× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
UGC advises to take foreign grants for research
hear-news
player
google_news print-icon

গবেষণায় বিদেশি অনুদান নিতে পরামর্শ ইউজিসির

গবেষণায়-বিদেশি-অনুদান-নিতে-পরামর্শ-ইউজিসির
রাজধানীর ইউজিসি ভবনে এক সভায় অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদানে গবেষণাকর্ম পরিচালনায় আরও উদ্যোগী হতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদার করাও প্রয়োজন।’

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার জন্য বাইরের দেশের অনুদান নিতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ১৬টি বিদেশি প্রকল্পের অনুদানের অর্থ গ্রহণ ও ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর ইউজিসি ভবনে এক সভায় কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এই আহবান জানান।

বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদানে গবেষণাকর্ম পরিচালনায় আরও উদ্যোগী হতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদার করাও প্রয়োজন।’

একই সঙ্গে গবেষণায় বিনিয়োগে দেশের ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘একটা সময়ে বিদেশি সহায়তায় দেশে অনেক গবেষণা হতো। বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি অনুদানে গবেষণা পরিচালনা করছে। এই বিদেশি সহায়তায় গবেষণা পরিচালনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্যও উঠে আসছে।’

তিনি দেশের মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে গবেষণা চালিয়ে যেতে গবেষকদের অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে ইউজিসি থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে।’

সভায় ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মহিবুল আহসান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে ইউজিসি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
BNP can cause chaos

‘বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে’

‘বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা। ছবি: নিউজবাংলা
‘আন্দোলন ও সমাবেশের নামে বিএনপি নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ভয়াবহ নাশকতা করতে পারে। আমার ধারণা, তারা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জনসভায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে। তাদের অতীত বিবেচনায় এসব বিষয় নাকচ করা যায় না।’

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের জনসভায় খালেদা জিয়াকে নিয়ে গিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে। নয়াপল্টনে জনসভা ডাকার পেছনে তাদের দুরভিসন্ধি আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার বিকেলে ‘নৈরাজ্য-নাশকতা-বিশৃঙ্খলা: উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধান বাধা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্দোলন ও সমাবেশের নামে বিএনপি নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ভয়াবহ নাশকতা করতে পারে। আমার ধারণা, তারা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জনসভায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে। তাদের অতীত বিবেচনায় এসব বিষয় নাকচ করা যায় না।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি এদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও বিতর্কিত করেছে। আবার তারা সে ব্যবস্থা চায়, যা কোনদিন আর সম্ভব হবে না।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন, অধ্যাপক ড. বিমান বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, রেহান সোবাহান, ডা. শাহেদ ইমরান, কাজী মো. জহিরুল কাইয়ুমসহ পরিষদের নেতারা।

আরও পড়ুন:
‘খেলা হবে’র সমালোচনায় রাজনীতিবিদরা
বিএনপির আট সমাবেশের সমান জমায়েত পলোগ্রাউন্ডে: কাদের
১০ ডিসেম্বর কী হবে, জানালেন ফখরুল

মন্তব্য

শিক্ষা
The debut of a new group of pro Awami teachers in Jabi

জবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

জবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন শিক্ষক সংগঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ’ নামে আত্মপ্রকাশ করা এই সংগঠনের সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. নাসির উদ্দীন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দল ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ’ আত্মপ্রকাশ করেছে। এই বিদ্যায়তনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের এটি চতুর্থ সংগঠন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে এই নতুন দল আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়।

স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. নাসির উদ্দীন রয়েছেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতি মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক সেলিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকার, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ নিসা, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আছমা বিনতে ইকবাল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল কবির, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. নীলোৎপল সরকার, ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, আইএমএল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরিচালক খন্দকার মোন্তাসির হাসান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কিশোর রায় এবং সংগীত বিভাগের প্রভাষক জেরিনা আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক

মন্তব্য

শিক্ষা
DU Vice Chancellor asked for time to fulfill the demand of safe campus

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি পূরণে সময় নিলেন ঢাবি উপাচার্য

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি পূরণে সময় নিলেন ঢাবি উপাচার্য শুক্রবার এক নারীকে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের এমন চিন্তা-চেতনা ভালো এবং সৎ। ওদের চিন্তার সঙ্গে আমি একমত। কীভাবে সুন্দর ম্যানেজমেন্ট করা যায়, বহিরাগত এবং ভারি যানবাহন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে এসব বাস্তবায়ন করা যায় সেই প্রয়াস নেব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়িচাপায় এক নারীর প্রাণহানির ঘটনার পর নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ১১ দফা দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। এসব দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তা পূরণে সময় চেয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

আটজনের একটি প্রতিনিধি দল রোববার বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা; রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা; ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধু নিবন্ধিত রিকশা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা; ভ্রাম্যমাণ দোকানের জন্য স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে ন্যূনতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

অন্য দাবিগুলো হলো- প্রথম বর্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা; সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা; প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা; নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রক্টরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

সাক্ষাতের আগে দুপুরে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আল মেহরাজ শাহরিয়ার মিথুন বলেন, ‘স্যার আমাদের দাবিগুলো শোনেন। এরপর প্রতিটি দাবির সঙ্গে স্যারের কী চিন্তা-ভাবনা আছে তা আমাদের জানান।

‘স্যার আমাদের বলেছেন, ক্যাম্পাস শুধু আমাদের ওপর নির্ভরশীল নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেকের সঙ্গে সমন্বয় করার ব্যাপার। তাই এটি একটি লং প্রসেস। তোমরা আমাকে কিছু সময় দাও।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের এমন চিন্তা-চেতনা ভালো এবং সৎ। যারা বেশি দরদ দেখায় তাদের অসৎ উদ্দেশ্য। এদের কোনো খারাপ চিন্তা নেই। ওদের চিন্তার সঙ্গে একমত হয়ে কীভাবে সুন্দর ম্যানেজমেন্ট করা যায়, বহিরাগত এবং ভারি যানবাহন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে এসব বাস্তবায়ন করা যায় সেই প্রয়াস আমরা নেব।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মী
বহিরাগত নারীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, ঢাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ঢাবি প্রক্টরের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ
‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’

মন্তব্য

শিক্ষা
Questions about SSC HSC result release

‘ঘটা করে’ এসএসসি, এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন

‘ঘটা করে’ এসএসসি, এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
শিক্ষাব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে পিছিয়ে থাকা কিংবা অকৃতকার্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। সব শিক্ষার্থীর মানসিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দেশ অনেক আগেই এই আয়োজন থেকে সরে এসেছে। 

এসএসসি বা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন দেশজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা মাতেন উচ্ছ্বাসে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবক, শিক্ষকেরাও। ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খবর ফলাও করে প্রকাশ হয় সংবাদমাধ্যমে। পরের কয়েক দিন কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়েও প্রকাশ হয় প্রতিবেদন।

বছরের পর বছর এমন রীতিই চলছে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে। তবে শিক্ষাব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎসবের এই জোয়ার কৃতী শিক্ষার্থীদের আলোড়িত করলেও সম্পূর্ণ বিপরীত প্রভাব ফেলছে পিছিয়ে থাকা কিংবা অকৃতকার্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। পরীক্ষায় ‘খারাপ করা’ শিক্ষার্থীর আত্মহননের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিবছর।

তারা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সব শিক্ষার্থীর মানসিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দেশ অনেক আগেই ঘটা করে ফল প্রকাশের ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে।

দেশের একটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই দিন একজন শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করেই কাঁদতে শুরু করে। সে জানায়, পরীক্ষায় খারাপ ফলের কথা জানাজানি হওয়ায় বাবা-মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছে। যদি আমি (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) তার দায়িত্ব না নিই সে (শিক্ষার্থী) আত্মহত্যা করবে।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর রোল ও নিবন্ধন নম্বর দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো শিক্ষার্থীর ফল যে কারও পক্ষে জানা সম্ভব। তবে উন্নত দেশে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ফলটি জানায় তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল অন্য কারও জানার সুযোগ নেই। পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিংয়ের শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সেখানে প্রকাশ করা হয় না।

তারা বলছেন, দেশে জিপিএ ফাইভকে শীর্ষ মানদণ্ড ধরে নেয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বেড়েছে। এতে যোগ দিয়েছেন অভিভাবক-শিক্ষকও। সরকারের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমও বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মনে করছেন ঘটা করে পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি একটি ‘অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় চর্চা’।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই পাবলিক পরীক্ষার ফল কেন ঘটা করে প্রকাশ করতে হবে? এখানেই তো গোড়ায় গলদ।’

ইংরেজি মাধ্যমে পড়া নিজের ছেলের পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যখন এ-লেভেল এবং ও-লেভেলের পরীক্ষা দিল তখন কেউ জানল না। সে রেজাল্ট পেয়ে গেল। নিজের কম্পিউটারে চলে এলো, সে আমাকে দেখাল, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করল। ওরা ওরা মজা করে পৃথিবীর সব পথে বেরিয়ে গেল।’

তিনি একটি ইংরেজি দৈনিকের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা (পরীক্ষায় কৃতিদের সামনে আনা) ঘটা করে তারা শুরু করেছে। তারা শীর্ষ জিপিএ প্রাপ্তদের রিসিপশন দেয়। একটা ভজঘট ব্যাপার হচ্ছে।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার দর্শন হচ্ছে প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, প্রতিযোগিতা হবে নিজের সঙ্গে। আমি কত জোরে দৌড়াতে পারি আমার সক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুটা নিয়ে আমি কাজ করে ওই লক্ষ্যে দৌড়াব। এমন অনেকে আছে যারা জিপিএ ফাইভ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেনি। জিপিএ ফাইভ বাচ্চাদের একটা ফাঁদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। পরিবারগুলোকে একটা ধন্ধের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো বাচ্চাদের ওপর মানসিকভাবে অনেক প্রভাব ফেলে। যারা জিপিএ ফাইভ পায়নি তারা নিজেদের অধম মনে করে। তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত কেঁপে যায়। এরা আর সেই ভিত খুঁজে পায় না। অথচ অনেক ছেলে-মেয়ে বাইরে পড়াশোনা করতে গেছে যারা জিপিএ ফাইভ পায়নি।’

অভিভাবকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মা-বাবারা এখন ফেসবুকে পাবলিসিটি করেন। এতে বাচ্চাদের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়ে যায়। যে সময়ে পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করার কথা নয়, শিক্ষার আনন্দ পাওয়ার কথা সেই সময়ে তাদের ভি সাইন দেখিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে বিশেষ করে পত্রিকাগুলো এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।

‘সব মিডিয়া ঢাকাতে ভিকারুননিসা, আইডিয়াল, না হয় উত্তরা মডেল নিয়ে ব্যস্ত। এখানকার ছেলে-মেয়েদের ছবি দেখিয়ে তারা সন্তুষ্টি পায়। অথচ যে বাচ্চা এই চাপের মধ্যে পড়ে আত্মহত্যা করল, তার খবর কেউ রাখে না।’

নীতিনির্ধারকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই রেজাল্ট শুধু বাচ্চারা জানবে, স্কুল জানবে। ঘটা করে ফল প্রকাশের দিনের কোনো দরকার নেই। এটা প্রত্যেকটা বোর্ড শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেবে। তারাই শুধু জানবে। জিপিএ ফাইভ উৎসব অন্যদের জন্য বিষাদের দিন তৈরি করে। এটা অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির ফ্রাঙ্ক এইচ নেটার এমডি মেডিসিন স্কুলের ইআইডি অনুষদের সহযোগী ডিনের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক সেজান মাহমুদ।

আমেরিকায় এভাবে ঘটা করে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় না জানিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো পরীক্ষার ফল জানানোর ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কতার সীমা বিবেচনা করা হয়। ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণত বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্জিয়ানকে ডেকে ফল শেয়ার করা হয়। এর চেয়ে বেশি বয়সের ক্ষেত্রে সন্তানের অনুমতি সাপেক্ষে বাবা-মা রেজাল্ট দেখতে পারেন।’

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বাবা-মা খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্ত থাকেন বলে পরীক্ষার রেজাল্ট পরিবারের নির্দিষ্ট কারও কাছে এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠানো যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে পত্রিকায় বা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে নামসহ পরিচয়সহ দেয়া উচিত নয়। বড়জোর যেকোনো আইডির শেষ চার নম্বর দিয়ে ফল দেয়া যেতে পারে।’

চিকিৎসাবিজ্ঞানী সেজান মাহমুদ বলেন, ‘যাদের ফল আশানুরূপ হচ্ছে না তারা নানান মানসিক বিপর্যয়ের স্বীকার হচ্ছে। স্ট্রেস, ডিপ্রেশন, এমনকি সুইসাইডের ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। আমাদের মনে রাখা দরকার একবারের রেজাল্টই জীবনের সবকিছু নয়।’

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের ফল ঘোষণা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার। এরপরেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল অন্যদের মাঝে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বোর্ড থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল পাঠিয়ে থাকি। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠান রেজাল্ট পেয়ে থাকে। নৈতিকভাবে তারা সেটা উন্মুক্ত করতে পারে না।

‘আমাদের বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে চাইলেই যে কারও ফল জানার সুযোগ নেই, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সুযোগ আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের ফল পাঠাতে হয়। এটা ব্রিটিশ সময় থেকে আছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটা ডিজক্লোজ করবে কি না, সেটা তাদের বিষয়। এটা তাদের নীতি-নৈতিকতার বিষয়। এখানে আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই।’

ঘটা করে ফল প্রকাশ না করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখা যায়। এটি আমি এরপর নির্ধারিত ফোরামে আলোচনা করব। ফলাফলটা যার যার তার তার হয়, সামাজিকভাবে অন্য কেউ যেন না জানে।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাছের অভিভাবকদের আরও সচেতনতার তাগিদ দিচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিভাবকরা এখন সন্তানদের নিয়ে অনেক বেশি অশান্ত পরিবেশ তৈরি করে থাকেন, যা তাদের আরও ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

‘এই আয়োজনটা (উৎসব করে ফল প্রকাশ) আমাদের এখানে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এখন পরিবেশ ও পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের ইমোশনাল জায়গাটা বেড়ে গেছে। তারা একটু স্পর্শকাতর হয়েছে। এখন এটা করা যেতে পারে যে একটি নির্দেষ্ট তারিখের পর থেকে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবে। অবশ্য অভিভাবক সচেতন না হলে তাতেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখন অভিভাবকরা ভাবেন তার বাচ্চাকে এটা করতেই হবে, এই ফল আনতেই হবে। এটা একটা প্রেস্টিজিয়াস ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই জায়গা থেকে তাদের সরে আসতে হবে।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহারও মনে করছেন ‘উৎসব করে’ পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অনেক শিক্ষার্থীর ওপর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো বাচ্চা যখন রেজাল্ট খারাপ করে, আর তার বন্ধু যখন রেজাল্ট ভালো করে সেটা যখন ফেসবুকে বা পত্রিকাতে আসে, তখন খারাপ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা কাজ করে। সে এটা কাউকে বলতেও পারে না। এ জন্য আমরা অনেক সময় দেখি সুইসাইড পর্যন্ত করে ফেলছে। এটা দুঃখজনক।’

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটা করে ফল প্রকাশের পেছনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন। তবে এর সঙ্গে একমত নন সাংবাদিক নেতা ও টিভি টুডের সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলছেন, পরিবার ও সামাজের অতিমাত্রায় সংবেদশীলতা ও অতিমাত্রায় কম সহনশীলতার কারণেই পরীক্ষার ফল নিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে কিন্তু এটা (কৃতীদের নিয়ে প্রতিবেদন) আরও বেশি হতো। তখন মেধা তালিকায় যারা প্রথম দশে থাকতেন বা স্ট্যান্ড করতেন তাদের ছবিসহ ছাপানো হতো। তারা কে কী হতে চান সেটাও জানানো হতো।

‘আমাদের বর্তমান স্পিকার যখন ফার্স্ট হলেন তখন তার ছবি ছাপানো হয়েছিল। তখন কিন্তু এখনকার মতো এত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হয়নি। এটা নতুন হচ্ছে তা নয়, বরং এটা আগে বেশি হতো। এটা আগের ধারাবাহিকতাতেই চলছে।’

এসএসসি ও এইচএসসি প্রথম পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা বলে এটি উৎসবের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন যেটা হচ্ছে সেটা হলো একজন ছাত্র বা ছাত্রী ফেল করলে সে যেন অচ্ছুৎ হয়ে পড়ে। আগে এমন হতাশা বা আত্মহত্যা ছিল, তবে কম ছিল। এখনকার বাচ্চারা একসঙ্গে বড় হচ্ছে, মোবাইলের কারণে সবকিছু জানতে ও জানাতে পারছে।

‘ফল ছাপানোর ক্ষেত্রে তো আমি বাধা দিতে পারব না। পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট ছাপা হবে। সেখানে যারা ভালো করবে, সেটাও ছাপা হবে। যারা খারাপ করে সেটা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তাই খবরের চেয়ে জরুরি হলো পরিবারকে শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

কারও সাফল্যের গল্প বা ভালো কিছু ছাপা বন্ধ করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে অকৃতকার্য হচ্ছে তার মধ্যে এটার প্রভাব পড়বে, কিন্তু এর মানে এই না যে সফল হচ্ছে তার কথা বলা আমি বন্ধ রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ পেল মানিক
উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব আছে: শিক্ষামন্ত্রী
৪৫ বছরে এসএসসি দিয়ে পেলেন জিপিএ ফাইভ
বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দেয়া সুমাইয়া পেল জিপিএ ফাইভ
রাজশাহীতে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ ফাইভ, এগিয়ে মেয়েরা

মন্তব্য

শিক্ষা
Jabir NSCC Club Bajimat at Jabir Prajapati Mela

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসসিসির সদস্য ও অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের চারজন প্রজাপতি দৌড়ে, ছয়জন বারোয়ারি বিতর্কে, ছয়জন ছবি প্রদর্শনীতে ও ১৩ জন স্টল ডেকোরেশনে পুরস্কার পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনুষ্ঠিত প্রজাপতি মেলায় প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে প্রথম এবং বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাব’ (এনএসসিসি)।

‘প্রজাপতি প্রজাপতি... কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী ১২তম প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেলায় ছিল নানা আয়োজন।

মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে ক্লাবটি প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ক্লাবটি।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ক্লাবের সদস্যরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার মধ্যে প্রজাপতি দৌড়ে চারজন, বারোয়ারি বিতর্কে ছয়জন, ছবি প্রদর্শনীতে ছয়জন এবং স্টল ডেকোরেশনে ১৩ জন পুরস্কার পেয়েছেন।

নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তানজিলুর রহমান খান বলেন, ‘বাগান সুরক্ষিত রাখা, বাস্তুতন্ত্ৰ রক্ষা, জলবায়ু বুঝতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে প্রজাপতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রজাপতি আমাদের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রজাপতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের ক্লাব এই উদ্দেশ্যে নিরলস কাজ করে আসছে।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
DU Chhatra League conference Those in the race for leadership

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় শুরু হয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন থেকে এই কমিটির ঘোষণা দেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার। তবে সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদ্দাম হোসেন নেতৃত্বে আসেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবন-বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। সম্মেলনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি রায়হান কাউসারকে।

আগ্রহী প্রার্থীরা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গোলঘর থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দেন।

রায়হান কাউসার বলেন, ‘২৩৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

জানা যায়, ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য বিভিন্ন হল, অনুষদ, ইনস্টিটিউট, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদপ্রাপ্তরা প্রার্থী হয়েছেন।

সম্মেলন উপলক্ষে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলন হলে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সংগঠনেও গতিশীলতা আসে। সংগঠনে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে আরও বেগবান করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগে আগামীতে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন। তারা যেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একইসঙ্গে মধুর ক্যান্টিনসহ দৃশ্যমান স্থানে নিজেদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিগত কয়েক কমিটির তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখায় নেতৃত্ব দেয়াদের মধ্যে যেকোনো একজন ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে এসেছেন।

বর্তমান ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস আগে জগন্নাথ হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে সাধারণ সম্পাদক হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ছিলেন না। তিনি হল রাজনীতিতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

২০১১ সালে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা আগে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এসব কিছু বিবেচনায় এবারও হল ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চান পদপ্রত্যাশী অনেকে। আর সে লক্ষ সামনে রেখে হল ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এরকম প্রত্যেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসার দৌড়ে এগিয়ে আছেন- হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সভাপতি শহিদুল হক শিশির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান শান্ত, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান সজিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন নাইম।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, সাহিত্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক জয়দ্বীপ দত্ত (জয়জিৎ), নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, সহ-সম্পাদক দিদারুল আলম, এস এম রাকিব সিরাজী, ঢাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

এদিকে বেশ কয়েকজন নারী নেতাও আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক রওনক জাহান রাইন।

কেমন নেতৃত্ব চান- এমন প্রশ্নে শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বাংলাদেশ গঠন করতে চাচ্ছেন। এজন্য কিন্তু বিজ্ঞানমনষ্ক কিছু ছেলের দরকার আছে। আর আমাদের সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে।

‘সেই নির্বাচনে রক্ত বিসর্জন দিয়েও যে রাজপথে থাকতে পারবে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য কাজ করতে পারবে এবং সততা দেশপ্রেম ও ত্রিশ লাক শহীদের রক্তের ঋণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে রাজনীতি করবে- এমন নেতৃত্ব আসবে এমন প্রত্যাশা আমার।’

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার বলেন, ‘হল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল তাদেরকে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনলে তারা নিজেদের আরও মেলে ধরার সুযোগ পাবেন।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত, সৎ ও যোগ্যদেরই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের কমিটিতে রাখা হবে না। আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার প্রাধান্যও থাকবে। সে ক্ষেত্রে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের প্রাধান্য থাকবে।

বিগত কয়েকটি কমিটির তথ্য-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছেন। এর বাইরে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও বিতর্কমুক্তদের প্রাধান্য দেয়া হবে।

এছাড়া করোনাকালে যেসব নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুক্তভোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন তাদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
‘বিএনপিকে সুযোগ দিতে এগোনো হয়েছে ছাত্রলীগের সম্মেলন’

মন্তব্য

শিক্ষা
The anger of a section of students at the football festival in DU

ঢাবিতে ফুটবল উৎসবে শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ  

ঢাবিতে ফুটবল উৎসবে শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ

  ঢাবিতে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করা দর্শকদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা
গাড়িচাপায় গৃহবধূ রুবিনা আক্তারের মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে রাতের বেলায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা না দেখানোর দাবি জানায়, তবে সেটি না ঘটায় ক্ষোভ জানিয়েছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহর প্রাইভেট কারের চাপায় নারী নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসব নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা এ ক্ষোভের কথা জানান।

ননদের স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে শুক্রবার ঢাবি হয়ে হাজারীবাগ যাচ্ছিলেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় আজাহারের গাড়ির ধাক্কায় তিনি পড়ে যান। পরে আজাহার গাড়ি না থামিয়ে রুবিনাকে টেনেহিঁচড়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যান। এতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের বেলায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা না দেখানোর দাবি জানায়, তবে শুক্রবার মধ্যরাতে ব্রাজিল-ক্যামেরুনের ম্যাচের সময় চেনা দৃশ্য দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল মাঠ ও টিএসসিতে।

এতে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী মধ্যরাতেই রাজু ভাস্কর্যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান। তাদের একজন এসএম হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অনিরাপদ, আমি এখানে দাঁড়িয়ে যখন রুবিনা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি, তখনও ক্যাম্পাসে অনিরাপদের সব আয়োজন চলছে।

‘এই খেলা দেখার ছলে ক্যাম্পাসের বাইরের অন্তত কয়েক হাজার লোক এখানে অবস্থান করছে। তারা ভুভুজেলা বাজিয়ে শব্দদূষণ করছে। তাদের শব্দদূষণের কারণে এখন যাদের পরীক্ষা চলমান, তাদের কেউ পড়তে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মর্মান্তিক ঘটনা জানার পর যে কেউ একটু সংবেদনশীল হবে, কিন্তু এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসব চলছে।

‘খেলা উৎসব। আমরাও দেখব, কিন্তু বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে না দেখালে কি হতো না আজ? বিভিন্ন করপোরেট ব্যানারের আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কালো মুখ লুকিয়ে আছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

এদিকে ফেসবুকে মনসুর রাফি নামের এক শিক্ষার্থী লিখেন, ‘আজ দুপুরে একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে৷ সেই রক্ত শুকানোর আগেই ফুটবল উৎসবে মেতে উঠেছি আমরা। ছি!’

আজহার উদ্দীন অনিক নামে আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, অন্তত আজকের মতো হৈ-হুল্লোড় করে খেলা দেখা বন্ধ থাকবে। যেহেতু ওই নারীকে গাড়ির তলায় চেপে টিএসসি থেকেই নীলক্ষেতের দিকে মুহসীন হলের মাঠের বিপরীত রাস্তা দিয়েই পিষে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু আমি জানি সেটা অবাস্তব আশা; কিছু হবে না।’

সানজানা আফিফা অদিতি নামের একজন লেখেন, ‘এখনও খেলা দেখা হচ্ছে!!! বাঁশি বাজানো হচ্ছে!!! আপনাদের বিবেক কি একটুও কাজ করে না??? এতদিন তো প্রতিদিন বাঁশি বাজিয়ে খেলা দেখলেন। আজও???’

সাইদ আবদুল্লাহ লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নারীকে গাড়ির চাকায় আটকে টেনে নিয়ে পিষিয়ে পিষিয়ে মারা হয়েছে, রাস্তায় এখনও হয়তো তার রক্তের দাগ শুকায় নাই। অথচ এর ভেতরেই সেই ক্যাম্পাসেই বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখার হিড়িক লেগে গেছে, বাজছে বাঁশি, হচ্ছে লাফালাফি-ঝাঁপাঝাঁপি।

‘ভাবতে অবাক লাগে, এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররাই একসময় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিত। আর এখনকার ছাত্ররা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ তো নয়ই, বরং আনন্দ-উৎসবে মত্ত থাকাটাই প্রেফার করে!’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন আর্জেন্টিনার কোচ
আর্জেন্টিনাকে পাত্তা দিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশকে ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা দলের
পর্তুগালের সঙ্গী হওয়ার সুযোগ তিন দলের
বিশ্বকাপে আর না-ও দেখা যেতে পারে নেইমারকে

মন্তব্য

p
উপরে