× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Mahbubul Alam First Vice Chancellor of Bangabandhu Digital University
hear-news
player
print-icon

বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপ-উপাচার্য মাহবুবুল আলম

বঙ্গবন্ধু-ডিজিটাল-ইউনিভার্সিটির-প্রথম-উপ-উপাচার্য-মাহবুবুল-আলম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য মাহবুবুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা
উপ-ভাইস চ্যান্সেলর পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতা পাবেন। তিনি এই পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিতে (বিডিইউ) প্রথমবারের মতো উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের অধ্যাপক মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার।

নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব মোছা. রোকছানা বেগম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আইন, ২০১৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার, অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, তার এ নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত চাকরির বয়সপূর্তিতে মূল পদে প্রত্যাবর্তনপূর্বক অবসরগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়াদের বাকি অংশ পূর্ণ করবেন।

উপ-ভাইস চ্যান্সেলর পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতা পাবেন। তিনি এই পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Women can learn self sacrifice from Bangamata PM

বঙ্গমাতা থেকে নারীরা আত্মত্যাগের শিক্ষা নিতে পারেন: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গমাতা থেকে নারীরা আত্মত্যাগের শিক্ষা নিতে পারেন: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির পিতার পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন। সংসার, রাজনীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ ও মানুষের জন্য কীভাবে আত্মত্যাগ করতে হয় নারীরা তা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে এই আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি ‘বঙ্গমাতা: এ প্যারাগন অফ উইমেন লিডারশিপ অ্যান্ড ন্যাশন- বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনও উদ্বোধন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি মিসেস সেলিনা হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া হক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির পিতার পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন। সংসার, রাজনীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘বঙ্গবন্ধু রাজবন্দি থাকাকালে তিনি বিভিন্ন মামলা মোকাবিলা, সংসার দেখাশোনা এবং দলীয় কর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা করতেন। সংসারের কোনো ব্যাপারে তিনি বঙ্গবন্ধুকে বিরক্ত করতেন না। জেলখানা থেকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বার্তা সংগ্রহ করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।’

বঙ্গমাতার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের প্রতিটি পরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য অবদান রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেক সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিজেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে গর্ব অনুভব করি।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টার জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-বিষয়ক গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সম্মেলনের দুটি সেশনে চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন:
বিএ-এমএ করেই চাকরির পেছনে ছোটা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী
‘লুটেরা মন্ত্রীদের পদ্মা সেতু থেকে টুস করে ফেলে দেবে জনগণ’
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে লাভ অস্ত্র উৎপাদকদের, বিপন্ন সাধারণের জীবন
তিন মাসের রিজার্ভই যথেষ্ট: প্রধানমন্ত্রী
তারা বেশি জ্ঞানী বলে কিছু জিনিস ভুলে যান: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Fuel price hike protests on highways

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ মহাসড়কে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ মহাসড়কে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক তাসবিবুল গণি নিলয় বলেন, ‘সরকার জনগণের ভোগান্তি কমানোর বিপরীতে মন্ত্রী, আমলাদের পকেট গরমে কাজ করছে। দরিদ্র মানুষগুলো মূল্যবৃদ্ধির পর কীভাবে বাঁচবে তা সরকারের চিন্তার বিষয় নয়।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রোববার বেলা দেড়টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

এর আগে বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা।

মহাসড়কে সমাবেশ চলাকালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক তাসবিবুল গণি নিলয় বলেন, ‘সরকার জনগণের ভোগান্তি কমানোর বিপরীতে মন্ত্রী, আমলাদের পকেট গরম করার জন্য কাজ করছে। দরিদ্র মানুষগুলো মূল্যবৃদ্ধির পর কীভাবে বাঁচবে তা সরকারের চিন্তার বিষয় নয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, ‘সরকার জনগণের কথার কোনো তোয়াক্কা করছে না। এখন জনগণ কীভাবে বাড়তি খরচ মেটাবে। প্রতিমুহূর্তে সরকার আমাদের শোষণ কাঠামোর মধ্যে ফেলছে। এভাবে আমাদের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে। আমরা না খেয়ে মরব, আমাদের আমলারা বিদেশে আয়েশ করবেন।’

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচী বলেন, ‘দেশে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। দেশে উৎসবের মতো করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর পেছনে একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেয়া হচ্ছে।

‘কিন্তু আমরা সবকিছু সয়ে নিচ্ছি, দিন দিন মেরুদণ্ডহীন হয়ে যাচ্ছি। শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশ থেকেই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ আসা উচিত।’

দেশে জনগণের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চলছে বলে জানান নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অংশুমান রায়। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে যোগ হয়েছে, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। জনগণের কাছ থেকে টাকা বের করে নিতে ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার এটি করেছে। এখানে বৈশ্বিক পরিস্থিতির দোহায় দেয়া হচ্ছে।

‘জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারণে আমরা আজ সাময়িকভাবে রাস্তায় নেমেছি। আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, সারা দেশের শ্রমিক-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নামব।’

পরে বেলা ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
খুলনায় বিএনপির বিক্ষোভ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করলে হরতাল: সিপিবি
দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে: গোলাম মোয়াজ্জেম
‘ব্যক্তি খাতে তেল আমদানির অনুমতি দেয়া যেতে পারে’
জ্বালানির দাম সমন্বয়ের ফর্মুলা দরকার: ম. তামিম

মন্তব্য

শিক্ষা
7 Chhatra League workers temporarily expelled in the incident of beating in Jabi

জাবিতে মারধরের ঘটনায় ৭ ছাত্রলীগ কর্মী সাময়িক বহিষ্কার

জাবিতে মারধরের ঘটনায় ৭ ছাত্রলীগ কর্মী সাময়িক বহিষ্কার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: সংগৃহীত
সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- সাব্বির হোসেন সাগর, তোফায়েল আহমেদ গালিব, কামরুল হোসেন চৌধুরী, সৌরভ, খালিদ হাসান ধ্রুব, খালিদ সাইফুল্লাহ ও শাহরিয়ার হিমেল। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের কর্মী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মওলানা ভাসানী হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনায় মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের সাত কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর জানান, ‘মারধরের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডুকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরা, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাজউদ্দিন শিকদার এবং সদস্য সচিব প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার গৌতম কুমার বিশ্বাস। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাব্বির হোসেন সাগর ও তোফায়েল আহমেদ গালিব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কামরুল হোসেন চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের সৌরভ ও খালিদ হাসান ধ্রুব, মার্কেটিং বিভাগের খালিদ সাইফুল্লাহ এবং ইংরেজি বিভাগের শাহরিয়ার হিমেল। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের কর্মী।

গত বৃহস্পতিবার গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধর করেন মওলানা ভাসানী হল ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। এ ঘটনার জের ধরে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের সামনে মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগ কর্মী সজিব হাসান সাজকে মারধর করেন। এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সজিব।

আরও পড়ুন:
জাবির সিনেটে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়া নিয়ে হট্টগোল
জাবি শিক্ষককে কফিশপে ডেকে এনএসইউ শিক্ষার্থীদের মারধর
উন্নয়ন পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে
জাবিতে প্রথম নারী উপাচার্যের ৮ বছর
খাবারের দাম নিয়ে ভোগান্তিতে জাবি শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
In Chabi again the phone conversation of the recruitment business was leaked

চবিতে আবারও নিয়োগ বাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস

চবিতে আবারও নিয়োগ বাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২১ সালের ৩১ মে ও ১ জুন দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে নিম্নমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদারীপুরের রাকিব ফারাজী, সোহেল খান ও মাকসুদুল সালেহীনের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন মানিক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যের আরও দুটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।

চাকরি দেয়ার কথা বলে তিন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের নিম্নমান সহকারী মানিক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। মানিক নিজেকে 'সেকশন অফিসার' দাবি করে তাদের কাছ থেকে টাকাগুলো নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২১ সালের ৩১ মে ও ১ জুন দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে নিম্নমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদারীপুরের রাকিব ফারাজী, সোহেল খান ও মাকসুদুল সালেহীনের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন মানিক।

এ ঘটনায় মানিক চন্দ্র দাসকে টাকা ফেরতের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের একজন রাকিব ফারাজী। এ ছাড়া টাকা লেনদেনের ব্যাংক রিসিপ্ট কপি, চেক বইয়ের কপি, ফাঁস হওয়া কথোপকথনের দুটি ক্লিপ নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

রাকিব ফারাজীর লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মানিক চন্দ্র দাস রাকিব ফারাজী থেকে অফিস পিয়ন পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। চাকরি দিতে না পেরে আজ-কাল বলে টালবাহানা শেষে গত বছরে ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ একটি ২ লাখ টাকার চেক ও এ বছরের ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ আরেকটি দেড় লাখ টাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করেন।

চবিতে আবারও নিয়োগ বাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস

নোটিশে লেখা হয়, চেক দুটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় 'অপর্যাপ্ত তহবিলের' কারণে ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নিউজবাংলাকে লিগ্যাল নোটিশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নোটিশদাতার আইনজীবী ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট ইমরান হোসাইন সানি।

তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই মানিক চন্দ্র দাস লিগ্যাল নোটিশ গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রতারণা করে আমার মক্কেলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।’

ভুক্তভোগী রাকিব ফারাজী বলেন, ‘মানিক আমার কাছ থেকে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন তিনি টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করছেন। এ জন্য তাকে উকিল নোটিশও দিয়েছি।

লেনদেনসংক্রান্ত তিনটি চেকের দুটি ছবিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, রাকিব ফারাজীকে দুটি চেকে মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও সোহেল খানকে একটি চেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। সবগুলো চেক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মানিক চন্দ্র দাস (Ac no- ১১৫১০১১৪৭০৮১) চেক বই থেকে ইস্যু করা হয়েছে।

এ ছাড়া মানিক চন্দ্র দাসের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বেশ কয়েকটি কাস্টমার কপি নিউজবাংলার হাতে এসেছে। সেখানেও একই অ্যাকাউন্ট নম্বরে (১১৫১০১১৪৭০৮১) বিভিন্ন অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীদের একজন মাকসুদুল সালেহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানিক চন্দ্র চাকরি দেয়ার নাম করে আমি, সোহেল খান ও রাকিব ফারাজীর কাছ থেকে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। মানিক আমাদের কাছে সেকশন অফিসার হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন, যেটি মিথ্যা। তিনি বলেছিলেন ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরি হয়ে যাবে। টাকা নেয়ার জন্য মানিক টালবাহানা করে দফায় দফায় টাকা নিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ৫০ হাজার, ১ লাখ, নানা অজুহাতে মানিক টাকা নিয়েছেন।’

তিনি জানান, পরে চাকরি না হওয়ায় কৌশলে তিনটি চেক আমরা নিয়েছি। যার মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি দুটি ব্যাংকে ডিজঅনার হওয়ায় উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

চবিতে আবারও নিয়োগ বাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস

কীভাবে মানিককে খোঁজ পেলেন জানতে চাইলে বলেন, ‘তার স্ত্রী আমার পরিচিত। সেই সুবাদে মানিককে আমি চিনি।’

মাকসুদুল বলেন, ‘সে এখন নানাভাবে আমাদের ঘুরাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। আমরা তিনজন মিলেই টাকা দিয়েছি। বাকি দুজন আমার ছাত্র। আমি নিম্নমান সহকারী, বাকি দুজন পিয়ন পদে আবেদন করি।’

এর আগেও চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টার কয়েকটি ফোনালাপের ক্লিপ ফাঁস হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চবিতে ৪ বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত
চবিতে শাটল ট্রেনের চালককে ‘অপহরণ’
চবি ছাত্রলীগের কমিটি: ফটকে তালা পদবঞ্চিতদের 
চবি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ৫ জন রিমান্ডে
নির্ধারিত সময়েই শিক্ষার্থীদের ৪ দাবি মানল চবি

মন্তব্য

শিক্ষা
Fighting case between two groups of suspended committee of Jobi Chhatra League

জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির দুই গ্রুপে মারামারি, মামলা

জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির দুই গ্রুপে মারামারি, মামলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) স্থগিত ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের দুই গ্রুপে মারামারি হয়েছে। এতে সম্পাদক গ্রুপের কর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের আহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

শুক্রবার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন। নথি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।’

মামলায় ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির গ্রুপের কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওশের বিন আলম ডেভিড, একই শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের জাহিদুল ইসলাম হাসান ও পরিসংখ্যান বিভাগের অর্পন সাহা শান্তসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত নামে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান মুন বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ক্লাস শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে আসলে এক নম্বর আসামি নওশের বিন আলম ডেভিড জরুরি কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে নিয়ে যান। পরে সেখানে ডেভিড, জাহিদুল ইসলাম হাসানসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন মিলে ডেভিডের প্রেমিকার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলাকে কেন্দ্র করে অতর্কিতভাবে মুনের উপর হামলা করেন। পরে ওইদিন দুপুরে মুন তার বন্ধুদের নিয়ে কোতয়ালী থানার উদ্দেশে রওনা করলে আসামি ডেভিড, জাহিদুল ইসলাম ও অর্পন সাহা শান্তসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠিসোঠা নিয়ে পুনরায় মুনসহ তার বন্ধুদের উপর হামলা করে মারধর করে।

এছাড়া ওই দিনই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে ফের মেহেদী হাসান মুনের উপর অর্পন সাহা শান্তসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন মিলে হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহত মুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে গত ১ জুন জবি ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

আরও পড়ুন:
বাইক ওভারটেক নিয়ে দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ৫
বাইক ওভারটেক নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শাহবাগে তিন নেতার সমাধিতে মারামারি
বাড়ির সীমানা নিয়ে মারামারিতে একজন নিহত
ইফতারে খাবার কম হওয়ায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ৭

মন্তব্য

শিক্ষা
Tamanna does not use disabled quota

প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করেন না তামান্না

প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করেন না তামান্না গুচ্ছ ভর্তির পরীক্ষা দিচ্ছেন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার। ফাইল ছবি
তামান্না গুচ্ছভুক্ত ২২ সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষায় তামান্না ৪৮ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলেও ব্যবহার করেননি প্রতিবন্ধী কোটা।

এক পা দিয়ে লিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়ে প্রসংশা কুড়িয়েছিলেন যশোরের অদম্য মেধাবী তামান্না আক্তার। এমন সাফল্যে তাকে ফোন করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

এবার তামান্না গুচ্ছভুক্ত ২২ সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষায় তামান্না ৪৮ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলেও ব্যবহার করেননি প্রতিবন্ধী কোটা।

তার এমন সিদ্ধান্তে প্রশংসায় ভাসছেন তামান্না আক্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি আপলোড দিয়ে অনেকেই বলছেন, এটি সমাজের সমতার সুন্দর নিদর্শন।

তামান্না আক্তারের ইচ্ছা, তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তি হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তামান্না যদি প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষা দিতেন, তাহলে এই নম্বরেই তিনি যবিপ্রবিতে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেতেন। এই নম্বর নিয়ে তিনি ভর্তি হতে পারবেন কি না এখনও বলা যাচ্ছে না।

তবে আশা হারাচ্ছেন না অদম্য এই তরুণী তামান্না। দু-এক দিনের মধ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চয়েজ দেবেন, নির্বাচন করবেন যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিষয়টিকেই।

গত ৩০ জুলাই গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। ‘ক’ ইউনিটে এবার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

তামান্নার বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুর গ্রামে। তার বাবা রওশন আলী ঝিকরগাছা উপজেলার ছোট পৌদাউলিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তাদের তিন ছেলেমেয়ে। তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মুহিবুল্লা তাজ প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

অদম্য এই তরুণী শুধু একটি পা দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সবকটি পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। তার এই সাফল্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তারা দুই বোন তামান্নার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন। তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাও করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা।

মেধাতালিকায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় আনন্দিত তামান্না। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামান্না বলেন, ‘২২ সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় টিকেছি। আমি ৪৮ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় আছি। দুই-এক দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবজেক্ট চয়েজ দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পড়তে চাই। আমি এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিসিএস দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই।’

তামান্না আরও বলেন, ‘এর আগে সাধারণ কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি। অনেক বান্ধবী-শিক্ষক বলেছেন, প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে। কিন্তু আমি নিজের যোগ্যতা আর সবার দোয়ায় এই পর্যন্ত এসেছি। নিজের চেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাব বলে প্রত্যাশা করি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

তামান্নার বাবা রওশন আলী জানান, তামান্নার স্বপ্ন গবেষণাধর্মী কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি নেয়ার। স্বপ্ন পূরণে কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেও হয়নি কোটায় পরীক্ষা না দেয়ায়।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেছিলেন তামান্না প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করলে যেকোনো বিষয়ে চান্স হয়ে যেত। এবার সে যবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় আছে।’

রওশন আলী বলেন, ‘যবিপ্রবিতে চান্স হলে সেটা তামান্না আর আমাদের পরিবারের জন্য ভালো। কেননা সে পরিবার ছাড়া থাকতে পারবে না। সেই বিবেচনায় যবিপ্রবিতে ভর্তি হলে তার জন্য সুবিধা হবে।’

এ ছাড়া তার স্বল্প বেতনের চাকরি ও টিউশনিতে তামান্নাকে পরিবারের বাইরে রেখে পড়াশোনা করানো তার পক্ষে কঠিন বলেও জানান তিনি।

যবিপ্রবির সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ) আব্দুর রশিদ অর্ণব বলেন, ‘তামান্নার প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ নেয়নি। নিজের মেধার জোরে সে পড়াশোনা করতে চায়। তার এই অদম্য ছুটে চলা অবশ্যই প্রশংসিত।’

যশোরের শিক্ষাবিদ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে ও সরকারি চাকরিতে কোটা এখন প্রচলিত ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এটি ব্যবহার করে অনেক অযোগ্য লোক যোগ্য স্থানে যাচ্ছে। তার মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জন্মগতভাবেই দুই হাত ও এক পা-বিহীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তামান্না আক্তার। সে ইচ্ছা করলে প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করতে পারত। মেধার জোর দিয়ে সে অনেক দূর যেতে চায়। তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক প্রশসিংত।’

আরও পড়ুন:
তামান্নাকে এবার সমাজকল্যাণমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টে তামান্নার শিক্ষাবৃত্তির আবেদন
গোটা বাংলাদেশ তোমার সঙ্গে আছে: তামান্নাকে শিক্ষামন্ত্রী
তামান্নাকে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার ফোন 
উচ্চ মাধ্যমিকেও জিপিএ ফাইভ পেলেন নুরা

মন্তব্য

শিক্ষা
The demand for the resignation of the Provost is in Jabite

জাবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি

জাবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো শুনেছি। শিক্ষার্থীদের ফোন না ধরা ও নম্বর ব্লক করে দেয়ার বিষয় নিয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নাহিদ হকের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা।

হলের সামনে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো, নতুন ক্যান্টিন চালু করা, ডাইনিংয়ের খাবারের মান বাড়ানো, হল সংস্কারের নামে দীর্ঘ সূত্রিতার দ্রুত অবসান ও সংস্কার কাজে যথাযথ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা, নতুন নতুন নিয়মের নামে ছাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করা, হলগুলো পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা ও রিডিং রুম নির্মাণ করা।

অবস্থান কর্মসূচীতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বারবার মিথ্যা আশ্বাস দেয়ার পরেও হল প্রশাসন ক্যান্টিনের খাবারের নিম্নমানের কোনো সমাধান করছে না। কোনো সমস্যা সমাধানে প্রভোস্টকে বার বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেন না উল্টো ব্লক করে রাখেন শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর।’

এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রভোস্ট হলে ফিস্টের প্রোগ্রাম ছাড়া কখনও আসেন না। তিনি পুরুষ না নারী সেটাও তারা জানেন না। প্রভোস্টের কাছ থেকে একটি সিগনেচার নিতেও সপ্তাহের মতো সময় লাগে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে প্রভোস্টকে কখনও শিক্ষার্থীদের পাশে দেখিনি। তাকে কোনো সমস্যার কথা জানালেই বলেন লিখিত অভিযোগ দিতে কিন্তু পরে আর কোনো সমাধান হয় না।’

এই বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সমস্যার কথা শুনে হলে আসছি। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রভোস্ট ম্যাডামকে আসতে হবে। আমরা জেনেছি উনি অসুস্থ। কয়েকবার মোবাইলে কল দিয়ে প্রভোস্ট ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, উনি ফোন রিসিভ করেননি।’

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো শুনেছি। শিক্ষার্থীদের ফোন না ধরা ও নম্বর ব্লক করে দেয়ার বিষয় নিয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব৷ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে জানতে নওয়াব ফয়জুন্নেসার প্রভোস্ট অধ্যাপক নাহিদ হককে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন:
জাবির দুই ছাত্রীকে ‘যৌন হয়রানির চেষ্টা’ কর্মচারী গ্রেপ্তার
আত্মহত্যা মানতে নারাজ জাবি শিক্ষার্থীর বাবা
ছাদ থেকে পড়ে নয়, ‘আত্মহত্যা’ করেছেন জাবি শিক্ষার্থী
জাবির ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু ১৮ মে
নীরবে বাসভবন ছাড়লেন বিদায়ী উপাচার্য ফারজানা ইসলাম

মন্তব্য

p
উপরে