× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Conditions for initial transfers are relaxed
google_news print-icon

প্রাথমিকে বদলিতে শর্ত শিথিল

প্রাথমিকে-বদলিতে-শর্ত-শিথিল
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন এক শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত
সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে, চারজন শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শিক্ষক বদলি আবেদন করতে পারবেন এবং তা কার্যকর হবে ওই বিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক পদায়ন হওয়ার পর অথবা শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে।

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি নীতিমালায় সংশোধন আনা হয়েছে। বদলি শর্তের ৩.৩ ধারা শিথিল করা হয়েছে।

সিনিয়র সচিব মো আমিনুল ইসলাম সাক্ষরিত সংশোধিত নীতিমালা সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইন শিক্ষক বদলির আবেদন শুরু হলেও নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয় শিক্ষকদের মাঝে। আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ অক্টোবর করা হলেও নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য দাবি করেন শিক্ষকেরা।

এর আগে গত ৩০ জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অনলাইনে বদলি কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম গত তিন বছর বন্ধ থাকার পর অনলাইন বদলি চালু হয়। কিন্তু সমন্বিত বদলি নীতিমালা-২০২২-আনলেও খুব একটা সুফল পাননি শিক্ষকরা। তারা জানান, প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক আবেদনই করতে পারেননি।

দুই দফা আবেদনের সময় বাড়ানোর পর আবেদনের সংখ্যা না বাড়ায় ও শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা সংশোধন করল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেখা গেছে, নীতিমালার ৩.৩ ধারা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পাঁচ জনের কম সংখ্যক শিক্ষক থাকলে বদলির জন্য শিক্ষকরা আবেদন করতে পারেননি। এছাড়া শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১ঃ৪০ শর্তের কারণে পাঁচ জনের বেশি শিক্ষক কর্মরত এমন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বদলির আবেদন করতে পারেননি। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশিরভাগ ধারাই সংশোধন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

সংশোধিত ধারামতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১ঃ ৪০ থাকার ধারা শিথিল করে দুই শিফটের বিদ্যালয়ের প্রথম -দ্বিতীয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির মধ্যে যে শিফটে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি, সেই শিফটের শিক্ষার্থী হিসাব করে ১ঃ ৪০ নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে, চারজন শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শিক্ষক বদলি আবেদন করতে পারবেন এবং তা কার্যকর হবে ওই বিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক পদায়ন হওয়ার পর অথবা শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে।

দেখা গেছে, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের শর্তও শিথিল করা হয়েছে, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর ঠিকানা, বিধবা বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের আওতায় পড়বেন না সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা।

বর্তমান সংশোধিত নীতিমালার ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক কোনো ঝামেলা ছাড়া বদলি হতে পারবেন। তবে আগের নীতিমালায় থাকা স্বামী-স্ত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী হলে বদলির যে সুযোগ ছিল তা সমন্বিত বদলি নীতিমালা বা সংশোধিত নীতিমালায় রাখা হয়নি। এতে কিছু কিছু শিক্ষকের বদলির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন প্রায় পৌনে চার লাখ। নতুন করে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।


অনলাইনে বদলি যেভাবে

বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষক প্রথমে অনলাইনে বদলির আবেদন করবেন। এরপর তা প্রাথমিকভাবে যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনিও আবেদনটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করে তা পাঠাবেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি সেটি যাচাই করে পাঠাবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) কাছে। ডিপিইও সেটি মঞ্জুর করে পাঠিয়ে দেবেন আবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি তখন বদলির বিষয়ে আদেশ জারি করবেন। এরপর শিক্ষক বদলির বিষয়টি অনলাইনেই জেনে যাবেন।

তিন ধাপের এই যাচাইয়ে প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিন দিন করে সময় পাবেন। এই তিন দিনের মধ্যে যাচাই করে নিষ্পত্তি না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যাচাইয়ের জন্য নিয়োজিত পরবর্তী ব্যক্তির কাছে চলে যাবে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক বদলিতে আর্থিক লেনদেন নয়
মামলা থাকা প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নয়
প্রাথমিকে অনলাইনে বদলির আবেদনের সময় বাড়ল
মধ্য সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের অনলাইন বদলি
প্রাথমিক স্কুল কমিটিতে এমপিদের সুপারিশ নয়: হাইকোর্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Next year SSC exam will be held under new rules Education Minister

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হবে নতুন নিয়মে: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হবে নতুন নিয়মে: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ফাইল ছবি
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষার্থীরা কীভাবে কর্মজীবনে সফলতা পাবে, কীভাবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে, কীভাবে তারা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবে, এই বিষয়ে অ্যালামনাইদের একটা গুরু দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল নেওয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে উৎসাহিত করতে হবে, যোগাযোগ সক্ষমতায় উন্নত করতে হবে।’ 

২০২৬ সালের সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নতুন নিয়মে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এলে তা প্রকাশ করা হবে। খবর বাসসের

শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘যোগাযোগ উৎসব’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

শিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও অর্থনীতির সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে বলছি, উন্নয়ন হয়েছে দৃশ্যমান, এবার হবে কর্মসংস্থান। এডুকেশনের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি ও ইকোনমির মাধ্যমে আমরা এমপ্লয়মেন্টের দিকে যাব।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষার্থীরা কীভাবে কর্মজীবনে সফলতা পাবে, কীভাবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে, কীভাবে তারা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবে, এই বিষয়ে অ্যালামনাইদের একটা গুরু দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল নেয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে উৎসাহিত করতে হবে, যোগাযোগ সক্ষমতায় উন্নত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অল্প সংখ্যক সরকারি চাকরির যে হাতছানি, সেটার দিকে শিক্ষার্থীদের তাকিয়ে থাকার যে মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রলিং হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লাইব্রেরি শুধু সিভিল সার্ভিসের চাকরির প্রস্তুতির জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যের বাইরেও গবেষণাধর্মী থেকে শুরু করে অনেক কিছুরই জ্ঞান আহরণ ও চর্চার জায়গা। সেই মানসিকতার জায়গা তৈরি হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে
ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
চবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ: কঠোর ব্যবস্থা নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী
‘নতুন শিক্ষাব্যবস্থা বদলের পরিকল্পনা নেই’
নতুন শিক্ষাক্রম কেন, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Four activists of Shabi Chhatra League were expelled from the hall due to the clash

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ফাইল ছবি
তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট স্থপতি কৌশিক সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছে। নিজ নিজ হলের পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো হলেও প্রবেশ করতে পারবে না।

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ও রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাতুল ইসলাম সিফাত, একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র মো. মাহফুজুল আলম, শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল হাসান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবসিক ছাত্র ও বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাকিবুর রহমান।

তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রভোস্ট কৌশিক সাহা বলেন, ‘গত ১৩ মে অন্য হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের ভর্তি হওয়া ছাত্রদেরকে হল থেকে নামিয়ে দিতে চেয়েছিল। এর জেরে হলে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ওইদিন প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনার আমরা প্রাথমিক তদন্ত করি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাকিমকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, শাহপরাণ হলে গত ১৩ মে আনুমানিক রাত ১১টায় কতিপয় শিক্ষার্থীর মধ্যে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ৪ শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

শাহপারণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ মে মধ্যরাতে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের দলীয় তিন কর্মীকে হল থেকে নামিয়ে দিতে যান শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী। তবে শাখাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের অনুসারীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটলে প্রক্টরিয়াল ও প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
Cancellation of admission of 169 students of Vikarunnisa ordered investigation of irregularities

ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল, অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল, অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ ছবি: সংগৃহীত
অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে  শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভর্তির সময় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ওই ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল থাকবে এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

ভর্তির সময় হওয়া দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। কমিটিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের একজন প্রতিনিধি এবং বুয়েটের একজন আইটি এক্সপার্টকে রাখতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার রায় দেয়। রায়ে আদালত বলেছে, ১৬৯ শিশুর ভর্তি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে অভিভাবকরা দায় এড়াতে পারেন না।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও আইনজীবী শামীম সরদার।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

ভিকারুননিসায় শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগ এনে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু দুই শিক্ষার্থীর মা ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ বিষয়ে একটি স্মারক হাইকোর্টে উপস্থাপন করে।

মাউশির ওই স্মারকমতে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা অনুসরণ করেনি। ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার প্রক্রিয়া ছিল বিধিবহির্ভূত। এভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৯ জন এবং ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ জন। এই মোট ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে মাউশিকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়।

মাউশির নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৬৯ জনের ভর্তি বাতিল করে। এরপর ৬ মার্চ হাইকোর্ট আদেশ দেয়- অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শূন্য আসনে ভর্তি নেয়া হোক।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগ ২০ মার্চ হাইকোর্টের জারি করা রুলটি দু’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে।

রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেয়ার মাধ্যমে ওই স্থিতাবস্থা কেটে গেল। এখন হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

শিক্ষা
Kubi students are afraid of session jam

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ কুবি, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ কুবি, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা কুবি ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, ‘শেষ বর্ষে এসে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এতে করে মানসিক চাপের সঙ্গ ক্যারিয়ার নিয়েও আছি দুশ্চিন্তা বাড়ছে।’ 

টানা তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা।

গত ৩০ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

তিন সপ্তাহ পর নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, ‘শেষ বর্ষে এসে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এতে করে মানসিক চাপের সঙ্গ ক্যারিয়ার নিয়েও আছি দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমাদের জীবন থেকে যে সময়টুকু চলে যাচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ফিরে পাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন সময় মতো শেষ করতে না পারলে আমরা বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারব না। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষাগুলো দ্রুত নিয়ে নেয়া হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে ৭ দফা দাবিতে পরপর ৩ বার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় কুবি শিক্ষক সমিতি। পরে গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষক সমিতি।

পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয় কুবি প্রশাসন, তবে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া ও শিক্ষকদের মারধরের ঘটনার বিচার দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসন থেকে দুইটি ভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন শিক্ষক সমিতি। ফলে খুব সহসাই ক্যাম্পাস খুলছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত আটটি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। এ ছাড়াও অন্তত সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তাবিত রুটিন প্রকাশ স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘আমাদের মাস্টার্স শেষ সেমিস্টার চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়। দুটি পরীক্ষা হয়েছে আর বাকি দুটি পরীক্ষা কবে হবে তা আমরা জানি না। চাকরির বাজারে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাবেল রানা জানান, গত ৬ মে তাদের অষ্টম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারেননি তারা।

তিনি বলেন, ‘এমনিতে করোনার কারণে আমাদের এক বছরেরও বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। এখন যদি এভাবে আরও সময় অপচয় হতে থাকে, তাহলে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতেই আমাদের বয়স হয়ে যাবে ২৭-২৮।’

এ বিষয় জানতে চাইলে কুবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষকরা আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে দাঁড়িয়ে আছেন। শিক্ষার্থীরাও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার জন্য একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা শুনছেন না।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে আমরা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হলেও পুষিয়ে দেব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা নিরসনে দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আশা করি শিগগিরই ক্যাম্পাস খুলে যাবে। আর খোলার পরে কতদিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল তার ওপর ভিত্তি করে আমরা রিকভারি প্ল্যান করব।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের সঙ্গে মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
পাহাড় কেটে কুবি প্রক্টরের রেস্তোরাঁ!
বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ৫ দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের
কুবির কেন্দ্রে এক টেবিলে ১৮ ভর্তিচ্ছু
বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কাস চলছে: ‍কুবি ছাত্রী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা 

মন্তব্য

শিক্ষা
Ultimatum to cancel inclusion of public university teachers in universal pension

সার্বজনীন পেনশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলে আলটিমেটাম

সার্বজনীন পেনশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলে আলটিমেটাম সম্মেলনে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রথম কর্মসূচি হলো আগামী ২৫ মের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে, রবিবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।’

সার্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

এ সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হলে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মানববন্ধন এবং কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া।

সম্মেলনে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৩ মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা চলতি বছরের ১ জুলাই এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এরপর থেকেই এ স্কিম থেকে পাবলিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সর্বশেষ আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কর্মসূচি হলো আগামী ২৫ মে তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে, রবিবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।

‘দ্বিতীয় কর্মসূচি, আগামী ২৮ মে মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১অটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন।’

নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যেও দাবি না মানা হলে আমাদের তৃতীয় কর্মসূচি, আগামী ৪ জুন, মঙ্গলবার সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন, তবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসমূহ এসব কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।’

আর এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ওই দিনই আন্দোলনের বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক নিজাম।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি কল্যাণমুখী চিন্তার ফসল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা নাগরিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

‘যখন সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ যখন প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে গত ১৩ই মার্চ অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া স্বায়ত্তশাসনকে অবজ্ঞার শামিল।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন করেন সেদিন এই প্রত্যয় স্কিমটি ছিল না। হঠাৎ করেই একটি মহল নিজেদের সুযোগ সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছেন।

‘আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবেন।’

বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রত্যয় স্কিমে অন্তর্ভুক্তি ১ জুলাই তারিখের আগে যোগ দেয়া এবং ১ জুলাই এবং তার পরে যোগ দেয়াদের মধ্যে দুটি শ্রেণির জন্ম দেবে। একই কর্মক্ষেত্রে অবস্থানরত সহকর্মীদের মধ্যে এই বিভাজন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে; এই ব্যবস্থা সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তৈরি করবে, যা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থি।

সুবিধা অসুবিধা তুলে ধরে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনের ওপর বৎসরিক পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়, কিন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়; বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটি নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু প্রস্তাবিত স্কিমে সে সুবিধা নেই; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর।

প্রত্যয় স্কিমে অবসরকালীন বয়স স্থির করা হয়েছে ৬০ বছর; বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনের সঙ্গে মাসিক চিকিৎসাভাতা, বছরে দুটি উৎসবভাতা ও একটি বৈশাখীভাতা প্রদান করা হয়। প্রস্তাবিত স্কিমে বিষয়টি উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুন:
উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটি, সংশোধন শেষে রাতেই ফল প্রকাশ
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ঈদের পরপরই তৃতীয় ধাপের ফল
যৌন হয়রানির অভিযোগ, আটকে গেল ঢাবিতে শিক্ষক পদে সাজু সাহার নিয়োগ
ঢাবিতে নিয়োগ পাচ্ছেন জাবিতে যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত শিক্ষক
৯৬ হাজার ৭৩৬ পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

মন্তব্য

শিক্ষা
11th admission from July 15 25 classes start on July 30

একাদশে ভর্তি ১৫-২৫ জুলাই, ক্লাস শুরু ৩০ জুলাই

একাদশে ভর্তি ১৫-২৫ জুলাই, ক্লাস শুরু ৩০ জুলাই
২৬ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। http://www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ দশটি কলেজে পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ১৫ জুলাই। তা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ৩০ জুলাই।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর আগে একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এবারও শিক্ষার্থীদের ফলের ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে হবে। তিন পর্যায়ে আবেদন নেয়া হবে। ২৬ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ১২ মে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী এবার পাস করেছেন ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। তাদের মধ্যে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৫ লাখ। অর্থাৎ এসএসসি পাস সবাই কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও আট লাখের বেশি আসন খালি থেকে যাবে।

অনলাইনে http://www.xiclassadmission.gov.bd এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ দশটি কলেজে পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে।

একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবেন তার মধ্য থেকে তার মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। কেবল শিক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

১২-১৩ জুন প্রথম পর্যায়ের আবেদন যাচাই, বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হবে। এই সময়েই পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এরপর ২৩ জুন রাত ৮টায় প্রথম পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং ৯ ও ১০ জুলাই তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

৪ জুলাই রাত ৮টায় দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল ও প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং ১২ জুলাই রাত ৮টায় তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল ও দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন:
একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু ২৬ মে
১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ক্লাস শুরুর আশ্বাস জবি উপাচার্যের

মন্তব্য

শিক্ষা
That Avantika is the third job in the academic examination

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা। ফাইল ছবি
আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা এলএলবির (স্নাতক) ফলাফলে সর্বমোট সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬৫ পেয়েছেন। বিভাগের ব্যাচে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী আম্মান পেয়েছেন ৩.০৯।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অষ্টম সেমিস্টারে ৩.৭৩ পেয়েছেন অবন্তিকা। এর মধ্যে স্পেশাল পেনাল ল’ কোর্সে ৩.৭৫; ল’ অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরে ৩.৫০; কনভিয়েন্সিং, ড্রাফটিং অ্যান্ড ট্রায়াল অ্যাডভোকেসি ট্রেনিংয়ে ৩.৫০; লিগ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং কোর্সে ৩.৭৫; লিবারেশন মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোর্সে ৪.০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেয়েছেন তিনি।

বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

এর আগে ১৬ মার্চ শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে আটক করে পুলিশ। ৮ মে হাইকোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শিক্ষক দ্বীন ইসলাম।

এদিকে নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ছাত্রী কাজী ফারজানা মীমের পরীক্ষা রোববার নেয়া শুরু হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন জানান, রোববার থেকে ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে। ২৩ ও ২৭ তারিখ আরও দুটো পরীক্ষা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবন্তিকার আত্মহনন: জামিন পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম
স্বপ্নজয়ে প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেনি ওরা

মন্তব্য

p
উপরে