× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Admission test in Rabi Parents are worried about seat shortage in hotels
google_news print-icon

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা: হোটেলে সিট সংকটে ধুঁকছেন অভিভাবকরা

রাবিতে-ভর্তি-পরীক্ষা-হোটেলে-সিট-সংকটে-ধুঁকছেন-অভিভাবকরা
সজিব বলেন, ‘দুই দিন ধরে কোথাও কোনো সিট খুঁজে পাচ্ছি না। এক আত্মীয় এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসবে। সে জন্যই ২৫ তারিখের একটি হোটেলে সিট দরকার। কিন্তু রাজশাহীর কোথাও কোনো সিট নেই।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা জুলাইয়ের ২৫ তারিখ শুরু হবে। তিন দিন চলবে পরীক্ষা। এই সময়ে জেলায় আসবেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। এই আগমন ঘিরে শহরের আবাসিক হোটেলগুলো এখন হাউসফুল। কোনো হোটেলেই মিলছে না সিট। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভর্তিচ্ছুদের অভিভাবকরা।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার সজিব জয়সোয়াল তার এক আত্মীয়র জন্য দুই দিন ধরে আবাসিক হোটেলে একটি সিট খুঁজছেন। শহরের প্রায় অধিকাংশ হোটেলেই গেছেন তিনি। কিন্তু কোথাও সিট পাওয়া যাচ্ছে না।

সজিব বলেন, ‘দুই দিন ধরে কোথাও কোনো সিট খুঁজে পাচ্ছি না। এক আত্মীয় এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসবে। সে জন্যই ২৫ তারিখের একটি হোটেলে সিট দরকার। কিন্তু রাজশাহীর কোথাও কোনো সিট নেই।’

একই অবস্থা আশরাফুল ইসলামের। ঢাকা থেকে তারও এক আত্মীয় আসবে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে। তবে ২৬ তারিখের কোনো সিটই খুঁজে পাননি তিনি। বিভিন্ন এলাকায় তিনি খোঁজ নিয়েও আবাসিকে কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্যই এমন চাপ হয়েছে। কোনো আবাসিক হোটেলেই সিট নেই। ফলে আবাসন নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।’

শুধু আশরাফুল আর সজিবই নন, রাজশাহী শহরে এখন প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে বেড়াচ্ছেন হোটেল কিংবা অন্য কোনো আবাসিক ব্যবস্থার জন্য।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন চার শিফটে ১৮ হাজার করে মোট ৭২ হাজার ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী। এ বছর ৪ হাজার ২০টি আসনের বিপরীতে মোট আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৮টি।

নগরীর উপশহর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল ‘রাজশাহী ইন রেসিডেন্সিয়াল’। এই হোটেলেও নেই ওই সময়কার কোনো ফাঁকা সিটি। এক মাস আগেই অনেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছে।

হোটেলের ম্যানেজার শান্ত ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হোটেলে পরীক্ষার ওই কয়েক দিনের জন্য খুব চাপ আছে। কোনো রুম ফাঁকা নেই। আমার এখানে ৩২টি রুম আছে। বেশির ভাগ রুমই এক মাস আগে থেকেই বুকিং হয়ে আছে। ৮০ শতাংশ রুম ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। ২০ শতাংশ রুম ঈদের পরেই শেষ হয়েছে। এখন কোনো সিট ফাঁকা নেই।’

রাজশাহী আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান কবির বলেন, ‘প্রতি বছরই এই সময়টায় এ ধরনের সংকট তৈরি হয়। আমরা হোটেল মালিকরা এই সময়টায় বিব্রত হই, বিড়ম্বনাতেও পড়ি। কারণ চেনাজানা অনেকেই আছেন, যারা হোটেলে সিট চান। কিন্তু দেয়ার উপায় থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীতে সব মিলিয়ে ৫০টি আবাসিক হোটেল আছে। এগুলোতে আসনসংখ্যা মাত্র দুই হাজার। অথচ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সিটের চাহিদা থাকে ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘প্রতি বছরই ভর্তি পরীক্ষার সময় আবাসন নিয়ে বাড়তি চাপ হয়। এবারও হচ্ছে। আমাদের এ বিষয়ে বেশি কিছু করণীয় থাকে না। আমরা যে সুযোগটা দিই সেটা হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষার এই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কোনো ভর্তিচ্ছু থাকলে আমরা তাতে বাধা দিই না।

‘এখানকার আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের অনেকেরই আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ছোট ভাই, ছোট বোন হলে থেকে পরীক্ষা দিতে পারে। অন্য সময় আবাসিক শিক্ষার্থী ছাড়া কারও হলে থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার সময় আমরা এটির ছাড় দিয়ে থাকি। এবারও সেই সুযোগ কাজে লাগাবেন অনেকেই।’

আরও পড়ুন:
রাবিতে ছাত্রদলকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রলীগ
‘পারিবারিক নিয়ম চর্চায়’ রাবির ছাত্রী হলে প্রবেশের নতুন সময়
হল থেকে শিক্ষার্থীকে ‘বের করে দিল’ ছাত্রলীগ
অপরাধ করলে শাস্তি নিশ্চিত: অ্যাটর্নি জেনারেল
রায়ে সন্তুষ্ট, কার্যকরের অপেক্ষায় অধ্যাপক তাহেরের স্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Jabir mosque exonerated female imam at midnight

মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি

মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
জবি প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত ৬ মে রাত সাড়ে ১১টায়। ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি একজন সহকারী প্রক্টরকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। এসময় মসজিদের প্রধান ইমামকে ফোন দিলে তিনি ওই নারী শিক্ষার্থীকে কথা শিখিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলায়। তা আমি আবার ফোনের অপর পাশ থেকে শুনতে পাই।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মধ্যরাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মসজিদের ইমামকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চতর কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন মসজিদের ইমামকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত ৬ মে রাত সাড়ে ১১টায়। ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি একজন সহকারী প্রক্টরকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। এসময় মসজিদের প্রধান ইমামকে ফোন দিলে তিনি ওই নারী শিক্ষার্থীকে কথা শিখিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলায়। তা আমি আবার ফোনের অপর পাশ থেকে শুনতে পাই।’

তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী যখন ঘুমায় তখন মসজিদের লাইট জ্বালানো ছিল, কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর দেখে লাইট বন্ধ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তো ঘটতে পারত। সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ইমাম মেয়েটিকে দ্রুত হলে পাঠিয়ে দেয়। এখানে ইমামের দায়িত্বের অবহেলা ছিল। এজন্য তাকে নামাজ পড়ানো থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

‘তাকে প্রক্টর অফিসেও আসতে বলা হয়েছিল, কিন্তু এখনও তিনি যোগাযোগ করেননি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম ও খতিব মো. ছালাহ্ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিটিতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর খালিদ সাইফুল্লাহকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী, আইসিটি সেলের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এএনএম আসাদুজ্জামান ফকিরকে রাখা হয়েছে।

এর আগে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শ্রেণিকক্ষের সামনে কেন্দ্রীয় মসজিদের পেছনে শতবর্ষী একটি বড় আঁশফল গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে ইমাম মো. ছালাহ্ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে তিনি গভীর রাতে গাছটি কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা
জবির দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ

মন্তব্য

শিক্ষা
DU Teachers Associations strike program on Pratyaya Scheme issue

‘প্রত্যয় স্কিম’ ইস্যুতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

‘প্রত্যয় স্কিম’ ইস্যুতে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঢাবি শিক্ষক সমিতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কর্মসূচি নিয়েছে। তবে চলমান পরীক্ষাগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপনকে বৈষম্যমূলক দাবি করে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করা হবে।

সোমবার শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে চলমান পরীক্ষাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এর আগে ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই ও পরবর্তী সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন এটা তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এরপর থেকেই এই স্কিম থেকে পাবলিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
৮ মে থেকে ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে সমাবেশ
লিফট কিনতে ফিনল্যান্ড গেলেন ঢাবির উপ-উপাচার্যসহ চারজন
ঢাবির সুইমিংপুলে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: তদন্তে কমিটি
ঢাবির সুইমিংপুলে গোসলে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মন্তব্য

শিক্ষা
Professor Job succumbed to cancer

ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক

ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক ড. শিল্পী খানম। ফাইল ছবি
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মরণঘাতী ক্যানসারের সাথে লড়াই করে শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। 

বোনম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক অধ্যাপকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ওই অধ্যাপকের নাম ড. শিল্পী খানম।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মরণঘাতী ক্যানসারের সাথে লড়াই করে শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

অধ্যাপক ড. শিল্পী খানমের মৃত্যুর বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম।

অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আপার মৃত্যুর খবরটা আমি মাত্র তার পরিবারের সদস্যদের থেকে শুনেছি। শুনে আমার হাত পা কেঁপে উঠছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উনার চিকিৎসার জন্য টাকাও দিয়েছেন। সেটাও পৌঁছাতে পারলাম না। খুব খারাপ লাগছে। আমি আর কথা বলতে পারছি না।’

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘অধ্যাপক ডক্টর শিল্পী খানমের ক্যানসারে মৃত্যু আমাদের জানিয়ে গেল শিক্ষক হিসেবে কতটা অসহায় আমরা। ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে তার পরিবারকে বিচলিত হতে দেখা গেছে। শিক্ষকরা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে অর্থ সহায়তা করেছেন কিন্তু তারও একটা সীমাবদ্ধতা ছিল। আমাদের সহকর্মীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উনি আমাদের সহকর্মী ছিলেন। ওনার মরদেহ দেশের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে উনার চিকিৎসার খরচ, দেনাপাওনার বিষয়টি দেখা হবে।

তিনি আরও জানান, অধ্যাপক ড. শিল্পী খানমের প্রথম জানাযা সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

শোক প্রকাশ করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী নোমান বলেন, ম্যাম অনেক বন্ধুসুলভ ছিলেন। সবসময়ই শিক্ষার্থীদের আগলে রাখতেন। নিজের সন্তানের মতো করেই আমাদের আদর-স্নেহ করতেন। আমরা বিভাগের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিলে ম্যামের চিকিৎসার জন্য কিছু টাকাও জোগার করেছিলাম। সেই টাকা নিয়ে হাসপাতালে এসেই মৃত্যুর খবর শুনলাম। ওনার অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

তার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। তার গ্রামের বাড়ী মাদারীপুর জেলায়।

প্রায় আড়াই বছর আগে বোনম্যারো ক্যানসার ধরা পড়ে অধ্যাপক শিল্পী খানমের। এরপর দেশে কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে নেয়া হয় ভারতে। ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। তবে দিনে দিনে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। ক্যানসার পুরো রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘদিন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

মন্তব্য

শিক্ষা
Human chain on the job demanding individual pay scale of teachers

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন মানববন্ধনে শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুন্দর একটা স্কিম, কিন্তু একটি মহল অল্প কয়েকজন পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের আওতামুক্ত রেখেছে। এ ধরনের স্কিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। সর্বজনীন শব্দটার যথার্থ ব্যবহার হওয়া উচিত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। দাবি আদায়ে তীব্র আন্দোলন করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে শহিদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুন্দর একটা স্কিম, কিন্তু একটি মহল অল্প কয়েকজন পেশাজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের আওতামুক্ত রেখেছে। এ ধরনের স্কিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। সর্বজনীন শব্দটার যথার্থ ব্যবহার হওয়া উচিত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। দাবি আদায়ে তীব্র আন্দোলন করতে হবে।

মানববন্ধনে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম বলেন, ‘আমরা তো শিক্ষক মানুষ, কম বুঝি হয়তো! তাই আমাদের ওপর এ পেনশন স্কিম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্কিমে কন্ট্রিবিউট করলে পাবে, না হলে পেনশন পাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটাকে হেয় করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। দেশে কোনো সমস্যা না থাকলে, আমলারা সমস্যা সৃষ্টি করে। দেশ যখনই শান্তিতে চলে, তখনই আমলারা নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে।’

অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, ‘সরকার যে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে হলেও শিক্ষকদের দাবি মানা উচিত।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, ‘পেনশন স্কিমের উদ্যোগ যারা নিয়েছেন তারাই এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাহলে সর্বজনীন কীভাবে হলো? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জৌলুশ নষ্ট করার জন্য, সরকারকে ভুল বোঝানোর জন্য এই স্কিম তৈরি করা হয়েছে। আত্মমর্যাদা টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষক রাজনীতির কালার চয়েজ বাদ দিয়ে সব শিক্ষককে একসঙ্গে হতে হবে।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের উচিত দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস না নেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসব, কিন্তু ক্লাস নেব না।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে। কিন্তু এ প্রত্যয় স্কিমে মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকতে এ বৈষম্য কখনই আমরা মানব না।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বলেন, ‘শিক্ষকেরা সহজে কিছু পান না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, কোনো অযৌক্তিক কিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারত না। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ না থাকায় আমাদের ওপর এই স্কিম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। কঠোর আন্দোলন করতে হবে।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, ‘সর্বজনীন বলতে যা বুঝি, সেখানে হয়তো গরমিল আছে আমার বোঝার। একশ্রেণিকে বাদ দিয়ে কিছু অংশকে স্কিমের আওতায় আনা কীভাবে সর্বজনীন হয়। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, পেশাজীবীদের মধ্যে সর্বজনীনতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা করতে হবে। কালো প্রথা চালু করার আগে সরকারকে আরেকবার ভাবার অনুরোধ করছি।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বলেন, ‘প্রত্যয় স্কিমে বয়সসীমা ৬০ বছর দেয়া, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বয়সসীমা ৬৫ বছর। এখানে একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। তা ছাড়া আমলারা নিজেরা এই স্কিমের আওতাভুক্ত না হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংযুক্ত করে বড় বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। আমাদের দাবি মানা না হলে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাব।’

জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকার প্রথমে চালু করেছিল যারা পেনশন সুবিধা পান না তাদের জন্য, কিন্তু পরে কোনো এক কুচক্রীমহল এটা করেছে। পরবর্তী কর্মসূচিতে যাতে যাওয়া না লাগে, তার আগেই আশা করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে। প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের বাদ দিতে হবে।’

ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৮ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ ঘন্টার কর্মবিরতি এবং ৪ জুন সকাল ৮টা ৩০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন কর্তৃক ঘোষিত কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান শিক্ষক নেতারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরাসহ শিক্ষকরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আগের চারটি স্কিমের সঙ্গে ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামের একটি প্যাকেজ চালু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সব ধরনের স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পরবর্তী সময়ে যোগ দেয়া কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
Two DU students arrested and released on bail in robbery case

দস্যুতার মামলায় দুই ঢাবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, পরে জামিন

দস্যুতার মামলায় দুই ঢাবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, পরে জামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
নাফিজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়নের আর বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

মারধর করে প্রায় দুই লাখ টাকা ডাকাতির মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার তাদের আদালতে তোলা হলে জামিন পেয়েছেন তারা।

গত ২১ এপ্রিল মো. রুবেল নামের এক ব্যবসায়ী তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে এই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নিশান, রাসেল মিয়া ও রাফি। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব শেখ বলেন, ‘দস্যুতার মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী নাফিজ ফুয়াদ এবং মাহিদুর রহমান বাঁধনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।’

এই মামলায় সর্বমোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- জানতে চাইলে রাজিব শেখ বলেন, ‘মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটি আমি বলতে পারব না। কারণ এটি তদন্তাধীন মামলা।’

নাফিজ ফুয়াদ ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। মাহিদুর রহমান বাঁধন নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

এদের মধ্যে নাফিজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়নের আর বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শয়ন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আদালতের রায়ে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী মো. রুবেল লেখেন, ‘আমি গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় এক নম্বর আসামি নিশানের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। গত ১৫ এপ্রিল নিশান আমাকে দরকারি কথা আছে বলে শাহবাগ থানাধীন সুপার হোস্টেলে আসতে বলায় আমি সেখানে যাই। সেখানে তার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর খাবার খাওয়াবে বলে সে আমাকে নিচে নামালে রাসেল, রাফিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। ঈদের বন্ধ থাকার কারণে সেখানে খুব কম লোকের আনাগোনা ছিল।

‘তখন নিশান বাকী আসামিদের বলে, আমার কাছে অনেক টাকা আছে, ব্যাংক ব্যালেন্সও অনেক আছে। এরপর আমাকে মোবাইলের লক খুলতে বলা হলে আমি অস্বীকৃতি জানালে অজ্ঞাতনামা আসামিরা আমাকে খেলার মাঠে ফেলে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। প্রচণ্ড মারধরের কারণে আমি মোবাইলের খুলে দেই।

‘এরপর তারা আমার মোবাইলের সিটি ব্যাংকের অ্যাপ থেকে আমার বিকাশ অ্যাকাউন্টে পঞ্চাশ হাজার টাকা সেন্ডমানি করে সেখান থেকে তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে নিয়ে নেয়। পরে আমার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৯ হাজার ৯৩৫ টাকা, রকেট অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার ৬০০ টাকা এবং এটিএম কার্ডের পিন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা আসামিরা নিয়ে নেয়।’

এজাহারে ভুক্তভোগী রুবেল বলেন, ‘আসামিরা আামার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে খালি স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। এরপর রাত সাড়ে আটটায় আমার মানিব্যাগ থেকে আরও ৫ হাজার টাকা নিয়ে আমার এটিএম কার্ড, মোবাইল ফেরত দিয়ে আমাকে মাঠ থেকে বের করে দেয়া হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েছি। থানা থেকে এখনও আমরা মামলার কাগজপত্র পাইনি। পেলে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা: ড. ইউনূসের জামিন ৪ জুলাই পর্যন্ত
যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি মিঠু চেয়ারম্যান বরখাস্ত

মন্তব্য

শিক্ষা
DU lecturers are not promoted without 70 marks in training

‘প্রশিক্ষণে ৭০% নম্বর ছাড়া ঢাবি প্রভাষকদের পদোন্নতি নয়’

‘প্রশিক্ষণে ৭০% নম্বর ছাড়া ঢাবি প্রভাষকদের পদোন্নতি নয়’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আ স ম মাসুদ কামাল। ছবি: নিউজবাংলা
উপাচার্য বলেন, যারা আজ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছো, মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ো। কারণ এ দেশের মানুষের টাকায় তোমাদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। একবারই যেন প্রশিক্ষণ শেষ হয়। দ্বিতীয় বার যেন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন শিক্ষকদের প্রভাষক থেকে পরবর্তী পদোন্নতির জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং বাধ্যতামূলক ৭০ শতাংশ নম্বর না পেলে পদোন্নতি দেয়া হবে না। বছরে দুইবার এই প্রশিক্ষণ হবে বলে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রথম বারের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৪দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কমিটি (কিউএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ স ম মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-এর উদ্যোগে শুক্রবার সকালে কুমিল্লা বার্ডের ময়নামতি অডিটরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নবীন শিক্ষকদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, যারা আজ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছো, মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ো। কারণ এ দেশের মানুষের টাকায় তোমাদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। একবারই যেন প্রশিক্ষণ শেষ হয়। দ্বিতীয় বার যেন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য(সংস্কৃতি) প্রফেসর ড.শীতেষ চন্দ্র বাচার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা বার্ডের মহাপরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ সহ অনেকে।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. শবিতা রেজওয়ান রহমান। মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রফেসর ড. হাসিনা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

১৪দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি ডিপার্টমেন্ট থেকে ৫৮ নবীন শিক্ষক অংশ নেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
Four activists of Shabi Chhatra League were expelled from the hall due to the clash

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার

সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ফাইল ছবি
তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট স্থপতি কৌশিক সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছে। নিজ নিজ হলের পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো হলেও প্রবেশ করতে পারবে না।

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ও রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাতুল ইসলাম সিফাত, একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র মো. মাহফুজুল আলম, শাহপরাণ হলের আবাসিক ছাত্র ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল হাসান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবসিক ছাত্র ও বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাকিবুর রহমান।

তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এর মধ্যে সৈয়দ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রভোস্ট কৌশিক সাহা বলেন, ‘গত ১৩ মে অন্য হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের ভর্তি হওয়া ছাত্রদেরকে হল থেকে নামিয়ে দিতে চেয়েছিল। এর জেরে হলে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ওইদিন প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনার আমরা প্রাথমিক তদন্ত করি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার আরও তদন্তের জন্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাকিমকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, শাহপরাণ হলে গত ১৩ মে আনুমানিক রাত ১১টায় কতিপয় শিক্ষার্থীর মধ্যে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ৪ শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

শাহপারণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ মে মধ্যরাতে শাহপরাণ হলের ২২৩ নম্বর কক্ষের দলীয় তিন কর্মীকে হল থেকে নামিয়ে দিতে যান শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা শুভর ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী। তবে শাখাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের অনুসারীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটলে প্রক্টরিয়াল ও প্রভোস্ট বডি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা

মন্তব্য

p
উপরে