× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
MCQ of second paper went to Bengali first paper day 3 center
hear-news
player
print-icon

বাংলা প্রথম পত্রের দিন ৩ কেন্দ্রে গেল দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ

বাংলা-প্রথম-পত্রের-দিন-৩-কেন্দ্রে-গেল-দ্বিতীয়-পত্রের-এমসিকিউ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নড়াগাতী থানার বাঐসোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নড়াইলের তিনটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়া উপজেলার প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নড়াগাতী থানার বাঐসোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাংলা প্রথম পত্রের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন সরবরাহ করার পর বিষয়টি পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শকদের নজরে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব দীপ্তিরানী বৈরাগী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ওপর বাংলা প্রথম পত্রের কোড লেখা থাকার কারণে বিষয়টি খেয়াল না করেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। পরে জানতে পেরে দ্রুত সেগুলো গুছিয়ে নেয়া হয়।

‘পরে বাংলা প্রথম পত্রের অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বাঐসোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫টি প্রশ্ন সরবরাহের পর বিষয়টি নজরে আসে।

এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু হিরা বলেন, ‘১৫টি প্রশ্ন সরবরাহের পর বিষয়টি নজরে এলে কেন্দ্রসংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন দেয়া বন্ধ করে দেন। পরে তা গুছিয়ে নেয়া হয়।’

আর লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্ন সরবরাহের আগেই বিষয়টি নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব সুভাষ চন্দ্র কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের এখানে সরবরাহ করা একটি প্যাকেটে প্রথম পত্রের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল। এ প্যাকেটে ১০০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার্থীদের হাতে দেয়ার আগেই বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।’

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিজি প্রেসের ভুলের কারণে এ ভুলগুলো হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সব বিষয় অবগত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলার তিন উপজেলায় ১৮টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ২২৩ শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি পরীক্ষা শুরু আজ
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের: মন্ত্রী
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২ দিনই থাকছে
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেন পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা না হয়: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Question papers leaked due to negligence of UNO in Kurigram

‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস

‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’
এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ভবন। ফাইল ছবি
ভূরুঙ্গামারী ‍উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউএনও যদি শুরুতেই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটার সম্ভাবনা ছিল না। এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাকে গুরুত্ব না দেয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের দায় ইউএনও এড়াতে পারেন না।’

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মার গাফিলতির কারণেই চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর পাঁচ-সাত দিন আগে কেন্দ্র সচিব বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের চাহিদা সঠিকভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। কোনো গরমিল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে লিখিতভাবে জানাতেও বলা হয়।

‘...ইউএনও সেই কাজ না করে এক-দুই দিনের মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রশ্নপত্র সর্টিং করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। একজন কর্মকর্তার পক্ষে হাজার হাজার প্রশ্নপত্র এক-দুই দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই, কাগজে স্বাক্ষর করা এবং নজরদারি-হিসাব করে প্রতিবেদন দেয়া প্রায় অসম্ভব। আর এই সুযোগে অসাধু কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্র কৌশলে বের করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউএনও যদি শুরুতেই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটার সম্ভাবনা ছিল না। এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাকে গুরুত্ব না দেয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের দায় ইউএনও এড়াতে পারেন না।’

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সেটের প্যাকেট সর্টিং এবং যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল ইউএনও দীপক কুমারের। তার সই করা একটি পত্রে গত ১১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য গোপনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে বলা হয়।

এতে বলা হয়, ভূরুঙ্গামারী থানায় প্রশ্নপত্র ও অন্য গোপনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। সিলগালাকৃত এসব প্রশ্নপত্র বিবরণী মোতাবেক ঠিক আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

পত্রে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সময়সূচি অবশ্যই খামের ওপর লিখতে হবে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসিসহ উপজেলার ছয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবদেরও এই পত্রের অনুলিপি দেয়া হয়।

একই তারিখে ইউএনওর স্বাক্ষরিত আরও একটি অফিস আদেশে ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে কৃষি কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ ও সমবায় কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম, নেহাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রায়হান হক, সোনাহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ, সোনাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর আতিকুর রহমান ও সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, দিয়াডাঙ্গা আইডিয়াল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সহকারী প্রোগ্রামার রুবেল সরকার এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমানকে ট্যাগ অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তারা পরীক্ষার দিনগুলোতে থানা থেকে নির্ধারিত প্রশ্নপত্র উত্তোলন নিশ্চিত এবং পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিক কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা গ্রহণ করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারী থানায় প্রশ্ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের যোগসাজশে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ভেতর বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ঢুকিয়ে নেন। একই সঙ্গে প্যাকেট সিলগালা করেন। ওই সময় তারা গণিত, কৃষিবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রও নিয়ে নেন। এ ছাড়া মোবাইলে জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতের প্রশ্নের ছবি তুলে নেন।

সিলগালা করা প্রশ্নপত্রের ওই প্যাকেটের ওপর স্বাক্ষর করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও বেরিয়ে আসে, ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন যথানিয়মে থানা থেকে বাংলা প্রথম পত্রের প্যাকেট এনে তা থেকে ওই প্রশ্নগুলোর খামটি সরিয়ে ফেলেন কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানসহ তার সহযোগীরা। কেন্দ্রে দায়িত্বরত ট্যাগ কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমানকে বোর্ডের দেয়া তালিকা অনুযায়ী পাঠানো প্রশ্নপত্রের খাম গণনা করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি।

পরে এই প্রশ্নগুলোর কয়েকটি হাতে লেখা উত্তরপত্র তৈরি করে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরীক্ষার আগের রাতে ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রের সঙ্গে পরের দিন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিলে যায়। আর এসব উত্তরপত্র অনেকেই মোবাইলের মাধ্যমে গোপনে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাছে কোনো চিঠি নেই। প্রশ্নপত্রে আমরা শুধু এসকর্ট (নিরাপত্তা) দিয়ে থাকি। বাকিটা সভাপতি (ইউএনও) এবং তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করেন। সিলগালা রাখা না রাখা তাদের দায়িত্ব।’

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমি বর্তমানে হসপিটালাইজড আছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

এসব বিষয়ে জানতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মাকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিধি মোতাবেক ইউএনওকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তার পরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা
এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩
প্রশ্নফাঁসেই দিনাজপুরে এসএসসির চার পরীক্ষা স্থগিত, আটক ৩
এসএসসি ‘প্রশ্ন ফাঁস’: দিনাজপুর বোর্ডে ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

মন্তব্য

শিক্ষা
Question Upazila education officer of Kurigram dismissed

প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এখন পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব নিশ্চিত করেছেন।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর আগে স্থগিত করা হয়েছে গণিত (আবশ্যিক, পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ও রসায়ন (তত্ত্বীয়)।

এই ছয়টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নতুন করে ছাপানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম।

তার স্বাক্ষর করা বোর্ডের অধীনে আট জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাতিল করা প্রশ্নগুলো ট্রেজারি অফিসগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে আলাদা করে আলাদা ট্রাংকে সংরক্ষণ করতে হবে।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এখন পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে বুধবার রাতে একই বিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলার শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজির শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবা‌ইর‌ হোসেন।

আরও পড়ুন:
বহিষ্কার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ
২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা
এসএসসি-এইচএসসি আগামী বছর সব বিষয়ে
এসএসসি পরীক্ষার নিয়মভঙ্গ, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দুই কাউন্সিলরের হয়ে এসএসসি, মুচলেকায় ছাড়া পেল ২ কিশোর

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC Dinajpur Board postponed examination schedule change
এসএসসি

দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই

দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
২২ সেপ্টেম্বরের গণিত (আবশ্যিক) পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এসএসসি পরীক্ষার চারটি পরীক্ষা স্থগিতের পর সময়সূচি ঘোষণার ২ ঘণ্টা পর আবারও সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনল বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলাম সই করা এক সংশোধিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, ২২ সেপ্টেম্বরের গণিত (আবশ্যিক) পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে দুপুর পৌনে একটায় চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২২ সেপ্টেম্বরের গণিত পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৪ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞান (তত্তীয়) ১২ অক্টোবর, ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর নেয়া হবে। একই সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর নেয়া হবে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা জানাজানির পর বুধবার সকালে এ ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও সেটি যে প্রশ্ন ফাঁসের কারণেই করা হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এখন পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে বুধবার রাতে একই বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলার শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজির শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবা‌ইর‌ হোসেন।

আরও পড়ুন:
২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা
এসএসসি-এইচএসসি আগামী বছর সব বিষয়ে
এসএসসি পরীক্ষার নিয়মভঙ্গ, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দুই কাউন্সিলরের হয়ে এসএসসি, মুচলেকায় ছাড়া পেল ২ কিশোর
৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা সেই ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি নোটিশ

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC question leaked Schedule of 4 subjects suspended in Dinajpur board announced

এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা

এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড। ছবি: নিউজবাংলা
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, স্থগিত হওয়া ২২ সেপ্টেম্বরের গণিত পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৪ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১২ অক্টোবর এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত।

কুড়িগ্রামে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া চারটি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলামের সই করা বৃহস্পতিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া ২২ সেপ্টেম্বরের গণিত পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৪ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১২ অক্টোবর এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত।

এছাড়া ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর নেয়া হবে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা জানাজানির পর বুধবার সকালে এ ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও সেটি যে প্রশ্ন ফাঁসের কারণেই করা হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এখন পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে বুধবার রাতে একই বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলার শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজির শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবা‌ইর‌ হোসেন।

আরও পড়ুন:
এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩
প্রশ্নফাঁসেই দিনাজপুরে এসএসসির চার পরীক্ষা স্থগিত, আটক ৩
এসএসসি ‘প্রশ্ন ফাঁস’: দিনাজপুর বোর্ডে ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC question leaked 3 more arrested in Kurigram

এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩

এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নতুন করে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানায় হওয়া মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলার শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া।

তাদের মধ্যে দুই শিক্ষক হামিদুল ও সোহেলকে বুধবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল পুলিশ। পরে রাতে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় পিয়ন সুজনকে।

প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এখন পর্যন্ত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলায় বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজির শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলামকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ও স্কুলের অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নতুন করে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনকে প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে চারটি পরীক্ষা স্থগিতের কথা বলা হয়েছে। তবে সেটি যে প্রশ্ন ফাঁসের কারণেই করা হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

স্থগিত করা বিষয়গুলোর মধ্যে আছে গণিত, কৃষিবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রসচিবসহ তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট পেলে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেসব বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি পরীক্ষার নিয়মভঙ্গ, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দুই কাউন্সিলরের হয়ে এসএসসি, মুচলেকায় ছাড়া পেল ২ কিশোর
৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা সেই ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি নোটিশ
বাবার মরদেহ রেখেই পরীক্ষা কেন্দ্রে সুমাইয়া 
এসএসসি দিতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে নিহত শিক্ষার্থী

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC 4 subjects exam postponed in Dinajpur

এসএসসি ‘প্রশ্ন ফাঁস’: দিনাজপুর বোর্ডে ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

এসএসসি ‘প্রশ্ন ফাঁস’: দিনাজপুর বোর্ডে ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে ধরা হবে।’

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চারটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থগিত করা বিষয়গুলো হলো গণিত, কৃষিবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম এবং দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রসচিবসহ তিন শিক্ষককে আটকের পর দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে এই ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

যদিও অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তবে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগেই গণিত এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৪টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। তাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

দুটি বিষয়ের ‘প্রশ্ন ফাঁস’

সোমবার ইংরেজি প্রথম পত্র এবং মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার আগের রাতে এই দুই বিষয়ের হাতে লেখা দুটি প্রশ্নপত্র পরীক্ষার পর মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়; যা মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

বলা হচ্ছে, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন দুটি ফাঁস হয়। হাতে লেখা এসব প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগের রাতেই হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের হাতে চলে যায়।

বিষয়টি নজরে এলে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদ এবং ইসলাম শিক্ষা বিষ‌য়ের সহকারী শিক্ষক জোবা‌য়ের‌কে আটক করে পুলিশ।

২০০ থেকে ৫০০ টাকায় মিলেছে প্রশ্ন

নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসন পড়েছে এমন একজন শিক্ষার্থীর বর্ণনায়, ‘আমি এই কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। হলরুমে অনেক শিক্ষার্থী আলোচনা করে, তারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় প্রশ্নের উত্তরপত্র পেয়েছে। এভাবে যদি পরীক্ষার প্রশ্ন আউট হয়, তাহলে আমরা ভালো পরীক্ষা দিয়ে কী লাভ?’

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের আলাপ শুনেছেন চানাচুর বিক্রেতাও। তার ভাষ্য, ‘দুই দিন থেকে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এখানে গল্প করেন, প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়েছে। তারা ২০০ হতে ৫০০ টাকায় প্রশ্ন কিনতে পাওয়া যায় বলেও গল্প করেছিলেন। তবে কেনা-বিক্রি করা আমি দেখিনি।’

কলেজের ইংরেজি প্রভাষক মাইদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমি এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াই। সেখানকার এবং কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আমার কাছে হাতে লেখা প্রশ্ন নিয়ে আসে সমাধানের জন্য। পরে জানতে পারি কুড়িগ্রাম, রংপুর, ভূরুঙ্গামারী থেকে বিভিন্নজনের মাধ্যমে এগুলো পেয়েছে। বিষয়টি পরে স্থানীয় প্রেস ক্লাবসহ প্রশাসনকে অবহিত করি।’

মধ্যরাতে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ঘটনা জানতে পেরে মঙ্গলবার রাতেই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, সচিব জহির উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফায় বৈঠক করেন।

প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান এবং ইসলাম শিক্ষা বিষ‌য়ের সহকারী শিক্ষক জোবা‌ইর‌ হোসেনকে রাতে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় উপরোল্লিখিত কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে থানায় রেখে সেখান থেকে ইউএনওর কার্যালয়ে যান কর্মকর্তারা। রাতে সাড়ে ১২টার দিকে বেরিয়ে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে দ্রুত চলে যান দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

কিছু সময় পর ওই কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান।

জানা গেছে, এ ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্য রাতেই মামলা হয়েছে। নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরীর করা মামলাটিতে মো. লুৎফর রহমান, জোবা‌ইর‌ হোসেন, মো. আবু হানিফ ও মো. আমিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি ভূরুঙ্গামারী থেকে কোনো প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মিল-অমিল আছে কি না আমার দেখার বিষয় না। সরকারের অনেক বিভাগ আছে, পুলিশ আছে; এটা তাদের দায়িত্ব।’

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে ধরা হবে।’

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মঙ্গলবার কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আদম মালিক চৌধুরী ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে সীলমোহর অক্ষত অবস্থায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র প্রশ্নের দুটি প্যাকেট সংগ্রহ করেন। পরে তারা প্রশ্নপত্র নিয়ে নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন। কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর লুৎফর রহমান তার নিজ কক্ষের একটি বইয়ের তাকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট দুটি রাখেন। আনুমানিক সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদম মালিক চৌধুরী কেন্দ্র সচিবের কক্ষে যান। এ সময় কেন্দ্র সচিব প্যাকেট খুলে প্রশ্নপত্র বের করেন। পরে ১০টা ৫০ মিনিটে প্রশ্নপত্রগুলো কেন্দ্রের কক্ষভিত্তিক দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই দিন আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে তিনি ওই কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে বলে জানতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার শর্মাকে জানান। পরীক্ষা শেষে ইউএনও দীপক কুমার শর্মার উপস্থিতিতে লুৎফর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে লুৎফর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

এজাহারের নথি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লুৎফর স্বীকার করেন, তার কাছে পরের একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আছে। এরপর লুৎফর রহমানের কক্ষের বইয়ের তাক থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে গণিত, উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া সব কটি প্যাকেটের মুখ খোলা ছিল।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ভূরুঙ্গামারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদ মো. আতিক নুর প্রশ্নপত্রগুলো জব্দ করেন এবং লুৎফর রহমানকে আটক করেন।

অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে লুৎফর বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে প্রশ্নপত্রের প্যাকেটগুলো কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। পরে প্রশ্নপত্রগুলো আবু হানিফ, অন্য দুই শিক্ষক জোবাইর হোসেন, আমিনুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনের মাধ্যমে গোপনে প্রশ্নগুলো ফাঁস করে দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটি

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যেসব বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে কোনো সমস্যা নাই।’

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহির উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ৪টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা সেই ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি নোটিশ
বাবার মরদেহ রেখেই পরীক্ষা কেন্দ্রে সুমাইয়া 
এসএসসি দিতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে নিহত শিক্ষার্থী
৩ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন: যশোর বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ স্থগিত
ফুটবল নিয়ে মারামারি, পরীক্ষার্থীরা জঙ্গলে

মন্তব্য

শিক্ষা
SSC center amid gunfire

গোলার আওয়াজের মধ্যে এসএসসির কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা

গোলার আওয়াজের মধ্যে এসএসসির কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা মিয়ানমার বাহিনীর গোলার আওয়াজ শুনতে শুনতে কেন্দ্রে গেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রুর এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
তুমব্রু বাজারে সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। সে জানায়, গোলা এসে পড়ার পর থেকে ভয়ে আছে। পরীক্ষা দেয়ার মতো মানসিক পরিস্থিতিও নেই। তারপরও পরিবারের চাওয়াতে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছে। 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ইয়াসমিন আক্তার। তার বাড়ি তুমব্রু সীমান্তের উত্তরপাড়ায়। সেখানে সকাল থেকে মিয়ানমার বাহিনীর গোলাবর্ষণের শব্দ ভেসে আসছিল।

সেই শব্দ শুনতে শুনতে বাড়ি থেকে বের হয় ইয়াসমিন। বাজার পর্যন্ত আসার পরও থামেনি গোলার শব্দ।

সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নিউজবাংলার সঙ্গে তুমব্রু বাজারে কথা হয় ইয়াসমিনের। সে জানায়, গোলা এসে পড়ার পর থেকে ভয়ে আছে। পরীক্ষা দেয়ার মতো মানসিক পরিস্থিতিও নেই। তারপরও পরিবারের চাওয়াতে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছে।

সে আরও জানায়, বাড়ি থেকে তার কেন্দ্র ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের দূরত্ব চার কিলোমিটার। মিয়ানমার বাহিনীর মর্টার শেল ছোড়ার ঘটনায় সেই কেন্দ্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০ কিলোমিটার দূরের কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রথম দিকে কেউ কেউ পরিবহনের ব্যবস্থা করলেও আজ সেই গাড়ির দেখা নেই।

আরেক ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি তুমব্রুর পশ্চিমপাড়ায়।

সে বলে, ‘সকাল থেকে কয়েক দফা গোলার শব্দ শুনেছি। এখনও চলছে। হেঁটে যাচ্ছিলাম গাড়ির স্টেশন পর্যন্ত। এর ভেতরেই দুই দফা গোলার শব্দ শুনলাম।’

জান্নাতুল আরও বলে, ‘গেল রাতেও গোলার শব্দ ভেসে এসেছে। ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। মুহুর্মুহু গোলার শব্দ আসছে বাড়ির কাছে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি পড়ছে।’

গোলার আওয়াজের মধ্যে এসএসসির কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা

ইয়াসমিন ও জান্নাতুলের স্বরে কথা বলেছে ফাতেমা বেগমও। তার ভাষ্য, ‘এত দূরের কেন্দ্রে যাব কী করে, তা ভাবা হয়নি। প্রথম দিন লোকদেখানো বাসের ব্যবস্থা করলেও এখন তা আর দিল না। এখন লোকাল গাড়ির অপেক্ষায়। ঠিকমতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারব কি না ভাবছি।’

তুমব্রু বাজারের দোকানদার মোহাম্মদ আতিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোর ৫টার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯ বার ভারী গোলার শব্দ ভেসে এসেছে। মানুষ প্রতিদিন এসব শব্দ শুনতে শুনতে অভ্যস্ত। তাই তেমন সাড়া নেই, তবে স্কুলশিক্ষার্থী বা শিশুরা ভয় পায়।’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষ সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হবে, সেই স্থান নির্ধারণে আজ ঘুমধুমে আসছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালেও গোলার শব্দ ভেসে এসেছে। কোনোভাবে যাতে মিয়ানমারের কোনো নাগরিক আসতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক রোহিঙ্গা নিহতের পর টানা তিন দিন তুমব্রু সীমান্তে গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে।

বেশ কয়েকবার মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও এসে পড়েছে।

সবশেষ শুক্রবার রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হয় রোহিঙ্গা শিশুসহ ৫ জন।

এর আগে একই দিন দুপুরে এই সীমান্তেই হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলারের ৩০০ মিটার মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সেদিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর ফের ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে।

আরও পড়ুন:
‘প্রাণ দেব, তবুও তুমব্রু ছেড়ে যাব না’
মিয়ানমারের মর্টার উসকানি কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে: কাদের
তলবে আধাঘণ্টা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের দূত
প্রতিবেশীদের নিয়ে মিয়ানমার ইস্যু সমাধানের চেষ্টা চলছে: পরিকল্পনামন্ত্রী
ফের তলব করা হচ্ছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে

মন্তব্য

p
উপরে