× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Observance of Janmashtami in Jabi in various arrangements
hear-news
player
print-icon

নানা আয়োজনে জবিতে জন্মাষ্টমী পালন

নানা-আয়োজনে-জবিতে-জন্মাষ্টমী-পালন
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মের মূল বার্তা শান্তি। আজ এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ পেয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক উপাসনালয় থাকবে।’

শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও নাম-কীর্তনসহ নানা আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শুভ জন্মষ্টমী উৎসব পালন করা হয়েছে।

জবি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিন সকাল ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের হয়।

দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভার শুরুতে গীতাপাঠ করেন শিক্ষার্থী অনামিকা মল্লিক।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেবানন্দ মণ্ডল ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী দেবাশীষ চন্দ্র শীল সূচনা বক্তব্য দেন। তারা সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে একটি উপাসনালয় স্থাপনের দাবি জানান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অনির্বাণ সরকার।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মের মূল বার্তা শান্তি। আজ এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। যার মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ পেয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক উপাসনালয় থাকবে।’

সমাপনী বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আজকের উৎসব যথাযথভাবে উদযাপন সম্ভব হচ্ছে। এটিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত।’

আলোচনা সভা শেষে হরিনাম কীর্তন এবং সবার মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. একেএম লুৎফর রহমান, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ড. কাজী নাসিরউদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী।

এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি, আকতারুলের রিমান্ড নাকচ
সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর
স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের
বিলবোর্ড পড়ে মাথা ফাটল জবি ছাত্রীর
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির জবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Chittagong DC warns around Durga Puja

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে মঙ্গলবার দুপুরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রামের ডিসি বলেন, ‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিসি বলেন, ‘কয়েক দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসব ঘিরে উন্নয়নবিরোধী একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত বছর দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, তা সফল হয়নি।

‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

সমাবেশের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার শপথ বাক্য পড়ান জেলা প্রশাসক। পরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ সমাবেশে বলেন, ‘শুধু দুর্গাপূজা নয়, কখনোই কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আগামি দুর্গাপূজায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকবে না। পূজামণ্ডপ ঘিরে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা বা উসকানি দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. বদিউল আলম সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।

আরও পড়ুন:
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

মন্তব্য

শিক্ষা
Saudi launched Nusuk with all the benefits of Hajj

হজের সব সুবিধা নিয়ে ‘নুসুক’ চালু করল সৌদি

হজের সব সুবিধা নিয়ে ‘নুসুক’ চালু করল সৌদি মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘর। ছবি: সংগৃহীত
প্ল্যাটফর্মটির অফিসিয়াল টুইটার থেকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘নুসুক হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের অনেক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সেবা দেবে। এ ছাড়া খুব সহজে ও স্বাচ্ছদ্যে ওমরাহ করার জন্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে নুসুক।’

নতুন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সৌদি আরব সরকার। ভিশন-২০৩০ সামনে রেখে দেশটিতে হজযাত্রী এবং মক্কা ও মদিনা শহর ভ্রমণের বিভিন্ন সুবিধা দিতেই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়েছে বলে জানায় সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

যে কোনো বিষয়ের চেয়ে অনন্য প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ গতকাল সোমবার উন্মোচন করা হয়। এই প্ল্যাটফমটির মাধ্যমে এখন থেকে মক্কা ও মদিনায় ভ্রমণকারীরা তাদের নিজেদের পরিষেবার জন্য ওমরাহর ভ্রমণপথ নির্দিষ্ট করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়, ‘নুসুকের মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা খুব সহজেই সৌদিতে তাদের ভ্রমণকে সংগঠিত করতে পারবেন। এর মাধ্যমেই ই-ভিসায় আবেদন করা, হোটেল বুক করা এবং ফ্ল্যাইট বুক করার মতো সুবিধা পাবেন।’

এ ছাড়া ওয়েবসাইটটি ওমরাহ বা হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এটি আবাসন, ল্যান্ডমার্ক এবং পবিত্র সাইটগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে তারা চাইলে সেগুলো তালিকায় যুক্ত করতে পারবেন।

বুকিং প্রক্রিয়া সহজ করতে ইন্টার‍্যাক্টিভ ম্যাপ ছাড়াও শহরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা পাবেন নুসুক থেকেই।

প্ল্যাটফর্মটির অফিসিয়াল টুইটার থেকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘নুসুক হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের অনেক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সেবা দেবে। এ ছাড়া খুব সহজে ও স্বাচ্ছদ্যে ওমরাহ করার জন্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে নুসুক।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, প্ল্যাটফর্মটি হজ মন্ত্রণালয় দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে।

নুসুক ডট এসএ (nusuk.sa) তাদের সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে এর একটি স্লোগান ঠিক করেছে। ‘ভিজিট সৌদি আরব’ স্লোগান নিয়ে ওমরাহযাত্রী ও সৌদির মক্কা ও মদিনা ভ্রমণকারীদের নানাবিধ সুবিধার প্যাকেজ দেবে।

হজ ও ওমরাহ এবং হজযাত্রীদের এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহ বলেন, ‘সবশেষ প্রযুক্তির সমন্বয়ে হজযাত্রী ও পর্যটকদের মানসম্মত পরিষেবা দিতে নুসুক প্ল্যাটফর্মটি আনা হয়েছে।’

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান এবং সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিচালক আহমেদ আল-খতিব বলেন, ‘নতুন এই প্ল্যাটফর্ম সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। বিশ্বের সব মুসলিমদের সৌদিতে ওমরাহ ও হজের জন্য সুবিধা দিতেই এটির উন্মোচন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দুই ওমরাহর মধ্যে ব্যবধান ১০ দিন
চীনা টিকা নিলে ওমরাহে যেতে বাধা নেই
শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধের ওমরাহ পালনে বাধা
ওমরাহ পালনে শর্ত কী, জানাল ধর্ম মন্ত্রণালয়
ওমরাহ পালনে করোনা টিকা নিতে হবে

মন্তব্য

শিক্ষা
14 points of Puja celebration council

পূজা উদযাপন পরিষদের ১৪ দফা

পূজা উদযাপন পরিষদের ১৪ দফা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল। ছবি: নিউজবাংলা
হিল্লোল সেন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা রাখি, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় এবারের শারদোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলার বজায় রেখে উদযাপন হবে।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘরবাড়ি সংস্কার এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল।

লিখিত বক্তব্যে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, ‘বিগত দিনে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন ছিল সাম্প্রদায়িক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেয়ার। তারপরও দেশের কিছু কিছু স্থানে মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জবরদখল, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুরের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা এখনও ঘটে চলেছে।

‘গত বছর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে চট্টগ্রামের প্রধান পূজামণ্ডপ জেএম সেন হলে হামলা হয়। তখন সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রায় ৭৬ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পূজা পরিষদের আইনি সেলের মাধ্যমে আদালতে জোরালো আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামিরা দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারা একে একে বের হওয়ায় আমরা শঙ্কিত।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা পোস্ট দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা থেকে বিরত এবং সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হিল্লোল সেন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা রাখি, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় এবারের শারদোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলার বজায় রেখে উদযাপন হবে।’

তিনি জানান, বাঙালির দুর্গোৎসবকে ইউনেস্কো তাদের অধরা সংস্কৃতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাঙালির এ উৎসব একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

এবারও চট্টগ্রাম মহানগরের জেএমসেন হলসহ ১৬টি থানার ২৮৩টি পূজা মণ্ডপে ১ থেকে ৫ অক্টোবর পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপন হবে।

নগরীর সব মণ্ডপ ডিজেমুক্ত ও সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করার নির্দেশনা দেয়া আছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধন ধর, বিমল কান্তি দে, চন্দন তালুকদার, অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সুমন দেবনাথ, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, প্রদীপ শীল, বিপ্লব চৌধুরী, মিথুন মল্লিক, সজল দত্ত, নটু চৌধুরী, বিপ্লব সেন।

আরও পড়ুন:
পূজার গান ‘দেখা দাও মা’
দেবীপক্ষের সূচনা
দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
তুমব্রু সীমান্তে দুর্গোৎসব নিয়ে উৎকণ্ঠা

মন্তব্য

শিক্ষা
The teenager was detained on charges of insulting religion

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কিশোর আটক

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কিশোর আটক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল বলেন, ‘নবীনগর এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন নষ্ট না হয় এবং আসন্ন দুর্গাপূজার আনন্দ বিনষ্ট না হয় সে জন্য দ্রুত ওই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার নাটঘর এলাকা থেকে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে আটক করা হয়।

নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নাটঘর গ্রামের এক সৌদিপ্রবাসী ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই কিশোর সেখানে অবমাননাকর কমেন্ট করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সেখানে বিতণ্ডা হয়। পরে তাদের এ কথার স্ক্রিনশট গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন কেউ। এতে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ওই কিশোরকে আটক করে নবীনগর থানা পুলিশ।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল বলেন, ‘নবীনগর এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন নষ্ট না হয় এবং আসন্ন দুর্গাপূজার আনন্দ বিনষ্ট না হয়, সে জন্য দ্রুত ওই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
কোরআন নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক আটক
আল্লাহ ও নবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি, বিএনপি নেত্রী কারাগারে
কটূক্তির মামলায় কলেজছাত্র গ্রেপ্তার
পদ্মা সেতু নিয়ে কটূক্তি, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

শিক্ষা
Beginning of Devipaksha

দেবীপক্ষের সূচনা

দেবীপক্ষের সূচনা দেবীপক্ষ শুরু হয়েছে আজ ভোর থেকে। ফাইল ছবি
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন গজ বা হাতিতে। এর ফলে বসুন্ধরা হবে শস্যপূর্ণ। আর দেবীর বিদায় হবে নৌকায়, যার অর্থ শস্য ও জলবৃদ্ধি। দেবীর এই আগমন ও গমনে যারা বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এ বছরটা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণকর।

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন মহালয়া আজ। ভোর থেকে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষ তিথিকে বলা হয় ‘দেবীপক্ষ’। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন কৈলাসের শ্বশুরালয় ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে পৃথিবীতে আসেন দেবী দুর্গা। তখন থেকেই মণ্ডপে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়।

এদিন অমাবস্যার শুরু এবং পরবর্তী পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেবীপক্ষ। মহালয়ার পাঁচ দিন পর মহাষষ্ঠীতে শুরু হয় মূল দুর্গোৎসব।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন গজ বা হাতিতে। এর ফলে বসুন্ধরা হবে শস্যপূর্ণ। আর দেবীর বিদায় হবে নৌকায়, যার অর্থ শস্য ও জলবৃদ্ধি। দেবীর এই আগমন ও গমনে যারা বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এ বছরটা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণকর।

পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার দিনেই ব্রহ্মার কাছ থেকে মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান দেবী দুর্গা। ব্রহ্মার বরেই মহিষাসুর মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন, তিনিই দেবী দুর্গা। দশভুজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আবাহন। আর এ চণ্ডীতেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা ও তার প্রশস্তি।

মহালয়া উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে, ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোরে চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে ঘট স্থাপন করা হয়।

এবার সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৩২ হাজার ১৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে।

আরও পড়ুন:
প্রতিমা শিল্পী সংকটে ঝালকাঠি
দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা থাকবে আনসার
দুর্গাপূজার ব্যস্ততা শুরু কুমারটুলিতে
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো
‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি’

মন্তব্য

শিক্ষা
50 puja mandaps have increased in the country this year

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়- দুর্গাপূজা চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা এবং এই সময়কালে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সারা দেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়। সে হিসাবে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকায় এ বছর ২৪১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা গত বছরের থেকে ছয়টি বেশি। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হবে। আর ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছর সরকার চাচ্ছে, কোনো অবস্থাতেই যেন দুর্গাপূজা ঘিরে দেশে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি সক্রিয়।

‘সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা দেয়া খুব কঠিন। তাই আমরা এ বছর প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে।’

জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছর পূজার সময়ে হামলার ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হয়নি। আমাদের দাবি, ওইসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের কথা বলা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগেই এটা করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেগুলো হলো- দুর্গাপূজা চলাকালীন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়৷

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্গাপূজায় দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা; অন্যান্য জাতীয় উৎসবের মতো দুর্গাপূজাও জাতীয় মর্যাদায় পালনের পদক্ষেপ নেয়া; কারাগার, হাসপাতাল ও অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা; দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়নে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি ফেরত প্রদানে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া।

এ ছাড়া রয়েছে- দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি সরকারের এই মেয়াদে বাস্তবায়ন করা; হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন করা; প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল মন্দির কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা; টোলগুলোর সংস্কার ও টোল শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন ধার্য করা এবং ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময়ে সংঘটিত সহিংসতাসহ বিভিন্ন সময়ে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত ও দ্রুত বিচার করা।

আরও পড়ুন:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা
বরিশালে দুর্গা পূজার ‘বাজেট কম’
পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পূজাকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক যুদ্ধ

মন্তব্য

শিক্ষা
Artisans are busy making Durga Puja idols in Old Dhaka

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা পুরান ঢাকার একটি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি। প্রতিমা বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে দুর্গার বাহকসহ প্রতিমার শাড়ি ও অলংকার পরানোর কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজান হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রতিমা দেখতে এখনই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর (১৪ আশ্বিন) ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ৫ অক্টোবর (১৮ আশ্বিন) বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয় পুরান ঢাকায়। এবার শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

এ বছর পুরান ঢাকায় নবকল্লোল পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী শিব মন্দির, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, সংঘমিত্র পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী রাধা মাধব জিউ দেব মন্দির, নতুন কুঁড়ি পূজা কমিটি, নববাণী পূজা কমিটি, রমাকান্ত নন্দীলেন পূজা কমিটিসহ আরও বেশ কিছু ক্লাব পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিবমন্দীর, তাঁতী বাজার, সঙ্গ মিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, গোয়ালনগর ঘাট, জুলন বাড়িতে বড় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কারিগররা সাধারণত অজন্তা ধাঁচের প্রতিমা বানিয়ে থাকেন। এগুলো ওরিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। প্রতিমার শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ আলাদাভাবে কিনে নিতে হয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়। দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।

শাঁখারিবাজারের সংঘমিত্র পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মানিকগঞ্জের সুকুমার পাল। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার ছয়টি প্রতিমা সহ বনানীতে আরও ছয়টি বানাচ্ছেন তিনি। নিউজবাংলাকে সুকুমার পাল জানান, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হচ্ছে।

শাঁখারিবাজার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি বলেন, ‘এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’

কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমা শিল্পী পল্টন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন নিজেকে আমার সফল, সার্থক মনে হয়।’

শাঁখারি বাজারের প্রতিমা শিল্পী সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার এ মন্ডপের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তার মেয়ে অনামিকা নন্দী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার কাছে এই কাজ দেখে ও শিখে আসছি। প্রাথমিকভাবে খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতা, তারকাটার প্রয়োজন হয়। মূর্তি শুকানোর পর রঙ করা হয়।’

জগন্নাথ অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ধষরত পাল। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, পাটুরিয়া, সাভার সহ বেশ কিছু জায়গা থেকে মাটি আনা হয়। আর সব জায়গার মাটি দিয়ে মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হয়।

প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি পাল জানান, খড় আর কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন রঙ আর তুলির আঁচড় দিয়ে দুর্গাকে সাজানো হবে।

দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

p
উপরে