× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
The changes that came in the initial transfer guidelines
google_news print-icon

প্রাথমিকে বদলি নির্দেশিকায় এলো যেসব পরিবর্তন

প্রাথমিকে-বদলি-নির্দেশিকায়-এলো-যেসব-পরিবর্তন
ফাইল ছবি
গত ২২ সেপ্টেম্বরের অনলাইন বদলির নির্দেশিকা জারি করলেও সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর জারি করা সংশোধিত নির্দেশকায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশিক্ষণ বা মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা অন্য কোনো ছুটিতে থাকলে বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না।

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিকে অনলাইন বদলির নির্দেশিকায় সংশোধন এনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বরের অনলাইন বদলির নির্দেশিকা জারি করলেও সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর জারি করা সংশোধিত নির্দেশকায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বদলি নির্দেশিকার বিবিধ অংশের ১১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, ছুটিতে থাকলে অনলাইনে বদলির আবেদন করা যাবে না। এ ছাড়াও এসেছে আরও কিছু পরিবর্তন।

কী পরিবর্তন আনা হয়েছে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহম্মদের সই করা নতুন নির্দেশিকা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

সংশোধিত নির্দেশিকায় নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, অন্য জায়গা থেকে সিটি সিটি করপোরেশনের ভেতরে অথবা আন্তসিটি করপোরেশনে বদলির ক্ষেত্রে সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বদলির আদেশ জারি করবেন।

পরিবর্তন আনা হয়েছে বদলির সাধারণ শর্তেও। ৩.১ ধারায় যুক্ত হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বদলির ক্ষেত্রে উপজেলা/থানা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে একক ইউনিট হিসেবে গণ্য হবে।

৩.৪ ধারায় যুক্ত হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে ৪ জন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক- শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০ এর বেশি রযেছে, সে সব বিদ্যালয় থেকে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। তবে প্রতিস্থাপন/ পদায়ন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডাবল শিফটে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে যে কোনো এক শিফটের শিক্ষার্থী যথা প্রথম ও দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে যে সংখ্যা বেশি হবে তা ১:৪০ অনুপাত হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩.৬ ধারায় যুক্ত হয়েছে, উপজেলা/থানায় কোনো পদ শূন্য হলে প্রথমত, সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার অধিবাসী প্রার্থী যারা নিজ উপজেলা/থানায় শূন্যপদ না থাকায় জন্য উপজেলা/থানায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার অধিবাসী প্রার্থী সেই পদে বদলির জন্য অগ্রাধিকার পাবেন।

তবে, একাধিক পদ শূন্য থাকলে অন্য উপজেলা/থানা/জেলা/বিভাগের শিক্ষকরাও একইভাবে বদলির জন্য বিবেচিত হতে পারবেন। তবে আন্ত:উপজেলা/থানা, আন্ত:জেলা কিংবা আন্ত:বিভাগ বদলির ক্ষেত্রে বদলি হওয়া শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা সর্বশেষ পরিপত্র/নীতিমালা দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৩.৭ ধারায় যুক্ত হয়েছে উপজেলা বা থানার মধ্যে একই পদে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে যথাক্রমে (১) স্বামী/স্ত্রীর মৃত্যু/বিবাহ বিচ্ছেদ, (২) প্রতিবন্ধিতা, (৩) কর্মরত বিদ্যালয়ে কর্মকাল, (৪) লিঙ্গ, (৫) চাকরির আবেদনে উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা/ স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা থেকে দূরত্ব ও (৬) বিবাহ- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে শিক্ষকের সন্তান কিংবা স্বামী/স্ত্রী প্রতিবন্ধী হলেও তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।

৩.১০ ধারায় যুক্ত হয়েছে বিধবা/বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া শিক্ষক তার স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানায় বদলি হতে পারবেন। বিধবা/ বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া শিক্ষক পুনরার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে স্বামীর স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানায় বদলি হতে ইচ্ছা পোষণ করলে কাবিননামা/প্রত্যয়নসহ আবেদনের ভিত্তিতে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে বদলি করা যাবে।

এমন বদলির ক্ষেত্রে নিজের স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানার স্বপক্ষে এবং স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়র/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র, স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার জমির দলিল ও খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদসহ আবেদন করতে হবে।

বদলির শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৮.১ ধারায় বলা হয়েছে, ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি/টিআরসি, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নিজ জেলায় পদায়ন/বদলি এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না।

তবে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি /টিআরসিকে নিজ উপজেলা এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী কর্মস্থল ব্যতীত অন্যত্র বদলি করা যাবে।

অপরিহার্যতা বিবেচনায় জনস্বার্থে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৯.১ ধারায় বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন বা শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলির পাশাপাশি অপরিহার্যতা বিবেচনায় জনস্বার্থে/প্রশাসনিক কারণে বদলি করা যাবে।

এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে ৬ষ্ঠ থেকে তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীদের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ৯ম ও ১০ম গ্রেডের (মূল প্রেড) কর্মচারীর বদলির ক্ষেত্রে এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর আন্তঃবিভাগ বদলির ক্ষেত্রে সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বদলির আদেশ জারি করবেন।

এ ছাড়া উল্লিখিত কারণে একই বিভাগের (জেলা ও উপজেলাসহ) বদলির ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে বিভাগীয় উপ-পরিচালক বদলির আদেশ জারি করবেন।

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা হবে বিভাগভিত্তিক
প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা ফের চালু
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল ১৪ ডিসেম্বর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
After 53 days in the classroom Kubi teachers will go on a two hour strike

৫৩ দিন পর ক্লাসে কুবি শিক্ষকরা, চলবে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি

৫৩ দিন পর ক্লাসে কুবি শিক্ষকরা, চলবে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ৫৩ দিন বন্ধ শেষে ক্লাসে ফিরছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মেনে আগামীকাল থেকে সশরীরে ক্লাস নেব। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অনলাইনে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হলেও তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। এ ছাড়া আমাদের কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-শিক্ষক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন বন্ধসহ মোট ৫৩ দিনের বন্ধ শেষে অবশেষে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছেন রোববার।

৫৩ দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্দেশে তিন দফায় ১৪ দিন ক্লাস নেননি শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টি রোববার সকালে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী।

আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পূর্ব নির্ধারিত ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ২৩ জুন থেকে ক্লাস শুরু হবে কুবিতে। এ ছাড়া গত ৯৫ তম সিন্ডিকেট সভায়ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুবি শিক্ষক সমিতি ক্লাসে ফেরার ব্যাপারে ঘোষণা দেয়, তবে সেই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টার (দুপুর ১২টা থেকে ২টা ) অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণাও রয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এ ছাড়া শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মেনে আগামীকাল থেকে সশরীরে ক্লাস নেব। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অনলাইনে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হলেও তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। এ ছাড়া আমাদের কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।’

দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরাও, তবে সেইসঙ্গে আছে সেশন জটের চাপও। এ বিষয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া সাইমুম বলেন, ‘সুন্দর ক্যাম্পাসটা এমন বন্ধ থাকুক তা চাই না। দীর্ঘ বন্ধের কারণে আমরা পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়েছি। আমাদের প্রত্যাশা শিক্ষকরা আমাদের আর পিছিয়ে রাখবেন না।

‘ছয় মাসের যে সেমিস্টার তা আশা করি তারা চার মাসের মধ্যে শেষ করে দেবেন। এছাড়া গত দুই মাস যে জটিলতার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমাদের আর এই বেগ পোহাতে হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় থাকুক সেটাই আমার চাওয়া। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য শিক্ষকরা যত্নশীল হবেন বলে আশা করি। এ ছাড়া শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব শীঘ্রই সব দাবি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাদের সাত দফা দাবি আদায়ে গত ১৩ ও ১৪ মার্চ প্রথম দফায় ক্লাস বর্জন করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১৯ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করে। ঈদুল ফিতরের বন্ধ শেষে তৃতীয় দফায় ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সহনীয় করতে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৯৩ তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই ঘোষণা পাল্টে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত ৯৫ তম সিন্ডিকেটে। সেই মোতাবেক ৬ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে, তবে পূর্ব নির্ধারিত ছুটি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন বন্ধ পায়।

সর্বশেষ গত ২১ জুন ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতিও।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে উপস্থিত ৮৭%
উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে কুবি শিক্ষকদের অবস্থান দ্বিতীয় দিনে
পাহাড় কেটে কুবি প্রক্টরের রেস্তোরাঁ!
বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ৫ দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের
কুবির কেন্দ্রে এক টেবিলে ১৮ ভর্তিচ্ছু

মন্তব্য

শিক্ষা
DU teachers strike for half a day demanding cancelation of Pratyaya scheme

‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি

‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘এই স্কিমের ফলে ১ জুলাইয়ের আগে ও পরে চাকরিতে যোগদান করা ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হবে। প্রত্যয় স্কিমে মূল বেতন থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেয়া হবে, যেটা আগে করা হত না।’

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি শুরু হয়ে চলবে দুপুর একটা পর্যন্ত। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ২৬ তারিখ একই দাবিতে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

গত ১৩ মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা চলতি বছরের ১ জুলাই এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এরপর থেকেই এ স্কিম থেকে পাবলিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সে সময় সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘এই স্কিমের ফলে ১ জুলাইয়ের আগে ও পরে চাকরিতে যোগদান করা ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হবে। যেটা সংবিধানের সমতার পরিপন্থি। প্রত্যয় স্কিমে মূল বেতন থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেয়া হবে, যেটা আগে করা হত না।’

আরও বলা হয়, বর্তমানে পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশনপ্রাপ্ত হন, কিন্তু নতুন এই স্কিমে পেনশনাররা ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশনপ্রাপ্ত হবেন। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় প্রাপ্ত ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেতেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সেটা সুস্পষ্ট করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী যেদিন সার্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন করেন সেদিন এই ‘প্রত্যয়’ স্কিমটি ছিল না উল্লেখ করে অধ্যাপক নিজাম বলেন, ‘হঠাৎ করেই একটি মহল নিজেদের সুযোগ সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দুই শিক্ষক দপ্তরির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্কুলের টিন বিক্রির অভিযোগ
‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহারের দাবিতে ইবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও
ঢাবি হলের আবর্জনায় হবে বিদ্যুৎ
‘প্রত্যয় স্কিম’ ইস্যুতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

মন্তব্য

শিক্ষা
DU Teachers Associations strike program on Pratyaya Scheme issue

‘প্রত্যয় স্কিম’ ইস্যুতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

‘প্রত্যয় স্কিম’ ইস্যুতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঢাবি শিক্ষক সমিতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কর্মসূচি নিয়েছে। তবে চলমান পরীক্ষাগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপনকে বৈষম্যমূলক দাবি করে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করা হবে।

সোমবার শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে চলমান পরীক্ষাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এর আগে ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই ও পরবর্তী সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন এটা তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এরপর থেকেই এই স্কিম থেকে পাবলিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
৮ মে থেকে ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে সমাবেশ
লিফট কিনতে ফিনল্যান্ড গেলেন ঢাবির উপ-উপাচার্যসহ চারজন
ঢাবির সুইমিংপুলে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: তদন্তে কমিটি
ঢাবির সুইমিংপুলে গোসলে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মন্তব্য

শিক্ষা
Human chain on the job demanding individual pay scale of teachers

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন মানববন্ধনে শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুন্দর একটা স্কিম, কিন্তু একটি মহল অল্প কয়েকজন পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের আওতামুক্ত রেখেছে। এ ধরনের স্কিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। সর্বজনীন শব্দটার যথার্থ ব্যবহার হওয়া উচিত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। দাবি আদায়ে তীব্র আন্দোলন করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে শহিদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুন্দর একটা স্কিম, কিন্তু একটি মহল অল্প কয়েকজন পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের আওতামুক্ত রেখেছে। এ ধরনের স্কিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। সর্বজনীন শব্দটার যথার্থ ব্যবহার হওয়া উচিত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। দাবি আদায়ে তীব্র আন্দোলন করতে হবে।

মানববন্ধনে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম বলেন, ‘আমরা তো শিক্ষক মানুষ, কম বুঝি হয়তো! তাই আমাদের ওপর এ পেনশন স্কিম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্কিমে কন্ট্রিবিউট করলে পাবে, না হলে পেনশন পাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটাকে হেয় করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। দেশে কোনো সমস্যা না থাকলে, আমলারা সমস্যা সৃষ্টি করে। দেশ যখনই শান্তিতে চলে, তখনই আমলারা নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে।’

অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, ‘সরকার যে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে হলেও শিক্ষকদের দাবি মানা উচিত।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, ‘পেনশন স্কিমের উদ্যোগ যারা নিয়েছেন তারাই এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাহলে সর্বজনীন কীভাবে হলো? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জৌলুশ নষ্ট করার জন্য, সরকারকে ভুল বোঝানোর জন্য এই স্কিম তৈরি করা হয়েছে। আত্মমর্যাদা টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষক রাজনীতির কালার চয়েজ বাদ দিয়ে সব শিক্ষককে একসঙ্গে হতে হবে।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের উচিত দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস না নেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসব, কিন্তু ক্লাস নেব না।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে। কিন্তু এ প্রত্যয় স্কিমে মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকতে এ বৈষম্য কখনই আমরা মানব না।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বলেন, ‘শিক্ষকেরা সহজে কিছু পান না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, কোনো অযৌক্তিক কিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারত না। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ না থাকায় আমাদের ওপর এই স্কিম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, ‘সর্বজনীন বলতে যা বুঝি, সেখানে হয়তো গরমিল আছে আমার বোঝার। একশ্রেণিকে বাদ দিয়ে কিছু অংশকে স্কিমের আওতায় আনা কীভাবে সর্বজনীন হয়। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, পেশাজীবীদের মধ্যে সর্বজনীনতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা করতে হবে। কালো প্রথা চালু করার আগে সরকারকে আরেকবার ভাবার অনুরোধ করছি।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বলেন, ‘প্রত্যয় স্কিমে বয়সসীমা ৬০ বছর দেয়া, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বয়সসীমা ৬৫ বছর। এখানে একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। তা ছাড়া আমলারা নিজেরা এই স্কিমের আওতাভুক্ত না হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংযুক্ত করে বড় বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। আমাদের দাবি মানা না হলে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাব।’

জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকার প্রথমে চালু করেছিল যারা পেনশন সুবিধা পান না তাদের জন্য, কিন্তু পরে কোনো এক কুচক্রীমহল এটা করেছে। পরবর্তী কর্মসূচিতে যাতে যাওয়া না লাগে, তার আগেই আশা করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে। প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের বাদ দিতে হবে।’

ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৮ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ ঘন্টার কর্মবিরতি এবং ৪ জুন সকাল ৮টা ৩০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন কর্তৃক ঘোষিত কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান শিক্ষক নেতারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরাসহ শিক্ষকরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আগের চারটি স্কিমের সঙ্গে ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামের একটি প্যাকেজ চালু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সব ধরনের স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পরবর্তী সময়ে যোগ দেয়া কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
Ultimatum to cancel inclusion of public university teachers in universal pension

সার্বজনীন পেনশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলে আলটিমেটাম

সার্বজনীন পেনশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলে আলটিমেটাম সম্মেলনে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রথম কর্মসূচি হলো আগামী ২৫ মের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে, রবিবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।’

সার্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

এ সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হলে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মানববন্ধন এবং কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া।

সম্মেলনে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৩ মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা চলতি বছরের ১ জুলাই এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এরপর থেকেই এ স্কিম থেকে পাবলিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সর্বশেষ আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কর্মসূচি হলো আগামী ২৫ মে তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে, রবিবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।

‘দ্বিতীয় কর্মসূচি, আগামী ২৮ মে মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১অটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন।’

নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যেও দাবি না মানা হলে আমাদের তৃতীয় কর্মসূচি, আগামী ৪ জুন, মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন, তবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসমূহ এসব কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।’

আর এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ওই দিনই আন্দোলনের বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক নিজাম।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি কল্যাণমুখী চিন্তার ফসল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা নাগরিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

‘যখন সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ যখন প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে গত ১৩ই মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া স্বায়ত্তশাসনকে অবজ্ঞার শামিল।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন করেন সেদিন এই প্রত্যয় স্কিমটি ছিল না। হঠাৎ করেই একটি মহল নিজেদের সুযোগ সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছেন।

‘আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবেন।’

বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রত্যয় স্কিমে অন্তর্ভুক্তি ১ জুলাই তারিখের আগে যোগ দেয়া এবং ১ জুলাই এবং তার পরে যোগ দেয়াদের মধ্যে দুটি শ্রেণির জন্ম দেবে। একই কর্মক্ষেত্রে অবস্থানরত সহকর্মীদের মধ্যে এই বিভাজন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে; এই ব্যবস্থা সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তৈরি করবে, যা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থি।

সুবিধা অসুবিধা তুলে ধরে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনের ওপর বৎসরিক পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়, কিন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়; বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটি নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু প্রস্তাবিত স্কিমে সে সুবিধা নেই; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর।

প্রত্যয় স্কিমে অবসরকালীন বয়স স্থির করা হয়েছে ৬০ বছর; বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনের সঙ্গে মাসিক চিকিৎসাভাতা, বছরে দুটি উৎসবভাতা ও একটি বৈশাখীভাতা প্রদান করা হয়। প্রস্তাবিত স্কিমে বিষয়টি উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুন:
উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটি, সংশোধন শেষে রাতেই ফল প্রকাশ
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ঈদের পরপরই তৃতীয় ধাপের ফল
যৌন হয়রানির অভিযোগ, আটকে গেল ঢাবিতে শিক্ষক পদে সাজু সাহার নিয়োগ
ঢাবিতে নিয়োগ পাচ্ছেন জাবিতে যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত শিক্ষক
৯৬ হাজার ৭৩৬ পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

মন্তব্য

শিক্ষা
The resignation of the Dean in the face of the demands of the students in Kuwait

কুয়েটে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ডিনের পদত্যাগ

কুয়েটে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ডিনের পদত্যাগ প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েটের রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেনকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২৪ এপ্রিল তাকে দু’বছরের জন্য ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়েটের রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেনকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২৪ এপ্রিল তাকে দু’বছরের জন্য ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিন হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত কোনো জাতীয় দিবসে উপস্থিত হন না। এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষমতার বেশকিছু অপব্যবহার শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু অভিযোগ তুলে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলরকে স্মারকলিপি দেন।

তবে এ প্রসঙ্গে জানতে প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গ, প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন এর আগে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্ব পালনকালে বেশকিছু অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

আরও পড়ুন:
কুয়েটে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
শিক্ষার্থীদের জন্য খুলনা প্রকৌশলে হুয়াওয়ের আইসিটি অ্যাকাডেমি
কুয়েট ছাত্র অন্তুর মৃত্যুর দায় কার?
কুয়েট শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

মন্তব্য

শিক্ষা
It has not been 4 years since the construction of the school building disrupted teaching

৪ বছরেও হয়নি স্কুল ভবন নির্মাণ, ব্যাহত পাঠদান

৪ বছরেও হয়নি স্কুল ভবন নির্মাণ, ব্যাহত পাঠদান সিরাজদিখানের লতব্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজদিখান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমার জোর দাবি, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত হস্তান্তর করা হোক।’

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে চার বছরেও শেষ হয়নি লতব্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ। এমন পরিস্থিতিতে পুরাতন ভবনে কক্ষ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

স্কুলের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সমস্যাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগসহ নানাভাবে যোগাযোগ করেও মেলেনি সুফল।

লতব্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে ৩৫০ জন। স্কুলের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার পাশাপাশি সেখানে কক্ষ সংকট থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়। সে জন্য ৮৫ লাখ টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়। এর পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

ঢাকার মেসার্স ‘হেদায়েত উল্লাহ অ্যান্ড কোং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই ভবন নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করার চার বছর অতিবাহিত হলেও কাজটি অসম্পন্ন রয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে বুধবার দেখা যায়, স্কুলের পুরোনো ভবনে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। স্কুলের মাঠে ও ভবনের কক্ষের সামনে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী।

স্কুলের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘এতদিনেও নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এ কারণে পুরাতন ভবনে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।

‘এতে আমাদের পাশাপাশি স্যারদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুতই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বারবার অনুরোধ করছি। জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন আর টিনশেড কক্ষে ক্লাস নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

‘এ ছাড়া সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। আর মাঠে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় শিক্ষার্থীরা সেখানে খেলাধুলাও করতে পারছে না।’

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুব হোসেন রন্টু বলেন, ‘চার বছর ধরে স্কুলের কাজ অসম্পূর্ণ করে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

‘এ ছাড়া ভবন নির্মাণে একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করাসহ শিডিউলের ড্রইং বহির্ভূত ভবন নির্মাণকাজটি করা হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেদায়েত উল্লাহ অ্যান্ড কোংয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

সিরাজদিখান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমার জোর দাবি, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত হস্তান্তর করা হোক।’

আরও পড়ুন:
হাই স্কুল খুলছে শনিবার, রোববার থেকে প্রাইমারি
স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
হাই স্কুল-কলেজ মঙ্গলবার বন্ধ, প্রাইমারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত
ঢাকাসহ ৫ জেলার স্কুল-কলেজ বন্ধ সোমবার, প্রাথমিক খোলা
প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান হারাল শিক্ষার্থী

মন্তব্য

p
উপরে