× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Free emergency healthcare in Jobis statistical department
hear-news
player
google_news print-icon

জবির পরিসংখ্যান বিভাগে বিনা মূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা

জবির-পরিসংখ্যান-বিভাগে-বিনা-মূল্যে-জরুরি-স্বাস্থ্যসেবা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে বিনা মূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে৷ ছবি: নিউজবাংলা
‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নিজ উদ্যোগে তাদের জরুরি প্রয়োজনে একটি স্যালাইন বা একটি নাপা ট্যাবলেট এমন জরুরি মেডিসিন সেবা চালুর ব্যবস্থা করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে৷ বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ-উল-আলমের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় সেমিনারে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করার এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনটি ১৩ তলার। ওপর তলার বিভাগের শিক্ষার্থীদের জরুরি ওষুধ সংগ্রহ করতে নিচে নেমে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি অনেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক আশরাফ-উল-আলম বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নিজ উদ্যোগে তাদের জরুরি প্রয়োজনে একটি স্যালাইন বা একটি নাপা ট্যাবলেট এমন জরুরি মেডিসিন সেবা চালুর ব্যবস্থা করেছি।’

বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অমিত পাল বলেন, ‘শিক্ষকের এই উদ্যোগে আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। বর্তমান সময়ে ফুড পয়জনিং, গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা, অ্যালার্জি, ঠান্ডা-কাশি, পানি শূন্যতাজনিত সমস্যা বেশি। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়লেও মেডিক্যাল সেন্টারে যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠে না এবং প্রায়ই ওষুধও পাওয়া যায় না।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শাহজাহান, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুন নাহার, পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর এবং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন, আব্দুল বাতেনসহ বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন জবির মাহফুজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
2 more deaths detected in dengue 253

ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫৩

ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫৩ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। ফাইল ছবি
বছরের শুরু থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৯ হাজার ৪৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৫৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭৯৫ জন।

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বুধবার বিকেলে গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবের এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৬০ জনের মৃত্যু হলো।

নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ১৩০ ও ঢাকার বাইরে ১২৩ জন রোগী আছেন। এ নিয়ে সারা দেশে ১ হাজার ১৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ৬৮৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৮৮ জন।

বছরের শুরু থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৯ হাজার ৪৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৫৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭৯৫ জন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা বছরের মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ।

নভেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৩৪ জন। আর ডিসেম্বরের প্রথম সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৯১ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ হাজার ১৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৬ হাজার ৮১১ ও ঢাকার বাইরে ২১ হাজার ২০৭ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮
রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
1 death detected in dengue 269

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯ হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় ২৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

তাতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১৯ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৫০৮ জন।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৫৮ জনের।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৯ হাজার ১৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ হাজার ৫২৪ জন ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৬৭২ জন।

এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠেছেন ৫৭ হাজার ৭১১ জন। ঢাকা ৩৬ হাজার ৬৪৭ জন এবং ঢাকার বাইরে সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার ৬৪জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮
মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩৫১
ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু

মন্তব্য

শিক্ষা
Action against doctors for providing services in unregistered hospitals

নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার অনুমোদনহীন আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে (ডানে) শিশু মাইশার মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সম্প্রতি ঢাকার রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায় কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশা। এরপর বেরিয়ে আসে হাসপাতালটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। বিষয়টি নিয়ে সোমবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। এর এক দিন পরেই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিবন্ধনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা দেয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দিলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বহন করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি জানতে পারলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মাজহারুল হক তপনের সই করা নোটিশে মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) মাহমুদুর রহমান।

সম্প্রতি ঢাকার রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায় কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশা। এরপর বেরিয়ে আসে হাসপাতালটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। এর এক দিন পরেই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন: শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মাইশাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাইশার বাবা।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয় দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনলাইন নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা চলছে। বেশির ভাগ ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত। সবগুলোর সেন্টারের ডিসপ্লেতে তাদের লাইসেন্স নম্বর দেখানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, এখনও কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে অবৈধভাবে চলছে। তাই সব চিকিৎসককে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সেবাদানের নির্দেশ দেয়া হলো।

‘এরপরও নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দিলে তার দায়ভার সেই চিকিৎসক বহন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে জানতে পারলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক অনিবন্ধিত জানার পরেও কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবাদান করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা বিএমডিসিকে সুপারিশ করব। আমরা কখনোই সেই চিকিৎসকের হয়ে কথা বলব না। কারণ তাদের বলাই হয়েছে নিবন্ধন আছে কি না, দেখে নিতে।

‘তাদের তো চোখ আছে। এরপরও সেটা না মানলে তার রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে। আর এ ব্যাপারটি দেখভাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সচেষ্ট থাকবে।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের ঘটনা জানার পর নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি জোরদার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই প্রক্রিয়া প্রায় ৭-৮ মাস ধরে চলমান ছিল। এই ঘটনাটা বিষয়টিকে আরও বেশি নজরে এনেছে। মাইশার অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন চিকিৎসকের ব্যাপারেও বিএমডিসি সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন:
এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা
চিকিৎসক ধর্মঘটে অবর্ণনীয় কষ্টে রোগীরা
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছাল
৬২৭ ফার্মাসিস্ট নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
কাশিয়ানী হাসপাতালে অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ

মন্তব্য

শিক্ষা
Death of baby Maisha That hospital in Dhaka was running without approval

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল শিশু মাইশা (বাঁয়ে) এবং ঢাকার আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।  

হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যাওয়া কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশাকে ঢাকার যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ। মাইশাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা। তারাসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাইশার বাবা।

একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

আগের মালিক ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান একসময়ে মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফোন বন্ধ। তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়ার মোজাফফর আলী ও বেলি আক্তারের মেয়ে মাইশা। তার ডান হাতের আঙুল ৯ মাস বয়সে পুড়ে বাঁকা হয়ে যায়।

মোজাফফর হোসেন মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত ২৮ নভেম্বর মিরপুর ১১-এর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আসেন। ওই হাসপাতালে রোগী দেখেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. আহসান হাবীব। মাইশাকে তার কাছেই দেখানো হয়।

মোজাফফর হোসেনের অভিযোগ, ডা. আহসান হাবীব মাইশার হাতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন অভিভাবকেরা সম্মতি দিলে ডা. হাবীব তাদের জানান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগবে। আর রূপনগর আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে খরচ হবে ৭০ হাজার টাকা।

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিজের শেয়ার থাকায় কম খরচে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলেও জানান ডা. হাবীব।

স্বজনদের দাবি, ৩০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাইশার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডা. হাবীব অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে জানান অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। হাতের আঙুলে প্রতিস্থাপনের জন্য চামড়া নেয়া হয়েছে মাইশার পেট থেকে।

তবে বেলা দেড়টার দিকে ডা. হাবীব স্বজনদের জানান মাইশার জ্ঞান ফিরছে না। তাকে অন্য হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠাতে হবে। তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে একজন নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ মিরপুর মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়ে যান। তবে সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান মাইশা আগেই মারা গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপনগর থানায় অভিযোগ জমা দেন মাইশার বাবা। সন্ধ্যায় সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।

অভিযোগে মাইশার বাবা বলেন, মাইশার মৃত্যুর পর ডা. হাবীব তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচারের আগাম ফি হিসেবে জমা দেয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মরদেহ দাফনের আগে গোসলের সময় দেখা যায় মাইশার নাভির নিচে আড়াআড়িভাবে পুরো পেট কাটা এবং সেখানে ১৭টি সেলাই রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বজনরা ডা. হাবীবকে ফোন করলে তিনি তখন জানান, অস্ত্রোপচার তিনি করেননি, সেটি করেছেন ডা. শরিফুল ইসলাম ও ডা. রনি।

এরপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অবস্থান যেখানে সেই রূপনগর থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় মাইশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মাইশাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
মাইশার অস্ত্রোপচার চলে এই অপারেশন থিয়েটারে

পার্টি সেন্টারের স্টেজের ওপরেই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকের চারটি ফ্লোরে এর অবস্থান।

ভবনের নিচতলায় খাবার হোটেলসহ তিনটি দোকান রয়েছে। এরপর দুই, তিন ও চারতলায় পার্টি সেন্টার। চতুর্থ তলার পার্টি সেন্টারে গান-বাজনার স্টেজের ঠিক ওপরেই পঞ্চম তলায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। সেখানেই মাইশার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভবনের ষষ্ঠ তলায় আল-আরাফাহ ইসলামী জীবনবিমার অফিস। এর পরের সপ্তম তলায় হাসপাতালের ওয়ার্ড, অষ্টম তলায় কেবিন ও নবম তলায় কনসালটেশন সেন্টার।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে অনুমোদনহীন এই হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চারটি ফ্লোরই সোমবার সকালে তালাবন্ধ দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটি চালু ছিল, রোগীও ভর্তি ছিলেন। তবে এরপর থেকে কোনো কার্যক্রম নেই।

ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ৩০ নভেম্বর মাইশার মৃত্যুর পর হাসপাতালের দায়িত্ব আগের মালিকের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জিকরুল্লাহ স্বপন।

অবৈধ হাসপাতালের নতুন মালিক

মাইশার অস্ত্রোপচার হয়েছে যেখানে সেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো নিবন্ধন নেই এবং এ জন্য তারা আবেদনও করেনি। ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পরই আমরা কালক্ষেপণ না করে পরিচালকের নির্দেশে সেখানে যাই এবং হাসপাতালটি বন্ধ করে দিই।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি সব কক্ষ তালা দেয়া। শুধু ফজলুল রহমান রাব্বি নামে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি আমাদের পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশটি রিসিভ করেন।

‘নোটিশে নির্দেশনা দেয়া হয় কোনো চিকিৎসক যেকোনো হাসপাতালে কাজ করতে গেলে আগে দেখে নেবেন সেটি নিবন্ধিত কিনা। যদি না থাকে তবে তিনি কাজ করতে পারবেন না। করলে দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম এখন বন্ধ

অনুমোদন ছাড়াই ঢাকার বুকে এভাবে একটি হাসপাতাল কীভাবে চলল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। তবে আমাদের লোকবল কম। অলিগলিতে গিয়ে সব তো দেখা সম্ভব হয় না। অভিযানে যেগুলো অনিবন্ধিত নজরে আসে, সেগুলো বন্ধ করা হয়।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল গড়ে তোলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান নামে এক ব্যক্তি। ৯ তলা ভবনটির মালিকানাও তার। আগে তিনি মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ছিলেন। ৩০ নভেম্বরের পর হাসপাতালটির মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে, এখন এটির মালিক জিকরুল্লাহ স্বপন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজে একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এবং মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক।

‘এই হাসপাতালের আগের মালিক ছিলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান। প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। আমার কাছে মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে ডিসেম্বরের ১ তারিখ।’

ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমানের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে জানতে চাইলে স্বপন বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা হয় মিরপুর মেডিট্যাগ অথবা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখন নামটা সঠিক মনে নেই।’

হাসপাতালের আগের মালিক এখন কোথায় আছেন সে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের কেউ তথ্য দিতে পারেননি। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডা. মাসুদের বিষয়ে জানতে চাইলে জিকরুল্লাহ স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি আগে মিরপুর ১২-তে মিম জেনারেল হাসপাতালে বসতেন। পরে নিজেই মিরপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিয়ে সেখানে বসতেন। সবশেষে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে কাজ শুরু করেন এ বছরের জুলাই-আগস্ট থেকে।

‘আমি ওনার কোনো কাগজপত্র দেখিনি। যতটুকু জানি উনি এমবিবিএস ডাক্তার এবং রাশিয়া থেকে এমডি ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। এটা তো অনেক বড় ডিগ্রি।’

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতাল কেন কিনলেন, এমন প্রশ্নে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন। এবার তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান কেনেননি, ভাড়া নিয়েছেন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কিনিনি। শুধু হাসপাতালের মালামাল কিনেছি। এটার অনুমোদন পেতে তিন-চার মাস ধরে আলোচনাও হচ্ছে। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য জানিয়েছে এ ধরনের কোনো আবেদন তারা পায়নি।

জিকরুল্লাহ স্বপন নিজেকে মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক দাবি করলেও সংগঠনের নেতারা তা অস্বীকার করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং মঙ্গলবারের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী জাকওয়ান হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিকরুল্লাহ স্বপন নামে কাউকে আমি চিনতে পারছি না। সহসম্পাদক পদে অনেককেই চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ হলেও হতে পারে, তবে আমি তাকে চিনতে পারছি না।’

মিরপুরে ছাত্রলীগের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২০ বছর আগে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে একটি কমিটি ঘোষণা করা হলেও সেখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ছিল। আর এবারের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সামনে রেখে ১ ডিসেম্বর আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে সেখানেও শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম রয়েছে।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের চারটি ফ্লোর ঘুরে কেবল ফজলুর রহমান রাব্বি নামে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে পেয়েছে নিউজবাংলা।

মার্কেটিংয়ের কর্মী দাবি করা রাব্বি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাসের ১ তারিখ স্বপন ভাই এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে যে অকারেন্সটা হয়েছে সেটা গত মাসের ৩০ তারিখে। আমি যতটুকু শুনেছি মাইশার আঙুলের অপারেশন ছিল। এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় ডাক্তাররা চামড়া নেয় রান (ঊরু) থেকে। তার রান চিকন হওয়ায় সেখান থেকে চামড়া নিতে পারেনি। পরে পেট থেকে চামড়া নিয়ে অ্যাডজাস্ট করেছে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
পার্টি সেন্টারের রেস্তোরাঁর স্টেজের ঠিক ওপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

হাসপাতালে এখন কোন রোগী ভর্তি আছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো রোগী নাই। হাসপাতাল ফাঁকা। আমাদের হাসপাতালের কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে রোগী ভর্তি নেব।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের সুজন পেইন্ট অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানের কর্মচারী মো. ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে পাঁচ-ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। রোগী আসা-যাওয়া দেখেছি। এখন শুনলাম হাসপাতাল নাকি বন্ধ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের কেয়ারটেকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় মাস ধরে এই হাসপাতাল চালু আছে। সিজারসহ বিভিন্ন ধরনের অপারেশন হতো। যখন রোগী আসত তখন ডাক্তার আসত। ডা. মাসুদ এই হাসপাতালে নিয়মিত ৯ তলায় বসতেন। তিনি মেডিসিনের ডাক্তার। মাসুদ হাসপাতাল এবং এই ভবনের মালিক।’

তিনি বলেন, ‘ডা. মাসুদের বোন হাসপাতালের পাশের সাততলা ভবনের মালিক। তারা কেউ এখানে পরিবার নিয়ে থাকেন না। পল্লবীর বাসায় থাকেন। ডা. মাসুদ প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ২টা এবং আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত আসতেন।’

দায় নিচ্ছেন না চিকিৎসকেরা

মাইশাকে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো চিকিৎসক ডা. আহসান হাবীব দাবি করছেন হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার তিনি নন। শিশু মাইশার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন এর কারণ বুঝতে পারছেন না।

ডা. হাবীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটির হাতের চামড়া ঠিক করতেই পেট থেকে চামড়া নেয়া হয়। সেখানে ডা. শরিফুল ইসলাম অপারেশন করেন। পুরো সময়টা আমি ছিলাম তাদের সঙ্গে।’

মাইশার পরিবারকে তিনি ওই হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকার কোনো তথ্য দেননি দাবি করে ডা. হাবীব বলেন, ‘এগুলো বানোয়াট। আমি, ডা. শরিফুল ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়া স্পেশালিস্ট রনি অপারেশনের সময় ছিলেন। সেখানে মেয়ের হাতের ছবি তোলা হয়েছে। সিসিটিভি আছে, পুরোটা দেখা যাবে। আর আমি কোনো শেয়ারহোল্ডার না।’

সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে অবশ্য তিনি দিতে রাজি হননি।

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন ছিল। আমরা সার্জন। বিভিন্ন জায়গায় সার্জারি করি। এটা প্লাস্টিক সার্জারি ছিল, তাই ডা. শরিফুলকে রেফার করেছিলাম।’

মাইশার অস্ত্রোপচার করেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম।

অনুমোদনহীন আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনুমোদন আছে কি না, এটা তো আমি জানি না। আহসান হাবীব জানেন।’

মাইশার মৃত্যুর জন্য অ্যানেস্থেশিওলজিটদের দায় দিচ্ছেন ডা. শরিফুল।

তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক সার্জারিতে আমাদের মেইন কাজ হচ্ছে তলপেট থেকে অথবা থাই থেকে স্কিন নিয়ে আরেক জায়গায় দিই। তবে হাত পুড়ে গেলে সেখানে থাইয়ের স্কিন দেয়া যায় না। কারণ, থাইয়ের স্কিনের পুরুত্ব বেশি। ভালো রেজাল্টের জন্য স্কিন পেট থেকে নেয়া হয়।’

মাইশা কেন মারা গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এনেস্থেশিয়া যিনি দিয়েছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি অপারেশন শেষ করতে পারিনি। এনেস্থেশিয়ায় প্রব্লেম হয়েছিল। তখন তাড়াতাড়ি ডা. আহসান হাবীব আসেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে একজন এনেস্থেশিয়া স্পেশালিস্ট আসছিলেন তখন। তার নামটা মনে নেই। হাবীব ভাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি তাকে নিয়ে এসেছিলেন। দুঃখজনক হচ্ছে রোগীকে বাঁচানো যায়নি।’

আইসিইউ হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যায় মাইশা

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর মাইশাকে মিরপুর-১ মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঠানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক এম এম নেয়ামত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে তো রোগীকে ভর্তিই করিনি। হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কারণ মাইশাকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই মৃত পেয়েছি।

‘তাদের সঙ্গে দুইজন ডাক্তার ও ওটির লোক এসেছিলেন। তারা আমাকে নানাভাবে অনুরোধ করে চেষ্টা করেছেন ম্যানেজ করে রোগীকে আইসিউতে ঢোকানোর জন্য। কিন্তু একজন মরা বাচ্চাকে কেন আমরা আইসিউতে ঢোকাব?’

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহাবিলিয়েশন হসপিটালের শল্যবিদ আওলাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শরীরের কোনো অংশ থেকে অন্য অংশে চামড়া কেটে লাগানোকে বলে স্কিন গ্রাফটিং। এটি সাধারণত ঊরু বা থাই থেকে নেয়া হয়। তবে ঊরু চিকন হলে পেটের ওপরের অংশ বা হাতের শোল্ডার থেকে নেয়া যায়। এই সেলাই চামড়ার ওপরেই থাকে। চিকিৎসক মনে করলে যেকোনো সুবিধাজনক জায়গা থেকেই চামড়া নিতে পারেন।’

পাঁচ দিনের মাথায় মামলা

মায়েশাকে হত্যা করার অভিযোগ তুলে সোমবার ঢাকার রূপনগর থানায় মামলা করেছেন তার বাবা মোজাফফর হোসেন।

রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার আমাদের থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে যা যা করণীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ভুয়া প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ তুলে পাচার
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ
রিপোর্ট আনতেই ডাক্তারের সময় শেষ
মেডিক্যাল কলেজ আছে, ভবন নেই
চালুর দেড় বছর পর চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্বোধন

মন্তব্য

শিক্ষা
308 detected on days without dengue deaths

ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮

ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮ এডিস মশার বিস্তারে বাড়ছে ডেঙ্গু। ছবি: সংগৃহীত
বছরের শুরু থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৩৭ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৮ জন। এসময় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ১৭২ ও ঢাকার বাইরে ১৩৬ জন রোগী আছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৩৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ৭৭৭ জন ও ঢাকার বাইরে ৫৫৫ জন।

বছরের শুরু থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৩৭ জন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা বছরের মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ।

এদিকে নভেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৩৪ জন। আর ডিসেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৯ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৩৩৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৬ হাজার ৪৫৬ ও ঢাকার বাইরে ২০ হাজার ৮৮২জন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩৫১
মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিন, শনাক্ত ৩৬৬
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২

মন্তব্য

শিক্ষা
Dengue deaths are high due to late arrival of patients to hospital Health Minister

রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু দেশে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর হারও বেড়ে গিয়েছিল। আশেপাশের দেশেও বেড়ে গিয়েছিল। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার রোগী আমরা পেয়েছি৷ এরমধ্যে ৩৬ হাজার ঢাকার, সিটি করপোরেশনের মধ্যে। এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম বেশি, পানিও জমে থাকে বেশি। এসব জায়গায় স্প্রে করা প্রয়োজন।’

মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা শুরু করায় এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে সোমবার নেপাল এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্টাডিতে দেখেছি, যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। তারা চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেছেন। যারা বেশি সময় হাসপাতাল থাকার সুযোগ পেয়েছেন তাদের মৃত্যুহার কম।’

দেশের অন্য এলাকার তুলনায় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উৎপাত বেশি বলেও মন্তব্য করেন জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘বারিধারায় থাকি, এখানেও অনেক মশা। আমাদের সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। গ্রামে কিন্তু এত মশা নেই। সেখানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। এটা ঢাকা শহরেই বেশি।

‘সিটি করপোরেশন থেকে বেশি নজরদারি করলে আশা করি কমে আসবে। যদিও তারা চেষ্টা করছে, স্প্রে করছে। তবে যে পরিমাণে দেয়ার কথা সে পরিমাণ হয়তো দেয়া সম্ভব হয়নি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু দেশে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর হারও বেড়ে গিয়েছিল। আশেপাশের দেশেও বেড়ে গিয়েছিল। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার রোগী আমরা পেয়েছি৷ এরমধ্যে ৩৬ হাজার ঢাকার, সিটি করপোরেশনের মধ্যে। এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম বেশি, পানিও জমে থাকে বেশি। এসব জায়গায় স্প্রে করা প্রয়োজন।

‘আগে ১ হাজার রোগী প্রতিদিন আসতো। এখন ৪০০ করে ভর্তি হচ্ছে। মৃত্যুর হারও কমেছে। যে ট্রেন্ডটা দেখছি কমে আসবে।’

শীতের আগে আগে বছরের যে সময়ে দেশে ডেঙ্গুরোগী দেখা যায় না, সেই সময়েই এবার সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে মানুষ। অক্টোবর মাসও ছিল ভয়ঙ্কর, সে মাসে মৃত্যু হয় ৮৬ জনের।

সর্বশেষ রোববার তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা জানায়, এদিন সকাল পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০২ জন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৪৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৪১ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৬২২ জন রোগী রয়েছেন। সবমিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জন মারা গেছেন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৬১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ হাজার ২১৮ জন ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ২১ হাজার ৪০১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩৫১

মন্তব্য

শিক্ষা
25 children died in Mymensingh Medical in two days

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে দুই দিনে ২৫ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে দুই দিনে ২৫ শিশুর মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি বলেন, হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১১ নবজাতক এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সব শিশুই শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইদিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে মারা যাওয়া শিশুগুলোর বয়স ১ থেকে ২৮ দিন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি নিউজবাংলাকে বলেন, হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১১ নবজাতক এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সব শিশুই শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালের ওয়ার্ডে শীতজনিত শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে ৬২৩ নবজাতক ও শিশু ভর্তি আছে। বেশিরভাগই শীতজনিত সমস্যায় ভুগছে। নবজাতক ও শিশুর সুচিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স এবং অন্য কর্মচারীরা তৎপর রয়েছেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ সময়টাতে প্রতিবছরই শিশু ও নবজাতকরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতিদিনই ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরাও যথাসম্ভব সেবা দিচ্ছি।

শীতকালে বাড়িতে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নিউমোনিয়া: শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
বায়ুদূষণে বাড়ছে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
নিউমোনিয়া: এক সপ্তাহে রোগী সহস্রাধিক শিশু
বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু
শীতের বিদায়বেলায় শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ

মন্তব্য

p
উপরে