মাধ্যমিক ও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক উৎসব-২০২৩ এর জন্য পৃথক ভেন্যু নির্বাচন নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিকের বই উৎসব হবে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। আর প্রাথমিকের বই উৎসব হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। উৎসব শুরু হবে সকাল ১০টায়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিকের জন্য বই উৎসব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপরদিকে মাধ্যমিকের বই উৎসব গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’
ফরহাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের মাঠে বই উৎসবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, সচিব ও ডিজি উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকবেন কাপাসিয়ার আয়োজনে।
ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা সারাদেশে চাহিদার ৮০ ভাগ বই সরবরাহ করেছি। আশা করছি ১ জানুয়ারি সফলভাবেই বই উৎসব করতে পারব আমরা।’
এর আগে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে ১ জানুয়ারি ‘পাঠপুস্তক উৎসব দিবস-২০২৩’ উদযাপন করা হবে।
২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৩ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে।
এবার কাগজ সংকট, নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানো ও নির্ধারিত সময়ে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই না পৌঁছানোসহ নানা অভিযোগ থাকলেও এনসিটিবি জানিয়েছে যে ১ জানুয়ারির উৎসবেই তারা শিক্ষার্থীদের হাতে ৮০ ভাগ বই পৌঁছে দেবে।
দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ২০১০ সাল থেকে বিনামূল্যে নতুন বই দিয়ে আসছে সরকার। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিয়মিত জিমে যাওয়া ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণসহ স্বাস্থ্য রক্ষার সব নিয়ম মানার পরও শুকিয়ে যাচ্ছিলেন আবিদ ও সেজান (ছদ্মনাম)। অথচ তাদের বয়স যথাক্রমে ২২ ও ২৫ বছর। এক পর্যায়ে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে তারা জানতে পারলেন কারণটা।
স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি মাসলম্যান হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত জিমে যাওয়াটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে। জিমে অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে তারা লিভার এনজাইম ও হরমোনাল ইমব্যালেন্স-এর মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
তাদের একজনের লিভার এনজাইমের মাত্রা অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। আরেকজনের টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণত এই বয়সে এমন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়।
জিমে গিয়ে স্টেরয়েড সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক বয়সে না নেয়ায় তাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা চলে আসে। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি ধরতে পারেন। কারণ জিম করেও তারা শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে চিকিৎসার জন্য এই দুই তরুণকে ঢাকায় আনা হয়।
রাজধানীর গ্রীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, এই দুই তরুণ এখনও পুরোপুরি রিকভার করে উঠতে পারেনি। আর এই শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল।
ডা. রায়হান বলেন, ‘স্টেরয়েড সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো চিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগ বুঝে প্রেসক্রাইব করেন। আর জিমে যে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় তা আর্টিফিসিয়াল বডি বিল্ডিংয়ের জন্য।
‘বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এই স্টেরয়েড উৎপাদন করে না। এগুলোর বেশিরভাগই চীন থেকে আনা হয়। প্রতিবেশী ভারত থেকেও নিয়ে আসা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এই স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করার কোনো অথেনটিসিটি নেই। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে জিমে সাপ্লিমেন্ট দেয়া যায়। তবে কোনো চিকিৎসকই বডি বিল্ডিংয়ের জন্য স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করেন না। কারণ এর কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর বেশিরভাগই আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রাগ।
‘কোনো ফার্মেসিতেও এটা পাবেন না। দুই-একটা পাওয়া গেলেও সেটা নির্দিষ্ট কোনো রোগ যেমন ব্রেইন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার- এসব ক্ষেত্রে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো খুবই ব্যয়বহুল। আবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র কোনো ফার্মেসি বিক্রিও করবে না।’
পার্শপ্রতিক্রিয়া
স্টেরয়েডের প্রধান কাজ হলো মাসল বৃদ্ধি। জিমে নিয়মিত ব্যায়াম করে এক বছরে যেটুকু মাসল বাড়ানো যায় সেটা স্টেরয়েড ব্যবহার করে দুই বা তিন মাসেই করা সম্ভব। এর বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো, শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে হরমোন তৈরি হয় সেটা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা গেল, টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরিই বন্ধ হয়ে গেল। তখন নানাভাবে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। যদি মেইল হরমোন অর্থাৎ ছেলেদের হরমোনই তৈরি না হয় সে ক্ষেত্রে তো ওই মানুষটি পুরুষের মতো আচরণই করবে না। তখন প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া পরিমাণ না বুঝে স্টেরয়েড ব্যবহারে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হার্ট ফেইলিউরও হতে পারে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেখা যায়, অনেক বডি বিল্ডার কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে। স্টেরয়েডের অস্বাভাবিক ব্যবহার এর অন্যতম একটি কারণ।
তাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না জেনেই কি জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বছর দশেক আগেও মানুষ এ বিষয়ে তেমন একটা জানত না। অনেকে এগুলোকে সাপ্লিমেন্ট মনে করত। তিন/চার বছর ধরে মানুষ কিছুটা হলেও জানতে পারছে।
‘সঠিক নিয়মে জিম না করলে জয়েন্টে ইফেক্ট পড়তে পারে। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। এমনকি অপারেশন পর্যন্ত করতে হতে পারে।
‘তাই স্টেরয়েড নিলেও চার সপ্তাহ পর তা বন্ধ করে দিতে হবে। হরমোনাল ব্যালান্স আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য ‘Post Cycle Therapy’ দিতে হয়।
অলি-গলিতে জিম, নেই প্রশিক্ষক
রাজধানী ঢাকা তো বটেই, দেশের বিভাগ, জেলা এমনকি উপজেলা সদর পর্যায়েও গড়িয়ে উঠেছে জিম। এর সঠিক পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানে না।
ফিটনেস সেন্টার হিসেবে পরিচালিত এসব জিমে নেই সার্টিফিকেটধারী কোনো প্রশিক্ষক। ফলে এসব জায়গায় স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য গিয়ে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবাটা পাচ্ছেন না। উপরন্তু মাত্রাজ্ঞান ছাড়া স্টেরয়েডের ব্যবহারে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল রোগে।
ট্রেনিং-এর বিষয়ে মিস্টার বাংলাদেশ এবং ফিটনেস কোচ সাকিব নাজমুস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া থেকে ছয় মাসের একটি ট্রেনিং নিয়েছি। সব জিমে ট্রেনার নেই, আবার জিম করতে করতে অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে ট্রেনার হয়ে যায়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তাদের নেই। এর অবশ্য একটি বড় কারণ, জিমে ট্রেনিং দেয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠানই দেশে নেই।’
তিনি বলেন, ‘স্টেরয়েড ব্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অবশ্যই থাকে। তবে সমস্যাটা হয় এটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করলে। স্টেরয়েড ব্যবহার করতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। সর্বোচ্চ ৫ মাস এর ব্যবহার করা যেতে পারে। আর মঞ্চে পারফর্ম করার মতো কোনো বিষয় যদি না থাকে তাহলে আমি সাজেস্ট করব স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে দূরে থাকা। এর ব্যবহারকে আমি নিরুৎসাহিত করতে চাই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই স্টেরয়েড ব্যবহারের সাজেস্ট করি না, যদি না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি প্রতিযোগিতায় যায়।
‘এটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নিলে আবার রিমুভ করা যায়। এর জন্য কিছু মেডিসিন ও ইনজেকশন আছে। তবে সেটারও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ওজন কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও স্টেরয়েড আসলে কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়।’
প্রতিরোধ
ডা. রায়হান বলেন ‘প্রতিটি জিমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বডি বিল্ডিংয়ের প্রচলন বেড়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যগত সচেতনতা সৃষ্টিতে মিডিয়ারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা দরকার। কারণ হুজুগে গা ভাসালে হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সবার জানা থাকা দরকার।
সবচেয়ে বড় কথা, যেহেতু স্টেরয়েডের ব্যবহার শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তাই জেনেশুনে কারও এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। জিম চলবে শারীরিক সুস্থতার জন্য। মাসলম্যান বানানোটা এর উদ্দেশ্য হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ, মিডিয়া, অভিভাবক- সবাইকে বুঝতে হবে স্টেরয়েড ব্যবহার করলেই স্বাস্থ্যবান থাকা যাবে না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে হেলদি মনে হবে এটুকুই। তাই এটার ব্যবহার থেকে দূরে থাকাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’
যা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিমগুলোতে যথেচ্ছ ব্যবহার ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো খোঁজখবর রাখে না।
নিউজবাংলার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনটা জানা গেছে। একইসঙ্গে তারা বলেছেন, এখন থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার হয় এটি আমি ভাবতেই পারি না। স্টেরয়েড সাধারণত চিকিৎসকরা বিশেষ কিছু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসককে যখন কোনো জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তখন রোগীকে বাঁচানোর জন্য স্টেরয়েড দেয়া হয়।
বিষয়টি জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘আমি জিমে খোঁজ নেব। এটি তো হতে পারে না। বডি বিল্ড ন্যাচারালি হয়। মাসল বিল্ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেটি তো হবেই, আর সেজন্য একটা নির্দিষ্ট টাইম লাগবে। তাড়াহুড়া করে বডি বিল্ড করার নামে ব্যবসা করবে, এটা তো মেনে নেয়া যাবে না। প্রপার চ্যানেলের মাধ্যমে আমি বিষয়টি দেখব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও এর অধিভুক্ত কলেজের ১১৪ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী, সাময়িক ও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি। এর মধ্যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও পরীক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে ১০৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
আর নানা কারণে আরও পাঁচজনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। তবে এসব সুপারিশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সিন্ডিকেটে৷
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা শিক্ষার্থীর নাম জীম নাজমুল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি।
বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বহিষ্কার হওয়াদের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধবিরোধী আচরণ ও অ্যালকোহল গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘নানা অভিযোগে ১১৪ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা বোর্ড৷ এর মধ্যে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ছাত্র জীম নাজমুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে৷ এছাড়া দুজনকে দুই বছর ও অন্য দুজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে৷’
শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ৪৭টি এজেন্ডা ছিল জানিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন, কর্তব্যরত শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, জালিয়াতি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংয়ের অভিযোগগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আরও কয়েকটি বিষয়ে অধিক তদন্ত ও প্রমাণসাপেক্ষে সামনের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন:১৫ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি (ইউএমবিসি) থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের ‘ডেটাবেজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ২০২২-২৩’ স্নাতক (সম্মান) সমমানের মাইক্রোমাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেছে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মাহীর আলী রুশো।
সেই সঙ্গে রুশো গত ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারে ৯০ শতাংশ স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
এ ইউনিভার্সিটিতে ডিগ্রি নিতে দুই ধরনের পদ্ধতিতে ভর্তি হতে পারেন শিক্ষার্থীরা। এর একটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট হিসেবে সিজিপিএর ভিত্তিতে এবং আরেকটি দক্ষতার ভিত্তিতে। মূলত যারা মাইক্রোমাস্টার ডিগ্রি সম্পন্ন করেছে, তারা দক্ষতার ভিত্তিতে অল্প বয়সেই ভর্তির সুযোগ পায়, যেটি পেয়েছে বাংলাদেশের ছেলে রুশো।
এর আগেও রুশো তার অর্জন দিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে তার বয়সের কারণে। কম বয়সেই সে দেশ-বিদেশের জার্নালে ২৫টির বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রুশো সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডে অলিম্পিয়া গ্লোবাল লন্ডন রাউন্ডে রুশো ও তার দল একটি স্বর্ণপদক ও একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা (আইএমসি) ২০২২ আয়োজনে চতুর্থ বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতে রুশো। আইএমসি হলো বিশ্বের স্কুল বয়সী বিভিন্ন গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য গণিতভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতা। তার আগে ২০২১ সালে অনলাইন আইএমসিতে ৯৬টি দেশের ৯ শতাধিক স্কুলের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেখানেও ভালো করেছিল রুশো।
রুশোর বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক। ছেলের ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান আর গণিতের প্রতি ঝোঁক দেখে কিছুটা অবাক হয়েছেন। প্রথম দিকে নিজেরা বিশ্বাসও করতে চাননি, কিন্তু যখন দেখেন একের পর এক জটিল এবং উচ্চপর্যায়ের গাণিতিক সমস্যার সমাধান করছে তাদের ছেলে, তখন তারাও এগিয়ে আসেন। হাতে তুলে দেন তার পছন্দের বইপত্র।
তার বাবা রাজধানীর সেন্ট্রাল মেডিক্যাল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সে যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে, তখন থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল। সে সময় আমার একটা ল্যাপটপ ছিল। সেটাও খুব বেশি ভালো ছিল না। একটা পর্যায়ে আমি খেয়াল করি, সে আমার ল্যাটপটে ভিডিও দেখছে। এসব ভিডিও ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথের ভিডিও। আর সবগুলোই তার চেয়ে অনেক আপার লেভেলের।
‘এরপর আমি একদিন তাকে বলি, বাবা তুমি যেসব ভিডিও দেখো সেসব কি তুমি বুঝো, নাকি শুধু দেখো? তার উত্তর ছিল, বাবা আমি বুঝি। তারপর তার সঙ্গে কয়েক দিন আমি নিয়মিত কথা বলি। দেখলাম আসলেই সে বোঝে।’
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তার (রুশো) বয়স যখন ১১ বছর, তখন সে ক্যালকুলাস এবং জ্যামিতিক বিভিন্ন সমাধান রপ্ত করে ফেলে। ১২ বছর বয়সে কলেজ পর্যায়ের গণিত ও ফিজিক্স অনায়াসে করতে পারত।’
রুশোর মা চিকিৎসক রুমা আক্তার বলেন, ‘তাকে অনেক ছোটবেলা থেকেই দেখেছি পড়ালেখার প্রতি ভীষণ ঝোঁক। আমার জন্য যখন কোনো বই কিনেছি, তখন তার জন্যও আমি কিনেছি বই। আসলে সন্তানকে বুঝতে হবে। সে কী চায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় তার চাওয়ার থেকে আমাদের চাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিই, যা তাদের বিকাশকে বাধা দেয়।’
রুশোর ইচ্ছা পদার্থবিদ্যায় নিজের দখল আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজ করার। সে জানায়, সেই লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করছে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অর্জন
রুশো দেশ-বিদেশের অনেক প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ওপেন কনটেস্ট অলিম্পিয়াডে রুশো প্রতিযোগিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে। সেন্ট জোসেফ ন্যাশনাল পাই অলিম্পিয়াডে নটরডেমের শিক্ষার্থীকে হারিয়ে প্রথম হয়েছে সে।
বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্স অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, জামাল নজরুল কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড চ্যাম্পিয়ন এবং জামাল নজরুল জ্যোতির্বিদ্যা উৎসব, ন্যাশনাল সাইবার অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ জ্যোতির্বিদ্যা অলিম্পিয়াডসহ অনেক প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক বিজয়ী রুশো।
বাংলাদেশ আইকিউ অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন, ভারতের সিপিএস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে রুশো। বাংলাদেশ বিজ্ঞান সংগঠন থেকে গুগল-আইটি অলিম্পিয়াডে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। হিগসিনো বায়োলজি অলিম্পিয়াড বিজয়ী হয় রুশো। সেন্ট জোসেফ থেকে সুডোকু উৎসব, বাংলাদেশ সায়েন্স কংগ্রেসের ফটোগ্রাফিং ডিসক্রাইবিং কনটেস্টে চূড়ান্ত বিজয়ীও এ কিশোর।
অন্য কার্যক্রম
রুশো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ইয়ুথ ফিজিক্স চ্যালেঞ্জ (iphoc.org)-এর সিইও, কোয়ান্টাম লার্নিং ইউটিউব চ্যানেল, রুশো এডুকেশন প্ল্যানেটে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ করে।
সে নিয়মিত গিটহাবে কোয়ানটাম কম্পিউটিং, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স করছে। এ পর্যন্ত তার গিটহাবে ৪৭টি রিপজিটরিস রয়েছে।
আরও পড়ুন:জেলা প্রশাসকরা শিক্ষাবিষয়ক একটি পূর্ণকালীন টেলিভিশন চ্যানেল চালু করার দাবি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
দীপু মনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা শিক্ষাবিষয়ক একটি পূর্ণকালীন টেলিভিশনের কথা বলেছেন। আমরা মনে করি এটা যৌক্তিক দাবি। প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের বদান্যতায় আমরা সংসদ টেলিভিশনটি ব্যবহার করি। যদি পূর্ণাঙ্গ আরেকটি টেলিভিশন পাওয়া যায় তাহলে খুব ভালো হয়। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি এবং তা জেলা প্রশাসকদের জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য একটি আচরণ বিধিমালা করার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। আমরা মনে করি এটি ভালো প্রস্তাব। এটি নিয়ে আমরা কাজ করব।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদবি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।
দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কর্মকর্তাদের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কর্মকর্তাদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা করার কথা বলেছেন ডিসিরা। এটি করা যেতে পারে।’
এছাড়া হাওর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির সময় পৃথক ক্যালেন্ডারে করার দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। মন্ত্রী তাদেরকে জানিয়েছেন, এ বিষয়েও কাজ চলছে।
আরও পড়ুন:কোনো ইস্যু না পেয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে কেউ কেউ নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ওপর ভর করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাদেরকে করুণা করা যায়। তারা যা বলছেন তা মিথ্যাচার, সেটি মেনে নেয়া যায় না। পাঠ্যবইয়ে যেগুলো ভুল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে তা সংশোধন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। বাকি বইগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত আছে। সবাই মতামত দিন। যেসব মতামত যৌক্তিক তা গ্রহণ করা হবে।’
দীপু মনি বলেন, ‘কেউ কেউ বই না পড়েই অপরাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। তারা চান যে এ সরকার না থাকুক। স্মার্ট বাংলাদেশ কী দরকার! তারা চান পাকিস্তান।
‘একটি গোষ্ঠী বলছে, নতুন বইয়ে ইসলাম নেই, যা আছে ওটা ইসলামবিরোধী। আগে বই দেখে নিন। চিলে কান নিয়েছে শুনে তার পেছনে না ছুটে আগে নিজে দেখুন।’
আরও পড়ুন:প্রতিষ্ঠার মাত্র ৭ বছরেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (সিইউবি)। ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
সমাবর্তন সামনে রেখে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এখন সাজ সাজ রব। নয়নাভিরাম সাজে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। আর রাজধানীর পূর্বাচলে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হবে সমাবর্তন-পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথমবারের মতো এই সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন প্রায় পাঁচশ’ গ্র্যাজুয়েট।
প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই উদ্বেলিত। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ডিগ্রি নেয়ার অপেক্ষায় আছেন গ্র্যাজুয়েটরা।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এ বিষয়ে বলেন, ‘সমাবর্তনের দিনটি আমাদের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক। কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে সমাবর্তনের মাধ্যমে সার্টিফিকেট তুলে দিতে পারছি। এর জন্য আমি আমাদের ফ্যাকাল্টি, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সিইউবি-সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসটি হবে পরিবেশবান্ধব। এখানে আধুনিক ভবন, দৃষ্টিনন্দন লেক ও বিশাল খেলার মাঠ থাকবে। সর্বাধুনিক ল্যাব, স্টুডিও, লাইব্রেরি, থিয়েটার, স্টাডি জোনের সঙ্গে থাকছে শিক্ষার্থী লাউঞ্জ, অবসর কাটানোর জায়গা, জিম, ফুড লাউঞ্জসহ বিভিন্ন সুবিধা। বিশ্বমানের স্থাপত্য নকশায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নান্দনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস।
সিইউবিতে রয়েছে আধুনিক সময়ের উপযোগী বিভিন্ন বিভাগ যেমন- শিপিং ও মেরিটাইম সায়েন্স, বিবিএ, এমবিএ ও ইএমবিএ, সিএসই, ইইই, এলএলবি, ইংলিশ, মিডিয়া কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম, মাস্টার্স ইন মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন ও লজিস্টিকস। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সাজানো হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রম।
আরও পড়ুন:সরকারের দোষ খুঁজে না পেয়ে দেশবিরোধীরা নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে চড়াও হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শনিবার তিনি এমন মন্তব্য করেন। সাবেক ব্রিটিশ ফার্স্ট লেডি চেরি ব্লেয়ারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য (ভিসি) রুবানা হক, সমাবর্তন বক্তা ছিলেন নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস জন সেক্সটন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হচ্ছে, নতুন বইয়ে ইসলাম ধর্মবিরোধী বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। এটা কখনো সত্য নয়।’
‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অনেক পুরোনো বইয়ের সঙ্গে ছবি সংযোজন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ সেটি এখন সেখানেও চলে না। দেশবিরোধীরা সরকারের দোষ খুঁজে না পেয়ে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে চড়াও হয়েছে। সুতরাং জনগনকে জানতে হবে যে, দেশে একটা অপশক্তি আছে, যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিরোদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শুধু বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নয়, দেশের অগ্রযাত্রাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।’
দীপু মনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত এ জন্য যে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে। গত ১৫ বছর ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। আমার প্রত্যাশা এশিয়ান নারীদেরকে আগামীর নেতৃত্বের জন্য তৈরি করবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।’
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে নতুন বই না পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর কাগজের সংকট ছিল। এ সংকটের মধ্যেও আমরা এরইমধ্যে ৮০ ভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। বাকি বই জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লার্স রাসমুসেন বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নারী শিক্ষা দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, ইরাক, মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে নারীশিক্ষা বেশ কঠিন। তাদের জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৮ দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে গত তিন বছর সমাবর্তন না হওয়ায় এবার ২০২০, ২০২১, ২০২২ শিক্ষাবর্ষের ৩০০ স্নাতককে সনদ প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য