× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Hasnat movement sick students are also on hunger strike
hear-news
player
print-icon

অনশনে অসুস্থ হাসনাত, আন্দোলনের সঙ্গী শিক্ষার্থীরাও

অনশনে-অসুস্থ-হাসনাত-আন্দোলনের-সঙ্গী-শিক্ষার্থীরাও
অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধের জন্য আট দাবি নিয়ে অনশনে বসা শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

হাসনাতের আন্দোলনে সঙ্গী হয়েছেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার অনশন ভাঙানো ও তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। হাসনাত বলেছেন, দাবি না পূরণ হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। পরে সকালে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ড. হাফেজা জামানও।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে এসে হাসনাতকে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলে তিনি অনশন ভাঙবেন না বলে জানান।

হাসনাতের দাবি, তার দাবির বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কোনো লিখিত স্টেটমেন্ট না দেয়া পর্যন্ত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন না করা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

হাসনাতের অনশনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রিফাত রশীদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হাসনাত ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। কিন্তু তবুও উনি নিজ অবস্থান থেকে সরে যাননি।

‘অ্যাম্বুলেন্স এলেও উনি হসপিটালে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাধ্য হয়ে শেষমেশ আমাদের ডাক্তার ডেকে আনতে হয়।’

এরপর সকালে আসা সহকারী প্রক্টররা অনশন ভাঙাতে এলে হাসনাত আবদুল্লাহ তিনি তার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআই থেকে আমার বাবা-মাকে হুমকি দেওয়ানো হচ্ছে। তারা বলছে, আমি নাকি হিজবুত তাহরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

এ সময় সহকারী প্রক্টররা তাকে ফের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলে এই অনুরোধে সায় না দিলে শিক্ষকরা চলে যান।

হাসনাতের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

হাসনাতের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুধবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

মানববন্ধন শেষে তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া শুরু করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষার্থী যখন অনশনে ভিসি কেন এসি রুমে’, ‘ছাত্র যখন অনশনে ভিসি কেন লাঞ্চ করে’, ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করো, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে সহকারী প্রক্টর ড. মো. আব্দুল মুহিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে আসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত হতে বলেন এবং মাইক বন্ধ করতে বলেন।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে এসে এসব দাবি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন সেটির রূপরেখা না বললে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে যাবেন না। পরে সহকারী প্রক্টর শিক্ষার্থীদের এই দাবি উপাচার্যকে জানাবেন বলে ভেতরে চলে যান।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনেই অনশন করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

ছাত্রলীগের অবস্থান

হাসনাতের অনশনের ব্যাপারে অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

হাসনাতের আন্দোলন ও ৮ দাবি

মঙ্গলবার সকালে তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন হাসনাত। এদিন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়ায় তিনি আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর আট দাবি হলো:

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারি, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত
তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
DU Vice Chancellor broke Hasnats fast with canned water

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য ডাবের পানি পান করিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর অনশন ভাঙালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধসহ আট দাবি নিয়ে গত রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর মঙ্গলবার দুপুরে অনশনে বসেন হাসনাত। মধ্যরাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর অনশন ভাঙিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ডাবের পানি পান করিয়ে এই শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধসহ আট দাবি নিয়ে গত রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর মঙ্গলবার দুপুরে অনশনে বসেন হাসনাত। মধ্যরাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

হাসনাতের অনশন ভাঙিয়ে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো কাজে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে আসতে হবে না। তাদের সেবা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

‘তাদের সব কাজ হল এবং বিভাগীয় অফিসে সম্পাদন করতে পারবে। সেখানে যদি কেউ অসহযোগী আচরণরর শিকার হয় তাহলে সেখানে অভিযোগ সেল আছে। সেখানে তারা জমা দিতে পারবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেন তাদের কাজের জন্য বিভিন্ন অফিসে অফিসে ধরনা দেবে? যেগুলো নিয়মিত কাজ সেগুলো তারা তাদের হল অফিস এবং বিভাগীয় অফিস থেকে পাবে। তবে শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে কোনো কাজ সৃষ্টি হলে সেজন্য তাদের আসতে হবে। এছাড়া তাদের আসতে হবে না। এজন্য আমরা কয়েকজন কর্মচার যুক্ত করেছি।’

তবে এই কাজটি কীভাবে হবে সেটির কোনো রূপরেখা উপাচার্য বলেনননি।

শিক্ষার্থীরা হাত তালি দিয়ে উপাচার্যের বক্তব্যকে স্বাগত জানান। পরে হাসনাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স করে হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য

হাসনাতের আন্দোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধে ৮ দফা দাবি নিয়ে গত রোববার ওই ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসনাত আবদুল্লাহ।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দেন।

হাসনাত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। তবে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস না পেয়ে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

এদিন বেলা আড়াইটার দিকে আমরণ অনশনে বসে হাসনাত। পরে মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল টিম প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি যাননি।

এক পর্যায়ে হাসনাতের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

পরে কার্যালয় থেকে গিয়ে শিক্ষার্থী হাসনাতের অনশন ভাঙান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

হাসনাতের দাবি

আট দাবি হলো:

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারি, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

আরও পড়ুন:
অনশনে অসুস্থ হাসনাত, আন্দোলনের সঙ্গী শিক্ষার্থীরাও
ঘুম থেকেই চিরনিদ্রায় ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত

মন্তব্য

শিক্ষা
DU student in eternal sleep

ঘুম থেকেই চিরনিদ্রায় ঢাবি শিক্ষার্থী

ঘুম থেকেই চিরনিদ্রায় ঢাবি শিক্ষার্থী অমিত সরকার
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ অমিতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জলজ্যান্ত একটা ছাত্র। রাতের বেলা ঘুমিয়েছে। সকালে যখন বন্ধুরা ডাকে তখন আর রেসপন্স করে না। এরপর ডাক্তার এসে দেখে সে মারা গেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন এক শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মারা যাওয়া অমিত সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি থাকতেন জগন্নাথ হলের সন্তোষচন্দ্র ভবনের ৪০১১ নম্বর কক্ষে। তার গ্রামের বাড়ি যশোর।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ অমিতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জলজ্যান্ত একটা ছাত্র। রাতের বেলা ঘুমিয়েছে। সকালে যখন বন্ধুরা ডাকে তখন আর রেসপন্স করে না। এরপর ডাক্তার এসে দেখে সে মারা গেছে। আমরা এখন ঢাকা মেডিক্যালে আছি।’

মিহির লাল বলেন, ‘তাদের বাড়ি যশোর। তার পরিবারকে আমরা জানিয়েছি। তবে এখনো কেউ আসেনি। তার বোনের হাসবেন্ড আসছে।’

অমিতের রুমমেট সজিব মিত্র বলেন, ‘অমিত রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতেন এবং দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন। গত রাতেও দেড়টা পর্যন্ত মোবাইলে ছিলেন তিনি।

‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অমিতকে ডাকতে গেলে তার শরীর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। এরপর তাকে অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসক অমিতকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহাবাগ থানা জানে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত
তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত
ঢাবির রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান হাসনাতের

মন্তব্য

শিক্ষা
Hasnat on hunger strike in front of DU administration building

ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত

ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত আমরণ অনশনে হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা
উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমাদের যৌক্তিক আট দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো কথাই বলেননি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধে আট দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচির পর এবার আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হাসনাতের এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় আট দাবি, গণস্বাক্ষরের কাগজ, জরিপ এবং নানা অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন এই শিক্ষার্থী। পরে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমাদের যৌক্তিক আট দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো কথাই বলেননি।’

তিনি বলেন, ‘ভিসি স্যার আমার সাথে অসহযোগিতা মূলক আচরণ করেছেন। আমি স্যারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, স্যার আমি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিক ও চিক্ষার্থীদের কি বলবো?

‘উনি বলেছেন- আমি নাকি মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছি। বলেছেন, আমরা যা ইচ্ছে তা করতে। স্যারের এই অসহযোগিতামূলক আচরণের প্রতিবাদে ও আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন ঘোষণা করছি।’

এদিন সকালে তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন হাসনাত। রোববার সকাল ১০টা থেকে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। তার কর্মসূচি চলছিল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত।

হাসনাত আবদুল্লাহর আট দাবি হলো-

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারত্ব, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত
ঢাবির রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান হাসনাতের
কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত নিল ঢাবির বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ

মন্তব্য

শিক্ষা
Hasnat in front of DUs administrative building for the third day

তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত

তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত দাবি আদায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা
রোববার সকাল ১০টা থেকে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন ঢাবির এই শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধের জন্য দেয়া আট দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়ায় তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার সকাল ১০টা থেকে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন ঢাবির এই শিক্ষার্থী।

দাবি পূরণে আশ্বাস না আসা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হাসনাত আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

হাসনাত আবদুল্লাহর আট দাবি হলো-

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারত্ব, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত রোববার অবস্থাকালীন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দিয়েছেন।

হাসনাত বলেন, 'এই কর্মসূচিতে আমি ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর পেয়েছি। গণস্বাক্ষরের কাগজ, আগে পরিচালিত জরিপ এবং সবার অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান স্যারের সঙ্গে দেখা করতে যাব।'

তিনি বলেন, 'স্যার যদি আমাদের যৌক্তিক আট দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।'

আরও পড়ুন:
ঢাবির রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান হাসনাতের
কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত নিল ঢাবির বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ
ঢাবি হলে ছাত্র তোলা নিয়ে ছাত্রলীগে হাতাহাতি

মন্তব্য

শিক্ষা
If you are a job student you will suffer from slow internet

জবির ছাত্রী হলে ধীরগতির ইন্টারনেটে দুর্ভোগ

জবির ছাত্রী হলে ধীরগতির ইন্টারনেটে দুর্ভোগ
শারমিন ইভা বলেন, ‘আমরা পড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের চরম অভাববোধ করি। আমাদের পড়াশোনার বেশিরভাগই অনলাইনের সাথে সম্পর্কিত। তাই উন্নত ইন্টারনেট সংযোগসহ ওয়াইফাই এর গতি বৃদ্ধি করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছাত্রী হলে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে পড়ালেখার কাজে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিসর বাড়াতে ২০১২ সালে পুরো ক্যাম্পাসকে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সংযোগ দেয়ার ১০ বছর পরও সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

২০১৮ সালে নতুন করে বিডিরেন নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নেয় জবি প্রশাসন। সেসময় পুরো ক্যাম্পাসকে শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করে ৭০০ এমবিপিএস গতির ওয়াইফাই চালু করা হয়। কিন্তু ছাত্রীদের অভিযোগ, আলাদা সার্ভার না বসিয়ে ক্যাম্পাসের ওয়াইফাই দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ৩ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার অনলাইনে ক্লাস নিতে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রশাসন।

একমাত্র আবাসিক ছাত্রীহলের ইন্টারনেট সেবার মান বৃদ্ধি না করায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের নিজ নিজ মোবাইল ডাটার উপর নির্ভর হতে হচ্ছে।

হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ইন্টারনেট গতি ধীর হওয়ায় প্রায়ই প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢুকতে অতিরিক্ত সময় লাগে। ছোটোখাটো ফাইল ডাউনলোডেও অনেক সময় লাগে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা যেন খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হলের এক আবাসিক ছাত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা অনলাইন ভিত্তিক হলেও সে অনুযায়ী আমরা ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছি না। কোনো শিক্ষামূলক ভিডিও দেখতে গেলে বা জার্নাল পড়তে গেলে ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে সেটা অন হতে অনেক সময় লেগে যায়৷

‘আমাদের হলে নামমাত্র ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু আছে। এমন ধীরগতির ইন্টারনেটে বরং ভোগান্তিই বেশি হয়।’

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ফিয়া বলেন, ‘প্রথম দিকে ওয়াইফাই কাজ করলেও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার পরও আমরা ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ অনেকদিন আগে। কিন্তু আমাদের ওয়াইফাই সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট কিনে ক্লাস করতে হচ্ছে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।’

হলের আরেক আবাসিক ছাত্রী শারমিন ইভা বলেন, ‘আমরা পড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের চরম অভাববোধ করি। আমাদের পড়াশোনার বেশিরভাগই অনলাইনের সাথে সম্পর্কিত। তাই উন্নত ইন্টারনেট সংযোগসহ ওয়াইফাই এর গতি বৃদ্ধি করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, ‘বিডিরেনের সঙ্গে আমাদের চুক্তির দীর্ঘদিন হওয়ার কারণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন হার্ডওয়্যার এসব জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন স্বাভাবিকের তুলনায় কম গতি পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে খুব শীঘ্রই আবার নতুনভাবে চুক্তিবদ্ধ হলে এসব জিনিস চেঞ্জ করে দিবে। তাহলে আশা করি সমস্যাগুলো সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
কৃষি গুচ্ছে উপস্থিতি ৮২ শতাংশ, ফল ১৫ সেপ্টেম্বর
গুচ্ছের ফল পুনর্নিরীক্ষণ: আবেদন ১১৬৩, নেই পরিবর্তন
কৃষি গুচ্ছে জবি কেন্দ্রে উপস্থিত ৮১ শতাংশ পরীক্ষার্থী
ফের জবি সাদা দলের নেতৃত্বে মোশাররাফ-রইছ
পাঁচ বছর পর জবির পরিবহন পুলে নতুন 'প্রশাসক'

মন্তব্য

শিক্ষা
Job students cleaned the campus

ক্যাম্পাস পরিষ্কার করলেন জবি শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস পরিষ্কার করলেন জবি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস পরিষ্কার করছেন জবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রিন ক্যাম্পাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রিন ক্যাম্পাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়।

পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কমিটির আয়োজনে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই ক্যাম্পেইন শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কমিটির আহ্বায়ক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। এ ছাড়া প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

কোষাধ্যক্ষ কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আগে যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। এখন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। সকলেই এখন কাগজপত্র ও ময়লা আবর্জনা এদিক-সেদিক না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলবে। বিভিন্ন ফ্যাকাল্টিতেও ডাস্টবিন ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটটি একেবারে অপরিষ্কার ছিল, টয়লেট ছিল বলা যায়। এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কমিটির চেষ্টায় সেটি তার আসল রূপ ফিরে পেয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের ছোট জায়গা, কিন্তু ছোট জায়গাটিও যদি পরিষ্কার করে রাখা যায়, তাহলে আসলেই দেখতে সুন্দর হয়। এখানে সবার কাজ বলে কিছু নাই, কাউকে না কাউকে দায়িত্ব দিতে হয়। সেরকম এই কমিটিও।

‘এই কমিটির স্বাধীনতা আছে, তারা নিজেরা কমিটির সদস্য করে এই ক্যাম্পাসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছে।’

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছোট ছোট ডাস্টবিন বসানো হয়েছে, এগুলো আসলে আমার নিজের ডিজাইন করা। এসব ডাস্টবিন থেকে ময়লা হাত দিয়ে তুলতে হবে না। সরাসরি ময়লার ট্রলিতে নিয়ে যাওয়া যাবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে ভলান্টিয়ারিং কাজ করতে কারা ইচ্ছুক তাদের ফরম দিয়ে কাজ করাতে হবে, এতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী শ্রেয়সী শিকদার বলেন, ‘ক্যাম্পাস আমাদের। তাই আমাদের উচিত নিজ উদ্যোগে এই ক্যাম্পাসকে সুন্দর রাখা। শুধু পরিষ্কার করা নয়, আমাদের মানসিকতা থাকবে যে আমরা যত্রতত্র ময়লা বা উচ্ছিষ্ট ফেলে ক্যাম্পাসকে অপরিস্কার করব না।’

আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এই ক্যাম্পাসে পড়ালেখা করছি, ক্যাম্পাস থেকে অনেক কিছু অর্জন করছি। কিন্তু আমাদের ফেলা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সেই জায়গা থেকেই আমরা নিজেদের ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার জন্য এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি।’

৩ দিনব্যাপী ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। এ ক্যাম্পেইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছের ফল পুনর্নিরীক্ষণ: আবেদন ১১৬৩, নেই পরিবর্তন
কৃষি গুচ্ছে জবি কেন্দ্রে উপস্থিত ৮১ শতাংশ পরীক্ষার্থী
ফের জবি সাদা দলের নেতৃত্বে মোশাররাফ-রইছ
পাঁচ বছর পর জবির পরিবহন পুলে নতুন 'প্রশাসক'
জবির আইকিউএসি দপ্তরের কাগজপত্র তছনছ, সিসিটিভি ক্যামেরাও উধাও

মন্তব্য

p
উপরে