× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Another name for suffering on the job is come after lunch
hear-news
player
print-icon

জবিতে ভোগান্তির আরেক নাম ‘লাঞ্চের পরে আসুন’

জবিতে-ভোগান্তির-আরেক-নাম-লাঞ্চের-পরে-আসুন
লাঞ্চ টাইমের দোহাই দিয়ে ফাঁকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে, দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু লাঞ্চ টাইম নির্দিষ্ট করে বলা নেই। শিক্ষার্থীরা কোনো কাজের জন্য কোনো দপ্তর বা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গেলে শুনতে হয় ‘লাঞ্চের পরে আসুন’।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দপ্তরের ‘লাঞ্চ টাইম’। বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুপুরের খাবারের জন্য সময় নির্দিষ্ট না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে, দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু লাঞ্চ টাইম নির্দিষ্ট করে বলা নেই। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। শিক্ষার্থীরা কোনো কাজের জন্য কোনো দপ্তর বা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গেলে শুনতে হয় ‘লাঞ্চের পরে আসুন’। আবার কোনো কোনো দপ্তর থেকে বলা হয়, ‘৩টার পরে আসুন।’

সরেজমিনে জানা যায়, রেজিস্ট্রার ভবনে নির্ধারিত কোনো লাঞ্চ টাইম নেই। একেক কক্ষে একেক সময়কে ‘লাঞ্চ টাইম’ বানিয়ে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে এক কর্মচারী বলেন, সাধারণত লাঞ্চের সময় ৪৫ মিনিট। কিন্তু কয়টা থেকে তা শুরু হবে এটা নির্ধারণ করা নেই। তাই যখন যার কাজের চাপ থাকে না তিনি ওই সময় লাঞ্চ করেন।

এদিকে দুপুরের খাবারের জন্য ৪৫ মিনিট নির্ধারণ করা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে লাঞ্চ টাইমের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক ঘণ্টা (দুপুর ১টা থেকে ২টা)।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বেলা আড়াইটায় গিয়েও দেখা যায় কর্মচারীরা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। এ সময়ে বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীরা গেলে তাদের লাঞ্চের পর আসতে বলা হয়।

একই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখায়ও। দুপুর ১২টা বাজতেই শুরু হয়ে যায় লাঞ্চ টাইম। কখন শেষ হবে- এমন প্রশ্নে উত্তর মেলে, বিকেল ৩টা। কিন্তু শুরুটা ঘড়ির কাঁটা ধরে হলেও শেষ আর হতে চায় না।

পরিবর্তন নেই শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আইটি সেলেরও। আইডি সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা ফি প্রদান করতে গেলেও দেখা যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নেই। এ অবস্থায় বার বার একই দপ্তরে আসা-যাওয়া করতে হয় শিক্ষার্থীদের। সময়মতো কাজ না হওয়ায় তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নানামুখী ভোগান্তির কথা। কোনো দপ্তরে দুপুর ১২টার সময় গেলেও লাঞ্চের বাহানা দিয়ে বলা হয়, ‘পরে আসুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন অপি বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ঘুরেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কার্ড পাচ্ছি না। সকালে গেলে পাওয়া যায় না, দুপুরে গেলে বলা হয় লাঞ্চের পর যেতে। আর ৩টার পর কোনো কাজই তারা হাতে নেন না।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে করা হোক। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে, সময়ও বাঁচবে।

স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ অনলাইনে করলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হতো। তাহলে আধুনিকায়নের এ যুগে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি করে কষ্ট করতে হতো না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজিস্ট্রার ভবনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দপ্তরের কাজগুলো ডিজিটালি হলে ভোগান্তি কমবে। তবে এত দ্রুত সব কাজ ডিজিটালের আওদায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। অবশ্য করোনার সময়ে বিভিন্ন কাজ ই-ফাইলের মাধ্যমে অনলাইনে করেছি আমরা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘লাঞ্চের জন্য সময় তো নির্ধারণ করে দেয়া আছে। যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছে তাদের জিজ্ঞেস করো কেন মানে না নিয়ম। সবার তো নিয়ম মেনে চলা উচিত।’

এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে করার চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কাজগুলো করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
জবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি: মামলায় আসামি ৩
সাংবাদিকদের হুমকি, জবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
পারিশার ফোনটি ৪ হাজারে বিক্রি
পদ্মার ট্রেন জবির নতুন ক্যাম্পাসে থামবে কি না
ভোলার ঘটনায় জবি ছাত্রদলের মিছিল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
60 students in hospital after drinking water at school

স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে স্কুলে পানি পান করে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
মোহম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করার পর প্রথমে চারজন ও পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসে পেট ব্যথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি স্কুলের টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার সকালে উপজেলার শিতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজবাংলাকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মোহম্মদ আসাদুজ্জামান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করার পর প্রথমে চারজন ও পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসে পেট ব্যথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ওই চিকিৎসকের ধারণা, পানিতে বিষাক্ত কিছু বা ছত্রাক নাশক কোনো রাসায়নিক মেশানো হতে পারে। সে ধরনের লক্ষণই দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পানি সংগ্রহ করেছি। তার নমুনা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। এই সাত জনের বাইরে যারা এসেছে, তারা আতঙ্কিত হয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা সবাইকে চিকিৎসা দিচ্ছি। ৬০ জনই এখন শঙ্কামুক্ত।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া বলেন, ‘পিপাসা লাগলে কয়েকজন বান্ধবী মিলে পানি খাই। টিউবওয়েলের পানি খাওয়ার পর থেকে পেট ব্যথা করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ৩০ মিনিটের মধ্যে অসুস্থ্যতা বোধ করি। তখন স্কুল থেকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নেয়া হয় আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাফুর রহমান বলেন, ‘স্কুলে অ্যাসেম্বলি শেষে একটি এক ক্লাস হয়, এরপর ছাত্রীরা পানি খাওয়ার পর এমন ঘটনা ঘটে। সে সময় আমি স্কুলে ছিলাম না৷ স্কুলে ক্লাস শুরু হলে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিকে গিয়েছিলাম। কেন এমন হলো আমরা সেটি তদন্ত করে দেখছি।’

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলে টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬ জনের মতো শিক্ষার্থী প্রথমে অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে টিউবওয়েলের পানি পান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলি, পরে পুলিশকে জানাতে বলি। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা শঙ্কামুক্ত। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কোনো বিষ জাতীয় কিছু মেশানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমনটি জানিয়েছেন। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি।’

মন্তব্য

শিক্ষা
Two groups of Chhatra Dal called Jai Bangla were involved in the attack Chhatra League

ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয়বাংলা বলে হামলায় জড়িয়েছে: ছাত্রলীগ

ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয়বাংলা বলে হামলায় জড়িয়েছে: ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেছেন, ‘হামলায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। ছাত্রলীগকে কলুষিত করতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে হামলায় জড়িয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দাবি, ছাত্রদলের দুই গ্রুপ আওয়ামী লীগের নামে স্লোগান দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেছেন, ‘হামলায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। ছাত্রলীগকে কলুষিত করতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে হামলায় জড়িয়েছে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের ওপর হওয়া হামলার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সনজিত চন্দ্র দাস।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার ছবি আছে বলে জানালে সনজিত বলেন, ‘ছবি থাকুক। এই ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। আমরা জানি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই মারামারি। ছাত্রলীগের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়।

‘আমরা আজ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপাচার্য স্যারের কাছে স্মারকলিপি দিতে এসেছি। আমাদের সব নেতাকর্মী এখানেই আছে। আমাদের কনসার্নের বাইরে গিয়ে আমাদের ছাত্রলীগ কর্মীরা কোন ধরনের কাজ করে না।’

সনজিত বলেন, ‘ছাত্রদল অছাত্রদের সংগঠন। তাদের কোনো কর্মসূচি আছে কি নেই তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বাইরে যারা দাবি করছে যে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা করেছে আসলে তাদের একটা ফোবিয়া হয়েছে যে তারা যেখানেই মার খায় ও ধরপাকড়ের শিকার হয়, মনে করে যে ছাত্রলীগ করেছে।

‘আমরা শুনেছি তারা নীলক্ষেত মোড়ে রাস্তা আটকেছে। তখন জনতা ও সাধারণ ছাত্ররা তাদের গণধোলাই দিয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের দায় কেন হবে? ওরা মিথ্যাচার করছে। এখানে ছাত্রলীগের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।’

জয়বাংলা বলে হামলা করেছে জানালে তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা এখন জাতীয় স্লোগান। ছাত্রদল করে বলে জয় বাংলা বলতে পারবে না এটা ঠিক না। ছাত্রদল বা বিএনপিও এখন জয় বাংলা বা জয় বঙ্গবন্ধু বলতে পারবে। ছাত্রলীগকে কুলষিত করার জন্য ওরা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে নিজেরা হামলায় জড়িয়েছে।’

সনজিত বলেন, ‘ছাত্রদল তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তারা এখানে আসতেই পারে। তারাও রাজনীতি করবে। আমরাও রাজনীতি করবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ যদি ছাত্রলীগও নস্যাৎ করে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করতে পারে। আবার ছাত্রদল করলে তাদেরও প্রতিহত করতে পারে।’

ছাত্রদল নিজেদের মধ্যে হামলায় জড়িয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা গণধোলাই দিয়েছে- দুই ধরনের বক্তব্য কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে।’

উপাচার্য যা বললেন

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসার সময় ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সবাই আমাদের কাছে শিক্ষার্থী। কে কোন সংগঠন করবে সে স্বাধীনতা তাদের আছে। সোমবার ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ দুটি ছাত্র সংগঠনই দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিল। ছাত্রলীগকে ৩টায় এবং ছাত্রদলকে ৪টায় সময় দেয়া হয়েছিল।

‘ছাত্রলীগ যথাসময়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে কথা হলো। তারা প্রায় ৩০টি দাবি, কিছু সুপারিশ সংবলিত স্মারকলিপি দিল। এরপর তাদেরকে বললাম, আমাদের আরেকটা ছাত্র সংগঠন আসবে, তাদেরকে সুযোগ করে দাও। এরপর আমি ছাত্রদলের জন্য অপেক্ষা করছি। পরে প্রক্টর সাহেব এসে বললেন- তারা গেট পর্যন্ত এসেছিল, ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যগুলো ভালোভাবে এখনও জানি না। ক্যাম্পাসে প্রতিটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি পরিচালনার অধিকার আছে। তারা কেন আসতে পারল না সেটা জানতে হবে। কী ঘটল, কোনো সমস্যা হলো কিনা, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল কিনা সেটা দেখতে হবে। আমি প্রক্টর সাহেবের কাছে বিষয়টা জানব, বিস্তারিত তথ্যগুলো নিতে বলব।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে
ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

শিক্ষা
Controversial Name for Best Education Officer

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম আবদুল আমিন। ছবি সংগৃহীত
সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নওগাঁয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২ তালিকায় বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে।

বিতর্কিত ওই কর্মকর্তা আবদুল আমিন সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তার নাম সুপারিশ করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যোগ্যজনই যেন পুরস্কার পান সে দাবি করেছেন জেলার সুধীজনরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ ক্যাটাগরিতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেয়া হয়। একটি নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, বিদ্যালয়, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত করা হয়।

২০১৩ সালে পদক নীতিমালা হওয়ার পর ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়। দেশের প্রতি জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতদের প্রতি বছর শিক্ষা পদক দিয়ে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল আমিন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার আগেও তিনি বিভিন্ন উপজেলায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

সদর উপজেলায় যোগ দেয়ার পর থেকেই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ খাত থেকে উৎকোচ নিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

গত ২৪ এপ্রিল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সদর উপজেলার মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান। তাৎক্ষণিক অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনও করেন জেলা প্রশাসক।

তবে অভিযোগের ৫ মাস পেরোলেও অজানা কারণে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়া হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় আমিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত পিছিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এরইমধ্যে চলতি বছর জেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দিতে শ্রেষ্ঠ তালিকায় উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি আব্দুল আমিনের নাম সুপারিশ করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই আমাকে শোকজসহ স্কুলে এসে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে তিনি সব স্কুল থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করেন। প্রতিটা স্কুল থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। এ ছাড়া তিনি বদলি ব্যবসা করেন। এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তা কোনভাবেই পদকে ভূষিত হতে পারেন না।’

সুপারিশের তালিকা থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নাম বাদ দেয়ার পাশাপাশি তার অনিয়ম ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চান এই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আমিন বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ পদকের তালিকায় আমার নাম আছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে বিষয়টি অফিস থেকে এখনো আমাকে জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা দেখেই আমাকে পদক দেবেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে চাঁদা আদায়সহ অন্য যেসব অভিযোগ, সেগুলো সঠিক নয়।’

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নওগাঁ সদরের যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভিন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আব্দুল আমিনের চলতি বছরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই তার নাম সুপারিশ করে কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে এমন বিষয় আমার জানা ছিল না।’

কমিটির আরেক সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে নামটি আমাদের কাছে এসেছে। এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন যোগ্যদেরকে মূল্যায়ন করেই পদক দেয়া হবে। শীঘ্রই তালিকাটি প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
যেখানেই যান, সেখানেই ‘ঘুষ-অনিয়মে’ সালাম

মন্তব্য

শিক্ষা
The headmaster pulls bricks at the school so I dont go

‘স্কুলে ইটের খোয়া টানান প্রধান শিক্ষক, তাই যাই না’

‘স্কুলে ইটের খোয়া টানান প্রধান শিক্ষক, তাই যাই না’ ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে শামসিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বালু টানানোর কাজ করান প্রধান শিক্ষক। ছবিটি মঙ্গলবার দুপুরে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
নাজমুল বলে, ‘দুদিন ধরে স্কুলে যাই না। স্কুলে গেলেই ক্লাস থেকে বের করে শ্রমিকের মতো কাজ করান প্রধান শিক্ষক মোস্তারি বেগম। তিনি ইটের খোয়াতে পানি দিতে বলেন, বালুর বস্তা ভরতে বলেন। তাই কাজের ভয়ে স্কুলে যাই না।’

দুপুরে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল হোসেন। কয়েক জন বড় ভাইকে দেখে উঠে দাঁড়ায় বেঞ্চ থেকে। এর মধ্যে একজন বলেন, ‘আজও কাজের ভয়ে স্কুল যায়নি সে।’

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় নাজমুলের।

নাজমুল বলে, ‘দুদিন ধরে স্কুলে যাই না। স্কুলে গেলেই ক্লাস থেকে বের করে শ্রমিকের মতো কাজ করান প্রধান শিক্ষক মোস্তারি বেগম। তিনি ইটের খোয়াতে পানি দিতে বলেন, বালুর বস্তা ভরতে বলেন। তাই কাজের ভয়ে স্কুলে যাই না।’

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে শামসিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নাজমুলের অভিযোগের প্রমাণ মেলে।

তখন দুপুর ১টা ১৭ মিনিট। স্কুলের মাঠে দেখা গেল ১৫ শিক্ষার্থীকে। কেউ ইটের খোয়া বস্তায় ভরছে। তপ্তরোদে স্কুল পোশাক খুলেছে কেউ। ঘেমে নিস্তেজ হয়ে অনেকে টিউবওয়েলের পানি পান করছে। কেউ আবার বস্তায় করে মাঠের বালু অপসারণ করছে।

শিক্ষার্থী আবু নোমান বলে, ‘গতকালও টিফিনের সময় আমাদের দিয়ে ইটের খোয়া টানার কাজ করিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বাড়ি যেতে দেননি। কাজ শেষে কিছু খাওয়াননি। আমরা পানি খেয়ে ছিলাম।’

‘স্কুলে ইটের খোয়া টানান প্রধান শিক্ষক, তাই যাই না’
ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে শামসিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বালু টানানোর কাজ করান প্রধান শিক্ষক। ছবিটি মঙ্গলবার দুপুরে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

তার কথা বলা দেখে ক্যামরার সামনে ছুটে আসে আরও কয়েক শিক্ষার্থী। তাদের ধারণা, কাজের জন্য অফিস থেকে কেউ পুরস্কার দিতে এসেছে।

প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকরা।

অভিভাবক দায়ম উদ্দীন বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছি, বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন কেনো। তিনি কোনো উত্তর দেননি।

‘আমারা তো সন্তানদের এখানে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছি, কাজ করার জন্য নয়। ওদের দিয়ে কাজ করালে শ্রমিকের কি বরাদ্দ নেই? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জাানাবো কর্তৃপক্ষের কাছে।’

সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি স্কুলের পাশেই। তিনি বলেন, ‘শিশুদের দিয়ে প্রায়ই কাজ করতে দেখেছি। কখনো কিছু বলিনি শিক্ষকদের।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বের হতে বলেন। আমাদেরসহ কাজ করান। আমিও কাজ করেছি। কি আর বলবো।’

প্রধান শিক্ষক মোস্তারি বেগম শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্কুলে একটি শ্রেণিকক্ষের নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে অতিরিক্ত খোয়া আনায় দুদিন কিছু সময় কাজ করতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বিষয়টি জানতাম না। তাদের দিয়ে কাজ করাবেন কেন। এমনটি হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অন্যায়। আমি বিষয়টি দেখতে বলছি।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি তদন্তে কমিটি
শ্যামপুরে স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে খুন
প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!
স্কুল-কলেজে নতুন সূচি
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ছুটি কাটিয়ে স্কুলে শিশুরা

মন্তব্য

শিক্ষা
A League is taking action against those responsible for the clash in Eden

ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ ইডেন কলেজে সংঘর্ষের জের ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ার পর রোববার রাতে বিরোধী পক্ষের উচ্ছ্বাস, স্লোগান। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দায়িত্বশীল এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইডেনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে আছেন।’

ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে রোববার রাতে টেলিফোন করে এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের ফোনে নাছিমকে বলেন- ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেতাকর্মীদের গালাগাল করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের মেয়েরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দুর্নাম বয়ে আনছে, দলের ক্ষতি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব উন্নয়ন অর্জন তারা ম্লান করে দিচ্ছে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের দেখভাল করতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

শাসক দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দায়িত্বশীল এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইডেনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হবে। এর অংশ হিসেবেই ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে আছেন।’

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দু’পক্ষে পুনরায় সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
রিভার তোপে হলছাড়া সেই দুই ছাত্রী
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন

মন্তব্য

শিক্ষা
10 injured including Riva in BCL clash in Eden

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া ইডেন মহিলা কলেজে রোববার সন্ধ্যায় সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কলেজ অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে বিরোধীপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। পরে আহত রিভাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আর পুলিশ পাহারায় রাজিয়াকে ক্যাম্পাসের বাইরে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ইডেন কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এই সংঘর্ষ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুজনকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন ইডেন কলেজের শিক্ষক নার্গিস আক্তার। তারা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও যুগ্ম সম্পাদক রিতু আক্তার।

এদিকে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে সরিয়ে নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাকে কলেজের ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেয়া হয়।

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে রোববার রাতে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজিয়া সুলতানাকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে বিরোধীপক্ষ। তারা বলছে, এর মধ্য দিয়ে কলেজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় হওয়া হামলার পর পুলিশ প্রটোকলে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিক্ষক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আহত যে দুজনকে এখানে নিয়ে এসেছি তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। চেয়ার ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা ছাড়াও চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হলেও তাদের ঢাকা মেডিক্যালে আনা সম্ভব হয়নি।’

শনি থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনা নিয়ে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলন শুরুর পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হামলা-পাল্টা হামলায় গড়ায়। দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হন।

এ বিষয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা পারভিন চৌধুরী বলেন, ‘রিভা ও রাজিয়া সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন। কিন্তু তাদের সেই সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কেউ ছিল না। পরে আমরা সেই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের বসাতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন শেখ সানজিদা, সুষ্মিতা ও স্বর্ণালি।’

সানজিদা বলেন, ‘ছাত্রলীগের এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমরা ক্যাম্পাসে চাই না। রিভা চলে গেছেন। রাজিয়া এখনও আছেন। আমরা চাই তিনিও সসম্মানে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাবেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সানজিদা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে এখনও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা এই তদন্ত কমিটি মানি না।’

রিভা-রাজিয়া পক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এর আগে হামলার শিকার হয়ে তামান্না জেসমিন রিভা বলেন, ‘আমরা নেতৃত্বে আসার পর থেকে নিয়মিত চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার জন্য। কিন্তু কমিটি থেকে সেন্ট্রালে পদ পাওয়া কয়েকজনের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে।’

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা রোববার রাতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: নিউজবাংলা

বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা যা বললেন

হামলা-সংঘর্ষে আহত হয়ে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। আর সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকেও পুলিশের সহায়তায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রিভা ও রাজিয়া ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ার পর রাতে কলেজ ছাত্রলীগের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। তাদের পক্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জেবুন্নাহার শীলা বলেন, ‘আজ থেকে ইডেন কলেজ কলঙ্কমুক্ত। ছাত্রী নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ায় আমরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। কারণ এ রকম অন্যায়কারী চাঁদাবাজ সভাপতি-সেক্রেটারি আমরা কখনই চাই না।’

আরেক সহসভাপতি সুষ্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘এই ইডেন কলেজ রিভা-রাজিয়ার ঘাঁটি নয়। এটা শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে রিভা-রাজিয়ার স্থান হবে না।

‘আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের যে আট দাবি ছিল সেগুলোর ব্যাপারে রিভা ও রাজিয়াকে জবাব দিতে হবে। তারপর বিচার-বিশ্লেষণ করে বলতে পারব যে তাদের আমরা ক্যাম্পাসে আনব কি আনব না।’

এরপর কলেজ ক্যাম্পাসে উল্লাস প্রকাশ করে স্লোগান দেন বিরোধীপক্ষের ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এ সময় তারা রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন:
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন করোনায় আক্রান্ত

মন্তব্য

p
উপরে