× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
No recommendation of MPs to primary school committee HC
hear-news
player
print-icon

প্রাথমিক স্কুল কমিটিতে এমপিদের সুপারিশ নয়: হাইকোর্ট

প্রাথমিক-স্কুল-কমিটিতে-এমপিদের-সুপারিশ-নয়-হাইকোর্ট
রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ২(২) ধারা চ্যালেঞ্জ করে এক অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন। আজ চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুলটি যথাযথ বলে ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা (ম্যানিজিং) কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ করার বিধান অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোনো সুপারিশ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

আদালতে রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে- প্রাথমিক স্কুল পরিচালনা কমিটিতে দুজন বিদ্ব্যৎসাহী (নারী ও পুরুষ) সদস্য থাকবেন, যাদের নাম প্রস্তাব করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘সাধারণত একজন সংসদ সদস্য যখন কারও নাম প্রস্তাব করেন তখন তাকেই সভাপতি করা হয়। তাহলে নির্বাচনের তো আর প্রয়োজন হয় না। এ কারণে ওই প্রজ্ঞাপনের ২(২) ধারা চ্যালেঞ্জ করে শহীদুল্লাহ নামে একজন অভিভাবক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন।

‘আজ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুলটিকে যথাযথ ঘোষণা করে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেছেন, প্রাথমিক স্কুল পরিচালনা কমিটিতে কারা থাকবেন সে ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরামর্শ বা কারও নাম প্রস্তাব করতে পারবেন না।’

এর আগে ভিকারুনিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে আদালত যে আদেশ দিয়েছিল অনুরূপ আদেশ হয়েছে বলে জানান রিটকারীর পক্ষের এই আইনজীবী।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিকে আরও ৩০ হাজার নিয়োগ : প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির পাইলটিং শুরু বুধবার
ছুটি শেষে প্রাথমিকে ক্লাস চলবে যেভাবে
প্রাথমিকে নিয়োগ: জেলায় পরীক্ষায় সায় নেই অধিদপ্তরের
আমলাতন্ত্রে আটকা প্রাথমিকের দেড় কোটি শিক্ষার্থীর ভাতা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Controversial Name for Best Education Officer

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম আবদুল আমিন। ছবি সংগৃহীত
সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নওগাঁয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২ তালিকায় বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে।

বিতর্কিত ওই কর্মকর্তা আবদুল আমিন সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তার নাম সুপারিশ করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যোগ্যজনই যেন পুরস্কার পান সে দাবি করেছেন জেলার সুধীজনরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ ক্যাটাগরিতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেয়া হয়। একটি নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, বিদ্যালয়, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত করা হয়।

২০১৩ সালে পদক নীতিমালা হওয়ার পর ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়। দেশের প্রতি জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতদের প্রতি বছর শিক্ষা পদক দিয়ে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল আমিন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার আগেও তিনি বিভিন্ন উপজেলায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

সদর উপজেলায় যোগ দেয়ার পর থেকেই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ খাত থেকে উৎকোচ নিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

গত ২৪ এপ্রিল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সদর উপজেলার মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান। তাৎক্ষণিক অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনও করেন জেলা প্রশাসক।

তবে অভিযোগের ৫ মাস পেরোলেও অজানা কারণে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়া হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় আমিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত পিছিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এরইমধ্যে চলতি বছর জেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দিতে শ্রেষ্ঠ তালিকায় উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি আব্দুল আমিনের নাম সুপারিশ করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই আমাকে শোকজসহ স্কুলে এসে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে তিনি সব স্কুল থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করেন। প্রতিটা স্কুল থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। এ ছাড়া তিনি বদলি ব্যবসা করেন। এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তা কোনভাবেই পদকে ভূষিত হতে পারেন না।’

সুপারিশের তালিকা থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নাম বাদ দেয়ার পাশাপাশি তার অনিয়ম ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চান এই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আমিন বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ পদকের তালিকায় আমার নাম আছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে বিষয়টি অফিস থেকে এখনো আমাকে জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা দেখেই আমাকে পদক দেবেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে চাঁদা আদায়সহ অন্য যেসব অভিযোগ, সেগুলো সঠিক নয়।’

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নওগাঁ সদরের যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভিন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আব্দুল আমিনের চলতি বছরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই তার নাম সুপারিশ করে কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে এমন বিষয় আমার জানা ছিল না।’

কমিটির আরেক সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে নামটি আমাদের কাছে এসেছে। এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন যোগ্যদেরকে মূল্যায়ন করেই পদক দেয়া হবে। শীঘ্রই তালিকাটি প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
যেখানেই যান, সেখানেই ‘ঘুষ-অনিয়মে’ সালাম

মন্তব্য

শিক্ষা
A League is taking action against those responsible for the clash in Eden

ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ ইডেন কলেজে সংঘর্ষের জের ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ার পর রোববার রাতে বিরোধী পক্ষের উচ্ছ্বাস, স্লোগান। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দায়িত্বশীল এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইডেনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে আছেন।’

ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে রোববার রাতে টেলিফোন করে এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের ফোনে নাছিমকে বলেন- ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেতাকর্মীদের গালাগাল করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের মেয়েরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দুর্নাম বয়ে আনছে, দলের ক্ষতি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব উন্নয়ন অর্জন তারা ম্লান করে দিচ্ছে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের দেখভাল করতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

শাসক দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দায়িত্বশীল এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইডেনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হবে। এর অংশ হিসেবেই ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে আছেন।’

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দু’পক্ষে পুনরায় সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
রিভার তোপে হলছাড়া সেই দুই ছাত্রী
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন

মন্তব্য

শিক্ষা
10 injured including Riva in BCL clash in Eden

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া ইডেন মহিলা কলেজে রোববার সন্ধ্যায় সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কলেজ অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে বিরোধীপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। পরে আহত রিভাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আর পুলিশ পাহারায় রাজিয়াকে ক্যাম্পাসের বাইরে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ইডেন কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এই সংঘর্ষ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুজনকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন ইডেন কলেজের শিক্ষক নার্গিস আক্তার। তারা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও যুগ্ম সম্পাদক রিতু আক্তার।

এদিকে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে সরিয়ে নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাকে কলেজের ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেয়া হয়।

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে রোববার রাতে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজিয়া সুলতানাকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে বিরোধীপক্ষ। তারা বলছে, এর মধ্য দিয়ে কলেজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় হওয়া হামলার পর পুলিশ প্রটোকলে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিক্ষক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আহত যে দুজনকে এখানে নিয়ে এসেছি তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। চেয়ার ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা ছাড়াও চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হলেও তাদের ঢাকা মেডিক্যালে আনা সম্ভব হয়নি।’

শনি থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনা নিয়ে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলন শুরুর পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হামলা-পাল্টা হামলায় গড়ায়। দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হন।

এ বিষয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা পারভিন চৌধুরী বলেন, ‘রিভা ও রাজিয়া সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন। কিন্তু তাদের সেই সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কেউ ছিল না। পরে আমরা সেই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের বসাতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন শেখ সানজিদা, সুষ্মিতা ও স্বর্ণালি।’

সানজিদা বলেন, ‘ছাত্রলীগের এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমরা ক্যাম্পাসে চাই না। রিভা চলে গেছেন। রাজিয়া এখনও আছেন। আমরা চাই তিনিও সসম্মানে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাবেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সানজিদা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে এখনও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা এই তদন্ত কমিটি মানি না।’

রিভা-রাজিয়া পক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এর আগে হামলার শিকার হয়ে তামান্না জেসমিন রিভা বলেন, ‘আমরা নেতৃত্বে আসার পর থেকে নিয়মিত চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার জন্য। কিন্তু কমিটি থেকে সেন্ট্রালে পদ পাওয়া কয়েকজনের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে।’

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা রোববার রাতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: নিউজবাংলা

বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা যা বললেন

হামলা-সংঘর্ষে আহত হয়ে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। আর সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকেও পুলিশের সহায়তায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রিভা ও রাজিয়া ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ার পর রাতে কলেজ ছাত্রলীগের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। তাদের পক্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জেবুন্নাহার শীলা বলেন, ‘আজ থেকে ইডেন কলেজ কলঙ্কমুক্ত। ছাত্রী নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ায় আমরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। কারণ এ রকম অন্যায়কারী চাঁদাবাজ সভাপতি-সেক্রেটারি আমরা কখনই চাই না।’

আরেক সহসভাপতি সুষ্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘এই ইডেন কলেজ রিভা-রাজিয়ার ঘাঁটি নয়। এটা শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে রিভা-রাজিয়ার স্থান হবে না।

‘আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের যে আট দাবি ছিল সেগুলোর ব্যাপারে রিভা ও রাজিয়াকে জবাব দিতে হবে। তারপর বিচার-বিশ্লেষণ করে বলতে পারব যে তাদের আমরা ক্যাম্পাসে আনব কি আনব না।’

এরপর কলেজ ক্যাম্পাসে উল্লাস প্রকাশ করে স্লোগান দেন বিরোধীপক্ষের ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এ সময় তারা রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন:
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন করোনায় আক্রান্ত

মন্তব্য

শিক্ষা
187 seats are vacant after 2 rounds of admission in Jahangirnagar

জাহাঙ্গীরনগরে ২ দফা ভর্তির পর ১৮৭ আসন শূন্য

জাহাঙ্গীরনগরে ২ দফা ভর্তির পর ১৮৭ আসন শূন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, ‘শূন্য আসনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ২৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অনুষদ থেকে একটি মেধাক্রম প্রকাশ করা হবে। সেই মেধাতালিকা অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের ভর্তি নেয়া হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় মেধাতালিকা থেকে ভর্তির পরও বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটে ১৮৭টি আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেদের ৯৮টি ও মেয়েদের ৮৯টি আসন।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিতীয় মেধাতালিকা থেকে ভর্তির পর ‘এ’ ইউনিটভুক্ত গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজিতে ছেলেদের জন্য ৫২টি ও মেয়েদের জন্য ৩৫টি, ‘বি’ ইউনিটভুক্ত সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদে ছেলেদের ১৫টি ও মেয়েদের ১৩টি, ‘সি’ ইউনিটভুক্ত কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ছেলেদের জন্য ১৯টি ও মেয়েদের জন্য ১৯টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

‘ডি’ ইউনিটভুক্ত জীববিজ্ঞান অনুষদে ছেলেদের ১২ এবং মেয়েদের ১৮টি, ‘ই’ ইউনিটভুক্ত বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,আইবিএ-জেইউতে ছেলেদের জন্য কোনো আসন ফাঁকা নেই, তবে বাণিজ্য শাখার বাইরের মেয়েদের জন্য চারটি শূন্য আসন রয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, ‘শূন্য আসনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ২৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অনুষদ থেকে একটি মেধাক্রম প্রকাশ করা হবে। সেই মেধাতালিকা অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের ভর্তি নেয়া হবে।’

এ বছর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে ৪৬৬টি, ‘বি’ ইউনিটে ৩৮৬টি, ‘সি’ ইউনিটে ৪৬৭টি, ‘ডি’ ইউনিটে ৩২০টি এবং ‘ই’ ইউনিটে ২৫০টি আসন মিলে মোট ১ হাজার ৮৮৮টি আসন রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৪৮টি, নৃগোষ্ঠীদের জন্য ৩০টি, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১৫টি এবং সংরক্ষিত পোষ্য কোটা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাবি শিক্ষককে কফিশপে ডেকে এনএসইউ শিক্ষার্থীদের মারধর
উন্নয়ন পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে
জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক
জাবিতে প্রথম নারী উপাচার্যের ৮ বছর
খাবারের দাম নিয়ে ভোগান্তিতে জাবি শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
DU Vice Chancellor is not addressed as Sir

উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায়…

উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায়… ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুধবার শিক্ষার্থী আরমানুল হককে শাসাচ্ছেন সহকারী প্রক্টর ড. মো. মাহাবুবুল রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষার্থী আরমানুল হক বলেন, ‘বিশ্বের টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের তাদের পদবি দিয়ে সম্বোধন করা হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা কে স্যার ডাকল বা না ডাকল তা নিয়ে কেন ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগেন? একজন শিক্ষক যদি স্যার ডাকা না ডাকা নিয়ে এভাবে চিন্তা করেন তাহলে তা লজ্জার।’

‘এই বেটা তোর কথায় আসবে? তোমার কথায় আসবে? বেয়াদবির একটা সীমা আছে। ভিসি কে? ভিসি স্যার বল। এই, এর আইডি কার্ড সিজ করো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ধমক দিয়ে কথাগুলো বলেছেন সহকারী প্রক্টর ড. মো. মাহাবুবুল রহমান। তিনি ওই শিক্ষার্থীর দিকে তেড়েও যান। অবশ্য উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা এ সময় সামনে এসে দাঁড়ালে চুপসে যান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবার দুপুরে এমন ঘটনা ঘটে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত আবদুল্লাহ যখন অনশন করছিলেন তখন ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. মাহাবুবুল রহমান।

তিনি সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরমানুল হক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপনি এখানে এসে কথা বলার চাইতে আমরা চাইব ভিসি ও প্রক্টর এসে আমাদের সাথে কথা বলুন। কারণ আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অংশ হোল্ড করেন না।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ওই শিক্ষার্থীর এ কথা শুনেই রেগে যান ড. মাহাবুবুল। তিনি ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে তুই-তুকারি শুরু করেন। একইসঙ্গে চলতে থাকে ধমক। এক পর্যায়ে পাশে থাকা প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এর আইডি কার্ড সিজ করো।’

কর্তার এমন ‘নির্দেশনা’ পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের দুই সদস্য ওই শিক্ষার্থীকে দু’পাশ থেকে ধরে ফেলেন। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ড. মাহাবুবুল শান্ত হন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আরমানুল হক বলেন, ‘স্যার এসে হাসনাত ভাইয়ের অনশন ভাঙানোর ব্যাপারে বুঝানোর চেষ্টা করছিলেন। এরপর উঠে আমি স্যারকে বললাম- আপনি বিগার স্টেক হোল্ড করেন না। আপনি এখানকার বড় অংশীজন না। আপনি এখানে এসে কথা বলার চেয়ে আমরা বেশি চাইবো ভিসি ও প্রক্টর আসুন এখানে। ওনারা যদি আট দফা নিয়ে আশ্বাস দেন তাহলে ভাই অনশন ভাঙবেন।

'আমি ভিসি স্যার কেন বলিনি সেটার জন্য তিনি আমার ওপর রেগে গেছেন। আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন এবং আমাকে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে হেনস্তা করেছেন।’

আরমান বলেন, ‘বিশ্বের টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের তাদের পদবি দিয়ে সম্বোধন করা হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা কে স্যার ডাকলো বা না ডাকলো তা নিয়ে কেন ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগেন? একজন শিক্ষক যদি স্যার ডাকা না ডাকা নিয়ে এভাবে চিন্তা করেন তাহলে তা লজ্জার।’

এমন আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. মাহাবুবুল বলেন, ‘সন্তানকে কি একজন পিতা তুই-তুকারি করে বলতে পারে না? তুই সম্বোধন তো মানুষ আপনজনকেই করে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ডাক্তার বলেছে, আমাদের সন্তান হাসনাত খুব অসুস্থ। তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সহযোগিতা করছে না। একজন ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর বলছে। স্যারদের তো তারা সম্মান করবে! তারা তো আর বন্ধু না। আমরা যেখানে স্যার বলছি…। স্যার বলা তো অন্যায় কিছু না।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে হয়রানি বন্ধে ফের অবস্থান হাসনাতের
কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত নিল ঢাবির বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ
ঢাবি হলে ছাত্র তোলা নিয়ে ছাত্রলীগে হাতাহাতি
ছয় দাবিতে ঢাবি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম
ঢাবিতে আন্তর্জাতিক রুমি সম্মেলন শুরু

মন্তব্য

শিক্ষা
Allegations of vandalism against expelled SSC examinees

বহিষ্কার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ

বহিষ্কার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ
এসআই বদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের জানালা ভাঙচুর করার বিষয়টি নিশ্চিত হই। ওই স্কুলের দুইজন ছাত্রকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের হাত দিয়েই জানালার কাঁচ ভেঙেছে।’

ঢাকার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা নিজ স্কুলে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় তারা শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ধামরাই ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মোস্তফা হাদীউজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান এসব নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের অভিযোগে ধামরাইয়ের কুশুরিয়া ইউনিয়নের কুশুরা ইউনিয়নের নবযুগ কলেজ কেন্দ্রে ২ জন ও যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী এসব কেন্দ্রে গিয়ে তাদের বহিষ্কার করেন।

এ ঘটনার পর বহিষ্কার হওয়া ছাত্রসহ তিনজন ধামরাই ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে ভাঙচুর চালায় ও শিক্ষক হাদীউজ্জামানকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাদীউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। গতকাল (সোমবার) পরীক্ষা চলাকালে অসদাচরণের অভিযোগে আমার স্কুলের ছাত্র হযরত আলীকে বহিষ্কার করেন ইউএনও।

‘বিকেলে আমাকে ও অন্যান্য শিক্ষকদের দোষারোপ করে স্কুলে এসে ভাঙচুর চালায় হযরত আলী এবং তার দুই বন্ধু আবিদ হোসেন খান ও দেওয়ান আল আমিন। তারা আমাকে পাঞ্জাবি ধরে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত করে। আমিসহ অন্য শিক্ষকদের গালমন্দ করে। স্কুল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।’

এসআই বদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের জানালা ভাঙচুর করার বিষয়টি নিশ্চিত হই। ওই স্কুলের দুইজন ছাত্রকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের হাত দিয়েই জানালার কাঁচ ভেঙেছেন।

‘তারা দুজন সাভারের সুপার হাসপাতালে ভর্তি। মূলত শিক্ষকরা কেন বহিষ্কারের প্রতিবাদ করেনি এই ক্ষোভ থেকেই তারা এটি ঘটিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা বিষয়টি মিমাংসা করতে চাইছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা
এসএসসি-এইচএসসি আগামী বছর সব বিষয়ে
এসএসসি পরীক্ষার নিয়মভঙ্গ, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দুই কাউন্সিলরের হয়ে এসএসসি, মুচলেকায় ছাড়া পেল ২ কিশোর
৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা সেই ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি নোটিশ

মন্তব্য

শিক্ষা
Teachers angry over UNO expelling 21 examinees

২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা
শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, ‘এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত দরকার, সে যেই হোক। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এই ধরনের ব্যবহার আশা করা যায় না। তার পাওয়ার বা পদের সাথে বিহ্যাভিয়ারেরও একটা মিল থাকতে হবে।’

ঢাকার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুটি কেন্দ্রের ২১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী।

তবে এভাবে শিক্ষার্থীদের গণহারে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন শিক্ষকরা।

সোমবার ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় ধামরাই উপজেলার কুশুরিয়া ইউনিয়নের কুশুরা ইউনিয়নের নবযুগ কলেজ কেন্দ্রে ২ জন ও যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ বলেন, ‘একে অপরের খাতা দেখা ও নকল করাসহ পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’

সাভারের আশুলিয়ার আলহেরা রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থী যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা শুরুর পরপর আমাদের স্কুলের দুইটা বাচ্চার খাতা দেখে লেখার অপরাধে চারজনকেই এক্সপেল (বহিষ্কার) করে। একই কেন্দ্রে মোট ১৮-১৯ শিক্ষার্থীকে এক্সপেল করেন ইউএনও। পরে জানতে পারি, কুশুরাতেও দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা বাচ্চার একই সমস্যা। কেন্দ্রে দেখা গেছে বাচ্চারা একটু দেখাদেখি করে। এই অপরাধে এক্সপেল করা কোনোভাবেই সম্ভব না। এখন তার ক্ষমতা আছে, সে প্রয়োগ করছে। আমাদের আসলে কিছু বলার নাই।

‘একটা বাচ্চারও কোনো এভিডেন্স পায় নাই যে তারা নকল করছে। এখন এক বাচ্চার সাথে যদি আরেক বাচ্চার খাতা মিলায়, তাহলে তো সব বাচ্চাই বহিষ্কার হওয়ার কথা।’

তিনি বলেন, ‘এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত দরকার, সে যেই হোক। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এই ধরনের ব্যবহার আশা করা যায় না। তার পাওয়ার বা পদের সাথে বিহ্যাভিয়ারেরও একটা মিল থাকতে হবে।

‘বাচ্চারা যদি একজন আরেকজনের সাথে দেখাদেখি করে এটার জন্য ২০-২৫ মিনিট তাদের খাতা রাইখা দিতো। কিন্তু এক্সপেল করাটা কোনোভাবেই কাম্য না।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি দিতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে নিহত শিক্ষার্থী
৩ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন: যশোর বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ স্থগিত
ফুটবল নিয়ে মারামারি, পরীক্ষার্থীরা জঙ্গলে
কার দোষে পরীক্ষা দেয়া হল না জিনারুলের?
সময় শেষ না হতেই পরীক্ষার্থীদের খাতা তুললেন শিক্ষকরা

মন্তব্য

p
উপরে