল। তাই আমরা তাকে ওপাশে সরে বসতে বলেছিলাম।

‘একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে চলে যাবে ভেবে আমি তাকে একটু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেলাম। তখন সে তার বড় ভাই মজুমদারকে কল দিয়ে আনে। তিনি এসে আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।’

ভুক্তভোগী আবু জাহেদ বলেন, ‘উনারা বাসে উঠে আমাকে সরে যেতে বললে আমি অস্বীকৃতি জানাই। একপর্যায়ে তারা আমার গলাটিপে ধরেন, চোখ-মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আমাকে শ্বাসরোধ অবস্থায় রাখেন। আর ৫ সেকেন্ড ধরে রাখলে মরে যেতাম। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আশপাশে লোক ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশেপাশে লোক ছিল, কিন্তু কেউ সহায়তা করতে আসেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথায়, কী অভিযোগ হয়েছে, শুনিনি। এরকম অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে এবং ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ছাত্রলীগ অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য

শিক্ষা
Chhatra League accused the police of taking and selling shops for free
বইমেলা

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ
বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, হাত খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানা পুলিশ দুইটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তিকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো ছাত্রলীগ, কালী মন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও শাহবাগ থানা পুলিশ। এর মধ্যে শুধু শাহবাগ থানা পুলিশই দুটি দোকান বরাদ্দ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয় মেহেদী হাসানের নামে। কালী মন্দিরকে দেয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালী মন্দিরের নামে। ডিএমপিকে দেয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে। আর শাহবাগ থানাকে দেয়া ২০ ও ২১ নম্বর দোকানটি শাহবাগ থানার নামেই বরাদ্দ হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল নামের একজন। তিনি দোকানটি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে। আর শাহবাগ থানা পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলো পরিচালনা করছেন বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দোকান কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহিন ও সাব্বির টাকার অঙ্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন।

এত টাকায় দোকান কিনে নেয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত খাবারের স্টলগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিই, তবে শাহবাগ থানা পুলিশের স্টল দুইটা তারা আমাদের সাথে কথা বলে নিজেদের মতো করে বাড়িয়ে নিয়েছে।’

হাসান কবীর বলেন, ‘অন্য স্টলগুলো থেকে পুলিশের স্টল দুইটা একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছে, এটা স্বীকার করতে আমাদের অসুবিধা নেই। বাস্তবতাও আসলে তাই। তারা প্রতিবার একটু অন্যরকমভাবেই এসব স্টল নেয়।’

শাহবাগ থানা পুলিশকে বিনা মূল্যে দুইটি খাবার দোকান বরাদ্দের বিষয়ে ড. কবীর বলেন, “প্রতিবার তাদের একটা দেয়া হয়। এবার খরচ বেশি হচ্ছে বলে দুইটা নিয়েছে, তবে তাদের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই।

“তারা (পুলিশ) আমাদের বলেছে, ‘মেলায় পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং সেখানে আসা পুলিশ অফিসারদের আপ্যায়নের জন্য তারা তেমন কোনো বরাদ্দ পান না। আর এবার তাদের খরচ নাকি একটু বেড়ে গেছে। তাই আমরা যেন তাদের দুইটা খাবারের স্টল দিই।’ এ জন্য আমরা দিয়েছি। এরপর সেটা বিক্রি করে যেই টাকা পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে তাদের এসব খরচ চালানো হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তারা।”

মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাকি সংস্থাগুলোও যদি এভাবে বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ চায় তাদের দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বা অন্য সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফোর্স তো বেশি থাকে পুলিশের। তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। তাই তাদের এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

‘বাকিদেরও যদি এই সুবিধা দিতে হয়, তাহলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না। সবাইকে দিতে দিতেই তো সব শেষ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নিইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

‘শয়ন ও সাদ্দাম জানেন’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাব রক্ষণ ও বাজেট উপবিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে এই দোকান দেয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে; সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেয়া হয়েছিল। এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেয়া হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি বলে আমাকেও একটা স্টল দাও, তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুইজনের সাথেই কথা বলে শুধুমাত্র একটা দোকান দেয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, ‘দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তো তাদেরকে সমীহ করতে হবে না? তাদেরকে আমরা অনেক কিছু দিইনি।

‘সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্টল দিয়েছি। না হয় অনেক গ্রুপকে দিতে হতো।’

হাসান কবীর বলেন, “তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন, আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব।’ তাদেরকে এও বলেছি, ‘আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে।’ তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘কেউই আসবে না। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’”

এগুলো (বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা) ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ঠিক না। এগুলো ভুল।’

ছাত্রলীগের ভাষ্য

খাবারের স্টল নেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল ‘মাতৃভূমি প্রকাশনা’ স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায়, এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সাথে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নিইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না, তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবির শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

ছাত্রলীগের নামে খাবারের স্টল বরাদ্দ নেয়া বিব্রত করছে কি না জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘অবশ্যই এটি আমাকে বিব্রত করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবে।

‘সেখানে আমরা দোকানদারি করতে যাব কেন? এটি তো আমাদের কাজ না। যারা এসব করছে, তারা সংগঠনের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ে জড়িত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতাহাতি
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

শিক্ষা
36 people will compete for each seat in the admission test of DUs business education unit

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি পরীক্ষার্থী ৩৬

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি পরীক্ষার্থী ৩৬ ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় এ ইউনিটের পরীক্ষা, যার আগের নাম ‘গ’ ইউনিট।

ভর্তি পরীক্ষা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এ ইউনিটে মোট আসন এক হাজার ৫০টি।

এ ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৫টি, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫টি এবং বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৩০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

ইউনিটের মোট আসনের বিপরীতে ৩৭ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। যদি আবেদন করা সবাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, তাহলে প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়তে হবে ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় চারটি ইউনিটে আসন পাঁচ হাজার ৯৬৫টি। এসব আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

ইউনিটের সংখ্যা ও নাম পরিবর্তনের আগে পাঁচ ইউনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু গত বছর থেকে শুধু চারটি ইউনিটেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভর্তি পরীক্ষা। বাদ দেয়া হয়েছে আগের ‘ঘ’ ইউনিট। গত বছর ইউনিটগুলোর নামও পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইউনিটের সংখ্যা ও নাম পরিবর্তন

আগের ‘ক’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিজ্ঞান ইউনিট, ‘খ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট। এ ছাড়া ‘গ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট এবং ‘চ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে চারুকলা ইউনিট করা হয়েছে।

নম্বর বণ্টন

প্রতি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা। এর মধ্যে চারুকলা ইউনিট ছাড়া বাকি সব ইউনিটে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। শুধু চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা ছিল।

এই ইউনিটে (চারুকলা) বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট ও অংকন পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় থাকবে। আর অন্যান্য ইউনিটের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় থাকবে।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং এসএসসি ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন:
দাখিল পরীক্ষায় প্রক্সির অভিযোগ, কেন্দ্র সচিবসহ ৫৯ পরীক্ষার্থী আটক
শহীদ মিনারে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ২১টি পুস্পস্তবকের দুর্লভ ছবির প্রদর্শনী
মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ মাস পর পূর্ণাঙ্গ হলো ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি
এসএসসির প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৯৩৫৯, বহিষ্কার ২৫
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ

মন্তব্য

শিক্ষা
DU admission war starts on Friday

ঢাবিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু

ঢাবিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি
বেলা ১১টা থেকে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে শুরু হয় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা। চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এবারের ভর্তিযুদ্ধ।

ইউনিটটির আগের নাম ‘খ’ ইউনিট। সম্প্রতি প্রতিটি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করেছে ঢাবি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে শুরু হয় এ ইউনিটের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

আসন, আবেদনকারী ও কেন্দ্র

ইউনিটটিতে আসনের সংখ্যা দুই হাজার ৯৩৪টি। এর বিপরীতে ১ লাখ ২২ হাজার ২৭৯ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। যদি আবেদন করা সবাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়, তখন প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়তে হবে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাকা বিভাগের পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুলনা বিভাগের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সিলেট বিভাগের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, রংপুর বিভাগের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, বরিশাল বিভাগের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ময়মনসিংহ বিভাগের পরীক্ষা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ বছর ৮০টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় চারটি ইউনিটে আসনসংখ্যা ৫ হাজার ৯৬৫টি। এসব আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

ইউনিটের সংখ্যা ও নাম পরিবর্তন

আগে পাঁচ ইউনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও গত বছর থেকে শুধু চারটি ইউনিটেই হচ্ছে এ পরীক্ষা। বাদ দেয়া হয়েছে আগের ‘ঘ’ ইউনিট।

গত বছর ইউনিটগুলোর নামও পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আগের ‘ক’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিজ্ঞান ইউনিট। ‘খ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, ‘গ’ ইউনিটের নাম বদলে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট এবং ‘চ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে চারুকলা ইউনিট করা হয়েছে।

নম্বর বণ্টন

প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা। এর মধ্যে চারুকলা ইউনিট ছাড়া বাকি সব ইউনিটে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। শুধু চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা ছিল। এই ইউনিটে (চারুকলা) বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট ও অংকন পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় থাকবে।

আর অন্যান্য ইউনিটের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় থাকবে।

ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং এসএসসি বা সমমান ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, ১ মার্চ বিজ্ঞান ইউনিট এবং ৯ মার্চ চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ মাস পর পূর্ণাঙ্গ হলো ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি
এসএসসির প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৯৩৫৯, বহিষ্কার ২৫
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: বাধ্যতামূলক ছুটিতে ঢাবি অধ্যাপক জুনাইদ
সৈয়দপুরের এক কলেজ থেকে মেডিক্যালে সুযোগ ৫১ শিক্ষার্থীর

মন্তব্য

শিক্ষা
University cannot be considered in fragmented phase
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না

খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা
ইউজিসির সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মান রক্ষার দায়িত্ব এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।

কোনো খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না জানিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যখন সৃষ্টি হয় তখন তার জ্ঞানের কোনো পরিসীমা থাকবে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের যে প্রান্তেই সৃষ্টি হোক না কেন, তার কাজ হচ্ছে জ্ঞানের প্রজ্বলন করা, জ্ঞান সৃষ্টি করা। মানবতার উন্নয়ন ঘটিয়ে অনেক উচ্চস্তরের সমাজ গড়ে তোলা।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মান রক্ষার দায়িত্ব এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।

‘সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একদিন নিজেকে নিয়ে যাবে ঈর্ষান্বিত পর্যায়ে, যাতে আমরা গর্ব করে বিশ্ববাসীকে বলতে পারি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।’

খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না

ববি উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জিহাদুল কবির।

অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ববি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ, গ্রেড ১১-১৬ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন এবং গ্রেড ১৭-২০ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আরিফ সিকদার।

রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিচালক, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থীবৃন্দ, দপ্তরপ্রধান, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না

এর আগে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও উপাচার্য বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও উপাচার্যসহ অন্যান্যরা।

দিবসটি উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৪ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এদিন সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-১-এর নিচতলা অনুষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি।

মন্তব্য

শিক্ষা
DU student arrested while distributing Hizbut Tahrir leaflets at Jabi

জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক

জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক আটক অনিক খন্দকার। ছবি: নিউজবাংলা
কোতোয়ালি থানাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই হাসান মাতুব্বর জানান, পালিয়ে যাওয়া হিযবুত তাহরীর অপর দুই সদস্য মুসাইব ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আটক অনিক খন্দকারকে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের এক সদস্যকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে আটক করা হয়েছে।

জবি ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে লিফলেট ও চিঠি বিতরণের সময় এক শিক্ষকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক অনিক খন্দকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র।

জবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে লিফলেট বিতরণের সময় তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করবেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের রুমে দরজার নিচে দিয়ে কিছু ছেলে চিঠি দিচ্ছিল। এটা দেখতে পারেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিরাজ হোসেন। ওই সময় তিনি কথা বলতে গেলে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকের তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনকে আটক করা হয়।’

তিনি জানান, আটক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার বিরোধী লিফলেট, স্টিকার, তাদের সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত চিঠি, একটি মোবাইল, ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতা নিয়ে লেখা একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে।

হিজবুল তাহরীর সদস্যকে আটক করা শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিরাজ হোসেন জানান, দরজা খুলে তিনজনকে দেখতে পান তিনি, এর মধ্যে একজনকে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেয়া হয়।

কোতোয়ালি থানাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই হাসান মাতুব্বর জানান, পালিয়ে যাওয়া হিযবুত তাহরীর অপর দুই সদস্য মুসাইব ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আটক অনিক খন্দকারকে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জবির দুই অনুষদে নতুন ডিন
শিক্ষার্থীদের মেধা-অবৈতনিক বৃত্তি দেবে জবি
জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে এক মামলায় অব্যাহতি
পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা সরানোর দাবি জবি উপাচার্যের
গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জবিশিসের ১০ প্রস্তাব

মন্তব্য

p
উপরে