× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
The new campus will be a hall but the job administration is not involved in saving it
hear-news
player
google_news print-icon

নতুন ক্যাম্পাস হবে, হল উদ্ধারে গা নেই জবি প্রশাসনের

নতুন-ক্যাম্পাস-হবে-হল-উদ্ধারে-গা-নেই-জবি-প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনাবাসিক তকমা মুক্ত হলেও এখনও বেদখল হয়ে আছে ছাত্র হলগুলো। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কেরানীগঞ্জের তেঘোরিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ চলছে। এ কারণে পুরান ঢাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসাবিক হলগুলোর দখল ফিরে পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার করার পর একমাত্র ছাত্রী হল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনাবাসিক তকমা মুক্ত হলেও এখনও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেদখল হয়ে থাকা ছাত্র হলগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি।

তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে হলগুলো প্রভাবশালীদের দখলে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালালেও হলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নতুন ক্যাম্পাস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ফলে বেদখল হল উদ্ধারে আর আগ্রহ নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

আবাসিক হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০০৯, ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে আন্দোলনে নামেন। এসব আন্দোলনে পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষে আহত হন বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। অনেকে পুলিশের হাছে আটক হয়ে কারাবরণ করেন।

২০১১ সালে হল আন্দোলনের পর ছাত্রী হল নির্মাণের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তর করা হলে সেই জায়গায় আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে ২০১৬ সালে আবারও আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন বড় আকার ধারণ করলে কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জায়গায় নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার।

নতুন ক্যাম্পাস হবে, হল উদ্ধারে গা নেই জবি প্রশাসনের

পুরান ঢাকার ওয়ারিতে গোপীমোহন বসাক লেনে ‘শহীদ নজরুল ইসলাম হল’ এর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক ছাত্র বসবাস করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

কেরানীগঞ্জের তেঘোরিয়ায় বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ চলছে। বর্তমানে ধীরগতিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চললেও মাস্টারপ্ল্যানেই আটকে আছে মূল ক্যাম্পাসের কাজ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার জন্য পাঠানো হলেও এখনও সাড়া না মেলায় আর কোনো অগ্রগতি নেই এই কাজের।

নতুন ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর বেদখল হলগুলোর বিষয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। ২০২০ সালের অক্টোবরে একমাত্র ছাত্রী হল উদ্বোধন ও চলতি বছরের মার্চে সেখানে ছাত্রী তোলার পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে বেদখল হয়ে যাওয়া ছাত্রহলগুলো।

স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে পুরান ঢাকার হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস শুরু করেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেই সময়ের ছাত্রনেতারা এগুলোকে ছাত্রাবাসে পরিণত করেন। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা কলেজের অধ্যক্ষদের নামে নামকরণও করা হয় হলগুলোর।

দখলদারদের প্রথম দৃষ্টি পড়ে আরমানিটোলার শহীদ আব্দুর রহমান হলের ওপর। স্বাধীনতার পরপরই দাতব্য প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একাধিকবার এই হলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। সে সময়ে শিক্ষার্থীরা সেটিকে রক্ষা করে। তবে ১৯৮৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়দের সাথে এই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ঘটলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটটি হল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে কলেজ সংলগ্ন শহীদ আজমল হোসেন হলটিও দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা।

১৯৮৮ সালের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের ‘রানা হল’ নামে একটি ছাত্রাবাস ছিল। সেটাও দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা।

নতুন ক্যাম্পাস হবে, হল উদ্ধারে গা নেই জবি প্রশাসনের

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নামে যে সকল আবাসিক হল রয়েছে, বেশিরভাগই স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে। অনেক হলের কাগজপত্রও নিজেদের নামে করে নিয়েছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের স্থানে ‘মাহমুদা স্মৃতি ভবন’ নামের ছাত্রদের একটি হল ছিল। প্রতিষ্ঠানটির পুরাতন বিভিন্ন ছবিতেও হলটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ‘এরশাদ হল’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হল বর্তমানে কলা অনুষদের একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা হলগুলোর মধ্যে ৩৫ ও ৩৬ প্যারিদাস রোডের ১ নম্বর ঈশ্বরচন্দ্র দাস লেনে ১০ কাঠা জমির ওপর বাণী ভবনের কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা সিংহভাগ দখলে রেখে সেখানে বসবাস করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর ২০১১ ও ২০১৪ সালে হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে গোপীমোহন বসাক লেনের ‘শহীদ নজরুল ইসলাম হল’ ও মালিটোলায় অবস্থিত ‘ড. হাবিবুর রহমান হল’ উদ্ধার করা হয়। এগুলোকেও বসবাস উপযোগী করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালে আরমানিটোলার আব্দুর রহমান হল ইজারা পায় বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে থাকেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি কর্মকর্তা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুযায়ী বিলুপ্ত কলেজের সব সম্পত্তির হিসাব পেতে মুসিহ মুহিত অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ফার্মটির অনুসন্ধানে তৎকালীন কলেজের ১২টি হল ছিল বলে জানা যায়। এদের মধ্যে আরমানিটোলার এসি রায় রোডে আবদুর রহমান হলটি এখন পুলিশ সদস্যদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদুনাথ বসাক লেনের সাইদুর রহমান হল ও টিপু সুলতান রোডের রউফ মজুমদার হল দুটির বর্তমানে কোনো অস্তিত্বই নেই। আরমানিটোলার মাহুতটুলির ১ নম্বর শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী রোডের ৪০ কাঠা জমিতে শহীদ আনোয়ার শফিক হলটি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে।

পাটুয়াটুলীর ওয়াইজঘাট এলাকার ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেইনের ৮ দশমিক ৮৮৯ কাঠার উপর তিব্বত হলটি দখলে নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ হাজী সেলিম। ২০০১ সালে হলটির স্থানে স্ত্রীর নামে ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ নির্মাণ করেন তিনি। প্রতিবাদে কয়েক দফা আন্দোলনেও নামেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা।

পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেনের শহীদ আজমল হোসেন হল দখলে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের পরিবার থাকত। তাঁতীবাজারের ঝুলনবাড়ী লেনে শহীদ শাহাবুদ্দিন হল দুই যুগেরও বেশি সময় পুলিশের দখলে ছিল। ২০০৯ সালের জুনে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক এর দখল নেন।

বংশালের ২৬ নম্বর মালিটোলায় বজলুর রহমান হলের ভবনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাটুয়াটুলীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ছয়তলা আবাসস্থল দখলে নিয়ে গড়ে উঠেছে ক্রাউন মার্কেট।

এর আগে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হলে নীতি-নির্ধারক মহলের টনক নড়ে। সেই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক মাসের মধ্যে ১২টি হল ও বেদখল হওয়া অন্যান্য সম্পত্তি উদ্ধারে সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের মার্চে পাঁচটি হল (আনোয়ার শফিক হল, শাহাবুদ্দিন হল, আজমল হোসেন হল, তিব্বত হল ও হাবিবুর রহমান হল) বিশ্ববিদ্যালয়কে লিজ দেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।

২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক আইনগত সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে হলগুলো লিজের পরিবর্তে অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বললেও একাধিক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা ও আইনি জটিলতায় হল উদ্ধার কার্যক্রম থমকে থাকে।

এদিকে বারবার হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও হল উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কেরাণীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণার পর থেকে নিশ্চুপ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের সম্পত্তি কর্মকর্তা কামাল হোসেন সরকার বলেন, ‘আমরা এখন নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে ব্যস্ত। নতুন ক্যাম্পাসের কাজ করছি। পুরাতন হলগুলো নিয়ে কোনো তথ্য নেই।’

চলমান মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাগজপত্রের ঝামেলা আছে বলে জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা দপ্তরের প্যানেল ল-ইয়ার এড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘হল সংক্রান্ত মামলাগুলো সরকার দেখছে। এগুলো সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় সরকার মামলাটা চালাচ্ছে। এই মামলার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানা নেই। তবে আমরা কোনো কাগজপত্র পাইনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে কমিটি হয়েছিল, সেই রিপোর্টও আমাদের দেয়া হয়নি। এখন যেহেতু নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হয়েছে এবং সেখানেই হল হবে, তাই এসব পুরনো জায়গাগুলোতে হল হওয়ার সুযোগ হবে বলে মনে হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের যেসব হল রয়েছে, সেগুলো বসবাস উপযোগী কিনা তা সরজমিনে দেখার জন্য প্রক্টর ও এস্টেট অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা রিপোর্ট জানালে ব্যবস্থা নিব। আমাদের ছাত্রীদের জন্য অনেক কষ্টে অর্জিত হলে ১২শ জনকে থাকার ব্যবস্থা করেছি৷ নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হলে একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি হলগুলোর বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিজয় দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আয়োজন
ঘুম থেকে চিরঘুমে শিপন, স্বপ্ন রইল অধরাই
জবির ১৬ বিভাগে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
জবিতে ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ
গ্যাস না থাকায় জবির ছাত্রী হলে ভোগান্তি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Special discount on admission to Canadian universities on the occasion of convocation

সমাবর্তন উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিতে বিশেষ ছাড়

সমাবর্তন উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিতে বিশেষ ছাড় সমাবর্তন উপলক্ষে ভর্তি ফিতে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ছাড় উপলক্ষে দেয়া বিজ্ঞাপন। ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে টিউশন ফির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি থাকছে। পাশাপাশি তিন বা তার বেশি শিক্ষার্থী একসঙ্গে ভর্তি হলে টিউশন ফিতে ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে ভর্তি ফিতে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

‘কনভোকেশন স্পেশাল অ্যাডমিশন কার্নিভাল’ নামের ছাড় উৎসবে দুই সপ্তাহব্যাপী এইচএসসি ও এ-লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি ৪ হাজার টাকা এবং ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ১ হাজার টাকা থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে টিউশন ফির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি থাকছে। পাশাপাশি তিন বা তার বেশি শিক্ষার্থী একসঙ্গে ভর্তি হলে টিউশন ফিতে ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।

এমবিএর শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফিতে ৫০ শতাংশ এবং এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য ৬০ শতাংশ ছাড় থাকছে। সব বিষয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য টিউশন ফির ওপর রয়েছে ৪০ শতাংশ ছাড়।

চলতি মাসের শেষের দিনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শান্তিতে নোবেলজয়ী ও ভারতের শিশু অধিকারকর্মী কৈলাস সত্যার্থী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায়ে বিবিএ, ইইই, সিএসই, ইংরেজি, এলএলবি, মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এবং শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্সে পড়ার সুযোগ আছে শিক্ষার্থীদের।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রয়েছে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন ও লজিস্টিকস, এমবিএ এবং এক্সিকিউটিভ এমবিএতে অধ্যয়নের সুযোগ।

ইইই ও সিএসইতে রয়েছে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ভর্তির সুযোগ।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাময় ‘শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সয়েন্স’ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয়।

ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.cub.edu.bd) পাওয়া যাবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফোন করা যাবে ০১৭০-৭০৭০২৮০, ০১৭০-৭০৭০২৮১, ০১৭০-৭০৭০২৮৪ নম্বরে। ওই নম্বরগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ করেও চ্যাট করা যাবে সিইউবির অ্যাডমিশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ ক্যাম্পাসের ঠিকানা: প্লট-খ, ২০১/১, প্রগতি সরণি, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
চুয়েটে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা
সিইউবির ইইইর শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ডিপিডিসির
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রকল্পে বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি ৪৪
সিইউবির আনুশা পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড
সিইউবির সেমিনারে শিক্ষাজীবনেই চাকরির দক্ষতা গড়ার পরামর্শ

মন্তব্য

শিক্ষা
Swapad VC Farid Uddin has not withdrawn the case of Shabi students

স্বপদে শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, প্রত্যাহার হয়নি শিক্ষার্থীদের মামলাও

স্বপদে শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, প্রত্যাহার হয়নি শিক্ষার্থীদের মামলাও অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
‘উচ্চপর্যায়ের’ সেই আশ্বাসের এক বছর পেরিয়েছে এরই মধ্যে। তবে এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি। স্বপদেই বহাল আছেন উপাচার্য । এ ছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা একটি মামলাও এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়নি। পুলিশের স্পিল্টারে আহত শিক্ষার্থী সজল কুন্ডুর চিকিৎসাব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত বছর আন্দোলনে নেমেছিলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ২৮ শিক্ষার্থী অনশনও শুরু করেন। পরে ২৬ জানুয়ারি ‘সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে’ তাদের অনশন ভাঙান এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এরপর আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

‘উচ্চপর্যায়ের’ সেই আশ্বাসের এক বছর পেরিয়েছে এরই মধ্যে। তবে এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি। স্বপদেই বহাল আছেন উপাচার্য । এ ছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা একটি মামলাও এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়নি। পুলিশের স্পিল্টারে আহত শিক্ষার্থী সজল কুন্ডুর চিকিৎসাব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২১ সালের জুনে দ্বিতীয় মেয়াদে শাবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন। তার নির্ধারিত চার বছর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের জুনে। এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যের পদত্যাগে সরকারের ‘আশ্বাস’ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কিত খোদ আন্দোলনকারীরাই।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ করার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসেই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু এক বছরেও উপাচার্যের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবি পূরণ হয়নি। এগুলো আদৌ পূরণ হবে কি না এ নিয়ে আমরা নিজেরাই শঙ্কিত।’

তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে ক্যাম্পাসে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকেও আমাদের সঙ্গে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হচ্ছে না।’

স্বপদে শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, প্রত্যাহার হয়নি শিক্ষার্থীদের মামলাও

আন্দোলনের শুরু ও শেষ যেভাবে

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে গত বছরের জানুয়ারিতে আন্দোলনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই দাবিতে ১৬ জানুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদকে আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ টিয়ারসেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে আনে। এ সময় পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, পুলিশসহ অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী।

১৬ জানুয়ারি রাতেই সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। পরদিন দুপুরের মধ্যে হল ছাড়তেও শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে ওই রাত থেকেই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৯ জানুয়ারি বিকেল থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থীর বাবার অসুস্থতার কারণে অনশন ত্যাগ করেন এবং আরও পাঁচ শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এক পর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎসংযোগও বন্ধ করে দেন তারা।

২৬ জানুয়ারি ভোররাতে ক্যাম্পাসে আসেন জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমীন হক। তারা দুজনই শাবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে, তারা দুজন এমন আশ্বাস দিলে ১৬৩ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙেন ২৮ শিক্ষার্থী।

ওইদিন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তোমাদের দাবিগুলো দ্রুততম সময়েয় মধ্যে মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের আশ্বাস না পেলে আমি এখানে আসতাম না। এখন যদি তারা কথা না রাখেন তা কেবল আমার সঙ্গে না দেশের সকল প্রগতিশীল মানুষের সাথেই মিথ্যাচার হবে’।

যেসব দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের

শাবি শিক্ষাথীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে এসে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি এবং আট দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।

তাদের দাবিগুলো ছিল- উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগসহ ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ ও প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ, ক্যাম্পাসের সব আবাসিক হল সচল রাখার বিষয়ে উদ্যোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ সাহায্য দেয়া পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর জামিন ও অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং অনশনরত শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ভার বহন।

সেদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদেরকে সব দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। এই আশ্বাসের পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরিয়াল বডিতে পরিবর্তন আনা হয়, ক্যাম্পাসের সব আবাসিক হল সচল হয়, শিক্ষার্থীদের অর্থ সাহায্য দেয়া পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর জামিন পান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

স্বপদে শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, প্রত্যাহার হয়নি শিক্ষার্থীদের মামলাও

একবছরেও পূরণ হয়নি প্রধান দাবি

একবছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধান দাবিসহ কয়েকটি দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমাদের প্রথম এবং প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ে ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে একজন গবেষণামনা, শিক্ষাবিদ ও অবিতর্কিত ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। মন্ত্রী এই বিষয়ে বলেছিলেন, ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আচার্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এতদিন পরেও ফরিদ উদ্দিন আহমদ শাবিপ্রবির উপাচার্য পদে বহাল আছেন।’

তিনি বলেন, ‘১৬ জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুন্ডুকে অন্তত ৯ম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সজল এখনো শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পাননি।

‘উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি যে ক্যাফেটেরিয়াটি চালাতেন সেটিও কেড়ে নেয়া হয়েছে। প্রথম কিছুদিন সরকারী তত্ত্বাবধানে সজলের নিয়মিত চেকআপের ব্যবস্থা করা দুই তিনমাস পর তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

অনশনকারী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখপাত্র শাহারিয়ার আবেদীন বলেন, ‘জাফর স্যারের সঙ্গে আমাদের মাঝেমাঝে কথা হয়। স্যারও এ বিষয়ে হতাশ। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনো স্যারকে আমাদের দাবি পূরণে কাজ চলছে বলে জানানো হচ্ছে।’

দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি বৈঠক আয়োজনে অধ্যাপক জাফর ইকবাল চেষ্টা করছেন বলে জানান শাহারিয়ার।

কথা বলতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও তাদের দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন বলেন, ‘তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। এগুলো আমার এখতিয়ারে নেই।

‘ওই ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট ছিলাম। তাতে সফলও হয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অনেক ভালো।’

আরও পড়ুন:
শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি কবীর, সম্পাদক মাহবুব
কমিটিহীন শাবি ছাত্রলীগ বিভক্ত সাত গ্রুপে
শাবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলন : ৫ ছাত্রকে মামলা থেকে অব্যাহতি

মন্তব্য

শিক্ষা
Farid Secretary Shamim President of Jabi Teachers Association

জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক শামীম

জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক শামীম
নির্বাচনে সভাপতি হয়েছেন গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১টি পদে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ এবং অন্য চারটি পদে জয়লাভ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনিরুদ্ধ কাহালি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে সভাপতি হয়েছেন গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে সম্পাদক পদে তিনটি জয় এসেছে। এর মধ্যে সহসভাপতি পদে প্রাণিবিদ্যাবিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম সম্পাদকপদে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জয় পেয়েছেন।

সদস্য পদে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক প্যানেল থেকে ৯টি পদে জয় এসেছে। তারা হলেন অধ্যাপক আহমেদ রেজা, অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার, অধ্যাপক ফারহা মতিন জুলিয়ানা, অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক উর রহমান, অধ্যাপকমিজানুর রহমান, অধ্যাপক সুবর্ণা কর্মকার, অধ্যাপক সাব্বির আলম, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও মাহফুজাখাতুন।

এছাড়া সদস্য পদে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল রাকিব জয়লাভ করেছেন।

এর আগে সকাল ৯টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন শুরু হয়ে দুপুর দেড়টায় শেষ হয়। এ নির্বাচনে মোট ৬০১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৫৭৫ জন ভোটার।

আরও পড়ুন:
চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন
ফুটবল নিয়ে জাবির দুই হলের সংঘর্ষ, আহত ২৫

মন্তব্য

শিক্ষা
Jabir 14 students sentenced for cheating in exams

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় জবির ১৪ শিক্ষার্থীর সাজা

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় জবির ১৪ শিক্ষার্থীর সাজা ফাইল ছবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় তাদেরকে শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীকে সাজা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে এক সেমিস্টার বহিষ্কার, দুজনের কোর্স বাতিল ও একজনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির ৬১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল।

শৃঙ্খলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মো. রনি মিয়া ও একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জারিন তাসনিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দর্শন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ইকবাল হোসেন শরীফ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেহানা খাতুন, আকাশ মন্ডল, মো. শাকিল খান, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. শাহরিয়ার ইমন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের জান্নাতুল মাওয়া সাথী, একই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের মো. রফিকুল হাসান, সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের সানজিদা শারমিনকে এক সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফারজানা আক্তার মুক্তা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের রেজওয়ান করিম সংশ্লিষ্ট কোর্সে বহিষ্কার, আইন বিভাগের প্রফেশনাল কোর্সে ২০২২-২৩ সেশনে আশিকুল ইসলাম নাসিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় তাদেরকে শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জবিতে ফাঁকা আসনে ভর্তির সুযোগ
বিশ্বসেরার তালিকায় জবির ৯৫ গবেষক
জবিশিস নির্বাচনে আইনুল-লুৎফর প্যানেলের বাজিমাত

মন্তব্য

শিক্ষা
Student accused of beating student on suspicion of camp worker in DU

ঢাবিতে 'শিবিরকর্মীকে' মারধরের অভিযোগ

ঢাবিতে 'শিবিরকর্মীকে' মারধরের অভিযোগ ফাইল ছবি
রোববার রাত ১১টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত এক টানা হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে জেরা ও নির্যাতন করেন। তবে জেরার কথা স্বীকার করলেও নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে শিবিরকর্মী সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে জেরা এবং কয়েক দফায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

রোববার রাত ১১টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত এক টানা হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে জেরা ও নির্যাতন করেন। তবে জেরার কথা স্বীকার করলেও নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।

ঘটনার পর হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে ছাত্রলীগ কর্মীরা ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়াদ মিয়া সাগর। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

নির্যাতনের শিকার সাগরের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক হাসান সাইদী, হল ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান, গণযোগাযোগ উপসম্পাদক শাকিবুল ইসলাম সুজন, সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ তুহিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, সহ আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী তাকে নির্যাতন করেন।

অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত এগারোটার দিকে শিবির সন্দেহে শাহরিয়াদকে পদ্মা ব্লকের ৪০০৮ নম্বর রুমে নিয়ে জেরা এবং মারধর করতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতারা। জেরার এক পর্যায়ে তিনি শিবিরকর্মী বলে স্বীকার করেন।

এরপর তার সঙ্গে আরও কে বা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে কিছু নাম সংগ্রহ করে সকালে তাকে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সকালে তাকে বের হতে না দিয়ে আবারও জেরা এবং বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পরে সকাল আটটার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল বাছির হলে এসে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি শাহরিয়াদকে প্রক্টোরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেন।

প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী শাহরিয়াদ বলেন, এক জুনিয়রের সঙ্গে আমার ফোনে একটু কথা হয়েছিল। এটার সূত্র ধরে তারা আমাকে পদ্মা ব্লকের ৪০০৮ নম্বার কক্ষে নিয়ে আমাকে মারধর করে। আমাকে সবচেয়ে বেশি মেরেছে সুজন, তুহিন আর মাজেদ।

মাজেদুল ইসলাম নামের এক অভিযুক্ত বলেন, সে শিবির করার কথা আমাদের সামনে স্বীকার করেছে। তার বিষয়টি রাতেই আমরা প্রভোস্ট স্যারকে জানিয়েছি। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। ছাত্রলীগ মারধরের রাজনীতি করে না। মারধরের সাথে কেউ জড়িত থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র শিবিরের সঙ্গে ওর সম্পৃক্ততা আছে বলে জেনেছি। সে এখন অনুতপ্ত। যেহেতু সে স্বীকার করেছে, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী এসব বিষয় প্রক্টর দেখবেন।

ভুক্তভোগীকে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, মারধরের ঘটনাটা শিক্ষার্থীদের মধ্যে না হওয়াই ভালো। তবে ভুক্তভোগী যদি মারধরের বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন:
নারীকে হেনস্তার অভিযোগে ঢাবির ২ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
নারীকে গাড়িচাপা: ঢাবির সেই সাবেক শিক্ষক মারা গেছেন
গাড়িতে আটকে মৃত্যু: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

মন্তব্য

শিক্ষা
6th convocation of Jabi on 25 February

২৫ ফেব্রুয়ারি জাবির ষষ্ঠ সমাবর্তন

২৫ ফেব্রুয়ারি জাবির ষষ্ঠ সমাবর্তন
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নূরুল আলম বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার শুরু থেকেই সমাবর্তন আয়োজনের ব্যাপারে আমরা আন্তরিক ছিলাম। উপাচার্য নিযুক্ত হওয়ার পরপরই সিন্ডিকেট আহ্বান করে ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তিনি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সমাবর্তন আয়োজনের সম্মতি দিয়েছেন।’

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শতরূপা তালুকদারের সই করা সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে। এ অবস্থায়, বর্ণিত অনুশাসন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নূরুল আলম বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার শুরু থেকেই সমাবর্তন আয়োজনের ব্যাপারে আমরা আন্তরিক ছিলাম। উপাচার্য নিযুক্ত হওয়ার পরপরই সিন্ডিকেট আহ্বান করে ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তিনি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সমাবর্তন আয়োজনের সম্মতি দিয়েছেন।’

২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন শুরু
সমাবর্তনে ভুল: বিদেশিদের কাছে সম্মানহানির শঙ্কায় ঢাবি উপাচার্য
এআইইউবি’র ২০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

শিক্ষা
Kailas Satyarthi is coming to Dhaka as the convocation speaker of Canadian University

সিইউবি-র সমাবর্তন বক্তা হয়ে আসছেন কৈলাস সত্যার্থী

সিইউবি-র সমাবর্তন বক্তা হয়ে আসছেন কৈলাস সত্যার্থী কৈলাস সত্যার্থী। ফাইল ছবি
আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কৈলাস সত্যার্থী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) প্রথম সমাবর্তনে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও ভারতের শিশু অধিকারকর্মী কৈলাস সত্যার্থী।

আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কৈলাস সত্যার্থী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

সমাবর্তনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই উদ্বেলিত। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ডিগ্রির সনদ নেয়ার অপেক্ষায় আছেন ডিগ্রিধারীরা।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘সমাবর্তনের দিনটি আমাদের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক। কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে সমাবর্তনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের বিশেষ দিনটির মাধ্যমে সার্টিফিকেট তুলে দিতে পারছি।

‘আমাদের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও একজন নোবেল বিজয়ীকে কাছে পাবেন। এর জন্য আমি আমাদের ফ্যাকাল্টি, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সিইউবি-সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলছি আমরা এবং এতে থাকবে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ভবন, দৃষ্টিনন্দন লেক এবং বিশাল খেলার মাঠ। আর এটি হবে পরিবেশবান্ধব একটি ক্যাম্পাস।

‘সর্বাধুনিক ল্যাব, স্টুডিও, লাইব্রেরি, থিয়েটার, স্টাডি জোনের সঙ্গে থাকছে শিক্ষার্থী লাউঞ্জ, অবসর কাটানোর জায়গা, জিম, ফুড লাউঞ্জসহ বিভিন্ন সুবিধা। বিশ্বমানের স্থাপত্য নকশায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নান্দনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের পূর্ণতা দেয় সমাবর্তন। সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তাদের সার্টিফিকেট নেবেন। এ এক বিশাল অর্জন।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে রয়েছে আধুনিক সময়ের উপযোগী বিভিন্ন বিভাগ। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ। ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

এ ছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাজানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম।

আরও পড়ুন:
সিইউবির স্পট অ্যাডমিশন কার্নিভালের ৪ দিন বাকি
সিইউবিতে স্প্রিং সেমিস্টারে ভর্তি শুরু
সিইউবির ইইইর শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ডিপিডিসির
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রকল্পে বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি ৪৪

মন্তব্য

p
উপরে