× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Students are not getting all the books in the beginning
hear-news
player
google_news print-icon

শুরুতেই সব বই হাতে পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

শুরুতেই-সব-বই-হাতে-পাচ্ছে-না-শিক্ষার্থীরা
১ জানুয়ারিতেই সব বই হাতে পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলাদা আলাদাভাবে এখনও প্রায় ৫৬ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ বাকি। এই অবস্থায় এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই দেয়া সম্ভব হবে না। পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বই পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

আর কদিন পর আসছে নতুন বছর। প্রথম দিনে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে উন্মুখ বিদ্যালয়পড়ুয়া লাখো শিক্ষার্থী। তবে ১ জানুয়ারি তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় জমালেও তাদের মধ্যে ভর করবে অপূর্ণতা। বই উৎসবের জন্য সরকারের সব প্রস্তুতি থাকলেও দেশের সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই তুলে দিতে সময় লাগবে অন্তত আরও তিন থেকে চার মাস।

শিক্ষার্থীদের হাতে বই যেমন দেরিতে পৌঁছাবে, তেমনি এবারের পাঠ্যপুস্তক পুরো শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত টিকবে কি-না তা নিয়েও আছে সংশয়। কারণ কাগজ সংকটে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে ছাপানো হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক।

মাঠ ঘুরে এসব তথ্যের নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও এসব অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, তাদের কাছে মাধ্যমিক স্তরের বই প্রস্তুত আছে ৭৮ ভাগ ও প্রাথমিক স্তরের ৬৯ ভাগ। আগামী তিন দিনে তারা সব মিলিয়ে ৮০ ভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবেন। ১ জানুয়ারি এসব সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বই সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছেন তারা।

কর্তৃপক্ষের এমন বয়ানের সঙ্গে অবশ্য ছাপার কাজে জড়িত ব্যবসায়ীদের কথার মিল নেই। মুদ্রণকারীরা জানিয়েছেন, আলাদা আলাদাভাবে এখনও প্রায় ৫৬ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ বাকি। অথচ নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে মাত্র বাকি তিন দিন। এই অবস্থায় এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সব বই দেয়া সম্ভব হবে না। পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বই পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

কত বই ছাপা হয়েছে?

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৩ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫টি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

এনসিটিবি বলছে, এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৬ কোটি ৬৬ লাখ ১৯৫টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮২ হাজার বই প্রস্তুত হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিটিবির পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার বই প্রস্তুত থাকার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংখ্যা ১৪ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার।

দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ২০১০ সাল থেকে বিনামূল্যে নতুন বই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বইয়ের নিম্ন মান নিয়ে প্রতিবারই অভিযোগ ওঠে। এবারও এই অপবাদ ঘুচবে না। মুদ্রণ ব্যবসায়ী ও এনসিটিবির সূত্র জানায়, কাগজ সংকটে ৮৫ জিসিএম কাগজের পরিবর্তে এবার সাধারণ নিউজপ্রিন্টে চলছে বই ছাপানোর কাজ।

মুদ্রণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে ৫০ ভাগ। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম শ্রেণির জন্য ৬০ ভাগ ও ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪০ ভাগ। অন্যদিকে, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে ৩০ ভাগ।’

মুদ্রণ সমিতির তথ্য মেনে নিতে আপত্তি করছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওনাদের তথ্য সাংঘর্ষিক। আমাদের কাছে বই পৌঁছে দেয়ার চালান রয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা মাধ্যমিকের জন্য ৭৮ ভাগ বই প্রস্তুত করেছি আর প্রাথমিকের জন্য ৬৯ ভাগ বই প্রস্তুত করে পৌঁছে দিয়েছি।’

১ জানুয়ারির বই উৎসবের মধ্য দিয়ে সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ার যে সংস্কৃতি সরকার চালু করেছে, তার সফলতা নিয়ে পূর্ণ আশাবাদি এই কর্মকর্তা।

ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আশা করি পুরোপুরি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিকে একটু এদিক-ওদিক হতেও পারে আবার নাও পারে। মাধ্যমিকে সব বই পাবে। দেশের সব জায়গায় বই যেতে জানুয়ারির ১৫ তারিখ লাগবে। উৎসব হওয়ার মতো বই আমি পৌঁছে দিচ্ছি।’

ফরহাদুল ইসলাম যুক্তি দিয়ে বলেন, বছরের প্রথম দিন বই দেয়া হলেও সবার পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ‘আমার ৮০ ভাগ বই ওইদিন চলে যাবে। মাধ্যমিকে ৭৮ ভাগ বই চলে গিয়েছে। প্রাথমিকে ৬৯ ভাগ বই চলে গিয়েছে, গতকালের (সোমবার) রিপোর্ট পর্যন্ত। আমরা এই কয়দিনে মাধ্যমিক বাদ দিয়ে প্রাথমিকের বইটা দিতে বলেছি। বই প্রস্তুত হয়ে আছে এখন মাঠে দেয়া নিয়ে কথা। আমরা চাই ১ তারিখে ৮০ ভাগ বই পৌঁছে যাক।’

বইয়ের মান নিয়ে আপস এনসিটিবির

পাঠ্যবই ছাপাতে যে মানের কাগজ ব্যবহারের শর্ত দেয়া হয়েছে, কাগজ সংকটের অজুহাত দিয়ে তা রাখছে না মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা। শুরুতে বিষয়টি এনসিটিবির নজরে আনা হলে তারা হাঁকডাক দিলেও, এখন নমনীয় সুর।

মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেরি করে দরপত্র দেয়া ও কাগজ সংকটের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। কাগজের উজ্জ্বলতার মান ৮৫ একক রাখার শর্ত ছিল কার্যাদেশে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে নিউজপ্রিন্ট। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এই শর্তে নমনীয় হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি।

নমনীয় হওয়ার পর কথার ধরনও পাল্টে গেছে এনসিটিবির। ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভার্জিন পাল্প (কাঁচা মণ্ড) না দিলে উজ্জ্বলতা আসবে না। আমরা ৮৫ ব্রাইটনেস চাই। তবে এই চাওয়াটাও আমাদের ঠিক না। বাচ্চাদের চোখের জন্য এটা ঠিক না। আমরা কাগজের মান ভালো রাখতে উজ্জ্বলতা বেশি চেয়েছি। তবে আমাদের ভার্জিন পাল্প না থাকার কারণে এটা হয়েছে।’

উজ্জ্বলতা ছাড়া কাগজের অন্য কোনো মানের সঙ্গে আপস করা হয়নি বলে দাবি করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি কাগজের বাকি সব প্যারামিটার ঠিক রেখে যেটুকু করা যাবে সেটাই হবে। অনেকেই এটা সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিউজপ্রিন্ট ব্যবহার করেছে। তবে আমরা অনেক প্রেসের কাজ, কাগজ ও ফর্মা বাদ দিয়েছি।’

মুখোমুখি মুদ্রণ সমিতি ও এনসিটিবি

বই ছাপানো নিয়ে শুরু থেকেই দুই ধরনের বক্তব্য দিয়ে এসেছে এনসিটিবি ও মুদ্রণ সমিতি। ব্যবসায়ীদের দাবি, সব সংকটের কারণ সরকারপক্ষের দরপত্র আর কার্যাদেশ দিতে দেরি করা। সময় থাকতে এসব কাজ সম্পন্ন হলে, শেষ সময়ে এসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

এনসিটিবি নিজেদের ঘাড়ে দায় নিতে নারাজ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করেই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। কারণ নিজেদের গুদাম থেকে পুরনো কাগজ দিয়েও তারা চায় ঠিক সময়ে বই আসুক।

মুদ্রণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাস্তবতা ভিন্ন। কাগজের যে সংকট সেটি তো নিরসন হয়নি। উল্টো আরও সংকট তৈরি হয়েছে। তারা অর্ডার করেছিল ৮৫ মানের ব্রাইটনেসে। আর বই নিচ্ছে নিউজপ্রিন্টে। আমরা আগেই বলেছিলাম যে কোনো একটাতে অর্ডার করেন। তখন আমাদের কথা শোনেনি তারা। এখন মেনে নিয়েছে।’

জহুরুলের মতে ফেব্রুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করে জুনে কার্যাদেশ দিলে কোনো ঝামেলা তৈরি হতো না। তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেয়া হয়েছে অক্টোবর থেকে। আর নভেম্বরের ৩ তারিখে শেষ অর্ডার হয়েছে। যখন ডিসেম্বরে বই দরকার, তখন ছাড় দিয়ে নিউজপ্রিন্টে বই নেয়া হচ্ছে।’

এমন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা আরও চার মাস আগে মন্ত্রণালয়ে লিখিত জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন জহুরুল। তিনি বলেন, ‘তখন কোনো সমাধান দেয়া হয়নি। তখন কেউ শোনেনি।’

ব্যবসায়ীদের এমন তথ্য শুনে বেজায় চটে যান এনসিটিবি চেয়ারম্যান ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি এটা তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি যে আপনারা কাদের নেতা? আপনারা যাদের নেতা তারা আমাদের বই দিয়ে দিল। আর আপনারা কী তাদের অস্বীকার করছেন? আপনারা এভাবে কেন কথা বলছেন?’

অনেক ব্যবসায়ী উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফরহাদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে আমার বই পৌঁছে দিয়ে তো আমাকে চালান দিয়েছে। আমার কাছে রেকর্ড আছে। আপনারা বলছেন ৩০ ভাগ বই দিয়েছে। সেটা আপনারা এনসিটিবির সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থে বলতে পারেন। কিন্তু বই তো আপনাদের প্রেসের লোক বানিয়ে দিয়েছে।’

ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘মুদ্রণ সমিতি চাচ্ছে আমরা ব্যর্থ হই। দেশে কাগজ নেই তাদের কাগজ আমদানি করতে দিতে হবে। আমি শুধু জানি, আমার বই দিতে হবে। আমি মুদ্রণ সমিতির কথায় কান দিচ্ছি না। এবার শুধু কাগজের সংকট। আমার গোডাউনের পুরোনো কাগজ দিয়েছি। সেখানে ১০০ টনে ৮০ টন হয়। এটা তো আমাদের কাজ ছিল না। আমরা জানি কারা কী অবস্থায় আছে। আমরা দিচ্ছি। আমার তো টেন্ডার দিয়ে এই দায় নেয়ার কথা না।’

দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ নিয়ে ব্যবসায়ী অভিযোগকেও আমলে নিতে নারাজ ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তবে নভেম্বরে অর্ডার হয়েছে আর দেরিতে হয়েছে এটা তাদের বাহানা। আমরা তাদের ক্যাপাসিটি জেনে গিয়েছি। তারা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার দিতে চায় না। তাদের মানসিক সমস্যা আছে।’

আরও পড়ুন:
দুই বছর শেষে ফের বই উৎসব, ছাপা শুরু বৃহস্পতিবার
বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই : শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Purposeful lies about curriculum Education Minister

শিক্ষাক্রম নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্রম নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী শনিবার চাঁদপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
দীপু মনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে আমাদের পুরো পঠন ও শিখন পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। সেটির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে শিখছে, যেটি তারা সারা জীবন ধারণ করবে। এই ডামাডোলের মধ্যে সে বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে।’

শিক্ষাক্রম নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আর কোনো ইস্যু না পেয়ে এখন একটি গোষ্ঠী এর পেছনে লেগেছে।’

শনিবার চাঁদপুর স্টেডিয়ামে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে আমাদের পুরো পঠন ও শিখন পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। সেটির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দময় শিক্ষা পাচ্ছে, সত্যিকার অর্থে শিখছে, যেটি তারা সারা জীবন ধারণ করবে, আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে পারবে প্রয়োজন মতো।

এই ডামাডোলের মধ্যে সে বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে। মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যে গুণগত পরিবর্তন এসেছে, তারা এটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর অর্থ হচ্ছে সবাই একটি ভাসা ভাসা জিনিস নিয়ে কথা বলছি। একজন চিৎকার করছেন এবং অন্যজন তার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:
পাঠ্যবইয়ে তথ্যসূত্র উল্লেখ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
কোথাও বই পৌঁছাতে দেরি হলে অবশ্যই দেখব: শিক্ষামন্ত্রী
বানর থেকে মানুষের তথ্য, পাঠ্যবইয়ের কোথাও নেই: শিক্ষামন্ত্রী
পাঠ্যবইয়ে ভুল সংশোধনে কমিটি হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে চড়াও হয়েছে দেশবিরোধীরা: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Jabir is the cockroach rage in the food in the canteen

জবির হল ক্যান্টিনে খাবারে তেলাপোকা, ক্ষোভ

জবির হল ক্যান্টিনে খাবারে তেলাপোকা, ক্ষোভ শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ ক্যান্টিনে খিচুড়িতে তেলাপোকা পাওয়া যায়। ছবি: নিউজবাংলা
আবাসিক ছাত্রীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের খাবারে প্রায়ই তেলাপোকা ও মাছি পাওয়া যায়। বিষয়টি বার বার জানালেও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা গুরুত্ব দেন না। এছাড়া খুব নিম্নমানের চাল দিয়ে ভাত রান্নাসহ বাসি ভাত পরিবেশন করা হয়। অন্যদিকে গ্যাস সংকটে নিজেরা রান্না করেও খেতে পারছেন না তারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ ক্যান্টিনে খাবারের মধ্যে তেলাপোকা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন হলের আবাসিক ছাত্রীরা।

শুক্রবার দুপুরে ক্যান্টিনে খাবার খেতে যান হলের রুহিনা রুহি নামে এক শিক্ষার্থী। এ সময় তার পাশে বসে খাবার খাওয়া অনেক শিক্ষার্থী খাবারের মধ্যে তেলাপোকা দেখতে পান। পরে খাবার নিয়ে দেখানো হলে নতুন করে খাবার দেয়া হলেও ক্যান্টিনের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর বিষয়টিকে তেমন পাত্তা দেননি।

আবাসিক ছাত্রীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের খাবারে প্রায়ই তেলাপোকা ও মাছি পাওয়া যায়। বিষয়টি বার বার জানালেও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা গুরুত্ব দেন না। এছাড়া খুব নিম্নমানের চাল দিয়ে ভাত রান্নাসহ বাসি ভাত পরিবেশন করা হয়। অন্যদিকে গ্যাস সংকটে নিজেরা রান্না করেও খেতে পারছেন না তারা।

ছাত্রীদের হল ডাইনিংয়ে দুপুর ও রাত মিলে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার রান্না করা হয়। শুক্রবার খাবার খেতে গিলে খিচুড়ির মধ্যে তেলাপোকা দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ফেসবুকে পোস্ট দিলে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে আসে।

সমাপ্তি নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলে পানির সমস্যা, গ্যাস নেই, কিচেন নোংরা৷ এখন আবার তেলাপোকা ভর্তাও খেতে হচ্ছে। অভিযোগ জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।’

এদিকে চাল বা ডালে পোকা ছিলো না দাবি করে ক্যান্টিন ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রান্নাঘরের উপরে টিনের ছাউনি। সেখানে অনেক ময়লা থাকায় পোকামাকড় আসতে পারে। অনেকদিন ধরে ময়লা সরানো হচ্ছে না, তেলাপোকা তো আসবেই! অনেক সময় ছাত্রীরাও উপর থেকে ময়লা ফেললে ক্যান্টিনের খাবারের ঘরে এসে পড়ে। এসব থেকে তেলাপোকা আসে।’

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি হলের ক্যান্টিন কমিটির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন হাউজ টিউটর ছুটিতে থাকায় একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

গ্যাস সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা প্রধান প্রকৌশলী এবং বাপেক্সকে চিঠি দিয়েছি। উপাচার্যের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এটার সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
জবিতে ফাঁকা ১৫৪ আসন, চলছে ‘স্পট অ্যাডমিশন’
চিঠির বাক্সে এলো অধ্যাপক মিল্টনকে হত্যার হুমকি
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় জবির ১৪ শিক্ষার্থীর সাজা
জবিতে ফাঁকা আসনে ভর্তির সুযোগ
বিশ্বসেরার তালিকায় জবির ৯৫ গবেষক

মন্তব্য

শিক্ষা
Mujibnagar University is located in Meherpur

মেহেরপুরে হচ্ছে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মেহেরপুরে হচ্ছে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফাইল ছবি।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে মেহেরপুর জেলা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ লক্ষ্যে একটি বিল পাস হয়েছে।

অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিল-২০২৩’ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

১০ জানুয়ারি সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ-১৯৭৩ এর বিধানাবঈ পরিপালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য।

আচার্য নির্ধারিত শর্তে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেবেন। কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে উপাচার্য হিসেবে দুই মেয়াদের বেশি নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। আচার্য যেকোনো সময় উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী, সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকারের কোনো পদে নির্বাচিত হতে প্রার্থী হতে চাইলে ওই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে ইস্তফা দেবেন।

বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনে আচার্যের অনুমোদন নিয়ে ‘বিজনেস ইনকিউবেটর’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বিজনেস ইনকিউবেটর হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত কোনো বিজনেস ইনকিউবেটর, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সব সহযোগিতা দেয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কর্তৃক কোনো উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব, আবিষ্কার বা প্রক্রিয়া, বাজারজাত এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সহযোগিতা প্রদান।

আরও পড়ুন:
সবার জন্য পেনশন, সংসদে বিল পাস
সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকা
দেশে শনাক্ত এইচআইভি রোগী ৯৭০৮
পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড
বিদেশে বাড়ি-গাড়ির খবরের সত্যতা জানতে চান চুন্নু

মন্তব্য

শিক্ষা
Grand event at the first convocation of CUB

সিইউবির প্রথম সমাবর্তনে জমকালো আয়োজন

সিইউবির প্রথম সমাবর্তনে জমকালো আয়োজন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও সমাবর্তন বক্তা নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থীসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
সমাবর্তন বক্তা শান্তিতে নোবেল জয়ী কৈলাস সত্যার্থী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, নিজেকে আবিষ্কার করতে হবে। যে কোনো ভালো কাজের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। হয়তো কোনো একদিন এই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশেরই এক ছাত্র নোবেল বিজয়ী হবে। আমি সেদিন নিজে আসব বিজয় উৎসবে অংশ নিতে।’

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, ‘এটিই হয়তো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমার শেষ উপস্থিতি। দেশজ নাম ও ব্র্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং গর্বের সঙ্গে নিজেদের পণ্যকে ধারণ করতে হবে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বহু বছর সাফল্যের সঙ্গে কানাডায় নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। এখন তিনি দেশে ফিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছেন। আমি প্রবাসী সব ব্যবসায়ীকে আহবান জানাই দেশে বিনিয়োগ করার জন্য।’

সিইউবির প্রথম সমাবর্তনে জমকালো আয়োজন
সিইউবির সমাবর্তনে বক্তব্য দেন সমাবর্তন বক্তা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী। ছবি: নিউজবাংলা/পিয়াস বিশ্বাস

সমাবর্তন বক্তা নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে বলেন, ‘আপনাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, নিজেকে আবিষ্কার করতে হবে। যে কোনো ভালো কাজের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। হয়তো কোনো একদিন এই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশেরই এক ছাত্র নোবেল বিজয়ী হবে। আমি সেদিন নিজে আসব বিজয় উৎসবে অংশ নিতে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট-২০১০, জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০, উচ্চ শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনসহ নানা শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষার হার প্রশংসনীয়ভাবে বেড়েছে। আমরা এখন দক্ষ জনবল সরবরাহ করি। যারা এখন সারাবিশ্বেই তাদের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে বিশ্বের বুকে স্থান করে নিচ্ছে।’

সিইউবির প্রথম সমাবর্তনে জমকালো আয়োজন
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা/পিয়াস বিশ্বাস

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত তার বক্তব্যে বলেন, ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে রয়েছে আধুনিক সময়োপযোগী বিভিন্ন বিভাগ। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ। ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।’

মালয়েশিয়ার বিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যোসেফ আদাইকালাম, অ্যারো বিজনেস এবং জিই গ্যাস পাওয়ারের সিইও দিপেশ নন্দ বিশেষ বক্তা হিসেবে যোগ দেন সমাবর্তনে।

সিইউবির প্রথম সমাবর্তনে জমকালো আয়োজন
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সিইউবির গ্র্যাজুয়েটদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ৪৩০ জন গ্রাজুয়েট রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে চারজন- সামিয়া বিনতে নাঈম, সুমাইয়া সুলতানা, ফারজানা বিন্ত মোহাম্মদ ও মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বর্ণপদক পান।

আরও পড়ুন:
বিজয় দিবস উপলক্ষে সিউবির স্পট অ্যাডমিশন কার্নিভ্যাল শুরু
সিইউবিতে মানবাধিকার দিবস উদযাপন
সিইউবিতে পেশাজীবীদের জন্য ৬০% ছাড়ে ই-এমবিএ
সিইউবিতে শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্সে পড়ার সুযোগ
সিইউবিতে বিশেষ ছাড়ে এমবিএ’র সুযোগ সাংবাদিকদের

মন্তব্য

শিক্ষা
Business mentality should be left over education President

শিক্ষা নিয়ে ব্যবসার মানসিকতা ছাড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

শিক্ষা নিয়ে ব্যবসার মানসিকতা ছাড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সিইউবি'র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও উপাচার্য ড. এইচ এম জহিরুল হকসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা/পিয়াস বিশ্বাস
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হোক সেটা চাই না। আবার এটাও চাই না যে শিক্ষাকে পণ্য বিবেচনা করে শিক্ষার নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হোক।’

শিক্ষা নিয়ে ব্যবসার মানসিকতা পরিহার করতে এই খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করে জ্ঞান বিতরণ ও একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী গ্রাজুয়েট তৈরির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (সিইউবি)-এর প্রথম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, ‘শিক্ষাকে নিয়ে ব্যবসা করার মন-মানসিকতা পরিহার করা সবার জন্যই মঙ্গল।’

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আইন ও বিধি-বিধান মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন। নিজেদের ইচ্ছে আর সুবিধামতো বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যাবে না।

‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হোক সেটা চাই না। আবার এটাও চাই না যে শিক্ষাকে পণ্য বিবেচনা করে শিক্ষার নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হোক।’

দেশে বর্তমানে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘পত্রপত্রিকা খুললেই দেখা যায় কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির নামে সার্টিফিকেট বিতরণ করে চলেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট তৈরির কারখানা খুলে বসেছে।

‘একবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে, জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন এবং বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

‘গুণগত মান ছাড়া উচ্চশিক্ষা মূল্যহীন। তাই, উচ্চ শিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মের সংযোগ ঘটাতে না পারলে ভবিষ্যতে হয়তোবা শিক্ষার্থীর অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হবে।

রাষ্ট্রপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজস্ব ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো নির্মাণে পদক্ষেপ নেয়ারও তাগিদ দেন।

স্নাতক ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে তোমাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তোমাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

‘প্রত্যাশা করি, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে লালন করে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় সমৃদ্ধ হয়ে তোমরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’

শিক্ষা নিয়ে ব্যবসার মানসিকতা ছাড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্মারক তুলে দেন সিইউবির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদেরকে শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে বহির্জগতের জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে।

‘নিজেকে কর্মবীর ও জ্ঞানী করে তোলাই হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য। উচ্চ চিন্তা ও সহজ জীবনাচরণ তোমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সদাচরণ আর সদালাপ হচ্ছে শিক্ষা জীবনের ভূষণ।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর। আপনাদের হতে হবে নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী, নিরপেক্ষ, অকুতোভয় এবং সত্যবাদী।’

দেশের তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমাদের গর্বের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারের কোনো বিকল্প নেই।’

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নেরও নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।

সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিস সরাফাত, সিইউবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এইচএম জহিরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেখ মামুন খালেদ, উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রিদওয়ানুল হক এবং মার্শাল (প্রফেসর সৈয়দ আখতার হোসেন) প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
সিইউবির প্রথম সমাবর্তন আজ, থাকছেন রাষ্ট্রপতি
সিইউবির প্রথম সমাবর্তন ৩১ জানুয়ারি

মন্তব্য

শিক্ষা
The office of the vice chancellor in Chabi was vandalized due to the lack of jobs of Chhatra League workers

ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি না হওয়ায় চবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর

ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি না হওয়ায় চবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা
চবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মঈনুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘ছাত্রলীগের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ছেলেকে চাকরি না দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতা ও জামাত-শিবির মদদপুষ্ট নিয়োগপ্রার্থীকে নেয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি এদেরকে বাদ দিতে হবে।’

শিক্ষক পদে ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি না হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। একই সঙ্গে শাটল ট্রেন অবরোধ করে রেখেছে তারা।

চবির সিন্ডিকেট সভা চলাকালে সোমবার বিকাল চারটার দিকে ভাঙচুর চালানো হয়।

চবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মঈনুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘ছাত্রলীগের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ছেলেকে চাকরি না দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতা ও জামাত-শিবির মদদপুষ্ট নিয়োগপ্রার্থীকে নেয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি এদেরকে বাদ দিতে হবে।’

ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি না হওয়ায় চবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জামাত-শিবির মদদপুষ্ট নিয়োগপ্রার্থীকে বাদ দেয়া হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রেন অবরোধ থাকবে।’

চবির প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, ‘ভাঙচুর কেন হয়েছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বুঝা যাবে। নিয়োগের বিষয়ে এক্সপার্ট বোর্ড যাদের ভালো মনে করছে তাদের নিয়েছে। শাটলের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
চারুকলার সংকট নিরসনে কমিটি ঘোষণা চবির
চবির মার্কেটিং বিভাগের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সিরেমনির জমকালো আয়োজন
উৎসবে রঙিন চবির মার্কেটিং বিভাগ
তৃতীয় দিনে গড়াল চবি চারুকলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
চবির চারুকলার শিক্ষার্থীদের ২২ দাবিতে ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি

মন্তব্য

শিক্ষা
Two committees of the Ministry of Education to take care of mistakes in textbooks

পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি দেখভালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটি

পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি দেখভালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটি পাঠ্যবই হাতে স্কুলশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
সূত্রটি জানায়, বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামানকে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন ভুল পর্যালোচনা করে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি ভুল সংশোধন করবেন।

পাঠ্যবইয়ের ভুলভ্রান্তি সংশোধনের পাশাপাশি এর পেছনে কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুটি কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামানকে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন ভুল পর্যালোচনা করে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি ভুল সংশোধন করবেন।

অন্যদিকে প্রশাসনিক কমিটির প্রধান করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তারকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে।

পাঠ্যপুস্তকে ভুলের পেছনে কারও গাফিলতি আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে ২৪ জানুয়ারি রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বইয়ে কী ধরনের ভুল বা বিতর্ক রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করার জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আমাদের রিপোর্ট দেবে, আমরা বই সংশোধন করব। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো কোনো বিষয় যেন না থাকে সে জন্য কাজ করব।’

আরও পড়ুন:
পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদের দায় স্বীকার জাফর ইকবাল ও হাসিনা খানের
পাঠ্য বইয়ে একের পর এক ভুল
ধর্ম শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি-জামায়াত: শিক্ষামন্ত্রী
পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের ভুল তথ্য প্রত্যাহার করলেন এমপি ফখরুল
পাঠ্যবইয়ে অমুসলিমদের হেয় করার অভিযোগ কতটা সত্য?

মন্তব্য

p
উপরে