× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Students are not getting all the books in the beginning
google_news print-icon

শুরুতেই সব বই হাতে পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

শুরুতেই-সব-বই-হাতে-পাচ্ছে-না-শিক্ষার্থীরা
১ জানুয়ারিতেই সব বই হাতে পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলাদা আলাদাভাবে এখনও প্রায় ৫৬ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ বাকি। এই অবস্থায় এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই দেয়া সম্ভব হবে না। পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বই পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

আর কদিন পর আসছে নতুন বছর। প্রথম দিনে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে উন্মুখ বিদ্যালয়পড়ুয়া লাখো শিক্ষার্থী। তবে ১ জানুয়ারি তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় জমালেও তাদের মধ্যে ভর করবে অপূর্ণতা। বই উৎসবের জন্য সরকারের সব প্রস্তুতি থাকলেও দেশের সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই তুলে দিতে সময় লাগবে অন্তত আরও তিন থেকে চার মাস।

শিক্ষার্থীদের হাতে বই যেমন দেরিতে পৌঁছাবে, তেমনি এবারের পাঠ্যপুস্তক পুরো শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত টিকবে কি-না তা নিয়েও আছে সংশয়। কারণ কাগজ সংকটে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে ছাপানো হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক।

মাঠ ঘুরে এসব তথ্যের নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও এসব অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, তাদের কাছে মাধ্যমিক স্তরের বই প্রস্তুত আছে ৭৮ ভাগ ও প্রাথমিক স্তরের ৬৯ ভাগ। আগামী তিন দিনে তারা সব মিলিয়ে ৮০ ভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবেন। ১ জানুয়ারি এসব সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বই সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছেন তারা।

কর্তৃপক্ষের এমন বয়ানের সঙ্গে অবশ্য ছাপার কাজে জড়িত ব্যবসায়ীদের কথার মিল নেই। মুদ্রণকারীরা জানিয়েছেন, আলাদা আলাদাভাবে এখনও প্রায় ৫৬ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ বাকি। অথচ নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে মাত্র বাকি তিন দিন। এই অবস্থায় এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই দেয়া সম্ভব হবে না। পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বই পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

কত বই ছাপা হয়েছে?

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৩ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫টি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

এনসিটিবি বলছে, এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৬ কোটি ৬৬ লাখ ১৯৫টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮২ হাজার বই প্রস্তুত হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিটিবির পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার বই প্রস্তুত থাকার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংখ্যা ১৪ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার।

দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ২০১০ সাল থেকে বিনামূল্যে নতুন বই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বইয়ের নিম্ন মান নিয়ে প্রতিবারই অভিযোগ ওঠে। এবারও এই অপবাদ ঘুচবে না। মুদ্রণ ব্যবসায়ী ও এনসিটিবির সূত্র জানায়, কাগজ সংকটে ৮৫ জিসিএম কাগজের পরিবর্তে এবার সাধারণ নিউজপ্রিন্টে চলছে বই ছাপানোর কাজ।

মুদ্রণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে ৫০ ভাগ। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম শ্রেণির জন্য ৬০ ভাগ ও ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪০ ভাগ। অন্যদিকে, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে ৩০ ভাগ।’

মুদ্রণ সমিতির তথ্য মেনে নিতে আপত্তি করছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওনাদের তথ্য সাংঘর্ষিক। আমাদের কাছে বই পৌঁছে দেয়ার চালান রয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা মাধ্যমিকের জন্য ৭৮ ভাগ বই প্রস্তুত করেছি আর প্রাথমিকের জন্য ৬৯ ভাগ বই প্রস্তুত করে পৌঁছে দিয়েছি।’

১ জানুয়ারির বই উৎসবের মধ্য দিয়ে সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ার যে সংস্কৃতি সরকার চালু করেছে, তার সফলতা নিয়ে পূর্ণ আশাবাদি এই কর্মকর্তা।

ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আশা করি পুরোপুরি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিকে একটু এদিক-ওদিক হতেও পারে আবার নাও পারে। মাধ্যমিকে সব বই পাবে। দেশের সব জায়গায় বই যেতে জানুয়ারির ১৫ তারিখ লাগবে। উৎসব হওয়ার মতো বই আমি পৌঁছে দিচ্ছি।’

ফরহাদুল ইসলাম যুক্তি দিয়ে বলেন, বছরের প্রথম দিন বই দেয়া হলেও সবার পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ‘আমার ৮০ ভাগ বই ওইদিন চলে যাবে। মাধ্যমিকে ৭৮ ভাগ বই চলে গিয়েছে। প্রাথমিকে ৬৯ ভাগ বই চলে গিয়েছে, গতকালের (সোমবার) রিপোর্ট পর্যন্ত। আমরা এই কয়দিনে মাধ্যমিক বাদ দিয়ে প্রাথমিকের বইটা দিতে বলেছি। বই প্রস্তুত হয়ে আছে এখন মাঠে দেয়া নিয়ে কথা। আমরা চাই ১ তারিখে ৮০ ভাগ বই পৌঁছে যাক।’

বইয়ের মান নিয়ে আপস এনসিটিবির

পাঠ্যবই ছাপাতে যে মানের কাগজ ব্যবহারের শর্ত দেয়া হয়েছে, কাগজ সংকটের অজুহাত দিয়ে তা রাখছে না মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা। শুরুতে বিষয়টি এনসিটিবির নজরে আনা হলে তারা হাঁকডাক দিলেও, এখন নমনীয় সুর।

মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেরি করে দরপত্র দেয়া ও কাগজ সংকটের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। কাগজের উজ্জ্বলতার মান ৮৫ একক রাখার শর্ত ছিল কার্যাদেশে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে নিউজপ্রিন্ট। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এই শর্তে নমনীয় হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি।

নমনীয় হওয়ার পর কথার ধরনও পাল্টে গেছে এনসিটিবির। ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভার্জিন পাল্প (কাঁচা মণ্ড) না দিলে উজ্জ্বলতা আসবে না। আমরা ৮৫ ব্রাইটনেস চাই। তবে এই চাওয়াটাও আমাদের ঠিক না। বাচ্চাদের চোখের জন্য এটা ঠিক না। আমরা কাগজের মান ভালো রাখতে উজ্জ্বলতা বেশি চেয়েছি। তবে আমাদের ভার্জিন পাল্প না থাকার কারণে এটা হয়েছে।’

উজ্জ্বলতা ছাড়া কাগজের অন্য কোনো মানের সঙ্গে আপস করা হয়নি বলে দাবি করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি কাগজের বাকি সব প্যারামিটার ঠিক রেখে যেটুকু করা যাবে সেটাই হবে। অনেকেই এটা সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিউজপ্রিন্ট ব্যবহার করেছে। তবে আমরা অনেক প্রেসের কাজ, কাগজ ও ফর্মা বাদ দিয়েছি।’

মুখোমুখি মুদ্রণ সমিতি ও এনসিটিবি

বই ছাপানো নিয়ে শুরু থেকেই দুই ধরনের বক্তব্য দিয়ে এসেছে এনসিটিবি ও মুদ্রণ সমিতি। ব্যবসায়ীদের দাবি, সব সংকটের কারণ সরকারপক্ষের দরপত্র আর কার্যাদেশ দিতে দেরি করা। সময় থাকতে এসব কাজ সম্পন্ন হলে, শেষ সময়ে এসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

এনসিটিবি নিজেদের ঘাড়ে দায় নিতে নারাজ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করেই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। কারণ নিজেদের গুদাম থেকে পুরনো কাগজ দিয়েও তারা চায় ঠিক সময়ে বই আসুক।

মুদ্রণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাস্তবতা ভিন্ন। কাগজের যে সংকট সেটি তো নিরসন হয়নি। উল্টো আরও সংকট তৈরি হয়েছে। তারা অর্ডার করেছিল ৮৫ মানের ব্রাইটনেসে। আর বই নিচ্ছে নিউজপ্রিন্টে। আমরা আগেই বলেছিলাম যে কোনো একটাতে অর্ডার করেন। তখন আমাদের কথা শোনেনি তারা। এখন মেনে নিয়েছে।’

জহুরুলের মতে ফেব্রুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করে জুনে কার্যাদেশ দিলে কোনো ঝামেলা তৈরি হতো না। তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেয়া হয়েছে অক্টোবর থেকে। আর নভেম্বরের ৩ তারিখে শেষ অর্ডার হয়েছে। যখন ডিসেম্বরে বই দরকার, তখন ছাড় দিয়ে নিউজপ্রিন্টে বই নেয়া হচ্ছে।’

এমন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা আরও চার মাস আগে মন্ত্রণালয়ে লিখিত জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন জহুরুল। তিনি বলেন, ‘তখন কোনো সমাধান দেয়া হয়নি। তখন কেউ শোনেনি।’

ব্যবসায়ীদের এমন তথ্য শুনে বেজায় চটে যান এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি এটা তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি যে আপনারা কাদের নেতা? আপনারা যাদের নেতা তারা আমাদের বই দিয়ে দিল। আর আপনারা কী তাদের অস্বীকার করছেন? আপনারা এভাবে কেন কথা বলছেন?’

অনেক ব্যবসায়ী উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফরহাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে আমার বই পৌঁছে দিয়ে তো আমাকে চালান দিয়েছে। আমার কাছে রেকর্ড আছে। আপনারা বলছেন ৩০ ভাগ বই দিয়েছে। সেটা আপনারা এনসিটিবির সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থে বলতে পারেন। কিন্তু বই তো আপনাদের প্রেসের লোক বানিয়ে দিয়েছে।’

ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘মুদ্রণ সমিতি চাচ্ছে আমরা ব্যর্থ হই। দেশে কাগজ নেই তাদের কাগজ আমদানি করতে দিতে হবে। আমি শুধু জানি, আমার বই দিতে হবে। আমি মুদ্রণ সমিতির কথায় কান দিচ্ছি না। এবার শুধু কাগজের সংকট। আমার গোডাউনের পুরোনো কাগজ দিয়েছি। সেখানে ১০০ টনে ৮০ টন হয়। এটা তো আমাদের কাজ ছিল না। আমরা জানি কারা কী অবস্থায় আছে। আমরা দিচ্ছি। আমার তো টেন্ডার দিয়ে এই দায় নেয়ার কথা না।’

দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ নিয়ে ব্যবসায়ী অভিযোগকেও আমলে নিতে নারাজ ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তবে নভেম্বরে অর্ডার হয়েছে আর দেরিতে হয়েছে এটা তাদের বাহানা। আমরা তাদের ক্যাপাসিটি জেনে গিয়েছি। তারা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার দিতে চায় না। তাদের মানসিক সমস্যা আছে।’

আরও পড়ুন:
দুই বছর শেষে ফের বই উৎসব, ছাপা শুরু বৃহস্পতিবার
বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই : শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Job Professor Zakir Hossain is a member of UGC

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন জবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ এর যুগ্মসচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে চার শর্তে তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শর্তগুলো উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহেরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই গত মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এরপর থেকেই ইউজিসির এই পদটি ফাঁকা হয়।

আরও পড়ুন:
জবি কর্মচারীদের ৩ মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসের আবাসস্থল ছাড়ার নির্দেশ
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও
মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

মন্তব্য

শিক্ষা
Three students were beaten and injured in madrasa for playing football

ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম

ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জখম শিক্ষার্থী নাইম। ছবি: নিউজবাংলা
ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকার নেছারাবাদ এনএস কামিল মাদ্রাসায় ফুটবল খেলার কারণে তিন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে মো. সালাহ উদ্দিন নামের ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক।

নেছারাবাদ মাদ্রাসার তাহেলি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

আহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার মিজানুর রহমানের ছেলে হাবিবুল্লাহ, পটুয়াখালীর ছোট দিঘাই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে রুবায়েত এবং ভোলা জেলা সদরের চরনোয়াবাদ গ্রামের মাহমুদ হাসানের ছেলে ইয়াসিন হাসান নাইম। তাদের সবার বয়স ১৬ বছর। এদের মধ্যে ইয়াসিন হাসান নাইম গুরুতর আহত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আহতদের সহপাঠিরা বলে, মাদ্রাসার তাহেলী আবাসিক বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ, রুবায়েত ও নাইম। সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে বাইরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল তারা। খেলা শেষে মাদ্রাসায় ফিরলে শিক্ষক মো. সালাহ উদ্দিন তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ফুটবল খেলার অপরাধে তাদের বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে নাইমের সমস্ত শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। এরপর শিক্ষকরা তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার দুপুরে তাদের ডেকে নিয়ে সালাহ উদ্দিন হুজুর বেত দিয়ে মারতে শুরু করেন। অনেক অনুনয় আর কাকুতি-মিনতি করলেও মন গলেনি তার।

এদিকে, আহত শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান অনেকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: ১১ মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
নওগাঁয় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় শিক্ষক কারাগারে

মন্তব্য

শিক্ষা
Outsider women 5 students injured by knife in Gaibandha school

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত ছুরির আঘাতে আহত শিশু শিক্ষার্থীদের সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের একজন সেতু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, ‘বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে মাত্র। আমরা তখনও ক্লাসে যাইনি। এ সময় হঠাৎ ওই মহিলা ছুটে এসে চাকু (ছুরি) দিয়ে আমাদের আঘাত করতে থাকে। এতে আমার বাম হাত কেটে যায়। এক ক্লাসমেটের পিঠে এবং আরেকজনের পা ও মাথায় ছুরি মারা হয়েছে। আরও দুজনকে আঘাত করেছে ওই মহিলা।’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক বহিরাগত এক নারী ছুরি হাতে প্রবেশ করে শিশু শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাত করেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি তিন শিক্ষার্থী হল সেতু, মিতু ও রাবেয়া। ষষ্ঠ শ্রেণির এই তিন ছাত্রীর মধ্যে ছুরিকাঘাতে সেতুর বাম হাত, মিতুর পিঠ ও রাবেয়ার দুই পা ও মাথায় জখম হয়েছে। আহত অপর দুই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ওই নারীর নাম জান্নাতী আক্তার। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আশিক মিয়ার স্ত্রী।

কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেন যে ওই তরুণী মানসিক ভারসাম্যহীন।

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত
হামলাকারী নারীকে আটকের পর পুলিশ এসে থানায় নিয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন ওই নারী হঠাৎ করেই ছুরি হাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থানরত পাঁচ শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।

আহতদের চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের একজন সেতু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, ‘বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে মাত্র। আমরা তখনও ক্লাসে যাইনি। এ সময় হঠাৎ ওই মহিলা আমাদের দিকে ছুটে এসে চাকু (ছুরি) দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এতে আমার বাম হাত কেটে যায়। আমার আরও এক ক্লাসমেটের পিঠে এবং আরেকজনের পায়ে ও মাথায় ছুরি মারা হয়েছে। এছাড়া আরও দুজনকে আঘাত করেছে ওই মহিলা।’

অভিভাবক আবুল কালাম (খোকা) বলেন, ‘বিদ্যালয়ে একজন নারী প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করেছে। আমরা অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। ঘটনাটি আরও বড় হতে পারত। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

সাদুল্লাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম (শফিক) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে একটি দেশীয় ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হামলাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনই সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

মন্তব্য

শিক্ষা
Human chain in Jabi to protest against the restoration of quota system

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাবির শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনরায় বহাল করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সাধারণ সভা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তরা কোটা পুনর্বহালে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কোটা প্রদান করা হয় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে তোলার জন্য, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইতোমধ্যে অনেকেই সরকারি চাকরিতে রয়েছেন। এই কোটা পদ্ধতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে এবং অযোগ্যদের হাতে প্রতিনিয়ত দেশকে তুলে দিচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে তারা নতুনভাবে পাকিস্তান আমলের বৈষম্যপ্রথা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে। আবারও মুক্তিযোদ্ধা কোটা নামে নতুন বৈষম্যের সূচনা করেছে। সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা রীতিমতো মেধাশূন্য দেশ গড়ার পায়তারা ছাড়া কিছুই নয়।

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। অথচ আজকে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাইকোর্ট কোটার পক্ষে রায় দিয়েছে।

‘মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, এই কোটার রায়কে সবাই প্রত্যাখান করেছে। ২০১৮ সালের আন্দোলনে যে কোটা বাতিল করা হয়েছে, আদালতের এই রায়কেও আন্দোলনের মাধ্যমে একইভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। যে রায়কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেটা কখনও বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা মেহের আফরোজ শাওলী বলেন, ‘কোটা সমতা সৃষ্টির জন্য, কিন্তু সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা মেধাবীদের অবমূল্যায়ন। এ কোটাব্যবস্থা রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সমতার পরিবর্তে অসমতার সৃষ্টি করবে। তাই অবিলম্বে এই রায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কোটা বিলুপ্ত করতে হবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ জুন) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের করা এক রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
কোটা বহালে আদালতের রায়, ঢাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

মন্তব্য

শিক্ষা
80 percent of university students suffer from depression survey

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশেরই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এসেছে। প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই হতাশার মধ্যে দিয়ে কাটান বলে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে উঠে এসেছে। হতাশার বিভিন্ন উপসর্গ, যেমন: ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, কোনো কিছু উপভোগ না করা, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, আত্মহত্যার চিন্তা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ’ শীর্ষক সমীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করা এ জরিপে সারা দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

হতাশার উপসর্গ তুলনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের তুলনায় বেশি সময় হতাশার উপসর্গ নিজের মাঝে অনুভব করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বাকি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের মাঝে হতাশার উপসর্গ দেখা যায়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা হতাশার উপসর্গগুলো অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই ধরনের উপসর্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা

এদিকে, ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের হতাশার বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে জরিপে। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। বিভিন্ন কারণে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার কারণে হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, হল বা আবাসিক পরিবেশ নিয়ে ৯ শতাংশ, সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা বুলিংয়ের কারণে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উপর্যুক্ত সবগুলো কারণের জন্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা অন্যান্য কারণে হতাশায় ভুগছেন।

এদের মধ্যে সহপাঠী, সিনিয়র কিংবা শিক্ষকের দ্বারা ক্যাম্পাসে শারীরিক বা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ৩১ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী; যার মাঝে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহপাঠী বা সিনিয়র দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শিক্ষক কর্তৃক ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, স্টাফ কর্তৃক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্যদের দ্বারা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছন।

হয়রানির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর, মোটামুটি প্রভাব পড়েছে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর এবং কোনোরূপ প্রভাব পড়েনি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, মোটামুটি সন্তুষ্ট ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

নিজেকে প্রকাশ

জরিপের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা মন খুলে কথা বলার মত কোনো শিক্ষক পাননি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা খুব সহজে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ৪১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভাগের অন্যান্য সদস্যদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

হলের পরিবেশ

হলের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা পুরোপুরি অসন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কথা বলেছেন মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকিরা জানিয়েছেন তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট।

অসন্তুষ্টির কারণ হিসেবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকার পরিবেশকে দায়ী করেছেন। অনুন্নত খাবারকে দায়ী করেছেন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগার সংকট মনে করছেন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং সবগুলো কারণকেই দায়ী করছেন ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ১০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য কারণকে অসন্তুষ্টির জন্য দায়ী করছেন। ৭০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, হলের পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যারিয়ার ভাবনা

জরিপের তথ্যানুসারে, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে চান, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি চাকরি করতে চান।

বাকি শিক্ষার্থীরা এখনও কোনোরূপ ক্যারিয়ার ভাবনা ঠিক করেননি, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ।

আত্মহত্যার প্রবণতা

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তায় এসেছে, কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তা এসেছে ও উপকরণও জোগাড় করেছেন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কখনও মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা এসেছে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশায়, ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানের ফলে, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রেমঘটিত বিষয়ে, ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে, অন্যরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করার চিন্তা মাথায় এসেছে বলে জানিয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিপক্ষে মত দিয়েছেন। আর ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা এ সম্পর্কে জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দূরীকরণে সংগঠনটি বেশকিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

এগুলো হলো- ক্যাম্পাসে কাউন্সিলিং ইউনিটের ব্যবস্থা করা, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা, ক্যাম্পাসে কেউ যেন বুলিং এর শিকার না হয় তা মনিটরিং করা, নিরাপদ বাসস্থান ও উন্নতমানের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্মান ও আস্থার সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করানো; মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা; সেমিনার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা; মনোবিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের এসব সেশনে বিভিন্ন সমস্যা ও এগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং দেশের সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ), এডুকেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১৬ শতাংশ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫৪ জন (১৬ দশমিক ২ শতাংশ), তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৬৯ জন (২৩ দশমিক ৪ শতাংশ), চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪০ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ), মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪১ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ১৫ জন (এক শতাংশ)।

আরও পড়ুন:
কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫৪তম
এশিয়ার সেরা তিনশ’র তালিকায় নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

শিক্ষা
Proposal to increase the allocation of Tk 4 thousand 97 crores in primary education
বাজেট

প্রাথমিক শিক্ষায় চার হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব

প্রাথমিক শিক্ষায় চার হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব ফাইল ছবি।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। সে হিসাবে আসন্ন অর্থবছরে চার হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বেড়েছে।’

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের তুলনায় আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার হাজার ৯৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মান ও অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য এই বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৮ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে িই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর আগে মন্ত্রিসভায় তা অনুমোদন হয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। সে হিসাবে আসন্ন অর্থবছরে চার হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বেড়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭৯ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ২৬ হাজার ৩৬৬টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

‘শিক্ষার প্রধান উপকরণ বই যাতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই পায় সে লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে ইএফটি’র মাধ্যমে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। সরকারের সুচিন্তিত নীতির ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ২০০৯ সালের ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

‘স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য হুইল চেয়ার, ক্রাচ, শ্রবণযন্ত্র ইত্যাদি ক্রয় ও বিতরণ করা হচ্ছে এবং তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সুবিধার্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
দাম বাড়তে পারে এসির
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ ৪ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব
একচল্লিশে মাথাপিছু আয় সাড়ে ১২ হাজার ডলারে উন্নীতের আশা
এমপিদের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব
আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৭৫ শতাংশ

মন্তব্য

শিক্ষা
Drug protest through painting

চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে মাদকের প্রতিবাদ

চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে মাদকের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবিক পাঠশালার উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে৷

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবিক পাঠশালার উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে৷

এসপি চিত্রালয় আর্ট স্কুলে শনিবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিকাশ কান্তি দাশ ও সাংবাদিক ইউসুফ বিন হোসাইন।

মাদকবিরোধী এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মাদকের ভয়াল থাবা ও সামাজিক অবক্ষয়কে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরে।

শিল্পের ছোঁয়ায় মাদকবিরোধী এই নীরব প্রতিবাদকে মানবিক পাঠশালার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ আখ্যা দিয়ে সমাজকর্মী ও সাংবাদিক ইউসুফ বিন হোসাইন সব শিক্ষার্থীকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এক শিক্ষার্থীর অভিব্যক্তি, ‘এই প্রথম মাদকবিরোধী প্রতিবাদ জানিয়ে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। সব বন্ধুকে নিয়ে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ করেছি। এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিকাশ কান্তি দাশ বলেন, ‘পরিবার ও সমাজের জন্য মাদক হুমকিস্বরূপ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড করতে কোনো দ্বিধা করে না এবং মাদকাসক্তি সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধিসহ শৃঙ্খলা নষ্ট করে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা সমাজে ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।

মানবিক পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাছিন রাজ্জাক আলভি জানান, মাদকবিরোধী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করানো হয়।

মানবিক পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক ইরানুল ইসলাম বলেন, ‘মানবিক পাঠশালা শুধু একটি সংগঠনই নয়, একটি সামাজিক আন্দোলনও। এই সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম হচ্ছে মাদকবিরোধী আন্দোলন। মানবিক পাঠশালার উদ্যোগে মাদকবিরোধী এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবিক পাঠশালার সদস্য মেহেদী ইকবাল ইমন, আরশাদুল ইসলাম আপনসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য

p
উপরে