× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
There are 2618 educational institutions in MPO
hear-news
player
print-icon

এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এমপিওভুক্ত-হচ্ছে-২৭১৬-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষা ভবন। ফাইল ছবি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, ‘এ বছর নতুন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে। আজ দুপুরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

পৌনে তিন বছর পর এমপিওভুক্ত হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২ হাজার ৭১৬ বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বুধবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এ বছর নতুন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে। আজ দুপুরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

এমপিওভুক্ত দুই হাজার ৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় রয়েছে ২ হাজার ৫১টি। আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় আছে ৬৬৫টি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬৬টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ১২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০৯টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ১৮টি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল অথবা দাখিল ভোকেশনাল ৯৭টি, এসএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলোজি ২০০টি, ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার দুটি, দাখিল মাদ্রাসা ২৬৪টি, আলিম মাদ্রাসা ৮৫টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৬টি ও কামিল মাদ্রাসা ১১টি।

চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

এর আগে গত বছরের ৭ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই কমিটিকে সহায়তা করতে আরও চার সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটিকে সহায়তা করে ব্যানবেইসের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু তাহের খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়।

সবশেষ ২০১৯ সালে ২ হাজার ৬৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। এর আগে ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

গত অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেট বরাদ্দের যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে, তাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ কোটি টাকা।

দেশে এ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে এমন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৪৮টি। আর এমপিওভুক্ত হয়নি এখনও প্রায় ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য গত বছরের ২৯ মে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে এমপিওভুক্তির জন্য তিনটি শর্ত দেয়া হয়।

শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার—এই তিন বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ৩০, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ৩০ এবং পাসের হারে ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদের ওপর ২৫ নম্বর ছিল, যা সংশোধিত নীতিমালায় বাদ দেয়া হয়েছে।

২০২১ সালের নীতিমালায় কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম কতজন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, তা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ১২০ ও মফস্বলে ৯০, মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪২০ ও মফস্বলে ৩২০, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২২০ এবং ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে শহরে ৪৯০ ও মফস্বলে ৪২৫ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাসের হার স্তরভেদে ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।

[সংশোধনী: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুরুতে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বলা হয়েছিল ২ হাজার ৬১৬টি। প্রায় এক ঘণ্টা পর মন্ত্রণালয় সে সংখ্যাটি ২ হাজার ৭১৬ বলে জানায়।]

আরও পড়ুন:
শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জটিলতার অবসান হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী
এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা
করোনায় স্কুল ছেড়েছে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী
শিক্ষায় ‘বেড়াই খাচ্ছে ক্ষেত’
এমপিওভুক্তির তালিকা চূড়ান্ত, ঘোষণা আসছে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The body of the student was found after flogging in the madrasa

মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতের পর মিলল ছাত্রের মরদেহ

মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতের পর মিলল ছাত্রের মরদেহ
অভিযুক্ত শিক্ষক হোসাইন বলেন, ‘পড়া দিতে না পারায় তার হাতে ও ঊরুতে দুইবার বেত্রাঘাত করি। পরে দুপুরে নামাজ শেষে সে বাথরুমে যায়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাথরুম থেকে বের না হলে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে অন্য এক ছাত্র উঁকি দিয়ে দেখে সে গলায় ফাঁস দিয়ে পড়ে আছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে মাদ্রাসাশিক্ষকের পিটুনিতে ১২ বছর বয়সী ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

জেলা শহরের কাউতলীর ইব্রাহিমীয়া হাফিজিয়া কোরআন মাদ্রাসা থেকে রোববার দুপুরে মোহাম্মদ আলী নামে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আলীর বাড়ি কাউতলীতেই। তার বাবা কাউসার মিয়া জানান, আড়াই বছর আগে এই মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি ঘটনার সততা নিশ্চিত করেন।

তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, রোববার সকালে আলীকে মাদ্রাসায় দিয়ে যান তার বাবা। দুপুরে ছেলের জন্য খাবার নিয়ে এলে তার মরদেহ দেখতে পান মেঝেতে। বাবার চিৎকারে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন।

মোহাম্মদ আলীর চাচা মোস্তাক অভিযোগ করেন, শিক্ষক হোসাইন আহমেদের পিটুনির কারণে তার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলী হেফজখানায় পড়ছিল। কোরআন শরিফের অর্ধেক সে মুখস্থ করে ফেলেছিল। প্রতিদিনকার মতো আজও আলীর বাবা তাকে সকালে মাদ্রাসায় দিয়ে যায়। পড়া না পারায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে বাথরুমে আটকে রাখে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলী কোরআন শরিফের ২৬ পাড়া মুখস্থ করে ফেলেছিল...। কিছুদিন ধরে সে আধা পৃষ্ঠা পড়াও ঠিকভাবে দিতে পারছিল না। আজ সকালেও ঠিক এমনই হয়েছে।

‘পড়া দিতে না পারায় তার হাতে ও পায়ের ঊরুতে দুইবার বেত্রাঘাত করি। পরে দুপুরে নামাজ শেষে সে বাথরুমে যায়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাথরুম থেকে বের না হলে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে অন্য এক ছাত্র উঁকি দিয়ে দেখে সে গলায় ফাঁস দিয়ে পড়ে আছে। তাকে বাথরুম থেকে বের করি। এরই মধ্যে তার বাবা মাদ্রাসায় এসে ছেলের লাশ দেখতে পায়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হোসাইন আহমেদ বেত্রাঘাতের কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর আসল কারণ জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
বলাৎকারের মামলায় সহকারী শিক্ষক গ্রেপ্তার
সহকারীর জ্বালায় প্রধান শিক্ষক আসে আর যায়
শ্লীলতাহানির মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর
‘শিক্ষকের বেত্রাঘাতে’ মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

মন্তব্য

শিক্ষা
Allegation of torture by arresting Chhatra League worker

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আ‌লম বলেন, ‘রা‌ব্বি খান আমাদের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করে‌ছিলেন। তাকে বলা হয়ে‌ছি‌ল, পরীক্ষা থাকলে সেই সময় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে আমাদের‌ জানাতে। রোববার তার পরীক্ষা ছি‌ল কি না, সে বিষয়‌টি আমাদের জানায়‌নি।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে হোটেল কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির এক নেতার বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের অভিযোগ করা রাব্বি খান রাজ নামে ওই ছাত্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন।

রাব্বি জানান, রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি হোটেলে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে।

রাব্বি আরও জানান, তিনি বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী অমিত হাসান রক্তিম গ্রুপের কর্মী। প্রতিপক্ষ গ্রুপ বরিশাল সিটির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাতের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা হয়েছে। তবে মহিউদ্দিন অভিযোগ নাকচ করেছেন।

হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাব্বি বলেন, ‘রোববার ১২টায় আমার ক্লাস টেস্ট ছিল। প্রক্টরের আশ্বাসে আ‌মি ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে যাই। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দুপুর ১টার দিকে আ‌মি উপাচার্যের বাসভবনের ফটক থেকে নগরীতে আসার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় চার সন্ত্রাসী এসে আমাকে ধরে ফেলে। পেছনে আরও ১০-১২ জন ছিল। আমাকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের নাজেমস নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

‘সেখানে মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাত ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে অপেক্ষা করছিল। সে এক অনুসারীকে হলে তার কক্ষ থেকে দা নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়। সেটি আনা হলে মহিউদ্দীন নিজেই দায়ের কাঠের হাতল দিয়ে আমার বাঁ পায়ের হাঁটুতে এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচে পেটায়। তার সহযোগীরাও আমার মাথায় ও পিঠে কিল-ঘুষি মারে। এভাবে প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা আটকে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।’

রাব্বি জানান, প্রক্টর এ ঘটনার খবর পেয়ে মহিউদ্দীনকে কল দিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। তার পরও নির্যাতন চলতে থাকে। বেলা পৌনে ৩টার দিকে প্রক্টর খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

রাব্বির পক্ষে ছাত্রলীগ কর্মী অ‌মিত হাসান র‌ক্তিম বলেন, ‘বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সামনে নাজেমস ভবনে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী সিফাত ও তার দলবল ওই ভবনেই আড্ডা দেয়। তাদের সব অস্ত্র ওই ভবনেই থাকে। আমাদের চার ছাত্রলীগ কর্মী নিরাপত্তার আবেদন করেও এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

নির্যাতনের বিষয়ে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেয়া মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাত বলেন, ‘আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম এই ঘটনা। আর এই ধরনের কিছুই শু‌নি‌নি। আমার কোনো লোকজন এমনটা করলে জানতাম। যদি কেউ এই ধরনের অভিযোগ করে থাকে, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ব‌রিশ‌াল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আ‌লম জানান, গত ৭ আগস্ট তার ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘রা‌ব্বি খান আমাদের কাছে নিরাপত্তার জন‌্য আবেদন করে‌ছিলেন। তাকে বলা হয়ে‌ছি‌ল পরীক্ষা থাকলে সেই সময় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে আমাদের‌ জানাতে। রোববার তার পরীক্ষা ছি‌ল কি না, সে বিষয়‌টি আমাদের জানায়‌নি।

‘দুপু‌রের দিকে রা‌ব্বিকে বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সামনের এক‌টি বাসা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর সে জানায় শা‌রীরিকভাবে অসুস্থ এবং সে শহরে যেতে চায়। তারপর তাকে শহরে যাওয়ার ব‌্যবস্থা করে দেয়া হয়। তবে তা‌র সঙ্গে কী হয়ে‌ছি‌ল সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলে‌নি। আমরা বিষয়‌টি সম্প‌র্কে খোঁজ নেব এবং রা‌ব্বির সঙ্গে ফের কথা ব‌লব।’

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির সমাবেশে ‘ছাত্রলীগের’ হামলা
ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের অভিযোগ
অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গৃহবধূর ধর্ষণ মামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
Attempt to divert program protest under party banner BUET students

জাতীয় শোক দিবস পালনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যানার

জাতীয় শোক দিবস পালনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যানার বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় স্মরণসভা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে নতুন ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় স্মরণসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন এই ব্যানারের সংগঠকেরা। সেই সঙ্গে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে অবিচল থাকবেন।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে শনিবার আয়োজিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে ভিন্ন দিকে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমাদের গতকালের (শনিবার) কর্মসূচি কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানবিরোধী ছিল না। ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত।’

রোববার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেয়া শিক্ষার্থী তার পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। এ সময় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবরার ফাহাদ হত্যার পর রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া বুয়েটে শনিবার সভা করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন ছাত্রলীগের সাবেক একদল নেতা। এ ঘটনা নিয়েই পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এলেন শিক্ষার্থীরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমাদের কর্মসূচি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। এই অপপ্রচার আমাদের ভীত এবং একইসঙ্গে ব্যথিত করেছে।

‘আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন। তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় প্রয়োজন পড়ে না। বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠান নিয়মিত হয়ে আসছে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরেও শনিবার রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার দেখে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানান এবং কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নেন।

‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আমাদের নিরাপদ ক্যাম্পাসকে যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে গতকাল আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হই। বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি দেয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করা।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বুয়েটের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, বুয়েটের সব শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মন্তব্য

শিক্ষা
Teachers body recovered husband arrested

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যু: স্বামী মামুন পুলিশ হেফাজতে

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যু: স্বামী মামুন পুলিশ হেফাজতে শিক্ষিকা খাইরুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী মামুন হোসনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে আট মাস আগে বিয়ে করেন শিক্ষক খাইরুন নাহার। আজ (রোববার) সকালে ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনকে আটক করা হয়েছে।’

নাটোরে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের পর মামুনকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ‘কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে আট মাস আগে বিয়ে করেন শিক্ষক খাইরুন নাহার। আজ (রোববার) সকালে ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনকে আটক করা হয়েছে।’

৪২ বছর বয়সী খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ২২ বছরের মামুনের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে। তিনি নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাত তিনটার দিকে মামুন তাদের ডেকে বলেন, তার স্ত্রী খায়রুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় খায়রুনের মরদেহ দেখতে পায়।

এ ঘটনায় সন্দেহ হলে এলাকাবাসী মামুনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়।

বাসার কেয়ারটেকার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে মামুন বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনটার দিকে বাসায় ফিরে সবাইকে ডাকাডাকি করে বলেন, তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে সবাই ঘরে ঢুকে মেঝেতে মরদেহ শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।’

নাটোর মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর এক ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকতেন খায়রুন। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২০২১ সালের ২৪ জুন মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় খাইরুন নাহারের। পরিচয়ের ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে গোপনে তাকে বিয়ে করেন খায়রুন।

বিয়ের ছয় মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি জানাজানি হলে দেশ জুড়ে আলোচনায় আসেন এই দম্পতি।

বিয়ের পর খাইরুন নাহার জানিয়েছিলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সে সময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তখন ফেসবুকে মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয়। মামুন খারাপ সময়ে পাশে থেকে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন; নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাই পরে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

বিয়ের পর মামুন হোসেন বলেছিলেন, ‘মন্তব্য কখনও গন্তব্য ঠেকাতে পারে না। খাইরুনকে বিয়ে করে আমি খুশি ও সুখী। সবার দোয়ায় সারা জীবন এভাবেই থাকতে চাই।’

থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নারী চিকিৎসক হত্যায় রেজার স্বীকারোক্তি

মন্তব্য

শিক্ষা
Body of teacher married to college student recovered

কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে আট মাস আগে বিয়ে করেন শিক্ষক খাইরুন নাহার। আজ সকালে ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’ 

নাটোরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিয়ের আট মাস পর রোববার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ২২ বছর বয়সী মামুনের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে। তিনি নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ‘কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে আট মাস আগে বিয়ে করেন শিক্ষক খাইরুন নাহার। আজ (রোববার) সকালে ভাড়া বাসা থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাত তিনটার দিকে মামুন তাদের ডেকে বলেন, তার স্ত্রী খায়রুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় খায়রুনের মরদেহ দেখতে পান।

এ ঘটনায় সন্দেহ হলে এলাকাবাসী মামুনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়।

বাসার কেয়ারটেকার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে মামুন বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনটার দিকে বাসায় ফিরে সবাইকে ডাকাডাকি করে বলেন, তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে সবাই ঘরে ঢুকে মেঝেতে মরদেহ শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।’

নাটোর মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর এক ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকতেন খায়রুন। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২০২১ সালের ২৪ জুন মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় খাইরুন নাহারের। পরিচয়ের ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে গোপনে তাকে বিয়ে করেন খায়রুন।

বিয়ের ছয় মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি জানাজানি হলে দেশ জুড়ে আলোচনায় আসেন এই দম্পতি।

বিয়ের পর খাইরুন নাহার জানিয়েছিলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সে সময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তখন ফেসবুকে মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয়। মামুন খারাপ সময়ে পাশে থেকে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন; নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাই পরে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

বিয়ের পর মামুন হোসেন বলেছিলেন, ‘মন্তব্য কখনও গন্তব্য ঠেকাতে পারে না। খাইরুনকে বিয়ে করে আমি খুশি ও সুখী। সবার দোয়ায় সারা জীবন এভাবেই থাকতে চাই।’

থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’

আরও পড়ুন:
নারী চিকিৎসক হত্যায় রেজার স্বীকারোক্তি

মন্তব্য

শিক্ষা
Outsiders attack the polytechnic students block the road

ফেনী পলিটেকনিকে ‘বহিরাগতদের’ হামলা, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ফেনী পলিটেকনিকে ‘বহিরাগতদের’ হামলা, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করেন ফেনী পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। পুলিশ তাৎক্ষণিক এসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’ 

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষার্থীর ওপর বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

এর প্রতিবাদে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলিটেকনিকের সামনের সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

পরে পুলিশ ও শিক্ষকদের আশ্বাসে হোস্টেলে ফিরে যান তারা।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ গিয়ে দোষীদের বিচারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের হলে পাঠিয়ে দেয়।’

বিক্ষুব্ধ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শনিবার বিকেলে ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় শাহীন হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে বহিরাগতদের প্রায় ৩০ জনের একটি দল। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়।

হামলার শিকার পঞ্চম পর্বের শিক্ষার্থী মো. শাহীন জানান, বিকেলে শাহীন ও শাহাবউদ্দিন হোস্টেলের মাঝামাঝি অবস্থিত মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শাহীন বলেন, ‘এ সময় বহিরাগত দুজন ছেলে এসে তাদের খেলায় নিতে বলে। নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। তারা আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

‘পরে মাগরিবের নামাজের সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী মসজিদে চলে গেলে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল শাহীন হোস্টেলে ঢুকে আমাকে, দ্বীন ইসলাম ও শামীম নামের দুজন শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে ভবন থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে যায়।

‘আমাদের চিৎকারে অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কলেজের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।’

মামুনুর রশীদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই বহিরাগতদের হাতে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। বহিরাগতদের ব্যাপারে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না।

‘তারা স্থানীয় পরিচয়ে প্রায়ই কলেজে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করে। তাই হামলার ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু বিচার না হলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’

এ বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে কলেজের শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি।

‘ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে আমরা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের কোনো ধরনের অপরাধে ছাড় দেয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা কয়েকজন বহিরাগতের নাম দিয়েছেন। তাদের শনাক্তের চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
ফরিদপুরে সাংবাদিককে মারধর: গ্রেপ্তার মেয়রের ভাই
যে কারণে দিনাজপুর স্টেশনে উত্তেজনা
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার মামলা মাদ্রাসা অধ্যক্ষের
ডিবিসির সাংবাদিকের ওপর হামলা

মন্তব্য

শিক্ষা
Jabi student complains against stepmother for missing father

সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর

সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ মোল্লা নামে যাত্রাবাড়ীর এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সৎমার বিরুদ্ধে পিতাকে নির্যাতন ও গুম এবং পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিত সিয়াম।

সৎমা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাবিত সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে তার বাবাকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবিত সিয়াম লিখিত বক্তব্যে জানান, তার বাবা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব মো. সোলায়মান আলী তালুকদারকে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গুম করা হয়।

মাসুদ মোল্লা নামে যাত্রাবাড়ীর এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সংমার বিরুদ্ধে পিতাকে নির্যাতন ও গুম এবং পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সিয়াম বলেন, ‘মাসুদ আলম মোল্লা যাত্রাবাড়ীর একজন অসাধু প্রকৃতির লোক। তিনি বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট বন্ধকের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। কিছুদিন পর তিনি বাবার কাছ থেকে আরও ৩৭ লাখ টাকা ধার নেন। এরপর তিনি ওই ফ্ল্যাট বেদখল দেন।

‘বাবা টাকা ফেরত চাইলে মাসুদ মোল্লা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের একাউন্ট থেকে (চেক নং-এমসিই ১২২১৯৫৬) ১২ লাখ টাকা এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের একাউন্ট থেকে ১৭ লাখ টাকার (চেক নং-৭৪৯৩৫৬৭) দুটি ভুয়া চেক দেন।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ বিষয়ে বাবা ২০২০ সালের ৭ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করেন। আমার বড় ভাই সাকিব তালুকদার একই মাসের ২২ তারিখ আরেকটি জিডি করেন। আর এই দুঃসময়ে সৎমা মাহফুজা বেগম বাবাকে বাসা থেকে বের করে দেন। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আমি মিরপুরের বাসায় থাকতে শুরু করি। বাবা যখন বাসায় একা থাকতেন তখন সৎমা এসে তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এই পর্যায়ে বাবা মাহফুজা বেগমকে তালাক দেন।

‘তালাকপ্রাপ্ত হয়ে মাহফুজা বেগম কৌশলে সৎবোন ফারিয়া তালুকদারের মাধ্যমে বাবাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে নির্যাতন চালান। এরপর থেকে আমার বাবা নিখোঁজ। নিজেকে আড়াল করতে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর মাহফুজা বেগম ফতুল্লা থানায় জিডি করেন। বাবাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে থানায় মামলা করতে চাইলে আমাদেরকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন মাহফুজা বেগম।’

সংবাদ সম্মেলনে জবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে আমি মামলা করি। পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আমার বাবা পাগল হয়ে হারিয়ে গেছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন।

‘আমার বাবা একজন পঙ্গু মানুষ। করোনার সময়ে তিনি কী করে একাকী হারিয়ে যাবেন? সব ঘটনা শুনে, দেখে আমরা নিশ্চিত হই যে বাবাকে গুম করা হয়েছে। আমি বাবাকে ফেরত পেতে প্রশাসনের প্রতি জোর আরজি জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের
বিলবোর্ড পড়ে মাথা ফাটল জবি ছাত্রীর
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির জবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি
জবি নীল দলের সভাপতি জাকির, সম্পাদক নাফিস
জবিতে ৯ আগস্ট থেকে প্রতি মঙ্গলবার অনলাইনে ক্লাস

মন্তব্য

p
উপরে