× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Communal incitement in question 5 teachers guilty
hear-news
player
google_news print-icon

প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি: ৫ শিক্ষক দোষী

প্রশ্নে-সাম্প্রদায়িক-উসকানি-৫-শিক্ষক-দোষী
এইচএসসি পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন করে সমালোচিত শিক্ষক প্রশান্ত কুমার পাল। গ্রাফিক্স: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাল (বুধবার) তদন্ত রিপোর্ট যশোর বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছিল। আজ ফার্স্ট ফ্লাইটে সেটি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও আন্তবোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে।’

উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক’ প্রশ্ন রাখার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটি।

এই শিক্ষকদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশও করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাল (বুধবার) তদন্ত রিপোর্ট যশোর বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছিল। আজ ফার্স্ট ফ্লাইটে সেটি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও আন্তবোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে।’

কী ধরনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তদন্ত কমিটি সিলগালা করে রিপোর্ট চেয়ারম্যান স্যারের কাছে জমা দিয়েছেন। সেখানে কী ধরনের শাস্তির কথা আছে, সেটি আমার জানা নেই।’

এ ঘটনায় দোষী শিক্ষকদের কী ধরনের শাস্তি হতে পারে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও বাতিলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লঘু ও গুরু যেকোনো শাস্তি হতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে ৮ নভেম্বর প্রশ্নপত্রে ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক’ প্রশ্ন রাখার ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এ কে এম রব্বানী।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম ও উপকলেজ পরিদর্শক মদন মোহন দাশ।

৬ নভেম্বর সারা দেশে এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। ঢাকা বোর্ডের ‘কাসালাং’সেটের নাটক সিরাজউদ্দৌলা অংশের ১১ নম্বর প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিষয়টি উঠে এসেছে।

আর ৮ নভেম্বর এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পাঁচ শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ওই প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যশোর শিক্ষা বোর্ডের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জড়িত ছিলেন বলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার জানিয়েছিলেন।

ওই দিনই এ ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্যাডে চিহ্নিত শিক্ষকদের নাম ও পরিচয়সংবলিত একটি অস্বাক্ষরিত নথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করেন।

তাতে বলা হয়, ‘বাংলা প্রথম প্রত্রের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক প্রশ্নপত্রটি যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত।’

বাংলা প্রথম পত্রের বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। আর প্রশ্নপত্রটি পরিশোধনের (মডারেশন) দায়িত্বে ছিলেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দীন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

প্রশ্নে যা ছিল

প্রশ্নের একটি অংশে বলা হয়, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ-বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আবদুল নামের এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আবদুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

‘কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এই গল্প উল্লেখ করে প্রশ্নপত্রে চারটি প্রশ্ন করা হয়। তার দুটি এ রকম: ‘মীরজাফর কোন দেশ হতে ভারতে আসেন? উদ্দীপকের নেপাল চরিত্রের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীরজাফর চরিত্রের তুলনা করো?’

আরও পড়ুন:
প্রশ্নকর্তা-মডারেটর নিয়োগে সতর্ক হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
বিতর্কিত প্রশ্ন: অভিযুক্ত শিক্ষক লাপাত্তা, দায় নিচ্ছেন না মডারেটর
মাদ্রাসা বোর্ডে অনুপস্থিতির হার বেশি
এইচএসসির প্রশ্নপত্র মডারেশনের পর সংশোধনের আর সুযোগ নেই
বিতর্কিত প্রশ্নের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Initially the viral instructions about the test are false

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে এমন কথিত নির্দেশনা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দাবি, ভুয়া নথির ভিত্তিতে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই ভুয়া নথি ছড়ানোয় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বোর্ডে প্রশ্নপত্র লিখবেন, আর শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে আনা সাদা কাগজে এই প্রশ্নের উত্তর লিখে জমা দেবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমন একটি ‘নির্দেশনা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, এ ধরনের কোন নির্দেশনা তারা দেয়নি।

ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড মিনিটরিং বিভাগের পরিচালক মনীষ চাকমার বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেখানে তার কোন স্বাক্ষর নেই। নথিটিতে কোনো তারিখ বা স্মারক নম্বরও নেই। তবে এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি পত্রের স্মারক নম্বর ও তারিখ উল্লেখ রয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লিখিত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের ওই দুটি স্মারক নম্বরের নথি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দুটি নথির নির্দেশনার কোনো মিল নেই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ৩১ আগস্টের নথিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি কীভাবে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত রূপরেখা দেয়া হয়। সেখানে বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে আসা বা বোর্ডে প্রশ্নপত্র লেখার মতো কোনো নির্দেশনা নেই।

এছাড়া ১ নভেম্বরের নথিতে আগের দিনের (৩১ অক্টোবর) নির্দেশনা ও শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির প্রতিবেদন-২০২২ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এই দুই তারিখের নথিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও স্মারক নম্বর রয়েছে।

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের নথি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দাবি, ভুয়া নথির ভিত্তিতে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই ভুয়া নথি ছড়ানোয় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।

শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে খাতা আনা ও বোর্ডে প্রশ্ন লেখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২১ নভেম্বরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি’ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে সে ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, অধিদপ্তর জানায়, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো নিদের্শনা দেয়া হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে, প্রাথমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের সম্পর্কিত স্পর্শকাতর বিষয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।’

একই দিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সই করা বিজ্ঞপ্তিতেও একই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি’ বিষয়ে স্বাক্ষরবিহীন একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়ায় সম্প্রচার করা হচ্ছে যা অনভিপ্রেত ও অসত্য। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। উপযুক্ত সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে। এ অবস্থায়, উপযুক্ত বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।”

কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে, কয়েকটি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আলোচিত নির্দেশনাগুলো পেয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব কর্মকর্তা কীভাবে সেটি পেয়েছেন আমাদের জানা নেই। কারণ অফিসিয়ালি আমরা এমন কিছু কোথাও পাঠাইনি। সেখানে কোনো সিগনেচার নেই। কোনো স্মারক নম্বর নেই।

‘ওনারা যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পেয়ে এটা বলেন, তাহলে বলতে পারেন। কী কারণে বলেছেন আমরা সেটি দেখছি।’

কী ছিল কথিত সেই নির্দেশনায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তিতে নয়টি নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো:

১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে বা চূড়ান্ত বার্ষিক মূল্যায়ন ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

২. তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি শ্রেণিতে প্রতি বিষয়ে সর্বোচ্চ ৬০ নম্বরের মধ্যে বার্ষিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

৩ বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

৪. প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, প্রয়োগমূলক ও শিক্ষণক্ষেত্র বিবেচনায় নিতে হবে।

৫. মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকগণের নিকট থেকে কোনো মূল্যায়ন ফি গ্রহণ করা যাবে না।

৬. বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বোর্ড-এ প্রশ্নপত্র লিখে মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনো শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অধিক হলে সেক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র হাতে লিখে ফটোকপি করা যেতে পারে। প্রশ্নপত্র ফটোকপির প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের আনুসাঙ্গিক খাত থেকে ব্যয় করা যাবে।

৭. কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না।

৮. চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাদা কাগজ বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য পূর্বেই শিক্ষাথীকে অবহিত করতে হবে।

৯. প্রত্যেকটি বিষয়ে শ্রেণিপরীক্ষাসমূহের প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত প্রান্তিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে।

এসব নির্দেশনা ছড়িয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড মিনিটরিং বিভাগের পরিচালক মনীষ চাকমার বরাতে। তবে মনীষ চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরবিহীন বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতির চিঠি ছড়ানো হয়েছে। এটি অসত্য ও বানোয়াট।’

আরও পড়ুন:
স্ট্রোক করে কোথায়? বুকে নাকি মাথায়?
কাতারে নিষেধের বেড়াজালের ইনফোগ্রাফটি সঠিক নয়
এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়
এবার প্রাথমিকের মূল্যায়ন যেভাবে
মাশরাফিকে ‘শীর্ষ ধনী’ বলা প্রতিবেদনই উধাও

মন্তব্য

শিক্ষা
Communal incitement in question 5 teachers punished by Jessore board

প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি: ৫ শিক্ষককে শাস্তি যশোর বোর্ডের

প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি: ৫ শিক্ষককে শাস্তি যশোর বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বিতর্কিত প্রশ্ন করে সমালোচিত শিক্ষক প্রশান্ত কুমার পাল। গ্রাফিক্স: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসির ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষকরা প্রণয়ন ও পরিশোধন করেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্নপত্রটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের নির্দেশনার পরিপন্থি হয়েছে। এ কারণে পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক’ প্রশ্ন রাখার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ওই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্রের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসির ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষকরা প্রণয়ন ও পরিশোধন করেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্নপত্রটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের নির্দেশনার পরিপন্থি হয়েছে। এ কারণে পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে ওই শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা হবে না।

জানতে চাইলে মাধব চন্দ্র রুদ্র বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত যত দায়িত্ব আছে, তা থেকে তাদের বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষক হওয়া, প্রধান পরীক্ষক হওয়া, পরিশোধন করা—এই জাতীয় কাজ থেকে তাদের বিরত রাখা হলো।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা নিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর থেকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রেণিকক্ষে তারা পাঠদান করাতে পারবেন কি না, বা তাদের অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হবে কি না, সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেবে মাউশি।

৬ নভেম্বর সারা দেশে এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। ঢাকা বোর্ডের ‘কাসালাং’সেটের নাটক সিরাজউদ্দৌলা অংশের ১১ নম্বর প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ৮ নভেম্বর জানায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। একই দিনে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটি ১৭ নভেম্বর তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

বাংলা প্রথম পত্রের বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। আর প্রশ্নপত্রটি পরিশোধনের (মডারেশন) দায়িত্বে ছিলেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দীন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম।

প্রশ্নে যা ছিল

প্রশ্নের একটি অংশে বলা হয়, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ-বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আবদুল নামের এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আবদুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

‘কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এই গল্প উল্লেখ করে প্রশ্নপত্রে চারটি প্রশ্ন করা হয়। তার দুটি এ রকম: ‘মীরজাফর কোন দেশ হতে ভারতে আসেন? উদ্দীপকের নেপাল চরিত্রের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীরজাফর চরিত্রের তুলনা করো?’

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের তদন্তে কমিটি
এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নের পেছনে প্রশান্ত কুমারের ‘কবিমন’!
প্রশ্নকর্তা-মডারেটর নিয়োগে সতর্ক হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
বিতর্কিত প্রশ্ন: অভিযুক্ত শিক্ষক লাপাত্তা, দায় নিচ্ছেন না মডারেটর
মাদ্রাসা বোর্ডে অনুপস্থিতির হার বেশি

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC result release on 28 November

এসএসসির ফল ২৮ নভেম্বর

এসএসসির ফল ২৮ নভেম্বর এসএসসির কেন্দ্রে প্রবেশের আগে রোল নম্বর দেখছেন পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় উপকমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার সোমবার বলেন, ‘২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে।’

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় উপকমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার সোমবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে।’

গত ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখের বেশি।

৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হয়।

আরও পড়ুন:
অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেন বেলায়েত
এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: রিমান্ডে আরও দুই শিক্ষক
এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী
পরীক্ষা দিতে পারেনি ৭ শিক্ষার্থী, কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি
গুচ্ছে ভর্তির আবেদন ১৭-২৭ অক্টোবর

মন্তব্য

শিক্ষা
3 teachers who questioned Anisul Haque are blacklisted

আনিসুল হককে নিয়ে প্রশ্নকারী ৩ শিক্ষক ‘কালোতালিকা’র মুখে

আনিসুল হককে নিয়ে প্রশ্নকারী ৩ শিক্ষক ‘কালোতালিকা’র মুখে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে উদ্দীপক তৈরি করেছে বিতর্ক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তারা (তিন শিক্ষক) আর বোর্ডের প্রশ্ন তৈরির সুযোগ পাবেন না। একে কালোতালিকাভুক্ত করা বলা হয়ে থাকে।’

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ প্রশ্নপত্রে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে বিতর্কিত ‘সৃজনশীল প্রশ্ন’ প্রণয়নকারী ও মডারেটরদের শনাক্ত করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

প্রশ্নটি প্রণয়ন করেন ময়মনসিংহের মহাকালী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন। আর প্রশ্নপত্র মডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভীন আক্তার ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শিউলী বেগম।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান সোমবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজই নামগুলো জানতে পেরেছি। তবে আমার কাছে এখনও রিপোর্ট আসেনি।’

আলী আকবর খান বলেন, ‘প্রশ্নপত্রের পাণ্ডুলিপি থেকে প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও মডারেটরদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন তারা এমন বিতর্কিত প্রশ্ন করেছেন তা জানতে শোকজ করা হবে। শোকজের জবাব এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে।’

আরও পড়ুন: সাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের তদন্তে কমিটি

কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তারা (তিন শিক্ষক) আর বোর্ডের প্রশ্ন তৈরির সুযোগ পাবেন না। একে কালোতালিকাভুক্ত করা বলা হয়ে থাকে।

‘তারা যেহেতু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, তাই যাতে এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ না পান সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমরা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করব।’

আরও পড়ুন: এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নের পেছনে প্রশান্ত কুমারের ‘কবিমন’!

এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগের মধ্যেই ৬ নভেম্বর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের নাম উল্লেখ করা উদ্দীপক নিয়ে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

কারিগরি বোর্ডের বাংলা-২-এর কীর্তনখোলা সেটের ক-বিভাগের গদ্য অংশের সৃজনশীল প্রথম প্রশ্নে উদ্দীপক অংশের ১ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়, ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনিসুল হক লেখালেখি করে সুনাম অর্জন করতে চান। ২১শে বইমেলায় তাড়াহুড়ো করে তিনি বই প্রকাশ করেন। পাঠকদের কাছে তার লেখা খাপছাড়া মনে হয়। ফলে পাঠকদের কাছে তিনি সমাদৃত হন না।’

এরপর প্রশ্ন করা হয়, (ক) ‘‘যশ’’ শব্দের অর্থ কী? (খ) ‘‘লেখা ভালো হইলে সুনাম আপনি আসিবে।’’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। (গ) আনিসুল হক কোন কারণে ব্যর্থ, তা ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনার আলোকে ব্যাখ্যা কর। (ঘ) সাহিত্যের উন্নতিকল্পে ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনায় লেখকের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।

আরও পড়ুন:
মাদ্রাসা বোর্ডে অনুপস্থিতির হার বেশি
এইচএসসির প্রশ্নপত্র মডারেশনের পর সংশোধনের আর সুযোগ নেই
বিতর্কিত প্রশ্নের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন
এইচএসসিতে বিতর্কিত প্রশ্নটি করেন ঝিনাইদহের শিক্ষক
এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়

মন্তব্য

শিক্ষা
Where is the stroke? Chest or head?

স্ট্রোক করে কোথায়? বুকে নাকি মাথায়?

স্ট্রোক করে কোথায়? বুকে নাকি মাথায়? যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্ট্রোক-সংক্রান্ত সৃজনশীল প্রশ্ন বিতর্ক ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি প্রশ্ন দেখেছি। এটায় কোনো সমস্যা নেই। এটা বই রিলেটেড। বুকে ব্যথা থেকেই তো স্ট্রোক হয়। এইগুলা ফোনে আলাপের মতো বিষয় নয়।’

যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সৃজনশীল এই প্রশ্নপত্রের প্রথম উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ‘রহমান সাহেবের বয়স ৫০ বছর। তিনি সবসময়ই তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে টেনশনে থাকেন। একদিন হঠাৎ তার বুকের মাঝখানে কিছুটা বামদিকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচুর ঘামতে থাকেন। দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিলে ডাক্তার তাকে ইসিজি করাতে বলেন এবং আপাতত বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখা থেকে বিরত থাকতে বলেন।‘

এই উদ্দীপকের আলোকে করা প্রশ্নগুলো হচ্ছে-

ক) স্ট্রোক কী?

খ) ধমনী ও শিরার মধ্যে ৪টি পার্থক্য লিখ।

গ) রহমান সাহেবের বুকে এমন ব্যথা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ) “প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম।"- রহমান সাহেবের সমস্যার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

এই উদ্দীপকে বুকে ব্যথার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্ট্রোককে ইঙ্গিত ও এটি পরীক্ষায় চিকিৎসকের ইসিজি করানোর কথা বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন স্ট্রোকের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক নেই এবং কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হলে সেটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজির মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় না।

তারা বলছেন হৃদযন্ত্র বিকল বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি), ইকোকার্ডিওগ্রাম বা ইকোর মতো পরীক্ষা করা হয়। হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদযন্ত্রের আরও কিছু জটিলতায় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে, তবে স্ট্রোকের কারণে বুকে ব্যথা অনুভবের সুযোগ নেই।

আমেরিকার অলাভজনক অ্যাকাডেমিক মেডিক্যাল সেন্টার মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, হৃৎপিণ্ডে রক্তের প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। সাধারণত হৃৎপিণ্ডের (করোনারি) ধমনিতে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমা হওয়ার কারণে হয় রক্তপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, বুকে চাপ দিয়ে বসা ব্যথা; ব্যথার পাশাপাশি অস্বস্তি যা কাঁধ, বাহু, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল, দাঁত বা কখনও কখনও পেটে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে; ঠান্ডা ঘাম; ক্লান্তি অথবা বদহজম। হার্ট অ্যাটাক হলে হালকা মাথাব্যথা বা হঠাৎ মাথা ঘোরার অনুভূতিও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া, বমি বমি ভাব ও নিশ্বাসের দুর্বলতা দেখা যেতে পারে বলেও জানাচ্ছে মায়ো ক্লিনিক।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হার্ট, লাংস অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউটের (এনআইএইচ) তথ্য অনুযায়ী, হৃৎপিণ্ড আকস্মিকভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দিলে সে অবস্থাকে বলা হয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। হৃৎপিণ্ডের এই বিকল অবস্থায় মস্তিষ্ক এবং দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত ​​প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালের বাইরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যান।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ হলো তিনি হঠাৎ চেতনা হারিয়ে ফেলেন, শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হতে পারে এবং বাতাসের জন্য তিনি তড়পাতে শুরু করেন; চিৎকার বা ঝাঁকুনিতে সাড়া দেন না এবং ধমনি নিশ্চল হয়ে যেতে পারে।

আর স্ট্রোক সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, স্ট্রোককে কখনও কখনও ব্রেন অ্যাটাক হিসেবেও বলা হয়। এমন অবস্থায় মস্তিষ্কের কিছু অংশে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ছিঁড়ে যায়। স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা বা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে সিডিসি বলছে, মুখ, বাহু বা পা, বিশেষ করে শরীরের এক পাশ হঠাৎ অসাড় বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে; হঠাৎ কথা বলতে সমস্যা হতে পারে; হঠাৎ এক বা দুই চোখেই দেখার সমস্যা তৈরি হতে পারে; হঠাৎ হাঁটতে সমস্যা, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে বা কোনো হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সম্পূর্ণ আলাদা রোগ, হৃদরোগের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্পর্ক নেই এবং স্ট্রোকের কারণে হৃদযন্ত্রজনিত বুকে ব্যথা হওয়ারও কোনো কারণ নেই। স্ট্রোক শনাক্তের জন্য ইসিজি বা ইকোর পরামর্শও দেন না চিকিৎসকরা।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক নাজিবুর রহমান খন্দকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট আলাদা বিষয়।’

‘স্ট্রোক হচ্ছে ব্রেনে যদি কোনো সমস্যা হয়; যেমন ধরুন ব্রেনে ব্লাড সাপ্লাই কমে গেল, ব্রেনে ব্লিডিং হলো। এতে রোগীর একদিক প্যারালাইজড হয়ে যায় বা মুখ বাঁকা হয়ে যায়। অনেকে পুরো অজ্ঞান হয়ে যাবে। এটাকে স্ট্রোক বলা হয়।’

ডা. নাজিবুর রহমান বলেন, ‘অন্যদিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হচ্ছে হার্ট হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাবে। ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগী সঙ্গে সঙ্গে মারা যান না, তবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে তার বুকে তাৎক্ষণিক ম্যাসাজ দিতে হয়। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে মনিটর বসিয়ে কারেন্ট শক দিয়ে হার্টের ফাংশনটা নরমালে আনা গেলে তিনি বাঁচবেন। হার্ট তিন থেকে চার সেকেন্ড বন্ধ থাকলে ব্রেনে ব্লাড সাপ্লাই যাবে না, তখন রোগী সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে।’

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সঙ্গে ব্রেনের সম্পর্ক আছে, তবে স্ট্রোকের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মূলত হাইপ্রেসার, ডায়াবেটিস এসব কারণে ব্রেন স্ট্রোক হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইজিসি, ইকো এগুলো সব হার্টের টেস্ট। এর সঙ্গে স্ট্রোকের সম্পর্ক নেই। স্ট্রোকের জন্য করতে হবে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই।’

আলোচিত প্রশ্নটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটা সুন্দর হয়নি। রক্তনালী চিকন হয়ে গেলে অথবা ছিঁড়ে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগী প্যারালাইজড হবে, মুখে খেতে পারবে না।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজিস্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হার্টের রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ধূমপানে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

‘স্ট্রোক হয় ব্রেন অর্থাৎ মস্তিষ্কে। সাধারণত দুই ধরনের স্ট্রোক রয়েছে। একটি মস্তিষ্কের রক্ত জমাটবাঁধা এবং আরেকটি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক। দুই কারণেই মস্তিষ্কের কিছু অংশ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।’

তবে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করছে প্রশ্নপত্রে কোনো ভুল নেই।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগম সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি প্রশ্ন দেখেছি। এটায় কোনো সমস্যা নেই। এটা বই রিলেটেড।’

স্ট্রোক হৃদযন্ত্র-সম্পর্কিত কোনো রোগ নয় জানানো হলেও তিনি বলেন, ‘বুকে ব্যথা থেকেই তো স্ট্রোক হয়। এইগুলা ফোনে আলাপের মতো বিষয় নয়। আপনি স্কুলে এসে আমার ওই বিষয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন।’

আরও পড়ুন:
প্রশ্নপত্র ফাঁস: ৬ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও স্থগিত
মাশরাফিকে ‘শীর্ষ ধনী’ বলা প্রতিবেদনই উধাও
ট্রেনের ছাদবোঝাই করে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার ছবিটি পুরোনো
সাংবাদিকতায় ফ্যাক্টচেক অতি গুরুত্বপূর্ণ: পলক
বিকিনির নারীটি ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি নন

মন্তব্য

শিক্ষা
Committee to investigate creative questions about Anisul Haque

সাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের তদন্তে কমিটি

সাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের তদন্তে কমিটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে উদ্দীপক তৈরি করেছে বিতর্ক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খান বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলা প্রশ্নে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে হেয় করার অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নের পাণ্ডুলিপি এনে প্রশ্ন প্রণেতা ও মডারেটরদের চিহ্নিত করা হবে।’

এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগের মধ্যেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের নাম উল্লেখ করা উদ্দীপক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

কারিগরি বোর্ডের বাংলা-২-এর কীর্তনখোলা সেটের ক-বিভাগের গদ্য অংশের সৃজনশীল প্রথম প্রশ্নে উদ্দীপক অংশের ১ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়, ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনিসুল হক লেখালেখি করে সুনাম অর্জন করতে চান। ২১শে বইমেলায় তাড়াহুড়ো করে তিনি বই প্রকাশ করেন। পাঠকদের কাছে তার লেখা খাপছাড়া মনে হয়। ফলে পাঠকদের কাছে তিনি সমাদৃত হন না।’

এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে, (ক) ‘‘যশ’’ শব্দের অর্থ কী? (খ) ‘‘লেখা ভালো হইলে সুনাম আপনি আসিবে।’’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। (গ) আনিসুল হক কোন কারণে ব্যর্থ, তা ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনার আলোকে ব্যাখ্যা কর। (ঘ) সাহিত্যের উন্নতিকল্পে ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনায় লেখকের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খান বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলা প্রশ্নে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে হেয় করার অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নের পাণ্ডুলিপি এনে প্রশ্ন প্রণেতা ও মডারেটরদের চিহ্নিত করা হবে।’

ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার কমিটি কাজ শুরু করবে। বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন কলেজ পরির্দশক প্রকৌশলী মো. খালেদ হোসেন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডিপ্লোমা) মোহাম্মদ শাহীন কাওছার সরকার।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বিতর্কিত প্রশ্নের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন
এইচএসসিতে বিতর্কিত প্রশ্নটি করেন ঝিনাইদহের শিক্ষক
এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়
এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২২,২৪৭
কারিগরির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত

মন্তব্য

p
উপরে