ক্যাম্পাস না খুললে গাছতলায় ক্লাস নেবেন রাবি শিক্ষক

ক্যাম্পাস না খুললে গাছতলায় ক্লাস নেবেন রাবি শিক্ষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আ আল মামুন।

রাবি শিক্ষক আ আল মামুন লিখেছেন, ‘সরকার কী বলল না বলল আমার কিছু যায় আসে না। আমি আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি সোমবার আর মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে উপস্থিত থাকব। ক্লাসরুম খুলে না দিলে গাছের তলায় শিক্ষার্থীদের মিট করব এবং তারা পড়তে চাইলে পড়াব।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে সরকারি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গাছতলাতেই ক্লাস নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আ. আল মামুন।

শুক্রবার ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আ আল মামুন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘সরকার কী বলল না বলল আমার কিছু যায় আসে না। আমি আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি সোমবার আর মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে উপস্থিত থাকব। ক্লাসরুম খুলে না দিলে গাছের তলায় শিক্ষার্থীদের মিট করব এবং তারা পড়তে চাইলে পড়াব। (হুম আপনাদের তথাকথিত স্বাস্থ্যবিধির কথাও মনে রাখব।) সবাইকে আমন্ত্রণ।’

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে আল মামুন লিখেছেন, ‘অনলাইনে ক্লাস নেয়া একটা হরর অভিজ্ঞতা। সপ্তায় আমি অন্তত ৮ ঘণ্টা ক্লাস নিই অনলাইনে। এর জন্য মিনিমাম ৪০ ঘণ্টা পড়ালেখা করি, অনেক সময় তারও বেশি। সেই সাথে ওই পড়ালেখা নিয়া আরও অন্তত ১০ ঘণ্টা টপিকগুলো নিয়ে ভাবি।

‘কিন্তু যখন অনলাইনে ক্লাস নিতে যাই- কোনো শিক্ষার্থীর চেহারা দেখতে পাই না, তারা প্রায় কথা বলে না। একটা ডার্ক স্ক্রিনের সামনে বকরবকর করি। তবু আমি এই মহামারি সময়ে পড়ানোর ব্যাপারে খুব সিরিয়াস হয়ে উঠেছি- শিক্ষার্থীদেরকে বুঝাইতে চাই আমার ভাবনাগুলো। কিন্তু আদৌ কিছু বুঝাইতে পারি কিনা তা কিছুই অনুমান করতে পারি না। সবই পণ্ডশ্রম মনে হয়। অন্য দেশের বাস্তবতা জানিনা, আমাদের বাস্তবতা এরকমই!’

তিনি লিখেছেন, অনলাইনে পড়াইতে পড়াইতে মনে হয় বদ্রিয়া কথিত সিমুলাক্রার দুনিয়ায় প্রবেশ করে গিয়েছি! আমিও আমি না, আমার শিক্ষার্থীরাও কেউ না- জাস্ট কিছু ডটডটড্যাশ! এরও আগের তাত্ত্বিক গাই দেবর্দোর 'সোসাইটি অব স্পেক্টেকাল' এর কথা নিশ্চয় আমি স্মরণ করব। মনে হয় একটা ভূত হয়ে অদ্ভুত উপায়ে ডার্ক স্ক্রিন নামক ভূতের সাথে বসবাস করছি। ক্লাস শেষ করে নিজেকে চিনতে পারি না!

‘সিমুলাক্রার এই দুনিয়া আমি চাই না, আমি চোখে চোখ রেখে পড়াতে চাই, তাদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাই, তাদের আবেগ ও অনুভবকে স্পর্শ করতে চাই। আমি মানবিক থাকতে চাই।’

এর আগে ২০০৭ সালে আগস্টে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থা বিরোধী মিছিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়ায় কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এই শিক্ষক।

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিস্ফোরণে আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বিস্ফোরণে  আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে আহত রনি। ছবি: নিউজবাংলা

হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতুহলবশত হাতে নেয় রনি। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় সে। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি ক্যাবল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় রনি।  

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে এক কিশোর পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, পাথর ভাঙা বোমার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম রনি। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

রনির নানী পাথর শ্রমিক হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতুহলবশত হাতে নেয় সে। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় রনি। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি ক্যাবল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় সে।

এমন অবস্থায় হরবলা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি জানান, পরে রনির পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহাম্মেদ বাদল বলেন, ‘আমাদের লোক ঘটনাস্থলে গেছে। এখনও আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পাথর ভাঙা বোমা দিয়েই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটি পরীক্ষা ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জুড়ে, বিশেষ করে শহরে যে দিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এজন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাব রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তাছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তাছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সেজন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়ত এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজী মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম , হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘ নানা কারণের ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

গ্রেপ্তার তারা মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে রাজাকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক স্কুলশিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অথচ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন।

এমন অভিযোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ জানান, গ্রেপ্তার তারা মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা সেজে ছিলেন। এতদিন সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করাসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দাপটও খাটিয়েছেন। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হলেও প্রকাশ্যে সবাই নীরব ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়াকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যেত। তখন মনে মনে কষ্ট নিয়ে ভেবেছিলাম, আমি জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছি, আর সে রাজাকার হয়েও মঞ্চে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন পর হলেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা খুশি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদণ্ড হবে এমনটাই আশা করি।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘১৯৮৪ সালের দিকে তারা মিয়া ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তিনি ভাতাসহ সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করেছেন। আদালতের রায়ে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কার্যকর করা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি মডেল থানা ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামিকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া ও হাবিবুর রহমান মেনু মিয়া, কালিয়ান গ্রামের রুস্তম আলী, সোহাগী বাজার এলাকার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, ফানুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, সোহাগী চরপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নান এবং পৌরসভার কাকনহাটি এলাকার শহীদুল্লাহ ফকির।

একাত্তরে গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহে এদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

যমজ শিশুর চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন। সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

ঢাকার সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে।

চার দিন আগে জন্ম নেয়া নবজাতককে গত বুধবার রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু দুটি সুস্থ্য থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে যমজ শিশু চাচা দেলোয়ার হোসেন ভিডিও ও ছবি পাঠান।

গত ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিক্যাল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়।

যমজ শিশুটির মা সাথী আক্তারের আগেও ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। বাবা মো. সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন।

সেলিম পরিবার নিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন।

‘সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

যমজ শিশু দুটির বাবা সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ তারিখ সাভারের সুপার হাসপাতালে আমার স্ত্রীর দুইটা যমজ বাচ্চা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে পাঠায়। শিশু হাতপাতাল থেকে পরে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ নাই জানিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে শিশু হাসপাতালে এনে ভর্তি করি।’

জোড়া লাগানো শিশুকে আলাদা করা যাবে কিনা জানেন না সেলিম। এরই মধ্যে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে।’

শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত এই বাবা বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করাবো কীভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কী আছে জানি না।’

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

কবিরাজি চিকিৎসার নামে নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা অহাদুরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অপচিকিৎসা ও নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার কবিরাজ আহাদুর রহমানের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার কুর্শা খাগাউড়া গ্রামে।

উপজেলার ইমামবাড়ি বাজার থেকে শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, মেমোরি কার্ড, দুটি মোবাইল ও অন্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ নাহিদ হাসান শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

স্থানীয় ইমামবাড়ি বাজারে চেম্বার বসিয়ে কুফরী, বান, বেদ, কন্নি, যাদু, চালান, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, বিবাহ না হওয়াসহ নানা বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা শুরু করেন বলে জানায় র‍্যাব।

একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন চিকিৎসার নামে নারীদের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ শুরু করেন। পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আহাদুর রহমান এ পর্যন্ত ৩০-৪০ জন নারীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় র‍্যাব।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের আঁচ পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, রাতেই তাকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। ছবি: সিমু নাসের

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কনসার্টের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা একদল শিক্ষার্থী।

বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে কনসার্ট শুরু হয়। রাত ১০টায় শেষ হয় এ কনসার্ট। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

কনসার্টে শিরোনামহীন, মেঘদল ও সহজিয়াসহ ১২টি ব্যান্ড দল গান পরিবেশন করে। গানের পাশাপাশি হয়েছে মূকাভিনয়, একক গান, নৃত্য ও থিমেটিক পারফরম্যান্স।

গানের দলগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলী, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, কৃষ্ণপক্ষ, কাল্, অবলিক, অসৃক, গানকবি ও বুনোফুল৷

এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেছেন জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, নাঈম মাহমুদ, প্রিয়াংকা পাণ্ডে, যশ নমুদার, তাবিব মাহমুদ, রানা, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য৷

উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মূকাভিনয় পরিবেশন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এছাড়া কনসার্টে একটি সমবেত ‘থিমেটিক পারফরম্যান্স’ পরিবেশন করা হয়।

বিকেলের দিকে কনসার্ট শুরু হলেও সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই কনসার্ট উপভোগ করেন।

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবাদের ভাষা গান, নৃত্য ও কবিতা। আমরা এই কনসার্টের মাধ্যমে দেশবাসীকে সহিংসতা প্রতিহতের বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা চাই এদেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হোক। এটাই আজকের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

বাবাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভ করে বিষপান করা সেই ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাসেল ইকবাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। তিনি বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার এলাকার সিদ্দিক আহমদের ছেলে।

গত বুধবার বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়। ঘটনার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিদ্দিক আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

সেদিন বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তির ছেলে রাসেল ইকবাল বাবাকে আটকের প্রতিবাদে থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভে গিয়ে বিষপান করেন। এ ঘটনায় বাঁশখালীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষপানের পর থেকে চিকিৎসাধীন থাকা রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে পুলিশ আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাসেল ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করলেও নিহতদের পরিবারের দাবি, রাসেল ও তার লোকজনের হাতেই খুন হয়েছেন আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু।

পুলিশ জানায়, মামলা থেকে বাঁচতেই রাসেল বিষপান ও আত্মহত্যার অভিনয় করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হেছ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
গাজীউল হক সম্মাননা পাচ্ছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’
মাদ্রাসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, দাবি খেলাফত মজলিসের
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে যেভাবে উদাহরণ রাবি, জগন্নাথ
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত

শেয়ার করুন