× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Training of 3 lakh secondary school teachers
google_news print-icon

মাধ্যমিকে ৩ লাখ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ

মাধ্যমিকে-৩-লাখ-শিক্ষকের-প্রশিক্ষণ
নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শিক্ষকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে প্রশিক্ষণ হবে ৬ জানুয়ারি, ৭ জানুয়ারি, ১৩ জানুয়ারি, ১৪ জানুয়ারি ও ১৫ জানুয়ারি। এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রশিক্ষণ পরিচালনার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তা পরিবর্তন করে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান বিষয়ে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জন্য পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে শুক্রবার। সারা দেশে ২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এ প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য সই করা বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণের দিন ও সময় জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ৬ জানুয়ারি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া ৭ জানুয়ারি, ১৩ জানুয়ারি, ১৪ জানুয়ারি ও ১৫ জানুয়ারি নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে প্রশিক্ষণ হবে।

এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রশিক্ষণ পরিচালনার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তা পরিবর্তন করে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন পাঠ্যক্রমের বিস্তারের জন্য ‘Dissemination of New Curriculum’ স্কিমের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে প্রশিক্ষণ। দেশের ৪০৮টি উপজেলা ও ২৫টি থানায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

মাউশি জানায়, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন সদ্য প্রশিক্ষণ পাওয়া মাস্টার ট্রেইনাররা। প্রশিক্ষণে ২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
নতুন শিক্ষাক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন
স্কুলে নতুন যেসব বিষয় পড়ানো হবে
স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বদলে যাবে
স্কুল-কলেজের শিক্ষায় যা যা বদলে যাবে
নবম-দশম শ্রেণিতে একক বিভাগ ২০২৫ থেকে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Video of school teacher students drinking on educational trip goes viral

শিক্ষাসফরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপান, ভিডিও ভাইরাল

শিক্ষাসফরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপান, ভিডিও ভাইরাল শনিবার শিক্ষাসফর থেকে ফেরার পরপরই মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। কোলাজ: নিউজবাংলা
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘শিক্ষকরা কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সঙ্গে যেতে দেয়নাই। শিক্ষকদের সামনেই যদি এমন কর্মকাণ্ড হয়, তবে আর কিছুই বলার থাকে না।’

মাদারীপুরের শিবচরের একটি স্কুল থেকে শিক্ষাসফরে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকদের মদ্যপানের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. ওয়ালিদ মদের বোতল হাতে নিয়ে মদ ঢালছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে বোতল দিচ্ছেন। আবার বিদেশি মদের বোতল থেকে শিক্ষককে মদ ঢেলে দিচ্ছে এক শিক্ষার্থী, আবার শিক্ষকের সামনেই শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাস করে মদ্যপান করছে।

শনিবার শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের শিকদার হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শিক্ষাসফর শেষে ফেরার পথে ওই ভিডিওটি করা হয় বলে খোঁজ জানা গেছে।

জানা যায়, শনিবার ভোরে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ৪১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্যে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও যান। সফরে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবককে সঙ্গে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় সুত্র জানায়, শিক্ষাসফর শেষে শিক্ষার্থীরা এলাকায় ফেরার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এমন ভিডিও দেখে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েও শিক্ষাসফরে গিয়েছিল। শিক্ষকরা কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সঙ্গে যেতে দেয়নাই।’

ভিডিওটির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সামনেই যদি এমন কর্মকাণ্ড হয়, তবে আর কিছুই বলার থাকে না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষাসফরের আগের দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। সেখান থেকে সরাসরি শিক্ষা সফরের স্পটে যোগ দিয়েছি। এর আগে বাসের মধ্যে কী হয়েছে, আমি জানি না।’

তিনি বলেন, ‘সফরকালে বাসের দায়িত্বে ছিলেন শিউলি ম্যাডাম। আমি বাসে ওঠার পর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনাই।’

এ ব্যাপারে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘শিক্ষাসফরের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মদ খেয়ে নেচেছে বলে শুনেছি ও ভিডিও দেখেছি।’

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এই ব্যাপারে শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে। শিক্ষকরা যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

শিক্ষা
Ants cannot fly due to lack of money

টাকার অভাবে চলতে পারছে না ‘পিপীলিকা’

টাকার অভাবে চলতে পারছে না ‘পিপীলিকা’ বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকার লোগো। ছবি: পিপীলিকা
অর্থ সংকটে ধুঁকছে শাবির সাড়া জাগানো চার উদ্ভাবন। তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’। প্লে-স্টোরে থাকলেও নিস্ক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’। ফান্ডিং সংকটে আটকে গেছে দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ ডিভাইসটিও। অর্থ ও জনবলের অভাবে এগোতে পারেনি বাংলায় কথা বলা রোবট ‘রিবো’।

২০১৩ সালে বিশ্বের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এই সার্চ ইঞ্জিনের নাম দেয়া হয় ‘পিপীলিকা’। তবে গত তিন বছর ধরে থমকে আছে এর কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ সংকটে সার্চ ইঞ্জিনটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কেবল সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ই নয়, একই অবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’-এরও। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও তা একপ্রকার নিস্ক্রিয়। দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের সম্ভাবনাময় ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ ডিভাইসটিও অর্থ সংকটে আটকে গেছে। করোনা মহামারি এবং অর্থ ও জনবলের অভাবে এগোতে পারেনি বাংলায় কথা বলতে পারা রোবট ‘রিবো’।

দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তেত্রিশ বছর আগে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কিছু উদ্ভাবন সকলের প্রশংসা কুড়ায়। উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে গত কয়েক বছর ধরেই নেই নতুন কোনো উদ্ভাবন। এমনকি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে থমকে আছে পুরনোগুলোও।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ওপর অ্যাকাডেমিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা গবেষণা, উদ্ভাবনসহ সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে এখন কোনো উৎসাহ দেয়া হয় না।

পিপীলিকা

২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল ১১ জন ডেভেলপার মিলে তৈরি করেন বিশ্বের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা। পিপীলিকার প্রকল্প পরিচালনায় ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মুখ্য গবেষক ও টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন মো. রুহুল আমীন সজীব।

শাবির আইআইসিটি বিভাগ জানায়, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ সংক্রান্ত কিছু সার্ভিস গ্রহণের বিনিময়ে সরকারের এটুআই (অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রোগ্রাম থেকে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৮ কিস্তিতে মোট ১ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৬ টাকা দেয়া হয়। শেষ কিস্তির (৯ম কিস্তি) ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৩ টাকা পিপীলিকাকে পরিশোধের আগেই সরকারের এটুআই প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই অর্থ সংকটে পিপীলিকা বন্ধ রয়েছে।

আগের মতো ৫-৬ জন পূর্ণকালীন আইটি/সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করানোর জন্য মাসিক ৩-৪ লাখ টাকা অনুদান পেলে পিপীলিকার উন্নয়ন কাজ চলমান রাখা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে টিম লিডার মো. রুহুল আমীন সজীব বলেন, ‘আমি এখন এই প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত নই।’

শাবির আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্টের ফান্ডিং আসত সরকারের কাছে থেকে। ২০২০ সাল থেকে আমাদের প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট সবকিছু সঠিক সময়ে পাঠালেও কোনো অর্থ পাইনি। সর্বশেষ আমাদের প্রায় ২২ লাখ টাকা আটকে আছে।’

তিনি বলেন, ‘টাকা ছাড়া তো আমরা গবেষক ও কর্মচারীদের কাজ করাতে পারি না। আমরা যতটুকু সম্ভব দিয়েছি। তবুও তাদের বেশ কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের আর টাকা দেয়া হয়নি। আবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক সাপোর্ট না পাওয়ায় কারণে বর্তমানে তা বন্ধ আছে। বিষয়টি নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও এটুআইয়ের পিডিসহ সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। আমাদের সব রিসোর্স আছে। সরকারের কাছে থেকে আবার সাপোর্ট পেলে আমরা তা সচল করতে পারব।’

এটুআই প্রোগ্রামের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, “যতটুকু মনে পড়ে ‘পিপীলিকা’ সার্চ ইঞ্জিনটা যেমন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেই মানের হয়নি। এজন্য ফান্ডিং বন্ধ করা হয়। এ বিষয়ে বর্তমান পিডি ভালো বলতে পারবেন।’

বর্তমান পিডি (যুগ্মসচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি আমার জানা নাই। এটা আসলে কী অবস্থায় আছে, খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করব।’

একুশে বাংলা কি-বোর্ড

কি-বোর্ড নিজেই বুঝে ফেলবে ব্যবহারকারী কী লিখতে চাইছেন- ২০১৮ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এমন কি-বোর্ড কি-বোর্ড উদ্ভাবন করেন শাবি শিক্ষার্থীরা। এর নাম দেয়া হয় ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পাশাপাশি দ্রুত টাইপিং ও স্পর্শ করে লেখার ব্যবস্থা রয়েছে এ কি-বোর্ডে। ফলে টাইপ না জানলেও যে কেউ সহজেই বাংলা টাইপিং শিখতে পারে এর মাধ্যমে।

২০২০ সালে কি-বোর্ডটির উদ্ভাবক তৎকালীন শাবির সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বিদেশে চলে গেলে সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে এই প্রজেক্টের কোনো আপডেট নেই। আমি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর এ ব্যাপারে আর কোনো কাজ করা হয়নি।’

ননলিনিয়ার অপটিকস

রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবনেও রয়েছে শাবিপ্রবির সাফল্য। অল্প খরচে ও কম সময়ে ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ নামের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে রক্তের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটেই ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে দাবি ছিল উদ্ভাবকদের।

হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) আওতায় শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সেসময়কার অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক ক্যানসার শনাক্তকরণের এ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন, মনজ কান্তি বিশ্বাস ও এনামুল হক।

প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ফান্ডিংসহ অনেক সমস্যা আছে। মূলত ফান্ডিংয়ের জন্য আমরা আটকে গেছি। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্ট শিগগিরিই চালু হবে। সম্ভবত পিডি নিয়োগ হয়ে গেছে। ওটা হলেই আমরাও ফান্ড পেয়ে যাব।

‘বর্তমানে আপগ্রেডের কাজ চলছে। ফান্ডিং পেলে আমরা ক্লিনিক্যালি ব্যবহারের উপযুক্ত করে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এটাকে সর্বসাধারণের ব্যবহাপযোগী করে তোলা। হেকাপের আওতায় কাজটি চলছিল, পরে হিট আসার কথা ছিল। সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছি আমরা। পরবর্তী প্রজেক্ট পেলে আমরা বাকি কাজ করে ফেলতে পারব।’

প্রকল্পটি একেবারে বন্ধ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজ আমাদের মতো করে চলছে।’

রোবট রিবো

২০১১ সাল থেকে শাবির তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শিক্ষার্থী নওশাদ সজীব উদ্যোগে ১১ জনের একটি দল রোবট নিয়ে কাজ শুরু করে।

২০১৫ সালে বার্ষিক সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি রোবোসাস্টকে মানবসদৃশ রোবট তৈরির করতে ১ লাখ টাকা অনুদান দেয়। দলটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মানবসদৃশ রোবট তৈরি করে, যার নাম দেয়া হয় ‘রিবো’।

রোবটটি ২৪ ডিগ্রি কোণে স্বাধীনভাবে ঘুরতে, নাচতে, মুখের অঙ্গভঙ্গির প্রকাশ, হ্যান্ডশেক, হাত উপর-নিচে তোলা, বাংলায় কথা বলা, এমনকি নিজের নামও বলতে পারত। বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারত।

রোবটটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়া শাবির সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নওশাদ সজীব বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন।

দলের সদস্য মেহেদী হাসান রূপক বলেন, ‘আমরা ঢাকায় প্রোগ্রাম করেছিলাম। সেখানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেছিলেন ফান্ডিং করবেন। আমরা তখন উনাকে একটা আবেদনপত্রও দিয়েছিলাম। পরে করোনা ও জনবল সংকটে আর এগোতে পারিনি। এর মধ্যে আমাদেরও পড়ালেখা শেষ হয়ে যায়।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘এই উদ্ভাবনগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আমি খোঁজখবর নেব। প্রয়োজনে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আমরা কথা বলব।’

উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কর্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য

শিক্ষা
Leaving the office assistant to inspect the room the teachers notebook disappeared during the banquet
এসএসসি পরীক্ষা

অফিস সহকারীকে কক্ষ পরিদর্শনে রেখে বনভোজনে শিক্ষক, খাতা উধাও

অফিস সহকারীকে কক্ষ পরিদর্শনে রেখে বনভোজনে শিক্ষক, খাতা উধাও বৃহস্পতিবার শেরপুরের আয়শা আইন উদ্দিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা
কেন্দ্রের সহকারী সচিব বানিবাইদ এএএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘যে শিক্ষকের ডিউটি ছিল, তিনি বনভোজনে গিয়েছিলেন। পরে শিক্ষক না থাকায় অফিস সহকারী মাছুদাকে দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে।’

শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে এক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীকে দিয়ে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করানোর পর এক পরীক্ষার্থীর খাতা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আয়শা আইন উদ্দিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ১৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই চারজনের নাম উল্লেখ করে কেন্দ্র সচিব সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শুক্রবার সন্ধায় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজিয়া নাজনীন নিউজবাংলাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী অফিস সহকারীর নাম মাছুদা আক্তার। তিনি বানিবাইদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত।

পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার শ্রীবরদীর ওই কেন্দ্রের ১৫ নম্বর কক্ষে ৭৯ জন্য পরীক্ষার্থী ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শকরা সহকারী কেন্দ্র সচিবের কাছে ৭৯টি ওএমআর শিট জমা দিলেও খাতা জমা দেন ৭৮টি। তবে কোন পরীক্ষার্থীর খাতা হারিয়েছে, তা জানা যায়নি।

কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বানিবাইদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছা. মারুফা আক্তার, সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, অফিস সহকারী মাছুদা আক্তার ও গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারিমা খাতুন।

কেন্দ্রের সহকারী সচিব বানিবাইদ এএএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘যে শিক্ষকের ডিউটি ছিল, তিনি বনভোজনে গিয়েছিলেন। পরে শিক্ষক না থাকায় অফিস সহকারী মাছুদাকে দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে।’

কেন্দ্র সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাতা হারানোর বিষয়টি জানার পর আমরা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চারজনকে অব্যহতি দিয়েছি। তাদের নামে রাতে থানায় জিডিও করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে অফিস সহকারী যে ডিউটি করছিলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সহকারী কেন্দ্র সচিব আমাকে লিখিত দিয়েছিলেন, অফিস সহকারী মাছুদা আক্তার একজন সহকারী শিক্ষক।’

শ্রীবরদী ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজিয়া নাজনীন বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১৫ নম্বর কক্ষে দায়িত্বরত চার শিক্ষককে এসএসসি পরীক্ষার পরবর্তী সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তাদের নামে থানায় জিডি করা হয়েছে।’

এছাড়া বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
জাল প্রবেশপত্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার
বাবার মরদেহ বাসায় রেখে এসএসসির কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী
ডিসির অনুরোধে পরীক্ষার আগের রাতে প্রবেশপত্র পেলেন ১৪ শিক্ষার্থী

মন্তব্য

শিক্ষা
Mehdi is the new president of Kubi Teachers Association

কুবি শিক্ষক সমিতির নতুন সভাপতি তাহের, সম্পাদক মেহেদী

কুবি শিক্ষক সমিতির নতুন সভাপতি তাহের, সম্পাদক মেহেদী কোলাজ: নিউজবাংলা
১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী পর্ষদের নীল দলের ১৪ জনকে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে লড়েন দুজন প্রার্থী।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচন-২০২৪-এর নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।

সোমবার বেলা ৩টার দিকে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী পর্ষদের নীল দলের ১৪ জনকে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে লড়েন দুজন প্রার্থী।

ভোট গণনা শেষে মোট ১৭৪ ভোটের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে নীল দল সমর্থিত মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান পান ১৩০ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন পান বাকি ৪১ ভোট।

ঘোষিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের মধ্যে আছেন সভাপতি ড. মো. আবু তাহের, সহ-সভাপতি হিসেবে ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মো. তোফায়েল হোসেন মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মাহমুদুল হাছান, কোষাধ্যক্ষ মো. মুর্শেদ রায়হান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহফুজুর রহমানসহ কার্যকরী সদস্য পদে ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব, ড. মো. শামিমুল ইসলাম, ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, মোহাম্মদ আইনুল হক, ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন, স্বর্ণা মজুমদার এবং মাহমুদুল হাসান।

২০১৭ ও ২০১৮ সালের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং নবনির্বাচিত সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী একে অপরের পরিপূরক। শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন না হলে আমাদের ভালো লাগবে না৷ উভয়েরই উন্নয়নে এই সমিতির সদস্যরা কাজ করে যাবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ভণ্ডুল হওয়ার পর এক বছর বন্ধ ছিল শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
কুবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি

মন্তব্য

শিক্ষা
Sexual harassment allegations DU Prof Junaid on compulsory leave

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: বাধ্যতামূলক ছুটিতে ঢাবি অধ্যাপক জুনাইদ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: বাধ্যতামূলক ছুটিতে ঢাবি অধ্যাপক জুনাইদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদ। ফাইল ছবি
রেজিস্ট্রার দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে আপনাকে (অধ্যাপক নাদির জুনাইদ) সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য আজ (সোমবার) থেকে তিন মাসের ছুটি দেয়া হলো৷ আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে তিন মাসের ছুটি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিকেলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-১) জিএম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কার্যালয়ের সামনে এই চিঠি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ৷

এর আগে অধ্যাপক নাদির জুনাইদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করায় তাদের পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমি চাই না, আমার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় কোনো ক্ষতি হোক। তাই আমি নিজ থেকেই আর ক্লাসে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের চিঠি উদ্ধৃত করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষার্থীদের রোববারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে আপনাকে (অধ্যাপক নাদির জুনাইদ) সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য আজ থেকে তিন মাসের জন্য ছুটি দেয়া হলো৷

‘আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’

এর আগে সোমবার সকাল থেকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিন দাবিতে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একইসঙ্গে তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা; অপরাধারীকে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা; তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে শিক্ষক নাদির জুনাইদকে বিরত রাখা।

শিক্ষার্থীরা পরে দুপুর ১টার দিকে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের অফিস কক্ষে তালা দেয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের তালা সিলগালা করে দেন। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। দশ মিনিট সেখানে অবস্থান করার পর শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন যে সেখানে উপাচার্য নেই।

এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী প্রক্টরকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ৷

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য আমাকে বলেছেন, অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিকেল ৪টার মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সেই চিঠি আমাদের কাছে চলে আসবে। তাই তোমরা এই স্থান ছেড়ে দাও।’

শিক্ষার্থীরা শুরুতে এ কথায় আশ্বস্ত না হলে অধ্যাপক মনসুর তাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্তের কপি আমাদের কাছে না এলে আমিও তোমাদের সঙ্গে নিয়ে এখানে অবস্থান কর্মসইচ পালন করবো।’

এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মনসুরের কথায় আশ্বস্ত হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে সরে বিভাগের বারান্দায় অবস্থান নেন।

বিকেলে অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠি পড়ে শোনালে তারা বিভাগ ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত অধ্যাপক জুনাইদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
‘ঢাবি অধ্যাপকের আক্রোশে ফলে ধস’, লিখিত অভিযোগে শাস্তি দাবি

মন্তব্য

শিক্ষা
UGC requests to stay in EBK group

ইবিকে গুচ্ছে থাকার অনুরোধ ইউজিসির

ইবিকে গুচ্ছে থাকার অনুরোধ ইউজিসির
ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘ইবির শিক্ষকরা গুচ্ছে থাকবেন না বলে মত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তা একাডেমিক কাউন্সিলেও গৃহীত হয়েছে। এর আগে ইউজিসির নোটিশে গুচ্ছে থাকা আবশ্যক এ ব্যপারে কিছু বলা হয়নি। হঠাৎ আবার বলা হচ্ছে গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। দরকার হলে আমরা শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আবার বসব।’

আগামী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত হয়ে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইউজিসি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে গুচ্ছে না থাকার বিষয়টি শিক্ষকদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।

‘গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে থাকছে না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। খবরটি কমিশনের দৃষ্টিতে আসায় বিষয়টি নিয়ে কমিশন থেকে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি অবহিত নন বলে জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক প্রতিনিধির সঙ্গে কমিশন কর্তৃপক্ষ ৮ ফেব্রুয়ারি মতবিনিময় সভার আহ্বান করে।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত পত্রে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত না হতে পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কমিশনকে অবহিত করা হয়।

১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতিতে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কমিটির একাধিক সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা এই পর্যায়ে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিশন কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এ অবস্থায় মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছভুক্ত হয়ে আগের তিনটি ভর্তি পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় গুচ্ছের আওতায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘ইবির শিক্ষকরা গুচ্ছে থাকবেন না বলে মত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তা একাডেমিক কাউন্সিলেও গৃহীত হয়েছে। এর আগে ইউজিসির নোটিশে গুচ্ছে থাকা আবশ্যক এ ব্যপারে কিছু বলা হয়নি। হঠাৎ আবার বলা হচ্ছে গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। দরকার হলে আমরা শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আবার বসব।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইবি শিক্ষক সমিতির

মন্তব্য

শিক্ষা
In Rajshahi 4 people including three policemen are remanded

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: তিন পুলিশসহ ৪ জন রিমান্ডে

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: তিন পুলিশসহ ৪ জন রিমান্ডে প্রতীকী ছবি।
মামলার আসামিরা হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার এএসআই গোলাম রাব্বানী, আরএমপির কনস্টেবল আবদুর রহমান ও শাহরিয়ার পারভেজ শিমুল এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার বাসিন্দা মেহেদী হাসান।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টার মামলায় রাজশাহীতে তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক ফয়সাল তারিক আসামিদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক জানান, আসামিদের পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সবাইকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার চার আসামি হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম রাব্বানী, আরএমপি সদর দপ্তরের কনস্টেবল আবদুর রহমান ও শাহরিয়ার পারভেজ শিমুল এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান।

আরএমপি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জামিরুল ইসলাম জানান, শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এই চারজনসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় তিন পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠানো হয়। আর মেহেদীকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার কারাগারে নেয়া হয়। আদালতে সবার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

এর আগে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতারক চক্রটি অসৎ পন্থা অবলম্বন করে চাকরির পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার চুক্তি করেছিলেন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে পরীক্ষার আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রথমে আরএমপির দুই পুলিশ সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নেয় গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে শনিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কারিমা খাতুন নামের এক ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী। মকলেসুর রহমান নামে এই মামলার আরেক আসামি এখনও পলাতক।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা পুলিশের সদস্যরা অভিযানের সময় কনস্টেবল শাহরিয়ার পারভেজের বাড়ি থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সংযুক্ত ১৬টি গেঞ্জি, ১৩টি চুম্বক দণ্ড, ক্ষুদ্র গোলাকৃতির চুম্বকযুক্ত ২৬টি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোনের ১৫টি চার্জার জব্দ করে।

অত্যাধুনিক এসব ডিভাইস ব্যবহার করেই চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীকে বাইরে থেকে সব প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতি, নওগাঁয় ১৪ জনের জেল
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরুর অপেক্ষা
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুক্রবার
পরিবার কল্যাণের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত

মন্তব্য

p
উপরে