× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Coaching is not bad Education Minister
hear-news
player
print-icon

কোচিং খারাপ কিছু নয়: শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং-খারাপ-কিছু-নয়-শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীর মেধা এক রকম নয়, তাদের সবার ক্লাসে পড়া আত্মস্থ করার সক্ষমতাও সমান নয়। আবার সব শিক্ষার্থীর বাড়িতে দক্ষ, শিক্ষিত বাবা-মা আছেন বা তাদের সময় আছে, সেটাও সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়তেই পারে, তার একটু সহযোগিতার প্রয়োজন হতেই পারে।’

কোচিং বিষয়টা সারা পৃথিবীতে আছে। নানান বিষয়ে কোচিং দেয়া হচ্ছে। তাই কোচিং খারাপ কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে নানান বিষয়ে কোচিং দেয়া হচ্ছে। কোচিং খারাপ কিছু নয়। সব শিক্ষার্থীর মেধা এক রকম নয়, তাদের সবার ক্লাসে পড়া আত্মস্থ করার সক্ষমতাও সমান নয়। আবার সব শিক্ষার্থীর বাড়িতে দক্ষ, শিক্ষিত বাবা-মা আছেন বা তাদের সময় আছে, সেটাও সবার ক্ষেত্রে সমান নয়।

‘কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়তেই পারে, তার একটু সহযোগিতার প্রয়োজন হতেই পারে। আমরা চেষ্টা করব যতদূর সম্ভব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শিক্ষকরাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে রেমিডিয়াল ক্লাস, এক্সট্রা ক্লাস নেবেন। অভিভাবকদের সম্মতিতে একটা ছোট্ট ফি নিয়ে সেই ক্লাসগুলো পরিচালনা করা হবে।’

কোচিং খারাপ কিছু নয়: শিক্ষামন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিক্ষক যদি প্রাইভেটলি কোচিং করাতে চান, সেটি তিনি করতে পারবেন। তবে, কোচিংয়ে পড়লে নম্বর বেশি দেবেন, পরীক্ষায় পাস করাবেন, না পড়লে পাস করাবেন না; এমনটা অনৈতিক। সে জন্যই বলেছি, কোনো শিক্ষক তার নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না।’

এটা মনিটরিং কে করবে এমন প্রশ্নে দীপু মনি বলেন, ‘সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা এটা মনিটরিং করবেন। সঙ্গে সবার সচেতন প্রয়াস থাকতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির পরে বিশ্বজুড়ে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। মানুষ অনেক ধরনের টেনশন ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। সে কারণে মনোবিজ্ঞানীরাও বলছেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে মানুষ অসহিষ্ণু আচরণ করছে।

‘বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের মাঝে আচরণগত সমস্যা তৈরি হয়। এই বয়সে যারা করোনাকালীন ট্রমায় পড়েছে, তাদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা থেকেই যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, এই ঘটনাগুলো যেন না ঘটে। কিছু কিছু ঘটনা তাও ঘটে যাচ্ছে। আমরা চাই না শিক্ষকের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হোক। যেখানেই এমন ঘটনা ঘটছে, সেখানেই তদন্ত হচ্ছে, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ সব জায়গাতেই বাড়ছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেই করোনাকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করব। ৫-১১ বছর বয়সীদের রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই কার্যক্রম শেষ করে আমরা টিকা দেয়ার কাজ শুরু করব।’

শিক্ষা আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা আইন ক্যাবিনেটে গেছে, তারা এটি কবে ক্যাবিনেটে তুলবেন, সেটা তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না।’

আরও পড়ুন:
ধর্মীয় শিক্ষা ছিল, আছে, থাকবে: শিক্ষামন্ত্রী
সহশিক্ষা কার্যক্রম কর্মজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে : শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা-মূল্যায়ন দুটিই থাকবে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The UN does not have jurisdiction to investigate human rights who

মানবাধিকার তদন্তের এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই: কাদের

মানবাধিকার তদন্তের এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই: কাদের
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব মিশেল ব্যাচেলেটকে নিন্দা করতে বলেছেন। জাতিসংঘের অধীনেই তদন্ত কমিশন চেয়েছেন। এটা কোনোদিনই হয় না। কেননা এটা তার এখতিয়ারে নেই। ‘মির্জা ফখরুল সাহেব লেখাপড়া করেছেন, জাতিসংঘের এখতিয়ারটা জানেন না!’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই। সংস্থাটি কেবল পরামর্শ দিতে পারে, সুপারিশ করতে পারে, ব্যবস্থা নিতে বলতে পারে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনে বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব মিশেল ব্যাচেলেটকে নিন্দা করতে বলেছেন। জাতিসংঘের অধীনেই তদন্ত কমিশন চেয়েছেন। এটা কোনোদিনই হয় না। কেননা এটা তার এখতিয়ারে নেই। ‘মির্জা ফখরুল সাহেব লেখাপড়া করেছেন, জাতিসংঘের এখতিয়ারটা জানেন না!’

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফর করেন বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

সরকার খাদের কিনারায়- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ কথা শুনছি ১৩ বছর ধরে। আজ নয় কাল, রোজার ঈদের পর কোরবানি ঈদ। কোরবানি ঈদের পর পরীক্ষা, বন্যা- এভাবে তারা একটার পর একটা শুধু দিন-তারিখ দিয়েছে।

‘দেখতে দেখতে ১৩ বছর। এই সময়ে তারা একদিনও একটি আকর্ষণীয় মিছিল তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতে এই শহরে করতে পারেনি। তাদের নেতিবাচক রাজনীতি আন্দোলনেও ফেল, নির্বাচনেও ফেল।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শক্তি পরীক্ষা করবেন? বড় বড় কথা না বলে আগামী নির্বাচনে আসেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেখা যাবে জনপ্রিয়তা কার?’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

আরও পড়ুন:
তারা রাজপথে নতুন এসেছে, আমরা পুরোনো লোক: কাদের
হামলা হলে পুলিশ কি আঙুল চুষবে: কাদের
দেশ ছেড়ে পালানোর ইতিহাস বিএনপির: কাদের
মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের তুলনায় কম: কাদের
পাগলের প্রলাপ বকছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

মন্তব্য

শিক্ষা
Communal harmony should not be destroyed President

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বিনষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বিনষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছ‌েদ্য অংশ। সব ধর্মের মূল বাণী মানুষের কল্যাণ। আদিকাল থেকেই এ দেশে প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে।’

ধর্মীয় বা জাতিগত ভেদাভেদের অজুহাতে কেউ যাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুভ জন্মাষ্টমীতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এবং সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার, মনোরঞ্জন শীল গোপাল ও পংকজ দেবনাথ।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছ‌েদ্য অংশ। সব ধর্মের মূল বাণী মানুষের কল্যাণ। আদিকাল থেকেই এ দেশে প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনা মহামারি ও বিশ্বব্যাপী বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার পাশাপাশি নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে জন্মাষ্টমীর উৎসবে শামিল হতে পারে সেজন্য রাষ্ট্রপতি সবার প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় মামলাজট কমান, সুপ্রিম কোর্টকে রাষ্ট্রপতি
দুর্যোগে মানব কল্যাণে এগিয়ে আসুন: রাষ্ট্রপতি
মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিশনকে নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
ভারতের নতুন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়
বিচারকদের আরও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মন্তব্য

শিক্ষা
Look at Palestine Myanmar Minister of Information to the United Nations

ফিলিস্তিন-মিয়ানমারের দিকে নজর দিন: জাতিসংঘকে তথ্যমন্ত্রী

ফিলিস্তিন-মিয়ানমারের দিকে নজর দিন: জাতিসংঘকে তথ্যমন্ত্রী
‘ফিলিস্তিনে শিশুরা ইসরায়েলি সৈন্যের দিকে ঢিল ছুড়লে প্রত্যুত্তরে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ে তাদের হত্যা করা হয়। আর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশকে বাহবা দিলেই হবে না, মিয়ানমারে গিয়ে সেখানে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটা এসব দেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের নজর দেয়া উচিত।’

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানোর পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে ফিলিস্তিন-মিয়ানমারের দিকে নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনায় তিনি এই আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

সফরের শেষভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আসা অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানান ব্যাচেলেট। তিনি বলেন. ‘সব প্রকার বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনার ক্রমাগত অভিযোগ নিশ্চয়ই উদ্বেগের। বিশেষ করে এ ধরনের অভিযোগের যথযথ তদন্তের অগ্রগতির অভাব দেখা যায়। এসব অভিযোগ ন্যায়বিচারের অন্যতম বাধা ও দীর্ঘস্থায়ী হতাশার কারণ। আমি সরকারকে একটি মেকানিজম তৈরি করতে উৎসাহিত করেছি; যা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে ভিকটিম, পরিবার এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।’

জাতিসংঘ কমিশনারকে বাংলাদেশের বদলে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের দিকে তাকানোর অনুরোধ করেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ফিলিস্তিনে শিশুরা ইসরায়েলি সৈন্যের দিকে ঢিল ছুড়লে প্রত্যুত্তরে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ে তাদের হত্যা করা হয়। আর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশকে বাহবা দিলেই হবে না, মিয়ানমারে গিয়ে সেখানে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটা এসব দেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের নজর দেয়া উচিত।’

জাতিসংঘ কমিশনার সরকারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় আইন করতে বলেছেন।

এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এই আইন। আমাদের এ আইন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের বলব অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরে এ আইনের দিকে তাকাতে। সেখানকার আইনে আমাদের চেয়েও কঠিন ধারা আছে। আমাদের যে ধারাগুলো নিয়ে কথা হয়, ভারত ও পাকিস্তানেও একই রকম ধারা আছে।’

তিনি বলেন. ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রেমওয়ার্ক ল করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। সেটির আলোকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন করেছে। কই, সেগুলো নিয়ে তো কোনো কথা বলেন না। অনেক সময় আইন না পড়ে, না বুঝেও নানা ধরনের কথা বলা হয়।

‘হ্যাঁ, এই আইনের যাতে কোনো অপপ্রয়োগ না হয়, সে জন্য আমরা সতর্ক আছি, কেউ যাতে নিগৃহীত না হয় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

বিএনপিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দল আখ্যা দেন হাছান মাহমুদ। বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করেছিল, খুনিদের পুনর্বাসিত করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছিল।

‘আর ২০১৩-১৪-১৫ সালে তার রেখে যাওয়া দল বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত হরতাল-অবরোধের নামে শত শত নিরীহ মানুষকে পেট্রলবোমায় পুড়িয়ে মেরেছে।’

আরও পড়ুন:
কোনো দেশের পক্ষে এভাবে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না: তথ্যমন্ত্রী
‘সেপ্টেম্বরে মাঠে নামছে আ.লীগ, পালানোর পথ পাবে না বিএনপি’
ভোলায় প্রাণহানির দায় বিএনপির: তথ্যমন্ত্রী
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রধান কুশীলব জিয়া: তথ্যমন্ত্রী
সরকারকে ধাক্কা দিতে গিয়ে বিএনপিই পড়ে গেছে: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Will Bangladesh buy Russian diesel of Tk 35 per liter?

৩৫ টাকা লিটারের রুশ ডিজেল কি কিনবে বাংলাদেশ

৩৫ টাকা লিটারের রুশ ডিজেল কি কিনবে বাংলাদেশ রাশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি তেল কোম্পানি রোসনেফ্ট অয়েল বাংলাদেশকে সস্তায় ডিজেল বিক্রি প্রস্তাব দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ। কেননা বড় দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কিনতে সাহসী হলেও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য তা সহজ নয়।’

বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশকে অর্ধেকেরও কম দামে পরিশোধিত ডিজেল বিক্রির যে প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া, সেটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব-নিকাশ না করে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না বাংলাদেশ।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসনেফ্ট অয়েল রাশিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া প্রতি লিটার পরিশোধিত ডিজেলের দর দাঁড়াবে ৩৫ টাকার সামান্য বেশি। এর সঙ্গে সব কর ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও তা ৫০ টাকার কিছু বেশি হয়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়া বাংলাদেশের জন্য এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে লুফে নেয়ার মতো। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটিও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও ভাবতে বাধ্য করছে।

বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান অংশই যায় পশ্চিমে। কম দামে রুশ তেল কিনতে গিয়ে সেই রপ্তানিতে প্রভাব পড়ে কি না, সেটিই প্রধান দুশ্চিন্তা।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের কাছে পরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব পাঠায় রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও বিপণন কোম্পানিটি।

প্রস্তাবটি যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে সরকার। অচিরেই ঢাকায় আসছে রোসনেফ্ট প্রতিনিধি দল। ডিজেলের পাশাপাশি বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর সম্ভাব্যতাও যাচাই করতে চাইছে আরেকটি একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল। তারা চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা যাচাই এবং রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে করণীয় ঠিক করবেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একাধিক প্রস্তাব পেয়েছি। এ জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা প্রস্তাবগুলো যাচাই করছে।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন অফার পাচ্ছি এবং দামও তুলনামূলক কম। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ছাড়া আরও কিছু দেশের কাছ থেকে প্রস্তাব পাচ্ছি। এমনকি প্রাইভেট সেক্টর থেকেও প্রস্তাব আসছে। এর আগে আমরা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম আমাদের পরিশোধনের সক্ষমতা না থাকায়।’

৩৫ টাকা লিটারের রুশ ডিজেল কি কিনবে বাংলাদেশ
পেট্রল পাম্পে জ্বালানি নিচ্ছেন যানবাহন চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা

সরকার স্পষ্টত এই প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ার মুদ্রা রুবলে তেল কেনার আগ্রহের কথা বলেছেন। রাশিয়ার প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছেন তিনি।

রুশ কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে গত সপ্তাহেই ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে বৈঠক করে বিপিসি। বৈঠকে প্রস্তাবটি বিশ্লেষণের জন্য বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (কমার্শিয়াল অ্যান্ড অপারেশনস) মোস্তফা কুদরত এলাহীর নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়।

বিচার-বিশ্লেষণ কী নিয়ে

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘বিষয়টি ইউরোপ ও আমেরিকা কোন দৃষ্টিতে নেবে এটা একটা বড় বিবেচ্য বিষয়। তার কারণ আমাদের এক্সপোর্টের বড় মার্কেট ইউরোপ ও আমেরিকা। তার ওপর এটার প্রভাব পড়বে কি না, তা ভেবেচিন্তে এগোতে হবে।’

জ্বালানি পরামর্শক খন্দকার সালেক সুফী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোন মুদ্রায় কিনব? এর প্রতিক্রিয়া কী হবে? বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ দিন যত যাচ্ছে, জ্বালানি তেলের কারণে বৈদেশিক মুদ্রায় টান পড়ছে। সরাসরি যদি নাও কিনতে চাই, তাহলে যারা কিনছে তাদের কাছ থেকেও নেয়া যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়া থেকে তেল নিচ্ছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ম তামিম চাইছেন বাংলাদেশ রুশ তেল কিনুক।

তিনি বলেন, ‘খরচ কম পড়লে আমাদের অবশ্যই উচিত হবে পরিশোধিত তেল কেনা। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে যদি দাম কম হয় এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে মোট মূল্য যদি কম আসে, আমাদের অবশ্যই এই তেল কেনা উচিত।’

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত এত সহজে নেয়া যায় না। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই নেবে বাংলাদেশ। কেননা বড় দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কিনতে সাহসী হলেও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য তা সহজ নয়।’

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরও সাবধানতার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের বিরোধের মধ্যে সে দেশ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সেনসিটিভিটি মাথায় রাখতে হবে।’

৩৫ টাকা লিটারের রুশ ডিজেল কি কিনবে বাংলাদেশ

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ায় মুদ্রা রুবল খুব একটা পাওয়া যাবে না। চীনের মুদ্রা ইউয়ান কিনে তা দিয়ে তেলের দাম পরিশোধ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে ডিপ্লোম্যাটিক সেনসিটিভিটিকে (কূটনৈতিক সম্পর্কের স্পর্শকাতরতা)। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আমাদের রপ্তানির ৮০ শতাংশ বাজার। তাদের অসন্তুষ্ট করে কোনো কাজ করা যাবে না।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, রুশ প্রস্তাব বিশ্লেষণে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আলোচনা করছে।’

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা কাজ শুরু করেছি। এখনই বলার মতো কোনো আপডেট নেই।’

ঢাকায় আসছে রুশ দল

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, রুশ কোম্পানির এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য তাদেরকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা এলে কোন প্রক্রিয়ায় তেল আসবে, অর্থ পরিশোধ কীভাবে হবে, কোন ব্যাংক, কোন মুদ্রায় লেনদেন হবে, শর্ত কী হবে, ক্লিয়ারেন্স ফ্যাসিলিটিজ কী হবে, রুট, বন্দর, প্রক্রিয়া ইত্যাদি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। দাম নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে।

দাম কত পড়বে?

বিপিসির তথ্য বলছে, রুশ প্রতিষ্ঠান রোসনেফ্ট প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত ডিজেল ৫৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এই দরে তারা চট্টগ্রামে তেল পৌঁছে দেবে।

এক ব্যারেল সমান ১৫৯ লিটার। প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে সে ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পরিশোধিত ডিজেলের দর পড়ে ৩৫ টাকা ২৫ পয়সার কিছু বেশি।

প্রস্তাবিত দরের সঙ্গে ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার প্রিমিয়াম (জাহাজ ভাড়া, বিমা, লোড-আনলোড, ঝুঁকি ও ব্যাংক সুদ) এবং ৩৮ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স যুক্ত হবে। সে হিসাবে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে লিটারপ্রতি ডিজেলের দর দাঁড়াবে ৫০ টাকার কিছু বেশি।

সরকার জ্বালানি তেল আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করতে বলেছে। ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হলে প্রতি লিটার রুশ ডিজেলের দর ৫০ টাকার নিচে নেমে আসবে।

কত দরে তেল আনে বাংলাদেশ

বর্তমানে বিপিসি আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। দেশগুলো হলো কুয়েত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারত।

বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডিজেল আমদানি করতে ১২৫ ডলারের মতো খরচ পড়ছে। আর অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল আনতে খরচ পড়ছে ৯০ ডলার।

এই হিসাবে প্রতি লিটার ডিজেলের আমদানি ব্যয় পড়ছে ১২২ টাকা ১৩ পয়সা, যা বিক্রয়মূল্য ১১৪ টাকার চেয়ে ৮ টাকা বেশি।

বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬১ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর তিন-চতুর্থাংশই পরিশোধিত তেল। দেশে ব্যবহৃত তেলের ৭০ শতাংশের বেশি ডিজেল। দেশে ৫৫ লাখ টনের বেশি ডিজেল প্রয়োজন পড়ে। এর ৪৫ হাজার টনই আমদানি করা।

ভারত চীন নিচ্ছে রুশ তেল

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর অবরোধে পড়া রাশিয়া তার তেল বিক্রির ক্ষেত্রে দাম কমিয়ে পাল্টা চাল দিয়েছে।

এরপর বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ চীন ও ভারত এই তেলের বড় আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর দেশ দুটি ৩৫ শতাংশ ছাড়ে তেল কিনছে।

বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমারও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
লোডশেডিং বিদায় সেপ্টেম্বরে: প্রতিমন্ত্রী
মুসলিম লীগের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
পরিত্যক্ত ঘরে মিলল ৩ হাজার লিটার ডিজেল
কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণহীন
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শাবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস

মন্তব্য

শিক্ষা
The stock of fertilizer in the country is sufficient

দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত

দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত গাজীপুরের পুবাইলে জমিতে সার ছিটাচ্ছেন কৃষক। ফাইল ছবি
কৃষি মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের মজুত আছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের বর্তমান মজুত বেশি।

কৃষকদের চাহিদার বিপরীতে দেশে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়।

বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কৃষি মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের মজুত আছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের বর্তমান মজুত বেশি। গতবছর এই সময়ে ইউরিয়া সারের মজুত ছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ২ লাখ ২৭ হাজার টন ও ডিএপি ৫ লাখ ১৭ হাজার টন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারের বর্তমান মজুতের বিপরীতে আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ইউরিয়া ২ লাখ ৫১ হাজার টন, টিএসপি ৪৭ হাজার টন, ডিএপি ৮১ হাজার টন এবং এমওপি ৫২ হাজার টন।

কৃত্রিমভাবে যাতে কেউ সারের সংকট তৈরি করতে না পারে এবং দাম বেশি নিতে না পারে, সে বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিবিড় তদারকি করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রনালয় জানায়, বৃহস্পতিবার ইউরিয়া সারের মজুদ ১৬৭৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ৬৮৯ টন, ডিএপি ১৪০০ টন এবং এমওপি ৪৪৪ টন। বগুড়া জেলাতেও সব রকমের সারের মজুদ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

আরও পড়ুন:
সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ কৃষকদের
ক্রেতা ভেবে বললেন সার নেই, ধরা খেয়ে দিলেন জরিমানা
সার নিয়ে তেলেসমাতি, গুদাম রক্ষায় পুলিশ
মজুত সার জব্দ, গুদাম সিলগালা
সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না উৎপাদনে: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

শিক্ষা
Consider yourself a citizen of the country not a minority PM

সংখ্যালঘু নয়, নিজেকে দেশের নাগরিক ভাবুন: প্রধানমন্ত্রী

সংখ্যালঘু নয়, নিজেকে দেশের নাগরিক ভাবুন: প্রধানমন্ত্রী
শুভ জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই এখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। হিন্দু সম্প্রদায়, সনাতন সম্প্রদায় সবার উদ্দেশে বলব, আপনারা এ দেশের মানুষ। এই মাটিতে আপনাদের সমান অধিকার। আমার যতটুকু অধিকার, আপনারও ততটুকুই অধিকার।’

বাংলাদেশের মাটিতে নিজের যতটা অধিকার, ঠিক ততটাই অধিকার দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষের আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই নিজেদের সংখ্যালঘু না ভেবে দেশের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিয়ে চলতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেলে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির ও চট্টগ্রামের জে এম সেন হল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সংযুক্ত ছিলেন এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই এখানে সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিজের অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। হিন্দু সম্প্রদায়, সনাতন সম্প্রদায় সবার উদ্দেশে বলব, আপনারা এ দেশের মানুষ। এই মাটিতে আপনাদের সমান অধিকার। আমার যতটুকু অধিকার, আপনারও ততটুকুই অধিকার। এখানে সবার সমান অধিকার রয়েছে।

‘কাজেই আপনারা কখনও নিজেদেরকে সংখ্যালঘু বা এ রকম মনে করবেন না। আপনারা মনে করবেন এ দেশেরই নাগরিক। সমানভাবে নাগরিক অধিকার আপনারা ভোগ করবেন। আমরা সেভাবেই আপনাদেরকে দেখতে চাই।’

ট্রান্সজেন্ডারসহ দেশের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমনন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাবে, আমাদের সব মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। শুধু ধর্মীয় শ্রেণি না, আমাদের যেসব শ্রেণি অবহেলিত ছিল, আমি সরকারে আসার পর তাদের সবাইকে কিন্তু ধীরে ধীরে সমাজে তুলে নিয়ে আসছি।’

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এই স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষ কোনোদিনই মেনে নিতে পারেনি। আমরা আওয়ামী লীগ, আমরা সব সময় জাতির পিতার সেই চেতনায় বিশ্বাস করি এবং সব ধর্মের সমান অধিকার থাকবে।’

ধর্মীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়- বাংলাদেশে সব উৎসবে সবাই শামিল হয় জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের এই যে সুন্দর পরিবেশ, তা নষ্ট করতে অনেক চেষ্টা করা হয়। একেকটা শ্রেণি কিন্তু আছে। শুধু একটা ধর্মে নয়, সব ধর্মেই কিন্তু এ জাতীয় কিছু আছে; যারা মাঝে মাঝেই একেকটা সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করে।’

ধর্মীয়সহ যেকোনো ইস্যুতে যখনই কোনো ঘটনা ঘটে, সরকার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়ার পরও যেভাবে প্রচার করা হয়, তা নিয়ে আক্ষেপ করেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই কোনো ঘটনা ঘটে আমাদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে দুঃখের সঙ্গে বলছি, যখন একটা ঘটনা ঘটল, সেই ঘটনাটাকে দেশ-বিদেশে এমনভাবে প্রচার করা হয় যে মনে হয় এ দেশে হিন্দুদের কোনো অধিকারই নেই। এমন একটা ভাব দেয়া হয়।

‘কিন্তু ঘটনার পর আমাদের যে অ্যাকশনগুলো, সে যে ধর্মেরই হোক আমরা যে তাকে গ্রেপ্তার করি, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, সেই বিষয়টা কিন্তু তুলে ধরা হয় না। এমনকি মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের অনেক মুসলমানও কিন্তু পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। যেটা কুমিল্লায় ঘটেছিল। কিন্তু এই কথাগুলো বলা হয় না। সেখানে প্রচারটা এমনভাবে করা হয় যে মনে হবে হিন্দুরা এখানে ভীষণ খারাপ অবস্থায় আছে।’

মন্দির রক্ষায় আওয়ামী লীগ ও সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানব ধর্মে বিশ্বাস করি। শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু তাই চেয়েছিলেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন- এটাই ছিল তার লক্ষ্য। তিনিও কিন্তু এই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করতেন। ঠিক তেমনই আমাদের মহানবী (সা.) সব সময় সব ধর্মের সমানাধিকারের কথা বলেছেন। তিনি সেটা বিশ্বাস করতেন।’

পবিত্র কোরআন শরিফ থেকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যার যার ধর্ম সে সে পালন করবেন।’

সেই চেতনায় বিশ্বাসের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলা ঠিক না। কারণ এটা হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস। আমরা ‍যদি বিশ্বাস করি যে এই বিশ্বটা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে অবশ্যই এটা বিশ্বাস করতে হবে যে ধর্ম বর্ণ যা-ই থাকুক না কেন কার মধ্যে কী শক্তি আছে তা আমরা জানি না, সৃষ্টিকর্তা জানেন।

‘কাজেই আমরা সেখানে কাউকে ছোট করে দেখাব কেন? বা আমরা কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করব কেন? আমরা তার প্রতি কেন অবহেলা দেখাব?’

বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘সেই নীতিতে অন্তত আমরা বিশ্বাস করি না। অন্তত আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। সেটা আপনাদের স্পষ্ট বলতে পারি। আমাদের সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। সেই আশ্বাসটুকু আপনাদের দিতে পারি।’

আরও পড়ুন:
জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
খবরদার আন্দোলনকারীদের যেন গ্রেপ্তার করা না হয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেশি: ডিএমপি কমিশনার
ছুটির দিনে টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

শিক্ষা
BNP on Bachelets proposal for dialogue if Khaleda is released

খালেদাকে মুক্তি দিলে সংলাপ, ব্যাচেলেটের প্রস্তাবে বিএনপি

খালেদাকে মুক্তি দিলে সংলাপ, ব্যাচেলেটের প্রস্তাবে বিএনপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
ঢাকা সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ দেন। তবে ফখরুল বলেছেন, তাদের দলের নেত্রীকে মুক্তি দিলেই কেবল আলোচনায় বসা সম্ভব।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের পরামর্শ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি দাবি করেছে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যথায় রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের কোনো পরিবেশ নেই।

বুধবার খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা ।

আগের দিন ঢাকা সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ব্যাচেলেট অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা ও আগামী বছর হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কেও আমরা সরকারকে সব স্টেকহোল্ডার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের সঙ্গে বসে, সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকার পদত্যাগ না করবে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করবে, সংসদ বিলুপ্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না।’

খালেদা জিয়া এখন মুক্ত হলেও তার ১৭ বছরের সাজা রয়েছে, যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে স্থগিত আছে।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রীর পাঁচ বছরের সাজা হয়। একই বছর উচ্চ আদালত সেই সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর।

আবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালত অন্য একটি রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সাত বছরের সাজা দেয়। এই সাজার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেও তার মীমাংসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত হয়। এরপর তিনি বাসায় ফেরেন। এরপর আরও তিন দফা সাময়িক মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস করে বাড়ানো হয়, যেটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে।

‘ম্যাডাম ভালো আছেন’

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। বলেন, তার আবার হাসপাতালে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনও হয়নি।

সকাল থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে যে বিএনপি নেত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে যেকোনো সময় হাসপাতালে নেয়া হতে পারে।

ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম খুব ভালো আছেন। তার প্রতিটি টেস্টের রিপোর্ট ভালো। টেস্টে কোনো সমস্যা নেই। হাসপাতাল থেকে সবশেষ বাসায় আসার পর এমন কিছু হয়নি যে এই মুহূর্তে হাসপাতালে যেতে হবে। মূলত হচ্ছে অসুস্থতার মধ্যে তিনি সুস্থ আছেন। আপনারা কোথায় কী শুনেছেন, কীভাবে এটা ছড়ানো হলো বুঝতে পারলাম না।’

‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ভয়ংকর’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যেরও জবাব দেন ফখরুল।

‘যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছে, বেগম জিয়া সেই বুলেট আপনাকেও ছাড়েনি’- সড়কমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এটা তো ভয়ংকর কথা, এই বুলেটের কথা যদি তিনি বলে থাকেন তাহলে আমার সন্দেহ হয়, আমি জানি না-শুনিনি কিন্তু তাহলে বোঝা যাবে তিনি পুরোপুরিভাবে এই ধরনের একটি চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত আছেন।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে তারা রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চান, এবং জীবন থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত পরিকল্পনা রয়েছে কি না সেই প্রশ্ন নিশ্চয় আসে। এটা তাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। কারণ, তিনি দায়িত্বশীল সরকারের মন্ত্রী, এটা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। তিনি যদি বলে থাকেন যে আমি এটা বলিনি তাহলে তাকে এটা বলতে হবে। তিনি যদি বলে থাকেন তাহলে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’

মানবাধিকার ইস্যুতে বিএনপি যতগুলো অভিযোগ করেছে সবকিছু রাজনৈতিক বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘তারা তো এ কথা বলবেন, তারা কি এ কথা স্বীকার করবেন? তিনি তো স্বীকার করে নিয়েছেন। আমি তো টেলিভিশনে দেখলাম তিনি বক্তব্যে বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই গুম বা অপহরণ হয়ে যাওয়া বিষয়গুলোর বিচার করার। তার মানে এগুলো সংঘটিত হয়েছে এটা স্বীকার করছেন। নেত্রনিউজের প্রতিবেদনে আরও বেশি প্রমাণিত হয়েছে।

‘সরকারকে একটি আলাদা কমিশন গঠন করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা তদন্ত করার সুপারিশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। তাদের দেয়া বিবৃতিতে যা উঠে এসেছে সেটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, তার সত্যতা প্রমাণ হয়েছে। আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত চাই, জড়িতদের বিচার চাই।’

এ সময় বিএনপির মিডিয়া সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মানবাধিকার পরিস্থিতির তদন্ত চান ফখরুল
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল

মন্তব্য

p
উপরে