× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Talpatar Pathshala An 18 year journey with various problems in mind
google_news print-icon

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

তালপাতার-পাঠশালা-নানা-সমস্যা-মাথায়-নিয়ে-১৮-বছরের-পথচলা
আঠারো বছর ধরে তালপাতায় হাতেখড়ি হচ্ছে শিশুদের। ছবি: নিউজবাংলা
পাঠশালাটিতে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও জলাবদ্ধতাসহ রয়েছে নানা সমস্যা। সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

একটা সময় ছিল যখন দোয়াতের কালি আর তালপাতায় শিক্ষা জীবন শুরু করত শিশুরা। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে সেই ব্যবস্থা। তবে নতুন করে সেই শিক্ষা ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বাগেরহাটের চিতলমারীর ‘শিশু শিক্ষা নিকেতন’ নামের একটি পাঠশালা।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলতে থাকা এ পাঠশালা থেকেই শিক্ষা জীবন শুরু করছে অসংখ্য কোমলমতি শিশু।

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

সরোজমিনে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রতন্ত গ্রাম দক্ষিণ ডুমুরিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, এই গ্রামে ১৮ বছর ধরে ‘শিশু শিক্ষা নিকেতন’ নামের একটি পাঠশালা চালাচ্ছেন ৭৫ বছর বয়েসী পণ্ডিত কালীপদ বাছাড় নামের এক বৃদ্ধ। স্থানীয়দের সহায়তায় চলা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা মিলল দোয়াত-কালি আর তালপাতার। এখানকার শিশুরা দোয়াতের কালি আর বাঁশের কঞ্চির কলম দিয়ে তালপাতায় লিখে শুরু করছে তাদের শিক্ষা জীবন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্প মনে হলেও পাঠশালায় অন্তত অর্ধশত শিশু তালপাতায় অক্ষর জ্ঞান চর্চার দেখা মিলে।

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

পাঠশালার শিক্ষক পণ্ডিত কালীপদ বাছাড় বলেন, ‘তালপাতায় অক্ষর চর্চায় হাতের লেখা ভালো হয়। এই পাঠশালা থেকে শিশুরা প্রথম অক্ষর জ্ঞান লাভ করে। তারা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, বানান, যুক্তাক্ষর, শতকিয়া, নামতা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করে এখান থেকে। এই পাঠশালা থেকে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।’

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

তবে পাঠশালাটিতে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও জলাবদ্ধতাসহ রয়েছে নানা সমস্যা। সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় অভিভাবক লক্ষ্মী রানী বলেন, ‘আমাদের পাঠশালার শিক্ষক কালীপদ বাছাড় শিশুদের খুব ভালো পড়ান। তিনি হাতে ধরে শিশুদের তালপাতার লেখা শেখান। এ কারণে আশপাশের প্রায় ৫টি গ্রামের ৫০টি শিশু এই পাঠশালায় পড়াশোনা করে। ভালো পড়াশোনার কারণে আমারাও আগ্রহ নিয়ে শিশুদের এই পাঠশালায় ভর্তি করি।’

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

তিনি জানান, প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে মাত্র ১৫০ টাকা নেন শিক্ষক কালীপদ বাছাড়। যা দিয়ে তালপাতা ও দোয়াত কালি পাঠশালাটির বিভিন্ন উপকরণ ক্রয় করা হয়।

আরেক অভিভাবক শীল্পা রানী মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এই পাঠশালাটি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে খুব কষ্ট হয় শিশুদের। এছাড়া কোনো খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। দুপুরে নদীতে জোয়ার এলে পাঠশালার মাঠটি পানিতে তলিয়ে যায়, তখন কাদাপানি পার হয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে হয়। আমরা অভিভাবকরা জলাবদ্ধতাসহ পাঠশালাটির সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।’

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

স্থানীয় বাসিন্দা ভজন মণ্ডল ও নিলয় ঢালী বলেন, ‘স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া দক্ষিণপাড়া শিশু শিক্ষা নিকেতন নামের এই পাঠশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। বর্তমানে পাঠশালাটিতে বিদ্যুৎ না থাকা ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আমরা পাঠশালাটি দেখাশোনার পাশাপাশি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠশালাটির সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

তালপাতার পাঠশালা: নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে ১৮ বছরের পথচলা

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, ‘চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া দক্ষিণপাড়া নামের একটি পাঠশালা রয়েছে। পাঠশালাটিতে এখনও সেই পুরাতন আমলের তালপাতার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যেটা আমাদের পুরাতন শিক্ষা ব্যবস্থা ইতিহাস-ঐতিহ্য কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি পাঠশালাটিতে বিদ্যুৎ ও জলাবদ্ধতা বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The teachers federation will continue the agitation until the demands are met

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে রোববারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলন যেহেতু তারা চালাবেই চালাতে থাক- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক আখতার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এই কথা বলে থাকেন তাহলে তা একটু হতাশাব্যঞ্জক। আমরা তো ওনার ওপরই আস্থা রাখছিলাম যে উনি আমাদের বিষয়টি ভালো করে শুনবেন।’

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম।

ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘আজ (রোববার) আমাদের শিক্ষক ফেডারেশনের সভা ছিল। সেখানে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষক ফেডারেশনের এই সভা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে।

এর আগে এসব দাবিতে শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্ক্রিম নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিলো। সেটি দূর হয়েছে। এটি আগামী বছর চালু হবে।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষক ফেডারেশন
শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি শিক্ষক নেতারা। ফাইল ছবি

ফেডারেশনের রোববারের বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাওয়া ভালো জিনিস। কিন্তু যদি সেটি হয়ে থাকত তাহলে উনি (ওবায়দুল কাদের) যখন প্রেস ব্রিফিং করছিলেন সেখানে তো আমাদেরও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল।

‘আমরা কি ছিলাম সেখানে? ছিলাম না। আমরা বের হয়ে পরে কথা বলবো বলেছি। সব কথা কি আমাদের মুখ ফুটে বলতে হবে?’

তিনি বলেন, ‘তবে ওনারা আমাদের ডেকেছেন সেটাতে আমরা খুশি হয়েছি। আশা করি, আবারও আমাদের ডাকা হবে।’

এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আন্দোলন যেহেতু তারা চালাবেই চালাতে থাক। চালাতে চালাতে যখন ক্লান্ত হয়ে যাবে তখন বলব।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক আখতার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এই কথা বলে থাকেন তাহলে তা একটু হতাশাব্যঞ্জক। আমরা তো ওনার ওপরই আস্থা রাখছিলাম যে উনি আমাদের বিষয়টি ভালো করে শুনবেন।’

এদিকে বিগত দিনগুলোর মতো রোববারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

আরও পড়ুন:
কাদেরের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া নেই শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের
শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কাদেরের বৈঠক স্থগিত
কর্মবিরতি: শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বসছেন কাদের
সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে ঢাবিসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি

মন্তব্য

শিক্ষা
The demands of the teachers will be raised with the Prime Minister Who

শিক্ষকদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে: কাদের

শিক্ষকদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে: কাদের শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় আগামী বছর থেকে চালু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা কর্মবিরতির বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আশা করি সমাধান আসবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রেড ও স্কেল প্রদান নিয়ে আলোচনা হবে এবং তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় আগামী বছর থেকে চালু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা কর্মবিরতির বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আশা করি সমাধান আসবে।’

শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অপরদিকে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা জানিয়েছে, সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে তথ্যটি দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে স্কিমটি শুরু হবে..., এটা ভুল ছিল। পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে।

‘শিক্ষকদের সুপার গ্রেড প্রদানের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা ও লিখিত দাবিনামা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করব। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমরা আলাপ-আলোচনা করে নেব।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই যুক্ত হবেন ২০২৫ সালের ১ জুলাই। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জন শিক্ষক নেতা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি মিটেছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

শিক্ষকদের কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা সাংগঠনিকভাবে ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন৷ তবে শিক্ষকদের সব দাবি চট করে মানা যাবে না। সরকারেরও যুক্তি আছে। তাদের দাবি যুক্তিসংগত হলে বিবেচনা করা হবে।’

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ফেডারেশনে আলোচনা করে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলব।’

শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলে, শিক্ষক সমিতির সঙ্গে কথা বলে ও সভা করে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন:
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক কাদেরের
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
কোটার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: কাদের

মন্তব্য

শিক্ষা
The teachers federation is silent on the discussion in the meeting

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি শিক্ষক নেতারা। কোলাজ: নিউজবাংলা
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে ওনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তারপর মিডিয়াকে জানাব।’

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ আরও দুই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তবে বৈঠক আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আপাতত গণমাধ্যমকে জানাবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নিজামুল বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে ওনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তারপর মিডিয়াকে জানাব।’

আপনাদের দাবি তো সরকারের কাছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় এলেন কেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একজন জাতীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে তিনি আমাদের সঙ্গে বসেছেন।

‘ওবায়দুল কাদের, তিনি রাষ্ট্রের সেকেন্ড ম্যান। ওনার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে খুব খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। ওনাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে সেসবের অনেক কিছু নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয় রয়েছে। আজ রাতে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বসব। সেখানে আলোচনা হবে এরপর আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘প্রতিনিধিদের নিয়ে ফেডারেশনের বৈঠকের পর স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এসব বিষয় জানাবেন। পরে ওনারা কী বলেন সেটির ওপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় (ওবায়দুল কাদের) আমাদেরকে বলেছেন যে প্রত্যয় স্কিমটি ২০২৪ সাল নয়, ২৫ সালের জুলাই থেকে ইমপ্লিমেন্ট হবে। এরপর আমরা আমাদের ব্যাখ্যাটা ওনাকে দিয়েছি। কারণ এটি সবাই জানে.....। আচ্ছা যাই হোক, এখন আর বেশি কথা না বলি।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক কাদেরের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের

মন্তব্য

শিক্ষা
Job teachers on strike for ninth day

নবম দিনের মতো কর্মবিরতিতে জবি শিক্ষকরা

নবম দিনের মতো কর্মবিরতিতে জবি শিক্ষকরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার নবম দিনের মতো শিক্ষকরা প্রতিদিনের মতো দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এদিনও তারা ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।

সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত টানা নবম দিনের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার নবম দিনের মতো শিক্ষকরা প্রতিদিনের মতো দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এদিনও তারা ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।

এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। যেসব বিভাগ খোলা হয়েছে, সেগুলোর ক্লাসরুমগুলোতে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। বিভাগে সব শিক্ষকের উপস্থিতিও ছিল না। আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য যেসব শিক্ষক ক্যাম্পাসে এসেছেন, তারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছেন।

বন্ধ ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারও। প্রশাসন কিংবা একাডেমিক দায়িত্বে থাকা কোনো শিক্ষকও তার কর্মস্থলে বসেননি। এমনকি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি দাপ্তরিক কাজ করেননি।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বলেন, ‘১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সঙ্গে জবি শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আমাদের তিনটি দাবিতে আন্দোলন চলছে। শিক্ষকদের প্রত্যয় স্কিম বাতিল, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা।’

এদিকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:
কর্মবিরতি: শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বসছেন কাদের
সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে ঢাবিসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

মন্তব্য

শিক্ষা
Rabi teachers on strike for eighth day
প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবি

অষ্টম দিনের মতো কর্মবিরতিতে রাবি শিক্ষকরা

অষ্টম দিনের মতো কর্মবিরতিতে রাবি শিক্ষকরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে রোববার কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা প্রায়ই শিক্ষকদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। শিক্ষকরা দেশ বিকাশের উপায় ও প্রগতির কথা বলেন। তারা সেটা নিশ্চিহ্ন করতে চায়, যেটা অন্যখানে করেই ফেলেছে। সরকার পুরোপুরি আমলাতন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছে।’

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার ও শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তিন মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে ভেবেছিলাম এ সপ্তাহে আর আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের এখনও দাঁড়াতে হচ্ছে।

‘আমি মনে করি আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনাও দরকার। এই আন্দোলন কতদিনে থামবে তা জানি না। কিন্তু এটা জানি প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের নাম প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন ছাড়া শিক্ষকদের আর ঘরে ফেরার উপায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা প্রায়ই শিক্ষকদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যেটা এর আগেও আমরা দেখেছি। তারা বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে শিক্ষকদের চাপে রাখতে চাচ্ছে।

‘শিক্ষকরা দেশ বিকাশের উপায় এবং বিভিন্ন প্রগতির কথা বলেন। তারা সেটা নিশ্চিহ্ন করতে চায়, যেটা অন্যখানে করেই ফেলেছে। এখন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই বাকি আছে। সরকার শিক্ষকদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করে পুরোপুরি আমলাতন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছে।’

কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার বলেন, ‘আমাদের পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা ভালোই ছিলাম। হঠাৎ অর্থ মন্ত্রনালয় প্রত্যয় স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আমি মনে করি তারা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট না জেনেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যয় স্কিম একটি প্রতারণা এবং বিভ্রান্তিমুলকমূলক প্রকল্প। এখানে এক শতাংশ শিক্ষকও থাকতে চান না- যেটা অবস্থানের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে, টক-শোর মাধ্যমে বার বার জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘তবু অর্থ মন্ত্রনালয়ের কোনো কর্মকর্তার হুঁশ নেই। গবেষক কোনো আমলার মধ্যে থাকে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে। তাদের সেই গবেষণার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যয় স্কিম থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে।’

কর্মসূচিতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসী বলেন, ‘শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষক হচ্ছেন জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। কিন্তু আমরা যথাযথ সম্মান পাচ্ছি না। কোনো দেশে আমলারা যখন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে চলে যায় তখন রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণ ও ছাত্রসমাজের সংঘাত ঘটে।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকারের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলে শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: অর্থমন্ত্রী
সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার থেকে বন্ধ হতে যাচ্ছে ক্লাস-পরীক্ষা
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি
‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহারের দাবিতে ইবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও

মন্তব্য

শিক্ষা
Teachers reject the finance ministrys explanation about the certification scheme

প্রত্যয় স্কিম নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান শিক্ষকদের

প্রত্যয় স্কিম নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান শিক্ষকদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের মূল ফটকে মঙ্গলবার শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করে আগামী বছর ‘সেবক’ নামে স্কিম চালু হলে এবং তাতে সবার জন্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হলে আমরা সেখানে যাব। কিন্তু প্রত্যয় স্কিম বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন চলবে।

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের মূল ফটকে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার করে আগামী বছর ‘সেবক’ নামে স্কিম চালু হলে এবং তাতে সবার জন্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হলে আমরা সেখানে যাব। কিন্তু প্রত্যয় স্কিম বাতিল করতে হবে।”

অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘এতদিন কোথায় ছিল। আমরা এতদিন বিবৃতি-স্মারকলিপি দিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি। সাড়ে তিন মাস আগে যদি আমরা জানতাম বয়সসীমা ঠিকই আছে তাহলে শিক্ষকরা এত ক্ষুব্ধ হতেন না। এখন আন্দোলন স্তিমিত করার জন্য যেনতেন একটা ব্যবস্থা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের আমরা বিশ্বাস করি না। ২০১৫ সালেও এভাবে তারা আমাদের রাস্তায় নামিয়েছে। সুপার গ্রেড আমাদের দেয়নি। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, একটি কমিটিও হয়েছে।

‘বাস্তবতা হলো, নয় বছরেও আমরা সুপার গ্রেড পাইনি। তখনও আশ্বাস দিয়েছে। সুতরাং আশ্বাস দিলে হবে না। প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের নিয়ে বসতে হবে। আমাদের সুপার গ্রেড দিতেই হবে।’

ফেডারেশনের মহাসচিব আরও বলেন, ‘আপনারা আগামী বছর সেবক স্কিম আনবেন। সেবকে কী সুযোগ-সুবিধা আছে সেটি আমরা দেখব। সর্বজনীন হলে আমরা কেন যাব না। কিন্তু আমরা আলাদাভাবে যাব না সেখানে।’

এ সময় স্পেশাল ক্লাস-পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া হবে বলে জানান অধ্যাপক নিজামুল। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাসে না নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি- এটা দুঃখজনক। তবে যে ক্ষতি হবে স্পেশাল ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে তাদেরকে পুষিয়ে দেয়া হবে।

স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

‘প্রত্যয় স্কিম’ সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ যৌথভাবে কর্মবিরতি পালন করছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি শুরু হয়। শিক্ষকরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রাঙ্গণের ভেতরে আর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান নেয় রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের মূল কেন্দ্র রেজিস্ট্রার ভবনের অনেক রুমেই নেই কোনো কর্মকর্তা। হাতে গোনা কয়েকজন থাকলেও তারা লাইট বন্ধ করে বসে অলস সময় পার করছেন।

আবার কিছু দপ্তরে চলছে কাজ। এসব দপ্তরে মূলত শিক্ষকদের কাজই হয়। শিক্ষার্থীদের কাজ সম্পর্কিত সব দপ্তর বন্ধ রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা কর্মবিরতি উপেক্ষা করে কাজ করতে চাইলে তাদের কাজ না করতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অধিভুক্ত কলেজগুলো শিক্ষার্থীরা।

তাদের অনেকেই এসেছেন মূল সনদ বা অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে। অনেকের আবার এসব দরকার কয়েকদিনের মধ্যে। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে তাদের ফেরত যেতে হয়েছে খালি হাতে। শুধু রেজিস্ট্রার ভবন নয়; বন্ধ রয়েছে বিভাগ, ইনিস্টিটিউট এবং হলের কার্যক্রমও।

ঢাবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমাবেশ

এদিকে দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোতালেব।

তিনি বলেন, রাতের আঁধারে একটি কুচক্রী মহল এবং সচিবরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়েই সচিবালয়ে অফিস করতে যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে অফিসে যাওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই। প্রয়োজনে আমরা তাদের যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেব।

আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘যত দিন যাবে আন্দোলন কঠোর হবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা কর্মবিরতি থেকে সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচিতে চলে যাব। সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে।’

চলমান আন্দোলনের সময় অফিসের কাজ করতে চাপ দেয়া হলে অফিস প্রধানদের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন ঢাবি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলা অবস্থায় কোনো অফিস প্রধান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না। আগামীকাল থেকে আপনারাও মাঠে নামুন। অন্যথায় অফিস প্রধানদের কক্ষেও তালা মেরে দেয়া হবে। এরপরও যদি কেউ চাপ প্রয়োগ করেন তাহলে কর্মচারী পরিষদ তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।’

আরও পড়ুন:
‘প্রত্যয়’ স্কিম নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো অর্থ মন্ত্রণালয়
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলে শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: অর্থমন্ত্রী
সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার থেকে বন্ধ হতে যাচ্ছে ক্লাস-পরীক্ষা
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি
‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহারের দাবিতে ইবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি

মন্তব্য

শিক্ষা
Ministry is keeping an eye on teachers strike Education Minister

শিক্ষকদের কর্মবিরতির দিকে নজর রাখছে মন্ত্রণালয়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের কর্মবিরতির দিকে নজর রাখছে মন্ত্রণালয়: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ফাইল ছবি
মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষকদের এই আন্দোলনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাসময়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সর্বজনীন পেনশনের আওতায় কারা আসবে, সেটা সরকারের নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটার সঙ্গেই আছে।’

‘প্রত্যয় স্কিম’ সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতির দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘শিক্ষকদের এই আন্দোলনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাসময়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সর্বজনীন পেনশনের আওতায় কারা আসবে, সেটা সরকারের নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটার সঙ্গেই আছে।

শিক্ষকরা দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে জানাচ্ছেন। সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখানে কিছু করার নেই।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনা হচ্ছে তা নয়। সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পেনশনের আওতায় আসবেন। হয়তো এ বছর শিক্ষকরা আসছেন, আগামী বছর অন্যরা আসবেন। তবে পর্যায়ক্রমে সবাই আসবেন।’

শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়লে মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে তারা আন্দোলন করছেন। সেই অধিকার তাদের আছে। অনেকে বলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। এ আন্দোলনের মাধ্যমে তো এটা বোঝা যাচ্ছে যে, তার স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন।

‘শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমি বলবো, আমরা বিষয়টির দিকে নজর রাখছি। এখনও সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়নি। তাদের কর্মসূচি শুরু হোক, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

প্রসঙ্গত, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

আরও পড়ুন:
বুয়েটে জঙ্গি কার্যক্রম আছে কি না, তদন্ত করব: শিক্ষামন্ত্রী
‘ট্রি অফ পিস’ পুরস্কার নিয়ে যা বলল ইউনূস সেন্টার
ইউনেস্কো পুরস্কার নিয়ে ইউনূস সেন্টারের তথ্য বিভ্রান্তিকর: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে
ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে