× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

শিক্ষা
The duration of e registration in educational institutions has been extended
hear-news
player
print-icon

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে-ই-রেজিস্ট্রেশনের-মেয়াদ-বাড়ল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে অনলাইনে নতুন ই-রেজিস্ট্রেশন এবং প্রোফাইল হালনাগাদ করার জন্য ৩১ মে পর্যন্ত সময় ছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা আগামী ৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হলো।’

শিক্ষক নিয়োগে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রমের মেয়াদ আগামী ৭ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সদস্য (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীনের সই করা অফিস আদেশ থেকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে অনলাইনে নতুন ই-রেজিস্ট্রেশন এবং প্রোফাইল হালনাগাদ করার জন্য ৩১ মে পর্যন্ত সময় ছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা আগামী ৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হলো। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম করা না হলে পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইনে শিক্ষকের শূন্য পদের চাহিদা দেয়া সম্ভব হবে না।’

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ই-রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগের চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি আসছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
নবম শ্রেণির বাদ পড়াদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল
অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু
অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু ১ এপ্রিল
নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল
টিকার রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তিতে সিলেটের প্রবাসীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
My crime was that I did not accept his evil proposal

জবি ছাত্রলীগ নেত্রীকে নেতার ‘কুপ্রস্তাব’

জবি ছাত্রলীগ নেত্রীকে নেতার ‘কুপ্রস্তাব’ ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী ও আকতার হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত
‘আমার অপরাধ ছিল আমি তার কুপ্রস্তাব মেনে নেইনি। ভেঙে গেল ৭ বছরের ভাই-বোনের সম্পর্ক। একমাত্র ছাত্রী হলে ছাত্রলীগ থেকে ৩০০ মেয়ে সিট পেলেও আমাকে সে হলে উঠতে দেয়নি।’

সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের একই শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমার অপরাধ ছিল আমি তার কুপ্রস্তাব মেনে নেইনি। ভেঙে গেল ৭ বছরের ভাই-বোনের সম্পর্ক। একমাত্র ছাত্রী হলে ছাত্রলীগ থেকে ৩০০ মেয়ে সিট পেলেও আমাকে সে হলে উঠতে দেয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেয়ার পর শুক্রবার রাতে এই নেত্রী নিজের টাইমলাইনে এক পোস্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরেন।

ফৌজিয়া বলেন, ‘আমার জন্য তার অনেক বড় ভাইরা বললেও তিনি কানে তোলেননি। কারণ তার তো আর আমাকে কর্মী হিসেবে প্রয়োজন নেই। এখন তিনি নেতা, প্রয়োজন মেটাতে পারলেই কেবল প্রয়োজন বোধ করবেন। বাংলাদেশের এমন কোনো হল আছে কি যেখানে কোনো গেস্ট গিয়ে একদিন থাকতে পারে না? কিন্তু এই আমি প্রিয়ন্তী হলে একদিন গিয়েছিলাম দেখতে যে হলে থাকার কেমন অনুভূতি। কিন্তু এই আকতার জানতে পেরে প্রভোস্ট ম্যামকে চাপ দিয়ে সেই রাতেই আমাকে হল থেকে বের হতে বাধ্য করে।’

‘আমার কি অপরাধ ছিল? ১৪ সাল থেকে প্রতিদিন আট-দশ ঘন্টা ইভেন আরও বেশি পরিশ্রম করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কমিটিতে এসেছি। আমাকে হলে উঠতে দেওয়া হয়নি। এর পেছনের প্রধান কারণ হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার। আমার দীর্ঘ আরাধ্য ও প্রতীক্ষার হল থেকে, আমার প্রাপ্য অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে।’

প্রিয়ন্তী ফেসবুকে আরও লিখেন, ‘দীর্ঘ ৭ বছর তার পিছনে হেঁটেছি। আপনি তার কয় দিনের কর্মী সেটা আগে ভাবুন। আমার মাদারীপুরের তিনজন ক্যান্ডিডেট ছিল। কিন্তু তার মধ্যে থেকে তাকে বেছে নিয়েছিলাম নেতা হিসেবে। তার জন্য কত কিছু করছি যা লিখে বলা সম্ভব না। আল্লাহ মনের আশা পূরণ করলেন, কিন্তু তারপর থেকে আকতার ভাইয়ের আসল রূপ বের হতে থাকলো।

‘লেখক দাদার বাসা থেকে যেদিন ফুল দিয়ে নিচে নামলাম তার সাথে, সেদিন সকল পোস্টেড নেতার সামনে বসে আমাকে আর জিনিয়া আফ্রিনকে উদ্দেশ করে বলল- কোন হাইকমান্ডের ফোনে সে হল কমিটি দিবে না; দরকার হয় সে সাবেক হয়ে যাবে। সে নেতা হয়ে গেছে। তার নামের আগে সাবেক লেখা থাকবে তার সমস্যা নেই। আগে তার কর্মী হতে হবে, তাকে নেতা মেনে ধারণ করতে হবে। তবেই সেই হলের নেত্রী বানাবে। আমরা অবাক হয়ে রইলাম। হলের কথা কই থেকে আসলো? নেতা হল ১০ দিন মাত্র তখন। সেদিনের পর থেকে তার বিভিন্ন আবদার রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার সাথে আমার দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনীতিকে সে মুহুর্তেই অস্বীকার করেছে।’

এ বিষয়ে ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী নিউজবাংলাকে বলেন, কুপ্রস্তাব বলতে বুঝাতে চেয়েছি, তাঁর মতো করে চলতে হবে। সে যেখানে যেতে বলবে সেখানে যেতে হবে, যা করতে বলবে তা করতে হবে। আমি তো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম কোনো কিছুই বাদ দিতাম না। কিন্তু এর বাইরে সে কী বুঝাইছে আশা করি আপনাদের এটা আর ডিটেইলস-এ বলতে হবে না।’

এদিকে এ পোস্ট দেয়ার পর থেকে চাপের মুখে পড়েছেন বলে জানান এই নেত্রী। বলেন, ‘পোস্ট দেওয়ার পর আকতার হোসাইন আমাকে কল দিয়ে বলেন- যা করলি অনেক ভালো করলি। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি আমার সঙ্গে অন্যায় করেননি? তখন তিনি বলেন- হ্যাঁ, আমি অন্যায় করেছি। কিন্তু তুই এটা এ সময়ে তুলে না ধরলেও পারতি।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনকে কল দেয়া হলেও তিনি সংযোগ কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের ৫০ লাখ টাকা বৃত্তি দিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জবিতে খাবারের দাম কমানো ও অঙ্কনের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি
ডিএসসিসির খোঁড়াখুঁড়িতে ভাঙল জবির প্রাচীর, সংস্কারে নেই উদ্যোগ
শিশুকে কোলে তুলে নিলেন শিক্ষক, পরীক্ষা দিলেন মা
ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের মশাল মিছিল

মন্তব্য

শিক্ষা
The results of DU C unit are on Sunday

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল আজ

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্য নির্ধারিত এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ৯৩০টি। এর বিপরীতে ৩০ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রতিটি আসনের বিপরীতে ৩৩ শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে বাণিজ্য অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল রোববার প্রকাশ করা হবে।

শনিবার বিকেলে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবেন।

গত ২ জুন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সাতটি বিভাগীয় শহরে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্য নির্ধারিত এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ৯৩০টি। এর বিপরীতে ৩০ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রতিটি আসনের বিপরীতে ৩৩ শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে ফেল ৯০ শতাংশ
ঢাবিতে বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভা
ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হলছাড়া করার অভিযোগ
‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়া নিয়ে ঢাবি সিনেটে হট্টগোল
ঢাবির ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস

মন্তব্য

শিক্ষা
Mobile is banned in all educational institutions in Narail

নড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধ

নড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধ
শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিতর্কিত পোস্টের কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল বন্ধের দাবি উঠেছে। তাই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের জেরে ব্যাপক সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় সমালোচনা চলছে সারা দেশে।

এ ঘটনার পর জেলায় সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা এসেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা মঙ্গলবার জারি করেন।

ওই নির্দেশনার কপি বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা হাতে পেয়েছেন। তবে ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার রাতে।

ওই নির্দেশনায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল আনতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্দেশনাটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের তৎপর থাকতে এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে তা নিয়ে নেয়াসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষেধ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা গোপনে মোবাইল আনছে এবং ভালো-মন্দ বিবেচনা না করে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত পোস্ট, লাইক ও শেয়ার নিয়ে বিব্রতকর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ঈদের ছুটির পর নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।


নড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধ


শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিতর্কিত পোস্টের কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল বন্ধের দাবি উঠেছে। তাই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন দিনভর নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে।

গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

এরপর পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি।

শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্থ হওয়ার ঘটনায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: চারজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
উৎপলের কলেজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
শিক্ষক হত্যা: জিতু ৫ দিনের রিমান্ডে
শিক্ষক নির্যাতন বন্ধ না হলে আন্দোলনের ঘোষণা

মন্তব্য

শিক্ষা
Chhatra League broke Laguna without getting 15 lakh rupees

দেড় লাখ টাকা ‘হাত খরচ’ না পেয়ে লেগুনা ভেঙেছে ছাত্রলীগ!

দেড় লাখ টাকা ‘হাত খরচ’ না পেয়ে লেগুনা ভেঙেছে ছাত্রলীগ! ভাঙচুর করা হয়েছে এই লেগুনা। ছবি: নিউজবাংলা
লেগুনা মালিক রফিক বলেন, ‘এর মধ্যে আবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরাও ডিস্টার্ব করা শুরু করছেন। তাদের সামনেই আমাদের গাড়িগুলো চলে। তারা বলেছেন, তাদের কলেজের পাশ থেকে ভার্সিটির পোলাপান গাড়ি খেদিয়ে দেবে সেটি তারা হতে দেবেন না। তবে তাদের দাবি ছিল, আমরা যেন তাদের দেখি। আমরা বলেছি, আপনারা ভার্সিটির ঝামেলাটা বন্ধ করতে পারলে আমরা আপনাদের দেখব। কিন্তু তারা এটি বন্ধ করতে পারেনি।’

হাত খরচের জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা চেয়ে না পেয়ে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে কয়েক দফা লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

লেগুনা মালিক সমিতির একজন সদস্য এবং নীলক্ষেত লেগুনা স্ট্যান্ডের সুপারভাইজার নিউজবাংলার কাছে এ অভিযোগ করেছেন শুক্রবার। অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তায় কয়েক দফায় সাতটি লেগুনা ভাঙচুর, চালকদের মারধর এবং নীলক্ষেত স্ট্যান্ডে লেগুনা দাঁড়াতে দেননি ছাত্রলীগের নেতারা।

সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে ১০-১২ তরুণ লাঠিসোঁটা নিয়ে চারটি লেগুনায় ভাঙচুর চালান এবং চালকদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা নিয়ে চলে যান বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। নীলক্ষেত থেকে এসব লেগুনা মূলত চকবাজার, খোলামোড়া এবং গুলিস্তান যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ১০-১২ দিন আগে সন্ধ্যায় এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোনেম শাহরিয়ার মুন হলের পাশে একটি চায়ের দোকানে লেগুনা মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকে চায়ের দাওয়াত দেন। এ দিনই মূলত তারা দেড় লাখ টাকা হাত খরচ দাবি করেন।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির সদস্য রফিক। নীলক্ষেত থেকে চকবাজার রোডে তার দুটি লেগুনা রয়েছ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বসার পর হল ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা এখন নতুন কমিটি পাইছি। আমাদের কিছু হাত খরচ দিয়েন।

‘এরপর আমাদের একজন বলেন, কত দিতে হবে ভেঙে বলেন। তখন রিয়াজ ভাই বলেন, দেড় লাখ টাকা দিয়েন। এই কথা শুনে আমাদের সবাই উঠে চলে আসছি। তাদের প্রোগ্রাম থাকায় তারাও চলে যায়। এই ঘটনার চার-পাঁচ দিন তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। তারাও কোনো ঝামেলা করেনি।’

লেগুনা মালিক রফিক আরও বলেন, ‘চার-পাঁচদিন পর এসে তারা গাড়ি ভাঙচুর এবং চালকদের মারধর করা শুরু করেন। স্ট্যান্ডে কোনো গাড়িই তারা রাখতে দেন না।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৫ তারিখ রিয়াজ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে তাদের সঙ্গে বসতে বলেন। বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বসার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ না বসায় তারা শুক্রবার ফের ভাঙচুর চালান। গত এক সপ্তাহে তিন দফায় তারা আমাদের সাতটি লেগুনা ভাঙচুর করেছেন।’

এই লেগুনা মালিক বলেন, ‘এর মধ্যে আবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরাও ডিস্টার্ব করা শুরু করছেন। তাদের সামনেই আমাদের গাড়িগুলো চলে। চার-পাঁচ দিন আগে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমি এবং খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই বসেছি।

‘সে সময় তারা বলেছেন, তাদের কলেজের পাশ থেকে ভার্সিটির পোলাপান গাড়ি খেদিয়ে দেবে সেটি তারা হতে দেবেন না। ছাত্রলীগ সভাপতি জয় আল নাহিয়ান খান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তারা এই ঝামেলা মিটিয়ে দেবেন বলে বলেছিলেন। তবে তাদের দাবি ছিল, আমরা যেন তাদের দেখি। আমরা বলেছি, আপনারা ভার্সিটির ঝামেলাটা বন্ধ করতে পারলে আমরা আপনাদের দেখব। কিন্তু তারা এটি বন্ধ করতে পারেনি।’

এ সব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘শুনেছি, মালিক সমিতির পক্ষ হয়ে খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই এবং ইকবাল ভাই লালবাগ থানার ওসি স্যারকে জানাইছে। এখন বাকিটা জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি প্রতিবারই কল কেটে দেন।

সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। এই ঘটনার সঙ্গে হল ছাত্রলীগ জড়িত নয়। লেগুনা মালিকদের সঙ্গে আমরা কখনো বসিইনি। এই লেগুনা মালিকদের আমরা চিনিও না। কোনো দিন দেখিনি। কথাও হয়নি।’

লেগুনা মালিক সমিতির সঙ্গে বসেছেন কি না- এমন প্রশ্নে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি বলেন, ‘আমরা তাদের ডাকিওনি আর বসিওনি।’

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকলিমা প্রভাতীও বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সার্বিক বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত
‘ছাত্রলীগের বানানো বখাটেরাই শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে’
‘হল আমরা লিজ নিছি’: চবির ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ

মন্তব্য

শিক্ষা
There are many reasons behind the suspension of the Jagannath Committee of Chhatra League

ছাত্রলীগের জগন্নাথ কমিটি স্থগিতের নেপথ্যে কারণ বহু

ছাত্রলীগের জগন্নাথ কমিটি স্থগিতের নেপথ্যে কারণ বহু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিউজবাংলাকে বলেছেন ‘নেতা হয়ে নষ্টামি করার কারণে কমিটি স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া পদে থাকা আরও দুইজন নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়ির ড্রাইভারকে মারার অপরাধে এবং ইসলামপুরে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিচারে গিয়ে সিদ্ধান্ত না মানায় এক ব্যবসায়ীকে নাকি তুলে নিয়ে এসেছিলেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কারণ উল্লেখ নেই। তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত?

তাৎক্ষণিকভাবে চাউর হয়, সংগঠনের নেতারা জানালেন, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষারের ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধরের ঘটনাই এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ। সংগঠনের নেতারা জানালেন, এটি প্রধান কারণ বটে, তবে একমাত্র কারণ নয়। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজির বিষয়ও আছে।

শুক্রবার ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।’

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতর কোনো কারণ বর্ণনা করা হয়নি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলের গাড়ি চালককে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের লোকজনই মারধর করেছে। তাই আপাতত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত রোববার ওয়ারীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়িচালককে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। সোমবার সন্ধ্যায় ওয়ারী থানায় কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে মামলা করেন ভুক্তভোগী চালক নজরুল ইসলাম।

এর মধ্যে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মীদের দিয়ে চাঁদাবাজির করার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ বের হয়েছে।

এটিও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্তের একটি কারণ বলে জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আরেক সহসভাপতি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ইব্রাহীম ও আকতারকে সভাপতি-সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকায় লুকিয়ে তারা বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিসিটিভির ফুটেজ তো সবার কাছেই আছে।’

ফুটেজে দেখা যায়, জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতির কর্মী সাইদুল ইসলাম সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের কর্মী মো. মাসুদ রানা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢুকেছেন।

পরে প্রকাশ হয় তারা প্রতি মাসে চাঁদা দেয়ার রফাদফা করতেই সেখানে যান। আর গিয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা নারী হেনস্তার অভিযোগও আছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে থাপ্পড় দেয়ার ঘটনায় ওই বিভাগেরই দুই শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম ও মফিজুল্লা রনিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির অনুসারী।

গত ১৯ জুন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের কর্মী মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান একই বিভাগের এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন বলেও অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসন এবং ওই ছাত্রীকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি-ধামকি দিয়ে ঘটনাটির রফাদফা করা হয়।

তিন বছর পর গত ২ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগামী এক বছরের জন্য ইব্রাহিম ফরাজীকে সভাপতি এবং আকতার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়িচালককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত জবি ছাত্রলীগকর্মী কৌশিক সরকার সাম্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের গ্রুপের কর্মী বলে পরিচিত।

কৌশিক ফেসবুকে নিজের পরিচয়ে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুক ওয়ালে সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের সঙ্গে তার ছবি ছাড়াও নিয়মিত ছাত্রলীগকেন্দ্রিক পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ‘প্রেমঘটিত’ কারণে মারামারির জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

গত ১১ মার্চ নবীন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দলে ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মালিটোলা পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও টিএসসি এলাকার এ ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়।

আড়াই লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় গত ৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এফ আর হিমাচল পরিবহনের একটি বাস পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার এলাকা থেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে আটকে রাখে আকতার হোসাইনের অনুসারী ও দর্শন বিভাগের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কোতয়ালি থানা পুলিশ বাসটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ছাত্রলীগের উৎপাতে সেই এসি বাস সদরঘাট রুটে চলাচল ও বন্ধ করে দেয়া হয়।

২০১৪ সালের হল আন্দোলনের সময় সমবায় ব্যাংকের মালিকানা থে‌কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের জ‌মি‌টি দখল ক‌রে শিক্ষার্থীরা জায়গা‌টিকে ‘টিএসসি’ হি‌সে‌বে দা‌বি ক‌রে আস‌ছে। ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক জায়গাটি ক‌য়েকবার বেদখল হ‌লেও সর্ব‌শেষ ২০১৭ সা‌লের শুরু‌তে আবা‌রো দখলমুক্ত ক‌রে শিক্ষার্থীরা।

এরপর স্বাভা‌বিকভাবে চল‌লেও বর্তমানে স্থগিত হওয়া ছাত্রলীগ কমিটি এটি সংস্কার করে নতুন করে চালু করে। তবে এখানে গড়ে তোলা দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ আছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিউজবাংলাকে বলেছেন ‘নেতা হয়ে নষ্টামি করার কারণে কমিটি স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া পদে থাকা আরও দুইজন নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়ির ড্রাইভারকে মারার অপরাধে এবং ইসলামপুরে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিচারে গিয়ে সিদ্ধান্ত না মানায় এক ব্যবসায়ীকে নাকি তুলে নিয়ে এসেছিলেন।’

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল রনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেটা না ঘটলে ভালো হতো। আমাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি আছে, যাদের সঙ্গে ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমাদের আওয়ামী লীগের যে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আছেন, উনাদের নির্দেশনা আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।'

অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে ছয় কল করা হলেও রিসিভ করেননি।

তবে ইব্রাহিম ফরাজীর কর্মী সাইদুল ইসলাম সাঈদ নিউজবাংলাকে বলেন,‘কীসের প্রমাণ আছে? কেউ অভিযোগ করেছে? নাকি আমাদের কথার রেকর্ড আছে? সিসিটিভি ফুটেজে, আমরা রুম থেকে রেব হচ্ছি সেটার ভিডিও দেখা যাচ্ছে। এমন হাজার হাজার লোক এভাবে যাওয়া আসা করে। আমরা গিয়েছিলাম জগন্নাথের এক গরিব শিক্ষার্থীর টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে। কিছু টাকা কমানো যায় কি না সেটার মানবিক অনুরোধে শুধু। এখানে কোনো চাঁদার বিষয় ভুলেও আসতে পারে না।’

আরও পড়ুন:
জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত
উত্তরপত্রে ‘স্যার, মন ভালো নেই’ লেখা জবি ছাত্রকে শোকজ
গবেষণা সহযোগিতায় শেকৃবি-জবি সমঝোতা চুক্তি

মন্তব্য

শিক্ষা
Celebrate Dhaka University Day by cutting a 102 pound cake

১০২ পাউন্ডের কেক কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

১০২ পাউন্ডের কেক কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন ১০২ পাউন্ডের কেক কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
অতিথিবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়ান উপাচার্য। এরপর সবাইকে নিয়ে ১০২ পাউন্ডের কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান।

উৎসবমুখর পরিবেশে ১০২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রা সহকারে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে সমবেত হন।

এরপর অতিথিবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়ান উপাচার্য। এরপর সবাইকে নিয়ে ১০২ পাউন্ডের কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সংগীত পরিবেশিত হয়।

উপাচার্যের উদ্বোধন শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে এক শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।

বেলা ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

উপাচার্য গবেষণা ও উদ্ভাবনে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সরকার, অ্যাকাডেমিয়া, ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যালামনাইদের একযোগে কাজ করতে হবে।’

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেসব দেশের অনেক খ্যাতিমান অধ্যাপক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেছেন।

‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক জ্ঞান বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালুর জন্য উপাচার্য শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘শিক্ষক-গবেষক এবং শিল্পখাতের যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে উভয়পক্ষ তথা দেশ উপকৃত হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল তৈরি এবং শিল্পখাতে নানা উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নতি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইতিমধ্যে একটি শিল্পখাত-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য বাস্তবতার মূল্যায়ন করে নির্দিষ্ট করণীয়সমূহ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এই ব্যাপারে সরকার বাস্তবতা-ভিত্তিক যথাযথ নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, সিনেট সদস্য সাদ্দাম হোসেন, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
Why is Dhaka University at the bottom of the world list?

বিশ্ব তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তলানিতে কেন?

বিশ্ব তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তলানিতে কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও কার্জন হল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
যেসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয়, সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে। শিক্ষাবিদদের মতে, গবেষণা ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার গবেষণার মান নিচের দিকে। এ ছাড়া শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী অনেক বেশি।

শতবর্ষ পুরোনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখনও এটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিদ্যাপীঠ। অথচ বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের তালিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অত্যন্ত করুণ। কোনোটিতে একেবারে তলানিতে; কোনো তালিকায় স্থানই নেই।

বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রতি বছর র‌্যাংকিং প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি সংস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয় যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াকোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) র‌্যাংকিংকে। গত পাঁচ বছরের মতো এবারও এ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান একেবারে পেছনের সারিতে; ৮০১ থেকে হাজারের ঘরে।

র‌্যাংকিংয়ের শুরু যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ের ধারণাটি ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের সিআইবি নেতা রিচার্ড ল্যাম্বার্ট। তিনি ‘দ্য ল্যাম্বার্ট রিভিউ অফ বিজনেস ইউনিভার্সিটি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেন। এরপর থেকে বেশ কয়েকটি সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রকাশ শুরু করে। এগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই), কিউএস এবং চীন থেকে প্রকাশিত অ্যাকাডেমিক র‌্যাংকিং অফ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ অন্যতম।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টিএইচই এবং কিউএস একত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তবে ২০১০ সাল থেকে কিউএস এবং টিএইচই আলাদাভাবে র‌্যাংকিং প্রকাশ করছে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে যা আছে

কিউএস গত ৮ জুন সর্বশেষ র‌্যাংকিং প্রকাশ করে। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ১৪ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সেই তালিকায় বিশ্বসেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান নেই বাংলাদেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এই র‍্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচ শর নিচে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয় না। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে কত নম্বরে, তা উল্লেখ করেনি কিউএস।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে হাজারের ঘরে ফেলা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে র‍্যাংকিংয়ের সেরা ১ হাজারের শেষ ২০০তে অবস্থান করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে কিউএসের ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের র‍্যাংকিংয়েও ঢাবির অবস্থান ছিল ৮০১ থেকে হাজারের মধ্যে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শুধু ঢাবি (৭০১-৭৫০তম) এই র‍্যাংকিংয়ে স্থান পায়।

যেভাবে র‌্যাংকিং করা হয়

কিউএস বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নির্ণয়ে ছয়টি সূচকের মাধ্যমে সামগ্রিক মান নিরূপণ করে থাকে। এসব সূচক হলো শিক্ষক/গবেষকদের খ্যাতি বা অ্যাকাডেমিক খ্যাতি, নিয়োগকর্তা/নিয়োগের খ্যাতি বা চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা উদ্ধৃতি সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত।

ঢাবি তলানিতে কেন

যেসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয় সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, গবেষণা ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার গবেষণার মান নিচের দিকে। এ ছাড়া শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী অনেক বেশি। এ কারণেই র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দশা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘র‌্যাংকিংয়ে যেসব বিষয় দেখা হয়, যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি, শিক্ষকের মান, গবেষণায় বরাদ্দ, ছাত্ররা কেমন পরিবেশে থাকে, ইত্যাদি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোথায়? যে অবস্থানে আমরা আছি তা-ই তো মিরাকল।’

র‌্যাংকিংয়ে যাওয়ার জন্য যে মানদণ্ডগুলো পূরণ করা দরকার, তার সামর্থ্য ও যোগ্যতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই বলে মনে করেন এই অধ্যাপক।

গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে থাকার কারণ উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, ‘বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে, তবে এটাও ঠিক, শুধু বাজেট বাড়ালেই এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কারণ গবেষণা করার মতো শিক্ষক আগে নিয়োগ দিতে হবে। এটাই তো এখানে হচ্ছে না।

‘একজন শিক্ষক যদি তিন-চার জায়গায় পার্ট টাইম ক্লাস নেন, তাহলে গবেষণা করবেন কীভাবে? অন্য সমস্যাগুলো সমাধান করা সহজ, কিন্তু মানসম্মত গবেষণা চাইলেই সম্ভব না।’

একই ধরনের মত দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘র‌্যাংকিংয়ের জন্য যে সূচকগুলো আছে, তার মধ্যে একটা হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত। আমাদের শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত বেশি। আমাদের অনেক বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন শিক্ষার্থী আছে। এখানে তো লেখাপড়া সম্ভব না। শিক্ষার্থী থাকবে ৫০ জন। এটি স্ট্যান্ডার্ড, কিন্তু আমরা সেটি করতে পারছি না বা করি না।’

গবেষণা কম হওয়াও র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করেন ওহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কম হচ্ছে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ ছাড়া ডিজিটাল ইনডেক্স থাকা, প্রকাশনাগুলোকে ডিজিটালাইজড করার দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। অর্থাৎ আমরা যে কাজগুলো করছি, সেগুলোকে সিস্টেমে আনা যেন সেগুলো সবাই দেখতে পারে আর সাইটেশন করতে পারে।’

জার্নালের মান এবং ডিগ্রির মান বৃদ্ধি করা উচিত বলেও মনে করেন এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘ডিগ্রির মান নির্ণয়ের জন্য একটা নীতিমালা প্রয়োজন। কিশোরগঞ্জ বা মানিকগঞ্জের সংস্কৃতির ইতিহাস নিয়ে যদি পিএইচডি হয়, তাহলে এর থেকে আপনি কী পাবেন? প্রবন্ধ লেখা আর পিএইচডি ডিগ্রি থিসিস পেপার তো এক না। এগুলোই আমাদের বড় সমস্যা। এ জন্যই আমরা বারবার র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ছি।’

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি বলা হয় প্রমোশনের জন্য ১৮টা ডিগ্রি লাগবে, তাহলে একজন বছরে ১৬টা করবে। যে নোবেল পুরস্কার পায়, সে তো একটার ওপর গবেষণা করে নোবেল পায়। আমাদের ডিগ্রিগুলো এখন ‘ডিগ্রি ফর প্রমোশন’ হয়ে গেছে। ডিগ্রি ফর প্রমোশন যদি আমরা দিই, তাহলে সেই মানের গবেষণা হবে না। এগুলোর দিকে নজর দেয়া দরকার।”

মানসম্মত গবেষণা না হওয়ার পেছনে ব্যবস্থাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো পদে পাঁচটি গবেষণা থাকতে হয়, কিন্তু ভালো জার্নালে মানসম্মত নিবন্ধ প্রকাশ করতে সময় প্রয়োজন। তাই এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে। এসব ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। না হলে কখনোই আপনি মানসম্মত গবেষণা পাবেন না।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে যেসব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হয়, তা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

তিনি বলেন, ‘মোট ছয়টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয়। এই সূচকগুলোতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, অ্যাকাডেমিক খ্যাতি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে এগুলোয় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে না বলে মনে করেন নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে না। এর জন্য বাজেট, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ, নিজের আগ্রহের মতো বিষয়গুলো জড়িত।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এত নিচে কেন জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কারা কী র‌্যাংকিং করল, এগুলো এখন একেবারেই দেখি না। কারণ র‌্যাংকিংয়ের জন্য কতগুলো মৌলিক প্যারামিটার আছে, সেই প্যারামিটারগুলো অ্যাড্রেস করার আগে র‌্যাংকিং বিষয়টা ভাবা উচিত নয়। এগুলোর উন্নয়ন না ঘটিয়ে র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে আমরা অ্যাটেনশন দেব না।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হলছাড়া করার অভিযোগ
‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়া নিয়ে ঢাবি সিনেটে হট্টগোল
ঢাবির ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস
মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে ঢাবিতে ‘নাত’ পাঠ
ঢাবিতে নারী হেনস্তার বিচার চায় ছাত্র ইউনিয়ন

মন্তব্য

p
উপরে