× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Students are not getting textbooks on time
hear-news
player
google_news print-icon

জুনের আগে সব পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

জুনের-আগে-সব-পাঠ্যবই-পাওয়া-নিয়ে-অনিশ্চয়তা
বছরের প্রথম দিনে দেশজুড়ে নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের এমন উচ্ছ্বাস এবার দেখতে পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মুদ্রণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই দেয়া সম্ভব হবে না। তার বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বই সরবরাহ করা যাবে। বাকি বই পুরোপুরি সরবরাহ করতে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।’

উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার যে রীতি তৈরি হয়েছে, সেটা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের মধ্যেই বই মুদ্রণ কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কাগজের দাম বেড়ে যাওয়া, সরবরাহে ঘাটতি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠ্যবই মুদ্রণের কর্মযজ্ঞ শেষ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মুদ্রণকারীরা।

মুদ্রণ ব্যবসায়ী মনে করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বই ছাপানো সম্ভব হবে। আর অবশিষ্ট বই পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে অন্তত আরও ছয় মাস।

মুদ্রণ শিল্প-সংশ্লিষ্টদের এসব যুক্তিকে আমলে নিতে চান না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তাদের কথা, এটা অজুহাত। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মুদ্রণকারীদের পাঠ্যবই সরবরাহ করতে হবে। নইলে করোনাভাইরাসে শিখন ঘাটতির পর আরও একবার শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

আগামী বছরের জন্য প্রায় ৩৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার পাঠ্যবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৯ লাখ ৫৩ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার পাঠ্যবই ছাপানো হবে।

মুদ্রণ শিল্প সমিতি বলছে, কাগজের সংকট তো আছেই, বেড়েছে কালির দাম। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এলসি করতে না পারায় কাগজ তৈরির মণ্ড (পাল্প) আমদানি করতে পারছেন না মিল মালিকরা। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সম্প্রতি (২৯ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক কারণে সংকটের কথা তুলে ধরলে সেখানে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী তার জবাব দেন। তিনি জানিয়েছেন, পাঠ্যবই মুদ্রণ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

‘মন্ত্রী মহোদয়ের আল্টিমেটাম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বই দেয়া সম্ভব হবে না। বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বই সরবরাহ করা যাবে ডিসেম্বরের মধ্যে। বাকি বই পুরোপুরি সরবরাহ করতে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।’

কেন সম্ভব হবে না তা জানতে চাইলে মুদ্রণ শিল্পের এই প্রতিনিধি বলেন, ‘পাল্প (মণ্ড) নেই। এই শিল্প-সংশ্লিষ্ট সবই আমদানি করতে হয়। অথচ ডলারের দাম বেশি। আরেকটি বড় সমস্যা লোডশেডিং।’

শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০/৩৫ ভাগ বই ছাপা হলেও সেগুলো কোন শ্রেণির জন্য হবে, এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৩৫ ভাগ বই মানে এমন নয় যে বাকি ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী বই পাবে না। সব মিলিয়ে ৩৫ ভাগ হবে। কোনো শ্রেণিতে সব বই যেতে পারে, আবার কোনো শ্রেণিতে বই নাও যেতে পারে।’

শ্রেণি ধরে পরিষ্কার হিসাব দিতে না পারলেও জহুরুলের দাবি, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ যথা সময়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নির্ভর করে মুদ্রণকারীদের ওপর। যে আগে অর্ডার পাবে সে সেটি আগে দেবে। এখন পর্যন্ত ক্লাস সেভেনের ডামিও হাতে আসেনি মুদ্রণে। আবার প্রাইমারির ডামিও এখনও সব পাস হয়নি। যে বই আগে পাস হবে সেটিই আগে যাবে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির ডামি আগে পাস হয়েছে বিধায় এই শ্রেণির বই শতভাগ সরবরাহ হবে।’

মুদ্রণ-সংশ্লিষ্টদের এসব কথা আমলে নিতে চায় না এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনি (মুদ্রণ মালিক) যাবতীয় শর্ত মেনে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাহলে কেন আপনি জুনের কথা বলবেন? আমরা উনাদের ওইসব শর্ত মানি না। আমরা এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছি। মুদ্রণ শিল্প সমিতি প্রত্যেক বছর শেষদিকে এসে এক-একটা অজুহাত দাঁড় করিয়ে সুবিধা নিতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘তারা এখন কেন বলবে যে মণ্ড পাচ্ছে না। আমরা সেদিন যখন বসলাম তখন মন্ত্রী মহোদয় কাগজ আমদানির কথা বললে তারা জানিয়েছিল লাগবে না। তারা তো সম্মত হয়েছিল। নইলে আমরা তখনই কাগজ আমদানির উদ্যোগ নিতাম।’

এনসিটিবির অনড় অবস্থানে অসন্তুষ্ট মুদ্রণ মালিকরা। এ নিয়ে জহুরুল বলেন, ‘উনারা (এনসিটিবি) তো বাস্তবতা বুঝতে চান না। দায়িত্বশীল পোস্টে যারা আছেন তারা গা বাঁচানোর জন্য সব হয়ে যাবে, সব ঠিক আছে, এ ধরনের কথা বলেন।

‘এবার ৩০ ভাগ দিয়েই শুরু করবে বই উৎসব। বাকি বই আস্তে আস্তে যাবে। এ ছাড়া আমার কাছে কোনো সমাধান নেই। বাকিটা চেয়ারম্যান (এনসিটিবি) সাহেব বলতে পারবেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুদ্রণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এটা একটা জটিল বিষয়। অনেকেই ভাসা ভাসা কথা বলেন। যেখানে কাগজ নেই সেখানে মন্ত্রী বা এনসিটিবি কী বলেন সেটা তো ইস্যু হতে পারে না আমাদের জন্য।’

জহুরুল বলেন, ‘পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রয়োজনীয় কাগজ উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে সাতটি পেপার মিল। এর মধ্যে ওয়েস্টেজ পেপার দিয়ে যে মিলগুলো বানাচ্ছে তারা হয়তো কিছু উৎপাদনে আসবে, কিন্তু পাল্পে যারা আছে, সেখানে আমরা ছাড়া কেউ নেই। আর লিপি কিছু বানাচ্ছে। এ ছাড়া সব ওয়েস্টেজ থেকে বানাচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে ওয়েস্টেজও নেই।

‘কার্যাদেশ অনুযায়ী বই ছাপাতে হলে কাগজের প্রয়োজন হবে এক লাখ ২০ হাজার টন, কিন্তু ৩০ হাজার টনের বেশি কাগজ মিলগুলোর কাছে জোগাড় নেই।’

এমন সমস্যা কী এবারই হয়েছে, নাকি অন্য বছরগুলোতেও এসব সমস্যা থাকে, এমন প্রশ্নের জবাবে জহুরুল বলেন, ‘পাল্পের এমন আকাশচুম্বী দাম ছিল না।’

প্রাথমিকের কোনো বই এখনও ছাপাই শুরু হয়নি। মাধ্যমিকের বই ছাপানোর কাজ অবশ্য চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি বই ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু চাহিদা প্রায় ২৫ কোটি। অন্যদিকে প্রাথমিকের চাহিদা ৯ কোটির বেশি।

রাজধানীর মাতুয়াইলে গিয়ে দেখা যায়, প্রেসগুলোতে চলছে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ, কিন্তু বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ছাপায় ব্যাঘাত ঘটছে। এ নিয়ে খুব বিরক্ত মুদ্রণ-সংশ্লিষ্টরা।

কাগজের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়েও চিন্তিত তারা। মুদ্রণকারীদের দাবি, জিরো জিএসএম কাগজের দাম বেড়েছে প্রতি টনে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। আর ৬০ জিএসএম কাগজের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

মাতুয়াইলের এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ করার। আমরা চেষ্টা করছি, তবে এই সময়ের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। সর্বোচ্চ ৬০ ভাগ দেয়া সম্ভব হতে পারে। অন্তত বিদ্যুতের লোডশেডিংটা কমলেও ছাপা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হতো।’

চাহিদামতো কাগজ পাওয়া যায়নি জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আর মিলগুলো বিদ্যুতের জন্য কাগজ তৈরি করতে পারছে না। আমাদের কাগজের চাহিদা ছিল এক হাজার টন। অথচ পেয়েছি তার অর্ধেক।’

বই সময়মতো না পাওয়ার জন্য মুদ্রণ-সংশ্লিষ্টরা দরপত্র আহ্বান প্র্রক্রিয়ায় দেরি হওয়াকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, অন্য সময়ে নভেম্বরের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বই ছাপা হয়ে যায়।

এবার দরপত্রের কাজ শেষ হয়েছে মে মাসে। আর এ কারণে এবার মাধ্যমিকের বই ছাপানো অক্টোবরে শুরু হলেও প্রাথমিকের বই ছাপানো শুরুই হয়নি। আবার ওয়েস্টেজ কাগজ ব্যবহারের ফলে বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

প্রাথমিকের বই ছাপানো বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইতিমধ্যে কাগজের ছাড় শুরু হচ্ছে। এই সংকট থাকবে না। টেন্ডার মে মাসে হোক আর জুন মাসে হোক এটার সঙ্গে মিল মালিকের সম্পর্ক নেই। তারা কাগজ উৎপাদন করবে। আর আমি টেন্ডারে সময় কম দিয়েছি। সেটা তো বিবেচনা করেছি সময়স্বল্পতা বিবেচনা করেই।’

পেপার মিলগুলো এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে কাগজের দাম বাড়াতে চায় বলে মনে করেন ফরহাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকবার তারা এমন বলে। প্রেস মালিকরা জানেন বই দিতে হবে। তারা জানেন এটা রাজনৈতিক একটি ইস্যু। সরকার বই দিতে চাইবে।

‘আমরা সেই সুবিধা নিতে চাই। এই ধরনের চালাকি তারা প্রতি বছর করে আসছে। এবার দেখি আমরা, আগামীবার তো আবার অনেক রকম সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে, তখন দেখা যাবে।’

শেষ পর্যন্ত ৫০ ভাগ বই সরবরাহ পেলেও ১ জানুয়ারির বই উৎসব ভালোভাবেই সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘কোনো স্কুলেই শতভাগ বই দেয়া হয় না। ৪০ ভাগ বই দেয়া হয়। নবম ও দশম শ্রেণিতে তো আরও পরে বই পায়, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা ভালো অবস্থানে থাকব। জানুয়ারির ১০ বা ১২ তারিখের মধ্যে শত ভাগ বই দিতে পারব।’

মুদ্রণ সমিতি জানিয়েছে, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য চুক্তি হওয়ার কথা ৪ নভেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ থাকবে আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। তাহলে ডিসেম্বরে সব বইয়ের দাবি কীভাবে করা হয়, তা নিয়েও সমিতি বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন:
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
উৎসব না হলেও বই পৌঁছে যাবে যথাসময়ে
১০ দিনব্যাপী ভাসানী বই উৎসব শুরু শুক্রবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Dufa Club President Rafiq Editor Paris

ডুফা ক্লাবের সভাপতি রোমেল, সম্পাদক প্যারিস

ডুফা ক্লাবের সভাপতি রোমেল, সম্পাদক প্যারিস ঢাকায় ডুফার বনানী কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সংগঠনের সদস্যদের কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
সংগঠনটির বনানী কার্যালয়ে শনিবার বিশেষ সাধারণ সভা শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে ডুফার প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আহ্বায়ক কমিটি আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ ক্লাবের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যালায়েন্সের (ডুফা) বিশেষ সাধারণ সভা ও প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সদস্যদের ভোটে সংগঠনটির সভাপতি পদে রফিক উল্লাহ রোমেল, সাধারণ সম্পাদক পদে টি এম নূরুল আমিন প্যারিস ও কোষাধ্যক্ষ পদে মনজুর ই আলম নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকায় সংগঠনটির বনানী কার্যালয়ে শনিবার এই বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও সংগঠনের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সুজন মাহমুদ, শরিফা মনি, খন্দকার শাহ আলম, রাকিব হাসনাত সুমন, নাহিদ হোসেন, মিহির লাল দে, দেলোয়ার হোসেন মিরাজ, শ্যামলী বেগম, মোমেনা আহমেদ মম ও ইশরাত জাহান শাহানা।

নির্বাচিত কমিটি আগামী দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে।

এদিন বিকেলে ডুফা ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে ডুফার প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আহ্বায়ক কমিটি সদস্যদের সামনে আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ ক্লাবের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

ডুফার গঠনতন্ত্রের ওপর বিশদ আলোচনার পর তা সদস্যদের ভোটে গৃহীত হয়।

মন্তব্য

শিক্ষা
Preliminary Assessment Test December 8 No fee

প্রাথমিকে মূল্যায়ন পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর, ফি নেই

প্রাথমিকে মূল্যায়ন পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর, ফি নেই
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৮ ডিসেম্বর থেকে দুই শিফট মিলিয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথম শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত, এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো ফি অভিভাবক থেকে নেওয়া হবে না।

প্রাথমিকে মূল্যায়ন বা তৃতীয় প্রান্তিক নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো ফি নেওয়া হবে না শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) নাসরিন সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নির্দেশনা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে সেখানে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো ফি অভিভাবক থেকে নেওয়া হবে না।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮ ডিসেম্বর থেকে দুই শিফট মিলিয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথম শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত, এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা।

সম্প্রতি প্রাথমিকে মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে কয়েকটি গণমাধ্যম। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন লেখা হবে ব্ল্যাকবোর্ডে ও উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে। সারা দেশে এটি নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা সৃষ্টি হলে প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, এই বিজ্ঞপ্তি অসত্য। এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেওয়া হয়নি। ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তিতে নেই কোনো স্বাক্ষর বা তারিখ।

নিউজবাংলা এই বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে বিজ্ঞপ্তিটি যে অসত্য ছিল তা তুলে ধরা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটার কম্পোজ করে ফটোকপি করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফটোকপি ও উত্তরপত্রসহ (খাতা) আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খাত/স্লিপ ফান্ড থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী বাজেট থেকে সমন্বয় করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপাখানায় মুদ্রণ করা যাবে না।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৮ ডিসেম্বর ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে মূল্যায়ন বা তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা। এরপর ১১ ডিসেম্বর প্রাথমিক গণিত, ১২ ডিসেম্বর বাংলা, ১৩ ডিসেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পরিবেশ পরিচিত সমাজ ও বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ১৮ ডিসেম্বর দুই শিফটেই তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দুটি পরীক্ষা রয়েছে। প্রথমে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এরপর চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারিরীক শিক্ষা। ১৯ ডিসেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারিরীক শিক্ষা এসং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রতি শ্রেণিতে প্রতি বিষয়ে পূর্ণমান ৬০ নম্বরের মধ্যে বার্ষিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিষয় শিক্ষকের মাধ্যমে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগমূলক শিখনক্ষেত্র বিবেচনায় ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। প্রত্যেকটি বিষয়ে শ্রেণি মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত প্রান্তিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে এবং অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে।

‘কোনো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য মূল্যায়নের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তারিখ ও সময় পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
এবার প্রাথমিকের মূল্যায়ন যেভাবে
প্রাথমিকে বদলিতে শর্ত শিথিল
শিক্ষক বদলিতে আর্থিক লেনদেন নয়
মামলা থাকা প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নয়
প্রাথমিকে অনলাইনে বদলির আবেদনের সময় বাড়ল

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC result will be known on Sunday

এসএসসির ফল জানা যাবে যেভাবে

এসএসসির ফল জানা যাবে যেভাবে ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টায় ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে সোমবার। বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, দুপুর ১টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফল প্রকাশ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করা হবে। এরপর দুপুর ১২টায় ফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা স্ব স্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট অংশে গিয়ে তাদের ফল জানতে পারবে।

ওয়েবসাইটে ফল জানা যাবে যেভাবে

নির্ধারিত ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd থেকে ফল জানা যাবে। ওয়েবসাইটে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম, বোর্ড ও বছর সিলেক্ট করে সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন-এর মাধ্যমে ফল ডাউনলোড করতে পারবেন।

এসএমএসে ফল জানবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এসএমএস অপশনে SSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। উদাহরণ: SSC Dha 123456 2022 পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

দাখিলের ফল পেতে Dakhil লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে SSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভ, ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

মন্তব্য

শিক্ষা
Overhauling the education system Kaikaus

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।
চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

শনিবার চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার যাত্রা সূচনা। জ্ঞানের জন্য, স্বীকৃতির জন্য, প্রজ্ঞার জন্য ক্ষুধার্ত হওয়া আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত হতে থাকুন, তৃপ্ত হবেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপায় খোঁজা চালিয়ে যান এবং সেখানেই আপনি আরও কিছু অর্জন করতে পারবেন।

‘ক্রমাগত নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন জীবনে চলতে কী নতুন দক্ষতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আপনার শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু আপনি যা শিখছেন তা নয়, কীভাবে শিখতে হয় তা জানার মধ্যেও রয়েছে।’

নগরীর টাইগার পাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রামের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাস করা মোট ৫ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি দেয়া হয়। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রিও ঘোষণা করেন তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে সমাবর্তন অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

‘বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেশে হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করতে যাচ্ছেন আপনারা। বঙ্গবন্ধুকন্যার ডিজিটাল বাংলাদেশ আপনাদের নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জন’ প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। মাত্র এক দশকেই বন্দর নগরীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষক, ডিজিটাল ক্লাসরুম আর বিশ্বমানের কারিকুলামের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জনসম্পদে পরিণত হয়েছে।’

এবারের সমাবর্তনে ১৪ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও ১৩ জন শিক্ষার্থী ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল অর্জন করে। উপস্থিত অতিথিরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আসমা ইয়াসমিন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসমাইল আপন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপরই শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

এ সময় অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর দিল আফরোজা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত চেয়ারম্যান মিসেস তাহমিনা খাতুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পিসিআইইউর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ, গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরাম এবং ব্যান্ড দল বে অব বেঙ্গল-এর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২০১৩ সালের ১৭ মে ছয়টি প্রোগ্রামে ৬৯ জন শিক্ষার্থী, ৬ জন শিক্ষক, ৪ জন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১৭০ জন শিক্ষক, ৫ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৯০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। চারটি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রাম নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: ২১৯ পদে কর্মরত ৬৯ জন
১৬ নভেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তির আবেদন শুরু
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জারি
ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠ্যবই সরবরাহ না দিলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
মেয়েদের আকাশ হোক মুক্ত: দীপু মনি

মন্তব্য

শিক্ষা
Miss World Bangladesh Aishi in CUB

সিইউবিতে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী

সিইউবিতে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সিইউবি ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: নিউজবাংলা
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা, মানোন্নয়নে ‘কনভয় কনফিডেন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিইউবি)।

রাজধানীর প্রগতি সরণির নিজস্ব ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ঐশী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিইউবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক, কোষাধ্যক্ষ ও স্কুল অব আর্টসের ডিন এ এস এম সিরাজুল হক, মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান ড. আনিস পারভেজসহ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সিইউবির কর্মশালা
সিইউবিতে ডেটা সায়েন্স নিয়ে সেমিনার
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
১১ স্কুলকে কোর্সের বিস্তারিত জানাল সিইউবি
দক্ষিণ এশিয়ার জ্ঞানব্যবস্থা নিয়ে সিইউবিতে সেমিনার

মন্তব্য

শিক্ষা
Position on the demand to increase the post in primary teacher recruitment

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদ বাড়ানোর দাবিতে অবস্থান

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদ বাড়ানোর দাবিতে অবস্থান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা ডিপিই-এর প্রধান ফটকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা ডিপিই-এর প্রধান ফটকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অবস্থানকারীরা বলেন- করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন ৪৫ হাজার নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এটা আমরা মানি না, মানব না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, সহকারী শিক্ষকের পদসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ৩২ হাজার ৫৭৭ পদেই নিয়োগ দেয়া হবে।

অবস্থানকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. উত্তম কুমার দাশ।

তাদের বলেন, ‘নিয়োগের বিধি মোতাবেক ফল প্রকাশ করা হবে। মেধাবীরা চাকরির সুযোগ পাবেন। সবাইকে অনুরোধ করব আপনার মূল ফটক ছেড়ে দিন।’

মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ এজন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে পরীক্ষার ফল নিয়ে কাজ চলছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেসবুকে নজর দেবে সরকার
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য হচ্ছে কল্যাণ ট্রাস্ট
প্রাথমিকে বদলি বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষকরা
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ফের কোটা বাতিলের দাবি
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা চান শতভাগ টাইমস্কেল

মন্তব্য

শিক্ষা
32 years of educational program of Khulna University

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা
১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ওই বছর ৩১ জুলাই।

আজ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্ণ করেছে। আগামীকাল ৩৩ বছরে পদার্পণ করবে। প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আপামর মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা ও ত্যাগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ওই বছর ৩১ জুলাই।

এরপর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪টি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি
ভাস্কর্য অদম্য বাংলা। ছবি: নিউজবাংলা

রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল বা অনুষদের সংখ্যা ৮টি এবং ডিসিপ্লিন বা বিভাগের সংখ্যা ২৯টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, যার মধ্যে ২১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক আছেন পাঁচ শতাধিক, যার এক-তৃতীয়াংশই পিএইচডি ধারী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১২, যা বিশ্বমানের।

ছাত্রছাত্রীর অনুপাত ৫৪ঃ৪৬, যা দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কর্মকর্তা তিন শতাধিক এবং কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার শ।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৬টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করা হয়েছে।

খুবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আতিয়ার রহমান বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর গত ৩২ বছরে এখানে কোনো ছাত্র সংঘর্ষ, হানাহানি বা রক্তপাত হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই দীর্ঘ সময়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলো Learn, Lead and Live, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, শিখুন, নেতৃত্ব দিন ও বাঁচুন। এ ছাড়া নতুন ভিশন, মিশন এবং রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি প্ল্যান নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গল্লামারীতে স্থাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। স্থানটি একাত্তরের বধ্যভূমি। বধ্যভূমির ওপর গড়ে ওঠা এটাই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই মনে হবে এক শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। নেই কোনো কোলাহল, নেই শব্দদূষণ। বিশেষভাবে চোখে পড়বে একই রঙে রাঙানো ভবগুলোর দেয়াল।

প্রশাসনিক বা অ্যাকাডেমিকসহ কোনো ভবনের গায়ে দেয়াল লিখন নেই। নেই কোনো স্লোগান, নেই কোনো ব্যানার, ফেস্টুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের নাম বিধৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই প্রথম চোখে পড়বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুউচ্চ ম্যুরাল, যার গায়ে উৎকীর্ণ আছে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।

এ ছাড়া রয়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবন, ড. সত্যেন্দ্রনাথ বসু অ্যাকাডেমিক ভবন, আচার্য জগদীশচন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবন, কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবন। এমনিভাবে প্রতিটি আবাসিক হল ও অন্যান্য স্থাপনার প্রবেশ পথেই শুধু দেখতে পাবেন নাম লেখা। এ যেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিজস্বতা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ম্যুরাল। রয়েছে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহদাকার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির স্থপত্যশৈলী চমৎকার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করা হয়েছে এ ভবনটি। যার ছাদ দৃষ্টিনন্দন টেনসাইল মেমব্রেনে তৈরি।

এস এম আতিয়ার রহমান বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের শুরুতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয় নিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় তা কিন্তু গতানুগতিক ছিল না। তা ছিল ভবিষ্যৎ প্রয়োজনমুখী। তখনকার বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যাজন দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়।

‘দেশের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন এবং ঢাকার বাইরে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রথম চালু হয়। দেশের মধ্যে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় হিসেবে চালু হয়। সুন্দরবন ও উপকূল নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থাপিত হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)।

‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনের মাটির ২০ ফুট গভীরে সুরম্যভাবে স্থাপিত এ আর্কাইভ। এখানে সংগৃহীত আছে দেশের ৫টি জোনের এক হাজার আটশত আটান্নটি প্লটের ৫ হাজারের বেশি মাটির নমুনা, যা সংরক্ষণ করা হয়েছে গবেষণার জন্য।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও গ্রহণে আগামী ১০ বছরের জন্য জনবলের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই অর্গানোগ্রাম (২০২১-২২ থেকে ২০৩১-৩২) ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। শিক্ষার মান অর্জনে প্রয়োজন মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক, গবেষক। এ পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিসীমায় নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেণায় যুক্ত করতে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা হয়েছে অনেক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বা এমওইউ।’

তিনি জানান, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি তথা নবীন-প্রবীণ গবেষকদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে গবেষণার অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর ৬২টি গবেষণা প্রকল্পে দুই কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। চলতি বছর এই বরাদ্দ ২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা অনুদান প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৭ জন গবেষককে ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা আনুষ্ঠানিভাবে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’

উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অনুমোদিত ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০ তলা জয়বাংলা অ্যাকাডেমিক ভবন, সুলতানা কামাল জিমনেশিয়াম, টিএসসিসহ ২৪টি অবকাঠামোর কাজ। নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধানে এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে আছে একটি কমিটি।’

প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আস্থার জায়গা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। এটা ধারণ করেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে বিশ্বমান অর্জনের পথে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখার সম্মিলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহের পথে। এ বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্ব সারণিতে স্থান করে নেবে।’

আরও পড়ুন:
৫৫ কোটি ব্যয়ে টিএসসি হবে খুবিতে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলছে সোমবার
খুবির হল খুলছে ১৮ অক্টোবর
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু
খুবির শিক্ষার্থী-শিক্ষক বহিষ্কার, অপসারণ: দেশব্যাপী সমাবেশের ঘোষণা

মন্তব্য

p
উপরে